Golpo romantic golpo অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা

অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ২৩


অ্যাঞ্জেল_অ্যাঞ্জেলিনা

[পর্ব ২৩]

লেখিকাফারহানানিঝুম

(🚫 এই গল্পের কোনো দৃশ্য, সংলাপ, প্লট অনুপ্রাণিত হয়ে কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।)
(🚫 দূর্বল হৃদয়ের পাঠকদের জন্য গল্পটা একদম নয় এবং প্রাপ্তমনস্কদের জন্য উন্মুক্ত)

খিকখিক করে হাসছে নীলাদ্রি ,তার হাসিতে ভড়কে গেল কল্পনা।
“তুমি এভাবে হাসছো কেন?”

নীলাদ্রি ফুরফুরে মেজাজে বলে উঠে।
“ভাইয়ের বউ পালিয়েছে।”

আকাশ থেকে পড়ার মতোন অবাক হলো কল্পনা।
“কি?”

“ইয়েস মাই ডিয়ার ওয়াইফ। ভাইয়ের সুইট কিউট বউটা পালিয়েছে।”

কল্পনা যেনো বিশ্বাস করতে পারছে না , আফরিদ কে ধোঁকা দিয়ে পালানো কি এতটাই সহজ?


🌿থাইল্যান্ডে…..

টিপটিপ করে ঝরে পড়ছে বৃষ্টি, যেন আকাশ তার বুক ভেঙে কাঁদছে ন্যান্সি সাথে একাত্ম হয়ে। চারপাশে কেমন গুমোট, কেমন ভেজা অন্ধকার। মনে হচ্ছে প্রতিটি ফোঁটা যেন তার হৃদয়ের ব্যথা বহন করে আছড়ে পড়ছে মাটিতে। বুকের ভেতর দমবন্ধ করা কষ্ট এতটা যন্ত্রণার উৎস শুধু সেই অভি’শপ্ত পুরুষ। তার হাত থেকে বাঁচতে পালিয়ে এসেছে অচেনা রাস্তায়, অথচ কোথায় যাবে জানে না। থাইল্যান্ডে এর আগে কখনো আসা হয়নি তার , উঁচু উঁচু বিল্ডিং দেখেনি। এত এত অপরিচিত লোকজনের সামনে ভয়ে আড়ষ্ট হচ্ছে মেয়েটা।
পালিত মা-বাবার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছে অথচ জানতে পেরেছে তারা নেই ,শুনল তারা নাকি ঢাকা শহর ছেড়ে চলে গেছে বহুদূরে। এত বড় আ’ঘাতের কথা জানতেও পারলো না! ভেতরটা হাহাকার করে উঠল। একাকীত্বের ভারে যেন পা দুটো আর এগোতে চায় না। বাংলাদেশে থাকাকালীন অবস্থায় এহসান মঞ্জিলের বাইরে পা রাখতে পারেনি ন্যান্সি , সর্বদা চোখে চোখে রাখা হয়েছিল। ফোনটা অব্দি তার থেকে নিয়ে নেওয়া হয়েছে। অথচ এখানে আসার পর চেষ্টা করেছে তাদের সাথে যোগাযোগ করার।

দূরে হঠাৎ বজ্রপাত আকাশ ফুঁড়ে বিকট শব্দে বাজ পড়তেই আঁতকে উঠলো ন্যান্সির অন্তরা’ত্মা। শিহরিত দেহ কেঁপে উঠলো ভিজে কাপড়ে। রাস্তার ধারে এক বিরাট গাছের নিচে দাঁড়িয়ে পড়ল সে। বাতাসে পাতার ঝিরঝির শব্দ মিলেমিশে গিয়ে বৃষ্টিকে আরও ভয়াল করে তুলেছে।

রাত গভীর হচ্ছে। অচেনা নগরীর নির্জনতা আর ভেজা অন্ধকারে একা দাঁড়িয়ে আছে সে। কোথাও আশ্রয় নেই, কারো হাত নেই। শুধু অজানা গন্তব্যের ভয়াল পথ আর বুকফাটা হাহাকার। মনে হচ্ছে এই শহরটা তাকে গ্রাস করতে চাইছে তবুও বেঁচে থাকার তাগিদে দাঁত চেপে চোখের জল মুছলো ন্যান্সি। বেশীক্ষণ এখানে দাঁড়িয়ে থাকা যাবে না ,যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই শহর ছাড়তে হবে তাকে। যেতে হবে অনেক অনেক দূরে। নয়তো নিশ্চয়ই আফরিদ তাকে খুঁজে নেবে।

কিছুটা দূরে যেতেই নজরে এলো বাস স্ট্যান্ড। সেদিকটায় মানুষের ভিড় জমেছে , বৃষ্টিতে ভিজে একাকার ন্যান্সির সর্বাঙ্গ।

ভিড় বাড়ছে ধীরে ধীরে ,কিছুটা দূরেই কালো স্যুট পরিহিত লোক দেখতে পেলো ন্যান্সি। ভয়ার্ত দৃষ্টিতে তাকালো সে। আরে এই লোক গুলো তো আফরিদের গার্ড।

“না না এখানে আর এক মুহূর্তও থাকা সম্ভব নয় ,যত তাড়াতাড়ি এখান থেকে বেরুতে হবে।”

ন্যান্সি তড়িঘড়ি করে বের হতে গিয়ে একজন ভদ্রমহিলার সাথে ধাক্কা খেলো। ভয়ার্ত কন্ঠে বলল।

“সরি সরি ক্ষমা করবেন।”

“হোয়্যাট ইজ দিস?”

ন্যান্সি প্রত্যুত্তরে জবাব দিলো না। কোনো রকমে বেরিয়ে গেল। তৎক্ষণাৎ ওই লোক গুলো ভদ্রমহিলার কাছে এলো।

“হ্যাভ ইউ সীন দিস গার্ল?”

ন্যান্সির একটা ছবি সামনে ধরে গার্ড গুলো। ভদ্রমহিলা দেখেই চিনে ফেলল ,সবে তো দেখা হলো। সন্দিহান কন্ঠে বলল।

“জাস্ট সন হের। শি ওয়াজ ইন এ বিগ হারি।”

একে অপরের মুখ চাওয়াচাওয়ি করলো গার্ড গুলো। দ্রুত ফোন বের করে কল করলো ঈশান কে।

“হ্যালো ঈশান স্যার ,ম্যাম কে পাওয়া গেছে।”

ঈশান ত্রস্ত পায়ে এগুতে লাগলো আফরিদের নিকটে। ওয়াইন কর্ণারে একের পর এক হুইস্কি শেষ করে চলেছে আফরিদ এহসান। ঈশান নিরেট স্বরে বলল।

” বস ,ম্যাম কে পাওয়া গেছে।”

চক্ষুদ্বয় জ্বলে উঠে আফরিদের।
“গাড়ি বের কর ঈশান। আর হ্যাঁ সাথে রিভলবার নিতে ভুলিস না , আমি আজকে ওর ঠিক মাথার মাঝখানে গুনে গুনে দশটা শুট করব। কারণ ও আমার থেকে দশ ঘণ্টা দূরে ছিল।”

ঈশান কি বলবে বুঝে উঠতে পারছে না ,আফরিদ যে পরিমাণে রেগে আছে তার উপর ড্রিংক করেছে। ন্যান্সির কাছে যাওয়ার পর তাকে সামলানো মুস্কিল হবে।

🌿____🌿

বুকের ভেতর দামামার মতো কাঁপছে ন্যান্সির হৃদয়। যেন র’ক্তের স্রোত বুকে আছড়ে পড়ছে বারবার। মেইন রোড আর মাত্র কয়েক কদম দূরে। তবুও এই নির্জন পথ মনে হচ্ছে অন্তহীন। প্রতিটি মুহূর্তে ভয়ের শীতল হাত তাকে আঁকড়ে ধরছে।

রাস্তার ধারে গাড়ির উপর বসা লোকটার চোখে যখন আ’গুনের মতো নোংরা লালসা ভরা দৃষ্টি দিল, ন্যান্সির শরীর শিউরে উঠলো। বুকের ভেতর আত’ঙ্কের ঝড় বয়ে গেল। দ্রুত পা বাড়ালেও টের পেল পেছনে পেছনে এগিয়ে আসছে সেই খারাপ লোকটা।

হঠাৎ সামনে এসে দাঁড়ালো লোকটা। কদর্য হাসি, চোখে ঘৃণ্য খিদে। কুৎসিত ইঙ্গিতের সাথে কণ্ঠে বেজে উঠলো বিষাক্ত শব্দ।

“এক ঘণ্টা কত নিবি?”

লোকটার কথায় বুঝতে বাকি নেই লোকটা বাংলাদেশী।
লজ্জা, ঘৃণা আর ক্ষোভ একসাথে ফুঁসে উঠলো ন্যান্সির ভেতরে। চোখে বজ্রের হুংকারে ঠোঁটে থরথর করা প্রতিবাদ।

“দেখুন, বাজে কথা বলবেন না। আমি ওরকম মেয়ে নই!”

কিন্তু লোকটার কদর্য হাসি আরও বিষিয়ে তুললো ন্যান্সির অন্তর কে।

“পাগল কি কখনো স্বীকার করে সে পাগল? রাস্তার মা” কি কখনো স্বীকার করে সে মা”?”

তীব্র ক্ষোভে জ্বলে উঠলো ন্যান্সি। কণ্ঠে বজ্রপাতের মতো ঝড়।

“কু’ত্তার বাচ্চা! তোর মা বোন বোধহয় তোকে তেমন করেই জন্ম দিয়েছে, তাই তুই সব মেয়েকেই মা’ ভাবিস! সর সামনে থেকে, নয়তো জুতো দিয়ে পেটাবো , ভালো চাইলে বিদেয় হ এখুনি।”

কিন্তু পরক্ষণেই কালবৈশাখীর মতো ঝাঁপিয়ে পড়লো লোকটা। হঠাৎ করেই ওড়না টেনে ধরলো তার। দমবন্ধ আ’তঙ্কে ন্যান্সি আঁকড়ে ছাড়ানোর চেষ্টা করলো। চোখে এক রাশ ঘৃণা নিয়ে এক দলা থুতু ছুঁড়ে মা’রল লোকটার মুখে। মুহূর্তের মধ্যে ক্রোধে ফেটে পড়ে সে সজোরে থাপ্পড় বসালো ন্যান্সির গালে।

চোখে মাথায় আ’গুন ঝলসে উঠলো। ছিটকে পড়লো ন্যান্সি, শরীরটা মাটিতে আছড়ে পড়লো ভিজে ধুলোয়। তখনই।

বোমমম! শব্দ তুলে রোলস-রয়েস ফ্যান্টম এক ঝলসে ওঠা গাড়ির হেডলাইট আলো কেটে দিল অন্ধকার। চোখের সামনে সাদা আগুনের মতো আলো পড়ায় দুহাত তুলে ঢেকে ফেললো মুখ।

ধীরে ধীরে দৃষ্টি মেলে তাকাতেই বুকের কাঁপন আরও তীব্র হলো। আলোর ভেতর থেকে বেরিয়ে এলো এক পরিচিত মুখখানি ভয়ার্ত চোখে তাকিয়ে রইলো ন্যান্সি।
তিরতির করে কাঁপতে থাকা ওষ্ঠো যোগল বলে উঠে।

“আফরিদ এহসান।”

হাতে হুইস্কির বোতল , অন্য হাতে সিগারেট। বেশ আয়েশ করে গাড়ির বনেটের উপর গিয়ে বসলো।
পিছন পিছন আরো কিছু গার্ড এবং ঈশান এসে দাঁড়িয়েছে।

ততক্ষণে আফরিদ হুইস্কির বোতলে চুমুক দিয়ে সিগারেটে লম্বা টান দিলো। পরপর সম্পূর্ণ সিগারেট টা শেষ করলো। পরণে একটা নরমাল ট্রাউজার আর শার্ট , সকালে যেরকম রেখে গিয়েছিল তাকে তেমন ভাবেই আছে সে। আরেকটা সিগারেট ধরায় ,বনেটের উপর হাতের হুইস্কির বোতল টা রাখলো। লম্বা টান দিয়ে সিগারেটে লোকটার উদ্দেশ্যে বলল।

“বাংলাদেশী?”

লোকটা মাথা নাড়িয়ে বলল।
“হ্যাঁ , কিন্তু তুই কে?”

আফরিদ সিগারেট টানতে টানতে হাসলো। ঈশান আফরিদের উদ্দেশ্যে আওড়াল।

“বস ,ম্যাম কে নিয়ে আসবো?”

আফরিদ কড়া চোখে তাকাতেই চুপ করে গেল ঈশান। ন্যান্সির চুপসে যাওয়া মুখখানি দেখে বড্ড মায়া হচ্ছে ঈশানের। আফরিদ গা ছাড়া ভাব নিয়ে বলল।

“আমি কেউ না , আমি তো তোদের সিনেমা দেখার জন্য দাঁড়ালাম। তাই ব্রো দাঁড়িয়ে আছিস কেন শুরু কর সিনেমা।”

আফরিদের গা ছমছমে কথায় মনি জোড়া যেনো কোঠা থেকে বেরিয়ে আসবে এখুনি ন্যান্সির।
কাঁপা কাঁপা গলায় বলল।

“আ..আফরিদ কি বলছেন এসব? কি বলছেন এগুলো আপনি?”

আফরিদ আবারো সিগারেটে টান দিলো।
“কে তুই? এই যে রাস্তায় রয়েছিস তোকে একটা লোক ছুঁয়েছে। তুই কে? তোকে কি আমি চিনি? একদম চিনি না তোকে।”

চুরচুর করে ভেতরের আশা টুকু ভেঙে গেল। তবে কি আফরিদ তাকে রক্ষা করবে না?
আফরিদ হুংকার ছাড়ে।

“এই মাদা””” তুই কি হিজ’ড়া? নাকি পুরুষত্বা বাসায় রেখে আসছোস? সিনেমা শুরু কর!”

এতক্ষণে আফরিদের এত এত গার্ড , কথা বলার ধরন সব কিছু বলে দিয়েছে লোকটা সাধারণ নয়। লোকটা ঘামছে। ঘেমে একাকার অবস্থা। নিশ্চয়ই মেয়েটার সাথে কোনো না কোনো সম্পর্ক আছে তার।

ঈশান অসহায় মুখে তাকালো ক্রন্দনরত ন্যান্সির দিকে। মেয়েটা কাঁপছে ভয়ে।

“সরি যেই হয়ে থাকুন আপনি দয়া করে আমাকে ছেড়ে দিন।”

ভয়ার্ত কন্ঠে বলে উঠে লোকটা। আফরিদ থামলো না। রিভলবার বের করে , আঙ্গুলের ডগায় নাচাতে নাচাতে সিগারেটে টান দেয়।

“হয়তো তুই কিছু করবি নয়তো তোরে আমি কেটে ফেলব। যখন তুই হিজ’ড়া তাহলে তোর বেঁচে থাইকা লাভ নাই। যখন ওরে একবার ধরছোস তাহলে সিনেমা না করা পর্যন্ত তোর মুক্তি নাই। যা টাচ কর ওরে। যেতে বলছি খা”””” পোলা।

লোকটা কেঁপে উঠলো , এগুতে লাগলো ন্যান্সির দিকে। আত্মা কেঁপে উঠলো ন্যান্সির। এই লোকটা তাকে ছুঁবে? না কিছুতেই সে সহ্য করতে পারবে না এসব।
পিছুতে লাগল ন্যান্সি ,বসা অবস্থাতেই পিছুতে লাগল।

“না না না।”

দ্রুত পায়ে উঠে সামনের দিকে দৌড়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরে আফরিদ কে। যতটা সম্ভব শক্ত করে আঁকড়ে ধরেছে আফরিদের বক্ষপৃষ্ঠ।
হাঁসফাঁস ভঙ্গিতে আওড়াতে লাগলো।

“প্লিজ প্লিজ লোকটাকে থামান , আমি এগুলো স’হ্য করতে পারব না। না না থামান প্লিজ। আফরিদ ম’রে যাবো আমি।”

আফরিদ নিশ্চুপ, সিগারেট টানতে ব্যস্ত সে। বক্ষপৃষ্ঠে কম্পিত রমণীকে এক পলক দেখার প্রয়োজন বোধ করলো না। উল্টো দূরে সরিয়ে দিতে ধাক্কা দিলো।

“ছাড় নষ্টা কোথাকার ,তোকে শু’কুরে ছিঁড়ে খাওয়াই উচিত। ওই বান্দির পোলা হি’জড়া কোথাকার নিয়ে যা এইটারে।”

ছেলেটা পারছে না কেঁদে ফেলতে , কোন দুঃখে এই মেয়ে কে ধরতে গেল সে? ন্যান্সি আফরিদের গর্জনে আবারো কেঁপে উঠলো ন্যান্সি , একমাত্র এই লোকটা ছাড়া কেউ সাহায্য করবে না এখানে। টিশার্ট খামচে ধরে আছে ন্যান্সি ,পারে না বুকের ভেতর ঢুকে যেতে তার।

“আফরিদ ছুঁতে নিষেধ করুন, আমি ভয় পাচ্ছি। চলে যেতে বলুন না। বলুন না প্লিজ প্লিজ।”

হু হু শব্দে কেঁদে উঠলো মেয়েটা , বুকের উপর থেকে রমণীর কান্না ভেজা মুখখানি তুলে ধরে আফরিদ ,শেষ সিগারেটের টান দিয়ে সম্পূর্ণ ধোঁয়াটা ন্যান্সির মুখের উপর ছেড়ে দিলো ,খুক খুক কেশে উঠলো মেয়েটা। আবারো আফরিদের গলদেশে হাম’লে পড়ে।

“তোকে কেন বাঁচাতে যাবো? তুই কে হ্যাঁ?”

কম্পিত হাত টা আরো টেনে ধরে আফরিদের টিশার্ট। দুরু দুরু বুকের কম্পন, কন্ঠনালির কাঁপন সব মিলিয়ে ফিসফিসিয়ে বললো।

“আ.. আমি আপনার.. ওয়াইফ। আম… আমাকে পবিত্র রাখা আপনার দায়িত্ব।”

কথাটা বলেই আবারো বুকে মুখ গুজে ন্যান্সি।
এতক্ষণে হাত বাড়ালো আফরিদ , নিজের সাথে চেপে ধরে ন্যান্সি কে। পিঠ খামচে বুকে চেপে ধরে । ন্যান্সি থরথরিয়ে কাঁপছে , কিন্তু ভয়ংকর হাত দুটি তাকে নিজের সাথে পেঁচিয়ে ধরেছে। অতঃপর খিটখিটে মেজাজে বলে।

“তাকা আমার দিকে। তাকা না বা’ল।”

ধমক খেয়ে সহসা মুখ বের করে আনে ন্যান্সি। চোখের পাতা কাঁপছে ন্যান্সির ,গাল বেয়ে গড়িয়ে যাচ্ছে নোনা জল।
আফরিদ আবারো শুধোয়।

“তুই কি আমার? বল বল দ্রুত বল।”

“ও.. ওয়াইফ। প্লীজ ওনাকে সরান , জানো’য়ারের বাচ্চা নিষেধ কর না ছুঁতে।”

ভ্রু কুঁচকে এলো আফরিদের । বাঁকা হাসে , পরক্ষণেই হাসিটা উবে গেল তার। ন্যান্সির লালচে গালে নখের আঁ’চড় দেখে। প্রশ্নবিদ্ধ নয়নে তাকাতেই আঙ্গুল দেখালো ন্যান্সি লোকটার দিকে।

আফরিদ এক দলা থুতু ফেলল নিচে। হুইস্কির বোতলে চুমুক দিয়ে বলল।

“কি রে শাউ’য়্যার নাতি আমার কাঁটার মতো বউটারে তোর ঝাটার মতো হাত দিয়ে আ’ঘাত করলি?”

এতক্ষণে সবটা স্বচ্ছ জলের মতো পরিষ্কার লোকটার কাছে। এই মেয়েটা এই পাগলের বউ। আফরিদ মাথা ঝাঁকায় , উন্মাদ লাগছে তাকে। যে কেউ বলবে কোনো মানসিক রোগী বোধহয়। আফরিদ হিসহিসিয়ে বলল।
“কিছুক্ষণ আগে বলেছিলি না আমি কে? আমি ওর ইল্লিগ্যাল থেকে লিগ্যাল হওয়ার ভা”তার।”

লোকটা শুকনো ঢোক গিলে ,আফরিদ খ্যাঁক করে উঠলো।

“ঈশান ,এই মাদা*** মেশিনে সমস্যা ,ওরে দ্রুত লাল পানি খাওয়া তারপর জায়গা মতো নিয়ে চল। আমি সাইজ করব পরে।”

লোকটা পালাতে চাইলো ,তার আগেই গার্ড গুলো ধরে ফেলল তাকে। ঈশান জোরপূর্বক তাকে ড্রাগ ইনজেক্ট করে। ন্যান্সি তখনো শক্ত করে জড়িয়ে আছে আফরিদ কে। ছাড়বে না , ছাড়লেই শেষ হয়ে যাবে!

“এই মা’তারি তাকা আমার দিকে।”

ঝটপট মুখ বের করে তাকালো ন্যান্সি। আফরিদ সিগারেটে টান দিয়ে ওষ্ঠো জোড়া আঁকড়ে ধরে ন্যান্সির , সিগারেটের ধোঁয়া পেটে যেতেই পেট মোচড় দিয়ে উঠলো ন্যান্সির। ন্যান্সির নাক দিয়ে ধোঁয়া বের হচ্ছে। কাশছে মেয়েটা। তারপরেও ছাড়ছে না আফরিদ কে।

চলবে………….।✨

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply