Golpo romantic golpo অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা

অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ১০


অ্যাঞ্জেল_অ্যাঞ্জেলিনা

[পর্ব ১০](স্পেশাল থ্রি)

লেখিকাফারহানানিঝুম

(🚫 দূর্বল হৃদয়ের পাঠকদের জন্য গল্পটা একদম নয় এবং প্রাপ্তমনস্কদের জন্য উন্মুক্ত)

“আমার জানের জান,পরাণের আধাখান! তুই আমার থেকে পালাতে চাস?‌ দিস ইজ নট ফেয়্যার। বাই দ্যা ওয়ে আগে বাসর টা সেরে ফেলি তারপর না হয় বিয়ে করব।”

আফরিদের ঠান্ডা মাথায় বলা কথা গুলো বি’ষাক্ত তী’রের ফলার মতো এসে বুকে বিঁ’ধে ন্যান্সির। ছিটকে দূরে সরে এলো ন্যান্সি , মস্তিষ্ক কেমন থেমে গেছে মনে হলো তার! ভাবতে পারছে না কিছুই।

“দেখুন আপনি আমাকে ছুঁবেন না , আমি কিন্তু পবিত্র!”

বাচ্চাদের মতো ঠোঁট উল্টে ফেলল আফরিদ।
“দেখো আমি তোমাকে ছুঁবোই ,কারণ আমি ভীষণ অপবিত্র!”

আফরিদের অযৌক্তিক কথায় ক্ষিপ্ত হলো ন্যান্সি।
“আপনি কি চাইছেন আফরিদ এহসান? সমস্যা কোথায় আপনার?”

ঘাড় বাঁকালো আফরিদ।
“তোমাকে চাইছি ,আই নিড ইউ। আর তুমি যদি আমার না হও তাহলে প্রবলেম আছে। আর সেই প্রবলেম ফেইস করবে তোমার প্রতিবেশী বাপ মা!”

নিশ্চুপ ন্যান্সি। প্রত্যুত্তরে কি বলা যায় খুঁজে পেলো না সে।
আফরিদ তার আর ন্যান্সির মধ্যকার দূরত্ব ঘুচিয়ে দিলো মূহুর্তের মধ্যে। ছুঁয়ে ফেলল তার কটিদেশ। হকচকিয়ে গেল ন্যান্সি।

“ভালো ব্যবহার করছি তার মানে এটা নয় আফরিদ এহসান সবসময় ভালো আচরণ করবে? আমার থেকে পালানোর চেষ্টা করলে বাকিদের কেটে পিস পিস করতে বিন্দু মাত্র সময় লাগবে না।”

আফরিদের শীতল হুমকিতে স্তব্ধ ন্যান্সি!
“আপনি এটা করতে পারেন না!”

ওষ্ঠো বাঁকিয়ে হাসলো আফরিদ , ঠোঁট গোল করে ন্যান্সির পুরো মুখশ্রীতে ফু দিতে লাগলো। ফিসফিসিয়ে মৃদু স্বরে বলল।

“সব পারি পাখি। তাই বলছি ভালো মেয়ের মতো বিয়ের প্রস্তুতি নাও , নয়তো…

থেমে গেল আফরিদ ,সরে এলো ন্যান্সি। দৃষ্টি জোড়া ফ্লোরে বিচরণ করছে তার।‌ আফরিদ উল্টো ঘুরে হাঁটতে লাগলো ,যেতে যেতে গলা ছেড়ে বলল।

“ওয়াশ রুম ডান দিকে ,আর কাবার্ডে সব কিছু আছে। আধ ঘন্টা সময় দিলাম ফ্রেশ হয়ে নিচে এসো। না হলে আমি ফ্রেশ করাতে আবার উপরে আসবো।”

তীব্র রাগ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ন্যান্সি। রুমটা খুব বড় , পাশেই ওয়াশ রুম কাবার্ড খুলতেই মেয়েলি জামা কাপড় দেখে কিঞ্চিৎ অবাক হলো ন্যান্সি। এর আগেও কি এই পুরুষ নারী সঙ্গ পেয়েছিল নাকি? না হলে এত ড্রেস কার?
মনের মধ্যে সন্দেহের বীজ বপন হলো। আইঢাঁই করে হলুদ রঙের একটা ড্রেস নিয়ে ওয়াশ রুমের দিকে পা বাড়ায় সে। ওয়াশ রুম টা একটা বেড রুমের থেকে কম নয়। সব কিছুই বিদেশি এক্সক্লুসিভ জিনিস পত্রে ভরপুর। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে বাথটাব টা লাল রঙের। ওই যে বললাম এই পুরো বাড়িটা কালো,লাল আর সবুজের মিশেলে তৈরি। দেয়াল জুড়ে কালো রঙ বিচরণ করছে। বাথটাবের ঠিক পাশেই পিলার গুলো কে আর্টিফিসিয়াল সবুজ পাতায় সাজানো হয়েছে। ন্যান্সি দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে শাওয়ার অন করলো , ক্লান্ত শরীরে পানির ছিটা পড়তেই সব ক্লান্তি যেন ধুয়ে যাচ্ছে।

🌿🌿

ড্রয়িং রুম জুড়ে পিনপতন নীরবতা। সোফায় পায়ের উপর পা তুলে আয়েস করে বসে আছে আফরিদ এহসান , একের পর এক সিগারেট টেনে চলেছে।
তার ঠিক সামনেই বসে আছে তার মা মাইমুনা এহসান। মাইমুনা এহসান কে মোটেও মনে হচ্ছে না আফরিদের মা বলে।‌ পরণে একটা স্লিভলেস ব্লাউজ এর সাথে কালো রঙের শাড়ি। মুখের বয়সের ছাপ বলতে কিছু নেই ,এক গাদা মেকআপ করে আছেন।
ভাইয়ের পাশে আইঢাঁই করে দাঁড়িয়ে আছে ফাহমিদা ,পরণে সাদা টপস আর কালো রঙের জিন্স।
আফরিদের পরিবার বলতে মা বোন আর তার ছোট ভাই সাব্বির এহসান , নীলাদ্রি এহসান , এবং তার স্ত্রী কল্পনা।
কল্পনা কিচেন থেকে এক কাপ কফি হাতে বেরিয়ে এলো বাইরে। নাটক দেখতে হবে তো এখন। ঠিক কি নাটক হতে চলেছে তা দেখতেই হবে।

“হোয়্যাট ইজ দিস আফরিদ? কে ওই মেয়েটা? আর তুমি বা ওকে এখানে কেন নিয়ে এসেছো?”

আফরিদ নিরুত্তর , সিগারেটের শেষ টান টা দিয়ে অদূরে ছুড়ে ফেলল বাকি অংশ টুকু। ফুরফুরে মেজাজে বলে উঠে।

“তোমার বউমা মম। আমি বিয়ে করতে চলেছি। সব কিছু আয়োজন করো।”

“হোয়্যাট?”

বিস্ফোরিত চোখে তাকালেন মাইমুনা এহসান। ওইরকম সাধারণ একটা মেয়ে কে নাকি তার ছেলে বিয়ে করতে চাইছে?

“হোয়্যাট আর ইউ টকিং রাবিশ আফরিদ? কি আজেবাজে কথা বলছো তুমি? তুমি ওই মেয়ে কে বিয়ে করবে? সিরিয়াসলি?”

অগ্নি চোখে তাকায় আফরিদ ,তার দৃষ্টিতে দমে গেলেন তিনি।
“ওকে ফাইন , বিয়ে করবে ঠিক আছে। কিন্তু ওই মেয়ে কে কেন? আরো কত সুন্দরী মেয়ে আছে তাদের রেখে ওকেই কেন?”

আফরিদ প্রত্যুত্তরে কিছু বলার প্রয়োজন বোধ করলো না।
ছোট ছোট পা ফেলে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতে লাগলো ন্যান্সি। দৃষ্টি বুলিয়ে ড্রয়িং রুমে থাকা সদস্যদের দেখছে আড় চোখে।
আফরিদ আরো একটা সিগারেট শেষ করেছে এরই মধ্যে। ন্যান্সি কে নিচে আসতে দেখে এক গাল হেসে ফেলল। এই নিষ্পাপ হাসিটা বোধহয় শুধু ন্যান্সির বেলাতেই আসে। তাকে দেখেই ভীষণ হাসি পায় আফরিদের।

“আমার হলুদ পরী এসে গেছে। আহা জানকি বাচ্চা আয় আয়।”

ন্যান্সি কম্পিত চিত্তে এগিয়ে গেল। ন্যান্সি আশ্চর্য হচ্ছে, এত গুলো মানুষ থাকা সত্ত্বেও কেউ কিছু বলছে না তাকে।

ন্যান্সি আফরিদের নিকটে যাওয়া মাত্রই উঠে দাঁড়ালো আফরিদ। মাইমুনা এহসান কে দেখিয়ে বলল।

“মাই মম ,ও আমার সিস্টার আর নীলাদ্রি আমার ভাই , এবং ভাইয়ের বউ কল্পনা। তোমার আরেকজন দেবর আছে সাব্বির আপাতত বাড়িতে নেই।”

ন্যান্সি এক পলক সবাই কে দেখে নিল , সবাই বেশ স্টাইলিশ। এখানে বোধহয় সবচেয়ে বেশি স্টাইলিশ হচ্ছেন মাইমুনা এহসান তাঁর সাজসজ্জা দেখলেই বোঝা যায়। আফরিদ মৃদু হেসে বলল।

“আর ও হচ্ছে ইলহাম ন্যান্সি অ্যাঞ্জেলিনা , আমার অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা। আমার উডবি ওয়াইফ।”

ন্যান্সি কিছুই বলল না নিশ্চুপ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে । মাইমুনা এহসান তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকালো ন্যান্সির দিকে।

“আসলেই কি ও তোমাকে বিয়ে করতে চায় আফরিদ? নাকি ভয় দেখাচ্ছ?”

ন্যান্সি চট করে মাথা তুলে তাকালো মাইমুনা এহসানের দিকে।‌ তড়িঘড়ি করে এগিয়ে গেলো উনার দিকে।

“আপনি একদম ঠিক ধরেছেন , আমি আপনার ছেলে কে বিয়ে করতে চাই না কিন্তু উনি আমাকে জোর করছেন!”

মাইমুনা এহসান বিস্মিত নয়নে তাকালো আফরিদের দিকে।
“হোয়্যাট ইজ দিস আফরিদ? ও তো তোমাকে বিয়ে করতে চায় না , তাহলে তুমি কেন জোর করছো?”

রাগের আ’গুন দাউদাউ করে জ্বলছে আফরিদের মস্তিষ্কে। চাপা ক্ষোভ নিয়ে বলল।
“তুই আমাকে বিয়ে করতে চাস না?”

“নো।”

এক পা এগুলো আফরিদ , সহসা পিছিয়ে গেল ন্যান্সি।
“সত্যি বিয়ে করতে চাস না?”

আতংকিত হয়ে যাচ্ছে ন্যান্সি , অন্তর আ’ত্মা কাঁপছে তার। ধরা গলায় বলল।
“সত্যি আমাকে বিয়ে করতে চাস না?”

“না না না।”

” একটা থাপ্পর দিয়ে লাল গাল আরো লাল করে দেব।”

ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল ন্যান্সি। এ কোন অস’ভ্যের পাল্লায় পড়লো সে?
🌿___

কখনো শুনেছেন মানুষের পেট কে’টে ভেতরের স্মা’গলিং করতে! উম এটা হচ্ছে!
বন্ধ বাড়িটার চারপাশে নীরবতা এমনভাবে জমে আছে, বাইরের পৃথিবী এর অস্তিত্ব ভুলে গেছে। ভারী দরজার ভেতরে ঢুকলেই গায়ে লাগে এক অদ্ভুত গন্ধ রক্ত, ওষুধ আর পচা ঘামের মিশ্রণে তৈরি এক শ্বাসরোধী পরিবেশ। ম্লান আলোয় ঘরজুড়ে ছায়ারা নড়াচড়া করছে।

ঘরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে মন্টু দাস আর গোলাম মোস্তফা তাদের চোখে কোনো অনুভূতির চিহ্ন নেই, শুধু হুকুম ছুড়ে দেওয়ার শীতল অভ্যেস। হাতের ইশারায় তারা নির্দেশ দিচ্ছে, আর বাকিরা নিঃশব্দে কাজ করে যাচ্ছে।

এক পাশে সারি করে রাখা আছে মৃ’ত্যুদের দেহ। নিথর, প্রাণহীন, তবু তাদের শরীর এখনো ব্যবহার হচ্ছে এক ভয়ংকর খেলার গুটি হিসেবে। ধারালো ছু’রি দিয়ে পেট চিরে ভেতরে গুঁজে দেওয়া হচ্ছে ছোট ছোট প্যাকেট মারণ ড্রাগে ভরা। র’ক্তের ধারা ধীরে ধীরে মেঝেতে ছড়িয়ে পড়ছে।লোক গুলোর মধ্যে একজন সেই র’ক্ত মুছে চলেছে একটু পরপর।
ড্রাগ ভরার পর এগিয়ে আসছে আরেক দল তারা নিঃশব্দে একই পথে ঢুকিয়ে দিচ্ছে ক্ষুদ্র বোমা। এ কাজের জন্য ব্যস্ত দুটি মুখ কামাল, যার হাত কাঁপে না একবারও, আর মিস্টার আলবার্ট, স্পেনের এক ডাক্তার, উহু ডাক্তার বললে ভুল হবে । একজন সায়েন্টিস্ট, নিউক্লিয়ার সায়েন্টিস্টস তার কাজই হচ্ছে পরমাণু নিয়ে রিসার্চ করা। শুধু তারা নয় আরো অনেক গুলো সায়েন্টিস্টদের উপরের হলে বন্দি করে রাখা হয়েছে। এই মূহুর্তে দু’জন সায়েন্টিস্ট কে বন্দি করে এই ন’রকঘরে টেনে আনা হয়েছে। আলবার্টের চোখে আ’তঙ্ক ও অনিচ্ছার ছাপ স্পষ্ট, কিন্তু চারপাশের সশস্ত্র পা’হারার সামনে তার প্রতিরোধ করার সাহস নেই।

সুঁই সুতো, র’ক্ত আর সার্জারির যন্ত্রপাতি মিলে পুরো ঘরটিকে পরিণত করেছে এক অন্ধকার অপারেশন থিয়েটারে।

আকস্মিক একটা লাশ পড়ে গেল ফ্লোরে , চিৎকার করে উঠলো গোলাম মোস্তফা।

“ওই শা’লা খান*কির পোলা দেইখা কাজ করতে পারছ না? একটা লাশের কিছু হইলে তোর জানডা বড় স্যারে কাঁচা কামড়াইয়া খাইবো খানকির পোলা।”

“মাফ করেন ভাই , আমি এখুনি তুলতাছি।”

ক্ষণিক বাদেই ডাক পড়ল মন্টুর আর গোলাম মোস্তফা। কালো রঙের এক বড় সড় হুডি জড়িয়ে ভেতরে প্রবেশ করেছে আগুন্তক। পরণে কালো রঙের হুডি ,চোখে চশমা ,মুখে মাস্ক । অবয়বটা আবরণে মোড়ানো। সবচেয়ে অদ্ভুত বিষয় তার তর্জনী আঙ্গুলে ঈগল পাখির মুখ আকৃতির একটা আংটি। যেটার মাথাটা বড্ড ধারালো এবং তীক্ষ্ণ ছোট্ট শিকারি ঠোঁট ,আর সেই ঠোঁটের ভেতরেই লুকানো রয়েছে পটাসিয়াম সায়ানাইড বি’ষ রয়েছে। আংটির মাথার অংশে অতি ক্ষুদ্র এক চেম্বার, যেটা বাইরে থেকে ধরা যায় না। ঈগল মুখের ধারালো ঠোঁটটা একপ্রকার সূক্ষ্ম ক্যাপসুলের মতো বানানো ভেতরে সামান্য তরল আকারে ভরা রয়েছে বি’ষ। একবার ঠোঁট চেপে ধরলেই ক্ষুদ্র সূঁচের মতো ফোঁটা বেরিয়ে আসবে, আর যার শরীরে লাগবে, সেকেন্ডের মধ্যেই মৃ’ত্যু নিশ্চিত। চমৎকার বিষয় হচ্ছে এই আগুন্তকের আন্ডারে কাজ করা প্রতিটি গার্ডরের ঘাড়ে এই ঈগল পাখির মুখ আকৃতি টা ট্যাটু হিসেবে বানানো রয়েছে।‌ সেই ট্যাটু দ্বারা বোঝা যায় এই মানুষ গুলো এই সিক্রেট স্মা’গলারের লোক।

তাকে দেখে দুজনেই তটস্থ ভঙ্গিতে সালাম করলো। লোকটা ভারিক্কি কন্ঠে বলল।

“কাজ কত দূর?”

মন্টু দাস কাঁপা কাঁপা গলায় বলল।
“কাল সকালের মধ্যে হয়ে যাবে স্যার।”

আগুন্তক বাজপাখির ন্যায় দৃষ্টি বোলায় পুরো রুমে। চারিদিকে শুধু কা’টা ছেঁড়া লা’শ আর লা’শ!
“কালকের মধ্যে যেনো কাজ শেষ হয় , সন্ধ্যায় সব গুলো কে ডেলিভারি দিবি।”

মন্টু উপর নিচে মাথা দোলায়। তৎক্ষণাৎ র’ক্ত পরিষ্কার করা লোকটা র’ক্ত পরিষ্কার করতে এগিয়ে এলো মপ নিয়ে। কিছুটা র’ক্ত ছিটকে গিয়ে পড়ে আগুন্তকের হুডিতে! অ’গ্নিদগ্ধ হলো সে ! চোখে মুখে এক অদ্ভুত হিংস্রতা! কেঁপে উঠল ছেলেটা।

গোলাম মোস্তফা খ্যাঁক করে উঠলো।
“ওই দেইখা কাজ করবার পারছ না! দিলি তো স্যারের জামাটা নষ্ট কইরা! স্যার আপনে দয়া করে রাগ করবেন না আমি…

হাতের ইশারা গোলাম মোস্তফা কে থামিয়ে দিলো আগুন্তক।
“ইটস্ ওকে। কাজে মনোযোগ দাও সবাই।”

🌿__🌿

কালো রঙের ভারী, দুইটি সোফা পাশাপাশি সাজানো, স্থানটিকে আভিজাত্যের আবরণে ঢেকে রেখেছে। পাশে সাজানো গদি গুলো লাল রঙের, তাদের উজ্জ্বল আভা কালোর গভীরতার সাথে মিশে এক অনন্য বৈপরীত্য তৈরি করেছে। সোফাগুলোর ঠিক সামনেই বিস্তৃত ইয়া বড় এক সুইমিং পুল এর পানির স্বচ্ছতা এতই নিখুঁত যে, বাড়ির কালো ও লালের মিশেল অবয়ব নিখুঁতভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে তার গভীরে। কখনো মনে হয় পানি লাল আভা ছড়াচ্ছে, কখনো আবার কালো রঙে ঢেকে যাচ্ছে, মনে হচ্ছে রঙের খেলা চলছে
পুল পেরিয়ে কিছুটা এগোলেই সামনে খুলে গেছে এক বিশাল বেলকনি প্রশস্ত আর মুক্ত, যেখানে দাঁড়ালেই বাতাসের স্পর্শে ছুঁয়ে যায় মনকে। বেলকনির দণ্ডায়মান পিলারগুলো প্রকৃতির সাথে একাত্ম হয়ে গেছে চারপাশে মোড়ানো আছে আর্টিফিশিয়াল সবুজ লতাপাতা, যা সূর্যের আলোয় মৃদু ঝিলিক দিয়ে উঠে।
বেলকনিতে দাঁড়াতেই চোখে ভেসে ওঠে মুক্ত, সীমাহীন নীল আকাশ ।
বেলকনিতে দাঁড়িয়ে আছে ন্যান্সি , পালানোর ফন্দি করছে সে।‌ কিভাবে পালাবে এখান থেকে ভেবে পাচ্ছে না!

“ও মাই গড অ্যাঞ্জেলিনা শেষমেষ আমার থেকে বাঁচতে সুইসাইড করতে চাচ্ছ?”

পিছন থেকে আফরিদের কথায় হতভম্ব ন্যান্সি! দুহাত ভাঁজ করে বুকে গুঁজে হিসহিসিয়ে বলল।

“মন তো চাচ্ছে আপনাকে এখান থেকে ফেলে দেই।”

গা দুলিয়ে হেসে উঠলো আফরিদ। আরাম করে গিয়ে বসল সোফায়। সেন্টার টেবিলের উপর থেকে সিগারেট নিয়ে লম্বা একটা টান দিয়ে বলল।

“লিখব তোমার হাতে আমি আমার মরণ।”

চোখ পাকিয়ে তাকালো ন্যান্সি হুইস্কির বোতলে চুমুক দিয়ে বাচ্চাদের মতো ঠোঁট উল্টে বলল। প্রচন্ড রাগ লাগল ন্যান্সির , আনমনা চোখ জোড়া নিবদ্ধ করলো আফরিদের কাঁধের কাছে শার্টের উপর । কেমন লাল লাল দাগ লেগে আছে। এমন মনে হচ্ছে র’ক্তের ছিটে।

“আপনার শার্টে কি এসব?”

আফরিদ দেখলো , লালচে দাগ টা দেখার পর ভাবুক হলো সে। আচানক হেসে বলল।
“তোর লিপস্টিকের দাগ। জানকি বাচ্চা চলো বাসর করে ফেলি ,বাসর করতে দেরী হলে আমার বংশধর আসতে দেরী হয়ে যাবে শিট!”

লজ্জায় নাক মুখ কুঁচকে নিল ন্যান্সি , এরকম বান্দা কে কেন যে আল্লাহ পৃথিবীতে রেখেছে সেটাই ভেবে পায় না সে। বিরক্ত হয়ে চলে যেতে চাইল ন্যান্সি ,আফরিদ কে পাশ কাটিয়ে সামনে যেতে চাইলে পা লম্বা করে দেয় আফরিদ। হোঁচট খেয়ে সুইমিং পুলের পানিতে পড়ে গেল ন্যান্সি।

হেঁসে কুটিকুটি অবস্থা আফরিদের , পানিতে হাবুডুবু খাচ্ছে ন্যান্সি।

“বাঁচান আ..আফরিদ বাঁচান আ.. আমি সাঁতার জানি না।”

বসা থেকে উঠে এসে ঠিক পুলের পাশে বসলো। অসহায় মুখ করে বলল।

“আগে বলো তুমি কার? বল বল বল তুই কার বে বান্দি…

পানিতে হাবুডুবু খাচ্ছে ন্যান্সি , নিঃশ্বাস নিতে পারছে না। আফরিদের ভাবান্তর নেই কোনো। ন্যান্সি নাকানিচোবানি খেতে খেতে বলল।

“আমি,, আমি আফরিদ এহসানের।”

ঘাড় বাঁকালো আফরিদ, অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে আফরিদ।
“দ্যাটস মাই গার্ল।”

সহসা পানিতে হাত বাড়িয়ে দিলো আফরিদ , আঁকড়ে ধরে ন্যান্সি কে। আফরিদ কে দু’হাতে জড়িয়ে ধরে আছে ন্যান্সি ,ছেড়ে দিলেই যেনো ডুবে যাবে। হাঁপাতে হাঁপাতে ক্ষোভ নিয়ে বললো।

“আপনি কেন এমন করছেন? কি চাই ? কেনো বলুন”

আফরিদ গা দুলিয়ে হেসে ফেলল। সুর টেনে বলে উঠে।
“তোমার চলার ধরণ ওফফ
দেখলে দুক দুক করে বুক
দুধে আলতা তোমার রূপ
কাছে আইতে মন চায় খুব !
তোয়ার তুলনাতে কেউ
আশেপাশে নাই।
তোয়ার চাহনিতে খালি
আগুন ধরাই
আর মনের ঘড়িতে হেতি
১২ টা বাজায়
ইল্লায় আই কই দিতাম চাই
ইউ লুক লাইক নায়কা
নায়কা ,নায়কা, নায়কা

ওষ্ঠো জোড়া ফাঁক হয়ে গেল ন্যান্সির। বেয়াদব বেয়াদব , খচ্চ’র লোক একটা।সহসা পানি থেকে উঠে এলো ন্যান্সি।

“মাতা’রি রেএএ বললাম তো কেন এমন করছি!”

চলবে…….।✨

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply