Golpo romantic golpo অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা

অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ২৭


অ্যাঞ্জেল_অ্যাঞ্জেলিনা

[পর্ব ২৭]

লেখিকাফারহানানিঝুম

(🚫এই গল্পের কোনো দৃশ্য, সংলাপ, প্লট অনুপ্রাণিত হয়ে কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।)

(🚫 দূর্বল হৃদয়ের পাঠকদের জন্য গল্পটা একদম নয় এবং প্রাপ্তমনস্কদের জন্য উন্মুক্ত)

সমুদ্রের উত্তাল পাতা ঢেউ খেলে যাচ্ছে , সমুদ্রের বুকে ভেসে চলেছে বড় একটি জাহাজ।
কোমড়ে একটা মোটা দড়ি পেঁচানো ন্যান্সির। সেই দড়িটা টেনে টেনে চলে গেছে সোজা উপরের দিকে। একটা শার্ক কেজে যেটার ভেতরে রয়েছে ঈশান।
ক্ষণিক দূরেই দাঁড়িয়ে আছে আফরিদ। আঙ্গুরের ডগায় রিভলবার যা কপালে ঘষে বলল।

“শক্ত করে ধরে রাখ জানকি বাচ্চা না হলে তোর ভাই নিচে পড়বে।

শার্ক কেজের নিচে ইয়া বড় সমুদ্র যেটার ভেতরে রয়েছে শার্ক যেগুলো ক্ষুধার্ত। খাবারের জন্য অস্তির হয়ে আছে। ন্যান্সি শক্ত করে টেনে ধরে আছে দড়িটা। ছেড়ে দিলেই ঈশান পড়ে যাবে আর তাকে খেয়ে ফেলবে এই শার্ক গুলো।

ঈশান আহাম্মক বনে দাঁড়িয়ে আছে। শেষমেষ এইভাবে ধরা খেলো? ন্যান্সি কে নিয়ে জাহাজে এসে নিজেই ফেঁসে গেল!

“বস প্লিজ আমার কোনো দোষ নেই ,বস প্লিজ আমাকে বের করুন।”

আফরিদের কোনো হেলদোল নেই। সে তাকিয়ে আছে তার পরাণের দিকে। সে দেখতে চায় পাতানো ভাইয়ের জন্য কতটা কি করতে পারে এই মেয়ে।
ন্যান্সির হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসছে ,শরীর দূর্বল লাগছে। এই বোকা ঈশান ভাইয়ের জন্য সব হয়েছে। তাকে কেন কিডন্যাপ করতে গেল হ্যাঁ? ন্যান্সির শক্তিতে কুলায় না,সে পারছে না টেনে ধরে রাখতে। দড়িটা একটু ঢিলে হতেই শার্ক কেজ টা নিচের দিকে নেমে আসতে লাগলো। চেঁচিয়ে উঠলো ঈশান।
“ম্যাম…

ন্যান্সি হাঁপাতে হাঁপাতে আবারো শক্ত হাতে টেনে ধরলো দড়িটা। রীতিমতো কান্না চলে আসছে তার। হাত দুটো লালচে হয়ে উঠেছে।
গভীর নীল পানির নিচে উত্তাল স্রোত বইছে, তার মধ্যেই এক দানবীয় ছায়া ঘুরে বেড়াচ্ছে। বিশাল পাখনাগুলো কেটে যাচ্ছে জলের ঢেউ, যেন এক ভয়ংকর শি’কারি নিঃশব্দে নিজের রাজত্বে টহল দিচ্ছে। ক্ষুধায় কাঁপছে তার প্রতিটি স্নায়ু, চোখ দুটি জ্বলজ্বল করছে তীব্র লালসায় র’ক্তের গন্ধ পেতে যেন অধীর অপেক্ষা করছে সে।
হঠাৎ জল কেঁপে ওঠে, কেজের ভেতর মানুষটার সামান্য নড়াচড়া তার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এক ঝটকায় বিশাল দেহটা কেজের দিকে ধেয়ে আসে দাঁতের সারি চকচক করে ওঠে পানির ভেতর জাহাজের ভেতরের ক্ষীণ আলোয়। ঠাণ্ডা, নীরব সমুদ্র মুহূর্তেই পরিণত হয় আতঙ্কের থিয়েটারে যেখানে এক ক্ষুধার্ত শার্ক ঘুরে বেড়াচ্ছে, কেবল শিকা’রের এক ফোঁটা ভুলের অপেক্ষায়।

“আফরিদ ভাইয়া কে বের করুন,উনার ভুল হয়ে গেছে প্লিজ। প্লিজ বের করুন।”

আফরিদ এবারেও নিশ্চুপ। ন্যান্সি আর পারছে না, হাতটা আবারো ঢিলে হয়ে এলো তার। ফলস্বরূপ দড়িটা নিচের দিকে নামতে লাগল। ভয়ে সেঁধিয়ে যাচ্ছে মেয়েটা।

নিচে পড়লো না ঈশান তার পূর্বেই উপর থেকে টেনে দেওয়া আরো একটি শিকল দিয়ে আটকে রাখা। ঘর্মাক্ত মুখে পিছু ফিরে তাকালো ন্যান্সি, আফরিদ ইতিমধ্যেই তার অতি নিকটে চলে এসেছে। ন্যান্সি কম্পিত স্বরে বলল।

“ছেড়ে দিন ওনাকে প্লিজ!”

আফরিদের রূপ এই মূহুর্তে ভীষণ ভয়ংকর দেখাচ্ছে ,সে যদি পারতো তাহলে বোধহয় সবকিছু ধ্বংস করে ফেলতো।
গা কাঁপানো কন্ঠে আওড়াল।
“ছেড়ে দেব?”

পুনরাবৃত্তি করে কথাটা , ন্যান্সি কেঁপে উঠল ওই ভয়ংকর কন্ঠস্বর শুনে। এ তো আফরিদ হতেই পারে না।
“প্লিজ ছেড়ে দিন।”

ন্যান্সি ভঙ্গুর হৃদয়ে বলে উঠে , ঈশান বুঝি এই জ্ঞান হারাবে। মাথা ঝিমঝিম করছে তার। সে তো জানে আফরিদ ঠিকই কতটা হিং’স্র।

আফরিদ মেকি হেসে বলল।
“যা ছেড়ে দিলাম।”

আফরিদের হাতের রিমোটে ক্লিক করতেই শার্ক কেজ টা নিচে পানিতে পড়ে গেল,ঈশান বিস্মিত হয়। নিঃশ্বাস আটকে আসছে তার। খাবারের সন্ধানে পেয়ে ক্ষুধার্ত শার্ক গুলো এগিয়ে আসতে লাগল।
এক মূহুর্তের জন্য স্থির হয়ে গেল ন্যান্সি , মস্তিষ্ক শূন্য সে। অতঃপর গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো। সেই কান্নায় হেসে ফেলল আফরিদ, রিমোটে ক্লিক করতেই আবারো শার্ক কেজ উপরে উঠে আসে। আফরিদ দু’হাতে ন্যান্সি কে বুকে চেপে ধরে , হাউমাউ করে কাঁদছে মেয়েটা।
আফরিদ মাথায় আঙ্গুল বুলাতে বুলাতে বলল।
“হেই পরাণ ডোন্ট ক্রাই।আই ডিডন’ট ডু এনিথিং, সি? লুক।”

ন্যান্সি তাকায় না। আফরিদ ফের বলল।
“লুক অ্যাট মি পরাণ।”

ন্যান্সি এবারেও তাকালো না , আফরিদ ওভাবেই বুকে জড়িয়ে রাখলো তাকে। উঁহু ভয় পাওয়া ভালো কিন্ত এতটা ভয় পাওয়া একদম ভালো না। তার নিষ্পাপ ফুল যখন জানবে সে মনস্টার তাহলে কি করবে? তখন তো তার কাছাকাছি পর্যন্ত আসবে না।

অথচ সে অজানাই রয়ে গেল, এই কঠোর পাষণ্ড পুরুষটির হৃদয়ে তার জন্য কত অগাধ ভালোবাসার স্রোত বয়ে যায়!

“আপনি.. আপনি আমাকে ভয়ে শেষ করে দিচ্ছেন আফরিদ!”

ক্রন্দনরত কন্যার কন্ঠস্বর বুকে ঝড়ের ন্যায় আছড়ে পড়ে। আফরিদ মৃদু স্বরে বলে।
“ডোন্ট ক্রাই। তুই যদি আমার বুকে সামনে থেকে দাঁড়িয়ে ছুরি বসিয়ে দিস তবুও তোকে আ’ঘাত করব না।”

ন্যান্সি নিশ্চুপ , সর্বাঙ্গ অসাড় হয়ে আসছে তার। কম্পিত মেয়েটাকে দু’হাতে আগলে আছে নিষ্ঠুর পাষণ্ড পুরুষ।
“অ্যাম সরি। প্লিজ এত ভয় পাস না।”

প্রত্যুত্তরে মুখ তুলে তাকায় ন্যান্সি , আফরিদ এমন কেনো? তাকে বুঝতে বড্ড বেগ পোহাতে হচ্ছে তাকে।


ঈশান আর ন্যান্সি দুজনেই কান ধরে দাঁড়িয়ে আছে। একটু পর পর ওঠবোস করছে। এটা কোনো কথা? ন্যান্সি না হয় আইডিয়া দিয়েছে কিন্তু কাজটা তো করেছে ঈশান! আর ঈশান কে বাঁচাতে কত কি করলো এখন তাকেই ফাঁসিয়ে দিলো?

আঙ্গুলের ডগায় রিভলবার টা নাচাতে ব্যস্ত আফরিদ।
কি লজ্জাজনক ব্যাপার স্যাপার। শেষমেষ কি-না কান ধরতে হচ্ছে ঈশান কে? এই বিষয় গুলো তার কল্পনার বউ জানতে পারলে আস্ত রাখবে? ছিঃ ছিঃ বলবে তো!

“তোরা কোন ক্ষেতের মুলা হ্যাঁ? এক বলদে বলল কিডন্যাপ করতে আরেক বলদে কিডন্যাপ করে বস্তায় ভরলো?”

ঈশান আমতা আমতা করে বলল।
“বস, ম্যাম বলেছিল সব কিছু।’

আফরিদ ন্যান্সির দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকাতেই হকচকিয়ে গেল ন্যান্সি।
“না মানে আমি তো বসেছিলাম প্রিয় মানুষ কে কিডন্যাপ করতে। আমি কি জানতাম ঈশান ভাইয়া আমাকে বস্তায় ভরে ফেলবে?”

আফরিদ তিরিক্ষি মেজাজে বলে।
“চুপ শা’লী মা’তারি কোথাকার।”

ঈশান কেঁপে উঠলো ভয়ে। আফরিদ বসা থেকে উঠে দাঁড়ালো ,কড়া কন্ঠে বলল।
“আজ সারারাত তুই খুঁজে খুঁজে মশা মার’বি।”

চোয়াল ঝুলে এলো ঈশানের।
“বাট বস এখানে তো মশা নেই ‌।”

আফরিদ নিরেট স্বরে বলল।
“খুঁজে নিয়ে আয়। সকালের মধ্যে একশো টা মশা মেরে আমাকে এনে দেখাবি।”

ঈশান কাঁদো কাঁদো মুখ করে তাকালো ন্যান্সির দিকে। ন্যান্সি হাঁফ ছেড়ে বাঁচলো , যাক তাকে অন্তত আর কোনো শাস্তি দেয়নি। এমনিতেই দড়ি টেনে টেনে কাহিল হয়ে পড়েছে সে। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবে তখনই আফরিদ আওড়াল।

“তুই রুমে আয় তোর শাস্তি এখনো বাকি বান্দি। আজকে টিটোয়েন্টি ম্যাচ খেলব।”

স্বস্তির নিঃশ্বাস আর ফেলতে পারলো না ন্যান্সি ,ঈশান খিকখিক করে হেসে ফেলল। তেলে বেগুনে জ্ব’লে উঠলো ন্যান্সি। এই ঈশানের জন্য আজকে ধরা পড়লো ,বলল এক করলো উল্টো।

নিস্তব্ধ রুমে এক অদ্ভুত ভার ছেয়ে আছে। বাতাসে মিশে আছে একরাশ অস্থিরতার গন্ধ। কেমন গা ছমছমে ভাব।
সোফার গায়ে হেলান দিয়ে বসে আছে আফরিদ এহসান উদোম গায়ে, কেবল পরনে একটা কালচে ট্রাউজার।
হাতে ধরা হুইস্কির বোতল, একেকটা চুমুক যেন দগ্ধ অন্তরের আ’গুনে আরেক ফোঁটা তেল ঢেলে দিচ্ছে। চোখে এক অচেনা কঠিন শূন্যতা, ঠোঁটে বিষণ্নতার নীরবতা।

হঠাৎ দরজার ফাঁকটা ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করলো ন্যান্সি।
তার পায়ের শব্দটুকুও প্রতিধ্বনিত হলো। বুকের ভেতর ঢাকের মতো বাজছে তার হৃদস্পন্দন। আফরিদ কে উদোম গায়ে, অবসন্ন ,ভয়ঙ্কর রূপে দেখে গলা শুকিয়ে আসে, কাঁপন নামে শরীরে।

রুমের আলো আধো আঁধারে দুজনের চোখ এক মুহূর্তের জন্য মিললো। সেই দৃষ্টির ভেতর ছিলো চাপা তীব্রতা পুরুষের যন্ত্রণাভরা অহংকার আর ন্যান্সির অজানা ভয়ের কম্পন। দৃষ্টি গেল আফরিদের নগ্ন বক্ষে। তার বুকের মাঝখানে গোল ট্যাটু টা।

ন্যান্সি ভেতরে আসতেই রিমোট ক্লিক করতেই রুমটা লক হয়ে গেল। দরজা বন্ধ হওয়ার আওয়াজে কেঁপে উঠলো ন্যান্সি।

আফরিদ এহসান উঠে দাঁড়ালো , আরেক দফা পেছালো ন্যান্সি।

“থাপ্পড় দিয়ে দাঁত গুলো ফেলে দেই? আমার প্রিয় জিনিস কি জানিস? তুই বে বা’ল। মানুষের মা ,বাবা, ভাই, বোন ওরা প্রিয় হয়।‌ কিন্তু আমার প্রিয় তুই , কারণ আমি তোর সাথে শুই। “

লজ্জায় দু’হাতে কান চেপে ধরে ন্যান্সি , নষ্ট পুরুষের নষ্ট কথা গুলো নেওয়া যায় না । তার মুখে তো কিছুই আটকায় না কোনো কালে।

“এই মা’তারি কান বন্ধ করে কি হবে? সরা হাত।”

আফরিদের ধমকে হাত সরালো। আফরিদ হুইস্কির বোতল টায় আবারো চুমুক বসালো। ড্রিংক করলেও বোঝা যায় না ড্রিংক করেছে। একদম সুস্থ স্বাভাবিক লাগে।

আকস্মিক ঝড়ের মতো এগিয়ে এলো আফরিদ।
ন্যান্সি কে পিঠ ঠেকিয়ে দিলো দরজার সাথে, এত কাছে যে নিঃশ্বাসের উষ্ণতাও তীব্র হয়ে উঠলো। ভয়ে কাঁপতে থাকা মেয়েটার বুক যেন দরজার কাঠের সাথে মিশে যাচ্ছে, চোখে আতঙ্কের জল জমে ওঠে।

আফরিদের চোখ জ্ব’লে উঠলো আ’গুনের মতো, কণ্ঠে হিংস্র হিসহিসানি।

“এই শরীরে যদি একটা টোকাও পড়তো, তাহলে জ’বাই করে ফেলতাম।”

ন্যান্সির গলায় কাঁপন নিয়ে তবু থেমে থাকলো না, ব্যথিত মন থেকে কষ্টের স্বরে বলল।

“দেহ চাই, মন চাই না?”

উত্তর এল না কথায়, এল কাজে। আফরিদ হঠাৎ ঝুঁকে লালচে গালে দাঁত বসিয়ে দিলো। ব্যথায় ককিয়ে উঠলো মেয়েটা, শরীর কেঁপে উঠলো শিহরণে।
আফরিদের ঠোঁট থেকে ঝরে পড়লো বিষা’,ক্ত ব্যঙ্গ।

“না। তোর মন ধুয়ে তুইই পানি খা। আমার দেহ হলেই চলবে।”

মেয়েটা ঠোঁট ফুলিয়ে নীরব প্রতিবাদে ভরে তুললো মুখ, চোখে জমে রইল অশ্রু। আফরিদ আরো কাছে সেঁটে এসে ফিসফিস করে বলল।

“কারণ তুই আমার প্রিয়। তোর সাথে বেড শেয়ার করি। সামনে আরও অনেক কিছুই শেয়ার করব। চাইলে আমি এখনই খোলাখুলি বলে দিতে পারি।”

চোখে অশ্রুজল চিকচিক করছে ন্যান্সির, তবু সাহস সঞ্চয় করে বুকে হাত রেখে কেঁপে কেঁপে বলল।

“ভালো মানুষ নন আপনি।”

আফরিদ ঠোঁটে বাঁকা হাসি ফুটলো, সেই হাসিতে নেশা আর পৈশাচিক রূপ মিশে আছে।

“ঠিকই। ভালো না আমি।”

রাগ লাগলো ন্যান্সির , আচানক আফরিদের ঘাড়ে কামড় বসিয়ে দিলো ন্যান্সি। এতটাই জোরে , হয়তো নিজের শরীরের সর্বোচ্চ শক্তি দিয়েই দন্ত বসিয়েছে। তাই তো দাগ বসে গেছে , বেরিয়ে এসেছে র’ক্ত।

“আস্তে দে মা’তারি রেএএ,অন্য কিছু ফিল হয়।”

ন্যান্সি সরে এলো , দাঁতে লেগে গেল আফরিদের র’ক্ত।

“যেমন আপনি তেমনি আপনার পঁচা র’ক্ত।”

আফরিদ হুইস্কি খায় , ন্যান্সি ভারিক্কি কন্ঠে বলে।
“এত খেলে মরে যাবেন তো।”

আফরিদ একপেশে হেসে বলল।
“তুই চাস আমি বেঁচে থাকি?”

ন্যান্সি নিরুত্তর। আফরিদ বিরক্তিকর কন্ঠে বলল।
“এই রাতবিরেতে এত বড় কাহিনী করলি। ঘুমোতে দিলি না ,আগে বলতি অন্য ভাবে জাগিয়ে রাখতাম।”

ন্যান্সি নিশ্চুপ। আফরিদ ঝুঁকে আসে কপালে কপাল ঠেকায় নাকে নাক। হাস্কিটুনে বলে।

“চল না সংসার করি।”

ন্যান্সি হাসে ,দুহাত পিছমোড়া করে দাঁড়ালো।
“সংসার করলে কি হবে?”

পুরুষ একপেশে হেসে উঠলো, চোখে ভাসছে অদ্ভুত এক উন্মাদনা। গভীর স্বরে ফিসফিস করে বলল।

“তোকে আমি অনেক আদর করব । তারপর আমাদের দু’টো বেবী হবে। ঠিক দুই বছরের গ্যাপ দিয়ে। আমার দুষ্টুমির দু’টো আলোকশিখা।”

ন্যান্সি মৃদু বিস্ময়ে তার দিকে তাকিয়ে থাকে। পুরুষের সেই ব্যাকুল স্বপ্ন আঁকড়ে ধরার চেষ্টা করলেও, চোখের কোণে লুকিয়ে রাখে একরাশ দুষ্টুমি। ঠোঁট বাঁকিয়ে হেসে ফেলে, নরম কণ্ঠে জিজ্ঞেস করে।

“তারপর?”

আফরিদের চোখ মুহূর্তে জ্ব’লে ওঠে নতুন আলোয়। গম্ভীর ,কোমল ভঙ্গিতে বলে।

“তারপর তোকে নিয়ে আমি দেশ বিদেশ ঘুরব। পাহাড়ের চূড়ো থেকে সমুদ্রের নীল ঢেউ সবকিছু দেখাব। আর আমাদের বেবীগুলোকে তুই পেলে পুষে বড় করবি। তাদের সবকিছু সামলানোর দায়িত্ব তোর। আর তোকে সামলানোর দায়িত্ব আমার।”

ন্যান্সির মুখে আবারো দুষ্টু হাসি খেলে যায়। চঞ্চল স্বরে শুধোয়।

“তারপর?”

এই একটুখানি খোঁচা পুরুষের অন্তরে বিদ্যুৎ হয়ে ঝলসে ওঠে। হঠাৎই সে কাঁধে সজোরে দাঁত বসায়। ব্যথায় ককিয়ে ওঠে ন্যান্সি, তবুও চোখে মুখে খেলে বেড়ায় অনাবিল হাসি।

হিসহিসিয়ে পুরুষ বলে ওঠে।

“কী এই তারপর তারপর লাগিয়ে রেখেছিস?
তারপর তোর প্রতিবেশী মায়ের হাঙ্গা!”

শব্দ করে হেসে ওঠে ন্যান্সি হাসিটা যেন পুরো রুমে নরম রুমে ছড়িয়ে পড়লো।
ন্যান্সি লম্বা নিঃশ্বাস ফেলে বলল।

“আমি আপনাকে ছেড়ে খুব শীঘ্রই পালাবো।”

আফরিদ চোখে হাসে। ন্যান্সির গলায় স্পর্শ করে। আঙ্গুল ঘুরাতে লাগল এপাশ থেকে ওপাশে। ন্যান্সি শিউরে উঠে। আফরিদ শান্ত কন্ঠে শুধোয়।

“কোথায় পালাবি?”

ন্যান্সি নরম সুরে বলল।
“এত্ত দূরে যেখানে আপনি চাইলেও আমাকে খুঁজতে পারবেন না।”

আফরিদ আঙ্গুল বুলাতে বুলাতে ধীরে ধীরে আরেকটু নিচে যেতে লাগলো।

“পালিয়ে গিয়ে ব’ন্দুক চালানো শিখবো।”

আফরিদ এবারে ঝুঁকে আসে ,গলায় নাক ঘষে। ন্যান্সি খামচে ধরে তার কোঁকড়ানো চুল।

“শিখে কি করবি?”

আফরিদ নেশাতুর কন্ঠে শুধোয়। ন্যান্সি হাঁসফাঁস করে মিনমিনে গলায় বলে।

“একদিন ফিরে এসে আপনার বুকে গু’লি করব।”

আফরিদ গলায় নাক ঠেকিয়ে লম্বা নিঃশ্বাস টেনে বলে।
“দেখা যাক। কিন্তু এখন বল শরীরে কি লোশন ইউজ করিস? এত মিঠা মিঠা লাগে কেন?”

হেসে ফেলল ন্যান্সি ,পাগল দেখেছে কিন্তু এমন পাগল সে দু’টো দেখেনি। অভ্যন্তরে কিছু একটা ঝড় তুলেছে। কন্ঠনালি কাঁপে ন্যান্সির।

“আপনাকে এখনো চিনলাম না। শুধু নামটা জানি।আগে জানতাম গুন্ডা , কিন্তু মনে হয় না গুন্ডা। আপনি কে বলুন তো?”

আফরিদ এবারে ওষ্ঠো ছোঁয়ায়। মাফিয়া কিং কে গুন্ডা বানিয়ে দিলো। হায়রে কপাল! ওষ্ঠো ছোঁয়াতে ছোঁয়াতে বলে।

“তাহলে ভেতর থেকে চেনা শুরু কর। আগে আমার থেকে শুরু কর তারপর আমি A to Z সব বলব তোকে।”

ন্যান্সি কিছু বলে না আফরিদ কে দেখে। তার স্পর্শ টা অনুভব করে। আফরিদের হাত সাপের মতো পেঁচিয়ে ধরেছে তাকে। মুখ যায় আরো নিচে ,বক্ষ বিভাজনে নিজের আধিপত্য ফলাচ্ছে। ন্যান্সি আঁখিদ্বয় খিঁচিয়ে বুঁজে নেয়। কোঁকড়ানো চুলে আঙ্গুল বুলিয়ে ফিসফিসিয়ে বললো।

“বিড়ালের বাপ আমার বিড়াল টা কোথায়?”

বিড়ালের কথা মনে পড়তেই মুখ তুলে তাকায় আফরিদ।

সে তো কাইট্যান কে হাত পা বেঁধে গাছে ঝুলিয়ে রেখেছে। শিট এখন কি বলবে?

“আমি জানি না।”

সুঁচালো দৃষ্টিতে তাকালো ন্যান্সি।

“এই এহসান সাহেব সত্যি করে বলুন কাইট্যান কোথায়?”

আফরিদ বিছানা লম্বা হয়ে শুতে শুতে বলে।
“আমার বউয়ের বুকে শোয়ার অপরাধে কাইট্যান কে গাছে ঝুলিয়ে দিয়েছি।”

মাথায় যেনো বড় ছাদটা ভেঙে পড়ল ন্যান্সির মাথায়।
বিস্মিত নয়নে তাকালো তার দিকে।

“কি বলছেন এসব? ওটা অবলা পশু।”

আফরিদ গা ছাড়া ভাব নিয়ে বলল।
“তো? ছুঁয়েছে তো তোকেই তাই না?”

তেলে বেগুনে জ্ব’লে উঠলো ন্যান্সি।
“বিড়াল ওইটা আমি যেহেতু পালি তাহলে আমাকে ছুঁবে না তো কাকে ছুঁবে?”

আফরিদ বুকে হাত রেখে মুখ বাঁকিয়ে বললো।
“আই অ্যাম জেলাস।”

ন্যান্সি আহাম্মক বনে গেল , শেষমেষ একটা বিড়ালের উপর জেলাস এই পুরুষ?

গাছের উঁচু ডালে ঝুলে আছে একেবারে অসহায় অবস্থা কাইট্যান বিড়াল। চারপাশের বাতাসে যেন ভেসে বেড়াচ্ছে তার করুণ হাস্যকর ম্যাও ম্যাও ধ্বনি। ছোট্ট শরীরটা এদিক সেদিক দুলছে, কিন্তু আজকের দিনে যেন ভাগ্যও তার সাথে মশকরা করছে। হাত পা নেই, তাই চেষ্টার ভান করলেও নড়াচড়া করা অসম্ভব।

মনে হচ্ছে, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় শাস্তি পেয়েছে সে চিৎকার করার স্বাধীনতাও নেই। কেবল কণ্ঠের খামখেয়ালি আওয়াজে নিজের বিপদ জানাতে চেষ্টা করছে, অথচ সেই আওয়াজও শোনার মতো কেউ নেই।

দূর থেকে দেখলে মনে হয়, বিড়ালটা কোনো গুরুগম্ভীর সাধুর মতো ধ্যান করছে, আবার কাছ থেকে দেখলে বোঝা যায় সে আসলে জীবনের সবচেয়ে বড় রসিকতার ফাঁদে পড়েছে। ডাল থেকে দুলতে দুলতে যেন বলছে।

“আরে কেউ আছিস? আমাকে নামা, নইলে আকাশের রাজপুত্র হয়েই থাকতে হবে!” খচ্চ’র আব্বা আমারে স’হ্য করতে পারে না রে? কেউ বাঁচা!”

চলবে……….।✨

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply