Golpo romantic golpo অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা

অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ২৪


অ্যাঞ্জেল_অ্যাঞ্জেলিনা

[পর্ব ২৪]

লেখিকাফারহানানিঝুম

(🚫এই গল্পের কোনো দৃশ্য, সংলাপ, প্লট অনুপ্রাণিত হয়ে কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।)
(🚫 দূর্বল হৃদয়ের পাঠকদের জন্য গল্পটা একদম নয় এবং প্রাপ্তমনস্কদের জন্য উন্মুক্ত)

থাইল্যান্ড…

“ধর ,কান ধর দ্রুত। ধরতে বলছি।”

মাঝরাস্তায় আফরিদ এহসান নাকি তার বউকে কান ধরিয়েছে। অবিশ্বাস্য ব্যাপার স্যাপার।‌ যেখানে অর্ধেক মানুষ ঘুমন্ত রয়েছে , সেখানে তারা রাস্তার মাঝখানে দাড়িয়ে আছে। নিজেকে কেমন তুচ্ছ বলে মনে হচ্ছে ন্যান্সির। পালানোর আগে অবশ্যই তাকে বন্দোবস্ত করে পালানো উচিত ছিল।
বড় বিতৃষ্ণা মিশ্রিত কন্ঠে আওড়াল।
“এই মূহুর্তে রাস্তায় কান ধরব? এটা কোন ধরনের কথা?”

ন্যান্সির পাল্টা প্রশ্নে ক্ষেপে গেল আফরিদ ,তেড়ে এলো থাপ্পড় দিতে।

“এক থাপ্পর দিয়ে বত্রিশ পাটি দাঁত ফেলে দেব বেয়াদব কোথাকার। পালানোর সময় মনে ছিলোনা? ধর কানে!”

ন্যান্সি দু পা পিছিয়ে গেল , আচানক কিসবের শব্দ শুনতে পেয়ে চমকে উঠে আবারো এগিয়ে গেল,ওই তো পাশেই জঙ্গল কি সব আওয়াজ ভেসে আসছে। আফরিদ গাড়ি থেকে জ্যাকেট নিয়ে এলো। বেয়াদব নারী তাকে জ্বা’লিয়ে পু’ড়িয়ে ছারখার করে দিচ্ছে।

“হাত ঢুকা।”

জ্যাকেট পড়াতে চাইলো আফরিদ , ন্যান্সি চুপচাপ হাত গলিয়ে জ্যাকেট টা পড়ে নিলো। বৃষ্টিতে ভিজে গিয়েছিল তাই আফরিদ এটা করেছে।

ন্যান্সি আমতা আমতা করে বলল।
“কান না ধরলে হয় না?”

আফরিদ ভ্রু নাচিয়ে বলল।
“ওকে ফাইন। লেটস্ ম্যাক অ্যা ডিল। হয়তো আমাকে ঠোঁট কাম’ড়ানো চুমু দে ,নয়তো একশো বার কান ধর।”

চুমুর প্রসঙ্গ উঠতেই ন্যান্সির বুকের ভেতর অদ্ভুত এক মোচড় খেলে গেল। ভেবেই শিউরে উঠল এই পুরুষ এত নির্লজ্জ হতে পারে! উৎকণ্ঠায় দু’হাত কচলাতে লাগল সে।

কাঁপা কণ্ঠে ফিসফিস করে উঠল ন্যান্সি।

“না কখনো না।”

আফরিদের ঠোঁটে ভেসে উঠল এক বাঁকা, দুষ্টু হাসি।
“তাহলে কান ধরো।”

চারপাশের দিকবিদিক যেন মুহূর্তেই অচেনা হয়ে গেল। অসহায় চোখে তাকিয়ে অবশেষে ন্যান্সি ধরা দিল শাস্তির খেলায় দু’হাত তুলে কান ধরে দাঁড়িয়ে রইল। আফরিদ বনেটের ওপর উঠে বসে পড়ল অদ্ভুত ভঙ্গিতে, চোখেমুখে দুষ্টামির ঝিলিক‌ স্পষ্ট। কিন্তু সে শুধু কান ধরাচ্ছে কেন তার তো উচিত লাল গালে কষিয়ে দু’টো থাপ্পড় দেওয়া।

“চল, শুরু কর শা’লী। আমি গুনছি।”

অশ্রুসিক্ত চোখে, কাঁদো কাঁদো মুখে ন্যান্সি শুরু করল ওঠবস। প্রতিটি ভঙ্গিমায় লজ্জা, ভয় আর অস্থিরতার রেখা ফুটে উঠছিল। আর আফরিদ? নিমোষ্ট দাঁত চেপে হাসি আড়াল করার ব্যর্থ চেষ্টা করছে কিন্তু চোখে মুখে ছড়িয়ে থাকা কৌতুক তার গোপন রাখা গেল না।

“এক ,দুই , তিন…….. দশ

গুনে গুনে দশবার কান ধরেছে। কোমড় ব্যথা ধরে যাচ্ছে , ঠোঁট কাম’ড়ে অসহায় কন্ঠে বলে।

“আর পারব না তো ‌,সরি এবারের মতো ছেড়ে দিন।”

ন্যান্সির ঠোঁট ফুলানো দেখে আফরিদ গা দুলিয়ে হেসে উঠলো , নির্লজ্জের মতো ঠোঁট গোল করে নিঃশ্বাস ছেড়ে বলে।

“দশবার ওঠবস করে কোমড় ব্যথা ধরেছে? তাহলে আমার কোলে যে হাজার বার ওঠ……

দু’হাতে কান চেপে ধরলো ন্যান্সি। এই লোকের মুখে কোনো কিছুই আটকায় না। কিন্তু ন্যান্সির তো লজ্জা শরম আছে , কস্মিনকালেও ভাবতে পারেনি এরকম নির্লজ্জ একটা লোক তার স্বামী হবে!

“চুপ করুন প্লিজ , আমি এসব শুনতে চাই না।”

ততক্ষণে বনেট থেকে নেমে নিকটে চলে এলো আফরিদ। পাঁজাকোলে তুলে নিল ন্যান্সি কে। হুমকি স্বরূপ বলল।

“তোকে শাস্তি দেওয়া বাকি আছে ,দশটা ঘন্টা ঘুরিয়েছিস আমাকে। আমি আফরিদ এহসান বদলা তো নেবই নেবো। দশবার বাসর করব ,পারলে আটকে দেখা মাতারি।”

ন্যান্সি হকচকিয়ে গেল , অভ্যন্তরে আবারো ঝড় উঠেছে। এবারে আফরিদ এহসানের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে সর্বাঙ্গে।

🌿____🌿

বিশাল অ্যাকুরিয়ামের সামনে দাঁড়িয়ে আছে দু’জনে। ন্যান্সি আশ্চর্য হলো এত বড় অ্যাকুরিয়াম? পানিতে ভরপুর সেটা। ন্যান্সি ফাঁকা ঢোক গিলে আফরিদের উদ্দেশ্যে শুধোয়।
“এটা?”

আফরিদ ভাবলেশহীন জবাবে আওড়াল।
“এটা কি বলতো?”

ন্যান্সি আরেক পলক দেখে অ্যাকুরিয়াম টা।
“এটা অ্যাকুরিয়াম।”

ক্রুর হাসলো আফরিদ ,ঘাড় বাঁকিয়ে বললো।
“ইয়েস,আর আমি তোকে অ্যাকুরিয়ামে ফেলে দেব এখন।”

স্তম্বিত ন্যান্সি, অভ্যন্তরে কম্পন ধরে তার। অস্থিরতা ফুটতে শুরু করে ক্রমশ চেহারায়। ভয়ার্ত দৃষ্টিতে তাকালো আফরিদের দিকে। অথচ সে কিছু বুঝে উঠার আগেই তাকে ধাক্কা দিয়ে অ্যাকুরিয়ামে ফেলে দিলো আফরিদ। আঁতকে উঠে ঈশান , অস্থির কন্ঠে আওড়াতে লাগলো।

“বস বস এটা কি করলেন?”

আফরিদ কদর্য হেসে বলল ।
“শাস্তি দিচ্ছি।”

ন্যান্সি সাঁতার জানে না ,এত বড় অ্যাকুরিয়ামে পড়ে ডুবে যাচ্ছে মেয়েটা। অথচ আফরিদ থেমে নেই,সে বক্সে করে নিয়ে আসা পিরানহা গুলো ছেড়ে দিলো। স্তব্ধ ঈশান , মস্তিষ্ক ফাঁকা ফাঁকা লাগছে তার। এগুলো মানুষ খেকো পিরানহা মাছ এখুনি তো ন্যান্সি কে খেয়ে ফেলবে!

আফরিদ অ্যাকুরিয়ামে আঙ্গুল স্পর্শ করায়। ন্যান্সি হাঁসফাঁস করছে তার চোখ দুটি বড়বড় হয়ে আসছে। মনে মনে বারংবার বলছে “আফরিদ বের করুন আমাকে!”
আফরিদ নিশ্চুপ ,সেই মূহুর্তে পিরানহা মাছ গুলো তার দিকে ধেয়ে আসে র’ক্তের ঘ্রাণ বুঝি পেয়ে গেছে তারা! বড়বড় দাঁত গুলো কেমন খাই খাই করছে! অদ্ভুত বিকট শব্দ তুলে এগিয়ে আসছে।
ন্যান্সি ডুবে যাচ্ছে,তার প্রাণ পাখিটা যেনো দেহ থেকে বেরিয়ে এলো। ঠিক সেই মূহূর্তে একটানে তাকে অ্যাকুরিয়াম থেকে বের করে আনে আফরিদ। ন্যান্সির জুতোটা কা’মড়ে ধরে এক পিরানহা মাছ।

আফরিদ ন্যান্সির কাহিল অবস্থা দেখে ভ্রুকুটি করে শুধোয়।
“আর পালাবি?”

খুক খুক কেশে উঠলো ন্যান্সি, দমবন্ধ হয়ে আসছিল তার। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছে মাত্র। বুকের ভেতর হৃৎপিণ্ড টা প্রবল বেগে ধুকপুক করছে। রাগে দুঃখে ব্যথিত কন্ঠে চেঁচিয়ে উঠলো সে।
“জানোয়ার আপনি জানোয়ার। পালিয়েছি বেশ করেছি। আপনি আমার জীবনটা শেষ করে দিচ্ছেন! সামনে সুযোগ পেলে আবার পালাবো আটকে দেখান।”

কথাটা বলেই কম্পিত শরীরে এগিয়ে চলল ন্যান্সি। আফরিদ ভাবুক হলো , ঈশানের উদ্দেশ্যে গলা ছেড়ে বলল।

“দেখলি ঈশান ধরলাম না, ছুঁয়েও দেখলাম না ভেতরের সব রাগ ট্রান্সফার হলো কিভাবে?”

ঈশানের বুক কাঁপছে যদি পিরানহা খেয়ে ফেলতো ন্যান্সি কে?

আফরিদ কি ভেবে অ্যাকুরিয়ামের দিকে তাকালো, আচ্ছা সত্যি কি খুব কষ্ট হচ্ছিল? আফরিদের একটু দেখতে ইচ্ছে করছে একটু অনুভব করতে ইচ্ছে করছে ঠিক কতটা কষ্ট পেয়েছে তার জানকি বাচ্চা! সহসা অ্যাকুরিয়ামের ভেতরে শরীর ছেড়ে দিলো সে। পিরানহা গুলো যেনো উন্মত্ত হয়ে উঠেছে মানুষের র’ক্তের ঘ্রাণ পেয়ে। মূলত ওরা মাংসাসি। আফরিদ এদিক থেকে ওদিক সাঁতার কাটছে। অ্যাকুরিয়াম টা বিশালাকৃতির। আফরিদ কে অ্যাটাক করার পূর্বেই বড় একটুকরো মাং’সের অংশ ভেতরে ছেড়ে দিলো ঈশান। সেটার প্রতি আকর্ষিত হতেই আফরিদ বেড়িয়ে এলো অ্যাকুরিয়াম থেকে।

“বস কি করছিলেন কি? এখুনি তো! মৃ’ত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছেন।”

আফরিদ বাঁকা হেসে বলল।
“মৃ’ত্যুর সঙ্গে খেলতে আফরিদ এহসান পছন্দ করে ঈশান।”

ন্যান্সি কে শাস্তি দেওয়া শেষ হয়নি আফরিদের , আফরিদ বাঁকা হাসলো সে।


“আফরিদ ,আফরিদ আমাকে বের করুন ভয় লাগছে আমার। আফরিদ প্লিজ প্লিজ এমন করবেন না ভয় লাগছে। আফরিদ।”

ক্রন্দনরত ন্যান্সির সুর যেন শূন্যে মিলিয়ে যাচ্ছে, আফরিদের কানে পৌঁছায় না একটুও। চিৎকার করে ডাকছে, প্রাণপণে দরজায় আঘাত করছে তবুও কটেজের পুরোনো বন্ধ রুমের অন্ধকার থেকে বের করছে না তাকে নির্দয় পুরুষ।

চারপাশে ছড়িয়ে আছে মৃ’ত্যুর নিদর্শন অগণিত মানুষের কঙ্কাল। প্রতিটি জানালা শক্ত করে বন্ধ, দরজাটিও তালাবদ্ধ। এই ভয়াবহ নিস্তব্ধতার ঠিক বাইরে দরজার কাছে আফরিদ বসে আছে, হাতে হুইস্কির গ্লাস। গভীর বিষণ্নতার আড়ালে লুকিয়ে থাকা দানবীয় হাসিতে ঠোঁট বাঁকিয়ে সে আওড়ে উঠল।

“এটাই তোর দ্বিতীয় শাস্তি। আমার থেকে পালাতে গিয়েছিলে তো, এখন ভোগ কর শাস্তি।”

হাহাকার ভরা হাহাকার ছিঁড়ে ন্যান্সির গলা ফেটে গেল।

“না, প্লিজ, আমি আর পালাবো না। বিশ্বাস করুন, প্রমিজ শুধু বের করে দিন, দয়া করে বের করুন। আমার ভয় করছে।”

কিন্তু আফরিদের কণ্ঠ গর্জে উঠল।

“তুই ধান্দাবাজ পাখি। বিশ্বাস করি না তোকে, মা’তারি। তুই বড় বেইমান রে বন্ধু, তুই বড় বেইমান।”

ন্যান্সি অসহায় হয়ে পড়ে আছে। কঙ্কা’লের ফাঁপা চোখগুলো যেন তাকিয়ে আছে তার দিকে, ভয়ং’কর দৃষ্টি নিয়ে এগিয়ে আসছে গিলে খাওয়ার মতো। নিঃশ্বাস বদ্ধ হয়ে যাচ্ছে, মগজ ঝিমঝিম করছে। শেষমেষ ভয় আর আতঙ্কের স্রোতে ভেসে কেঁপে ওঠা কণ্ঠে বলে ফেলল‌।

“আমি আপনার বউ হই তো আফরিদ। আপনি কি চান আমার দেহে ক্ষত হোক? দয়া করে বের করুন আমাকে। আফরিদ এহসান আই লাভ ইউ। আই লাভ ইউ।”

হুইস্কির বোতলটি হাত থেকে ছুটে পড়ে গিয়ে ভেঙে চুরমার হয়ে গেল মেঝেতে। এক অজানা শিহরণে কেঁপে উঠল আফরিদ এহসান। বুকের ভেতর দুরুদুরু শব্দ যেন বজ্রপাতের মতো কাঁপন তুলল। অবিশ্বাস আর বিস্ময়ের মিশেলে সে স্থবির হয়ে গেল।
বান্দি জানকি বাচ্চা কি সত্যিই তাকে ভালোবাসে?

আফরিদের ঠোঁট শুকিয়ে এলো। নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। দাঁত চেপে, ঠোঁট ভিজিয়ে ফিসফিসিয়ে উঠল অদ্ভুত এক সুরে।

“মাতারি রেএএ কি শুলাইলি? এবার তো তিনশো বোল্টের কারেন্ট লাগছে বে।”

রুমের দরজা খুলতেই আফরিদের বুকে হামলে পড়ে ন্যান্সি।‌

“জা’নোয়ারের বাচ্চা আমাকে ধ্বংস করে ফেলতে এত আয়োজন?”

অধর বাঁকিয়ে হাসলো আফরিদ , চুল গুলো খামচে ধরে ন্যান্সির।

“এমন তেমন ভাবে নয় , তোমায় ধ্বংস করব আমার ছোঁয়াতে।”

সারাদিনের ক্লান্তি আর না খেয়ে থাকার দরুন শরীর দূর্বল হয়ে পড়েছে ন্যান্সির। শীর্ণ বদন খানি ঢলে পড়তে নিলে আঁকড়ে ধরে আফরিদ।

“ঘুমোবি না আদর বাকি আছে আমার।”

আধো আধো চোখ দুটো এক নজর দেখে নীলাভ মনি জোড়ায়। অতঃপর ক্লান্তিতে মুখ গুঁজে আফরিদের পেটের ভাঁজে , জ্ঞান হারালো তৎক্ষণাৎ।

🌿________🌿

🌿বাংলাদেশ…

টিকটিক করে ঘড়ির কাঁটা ঘুরে চলেছে। কল্পনা আর নীলাদ্রি খেতে বসেছে। নীলাদ্রি দ্রুত কাজ করছে।‌ কিছুক্ষণ পরেই একটা ভিডিও কনফারেন্সের রয়েছে। আফরিদ তাকে বড়সড় একটা কাজের দায়িত্ব দিয়েছে। এই মূহুর্তে যদি আফরিদের বিশ্বাস জিততে না পারে তাহলে সামনে হয়তো কোনো কাজই করতে পারবে না।

কল্পনা নীলাদ্রি কে জয় তাড়াহুড়ো করতে দেখে নিরেট কন্ঠে শুধোয়।

“কী হলো এত তাড়াহুড়া করছো কেন?”

নীলাদ্রি খেতে খেতে বলল।
“একটা কনফারেন্স আছে তাই।”

কল্পনা বিরক্তিকর ভাবে আওড়াল।
“আমি বুঝি না তোমাদের হাতে কি কিছুই নেই? পুরো ইন্ডাস্ট্রি তো দেখি আফরিদ ভাইয়া একাই সামলায়।”

নীলাদ্রি কিছু একটা বলতে চেয়েও বলল না। চুপ রইল!

নীলাদ্রি দ্রুত খাওয়া শেষ করে নিজের রুমের উদ্দেশ্যে রওনা দিলো। এদিকে ফাহমিদা টেবিলে এলো খেতে।

“শুনেছো ফাহমিদা তোমার বড় ভাবির কান্ড?”

ফাহমিদা প্রশ্নবিদ্ধ চোখে তাকায় কল্পনার দিকে।
কল্পনা তাচ্ছিল্যতার সহিতে আওড়ালো।

“আফরিদ ভাইয়ার পছন্দ করা ফালতু মেয়েটা আবার নাকি পালিয়েছে!”

ফাহমিদা আশ্চর্য হলো ন্যান্সি আবারো পালিয়েছে?

“কি বলছো এসব ভাবি?”

“জ্বি ঠিকই বলছি , আমি বুঝিনা আফরিদ এহসান নাকি ওরকম একটা মেয়ে কে পছন্দ করে!”

“এই কথা গুলো নিজের ভেতরেই রাখো ছোট ভাবি , নয়তো ভাইয়া জানতে পারলে খবর করে দেবে তোমার।”

শুকনো ঢোক গিললো কল্পনা।
“সত্যি কথা কি কারো হজম হয় ফাহমিদা? তাই আমার সত্যি কথা গুলো আফরিদ ভাইয়ার হজম হয়না কোনো দিনই।
ফাহমিদা কিছু বলল না , চুপচাপ শুনল সব কিছু। তার ইচ্ছা করলো না কল্পনার সাথে কথা বলতে। সে ভীষণ পছন্দ করে ন্যান্সি কে। বড্ড মিশুক মেয়েটা। ভাবি হিসেবে পারফেক্ট। কিন্তু কেন যে বার বার বড় ভাবি এমন করে সে বুঝে উঠতে পারে না।

নিশুতে রাত এক রহস্যময় চাদরে মোড়ানো নিঃশব্দ সাগর। আকাশের বুক জুড়ে ঝলমল করছে নক্ষত্রেরা, চাঁদের আলো ধুয়ে দিচ্ছে পৃথিবী, গাছপালার ডালে ডালে ছায়া খেলে যাচ্ছে নিঃশব্দে। বাতাসের শীতল পরশে মনে হয়, কেউ অদৃশ্য হাতে ছুঁয়ে যাচ্ছে আত্মাকে।
দূরে কোথাও ঝিঁঝিঁ পোকার একটানা ডাক নিস্তব্ধতাকে আরও গভীর করে তুলেছে। নদীর জলে চাঁদের প্রতিচ্ছবি দুলছে। পাশেই আলিফ নামের ছেলেটাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। একদল এসে লাশটা নদীর কাছে ফেলে দিয়ে গেছে।

তাদের মধ্যে একজন ফোন করলো নীলাদ্রির নাম্বারে । ফোনের শব্দে কনফারেন্স রেখে রিসিভ করে নীলাদ্রি।

“হ্যাঁ বল , কাজ হয়েছে?”

লোকটা ছোট্ট করে জবাব দিলো।
“হ্যাঁ ছোট স্যার কাজ শেষ।”

নীলাদ্রি মোটেও ছাড় দেয় না। প্রথম দিনেই বুঝে গেছিল আলিফ ছেলেটার রহস্য। তাই তো বিপদ বাড়ার আগেই গোড়া থেকে উপরে ফেলছে।

🌿__________🌿

থাইল্যান্ড..

স্যালাইন দেওয়া হয়েছিল ন্যান্সি কে , শরীর দূর্বল খুব। ঠিক বেডের সামনে চেয়ার টেনে বসলো আফরিদ। পা থেকে মাথা পর্যন্ত সবটা দেখে চলেছে সে।
আচানক পাশে থাকা কাইট্যান ম্যাও ম্যাও করে উঠলো।

মনোযোগ ক্ষুন্ন হয় আফরিদের। কাইট্যান বোধহয় তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলছে।
“এই খচ্চ’র বেডা আমার আম্মু কে এভাবে কি দেখিস?”

সুঁচালো হলো দৃষ্টি আফরিদের , কিড়মিড়িয়ে বলল।
“মুখস্থ করছি।‌ বিলাইয়ের ঘরের বিলাই আমার বউ রে মুখস্থ না করলে পরে হারায় গেলে খোঁজব কেমনে?”

কাইট্যানের বোধহয় মোটেও পছন্দ হলো না কথাটা। আবারো ম্যাও ম্যাও করে বুঝাতে চাইলো।
“খচ্চ’র আব্বা অশ্লী’ল গিরি ছাড়।”

কাইট্যান বিছানায় উঠে গিয়ে ন্যান্সির বুকের কাছে আরাম খুঁজে নিল। রাগে গজগজ করে উঠল আফরিদ।

“নামতে কইতাছি ,শালা লুইচ্চা নাম এখুনি। আমি ঘুমাবো ওখানে।”

কাইট্যান মোটেও শুনলো না , আদর আদর করে ন্যান্সির গালে গা ঘষতে লাগলো। আফরিদ যেনো তেলেবেগুনে জ্বলে উঠলো।

“নামবি না তাই তো? কাইট্যানের বাচ্চা তুই গেলি।”

আফরিদ বেডে উঠে এলো ,সপাটে ধাক্কা দিয়ে কাইট্যান কে নিচে ফেলে দিলো। কাইট্যান ম্যাও ম্যাও করে উঠলো। বে’য়াদব কোথাকার। আজ বিড়াল বলেই কিছু করতে পারলো না।

আফরিদ লাইট অফ করে দিলো , কম্ফোর্ট টেনে নিল নিজেদের গায়ে। দু’হাতে ন্যান্সি কে জড়িয়ে ধরে , ন্যান্সি বিড়বিড় করে আওড়াতে লাগলো।

“আফ.. আফরিদ আফরিদ।”

আফরিদ লালচে গালে নাক ঘষে ফিসফিসিয়ে বললো।
“এই তো আমি জানকি বাচ্চা।”

ন্যান্সি আবারো ঘোরের মাঝে বলতে লাগলো।
“ওই লোকটা.. আমাকে,, আমাকে ছুঁতে চায় আটকান আপনি।”

আফরিদ দুহাতে টেনে ধরে ন্যান্সি কে ,কানে ঠোঁট ছুঁইয়ে বলে।

“ছুঁবে না , আমি ছুঁতে দেবো না।”

ন্যান্সি নিশ্চুপ , কথা বলে না। ঘোরের মধ্যে রয়েছে ন্যান্সি ,আবারো কাঁপা কাঁপা স্বরে আওড়াল।
“আ.. আপনি আমাকে..শেষ করে দিচ্ছেন।”

আফরিদ একগাল হেসে গালে আলতো করে ফের নাক ঘষে। মুচকি হেসে বলে উঠে।
“বউ।”

সাড়া শব্দ নেই ন্যান্সির। আফরিদ আবারো ডাকে ন্যান্সি কে।‌ হাস্কিটুনে বলে।
“এই বউ উঠ ,উঠবে আমার ইন্টুপিন্টু করতে মন চাচ্ছে।”

পিটপিট চোখ মেলে তাকানোর চেষ্টা করল ন্যান্সি।
“উঠনা আর কত ঘুমাবি? আমি আদর করব কখন?‌ রাত শেষ হয়ে যাচ্ছে!”

আফরিদের অবাঞ্চিত কথা গুলো শুনে ভ্রুদ্বয় কুঞ্চিত করে নিল ন্যান্সি।
ন্যান্সি কে বিছানায় রেখে সহসা উপরে চলে এলো আফরিদ , ন্যান্সি নির্বাক। আজকে আর তর্কে জড়াতে ইচ্ছে করছে না। বলতে ইচ্ছে করছে না “সরুন নষ্ট পুরুষ আমাকে ছুঁবেন না।” তর্ক করে বলতে ইচ্ছে করছে না ” আমি কিন্তু কুংফু জানি।”

আফরিদ আদুরে ভাবে গলায় নাক ঘষে , চুমু খেয়ে দুষ্টুমি করে বলে।
“কি মাখিস এত মিঠা মিঠা কেন?”

ন্যান্সি নির্নিমেষ তাকিয়ে আছে নীলাভ মনি জোড়ার দিকে। আফরিদ ঝুঁকে আসে ,গলদেশে ওষ্ঠো ছোঁয়ায়। মৃদু কম্পন খেলে যায় সর্বাঙ্গে। আফরিদ খানিকটা উন্মাদ হয় , আবারো স্পর্শ করতে চায় উদরে। কিন্তু টপসের কারণে সুবিধা করতে পারে না , বিরক্ত হয় সে। রাগের আভাস ফুটে মুখাবয়ব জুড়ে। ন্যান্সির কি জানি হলো? হেসে ফেলল সে। আফরিদ রাগলো , লালচে গালে দন্ত দ্বারা ক্ষ’ত তৈরি করে।

আফরিদ স্পর্শ করতে ব্যাকুল হয়ে উঠে , ন্যান্সি তার ব্যাকুলতা বোধহয় আন্দাজ করতে পেরেছে। তাই তো টপস টা খানিকটা তুলে নিল। আফরিদ আবারও গলদেশে হাম’লে পড়ে ,মুখ ডুবায় সেখানটায়। আঁকড়ে ধরে নগ্ন উদর।
ঘোর লাগা কন্ঠে শুধোয়।

“আমার না এখন শুধু ইন্টুপিন্টু না , ইন্টুপিন্টু স্কয়ার করতে মন চাচ্ছে।”

“এ্যা?”

“এ্যা না হ্যাঁ। চল কিছু করি।”

চলবে………..।✨

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply