Golpo romantic golpo অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোকে

অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায় পর্ব ১২


অসম্ভবরকমভালোবাসি_তোমায়

লেখিকাসুমিচৌধুরী

পর্ব ১২

🚫অনুমতি ব্যতীত কপি করা নিষিদ্ধ🚫

রিদি তবুও কান ধরল না, ঠোঁট উল্টে একগুঁয়ে ভঙ্গিতে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। শুভ্রর ধৈর্যের বাঁধ এবার পুরোপুরি ভেঙে গেল। সে ডেস্কে হাত দিয়ে জোরালো একটা শব্দ করে ধমক দিয়ে উঠল।

“হোয়াট ইজ রং উইথ ইউ? কানে শুনতে পাচ্ছেন না? এখনি কান ধরবেন নাকি ক্লাস থেকে বের হবেন?”

শুভ্রর সেই বজ্রকণ্ঠের চিৎকারে রিদি এবার আসলেও চমকে উঠল। সে বুঝতে পারল পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে। ক্লাসের সবার সামনে কান ধরাটা ভীষণ লজ্জার হলেও শুভ্রর রাগী চোখের সামনে আর তেজ দেখানোর সাহস পেল না সে। রিদি কাঁপা কাঁপা হাতে নিজের কান ধরল। শুভ্র পাথুরে গলায় বলল।

“দ্যাটস বেটার। আমি যতক্ষণ না বলব, ঠিক এভাবেই দাঁড়িয়ে থাকবেন। ডোন্ট ইউ ডেয়ার টু মুভ!”

রিদি বিড়বিড় করে শুভ্রকে গালি দিতে দিতে কান ধরে দাঁড়িয়ে রইল। শুভ্র এবার ক্লাসের সবার উদ্দেশ্যে বলল।

“ফার্স্ট দিনে আমি কোনো লেকচার দেব না। সো আই ওয়ান্ট টু নো, ভবিষ্যতে আপনারা কে কী হতে চান? টেল মি এবাউট ইয়োর গোলস।”

শুভ্র একে একে সবার কাছ থেকে তাদের ভবিষ্যতের স্বপ্নের কথা জানতে শুরু করল। পুরো ক্লাস ঘুরে শুভ্র আবার রিদির সামনে এসে দাঁড়াল। রিদি তখন কান ধরে পুটি মাছের মতো মুখ করে আছে। শুভ্র ঠোঁটের কোণে একটা কুটিল হাসি ফুটিয়ে বলল।

“তো মিস জরিনা সুন্দরী… আপনার শখ কী? হোয়াট ইজ ইয়োর অ্যাম্বিশন ইন লাইফ?”

রিদি এবার আর নিজেকে সামলাতে পারল না। ত্যাড়ামি করে সরাসরি শুভ্রর চোখের দিকে তাকিয়ে বলে দিল।

“আপনাকে বিয়ে করা স্যার!”

মুহূর্তেই পুরো ক্লাস যেন বিস্ফোরিত হলো। ছাত্রছাত্রীরা সবাই হো হো করে হেসে কুটিপাটি। শুভ্রর কপালে এবার রাগের রগ দপদপ করতে শুরু করল। সে দাঁতে দাঁত চেপে প্রচণ্ড ক্রোধে বলল।

“ফালতু কথা আমি একদম পছন্দ করি না। ইউ আর ক্রসিং ইয়োর লিমিটস! এই মুহূর্তে ক্লাস থেকে বের হোন। আই সে গেট আউট!”

রিদি এবার আসলেও চরম ভয় পেল। শুভ্রর চোয়াল শক্ত হয়ে গেছে আর চোখ দিয়ে যেন আগুন ঝরছে। রিদি কাঁপা কাঁপা গলায় আমতা আমতা করে বলল।

“স… স… সরি স্যার। ভুল হয়ে গেছে। আ… আমি…”

বাকিটুকু বলার সুযোগই দিল না শুভ্র। সে সিংহগর্জনে চিৎকার করে উঠল।

“গেট আউউউউউউট!”

রিদি আর এক সেকেন্ডও সেখানে দাঁড়াল না। সে কান ছেড়ে দিয়ে এক দৌড়ে ক্লাসের দরজার কাছে চলে গেল। তবে যাওয়ার আগে দরজায় দাঁড়িয়ে শুভ্রর দিকে তাকিয়ে জোরে বলে গেল।

“স্যার, যেটাকে আপনি মজা ভাবছেন ওটা কিন্তু ধ্রুব সত্য! কথাটা আমি সত্যি বলেছি। তবে যেহেতু ক্যারিয়ারের শখ জানতে চেয়েছেন, তাহলে জেনে রাখুন আমি ডাক্তার হতে চাই।”

বলেই রিদি শুভ্রর পরবর্তী ধমক খাওয়ার আগেই ঝড়ের বেগে করিডোর দিয়ে অদৃশ্য হয়ে গেল। ক্লাসে তখন কবরের নীরবতা। শুভ্র রাগে কাঁপতে কাঁপতে নিজের হাতের মার্কার পেনটা টেবিলের ওপর ছুড়ে মারল।


কলেজের ক্লাস শেষ করে শুভ্র সরাসরি তার অফিসের সামনে এসে থামল। ঈশান তখন শুভ্রের জন্য অপেক্ষা করছিল। শুভ্রকে দেখে ঈশান দ্রুত পায়ে এগিয়ে এসে বলল।

“বস, মীর্জানুর রহমানের ছেলে মিরাজ তার টিম নিয়ে এসে গেছে।”

শুভ্র কিছু একটা ভেবে ঠোঁটের কোণে সেই বাঁকা হাসিটা ফুটিয়ে বলল।

“ওকে ডান। আমি যাচ্ছি আর হ্যাঁ, কিপ ইন মাইন্ড..খেলাটা আমার নিয়মে আছে তো।”

ঈশান মাথা ঝুকিয়ে সম্মতি জানিয়ে বলল।

“জ্বি বস,খেলাটা আপনার নিয়মেই আছে?।”

শুভ্র ঈশানের কাছ থেকে ঠিকানা নিয়ে বাইক ছুটিয়ে সোজা সেই রিসোর্টে চলে আসলো। পুরো রিসোর্ট তখন সশস্ত্র গার্ড দিয়ে ঘেরাও করা। সবার হাতে অত্যাধুনিক রিভলবার। শুভ্রকে কেউ বাধা দেওয়ার সাহস করল না, সে সোজা রিসোর্টের ভেতরে ঢুকল। রিসোর্টের সামনের বিশাল লন-এ একটা ইয়াবড় টেবিল পাতা, আর সেখানে বসে আছে দেশের নামকরা সব রাঘববোয়াল ব্যবসায়ী।

শুভ্রকে ভেতরে ঢুকতে দেখে সব ব্যবসায়ী যেন তড়িৎস্পৃষ্টের মতো দাঁড়িয়ে গেল। ঠিক সেখান থেকে মিরাজ উঠে এসে শুভ্রের সামনে দাঁড়িয়ে দাঁত বের করে বলল।

“আই নিউ ইট। আমি জানতাম সাইফান চৌধুরী আমার আয়োজনে আসতে ভুল করবে না। ওয়েলকাম!”

শুভ্র কোনো কথা বলল না। একটা অবজ্ঞার দৃষ্টি দিয়ে পা দিয়ে লাথি মেরে সামনে থেকে একটা চেয়ার ফাঁকা করল। তারপর অত্যন্ত রাজকীয় ভঙ্গিতে পায়ের ওপর পা তুলে সেই চেয়ারে গিয়ে বসল। শুভ্রর বসার ধরন দেখে মিরাজও নিজের জায়গায় বসল। শুভ্র পকেট থেকে ধীরে ধীরে দামী সিগারেট বের করে লাইটার দিয়ে ধরিয়ে আপন গতিতে ধোঁয়া ছাড়তে থাকল। তার নিরবতা যেন চারপাশের গুমোট পরিবেশকে আরও ভারি করে তুলল।

বেশ কিছুক্ষণ পর মিরাজ একজন বয়স্ক ব্যবসায়ীর দিকে চোখের ইশারা করল। সেই ব্যবসায়ী ইশারা বুঝে মাথা নাড়িয়ে শুভ্রের দিকে তাকাল। তারপর গলা খাঁকারি দিয়ে বিনীত সুরে বলল।

“মিস্টার শুভ্র, আমরা আনন্দিত যে আপনি আমাদের সাথে দেখা করেছেন। সো, আসল কথায় আসি… দেশের সব ব্যবসায়ীদের মধ্যে আপনিই হলেন প্রধান এবং সবচেয়ে নামী। আপনার সাথে ডিল করে অনেকে আজ বড় বড় ব্যবসায়ী হয়েছে। আমরাও আপনার সাথে একটা বড় ডিল করতে চাই।”

লোকটার কথায় শুভ্র অত্যন্ত আয়েশী ভঙ্গিতে টেবিলের ওপর পা তুলে দিয়ে চেয়ারে শরীর এলিয়ে দিল। ঠোঁটের কোণে ঝুলে থাকা সিগারেট থেকে ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে সে লোকটার দিকে তাকিয়ে শীতল গলায় বলল।

“খুব ভালো কথা। কিন্তু প্রবলেম একটাই আই ডোন্ট ডিল উইথ বিট্রেয়ার্স। আমি বেইমানদের সাথে ডিল করি না।”

শুভ্রের এই অদ্ভুত কথায় উপস্থিত কেউ কিছু বুঝতে পারল না। সবার মুখ চাওয়াচাওয়ি করতে লাগল। মিরাজ ভ্রু কুঁচকে বলল।

“হোয়াট ডু ইউ মিন? আপনি কি বলতে চাইছেন?”

শুভ্র সরাসরি মিরাজের চোখের দিকে তাকিয়ে পাথুরে গলায় বলল।

“আমি ডিল করব না আপনাদের সাথে। ইটস দ্যাট সিম্পল।”

মিরাজ এবার মেজাজ হারিয়ে বলল।

“তার কারণ? রিজনটা তো বলবেন?”

শুভ্র সিগারেটের ছাই ঝেড়ে বলল।

“আই ডোন্ট গিভ এক্সপ্লেনেশনস টু এভরিওয়ান। সব কিছুর কৈফিয়ত আমি দিই না। সো, সহজ কথা আমি ডিল করব না। আসি। ডিল এখানেই ক্যানসেল।”

বলেই শুভ্র যখনই উঠে দাঁড়াতে নিল, ঠিক তখনই পুরো রিসোর্টের পরিবেশ বদলে গেল। চারিদিক থেকে ডজনখানেক গার্ড এসে শুভ্রের মাথার চারদিকে রিভলবার তাক করল। শুভ্র একটুও না ঘাবড়ে আবার ধীরেসুস্থে চেয়ারে বসে পড়ল।

মিরাজ এবার চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়াল এবং শয়তানি হাসিতে ফেটে পড়ল। তার সাথে উপস্থিত অন্য ব্যবসায়ীরাও হো হো করে হাসতে লাগল। মিরাজ হাসতে হাসতে শুভ্রের খুব কাছে এসে নিচু হয়ে বলল।

“মিস্টার সাইফান! আপনি মনে হয় আমার বিষয়ে খুব একটা জানতেন না। তাই কার সাথে ডিল ক্যানসেল করতে চাইছেন, আপনার কোনো ধারণাই নেই। ইউ আর ইন মাই টেরিটরি নাও। এই রিসোর্টে ঢোকা সহজ, কিন্তু বের হওয়াটা পুরোপুরি আমার মর্জির ওপর।”

শুভ্রের মুখে ভয়ের কোনো ছিটেফোঁটাও দেখা গেল না। সে অত্যন্ত শান্ত ভঙ্গিতে হাতের সিগারেটটা অ্যাশট্রেতে পিষে নিভিয়ে দিল। তারপর মিরাজের চোখের দিকে তাকিয়ে নিরুত্তাপ গলায় বলল।

“আপনারা চাইছেন কী?”

মিরাজ দাঁত বের করে হাসল। সে টেবিলের ওপর থেকে ডিলের সইয়ের ফাইলটা টেনে এনে শুভ্রের সামনে সজোরে এগিয়ে দিল। তারপর আদেশের সুরে বলল।

“জাস্ট সই ইট। এখানে সই করেন।”

শুভ্র ফাইলটা একবার ছুঁয়েও দেখল না। সে হালকা হেসে বলল।

“কিন্তু এই ফাইলে যে বেইমানি লেখা আছে? এটা কি আপনি খেয়াল করেছেন?”

মিরাজ এবার আরও জোরে শব্দ করে হাসল। তার হাসিতে এক ধরনের নৃশংসতা মিশে আছে। সে বলল।

“সো হোয়াট? আমরা তো বেইমানি করেই খাই। আপনার সাথে দেখা করার কত স্বপ্ন ছিল আমার, আজ সেটা পূরণ হলো। আমি সব ব্যবসায়ীর সাথে বেইমানি করি, আপনি কেন বাদ যাবেন? আপনাকে ডুবাতে পারলে আমার মার্কেটে ভ্যালু আরও বেড়ে যাবে।”

শুভ্র শান্ত চোখে মিরাজের দিকে তাকিয়ে বলল।

“তার মানে আপনি আমাকে পিছন দিক থেকে ছুরি মারছেন?”

মিরাজ কুটিল হেসে উত্তর দিল।

“আই লাভ প্লেয়িং গেমস ফ্রম দ্য ব্যাক সাইড। আমার পিছন দিক দিয়ে গেম খেলতে খুব পছন্দ।”

শুভ্র এবার আর নিজেকে সামলাতে পারল না। সে মাথা পেছনে হেলিয়ে দিয়ে অট্টহাসিতে ফেটে পড়ল। পুরো রিসোর্টে শুভ্রের সেই হাসির শব্দ প্রতিধ্বনিত হতে লাগল। উপস্থিত ব্যবসায়ীরা একে অপরের দিকে অবাক হয়ে তাকাতে লাগল। এই লোকটা কি পাগল হয়ে গেল? মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে কেউ এভাবে হাসে?

শুভ্র ধীরে সুস্থে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়াল। তারপর ধীর পায়ে মিরাজের একদম সামনে গিয়ে দাঁড়াল। শুভ্রের লম্বা দেহের ছায়ায় মিরাজ যেন কিছুটা ছোট হয়ে গেল। শুভ্র বাঁকা হেসে বলল।

“আর আমিও না সামনের দিকে ছুরি মারতে খুব পছন্দ করি। দেখতে চাস?”

মিরাজ ভ্রু কুঁচকে তাকাল। তার ভেতরে হঠাৎ এক অজানা আশঙ্কার সৃষ্টি হলো। শুভ্র এবার ধীর গলায় সংখ্যা গুনতে শুরু করল।

“ওয়ান… টু… থ্রি!”

‘থ্রি’ বলার সাথে সাথে যেন ম্যাজিক ঘটে গেল। যে গার্ডরা এতক্ষণ শুভ্রের মাথার চারদিকে রিভলবার তাক করে ছিল, তারা এক সেকেন্ডের ব্যবধানে পজিশন বদলে ফেলল। সবার হাতের রিভলবার এখন সরাসরি মিরাজ আর বাকি ব্যবসায়ীদের মাথার খুলি বরাবর তাক করল।

মিরাজ পাগলের মতো তার গার্ডদের দিকে চিৎকার করে উঠল।

“এই! তোরা কী করছিস? তোদের এত বড় সাহস! তোরা তোদের নিজের বসের মাথায় বন্দুক তাক করিস? নামা বলছি! নাহলে সবকটাকে জ্যান্ত কবর দিয়ে কুচিকুচি করে দেব!”

শুভ্র একগাল হেসে পকেট থেকে রুমাল বের করে হাত মুছতে মুছতে বলল।

“আহ! এত চিল্লাচিল্লি কেন করছিস? ওরা বাচ্চা মানুষ তো, তাই হয়তো একটু ভুল বুঝে ফেলেছে। বাট আই থিঙ্ক, দে নো হু দ্য রিয়েল বস ইজ।”

মিরাজ এবার আক্রোশে ফেটে পড়ে শুভ্রের দিকে তাকিয়ে বলল।

“শুভ্র! তুই চিট করছিস। তুই জানিস না তুই কার সাথে পাঙ্গা নিচ্ছিস? আমার পাওয়ার সম্পর্কে তোর কোনো আইডিয়াই নেই। এর ফল কিন্তু ভালো হবে না।”

শুভ্রর ধৈর্য এবার শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গেল। সে বিদ্যুতের গতিতে পাশের এক গার্ডের হাত থেকে রিভলবারটা ছিনিয়ে নিল। তারপর মিরাজের শার্টের কলার খামচে ধরে সজোরে তাকে টেবিলের ওপর আছাড় দিল। মিরাজ টেবিলে পিঠ ঠেকিয়ে কাতরাতেই শুভ্র তার বুকের ওপর পা তুলে দিয়ে চেপে ধরল। মিরাজের মুখের ভেতরে রিভলবারের নলটা ঢুকিয়ে দিয়ে শুভ্র রাগে হিশহিশয়ে হিংস্র গলায় বলল।

“তুই আমার বাল ছিঁড়ে উল্টে দিবি শালা? তোর কলিজা দেখে আমি আসলেও অবাক। তুই আমার কোম্পানির দিকে চোখ দিস? আমার বাবার সারাজীবনের কষ্টের তিল তিল করে গড়া সাম্রাজ্য তুই ধ্বংস করে দিতে চাস? তুই ভাবলি কী করে যে তোর এই সস্তা গেম আমি ধরতে পারব না? তোর চোদ্দগোষ্ঠীর পরিচয় আর তোর প্রতিটা নোংরা চাল এই সাইফান শুভ্র চৌধুরীর জীবনে অনেক আগেই লেখা হয়ে গেছে।”

মিরাজের চোখ দুটো ভয়ে কোটর থেকে বেরিয়ে আসার উপক্রম হলো। রিভলবারের ঠান্ডা নলটা মুখের ভেতর অনুভব করে তার শরীর থরথর করে কাঁপতে লাগল।সব ব্যবসায়ীর অবস্থা তখন শোচনীয়। শুভ্রর সেই রক্তচক্ষু আর হিংস্র রূপ দেখে তাদের শিরদাঁড়া দিয়ে হিমশীতল স্রোত বয়ে যাচ্ছে। একজন বয়স্ক ব্যবসায়ী হাত জোড় করে কাঁপতে কাঁপতে বলল।

“আ… আ… আমাদের ছেড়ে দিন। আ… আমরা কী করেছি? আমরা তো শুধু ওর কথায় এখানে এসেছি।”

শুভ্র এবার রিভলবারটা মিরাজের মুখ থেকে বের করে ধীরস্থিরভাবে সবার দিকে তাকাল। তার ঠোঁটের কোণে এক বিষাক্ত হাসি। সে শান্ত গলায় বলল।

“আরে, এত তাড়া কিসের? সবাই মিলে প্ল্যান করেছিলেন শুভ্রকে মারবেন, তার সাম্রাজ্য দখল করবেন… এখন না মেরেই চলে যাবেন?”

সবার মনে হলো তাদের আত্মা বুঝি খাঁচাছাড়া হয়ে যাবে। শুভ্র যে এতটা ধুরন্ধর আর ভয়ংকর হতে পারে, সেটা কারও কল্পনাতেও ছিল না। তারা জানত শুভ্র গম্ভীর আর জেদি, কিন্তু এই খুনে মেজাজ তাদের ধারণার বাইরে। শুভ্র বাঁ হাত দিয়ে পকেট থেকে ফোন বের করে কানে ধরে শুধু বলল,

“কাম ইন।”

কয়েক মিনিটের মধ্যেই বাইকের তীব্র গর্জন শোনা গেল। ঈশান ঝড়ের বেগে রিসোর্টে ঢুকে সরাসরি টেবিলের সামনে এসে দাঁড়াল। তার হাতে কিছু মোটা ফাইল। ঈশান ফাইলগুলো টেবিলের ওপর রেখে শুভ্রের উদ্দেশ্যে বলল।

“বস, এখানে সব আছে। এই লোকগুলো কাদের কাদের কাছ থেকে কত টাকা খেয়েছে, আর কতগুলো কোম্পানি জবরদস্তি করে নামমাত্র দামে লিখে নিয়েছে, তার সব প্রমাণ এখানে।”

শুভ্র ফাইলগুলো টেনে নিল। প্রতিটা পাতায় বড় বড় ব্যবসায়ীদের কুকীর্তি, কার কত পার্সেন্ট ব্ল্যাক মানি আছে আর কার কার কোম্পানি তারা ধ্বংস করেছে সব একদম নিখুঁতভাবে লেখা। শুভ্র একটা ফাইল খুলে মিরাজের থতমত খাওয়া মুখের সামনে ধরল। তারপর রাজকীয় ভঙ্গিতে আবার সেই চেয়ারে বসে পা তুলে দিয়ে বলল।

“লুক মিরাজ। আই হ্যাভ অল ইওর ডিটেইলস। তুই আর তোর এই চ্যালাচামুণ্ডারা মিলে গত পাঁচ বছরে যা যা পাপ করেছিস, সব এখন আমার হাতে। সই কর এখানে।”


কলেজ শেষে শুভ্রাদের সাথে আড্ডা দিয়ে রিদি রাস্তার মোড়ে এল একটা রিকশার খোঁজে। কিন্তু আজ ভাগ্যটাই খারাপ, একটা রিকশাও খালি নেই। বিরক্তি নিয়ে সে সামনের দিকে হাঁটতে শুরু করল। কিছুদূর যাওয়ার পর রিদির মনে হলো ঠিক পিছু পিছু কেউ আসছে।

এক ঝটকায় রিদি পেছনে ফিরল, কিন্তু কাউকেই দেখতে পেল না। ভাবল মনের ভুল। আবার সামনে হাঁটা শুরু করতেই সেই একই অনুভূতি যেন কারো পায়ের শব্দ একদম ওর সাথে তাল মেলাচ্ছে। এবার রিদি একদম বাজপাখির মতো ক্ষিপ্রতায় পেছনে ঘুরল আর দেখে ফেলল তিন-চারটে ছেলে ওকে ফলো করছে। রিদিকে তাকাতে দেখে ছেলেগুলো এমন ভাব করল যেন তারা মহাকাশ গবেষণা নিয়ে ব্যস্ত, এদিক-সেদিক তাকাতে লাগল।রিদি এবার আর নিজেকে সামলাতে পারল না। দুই হাত কোমরে দিয়ে গজ গজ করতে করতে এগিয়ে গিয়ে ছেলেগুলোর সামনে দাঁড়াল। তারপর রাগী গলায় মুখ বাঁকিয়ে বলতে শুরু করল।

“কী রে ভাই লোকাল হিরোরা? তোদের কি জিপিএস ট্র্যাকার খারাপ হয়ে গেছে যে আমার পিছু পিছু সিগন্যাল দিচ্ছিস? সেই থেকে দেখছি তোরা আমার ছায়া হওয়ার চেষ্টা করছিস, তা ছায়া হতে চাইলে রোদে গিয়ে দাঁড়া, আমার পেছনে কী? তোদের কি বাড়িতে মা-বোন নেই। আর তোরা জানিস না যে মানুষের পেছনে গোয়েন্দাগিরি করতে গেলে অন্তত জেমস বন্ডের মতো স্মার্ট হতে হয়? তোদের তো দেখে মনে হচ্ছে ডাস্টবিন থেকে সদ্য রিজেক্ট হওয়া পচা আলু!”

রিদির কথা শুনে ছেলেগুলোর চোখ চড়কগাছ! একটা ছেলের হাতে ফোন ছিল, সে তার বসের সাথে লাইভ কলে ছিল। রিদির “পচা আলু” গালি শুনে সে এতটাই টাস্কি খেয়েছে যে বসকে ওপাশ থেকে আপডেট দিতেই ভুলে গেছে। একটা ছেলে ত্যাড়ামি করে গাল চুলকাতে চুলকাতে বলল।

“কী বললি? আমরা পচা আলু? এই মেয়ে, তুই জানিস আমরা কারা? আমাদের পাওয়ার সম্পর্কে তোর কোনো আইডিয়া আছে?”

রিদি এবার তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে বুকে দুই হাত ভাঁজ করে দাঁড়াল। তারপর গলাটা একটু নামিয়ে দরদ মাখা সুরে বলল।

“ওমা! আমি তো জানতাম না আপনারা পাওয়ার স্টেশন থেকে এসেছেন। খালু, জানি না তো আপনারা কারা? তবে আপনাদের ভাবসাব দেখে এটুকুই বুঝতে পারছি যে আপনারা হলেন মাইয়া মানুষের পিছু নেওয়া পাড়ার সেই ভ্যারেন্ডা ভজা কুকুর, যাদের কাজ হলো খামোখা ঘেউ ঘেউ করা আর পাবলিকের জুতার বাড়ি খাওয়া!”

ছেলেটার ফোনের ওপাশ থেকে তখনো ‘হ্যালো… হ্যালো… কী হচ্ছে ওখানে?’ বলে একটা গম্ভীর কণ্ঠ ভেসে আসছে। রিদি খেয়াল করল ছেলেটা বিস্ময়ে কথা বলতে পারছে না। রিদি এক ঝটকায় ছেলেটার হাত থেকে ফোনটা কেড়ে নিয়ে নিজের কানে ধরল। তারপর ওপাশের মানুষকে উদ্দেশ্য করে বলতে শুরু করল।

“হ্যাঁ, আসসালামু আলাইকুম খালু! জানি না আপনি কে, তবে আপনি এখন যার সাথে কথা বলছেন সে এখন কী করছে জানেন? সে আপনার হয়ে কাজ না করে রাস্তায় দাঁড়িয়ে আমার পিছু পিছু ঘুরে আমাকে ডিজিটাল সিগন্যাল দিচ্ছে! আপনার এই পোষা বিড়ালগুলোকে কি ট্রেনিং দেননি যে মানুষের পিছু নিতে গেলে অন্তত বিড়ালের মতো নিঃশব্দে আসতে হয়? এরা তো দেখি ট্রাকের হর্নের মতো আওয়াজ করে পিছু নিচ্ছে!

ফোনের ওপাশ থেকে কোনো উত্তর আসল না, তবে অদ্ভুত নিশ্বাস আসছে। রিদি আবার বলতে লাগল।

“শুনুন খালু, আপনার এই চ্যালাগুলোকে একটু চ্যবনপ্রাশ খাওয়ান, এদের তো দেখলেই মনে হচ্ছে ঝিঁঝিঁ পোকার কামড় খেয়ে প্যারালাইজড হয়ে গেছে। এরা আমাকে ফলো করবে কী, এদের তো নিজেদের ছায়া দেখলেই মনে হয় হার্ট অ্যাটাক করবে! আর শোনেন, এদের দিয়ে যদি গোয়েন্দাগিরি করান, তবে আপনার ইজ্জত তো পাড়ার ড্রেনে গিয়ে সাতার কাটবে। এদের জলদি বাসায় ডেকে নিয়ে হরলিক্স খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে দেন, নাহলে আমি কিন্তু এদের চড় মেরে গালের ম্যাপ চেঞ্জ করে দেব!”

রিদির এই ধামাকা কথা শুনে ফোনের ওপাশে নির্ভানের ঠোঁটের কোণ থেকে জ্বলন্ত সিগারেটটা ফসকে নিচে পড়ে গেল। সে পাথরের মতো স্তব্ধ হয়ে রইল।

রানিং…!

বড় পর্ব দিছি আশা করি সাপোর্ট পাবো সবার!

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply