Golpo romantic golpo অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা

অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ১৬


অ্যাঞ্জেল_অ্যাঞ্জেলিনা

[পর্ব ১৬]

লেখিকাফারহানানিঝুম

(🚫এই গল্পের কোনো দৃশ্য, সংলাপ, প্লট অনুপ্রাণিত হয়ে কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।)

(🚫 দূর্বল হৃদয়ের পাঠকদের জন্য গল্পটা একদম নয় এবং প্রাপ্তমনস্কদের জন্য উন্মুক্ত)

ফোনের টুং টুং শব্দ হতেই তা রিসিভ করলো মাইমুনা এহসান। পরিচিত নাম্বার টা দেখে ওষ্ঠো কোণে হাসি খেলো গেল উনার।

“হ্যাঁ বলো। হাউ আর ইউ?”

ওপর প্রান্ত থেকে পুরুষালী কন্ঠস্বর ভেসে এলো।
“আই অ্যাম ফাইন বেইবি। হাউ আর ইউ?”

“অ্যাম আলসো ফাইন। কিন্তু এতদিন পর কি করে মনে পড়ল?”

লোকটা বোধহয় খানিকটা ব্যঙ্গ করে বলল।
“আই রিমেম্বার ইউ এভরি সিঙ্গল ডে।”

একপেশে হাসলো মাইমুনা এহসান।
“ওকে ওকে।”

“আফরিদ কোথায়?”

“আফরিদ কিছুক্ষণের মধ্যেই ফিরে আসবে। কথা বলে নিও।”

লোকটা ভাবুক হলো ,তার ভাবান্তর বোঝা বড় কঠিন।
“ওকে। আফরিদ কে বলো কল করতে।”

“ওকে।”

মাইমুনা এহসান ফোন রাখতেই দেখতে পেলেন দরজার কাছে দাঁড়িয়ে আছে কল্পনা।

“কি হয়েছে কল্পনা? ওভাবে উঁকিঝুঁকি দিচ্ছ কেন?”

কল্পনা এক গাল হেসে বলল।
“আসলে মম আমি বলতে এসেছি যে বাসুর জি চলে এসেছে।”

মাইমুনা এহসান দীর্ঘ শ্বাস ফেললেন , ছেলে টা তার হাতের বাইরে বেরিয়ে গেছে। আর বললেও ভুল হবে কারণ কবেই বা সে হাতের মুঠোয় ছিলো?

আলগোছে ন্যান্সি কে কোলে তুলে ধীরে ধীরে হেঁটে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করলো আফরিদ। গভীর ঘুমে তলিয়ে আছে ন্যান্সি। পাঁজা কোলে তুলে নিয়ে আসছে তাকে।

“ভাবির কি হয়েছে ভাইয়া?”

ফাহমিদার কথায় ওষ্ঠো বাঁকালো আফরিদ।
“কিছু হয়নি ঘুমোচ্ছে।”

আফরিদ আর কাউকে উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করলো না। যেতে যেতে সবার উদ্দেশ্যে বলল।

“আগামী এক ঘন্টা রুমে যেনো কেউ না আসে।”

ঠোঁট টিপে হেসে ফেলল ফাহমিদা , মুখ বাঁকালো কল্পনা। কত ন্যাকামি যে দেখতে হবে তাকে! মাইমুনা এহসান থম মেরে দাঁড়িয়ে আছেন। কিছু বলতে পারলেন না আফরিদ কে।

🌿__🌿

খাবার টেবিলে খাবার দেওয়া হয়েছে সবে। সার্ভেন্ট গুলো সবটা সাজিয়ে দিয়েছে। নীলাদ্রি , সাব্বির, কল্পনা ফাহমিদা এবং মাইমুনা এহসান সবাই একত্রে খেতে বসেছে। নীলাদ্রি মায়ের উদ্দেশ্যে বলল।

“ভাইয়া কোথায় মা? ইদানিং ভাইয়ার কোনো কিছুরই ঠিক নেই। সব কিছুতে কেমন হেঁয়ালি পনা।”

চাপা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন মাইমুনা এহসান।
“দু’দিন যেতে দাও , তারপর সব চলে যাবে। ক’দিন আর থাকবে এই বউ পাগলামি আমিও দেখব।”

ওয়াশ রুম থেকে ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে এলো ন্যান্সি ,চুল গুলো কে সুন্দর করে একত্রে করে ক্লিপ দিয়ে আটকে দিলো। লম্বা চুল গুলো হাঁটু ছাড়িয়ে নিচে চলে গেছে। আফরিদ চেয়ে চেয়ে দেখছে ন্যান্সি কে ,অবাধ্য চুল গুলো প্রচন্ড বিরক্ত করে ফলে চুপ ক্লিপ মে’রে রেখেছে সে।

“ওই মা’তারি তুই গোসল করিসনি? চুল শুকনা কেন? ছিহ ছিহ সবাই কি ভাববে? সবাই তো ভাববে আমাদের মধ্যে ইয়ে হয়নি! আমার পুরুষত্বের উপর আঙ্গুল উঠবে , রীতিমতো বেইজ্জতি করে দেবে। নো নো আফরিদ এহসান এটা কিছুতেই মেনে নেবে না ,চলো জানকি বাচ্চা আমি তোমাকে গোসল করিয়ে দেই।”

এহেন কথায় থমতম ,মুখ বাঁকিয়ে বললো।
“ঠিকই বলবে , আপনি হলে ক আকার কা,প উকার পু র উকার রু,ষ। মানে কাপুরুষ!”

রাগলো আফরিদ এহসান।
“তোদের মাইয়া জাতিরে কখনো বিশ্বাস করা উচিত নয়। পুরুষ জাতির জন্য মৃ’ত্যু তোরা। কবুল বললে জামাই বানিয়ে মা’রছ , আর ভালোবাসলে রিজেক্ট করে দেওয়ানা বানিয়ে মা’রছ।”

দাঁতে দাঁত পিষে ন্যান্সি। অসন্তুষ্ট গলায় বলল।
“তাহলে বিয়ে করছেন কেন কাপুরুষ?”

ঠোঁট কামড়ে হাসে আফরিদ।
“তুমি চাইলে প্রমাণ দিতে পারি আমি কাপুরুষ নাকি মহাপুরুষ।”

কথা শেষে চোখ টিপে আফরিদ ,মুখ ভেংচি কাটলো ন্যান্সি।
“বেয়াদব পুরুষ , আপনার মুখে টেপ লাগিয়ে দেব আমি।”

আফরিদ গা ছাড়া ভাব নিয়ে কাছাকাছি এসেই গালে কা’মড়ে ধরে ন্যান্সির। ব্যথাতুর কন্ঠে আর্ত’নাদ করে উঠলো ন্যান্সি।

“বাজে পুরুষ ছাড়ুন বলছি।”

সেকেন্ডের ব্যবধানে ছেড়ে দিলো আফরিদ। ভুবন ভোলানো হাসি নিয়ে বলল।

“মেরি লাল গাল ওয়ালি ,লাল গাল আরো লাল করে দিতে ইচ্ছে করছে। আসো বান্দি আরো একটা চুমু খাই।”

নাক ছিটকালো ন্যান্সি , বিরক্তিকর ভাবে বলল।
“এটা চুমু ছিলো? আপনি কা’মড়ে দিয়েছেন গালে! ব্যথা পাচ্ছি আমি।”

দাঁত দেখালো আফরিদ ,কাবার্ড থেকে কটন ক্যাজুয়াল শার্ট আর স্ট্রেইট কাট জিন্স নিয়ে ওয়াশ রুমে চলে গেল। ন্যান্সি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বেয়াদব পুরুষের কান্ড কারখানা দেখছে। কিছুক্ষণ পরে ওড়না টা ভালো করে একপাশে ফেলে রুম থেকে বের হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। আচানক ওয়াশ রুম থেকে আফরিদের গলা শুনতে পেলো।

“ওই মা’তারি টাওয়েল টা দিয়ে তারপর যা।”

ভ্রু বাঁকালো ন্যান্সি। টাওয়েল নিতেই ভুলে গেছে? গলা উঁচিয়ে শুধোয়।

“কি আশ্চর্য আপনি তো সবে গেলেন , বেরিয়ে এসে নিজের টাওয়েল নিজেই নিয়ে যান।”

আফরিদ বিরক্তিকর গলায় বলে।
“দিবি কিনা? না হলে কিন্তু আমি বাইরে চলে আসবো।”

থতমত খেয়ে গেল ন্যান্সি , বিস্মিত কন্ঠে শুধোয়।
“নির্লজ্জ লোক কোথাকার।”

মনে মনে বকা দিতে দিতে টাওয়েল নিয়ে ওয়াশ রুমের দরজার দিকে এগিয়ে গেল ন্যান্সি।

“দরজা খুলুন ,এই যে টাওয়েল।”

আফরিদ খট করে ওয়াশ রুমের দরজা খুলে দিল। ন্যান্সি হাত বাড়িয়ে টাওয়েল টা বাড়িয়ে দিলো। আশ্চর্যের বিষয় আফরিদ টাওয়েল নেওয়ার বদলে তার হাত টেনে নিল। হেঁচকা টানে ভেতরে নিয়ে এলো। হকচকিয়ে গেল ন্যান্সি।

“কি করছেন? ছাড়ুন আমায় আরে।”

আফরিদ শুনলো না , বিলাসবহুল ওয়াশ রুমে টেনে নিয়ে শাওয়ারের নিচে দাঁড় করিয়ে দিলো। ঠান্ডা পানির ছোঁয়া পেতেই ধড়ফড়িয়ে উঠে মেয়েটা।

“ঠান্ডা,সরুন বেহায়া পুরুষ।”

আফরিদ তো সরলো না উল্টো চেপে ধরে ভিজিয়ে ফেলল ন্যান্সি কে। কাঁপছে রমণী।

“উফ্ বান্দি জানকি বাচ্চা এখন ফিল আসছে বিয়ে করে বাসর করার পর এক সাথে শাওয়ার নেওয়ার।”

আফরিদের কথায় ছিটকে দূরে সরে গেল ন্যান্সি।

“অস’ভ্য অশ্লী’ল লোক আমাকে ভিজিয়ে দিয়েছেন। আমার চুল গুলো ভিজে গেলো , এখন এই ভেজা চুল কতক্ষণে শুকাবো আমি? হ্যাঁ?”

পেট চেপে হেসে ফেলল আফরিদ।
“ছিহ ছিহ বউ তোমার প্রতিবেশী মা কি তোমাকে এটুকু শিখায় নি স্বামীর সাথে গোসল করলে মোহাব্বত বাড়ে?”

দাঁত কিড়মিড়িয়ে বলল উঠে ন্যান্সি।
“আপনার মাথায় ভারী। মোহাব্বত নাকি ছাই? “

আফরিদ নিশ্চুপ! ভেজা ঠোঁট জোড়া জিভের ডগা দ্বারা আবারো ভেজায়।
তার ঘোর লাগা চাহনিতে অস্বস্তিতে পড়ে গেল ন্যান্সি। নিজেকে দেখে লজ্জায় আড়ষ্ট হলো বোধহয়। শরীরের সাথে জামাটা একদম ভিজে লেপ্টে আছে।
সহসা ভেজা চুল গুলো দুভাগে সামনে নিয়ে এলো। নিজেকে ঢেকে নেওয়ার ক্ষীণ প্রয়াস মাত্র। ঘাড় বাঁকালো আফরিদ , ঘনঘন নিশ্বাস নিচ্ছে সে। তার এমনতর কান্ডে কিঞ্চিৎ বিব্রত বোধ করছে ন্যান্সি। এই মূহুর্তে সরে যাওয়া উচিত।

“মাতারি রেএএ কি দেখালি এখন কি করব?”

আফরিদ কে এগুতে দেখে পিছুতে লাগল ন্যান্সি।
“দেখুন।”

“দেখা।”

আরেক দফা ভড়কালো ন্যান্সি , কথায় কথায় অশ্লীল কথা বলে এই উত্তে’জনার ব্যাডা। প্রত্যেকটা কথার ডাবল মিনিং বের করে।
“একদম কাছে আসবেন না ,নয়তো চিৎকার করব বলছি।”

“তাহলে তো আরেকটু কাছে আসা দরকার বান্দি। সাত বাড়ি শোনা উচিত তোমার চিৎকার। তবেই তো বলবে সবাই আফরিদ এহসান মহা পুরুষ।”

চোখ দুটো খিঁচিয়ে বুঁজে নিল ন্যান্সি। দাঁতে দাঁত পিষে বলে।
“যেতে দিন আমাকে।”

“ধরে কই রেখেছি? যা যা।”

চট করে যাওয়ার উদ্দেশ্যে পা বাড়ায় ন্যান্সি। পরক্ষণেই নিজেকে শূন্যে অনুভব করলো।‌ কোমড় পেঁচিয়ে উঁচু করে ধরে আফরিদ। হাস্কিটুনে বলে।

“ভিটামিন প্রয়োজন ইমিডিয়েটলি।”

ন্যান্সি এক বুক ভয় নিয়ে,কাঁপা কাঁপা স্বরে বলল।
“মানে?”

“মানে তুই আর আমি। তুই দেখাবি, আমি দেখব । আমি দেখাবো,তুই দেখবি। এরপর…

বাকি কথাটুকু গিলে নিল আফরিদ , কাঁধে দাঁত বসিয়ে দিলো ন্যান্সি । চোখ বুঁজে স’হ্য করে আফরিদ। ফিসফিসিয়ে বলল।

“মাই ডিয়ার পার্সোনাল পিরানহা ফিশ।আই লাইক ইট বা’ন্দি। তোকে নিয়ে গর্ব করতে করতে কবে জানি গর্ভবতী হয়ে যাই!”

চোয়াল ঝুলে এলো ন্যান্সির।
“এ্যা?”
“এ্যা না হ্যাঁ।”

🌿___🌿

কলেজে গিয়েছে ফাহমিদা। কিছুক্ষণ পরেই ফিরবে। বাড়িতে আপাতত কেউ নেই।
মাইমুনা এহসান এসময়ে বাড়িতে থাকেন না , কোথাও একটা বেরিয়েছেন। বর্তমানে সাব্বির ,আর কল্পনা রয়েছে বাড়িতে। কল্পনা আর সাব্বির উরাধুরা ড্যান্স করছে গানে। সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতে নামতে অবাক হলো ন্যান্সি , এটা যে দেবর আর ভাবি হয় বোঝাই যায় না। সব গুলোর মাথায় কেমন তার ছেঁড়া লাগে তার নিকটে।

“ওই তো বড় ভাবী এসে গেছে।”

কল্পনা সিঁড়ির দিকে তাকালো , ন্যান্সি নিচে আসছে। নামতে নামতে শুধোয়।

“কি ব্যাপার সাব্বির ভাইয়া? আপনাকে খুশি লাগছে ভীষণ।”

“হ্যাঁ আসলেই আজকে ট্রাক…

বাকি কথা টুক করে গিলে ফেলল সাব্বির। ভুল বশত কি বলতে যাচ্ছিল সে? এখুনি তো কেলেঙ্কারি হয়ে যাচ্ছিল।
কল্পনা চোখ পাকিয়ে তাকালো সাব্বিরের দিকে। সন্দিহান দৃষ্টিতে তাকালো ন্যান্সি। কি এমন বলতে যাচ্ছি সাব্বির যেটা মাঝ পথেই থামিয়ে দিলো তাকে?

“ট্রাক? কিসের ট্রাক?”

সাব্বির ন্যান্সির প্রশ্নে বিব্রত হলো , ওষ্ঠে মেকি হাসি টেনে আওড়াল।

“আরে ট্রাক আবার কি? আমি একটা বলতে গিয়ে আরেকটা বলে ফেলেছি। আমি বলতে চাইছিলাম তোমাদের বিয়ের রিসেপশন তো আজ রাতে। কিছুক্ষণ পর ডেকোরেশনের লোকজন চলে আসবে তাদের জিনিসপত্র লড়ি নিয়ে চলে আসবে।”

সাব্বির কি মিথ্যে বলল? কেনো জানি ন্যান্সির মনে হচ্ছে মিথ্যে বলেছে ছেলেটা!
আচানক কোলের উপর ঝাপিয়ে কিছু একটা পড়তেই ধপাস করে সিঁড়ির ধাপে বসে পড়ল ন্যান্সি।

অপূর্ব সুন্দর সাদা রঙের লম্বা লোমওয়ালা বিড়াল দেখা যাচ্ছে। তার নীল সমুদ্রের মতো গভীর ও ঝকঝকে চোখ দু’টি যেন চারপাশের আলো টেনে নিচ্ছে। কানদুটি গোলাপি আভাযুক্ত, ভেতরের সূক্ষ্ম লোমগুলো পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে। পিটপিট চোখ করে তাকাচ্ছে ন্যান্সির দিকে। ন্যান্সি চমকালো। এর চোখ দুটো একদম আফরিদের মতো নীলাভ মনি।

“হুর বান্দি, একটা বিড়াল সামলাতে পারিস না? কোলে উঠতেই এমনে পড়ে গেলি? তাহলে আমার ৩ কেজি ওজনের বাচ্চা টাকে কেমনে সামলাবি?”

আফরিদের অহেতুক কথার মানে খুঁজতে গেলে বেহুঁশ হয়ে যাবে ন্যান্সি।

“এটা কার বিড়াল?”

“এটা আমার ছেলে কাইট্যান।”

আফরিদের কথায় চোখ ছোট হয়ে এলো ন্যান্সির। ব্যঙ্গ করে বলল।

“আমি জানতাম আপনার বড় কোনো সমস্যা আছে। তাই তো শেষমেষ বিড়ালের সাথে পরকীয়া করে বিড়াল বাচ্চা জন্ম দিয়েছেন।”

রীতিমতো আফরিদ যেনো আকাশ থেকে পড়ল। ন্যান্সির কথায় ড্রয়িং রুম কাঁপিয়ে হেসে উঠলো সাব্বির। ঠোঁট দুটো ফাঁক হয়ে আছে কল্পনার। এই মেয়ে বলে কি? বিড়ালের সঙ্গে পরকীয়া করা যায়?

তেড়ে গেল ন্যান্সির দিকে আফরিদ।
“আবে মা’ঙ্গের নাতি আমি কোন দুঃখে বিড়ালের সাথে পরকীয়া করতে যাবো?”

ন্যান্সি ঠোঁট ফুলিয়ে বলল।
“সেটা আপনিই জানেন। আপনার সিস্টেমে বড়সড় গন্ডগোল আছে। না হলে বিড়ালের সঙ্গে পরকীয়া করে শেষমেষ বিড়াল বাচ্চা জন্ম দিয়েছেন!”

আফরিদ ক্ষিপ্ত হলো ,চুল খামচে ধরে ন্যান্সির।
“কোন দুঃখে তোর মনে হলো এটা আমার জন্ম দেওয়া বিড়াল?”

ন্যান্সি নির্বিকার কন্ঠে বলল।
“আপনার চোখ আর ওর চোখ সেইম সেইম,নীলাভ মনি।”

ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল আফরিদ।
“শা’লী মাতারি ,তোর জন্য বিড়াল নিয়ে এসেছি আর এখন ন্যাকামি করিস? পরকিয়া করলেও আমি তোর সাথেই করব আর তোর সাথেই বাচ্চা জন্ম দেব।”

লজ্জায় নাক ছিটকালো ন্যান্সি। চোখ টিপে আফরিদ। বিড়াল টাকে কোলে তুলে নিল ন্যান্সি। আদুরে আদুরে দেখতে , ভীষণ মিষ্টি। একদম নরম তুলতুলে।

“আমার বিড়াল বাবু।”

আবারো তেতে উঠল আফরিদ। খ্যাঁক করে।

“থাপ্পড়াইতে থাপ্পড়াইতে সব কটা দাঁত ফেলে দেব বান্দি। আমার সিস্টেমে সমস্যা নেই যে শেষমেশ বিড়ালের বাপ হবো। একদম বাবু বলবি না।”

ন্যান্সি ধুমধাম পা ফেলে সিঁড়ির দিকে যেতে লাগল। মাঝপথে থেমে বলল।

“বিড়ালের বাপ।”

আর পায় কে ন্যান্সি কে? কাইট্যান কে নিয়ে দৌড়ে উপরে চলে গেল।

সাব্বির হাসতে হাসতে রীতিমতো গড়াগড়ি খাচ্ছে।
“ভাইয়া শেষমেশ তুমি বিড়ালের সাথে পরকীয়া করলে?

দাঁত পিষে অগ্নি দৃষ্টিতে তাকালো আফরিদ।
“সাব্বিরের বাচ্চা!”

চলবে………….।

(📌🫣 আফরিদ এহসান বিড়ালের সঙ্গে পরকীয়া করে বিড়াল বাচ্চা জন্ম দিয়েছেন 😐 সবাই রেসপন্স করিও পুকিরা)

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply