Golpo romantic golpo অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায়

অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায় পর্ব ৩১


অসম্ভবরকমভালোবাসি_তোমায়

লেখিকাসুমিচৌধুরী

পর্ব ৩১

সকালবেলা ঈশান আয়েশ করে ব্রাশ করতে করতে পুকুর পাড়ের দিকে এগিয়ে এল। ভোরের স্নিগ্ধ বাতাসে মনটা বেশ ফুরফুরে লাগছে তার। পুকুর ঘাটের কাছাকাছি আসতেই সে দেখতে পেল মিহি একা দাঁড়িয়ে আছে। মেয়েটা একদম নিস্পলক চোখে শান্ত পানির দিকে তাকিয়ে কী যেন ভাবছে। ঈশান ভাবল একবার ডেকে জিজ্ঞেস করবে কিছু হয়েছে কি না, কিন্তু পরক্ষণেই মনে হলো থাক, একা আছে যখন নিশ্চয়ই নিজের কোনো চিন্তা করছে। মেয়েদের সাথে নিজে থেকে আগ বাড়িয়ে কথা বলতে গেলে উল্টোটা ভেবে বসতে পারে, সো আই শুড লিভ হার অ্যালোন।
এই ভেবে ঈশান যেই না পা বাড়াল, অমনি মিহির নজর পড়ল তার দিকে। ঈশানকে দেখে মিহি মুহূর্তেই একগাল হেসে বলে উঠল।

“আরে ঈশান যে! এসেও কোনো কথা না বলে চলে যাচ্ছেন কেন? কী ব্যাপার?”

ঈশান মাঝপথে থেমে গেল। সে একটু অপ্রস্তুত হয়ে মিহির দিকে ঘুরে তাকিয়ে বলল।

“ওই না, আসলে এমনি সকালে উঠে হাঁটার জন্য এদিকে আসলাম। এসে দেখি তুমি একা দাঁড়িয়ে আছো, ভাবলাম হয়তো মন খারাপ তাই অহেতুক ডিস্টার্ব করতে চাইনি।”

মিহি তখন খিলখিল করে হেসে উঠল। হাসতে হাসতেই বলল।

“আপনিও না! আমি কেন বিরক্ত হব? আসলে এমনি পুকুর পাড়ে দাঁড়িয়ে ভোরের বাতাসটা এনজয় করছিলাম, এই আরকি।”

ঈশান হালকা মাথা নেড়ে বলল।

“ওহ, আই সি।”

এরপর দুজনের মধ্যে টুকটাক গল্প জমে উঠল। ঈশান মজার কিছু একটা বলতেই মিহি হাসিতে ফেটে পড়ল। ঠিক সেই সময় শুভ্রা বড় একটা হাই তুলতে তুলতে ঘর থেকে বাইরে বের হলো। চোখেমুখে তখনো ঘুমের রেশ। বাড়ির গেটের কাছে আসতেই ওর চোখ গেল পুকুর পাড়ের দিকে। সেখানে ঈশান আর মিহি পাশাপাশি দাঁড়িয়ে হাসাহাসি করছে। দৃশ্যটা দেখামাত্রই শুভ্রার বুকের ভেতরটা যেন কেউ খামচে ধরল। কলিজাটা হঠাৎ মুচড় দিয়ে উঠল ওর। শুভ্রা স্পষ্ট অনুভব করতে পারল একটা অজানা অস্থিরতা আর চিনচিনে ব্যথা ওর সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ছে।

শুভ্রা মনে মনে ভাবল।

“এর মানে কী? আমি কেন ঈশান ভাইয়াকে অন্য কোনো মেয়ের সাথে কথা বলতে দেখে কষ্ট পাচ্ছি? ও তো আমার বড় ভাইয়ের মতো, তাহলে মিহির সাথে এভাবে হাসাহাসি করতে দেখে আমার এত খারাপ লাগছে কেন?।”

শেষমেশ শুভ্রা নিজের মনের সাথে লড়ে আর শান্ত থাকতে পারল না। দ্রুত পায়ে সে পুকুর পাড়ে চলে আসলো। শুভ্রাকে হুট করে আসতে দেখে ঈশান আর মিহির হাসি মুহূর্তেই মিলিয়ে গেল। মিহি অবাক হয়ে বলল।

“আরে শুভ্রা, তুই হঠাৎ এখানে?”

শুভ্রা মিহির দিকে তাকিয়ে বেশ ত্যাড়া গলায় উত্তর দিল।

“কেন? এখানে এসে বুঝি খুব বড় কোনো অপরাধ করে ফেললাম? তোদের পার্সোনাল মোমেন্ট কি নষ্ট হয়ে গেল?”

শুভ্রার এমন ঝাঁঝালো কথা শুনে ঈশান আর মিহি দুজনেই কুঁচকে গেল। মিহি পরিস্থিতি হালকা করার জন্য ঠাট্টার সুরে শুভ্রার কাঁধে একটা চাপড় মেরে বলল।

“তুইও না! কী সব আজেবাজে বলছিস? অপরাধ কেন হবে? আমরা তো এমনি গল্প করছিলাম।”

শুভ্রা একটা মেকি হাসি ঠোঁটে ঝুলিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বলল।

“তোর ভাবসাব দেখে তো তাই মনে হচ্ছে না রে মিহি। মনে হচ্ছে আমি এসে একদম কাবাব মে হাড্ডি হয়ে গেছি।”

মিহি একটু হেসে বলল।

“তুই না শুভ্রা কী যা তা বলছিস! আমি তো ওই আরকি এমনি একটু গল্প করছিলাম আর…।”

বাকিটুকু বলার আগেই শুভ্রা তাকে হাত উঁচিয়ে থামিয়ে দিয়ে কর্কশ গলায় বলল।

“হয়েছে বুঝেছি! এখন তুই এখান থেকে যা। ঈশান ভাইয়ার সাথে আমার কিছু পার্সোনাল কথা আছে।”

মিহি আর কথা বাড়াল না, শুভ্রার মেজাজ দেখে চুপচাপ সেখান থেকে চলে গেল। ঈশান তখন দাঁত ব্রাশ শেষ করে মাটিতে থু থু ফেলে মুখ ধুয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াল। শুভ্রার দিকে তাকিয়ে নির্বিকার গলায় বলল।

“কী বলবে তাড়াতাড়ি বলো?

শুভ্রা যেন তেলেবেগুনে জ্বলে উঠল। রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বলল।

“কেন? খুব কষ্ট হচ্ছে বুঝি মিহিকে বিদায় করে দিয়েছি বলে? খুব একা একা লাগছে আপনার?”

ঈশানের ভ্রু কুঁচকে গেল। কপালে ভাঁজ ফেলে সে বিরক্ত হয়ে শুভ্রার দিকে তাকিয়ে বলল।

“কী বলছো শুভ্রা তুমি এসব? মাথা ঠিক আছে তো তোমার? মিহি চলে যাওয়ায় আমার কেন কষ্ট হবে?।”

শুভ্রা এবার ঈশানের আরও কাছে এগিয়ে এসে ত্যাড়া গলায় বলল।

“তাহলে এতক্ষণ তো তার সাথে বেশ হেসেই কথা বলছিলেন! তখন তো আপনার সময় ফুরাচ্ছিল না। এখন আমি কথা বলতে চাইছি বলে আমার বেলায় আপনার সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে, তাই না?”

ঈশান একদম ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেল। সে কিছুতেই মেলাতে পারছে না শুভ্রা হুট করে কেন এতটা রিয়্যাক্ট করছে। সে আমতা আমতা করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করল।

“শুভ্রা, দেখো তুমি যা ভাবছ তা মোটেও না। আসলে হুট করে এভাবে পুকুরপাড়ে আমাদের দুজনকে কথা বলতে দেখলে গ্রামের মানুষ উল্টোপাল্টা ভাববে। আর গ্রামের লোকজনের সম্পর্কে তো তোমার ধারণা আছেই, তাই আমি…।”

বাকিটুকু বলার সুযোগই দিল না শুভ্রা। রাগে ফেটে পড়ে মাঝপথেই কথা কেড়ে নিয়ে বলল।

“হয়েছে! আর নাটক করতে হবে না। মিহির সাথে যখন দাঁত কেলিয়ে কথা বলছিলেন, তখন তো আপনার এই লোকলজ্জার চিন্তা মাথায় ছিল না! শুধু আমার সাথে কথা বলতেই যত রাজ্যের চিন্তা মাথায় এল, তাই না? ঠিক আছে, মিহির সাথেই কথা বলেন আপনি। আমার সাথে আর বলতে হবে না, আমিও আর জীবনেও আপনার সাথে কথা বলব না!”

বলেই শুভ্রা সেখান থেকে বড় বড় পা ফেলে গটগট করে চলে গেল। ঈশান ব্রাশ হাতে নিয়ে একদম স্তম্ভিত হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। ওর মাথায় কিছুই ঢুকছে না।কী হলো হঠাৎ? শুভ্রা এমন পাগলামি কেন করছে? স্রেফ কথা বলা নিয়ে কেউ এতটা রিয়্যাক্ট করতে পারে, সেটা ঈশানের কল্পনার বাইরে।


খুব ভোরেই ছাদে এসেছিল রিদি। সারা রাত এক মুহূর্তের জন্যও চোখের পাতা এক করতে পারেনি সে, মনের ভেতর এক অস্থির ঝড় বয়ে গেছে। তাই ফজরের নামাজটা পড়েই একটু শান্তির খোঁজে ছাদে উঠে এসেছে। ভোরের স্নিগ্ধ আর শীতল বাতাসটা রিদির তপ্ত কপালে আলতো ছোঁয়া দিয়ে ওর মনটাকে কিছুটা ফুরফুরে করে দিয়ে যাচ্ছে।

এর কিছুক্ষণ পরেই শরীরচর্চার জন্য একটা টি-শার্ট আর শর্ট ট্রাউজার পরে ছাদে উঠল শুভ্র। ওর মূল উদ্দেশ্য ছিল পুশআপ দেওয়া। কিন্তু সাতসকালে ছাদে রিদিকে এভাবে একাকী দাঁড়িয়ে থাকতে দেখবে, সেটা ও কল্পনাও করতে পারেনি। রিদি তখনো শুভ্রর উপস্থিতি টের পায়নি ও গভীর মগ্নতায় ছাদের রেলিং ধরে ভোরের আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। শুভ্র একবার ঘড়ির দিকে তাকাল, বেলা বেড়ে যাচ্ছে। এখন ব্যায়াম না করলে পরে আর শরীর সায় দেবে না। তাই সে রিদির সাথে কোনো কথা না বাড়িয়ে ছাদের এক কিনারে গিয়ে উপুড় হয়ে দুই হাতে ফ্লোর খামচে ধরে পুশআপ দিতে শুরু করল। কপাল বেয়ে ঘাম ঝরছে, পেশিগুলো ফুলে উঠেছে, কিন্তু ও থামছে না।

ঠিক সেই মুহূর্তে সিঁড়ি দিয়ে ছাদে পা রাখল রাসেল। সেখানে রিদিকে একা দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে রাসেলের মনে কথা বলার এক সুপ্ত ইচ্ছা জেগে উঠল। সে পা টিপে টিপে রিদির পাশে গিয়ে দাঁড়াল এবং খুব নরম গলায় জিজ্ঞেস করল।

“মন খারাপ বুঝি?”

হঠাৎ কারও কণ্ঠস্বর শুনে রিদি চমকে উঠে পাশে রাসেলকে দেখে কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়ল। এই মুহূর্তে ওর একদমই কারো সাথে কথা বলতে ইচ্ছে করছে না, কিন্তু কিছু না বললে আবার নিজেকে বড্ড অহংকারী মনে হয়। তাই রিদি ঠোঁটে এক চিলতে হাসি ফুটিয়ে বলল।

“না তো, মন খারাপ হবে কেন? এমনিই আকাশের দিকে তাকিয়ে আছি, পরিবেশটা খুব ভালো লাগছে।”

কথাটা বলেই রিদি একটু পাশ ফিরে রেলিংয়ে পিঠ ঠেকিয়ে দাঁড়াতেই ছাদের কিনারার দিকে ওর চোখ আটকে গেল। সেখানে শুভ্র দুই হাত দিয়ে ছাদের মেঝে খামচে ধরে রাগে ফুঁসছে আর একদৃষ্টিতে রিদির দিকে তাকিয়ে আছে। ওর চোখ দুটো ইতিমধ্যে রাগে টকটকা লাল হয়ে গেছে। হুট করে শুভ্রকে এভাবে রণংদেহী মূর্তিতে ছাদে দেখে রিদি ভূত দেখার মতো চমকে উঠল। কিন্তু পরক্ষণেই সে নিজের ভয়টা চেপে রেখে শুভ্রর ওই ভয়ংকর রাগটাকে মোটেও তোয়াক্কা করল না। উল্টো রাসেলের দিকে তাকিয়ে বেশ মিষ্টি করে হেসে বলল।

“তা, আপনি কেন এই অসময়ে ছাদে?”

রাসেল একটু অপ্রস্তুত হয়ে মাথা চুলকে বলল।

“আসলে আমিও একটু হাঁটার জন্য ছাদে এসেছিলাম। এসে দেখি তুমি একা দাঁড়িয়ে আছো, তাই ভাবলাম তোমার সাথে একটু গল্প করি। বাই দ্য ওয়ে, ইউ লুকিং ভেরি নাইস ইন দিস মর্নিং।”

রিদি ঠোঁটে আলতো একটা হাসির রেখা টেনে দিল। ওকে হাসতে দেখে রাসেলের সাহস যেন দ্বিগুণ বেড়ে গেল। সে একটু ইতস্তত করে বলল।

“আচ্ছা রিদি, যদি কিছু মনে না করো, তবে তোমাকে একটা পার্সোনাল কথা জিজ্ঞেস করতে পারি?”

রিদি আড়চোখে দেখল ছাদের এক কোণে শুভ্রর রাগী চোখ দুটো আগুনের গোলার মতো জ্বলছে। শুভ্রকে আরও একটু খেপিয়ে দেওয়ার জন্য রিদি নিজের হাসিটা আরও মিষ্টি করে রাসেলের দিকে তাকিয়ে বলল।

“হ্যাঁ হ্যাঁ, অবশ্যই! বলেন কী বলবেন, আমি কেন কিছু মনে করব?”

রাসেল কিছুটা তোতলানো সুরে আমতা আমতা করে বলল।

“আসলে… না মানে, তুমি কি কারও সাথে রিলেশন করো? আই মিন, কাউকে কি তোমার স্পেশালি পছন্দ ?”

রাসেলের এমন আচমকা আর অদ্ভুত প্রশ্নে রিদি মুহূর্তের জন্য থমকে গেল। মনের ভেতর একটা বিরক্তি দানা বাঁধলেও সে সেটা প্রকাশ করল না।ছাদের কিনারার দিকে আড়চোখে তাকাতেই রিদি চমকে উঠল শুভ্র সেখানে নেই! হঠাৎ কোথায় উধাও হয়ে গেল লোকটা? তাকে এভাবে রাসেলের সাথে একা রেখে শুভ্র চলে যাওয়ার মতো মানুষই না। এই ভেবে রিদি ঘাড় ঘুরিয়ে রাসেলের দিকে তাকাতেই আতঙ্কে এক চিৎকার দিয়ে দুই পা পিছিয়ে গেল। কারণ, শুভ্র এখন একদম রাসেলের ঠিক পেছনে যমের মতো দাঁড়িয়ে আছে! ওর দুই হাত শর্ট ট্রাউজারের পকেটে ঢোকানো, ঘামে ভেজা শরীরের পেশিগুলো টানটান হয়ে আছে। শুভ্র একদম শান্ত কিন্তু হিমশীতল চোখে রিদির দিকে তাকিয়ে আছে।

হঠাৎ রিদির এমন আর্তচিৎকারে রাসেল ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেল। সে অবাক হয়ে বলল।

“কী হয়েছে রিদি? হঠাৎ এমন চিৎকার দিলে কেন? মনে হচ্ছে যেন কোনো ভূত দেখেছ!”

রিদি কোনো উত্তর দিল না, স্রেফ ভয়ে কুঁকড়ে গিয়ে শুভ্রর দিকে তাকিয়ে রইল। রাসেলও তখনো খেয়াল করেনি যে ওর ঠিক পেছনেই কেউ দাঁড়িয়ে আছে। সে রিদির স্থির দৃষ্টি অনুসরণ করে যেই না পেছন ফিরল, অমনি “আহহহ” করে এক বিকট চিৎকার দিয়ে ছাদ থেকে প্রায় পড়েই যাচ্ছিল! কোনো রকমে রেলিংটা খামচে ধরে নিজেকে সামলাল সে।

শুভ্র বেশ বিরক্ত হয়ে দুজনের দিকে তাকিয়ে গম্ভীর গলায় বলল।

“কী হয়েছে তোদের? দুজনে এভাবে সমস্বরে চিৎকার দিচ্ছিস কেন? তোদের রিয়্যাকশন দেখে তো মনে হচ্ছে আমাকে না, নির্ঘাত কোনো ভূত দেখেছিস! এম আই লুকিং লাইক এ গোস্ট।”

রাসেল কোনো রকমে বুক ভরে শ্বাস টেনে নিজেকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে কাঁপা গলায় বলল।

“ব্রো… তুমি ছাদে! আর তুমি কখন এলে? আমি তো টেরই পেলাম না!”

শুভ্র একবার আড়চোখে থমথমে মুখে রিদির দিকে তাকাল, তারপর রাসেলের দিকে ফিরে শীতল গলায় বলল।

“আমি তোমার অনেক আগেই ছাদে এসেছি রাসেল। হয়তো তুমি আসার পর আমায় খেয়াল করোনি।”

রিদি সেখানে আর এক মুহূর্তও দাঁড়াল না। শুভ্রের ওই আগ্নেয়গিরির মতো শান্ত চেহারার দিকে তাকিয়ে একটা বিশ্রী ভেংচি কাটল সে, তারপর গটগট করে ছাদ থেকে নিচে চলে গেল। রাসেল এবার আমতা আমতা করে শুভ্রের দিকে তাকিয়ে পালানোর পথ খুঁজল। সে আমতা আমতা করে বলল।

“তাহলে ব্রো… তুমি থাকো, আমি তাহলে নিচে যাই? শরীরটা হঠাৎ কেমন জানি লাগছে।”

এই বলে রাসেল যেই না এক পা বাড়িয়েছে, অমনি শুভ্র আচমকা রাসেলের গেঞ্জির কলার পেছন থেকে বাঘের মতো খামচে ধরল। রাসেলের ঘাড়টা নিজের দিকে ঘুরিয়ে নিয়ে রক্তবর্ণ চোখে তাকিয়ে শুভ্র চিৎকার করে উঠল।

“সমস্যা কী তোর? আমার বউয়ের পিছে এভাবে আঠার মতো লেগে আছিস কেন?।”

শুভ্রের এমন রণংদেহী আচরণ দেখে রাসেল যেন আকাশ থেকে পড়ল। সে ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে তোতলাতে শুরু করল।

“কী-কী বলছো তুমি ব্রো? তোমার বউয়ের পিছে মানে?।”

শুভ্র এবার রাসেলের গেঞ্জির কলার আরও জোরে পেঁচিয়ে ধরল, যেন ওর দম বন্ধ করে দেবে। দাঁতে দাঁত চেপে শুভ্র বলল।

“ইয়েস,বউ। আর তুই আমার বউয়ের পিছে টিকটিকির মতো ঘুরঘুর করছিস। বল এখন তোর সাথে কী করা উচিত? তোর ওই নোংরা মাথাটা কেটে মাঝপুকুরের জলে ভাসিয়ে দেব, নাকি টুনটু*নি কেটে শ্মশানে ফেলে আসব?।”

শুভ্রর এই মারমুখী রূপ দেখে রাসেলের আত্মারাম খাঁচা ছাড়া হওয়ার জোগাড়। সে কিছুতেই বুঝতে পারছে না শুভ্রর হঠাৎ কী হলো ওকে কি জিন-ভূতে ধরল নাকি! রাসেল কোনোমতে শুকনো ঢোক গিলে থরথর করে কাঁপতে কাঁপতে বলল।

“দেখো ব্রো, তোমার কোথাও একটা বিশাল ভুল হচ্ছে। আমি তোমার বউয়ের পিছে ঘুরব কীভাবে? আর তোমার বউ আসবেই বা কোত্থেকে? তুমি তো এখনো বিয়েই করোনি! আমার মনে হচ্ছে তোমার ওপর আসমানি কিছু আছর করেছে, তুমি ঠিক নেই।”

শুভ্রর ঠোঁটের কোণে একটা কুৎসিত আর পৈশাচিক হাসি ফুটে উঠল। সে একদম রাসেলের কানের কাছে মুখ নিয়ে শয়তানের মতো ফিসফিস করে বলল।

“তুই একদম ঠিক ধরেছিস রাসেল! আমার ওপর ভূত চেপেছে, আর সেটা হলো এক ভয়ংকর ‘প্রেমিক ভূত’। যে তার বউকে পরপুরুষের হাত থেকে বাঁচাতে যেকোনো সময় কারো ঘাড় মটকে দিতে পারে। আর সেই দুর্ভাগ্যবান মানুষটা হচ্ছিস তুই। ইয়েস, আমি এখন তোর ঘাড় মটকাবো! হা হা হা… হি হি হি!”

বলেই শুভ্র কোনো সুযোগ না দিয়ে এক ঝটকায় রাসেলের গলা টিপে ধরল। হাতের জোর এতটাই বেশি যে রাসেল চিৎকার তো দূর, ঠিকমতো শ্বাস পর্যন্ত নিতে পারছে না। ওর চোখ দুটো ভয়ে আর যন্ত্রণায় ঠিকরে বেরিয়ে আসার উপক্রম। শুভ্র দাঁতে দাঁত চেপে গরগর করে বলল।

“বল হারামজাদা! আর কোনোদিন আমার বউয়ের আশেপাশে ঘুরঘুর করবি? বল! জাস্ট সে ইট।”

রাসেল এবার মনে প্রাণে বিশ্বাস করে নিল যে শুভ্রর ওপর নির্ঘাত কোনো শক্তিশালী জিন সওয়ার হয়েছে, যে ওকে ভুল বুঝে নিজের বউয়ের ওপর নজরদারি ভাবছে। বাঁচার আর কোনো উপায় না পেয়ে রাসেল মরিয়া হয়ে না সূচক মাথা নাড়ল। শুভ্র সাথে সাথে ওর গলা ছেড়ে দিল। রাসেল ছাদের মেঝেতে বসে পড়ে দুহাতে গলা চেপে ধরে কুঁকড়ে গিয়ে কাশতে লাগল। ওর দম যেন আটকে যাচ্ছিল। শুভ্র ওর দিকে নিস্পলক চোখে তাকিয়ে থেকে ঠান্ডা গলায় শেষ হুঁশিয়ারি দিল।

“নেক্সট টাইম যদি তোকে আবার আমার বউয়ের আশেপাশে দেখি, তবে তোর ভবিষ্যৎ বউয়ের ভবিষ্যৎ কেটে দিতে আমি ন্যানো সেকেন্ডও ভাবব না। সো, গেট লস্ট।”

রানিং…!

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply