অ্যাঞ্জেল_অ্যাঞ্জেলিনা
[পর্ব ২২]
লেখিকাফারহানানিঝুম
(🚫এই গল্পের কোনো দৃশ্য, সংলাপ, প্লট অনুপ্রাণিত হয়ে কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।)
(🚫 দূর্বল হৃদয়ের পাঠকদের জন্য গল্পটা একদম নয় এবং প্রাপ্তমনস্কদের জন্য উন্মুক্ত)
পায়ে প্রচন্ড রকম ব্যথা করছে ন্যান্সির। এই উঁচু জুতো গুলো পড়ে হাঁটতে পারছে না সে! মারাত্মক কষ্ট হচ্ছে তার!
পায়ের গোড়ালি লাল হয়ে গেছে। বিষয়টা বলেছে আফরিদ কে সে ,তাকে নরমাল জুতো আনতে হবে তাই শপিং মলে নিয়ে যেতে।
আফরিদ শুনলো তবে কি বলল না। তার মৌনতায় ভীষণ রাগ হলো ন্যান্সির তবে কিছু বলল না।
দুপুর ছুঁই ছুঁই। ড্রয়িং রুমে সোফায় বসে আছে ন্যান্সি , হঠাৎ সদর দরজা দিয়ে বড়সড় ব্যাগ নিয়ে ভেতরে এলো একজন। ভ্রুদ্বয় আড়াআড়ি ভাবে কুঁচকে নিল ন্যান্সি।
তার পিছু পিছু এসেছে আফরিদ এহসান।
ন্যান্সি লোকটাকে পা থেকে মাথা পর্যন্ত দেখে যা বুঝলো একজন স্টাফ সে।
“উনি কে?”
আফরিদ কিছু বলল না শুধু গিয়ে ন্যান্সির পাশে বসলো সোফায়।
লোকটা মৃদু হেসে বলল।
“ম্যাম এখানে অনেক রকম জুতো আছে , আপনার কোন টা পছন্দ বলুন।”
ব্যাগ থেকে অনেক গুলো নতুন ডিজাইনের জুতো বের করে লোকটা। ন্যান্সি আশ্চর্য হলো, কিঞ্চিৎ ভড়কালো বটে। লোকটা একটা জুতো তার পায়ের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল।
“আপনার পা টা দিন!”
ন্যান্সি পা দিতেই যাবে তার আগেই আফরিদ নিরেট কন্ঠে বলে উঠে।
“স্টপ।”
লোকটা থেমে গেল , আফরিদ প্যান্টের পা ভাঁজ করে ন্যান্সির পায়ের কাছে বসলো। হকচকিয়ে গেল মেয়েটা। আফরিদ হাত বাড়িয়ে জুতোটা নিয়ে নিলো। আর লোকটাকে ইশারায় বলল।
“আপনি বাইরে গিয়ে অপেক্ষা করুন।”
লোকটা বিনা বাক্যব্যয়ে চুপচাপ বেরিয়ে গেল। ন্যান্সি ঠায় বসে আছে। আফরিদ জুতোর খাপে পা ঢুকানোর চেষ্টা করে বলল।
“সাইজ কত?”
“ছত্রিশ।”
“এত ছোট কেন?”
আফরিদ নিমোষ্ট কামড়ে ধরে হাসি হাসি চোখে তাকায় ন্যান্সির দিকে।
“কি আশ্চর্য আমি কি আপনার মতো ডাইনোসর নাকি যে আমার পা আরো বড় হবে?”
আফরিদ বাঁকা হাসলো, তার অদ্ভুত দৃষ্টিতে লজ্জায় হাঁসফাঁস করে উঠে মেয়েটা।
“সবসময় ডাবল মিনিং কথাবার্তা বলেন কেন আপনি?”
আফরিদ ভ্রু উঁচিয়ে বলল।
“আমি তো কিছুই বললাম না!”
দু জোড়া জুতো নিয়েছে ন্যান্সি , আফরিদ বিরক্তিকর কন্ঠে আওড়ালো।
“আরো দুটো নিয়ে নে বাইরে প্রয়োজন হবে।”
ন্যান্সি নির্লিপ্ত কন্ঠে বলল।
“বাইরে মানে?”
আফরিদ চুল গুলোতে ব্যাকব্রাশ করতে করতে বলল।
“রেডি থাক থাইল্যান্ড যাচ্ছি!”
🌿 থাইল্যান্ড…..
“বা’ন্দি জানকি বাচ্চা,হয়তো ঠোঁট কাম’ড়ানো চুমু দে নয়ত জাম্প কর।”
আকাশে ভাসমান প্লেনের পিছনের র্যাম্প ডোর খোলা আছে। সাঁ সাঁ করে বাতাস এসে ছুঁয়ে দিচ্ছে সর্বাঙ্গ। বলিষ্ঠ হাতের এক পুরুষের হাতের বাঁধনে আটকা পড়েছে ইলহাম ন্যান্সি অ্যাঞ্জেলিনা অথবা বলা যায় আফরিদ এহসানের জানকি বাচ্চা । ভ’য়ে আ’তং’কে কন্ঠনালি কাঁপছে তার। বাতাসের তীব্রতা এতটাই বেশী যে কাছাকাছি থাকা সত্ত্বেও মৃদু স্বরে চিৎকার করে একে অপরের সহিতে কথা বলতে হচ্ছে।
“প্লিজ আফরিদ আমার ভয় লাগছে, বন্ধ করুন এসব প্লিজ! আমি ভয় পাচ্ছি। আমি নিচের দিকে তাকাতে পারছি না।”
আফরিদ ইচ্ছে করে তাকে এখানে নিয়ে এসেছে। শরীর ঘামছে ন্যান্সির। সে তো জানতো না আফরিদ স্কাই ড্রাইভিংয়ের প্রতি মারাত্মক ভাবে আ’সক্ত। তারা বর্তমানে থাইল্যান্ডে রয়েছে , ফ্লাইটেই আফরিদ এসেছে। এখানে আসার বড়সড় একটা কারণ আছে। অবশ্য এখানে একা আসেনি , এসেছে মাইমুনা এহসান, সাব্বির এবং আফরিদ, ন্যান্সি। ফাহমিদা, নীলাদ্রি, কল্পনা ওরা বাংলাদেশ রয়েছে।
ওষ্ঠদ্বয় কিঞ্চিৎ ফাঁক হয়ে এলো শক্তপোক্ত পুরুষটির। ঠোঁটের কোণে ঝু’লছে দুষ্টু হাসি সেই অদ্ভুত হাসি টেনে ফের আওড়ালো।
” যা বললাম তাই করো।হয়তো কিস নয়ত জাম্প ,চয়েস ইজ ইওরস।”
নিচের দিকে তাকিয়ে আরো ঘাবড়ে যাচ্ছে ন্যান্সি। ফাঁকা ঢোক গিললো সে।এই পুরুষ কখনোই তার কথা শুনবে না। যা বলছে তাই করবে এটা নিয়ে সন্দেহ নেই।
“আমি তিন পর্যন্ত কাউন্ট করব এরপর…
পরণে অফ হোয়াইট শার্ট পিছনে প্যারাসুট কাঁধে।আপাতত সে প্রস্তুত ঝাঁ’প দেওয়ার জন্য।
মাটি থেকে প্রায় এগারো হাজার ফুট উপরে অবস্থান করছে তারা। আফরিদ এহসানের জন্য এই জাম্প যতটা স্বাভাবিক ততটাই ভয়ংকর ন্যান্সির জন্য।
“প্লিজ প্লিজ আমার কথাটা শুনুন।”
“লেটস্ স্টার্ট দ্য গেইম।”
ক্ষণিকের মধ্যে জাম্প করলো আফরিদ । শীর্ণ বদন খানি কেঁপে উঠলো ন্যান্সির।এই বুঝি তার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যাবে। হার্ট প্রচন্ড দ্রুত গতিতে বিট করছে।
“হেল্প সামওয়ান !”
বাম হাতে কোমড় চেপে ধরে আছে আফরিদ এহসান। ভয়ে দু’হাতে গলা আঁকড়ে ধরেছে ন্যান্সি ,ছেড়ে দিলেই তো শেষ!
ডান হাতে পিছনের দিকের বেল্ট টেনে দিল। বেল্ট টানা মাত্র খুলে গেল প্যারাসুট। এটা তো আফরিদের জন্য রোজকার ব্যাপার।সে বেশ এন’জ’য় করছে।
“হেই পিরানহা ফিশ ভয় পেয়ো না পাচ্ছিস কেন? আমি আছি তো!”
প্যারাসুট ধীর গতিতে নিচে নেমে আসছে। ন্যান্সি ভয়ে আড়ষ্ট হয়ে জড়িয়ে আছে । চোখাচোখি হয় দু’জনের, একজনের চোখে স্পষ্ট অনুভূতির ছড়াছড়ি।অন্য জনের চোখে দ্বিধা দ্ব’ন্দ্ব। আফরিদ ভাসমান অবস্থায় ন্যান্সির থুতনিতে কা’মড়ে ধরে ধরে। ঘটনার আকস্মিকতায় হতভম্ব ন্যান্সি , সরতে পারবে না সে ্ সরলেই তো মৃত্যু নিশ্চিত। উঁহু সরবে না সে। ভয়ে হাত কাঁপছে তার।
মাটিতে পদার্পণ করা মাত্র জ্ঞান হারালো ন্যান্সি। লুটিয়ে পড়লো সে। দু’হাতে আগলে নিল তাকে আফরিদ এহসান।
আফরিদ ঘোর লাগা চাহনিতে তাকালো ন্যান্সির দিকে , আলগোছে কোলে তুলে এগিয়ে গেল গাড়ির কাছে। ভেতরে ঢুকেই দরজাটা বন্ধ করে কোলে তুলে নিল বেহুঁশ ন্যান্সি কে। পেছন থেকে ওয়াটার বোটাল টা নিয়ে চোখে মুখে পানির ঝাপটা দিতেই ধীরে ধীরে দৃষ্টি মেলে তাকানোর চেষ্টা করে ন্যান্সি। কিন্তু তা বোধহয় আর সম্ভব হয় না। অনুভব করে পৌরুষ্ট ওষ্ঠো জোড়া তার ঠোঁটের ভাঁজে ভাঁজে বিচরণ করছে। ন্যান্সি হকচকিয়ে গেল , থমকালো। লজ্জায় দৃষ্টি মেলে তাকানোর সাহস হলো না। অনুভব করলো নষ্ট পুরুষের অস্থিরতা ,তার হৃদস্পন্দন অস্বাভাবিক ভাবেই বেড়ে চলেছে। হাত টপস গলিয়ে নগ্ন উদরে স্পর্শ করে চলেছে। ন্যান্সি মস্তিষ্ক ঠান্ডা করে আবারো অনুভব করলো আফরিদ এহসান ঠিক কতটা উন্মাদ। তাই তো ন্যান্সির ঠোঁট জোড়া পারছে না নিজের ভেতরে টেনে নিতে।
কিছুক্ষণ পরেই ন্যান্সি কে ছেড়ে দিলো আফরিদ , তিরিক্ষি মেজাজে বলে উঠে।
“একদম মজা নাই তোর এই শাউ’য়্যার লিপস্টিক। চলবে না এই ব্র্যান্ড , চেঞ্জ করবি আজকেই। বা’ল একদম টেস্ট নাই।”
আফরিদের কথায় মাথা ভনভন করছে ন্যান্সির। অজানা ভয়ে দেহ মন শিউরে উঠলো। আচানক দু’হাতে আফরিদের গলা জড়িয়ে ধরে ন্যান্সি।
“আপনাকে একটা কথা বলি?”
বুকের ভেতর ধুকপুক আফরিদের। এতটা শান্ত? উহু ঘাপলা আছে নিশ্চয়ই।
“বলে ফেল।”
“আমি আপনাকে..
“কি?”
“আমি আপনাকে ছেড়ে এখন পালাবো।”
“ইস্!”
গলার কাছে কিছু একটা বিঁধে আফরিদের ,সহসা আঁখিদ্বয় বুঁজে এলো তার। আলগোছে তার মাথাটা সিটে এলিয়ে দিলো সে। খুব সন্তর্পণে কাজটা করছে। পিছন দিকে গাড়ির দরজাটা খুলে বেরিয়ে পড়ে ন্যান্সি। আজকে আফরিদ কোনো গার্ড নিয়ে আসেনি , এবং কি সর্বদা তার সাথে সাথে থাকা ঈশান কে পর্যন্ত নিয়ে আসেনি।
ন্যান্সি অপেক্ষা করলো না যে দিকে দু চোখ যায় সেদিকেই দৌড়াতে লাগল। না সে এখানে থাকবে না! যতদূর সম্ভব পালাতে হবে।
🌿_____🌿
🌿বাংলাদেশ….
(হল রং ০২)
নতুন করে মর্গ থেকে কিছু লাশ নিয়ে আসা হয়েছে। সেগুলো অবৈধ ভাবেই নিয়ে আসা। বন্ধ গোডাউনের মধ্যে।
এক নাম্বার হল রিসার্চ সেন্টার , জারা বো’ম্বা নিয়ে রিসার্চ হচ্ছে। আর দুই নাম্বার হলে মরদেহ গুলোর মধ্যে স্মাগলিংয়ের মালপত্র পেট কে’টে ঢুকানো হচ্ছে।
গোলাম মোস্তফা ভুইয়া নামক লোকটাকে ডেকে বলল।
“ওই শা’লা যা গিয়ে মিস্টার কামাল কে ডেকে নিয়ে আয়। নতুন লাশ গুলোর পেট সেলাই করতে হইবো।”
ভূঁইয়া মাথা নাড়িয়ে দ্রুত হল নাম্বার একের দিকে ছুটে গেল। দমকাহীন ছুটে চললো তিনি নাম্বার একের দিকে। চারপাশে পাহারায় দাঁড়ানো গার্ডদের চোখে ছিল সতর্কতার তী’ক্ষ্ণ ঝিলিক দিচ্ছে। ধাতব য’ন্ত্রের সামনে দাঁড়ানো মাত্রই চেকিংয়ের শীতল শব্দ ভেসে এলো, যেন নিঃশব্দে প্রতিটি হাড়গোড় পরীক্ষা করে নিচ্ছে তাকে। সাফ হয়ে যেতেই ভেতরে যাওয়ার অনুমতি মিলল।
ঘরে বসে থাকা মিস্টার কামাল হঠাৎই ধীর গতিতে উঠে দাঁড়ালেন। তাঁর ভঙ্গিমায় ছিল ক্লান্ত অথচ দৃঢ় এক গাম্ভীর্য বজায় রয়েছে মুখাবয়ব জুড়ে । তখনই ভূঁইয়া এগিয়ে এসে ভারী কণ্ঠে জানাল।
“আপনাকে নিচে যেতে হবে।”
শব্দগুলো যেনো ঠাণ্ডা ছু’রির মতো কেটে গেল কামালের মনে। কপালের ভাঁজ আরও গভীর হয়ে উঠলো। আবারো সেই কাজ লা’শ সেলাই, র’ক্তের গন্ধ, আর অবৈধ সা’মগ্রীর আঁধার। কতবারই বা একই নিষ্ঠু’র দৃশ্যের সাক্ষী হবে তিনি? শরীর নয়, মানসিক ভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে বারবারের অভিজ্ঞতায়। তবুও দায়িত্বের শেকল তাঁকে টেনে নিয়ে যায় অন্ধকারের দিকে। এক পলক দৃষ্টি ঘুরিয়ে দেখলেন ব্যস্ত মিস্টার আলবার্ট কে। তিনি মন দিয়ে নিজের কাজ করে চলেছেন।
মিস্টার কামাল আর কোনো কথা বাড়ালেন না। নিঃশব্দে, ভারী পায়ে ভুঁইয়ার সাথে এগিয়ে গেলেন হল রুম নাম্বার দুইয়ের দিকে। দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকতেই সারা ঘর ভরে থাকা পচা গলা লাশের বিদঘুটে গন্ধ এক ঝটকায় আছড়ে পড়ল তাঁর নাকে মুখে। তীব্র সেই দুর্গন্ধে মুহূর্তেই ভ্রূ কুঁচকে গেল, আর কোনো উপায় না দেখে তাড়াতাড়ি পকেট থেকে রুমাল বের করে নাকে চেপে ধরলেন তিনি।
ঠিক তখনই এক কর্কশ, বিদ্রূপে ভরা শব্দ ছুটে এলো
“কি ডাক্তার সাহেব, শরম লাগে নাকি যে মুখ লুকান?।
গোলাম মোস্তফার খ্যাঁক করে ওঠা হাসিটা ঘরে আরও অস্বস্তির আবহ ছড়িয়ে দিল। তার চোখে মুখে কুটিল তৃপ্তি।
মিস্টার কামাল মুহূর্তেই তাকালেন। তীক্ষ্ণ, কঠিন দৃষ্টিতে। চোখের গভীর থেকে জ্ব’লতে থাকা অগ্নিশিখা বেরিয়ে এলো। কিন্তু ঠোঁটের কোণে কোনো শব্দ জন্ম নিল না। শুধুই এক নিঃশব্দ বিরক্তি, যা তাঁর প্রতিটি অঙ্গভঙ্গিতে স্পষ্ট হয়ে উঠল।
ভারী ক্লান্তিতে তিনি দু’পা এগিয়ে গেলেন। সামনের টেবিলটা ঠাণ্ডা আলোয় ঝকমক করছিল। তার উপর ছড়ানো ছিল শল্যচিকিৎসার যন্ত্রপাতি, ধা’রালো ছু’রি, সুঁই-সুতো সবকিছু প্রস্তুত এক বিভৎস কাজে। যেনো লাশের পেট চিরে আবার সেলাই করার জন্য ঘড়ির কাঁটা অপেক্ষায় বসে আছে। বিরক্তিতে আবারো হাতে গ্লাভস পরে কাজ শুরু করলেন তিনি।
তৎক্ষণাৎ গোলাম মোস্তফা আবারো হাঁকডাক ছেড়ে মন্টু দাসের উদ্দেশ্যে আওড়াল।
“কি মন্টু এই লাশ গুলা তো দেহি গইলা যাইতেছে!”
মন্টু তড়িঘড়ি করে উঠে এলো , পাশে পড়ে থাকা গুলো দেখতে দেখতে আওড়াল।
“এগুলো তো আর কাজের না ,স্যার কে বলতে হবে এইবার লাশের মান খুব খারাপ।
গোলাম মোস্তফা একগাদা থুথু ফেলল মেঝেতে।
“ছে ,এই ভূঁইয়া এগুলো নিয়ে গিয়ে নদীতে ভাসাইয়া দে। মইরাও কোনো কাজে আইলো না।”
ভুঁইয়া তাই করলো , পঁচা গলে যাওয়া লাশ গুলো লোক লাগিয়ে বস্তায় ভরতে শুরু করে। কিছুক্ষণের মধ্যে সেগুলো নিয়ে বেরিয়ে পড়লো পাশেই বড় একটা বিল রয়েছে , বেশ গভীর বিলটা। এখানে ফেলে দিলে কেউ সন্দেহ করার মতো নেই।
🌿_________🌿
🌿 থাইল্যান্ড….
বিছানায় ঘুমন্ত অবস্থায় রয়েছে আফরিদ এহসান ,এখনো ঘুম কাটেনি তার। তবে ডক্টর বলে গেছেন কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘুম কেটে যাবে। আফরিদের ঘাড়ে লাল টকটকে হয়ে আছে। হুল ফোটানোর কারণে এই জায়গাটা এমন অবস্থা হয়েছে।
“ডক্টর বসের ঘুম কা’টছে না কেন?”
ডক্টর মাফিজ দ্বিধাগ্রস্ত কন্ঠে বললেন।
“এখুনি ঘুম কা’টার কথা!
কথার মাঝখানে ধীরে ধীরে জেগে উঠছে আফরিদ এহসান। ন্যাকা কান্না করে তড়িঘড়ি করে এলেন মাইমুনা এহসান।
“ওই স্টুপিড মেয়ের জন্য ছেলেটার এমন অবস্থা! বেটা? বেটা আফরিদ উঠো।”
মস্তিষ্কের শিরা ছিঁড়ে যাচ্ছে এমন ব্যাথা অনুভব করছে আফরিদ। ত্বরিত গতিতে উঠে বসলো বিছানায়। মস্তিষ্কে চাপ প্রয়োগ করতেই ন্যান্সির মুখখানি মনে পড়ে গেল।
“অ্যাঞ্জেলিনা? অ্যাঞ্জেলিনা কোথায়?”
সাব্বির বিরক্ত প্রকাশ করলো , চাপা রাগ নিয়ে আওড়াল।
“তুমি এখনো ওই মেয়েটার কথা ভাবছো ভাইয়া? লাইক সিরিয়াসলি?”
অগ্নি দৃষ্টিতে তাকালো আফরিদ , শাসানোর সহিত বলে উঠে।
“ভাবি হয় , নেক্সট টাইম ওই মেয়ে বললে তোর জি’ভ কেটে ফেলতে দু’বার ভাববো না।”
সাব্বির নির্বাক , আড়ষ্ট হলো ভয়ে। ভীত নয়নে তাকালেন মাইমুনা এহসান। ন্যাকা ন্যাকা কন্ঠে বলেন।
“ওই মেয়ের জন্য নিজের ভাই কে এমন ভাবে বলছো আফরিদ? সে অলরেডি তোমাকে রেখে পালিয়েছে?”
বজ্রপাত ঘটে আফরিদের মস্তকে।
ঈশানের দিকে তাকাতেই সে ভীত কন্ঠে বলল।
“হ্যাঁ বস , ম্যাম আপনাকে গাড়িতে রেখেই পালিয়েছে।”
তীব্র রাগে ফেটে পড়ে আফরিদ এহসান। রাগান্বিত স্বরে গর্জে ওঠে।
“তো এখানে দাঁড়িয়ে কার বাল ফেলতে দেখছিস তুই খোঁজ ওরে।”
কেঁপে উঠল উপস্থিত সবাই। ডক্টর মাফিজ তটস্থ ভঙিতে সরে এলেন। ঈশান কাঁপা কাঁপা স্বরে আওড়াল।
“অলরেডি গার্ডদের খোঁজ করতে এলার্ট করা হয়েছে।”
“খান’কির পোলারা এতক্ষণে ওরে আমার সামনে নিয়ে আসা উচিত ছিলো তোদের। যদি ওরে না পাই ঈশান তোদের কবর খুঁড়ে রাখ।”
ঈশান আবারো বলল।
“চিন্তা করবেন না বস ,ম্যাম কে পাওয়া যাবে।”
দাঁতে দাঁত পিষে আফরিদ , মাথা খারাপ হয়ে যাচ্ছে তার।
“বস ,কি করব এখন?”
আফরিদের মুখে কিছুই আটকায় না। মাইমুনা এহসান জায়গা ত্যাগ করেছেন সেই কখন। উনার পিছু পিছু ছুটে গেল সাব্বির। বাড়ির কারোই কিছু যায় আসে না ন্যান্সি বাঁচল নাকি ম’রল। বরংচ খুশি হয় সে ম’রলে।
আফরিদ আবারও হুংকার ছেড়ে বলল।
“বা’ল ছিঁড়ে আটা বাঁধ। শা’লা জাউরা কোথাকার , গিয়ে খুঁজে নিয়ে আয় অ্যাঞ্জেলিনা কে।”
ঈশান তটস্থ ভঙ্গিতে বেরিয়ে গেল। পিছু পিছু ডক্টর মাফিজ ছুটে যায়। দেখা গেল তাকেই গুলি করে দিলো এই সা’ইকো লোকটা।
বা’ন্দির বাচ্চা তাকে ধোঁকা দিলো? আফরিদ এহসান কে? শা’লীর এত কারেন্ট? একবারও ভাবলো না যদি আমি ধরতে পারি তাহলে সেই কারেন্ট কোন দিক দিয়ে বের হবে? মাতা’রি রেএএ লিখে রাখ তোর খুব শীঘ্রই বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিবে।
চলবে…………।✨
Share On:
TAGS: অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা, ফারহানা নিঝুম
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৩
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৩৫(প্রথমাংশ +শেষাংশ)
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৪০
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৪
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ১০
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৩৭
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৩১
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ২৮
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ২৫
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৩৯