Golpo romantic golpo অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায়

অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায় পর্ব ২৮


অসম্ভবরকমভালোবাসি_তোমায়

লেখিকাসুমিচৌধুরী

পর্ব ২৮

রাসেলের এই হঠাৎ ভোলবদল দেখে শুভ্র তীক্ষ্ণ নজরে ওর দিকে তাকাল। ফোনের ওপাশ থেকে কেউ কথা বললেও সেদিকে পাত্তা না দিয়ে রাসেলের দিকে সরাসরি প্রশ্ন ছুড়ে দিল।

“কিন্তু রাসেল! তুমি তো কিছুক্ষণ আগে আমাকেই বললে এতগুলো টাকা দেওয়া সম্ভব না। আর এখন বলছো দিবে? ব্যাপার কী বলো তো?”

রাসেল অপ্রস্তুতভাবে দাঁত বের করে হাসল। সে আড়চোখে একবার রিদির দিকে তাকিয়ে নিল, যা শুভ্রর নজর এড়াল না। রাসেলের মতিগতি যে সুবিধার নয়, তা শুভ্র শুরু থেকেই জানে। রাসেল নিজেকে সামলে নিয়ে একটু তড়িঘড়ি করেই বলল।

“আরে ব্রো! আমি তো জাস্ট মজা করছিলাম। অনেক দিন পর সবার সাথে দেখা, তাই একটু ফাজলামি করলাম আরকি। গেট ইট?”

শুভ্র ওর কথার কোনো উত্তর দিল না। সে এবার কঠোর নজরে মিহি, পাখি আর ইমনের দিকে তাকাল। গম্ভীর আর ধমকের সুরে বলল।

“বাড়ির বড়রা কি তোদের হাতখরচ দেয়নি যে এইভাবে ভিক্ষুকের মতো টাকার জন্য মানুষের পেছনে পেছনে ঘুরছিস? আর, সেকেন্ড টাইম যদি তোদের এখানে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখি, তবে চড়িয়ে সবগুলোর দাঁত ফেলে দেব। গেট আউট!”

শুভ্রর এমন রুদ্রমূর্তি দেখে ওরা তিনজনেই বেশ ভয় পেয়ে গেল। আর এক মুহূর্তও কথা না বাড়িয়ে যে যার মতো সেখান থেকে চম্পট দিল। রিদি তখনও সেখানে থমকে দাঁড়িয়ে ছিল। শুভ্র এবার রিদির দিকে ফিরে দাঁতে দাঁত চেপে হিসহিসিয়ে শুধাল।

“তোর কি খুব চড় খাওয়ার ইচ্ছে হয়েছে? নাকি এখান থেকে যাওয়ার পথ ভুলে গেছিস?”

রিদি আর এক সেকেন্ডও সেখানে দাঁড়ানোর সাহস পেল না, দ্রুত পায়ে বাড়ির ভেতরে চলে গেল। রাসেল পুরো বিষয়টায় একদম হাবা হয়ে তাকিয়ে রইল। সে শুভ্রকে কিছু একটা বলতে চাইল, কিন্তু তার আগেই শুভ্র গটগট করে বাড়ির মেইন গেট দিয়ে বেরিয়ে গেল। রাসেল একা উঠোনে দাঁড়িয়ে মাথা চুলকাতে চুলকাতে বিড়বিড় করে বলল।

“কী হচ্ছে এসব আমার সাথে? এই শুভ্র কেন আমার সব প্ল্যানে বারবার জল ঢেলে দিচ্ছে? আচ্ছা, আমি কি ওর কোনো জাত শত্রু নাকি যে ও এমন করছে? ড্যাম ইট।”

দুপুরে ড্রয়িং রুমে বেশ আড্ডার আমেজ। বড়রা একপাশে বসে গল্প করছেন, আর অন্যপাশে মিহি, পাখি, ইমন আর রিদি চারজন মিলে আয়েশ করে চিপস খাচ্ছে আর টিভিতে সিনেমা দেখছে। ঠিক সেই মুহূর্তে বাইরে থেকে ঘেমে নেয়ে ঢুকল রাসেল। কপালে ঘামের বিন্দু চিকচিক করছে। সে ড্রয়িং রুমে ঢুকেই সরাসরি রিদির পাশের সোফাটায় ধপ করে বসে পড়ল। তারপর বিলকিস চৌধুরীর উদ্দেশ্যে হাঁক ছেড়ে বলল।

“মামি, এক গ্লাস ঠান্ডা পানি দাও তো! যা রোদ আর গরম পড়ছে বাইরে, মরে গেলাম!”

হুট করে নিজের একদম গা ঘেঁষে রাসেলকে বসতে দেখে রিদি বেশ অপ্রস্তুত আর অপদস্ত বোধ করল।সে অন্য সোফায় যাওয়ার জন্য উঠে দাঁড়াতে নিলেই রাসেল চট করে ওর হাতটা ধরে ফেলল।

“কোথায় যাচ্ছো? বসো এখানে, সমস্যা কী?”

ঠিক সেই মুহূর্তেই সদর দরজা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করল শুভ্র। ওর সাথে তুর্য আর রিফাত। ওরা শুভ্রর বন্ধু, গ্রাম দেখার খুব শখ ছিল বলে শুভ্র ওদের নিয়ে এসেছে। কিন্তু ভেতরে ঢুকেই শুভ্রর চোখ গিয়ে পড়ল সোফার ওপর। রাসেলকে আবারও রিদির হাত ধরতে দেখে শুভ্রর চোয়াল শক্ত হয়ে এল। সে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকল। ‘হাউ ডেয়ার হি টাচ হার এগেইন’ কথাটা যেন মনে মনে আওড়ালো ও।

রিদি চূড়ান্ত বিরক্ত হয়ে ঝটকা মেরে নিজের হাত ছাড়িয়ে নিয়ে বলল।

“না ভাইয়া, আমার একটা দরকারি কাজ আছে। আপনি বসেন, পরে কথা হবে।”

রাসেল নাছোড়বান্দার মতো বলল।

“রাখো তোমার কাজ! কাজটাজ পরে হবে, আগে বসো। একটু গল্প করি।”

রিদি আবারও না করতে চাইল, কিন্তু রাসেল একরকম জোর করেই ওকে পাশে বসিয়ে দিল। রিদি প্রচণ্ড অস্বস্তি আর বিরক্তি নিয়ে চুপচাপ বসে রইল। তুর্য আর রিফাত বাড়ির বড়দের সাথে কুশল বিনিময় করল। বিলকিস চৌধুরী শুভ্রদের দেখে হাসিমুখে বললেন।

“তোমরা হয়তো জার্নি করে অনেক টায়ার্ড হয়ে গেছো। বসো বাবা, আমি সবার জন্য ঠান্ডা শরবত আনছি।”

রিফাত আর তুর্য গিয়ে মিহি আর পাখিদের সামনের সোফাটায় বসল। রিফাত হালকা হেসে মিহি আর পাখির দিকে তাকিয়ে বলল।

“হাই সুন্দরীরা! কী খবর? আবার দেখা হয়ে গেল।”

মিহি চিপসের প্যাকেট থেকে একটা চিপস মুখে পুরে হালকা হেসে সহজ গলায় বলল।
“এই তো ভালো। আপনারা কেমন আছেন?”

রিফাত সোফায় আরাম করে হেলান দিয়ে বসে হাসিমুখে জানাল।
“এই তো, আমরাও বেশ ভালো আছি।”

রিফাত এবার রিদির দিকে তাকিয়ে বন্ধুসুলভ গলায় শুধাল।
“হাই রিদি! কেমন আছো?”

রিদি রাসেলের পাশে বসে অস্বস্তি বোধ করলেও মুখে জোর করে হাসি ফুটিয়ে নরম স্বরে বলল।
“আলহামদুলিল্লাহ ভালো। আপনি?”

রিফাত মাথা নেড়ে সায় দিয়ে উৎসাহ নিয়ে বলল।
“হুম ভালো। তোমাদের নানু বাড়ির এই গ্রামটা দেখার খুব শখ ছিল, তাই হুট করেই চলে আসলাম।”

রিদি বিনয়ের সাথে মৃদু হেসে বলল।
“খুব ভালো হয়েছে ভাইয়া।”

রিফাত এবার রাসেলের দিকে তাকাতেই রাসেল বেশ গদগদ হয়ে আলাপ জমানোর চেষ্টা করল। সে রিফাতের দিকে তাকিয়ে চটপট নিজেকে জাহির করে বলল।
“হাই! আমি রাসেল। শুভ্রর ফুফাতো ভাই।”

ঠিক সেই মুহূর্তে পাশে থাকা তুর্য সরু চোখে রাসেলের দিকে তাকিয়ে ঠাট্টার ছলে টিপ্পনী কেটে বলল।
“তা কোন রাসেল? রাসেল ভাইপার নাকি?”

তুর্যের এমন রসিকতা শুনে ড্রয়িং রুমে উপস্থিত সবাই একযোগে হো হো করে হেসে উঠল। রিদিও নিজের হাসি চেপে রাখতে পারল না। রাসেল তুর্যের দিকে তাকিয়ে কিছুটা থতমত খেয়ে কাঁচুমাচু মুখে বলল।
“আপনিও না ভাইয়া, মাঝখান দিয়ে খুব মজা করছেন!”

তুর্য নিজের স্মার্ট ঘড়িটার দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে পাল্টা জবাব দিল।
“আরে, মজা করাই তো আমাদের কাজ।”

শুভ্র নিজের রাগটা আর কোনোভাবেই সামলাতে পারছে না। কড়া করে নিষেধ করার পরেও রিদি কীভাবে ওভাবে রাসেলের পাশে বসে আছে, এটা ভেবে ওর পিত্তি জ্বলে যাচ্ছে। ওর তীব্র ইচ্ছে করছে এখনই গিয়ে রিদির গালে শক্ত করে একটা চড় বসিয়ে দিতে। রাগে শুভ্রর বুকটা দ্রুত ওঠানামা করছে, সে বড় বড় নিঃশ্বাস ফেলে নিজেকে কোনোমতে শান্ত করার চেষ্টা করল। ওর শরীরটা কেমন যেন রিরি করছে, এখন একটা ঠান্ডা পানির শাওয়ার না নিলে মাথার রগ ছিঁড়ে যাবে। সে রিদির দিকে একপলক জ্বলন্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে মনে মনে গজরাতে গজরাতে আওড়ালো।

“তোকে তো আমি পরে দেখে নিব। তোর কপালে আজ অশেষ দুঃখ আছে। আমার কথা না রাখার সাহস তোর কোত্থেকে হয়, সেই দম্ভটা আজ আমি চূর্ণ করবই। জাস্ট ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ!”

শুভ্র আর এক মুহূর্ত সেখানে দাঁড়াল না। সে রান্নাঘরের দিকে তাকিয়ে একটু গলা উঁচিয়ে তার মায়ের উদ্দেশ্যে কড়া মেজাজে হাঁক ছেড়ে বলল।

“আম্মু, জলদি আমার রুমে এক কাপ কফি পাঠাও।”

বলেই শুভ্র গটগট করে নিজের রুমের দিকে চলে গেল। ওদিকে ড্রয়িং রুমে রিফাত, তুর্য আর বাকিদের হাসি-আড্ডা আর খুনসুটি আগের মতোই চলতে থাকল।কিছুক্ষণের মধ্যেই সাহেরা চৌধুরী এক কাপ গরম কফি এনে সরাসরি রিদির হাতে ধরিয়ে দিয়ে ব্যস্ত গলায় বললেন।

“যা তো মা, গিয়ে তোর শুভ্র ভাইকে কফিটা দিয়ে আয়। আমি রান্নাঘরে ডাল বসিয়েছি, পুড়ে যাবে। তাড়াতাড়ি যা!”

বলেই তিনি আর উত্তরের অপেক্ষা না করে চলে গেলেন। রিদির কলিজাটা এক মুহূর্তের জন্য কেঁপে উঠল। শুভ্রর ওই রাগী চোখের কথা মনে পড়তেই ওর হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসছে, তবুও নিজেকে সামলে নিয়ে সে ধীর পায়ে শুভ্রর রুমের দিকে এগিয়ে গেল। রিদি রুমে ঢোকার ঠিক সেই মুহূর্তেই শুভ্র ওয়াশরুম থেকে বের হলো। তার কোমরে শুধু একটা তোয়ালে জড়ানো, সুঠাম দেহ থেকে টপটপ করে পানি ঝরছে। ভেজা চুলগুলো কপালে এসে লেপ্টে আছে। হঠাৎ শুভ্রকে এই অবস্থায় দেখে রিদি অপ্রস্তুত হয়ে তড়িৎ গতিতে উল্টো দিকে ঘুরে দাঁড়িয়ে চোখ বন্ধ করে ফেলল। লজ্জায় লাল হয়ে সে বিড়বিড় করে বলল।

“ছিহ্ ছিহ্! আসার আর সময় পেলি না? কী লজ্জা!”

শুভ্র কোনো কথা না বলে ধীর পায়ে রিদির ঠিক পেছনে এসে দাঁড়াল। ওর শরীর থেকে সাবানের সুগন্ধ আর ভেজা শরীরের হিমেল ভাব রিদি অনুভব করতে পারছে। রিদি মাথা নিচু করে কাঁপাকাঁপা গলায় বলল।

“ভাইয়া, আপনি তাড়াতাড়ি পোশাক পরে নেন। আর আমি কফির কাপটা টেবিলে রেখে যাচ্ছি।”

বলেই রিদি চোখ বন্ধ অবস্থায় উল্টো পায়ে হেঁটে যেতেই সে সজোরে শুভ্রর সদ্য গোসল করা শক্ত বুকের ওপর গিয়ে ধাক্কা খেল। রিদির মনে হলো সে জীবন্ত কোনো শক্ত পাথরের পাহাড়ের সাথে ধাক্কা খেয়েছে। সে হকচকিয়ে ঘুরে তাকিয়ে শুভ্রকে একইভাবে নিজের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে আবার উল্টো ঘুরে দাঁড়িয়ে বিরক্ত গলায় বলল।

“ছিহ্ ভাইয়া! আপনার কি একটুও লজ্জা নেই? এইভাবে শুধু একটা তোয়ালে পরে সামনে দাঁড়িয়ে আছেন! তাড়াতাড়ি ড্রেস চেঞ্জ করেন তো।”

শুভ্র এবার রিদির কানের কাছে মুখ নিয়ে বেশ গম্ভীর আর ভারী গলায় প্রশ্ন করল।
“যদি না পরি, তবে তুই কী করবি?”

রিদি এবার কিছুটা রেগে গিয়ে উত্তর দিল।
“আজব! আমি কী করব? আপনার ইচ্ছে, পরবেন কি পরবেন না। আমার কাজ ছিল কফিটা দিয়ে যাওয়া, সেটা দিয়েছি। এখন আমি চলে যাচ্ছি।”

বলেই রিদি দ্রুত কফির কাপটা পাশের টিপয়ে নামিয়ে রেখে ঘর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য পা বাড়াল। কিন্তু দরজার কাছে পৌঁছানোর আগেই শুভ্র বাজপাখির মতো ছোঁ মেরে ওর ডান হাতটা শক্ত করে চেপে ধরল। রিদি কিছু বুঝে ওঠার আগেই শুভ্র ওকে হ্যাঁচকা টানে ঘুরিয়ে এনে একদম দেয়ালের সাথে চেপে ধরল। ওর হাতের বজ্রমুষ্ঠিতে রিদি যন্ত্রণায় কুঁচকে উঠল।

রিদি অবাক চোখে শুভ্রের দিকে তাকাল। শুভ্রের চোখ দুটো রাগে একদম জবা ফুলের মতো লাল হয়ে আছে, বুকটা কামারের হাপরের মতো দ্রুত ওঠানামা করছে। শুভ্রর প্রতিটা তপ্ত নিঃশ্বাস রিদির মুখে এসে আছড়ে পড়ছে, আর ওর ভেজা চুল থেকে টপটপ করে পানি পড়ে রিদির কাঁধ ভিজিয়ে দিচ্ছে। শুভ্রর এমন রুদ্রমূর্তি দেখে রিদি ভেতরে ভেতরে শিউরে উঠল। শুভ্র রিদির চোখের মণির দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে হুঙ্কার দিয়ে বলল।

“তোর সাহস কী করে হয় রাসেলের পাশে গিয়ে বসার? তোকে আমি বলিনি যে ওর থেকে অন্তত দশ হাত দূরে থাকবি?”

রিদি যন্ত্রণায় ভ্রু কুঁচকে ফেলল, কিন্তু দমে গেল না। সে পালটা যুক্তি দিয়ে বিরক্ত গলায় বলল।

“পাশে বসলে সমস্যা কী? আর আমি তো ই…”

রিদির কথা শেষ হওয়ার আগেই শুভ্র ওর গলার স্বর আরও চড়িয়ে কড়া শাসনে বাধা দিয়ে বলল।

“সমস্যা আছে! আমি বলেছি মানে আছে। তুই রাসেলের আশেপাশেও ঘেষবি না, ওর থেকে যোজন যোজন দূরে থাকবি। এটাই আমার শেষ কথা!”

শুভ্রের এমন পাগলামি দেখে রিদি এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেল। মনে মনে ভাবল, আচ্ছা শুভ্র কি কোনোভাবে জেলাস? ওর এই অধিকার খাটানো কি হিংসে থেকে আসছে? মুহূর্তেই রিদির মাথায় একটা শয়তানি বুদ্ধি খেলে গেল। সে শুভ্রকে আরও তাতানোর জন্য তাচ্ছিল্যের সুরে বলল।

“আজব লোক তো আপনি! পাশে বসেছি তো কী হয়েছে? রাসেল ভাইয়ার তো কোনো খারাপ উদ্দেশ্য নেই, উনি তো বেশ সহজ মানুষ।”

কথাটা শোনামাত্র শুভ্রর ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেল। সে রিদির গাল দুটো একহাতে শক্ত করে চেপে ধরে ক্রুর হাসি হেসে বলল।

“বাহ! খুব দেখছি রাসেলের পাশে বসতে ভালো লেগেছে তোর? ওর সঙ্গ খুব এনজয় করছিস, তাই না?”

গালে শুভ্রর আঙুলের চাপে রিদি বেশ ব্যথা পেল, তবুও সে মুখ কুঁচকে জেদি গলায় বলল।

“ভাইয়া, আপনি কিন্তু আমার সাথে খুব খারাপ ব্যবহার করছেন। রাসেল ভাইয়া মানুষ হিসেবে অনেক ভালো, তাহলে অযথা কেন একটা ভালো মানুষের ওপর এত রাগ দেখাচ্ছেন আপনি?”

রিদির মুখে রাসেলের গুণগান শুনে শুভ্রর মাথা একদম বিগড়ে গেল। সে রিদির গাল দুটো আরও জোরে পিষে ধরে প্রায় চিৎকার করে ফেটে পড়ল।

“রাসেল ভালো নাকি খারাপ, সেটা আমার জানার কোনো প্রয়োজন নেই! আমি তোকে যা বলছি শুধু সেটুকুই তোর আইন। মনে রাখবি, আমি ব্যতীত এই দুনিয়ার অন্য সব পুরুষ তোর জন্য নিষিদ্ধ!”

শুভ্রের মুখের ওপর এমন সপাট কথা শুনে রিদি যেন মুহূর্তের জন্য কথা বলার শক্তি হারিয়ে ফেলল। শুভ্রের এই রুদ্রমূর্তি তার কাছে একেবারেই অপরিচিত। কিন্তু এই অদ্ভুত আচরণ কি সত্যিই হিংসে থেকে? ভাবতেই রিদির মনটা এক অজানা খুশিতে ভরে উঠল। সে শুভ্রকে আরও খেপিয়ে তোলার জন্য জেদি গলায় বলল।

“শুনব না আপনার কথা! আমি একশো বার রাসেল ভাইয়ার সাথে কথা বলব। আমাকে শাসন করার আপনি কে? আমার হাসবেন্ড? কেমন হাসবেন্ড যে আজও আমাকে স্ত্রী হিসেবে মেনেই নিতে পারেননি? তাহলে সেই স্ত্রীর ওপর আপনি অধিকার দেখান কোন সাহসে?”

রিদির এই তীক্ষ্ণ কথাগুলো শুভ্রের ধৈর্যের শেষ বাঁধটা চুরমার করে দিল। এতক্ষণ সে নিজেকে কোনোমতে শান্ত রাখার চেষ্টা করছিল, কিন্তু এবার আর পারল না। হাতের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সে সজোরে রিদির গালে একটা থাপ্পড় বসিয়ে দিল। চড়ের ধাক্কায় রিদি ছিটকে গিয়ে দেয়ালের সাথে ধাক্কা খেল। ওর ঠোঁটের কোণ ফেটে নোনা রক্ত গড়িয়ে পড়ল। শুভ্র রিদির চোখের দিকে তাকিয়ে হিংস্র গলায় গর্জে উঠল।

“বুকের পাটা থাকলে রাসেলের আশেপাশে যাস! খুন করে ফেলব তোকে আমি, একদম শেষ করে দেব!”

রিদি গালে হাত দিয়ে ব্যথায় কুঁকড়ে গেলেও হার মানল না। সে চোখের পানি মুছে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলল।

“তো মেরেই ফেলেন না! বারণ করছে কে আপনাকে? মেরে আপদ বিদায় করেন!”

শুভ্র নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে সজোরে দেয়ালের ওপর একটা ঘুসি মারল। দেয়ালের প্লাস্টার যেন খসে পড়ার উপক্রম হলো। সে দাঁতে দাঁত চেপে ফেটে পড়ে চিৎকার করে বলল।

“রিদি, তুই এখনই এখান থেকে যা! আমার মাথা ঠিক নেই, আমি উল্টোপাল্টা কিছু একটা করে ফেলতে পারি। আই সেড গেট আউট ফ্রম হেয়ার!

রিদি আর এক মুহূর্ত সেখানে দাঁড়াল না, অপমানে আর যন্ত্রণায় ভেঙে পড়ে দৌড়ে ঘর থেকে বের হয়ে গেল। শুভ্র দুচোখ শক্ত করে বন্ধ করে দেয়ালের সাথে কপাল ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে রইল। ওর হাতের মুষ্ঠি এতটাই শক্ত যে আঙুলের গিঁটগুলো সাদা হয়ে গেছে। রাগে আর উত্তেজনায় ওর শরীরের প্রতিটি রগ ফুলে উঠছে, যেন এখনই ফেটে যাবে। সারা শরীর থরথর করে কাঁপছে ওর। শুভ্র বিড়বিড় করে নিজের মনেই খ্যাপাটে গলায় বলল।

“বুঝতে পারছি, তুই আমাকে একদিন ঠিকই ধ্বংস করে দিবি! আর তুই সেটা পারবিই, কারণ এই সাইফান শুভ্র চৌধুরীকে ধ্বংস করার ক্ষমতা এই দুনিয়ায় তুই ছাড়া আর কারো সাধ্য নেই।”

রানিং….!

গল্পটা অনেক কষ্টে শরীর খারাপ নিয়ে লিখছি, আশা করি কেউ চুপচাপ থাকবেন না, সবাই রেনপন্স করবেন, 4k রিয়েক্ট চাই আপনাদের কাছে, আশা করি চুপচাপ না থেকে চুরি করে গল্প না পড়ে সাপোর্ট করবেন, আর কেমন হলো জানাবেন, আর কালকে একজন বলছিল চোখের আড়ালে ভালোবাসি থিম এক হতেই পারে সমস্যা নাই, আপুকে বলি আপু থিম কেন একটা শব্দও মিল নেই, না আছে কাহিনির মিল, বিশ্বাস না হলে চোখের আড়ালে ভালোবাসি গল্পটা পইড়া দেইখেন, যদি ১% ও মিল পান তাহলে আমিও লেখিকা না,এইটা চ্যালেঞ্জ, আর যে বলছে সে হিংসায় বলছে, তার প্রমান কি জানো ওই আপু প্রথমে কপি বলছে, তারপর চোখের আড়ালে ভালোবাসি এই গল্পটা আমার গল্প পড়া পাঠিকারাও গল্প পড়ে, আর ওই পাঠিকারাই আপুটাকে বলছে যে চোখের আড়ালে ভালোবাসি গল্পটা পড়ি সবসময় বিশ্বাস না হলে চেক দেন আমার কমেন্ট আছে, যখন চেক দিয়ে দেখে সত্যি সত্যি আছে এবং সেই বলছে একটু ও ০% ও মিল নাই, কোথায় ফারিস চরিত্র আর কোথায় শুভ্রের চরিত্র, তারপর ওই ফালতু আপুটা কি করছে জানেন বলে একটু থিম মিল আছে, আবার যখন আরেক জন পাঠিকা গিয়ে বলছে আমার তো সন্দেহ হচ্ছে আপনি অসম্ভব রকম ভালোবাসি গল্পটা পড়ছেন কিনা, যদি পড়ে থাকতেন এই টুক বলার সাহস থাকতো না,তারপর আবার বলে হালকা মিল, যখন আরেক জন গিয়ে বলছে আমি সোজা বলছি ০% ও মিল নাই, দুইটা গল্পই আমি পড়ছি,তখন ওই আপুটা কি করছে জানেন কমেন্ট ডিলেট করে দিছে তাড়াতাড়ি, যখন ওকে নিয়ে সমালোচনা শরু করছি, তখন গিয়ে দেখি কমেন্ট নাই সব ডিলেট করে ফেলছে, এবং কপি শব্দটা কেটে ইমুজি দিছিল পরে আবার ইমুজি ও কেটে ফেলছে, মানুষের রূপ দেখছেন কি ভাবে বদলায়, যা বলার ভাষা নাই…🙂

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply