Golpo romantic golpo অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা

অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ১১


অ্যাঞ্জেল_অ্যাঞ্জেলিনা

[পর্ব ১১]

লেখিকাফারহানানিঝুম

(📌নোট: আমার এই গল্প ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে সুন্দর ভাবে কপি করছেন কিছু নতুন এবং পুরাতন লেখিকা। আজকের পর্ব থেকে শুরু করে আর একটা পর্বেও যদি কপি করেন তাহলে খুব খারাপ হবে। পাঠকদের উদ্দেশ্যে বলছি গল্পে নরখাদক , মানুষ খে’কো পিরানহা মাছ এই দৃশ্য গুলো বোধহয় আমার জানা মতে এখনো কোনো গল্পে দেখানো হয়নি। বিশেষ করে মানুষ খেকো পিরানহা মাছ, আমি অনেক রিসার্চ করে তবেই লিখছি। তাই আশা করব আপনারা কোথাও কপি দেখলে অবশ্যই প্রতিবাদ করবেন)

(🚫 দূর্বল হৃদয়ের পাঠকদের জন্য গল্পটা একদম নয় এবং প্রাপ্তমনস্কদের জন্য উন্মুক্ত)
(🚫কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।)

“আচ্ছা আব্বু সত্যি করে বলো তো আফরিদ এহসান কে? আর কেনই বা আপু কে নিয়ে গেছে?”

তন্বীর কথায় ভড়কালো মামুন হায়দার। কানের পিঠ বেয়ে গড়িয়ে পড়লো শীতল নোনা জল। হাতের উল্টো পিঠে কপাল মুছে বলল।

“জানি না ওই আফরিদ এহসান কেন এসব করছে!”

তন্বীর ভীষণ সন্দেহ হচ্ছে নিজের বাবার উপর। কেন জানো মনে হচ্ছে মামুন হায়দার সব জানেন অথচ কিচ্ছু বলছেন না! কেনই বা বলছে না সেটাও বুঝতে পারছে না।

আচানক খ্যাঁক করে বলে উঠেন আফিয়া হায়দার।
“তুই এখানে কি করছিস তন্বী? যা দ্রুত গতি ব্যাগ গোছানো শুরু কর।”

তন্বী বিস্ফোরিত চোখে তাকায় মায়ের দিকে , অবাক কন্ঠে শুধোয়।
“গোছাবো মানে? আমরা কোথায় যাচ্ছি মা?”

চোখ গরম করে তাকালেন আফিয়া হায়দার , খিটখিটে মেজাজ নিয়ে বললেন।
“আমরা এ শহর ছেড়ে চলে যাচ্ছি। তুই গিয়ে তৈরি হ।”

তন্বীর মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে সব কিছু। তারা শহর ছেড়ে চলে যাবে? তাহলে ন্যান্সির কি হবে?

“কিন্তু মা তাহলে ইলহাম আপুর কি হবে?”

“তোকে ভাবতে হবে না ইলহাম কে নিয়ে। যেটা বলেছি সেটা কর।”

তন্বী কে রীতিমতো ধমক দিয়ে পাঠিয়ে দিলেন।
“আমি জানতাম একদিন না একদিন এরকম দিন আসবেই। হলো তো তোমার শান্তি? আরো করো ইলহাম ইলহাম! এমন বুঝো ঠেলা। ওই মেয়ের জন্য শেষমেষ আমাদের শহর ছাড়তে হচ্ছে!

থমথমে মুখ করে ড্রয়িং থেকে চলে গেলেন আফিয়া হায়দার। মামুন হায়দারের আজও মনে আছে সেই ছোট ছোট হাতটি যখন নিজের মুঠোয় নিয়েছিল সেদিন থেকে ইলহাম ন্যান্সি অ্যাঞ্জেলিনা তার দায়িত্ব হয়ে এসেছে। সে যথার্থ চেষ্টা করেছে নিজের দায়িত্ব পালন করার অথচ শেষমেষ কি হলো?

🌿_🌿
এহসান মঞ্জিলে আজ যেন উৎসবের ঢেউ। বিশাল বাড়িটা সেজে উঠেছে এক আধুনিক আভায় চকমকে ক্রিস্টাল শ্যান্ডেলিয়ার গুলো ছড়িয়ে দিচ্ছে সোনালি আভা, ঝুলছে ভেলভেট কার্টেন, আর লম্বা হলওয়ে জুড়ে ফ্রেশ ফ্লাওয়ার অ্যারেঞ্জমেন্ট যেন এক বর্ণিল বাগান এনে দিয়েছে ঘরের ভেতর। প্রবেশপথে রাখা হয়েছে গোল্ডেন আর্চ, ডেকোরেটেড উইথ ফেয়ারি লাইটস অ্যান্ড আইভরি ড্রেপস, যা চোখে পড়তেই মনে হয় যেন কোনো রয়্যাল ওয়েডিং ভেন্যুতে এসে পড়া।

সকালের ব্যস্ততা তুঙ্গে লাইটিং টিম স্ট্রিং লাইটস লাগাচ্ছে বাগানের গাছে, ক্যাটারিং স্টাফ সাজাচ্ছে সিলভার কাটলারি আর ফাইন চায়না প্লেটস, আর স্টেজ ডেকোরেটরস ক্রিস্টাল ব্যাকড্রপ এর সাথে পীচ অ্যান্ড শ্যাম্পেইন টোন এর ড্রেপ মিলিয়ে তৈরি করছে ড্রিমি একটি স্টেজ। কিছুক্ষণের মধ্যেই আসবে বিখ্যাত ড্রেস ডিজাইনার এর টিম, যাদের হাতে তৈরি হবে কনের এক্সক্লুসিভ লেহেঙ্গা যার ডিজাইন পার্সোনালি অ্যাপ্রুভ করেছেন আফরিদ এহসান।

তবে এই এক্সট্রাভ্যাগেন্ট প্রিপারেশন, ইমপোর্টেড ডেকোর আর রয়্যাল টাচ সত্ত্বেও মাইমুনা এহসানের মনে এক অদ্ভুত শূন্যতা। চোখে-মুখে হালকা হাসি থাকলেও তার অন্তরে যেন বিষ ঢেলে দিচ্ছে ফিসফিসিয়ে বলছে সব কিছু এত গ্র্যান্ড হলেও ছেলের বউ টা তো আর গ্র্যান্ড হলো না! পাতি একটা মেয়ে কে বিয়ে করার জন্য কেন যে আফরিদ এত উতলা হয়ে উঠছে সেটাই বুঝতে পারছেন না তিনি।

রুমের দেয়ালে দেয়ালে আফরিদ এহসানের ছবি টাঙানো তাও আবার এই সেই ছবি নয় স্কাই ড্রাইভিংয়ের ছবি। কোনটায় হেলিকপ্টার থেকে জাম্প দিচ্ছে তো কোনোটায় প্লেনের পিছনের র্যাম্প ডোর খোলা সেখান থেকে জাম্প করছে। কি আশ্চর্য এই লোকটার কি ভয়ডর কিছু নেই? আগে তো রিলস ভিডিও এসবে দেখতো মানুষজন শখ করে স্কাই ড্রাইভিং করে। আর এখানে তো আফরিদ এহসান মারাত্মক ভাবে আ’সক্ত এটার প্রতি। এই তো কিছুক্ষণ আগেই ফাহমিদার সাথে কথা হলো সে বলল আফরিদ নাকি কিছু দিন পরপর এই দেশে ওই দেশে ঘুরে বেড়ায় এক মাত্র স্কাই ড্রাইভিং করার জন্য।
রুমে চুপচাপ বসে আছে ন্যান্সি ,শীত করছে ভীষণ। আফরিদের জ্যাকেট জড়িয়ে আছে সে। ওই যে আফরিদ ইচ্ছে করে তাকে সুইমিং পুলে ফেলে দিয়েছিল তারপর থেকেই ঠান্ডায় শরীর টা জমে এসেছে যেনো! আফরিদের জ্যাকেট কখনোই পড়তো না সে , কিন্তু নিজে বাঁচলে বাপের নাম। আগে বাঁচুক এরপর আফরিদ কে দেখে নেবে। লোকটা আস্ত একটা বেয়াদব! কি যে আনন্দ পাচ্ছে এসব করে আল্লাহ মালুম।

“ওই বান্দি । বান্দি রেএ। ওই শালী গরিবের নিতা আম্বানি ডিজাইনার চলে এসেছে নিচে চল।”

আফরিদের হেঁয়ালি পনা মোটেও পছন্দ হলো না ন্যান্সির। বিরক্তির রেশ মিশিয়ে বলল।

“বিয়ের এত তাল যখন উঠেছে তাহলে বাংলাদেশে কি আর মেয়ে চোখে দেখেন নি? আমাকেই তুলে আনতে হলো?”

সহসা ডান হাত আফরিদ নিজের বুকে চেপে ধরে ন্যান্সির! নাটকীয় ভঙ্গিতে বলে উঠে!

“ইশ্ মা’তারি কি বলে রে! পরাণ যায় জ্বলিয়া রেএএ পরাণ যায় জ্ব’লিয়া।”

দুহাত ভাঁজ করে বুকে গুঁজে ন্যান্সি। আফরিদের বেহুদা কথা গুলো শুনলে গা পি’ত্তি জ্বলে উঠে।
আচানক আফরিদ বাচ্চাদের মতো ঠোঁট উল্টায় ,বড় নাজুক লাজুকতার ন্যায় বলে উঠে।
“ইশ্ বাসর ঘরের কথা ভাবলেই আমার শরম লাগছে রে অ্যাঞ্জেলিনা! এই শরমে মরণ না হয়!”

বহুরূপী দেখেছে কিন্তু আফরিদের মতো বহুরূপী দেখেনি ন্যান্সি। কি অভিনয় জানে। আফরিদ কে লজ্জা পেতে দেখে কোথাও লজ্জাও বোধহয় লজ্জা পাবে।

“একটা সত্যি কথা বলি?”

“বল।”

ভাবলেশহীন ভাবে বলল আফরিদ। ন্যান্সি লম্বা দম নিয়ে বলল।
“আপনার মতো বেহায়া দুটো দেখি নাই। আপনার মা আপনাকে মানুষ করতে পারেনি!”

নিশ্চুপ আফরিদ ,নিমোষ্ট কামড়ে কিছু একটা ভাবলো। তারপর এক গাল হেসে বলল।
“এটা তুই একদম সঠিক কথা বলেছিস পরাণ। এটা নিয়ে আমিও অত্যন্ত দুঃখি আমার মম আমাকে মানুষ করতে পারেনি বলেই তোকে বিয়ে করছি ,তুই আমাকে খাইয়ে দাইয়ে বড় করবি ওকে আই মিন মানুষ করবি।”

ওষ্ঠো জোড়া ফাঁক হয়ে এলো ন্যান্সির। মস্তিষ্ক ক্রোধে ফে’টে যাচ্ছে রীতিমতো।

“এবার কি তুমি পায়ে হেঁটে যাবে হবু বউ নাকি কোলে নিতে হবে?”

এক পা এগুতেই পিছিয়ে গেল ন্যান্সি। হাত উঁচিয়ে বলল।
“আমি যেতে পারব।”

ভুবন ভোলানো হাসি টা ওষ্ঠো কোণে খেলে গেল আফরিদের।
“রক্ত চুষি ডাইনি কোথাকার চাইলেই কোলে উঠে র’ক্ত খেতে পারতি।”

“জা’নোয়ার একটা।”

আবারো হেসে ফেলল আফরিদ , হাসিটা বোধহয় ন্যান্সির সান্নিধ্য পেলেই ওষ্ঠো পুটে খেলা করতে থাকে।
হনহনিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে এলো ন্যান্সি তার পিছু পিছু আফরিদও নিচে আসে।
সোফায় বসে আছে ডিজাইনার টিম। ন্যান্সি আসতেই তারা মাপ টাপ নিতে লাগল , এত ঢঙ তো এর আগে কখনোই করেনি ন্যান্সি , মার্কেটে গিয়েছে যা ইচ্ছে পছন্দ করে নিয়ে চলে এসেছে এনাফ।

কিছুক্ষণ পরেই ডিজাইনার টিম চলে গেল। সোফায় চুপচাপ বসে আছে ন্যান্সি। কল্পনা এসে বসে পড়ল ন্যান্সির পাশে।

“ওয়াও তুমি সত্যি ভীষণ লাকি গার্ল ন্যান্সি। না হলে কি এত বড় প্যালেসের বড় ছেলের বউ হতে পারতে?”

কল্পনার কথায় বড় বিরক্ত হচ্ছে ন্যান্সি। এমন একটা ভাব করছে যেনো ন্যান্সি বলেছে আমি বিয়ে করতে চাই।

ঠিক সেই মুহূর্তে। সাব্বির আর নীলাদ্রি বাড়িতে প্রবেশ করলো।

“হেই গাইজ।”

সাব্বির আরামসে গিয়ে কল্পনার পাশে বসে পড়লো। আবদারের সুরে বলল।
“ভাবি প্লিজ এক কাপ কফি।”

কল্পনা ওষ্ঠো বাঁকিয়ে হেসে বলল।
“এখুনি নিয়ে আসছি।”

কল্পনা কিচেনের দিকে এগিয়ে গেল , সাব্বির আর নীলাদ্রি একত্রে বসেছে।‌ কিয়ৎক্ষণ পর আফরিদও চলে এসেছে। এদিকে মাইমুনা এহসান সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যস্ত! ন্যান্সি চমকালো , আশ্চর্য হলো। এটা কি? সহসা উঠে দাঁড়ালো। তাকে দাঁড়াতে দেখে নীলাদ্রি ভ্রু কুঁচকে শুধোয়।

“কি ব্যাপার তুমি উঠে গেলে কেন?”

ন্যান্সি কাঁপা কাঁপা স্বরে বলল।
“আপনাদের তিনজনের টিশার্টে ছোপ ছোপ র’ক্তের দাগ কেন?”

র’ক্তের কথা শুনে তিনজনেই নিজেদের দিকে তাকালো! ন্যান্সি আশ্চর্য হচ্ছে , তিনজন আলাদাভাবে বাড়িতে ঢুকেছে। ধরলো নীলাদ্রি আর সাব্বির একসাথে এসেছে কিন্তু আফরিদ? সে তো আগে থেকেই বাড়িতে ছিলো। শুধু কয়েক ঘন্টার জন্য বাইরে গিয়েছিল তাহলে তাদের তিনজনের একসাথে টিশার্টে কাঁধের কাছে একই জায়গায় র’ক্তের দাগ কীসের? একটু আগের শার্ট টা এখনো পরে আছে আফরিদ বদলানো হয়নি তার।

নীলাদ্রি নিশ্চুপ। সাব্বির মৃদু হেসে বলল।
“খু’ন করে এসেছি ভাবিজান ,তাই র’ক্ত লেগে আছে!”

সাব্বিরের কথায় বাঁকা হাসলো আফরিদ , দু’জনেই হাইফাই করে। খু’নের কথায় শরীরের কাঁ’টা দিয়ে উঠে ন্যান্সির।

“ওই জানকি এত কিছু জেনে তোমার কি লাভ? রুমে যাও, আপাতত তোমার কাজ শেষ?”

ন্যান্সি স্তব্ধ,এই বাড়ির মানুষ গুলো কে বোঝা বড় দায়। বিশেষ করে এই ভাইদের! কেমন যেনো রহস্য ঘেরা সবটা।
__আমার পেইজ Farhana nijum-ফারহানা নিঝুম
আমার আড্ডা গ্রুপ
https://facebook.com/groups/907379537263755/

অ’স্ত্র পা’চারের নতুন ফন্দি বানান হয়েছে।গত বারেও সমুদ্রের রাস্তা ধরে বহু কালো অ’স্ত্র পাচার করা হয়েছে।যা রাশিয়ান মা’ফিয়ার ডে’রায় ঢুকেছে। সরাসরি রাশিয়ার সঙ্গে কোনো জলপথ না থাকায় অন্য ব্যবস্থা নিতে হয়েছে।স্পেনের উত্তর উপকূলে বিসকায়ের উপসাগর, আটলান্টিক মহাসাগরের অংশ।আটলান্টিক হয়ে জাহাজগুলি ব্রিটিশ চ্যানেল ও উত্তর সাগর পেরিয়ে বাল্টিক সাগরে ধরে।যেখানে রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গ বন্দর অবস্থিত।এটা মাস্টার প্ল্যান কার আজ পর্যন্ত কেউই ধরতে পারেনি।। এবারে জঙ্গলের রাস্তা ধরবে ওরা। গত বার ধরতে ধরতে গিয়েও পারলো না পুলিশ ফোর্সরা। কিন্তু এবারে আর সেই ভুল করা সম্ভব নয়। ফোর্স রেডি আছে ইতিমধ্যেই,স্পেশাল ফোর্স।আপাতত তাদের প্ল্যান সম্পর্কে কাউকে অবগত করানো যাবে না?

🌿

নিস্তব্ধ এই রাত্রিতে বিড়াল ছানার ডাক সত্যি ভয়ানক শোনায়। আচ্ছা বিড়াল কী অন্য কিছুর অস্তিত্ব টের পেয়েছে? বোধহয় হতেও পারে।
বাহিরে থেকে ভেসে আসছে কিছু অদ্ভুত জ’ন্তুর হাক ডাক।
রাত্রি দেড়টা ছুঁই ছুঁই।খট খট খট করে শব্দ হয়েই চলেছে। আচ্ছা এটা কিসের শব্দ? এক পুরুষ। সেই গোপন ঘরের রহস্য বোধহয়।বড় কাটের টেবিলের উপর একটা লা’শ রাখা রয়েছে। অপরিচিত এই ব্যক্তিটি কে?
এহসান মঞ্জিলে প্রবেশ করা ওতটা সহজ নয়।অথচ এই লোকটি নির্দ্বিধায়। তা তো হতে দেবে না। পর্দার পিছনে ছায়া মূর্তি দেখা মাত্র সবটা আন্দাজ করে নিয়েছিল আফরিদের সার্ফ ব্রেইন। অতঃপর ধরে নিল এই সিক্রেট কিলার কে! জিজ্ঞাসা করা সত্বেও কিছু বলেনি এই লোক।আফরিদ চমৎকার হেসেছিল,সেই হাসি শরীরের প্রতিটি লোমকূপ কাঁপিয়ে তুলেছিল আ’গু’ন্তকের।

রাত গভীর, নিস্তব্ধতা চারপাশে মোড়ানো। বৃষ্টির ফোঁটাগুলো জানালার কাঁচে ধাক্কা খাচ্ছে, যেন সেগুলোও সাক্ষী হতে চায় এই রক্তাক্ত পরিণতির।
আ’গুন্ত’কের নিথর দেহ পড়ে আছে কাটের বড় টেবিলের উপর।এক হাতে এখনো মুঠোবন্দি রাখা একটা একটি ক্লিভার। তার বুকের কাছে ছু’রির ক্ষত থেকে ধীরে ধীরে র’ক্ত গড়িয়ে পড়ছে টেবিলের উপর।আফরিদ এহসান হাসলো,কি বিভৎস সেই হাসি?ক্লিভার টি দিয়ে আবারো বুকের ক্ষ’ত স্থানে আ’ঘাত করে।খ্যাচ করে চারিদিকে র’ক্ত ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ল। খুব বড় একটা ছিদ্র তৈরি করে আফরিদ ,ধীরে ধীরে ভেতরে হাত ঢুকিয়ে হৃদপিন্ড টেনে বের করল।হাত জুড়ে র’ক্তের ছড়িয়ে আছে। আফরিদের চক্ষুদ্বয় ঝলঝল করছে। সে কিছুটা ফিসফিসিয়ে বললো।

“আজকে আমি তোর কলিজা ওজন করে দেখবো রে।ঠিক কতটা বড় যে তুই আমার বিরুদ্ধে যাস।”

ধীরে ধীরে দেহের প্রতিটি অঙ্গ খন্ড খন্ড করে ফেলল আফরিদ। র’ক্তে মাখামাখি সে। তারপরেও থেমে নেই,ছোট ছোট পিস পিস করে সব গুলো কে বড় একটি পাত্রে তুলে নিল। পানি ভরে নিল মূহুর্তেয মধ্যে। জ্বালিয়ে দিল আ’গুন। ফুটন্ত পানিতে শরীরের অংশ গুলো ফুটতে লাগল। টেবিলের উপর অবহেলায় পড়ে আছে আ’গু’ন্তকের দেহ থেকে বি’চ্ছিন্ন হওয়া মস্তক। এগিয়ে গেল সেদিক পানে,ফোন বের করে দু’টো ছবি তুলে নিল। অতঃপর সেই কাটা মস্তক তুলে দেয়ালে গাঁথা আরেকটি পেরেকটির মধ্যে।এ কী তার নতুন পেইন্টিং?সারি সারি মস্তক ঝু লে আছে।
দাঁড়িয়ে রইল লোকটা চোখে কোনো অনুশোচনা নেই, বরং একধরনের প্রশান্তি খেলে যাচ্ছে তার ঠোঁটের কোণে। সে জানে, ভালোবাসা কখনো কখনো মৃ’ত্যু থেকেও বেশি অন্ধকার হতে পারে। অপেক্ষা করলো মাংস গুলো সিদ্ধ হওয়ার।রাত তখন গভীর। চাঁদটা আজ অস্বাভাবিক লালচে। শ্বাসরুদ্ধকর ভয় ছড়িয়ে আছে প্রতিটি কোণায়। লম্বা নিঃশ্বাস টেনে নিল আফরিদ, কোঁকড়ানো চুল গুলো ব্যাক ব্রাশ করে বিড়বিড় করতে লাগলো।

“এভরিথিং ইজ ফেয়ার ইন লাভ এন্ড অর! কিন্তু এটা ভালোবাসা নয় প্রতিশোধ!”

ঘুমন্ত এক অর্ধ ন’গ্ন পুরুষ কে হাতে পায়ে বেড়ি বেঁধে রাখা হয়েছে।ঈষৎ আলো মুখশ্রী স্পর্শ করা মাত্র জেগে উঠল।
চোখ বুজে নিঃশ্বাস টেনে পাগলের ন্যায় বলতে লাগলো।
“মাং’স মাং’স খাবো ‌‌। মাংস দেও আমাকে।”

“হুসসস ডোন্ট সাউন্ড।”

আলিয়াজ এক পালিত ন’রখাদক ‌‌।যেটাকে সেই গোপন কক্ষে পালন করছে আফরিদ এহসান। সিদ্ধ করা মাংস গুলো ছড়িয়ে দিল তার সামনে। ক্ষুধার্ত আলিয়াজ আনন্দে আ’ত্মহারা,চোখে মুখে ব্যাকুলতা। তীব্র ক্ষুধা।
“খাবে?সব গুলো তোর জন্য।”

আলিয়াজ তাকিয়ে আছে লাল চোখে। মাং’স গুলো তাকে চুম্বকের ন্যায় টানছে।আলিয়াজ আকস্মিক হামলা চালায় লোকটার উপর। সরে গেল আফরিদ।ফিক করে হেসে উঠলো।
আলিয়াজ ফুঁসতে ফুঁসতে বলল

“আগে তোকে খাবো।তোর র’ক্তের ঘ্রাণ পাই রোজ।”

“ভেরী ব্যাড বয়।”

আফরিদ আলিয়াজের ফেইচ মাস্ক খুলে দিল।আলিয়াজ পাগলের মতো সিদ্ধ করা মাংস গুলো ছিঁ’ড়ে ছিঁ’ড়ে খেতে লাগল। কিয়ৎক্ষণ পরেই মুখে মাস্ক বেঁধে দিল আফরিদ। আলিয়াজ পাগলামি করলো,সে যে এক ন’রখাদক। নিজের সামনে জল জ্যা’ন্ত একটা মানুষ আছে,অথচ খেতে পারছে না।

চলবে…….।✨

( #তরঙ্গেতোমারছোঁয়া বইটি অর্ডার করতে পারবেন যেকোনো বুক শপে)
“একটুখানি সুখের খোঁজে পথে পথে ঘুরেছি নিরন্তর ।শেষে বুঝেছি আমার বুকে লেপ্টে থাকা সেই রমণী, তাঁর মাঝেই লুকিয়ে ছিল আমার সমস্ত সুখের আসর।”

    ~তাশফিন শেখ 

লেখিকাফারহানানিঝুম

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply