Golpo romantic golpo অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোকে

অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায় পর্ব ১৫


অসম্ভবরকমভালোবাসি_তোমায়

লেখিকাসুমিচৌধুরী

পর্ব ১৫

🚫অনুমতি ব্যতীত কপি করা নিষিদ্ধ🚫

সোহান চৌধুরীর রহস্যময় কথার মাথামুণ্ডু কিছুই রিদি বুঝল না। সে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থেকে বলল।
“কী বলছো মামা? আমি তো তোমারই মেয়ে। ছোটবেলা থেকেই তো তোমার মেয়ে হয়েই বড় হয়েছি।”

সোহান চৌধুরী মৃদু হাসলেন, সেই হাসিতে গভীর কোনো সঙ্কল্প লুকিয়ে ছিল। তিনি মাথা নেড়ে বললেন।

“না রে মা, আমি সেই মেয়ে হওয়ার কথা বলিনি। আমি তোকে একেবারে পাকাপাকিভাবে আমাদের বাড়ির মেয়ে করে নিতে চাইছি।”

সোহান চৌধুরীর এই ঘোরালো কথা শুধু রিদি নয়, ওর বাবা ইকবাল এহসানও ঠিক ধরতে পারলেন না। তিনি ভ্রু কুঁচকে অবাক হয়ে বললেন।

“ভাইসাব, আপনি কী বলতে চাইছেন আমি ঠিক বুঝতে পারছি না। একটু পরিষ্কার করে বলবেন কি?”

সোহান চৌধুরী এবার রিদির মাথায় স্নেহের হাত রেখে সরাসরি ইকবাল এহসানের চোখের দিকে তাকিয়ে গম্ভীর গলায় বললেন।

“বলতে চাইছিলাম ইকবাল, তোমার যদি কোনো আপত্তি না থাকে তবে আমি আমার ছেলে শুভ্রের সাথে রিদি মার বিয়ে দিতে চাই।”

মুহূর্তের মধ্যে পুরো ড্রয়িং রুমে যেন একটা বিদ্যুৎ খেলে গেল।রিদি অবাক হয়ে সোহান চৌধুরীর দিকে তাকাল, ঠিক একইভাবে পাথরের মতো জমে গেলেন ইকবাল এহসান। সোহান চৌধুরী আবারও পরিষ্কার গলায় ইকবাল এহসানের উদ্দেশ্যে বললেন।

“অনেক ভেবে দেখলাম ইকবাল, নিজেদের মধ্যে এমন গুণবতী আর আপন মেয়ে থাকতে কেন বাইরে যাব? তাই তোমার বোন আর আমি ঠিক করেছি, রিদির সাথেই শুভ্রের বিয়ে দেব। এতে কি তোমার কোনো আপত্তি আছে?”

ইকবাল এহসান যেন নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছেন না। খুশিতে আর বিস্ময়ে তিনি কী বলবেন ভেবে পাচ্ছিলেন না। ঠিক তখনই মাঝখান থেকে ইমন ফোড়ন কেটে বলে উঠল।

“রাজি হবে না মানে? একশ পার্সেন্ট রাজি হবে! কারণ আমার আপুও তো শুভ্র ভাইকে সেই কবে থেকে ভালোবাসে। যাকে ভালোবাসে তাকে পেতে আবার সমস্যা কী?”

মুহূর্তের মধ্যে ড্রয়িং রুমের সব কটা চোখ ইমনের ওপর গিয়ে স্থির হলো। রিদি লজ্জায় আর ভয়ে যেন মাটির সাথে মিশে যাচ্ছে। তার মনে হচ্ছে কেউ যেন ওর পায়ের তলা থেকে মাটি সরিয়ে নিয়েছে। ইকবাল এহসান ইমনের কথা শুনে থতমত খেয়ে বললেন।

“কী বলছিস এসব?”

ইমন দমবার পাত্র নয়, সে আরও উৎসাহ নিয়ে বলল।

“আরে হ্যাঁ আব্বু! তোমার এই একমাত্র আদরের মেয়ে শুভ্র ব্রো-কে আগে থেকেই ভালোবেসে এসেছে। বিশ্বাস না হলে আপুকেই জিজ্ঞেস করো!”

রিদি পাগলের মতো না-সূচক মাথা নাড়তে যাবে, তার আগেই ইকবাল এহসান গম্ভীর অথচ নরম গলায় রিদির দিকে তাকিয়ে বললেন।

“রিদি, আমি জানি তুই কখনো মিথ্যা বলিস না। এমনকি আমার কাছে কোনো কিছু কখনো বানিয়েও বলিস না। ইমন যা বলছে তা যদি সত্যি হয়, তবে নির্দ্বিধায় বল মা। কোনো সমস্যা নেই।”

রিদি মাথা নিচু করে ফেলল। তার হাত দুটো থরথর করে কাঁপছে। বুকের ভেতরটা যেন ড্রাম পেটাচ্ছে। ঠিক এই চরম সংকটের মুহূর্তে শুভ্রা রিদির একদম গা ঘেঁষে কানে কানে ফিসফিস করে বলল।

“কিরে, সাহস করে বলেই দে! ভালোবাসার মানুষটাকে এভাবে হাতের নাগালে পেতে যাচ্ছিস, এই সুযোগ হাতছাড়া করিস না। এরকম সুযোগ জীবনে বারবার আসে না রে!”

শুভ্রার কথাগুলো রিদির কানে যেন মন্ত্রের মতো কাজ করল। তার ভেতর হঠাৎ এক অদ্ভুত জেদ আর সাহস চেপে বসল। যে মানুষটার জন্য সে বছরের পর বছর মনে মনে কেঁদেছে, আজ তাকে পাওয়ার রাস্তা এতটা পরিষ্কার! রিদি এক মুহূর্ত আর দ্বিধা করল না। বুক ভরে শ্বাস নিয়ে মাথা তুলে সরাসরি ইকবাল এহসানের দিকে তাকিয়ে স্পষ্ট গলায় বলল।

“জ্বি আব্বু… আমি-আমি ভালোবাসি শুভ্র ভাইকে।”

কথাটা বলেই রিদি লজ্জায় আর এক মুহূর্ত সেখানে থাকতে পারল না, এক দৌড়ে নিজের রুমে চলে গেল। ড্রয়িং রুমে তখন হাসির রোল পড়ল। ইকবাল এহসান হাসতে হাসতে সোহান চৌধুরীর দিকে তাকিয়ে বললেন।

“ভাইসাব, যেখানে আমার মেয়েই আগে থেকে আপনার বাড়ির বউ হওয়ার স্বপ্ন দেখছে, সেখানে আমি কীভাবে না বলি? তা ছাড়া শুভ্রের মতো এমন হীরা জহরত ছেলে জামাই হিসেবে পেতে ভাগ্য লাগে। আমি এই প্রস্তাবে ভীষণ খুশি!”


দেখতে দেখতে শুভ্র আর রিদির বিয়ে হয়ে গেল। রাত এখন গভীর। রিদি লাল টকটকে বেনারসি শাড়ি পরে ফুলসজ্জার খাটে জড়োসড়ো হয়ে বসে আছে। এটা শুভ্রের রুম। চারদিকে রজনীগন্ধার তীব্র ঘ্রাণ, কিন্তু রিদির সারা শরীর থরথর করে কাঁপছে। শুভ্র তাকে পছন্দ করে না, এটা জেনেও সে জেদ করে বিয়েটা করল। শুভ্র কি তাকে আদেও মেনে নেবে? ভাবতেই রিদির কলিজা শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাচ্ছে।

হঠাৎ দরজা খোলার শব্দ হলো। রিদি ভয়ে চোখ তুলে তাকিয়ে দেখল শুভ্র ভেতরে ঢুকছে। পরনে বিয়ের জমকালো শেরওয়ানি, চুলগুলো কিছুটা আলুথালু। শুভ্রকে দেখেই রিদি দ্রুত চোখ নামিয়ে নিল। সে ভাবল, এই বুঝি শুভ্র তেড়ে এসে ওর গালে ঠাস ঠাস করে কয়েকটা থাপ্পড় বসিয়ে বলবে “তোর সাহস কী করে হয় আমাকে বিয়ে করার?”

কিন্তু রিদিকে ভুল প্রমাণ করে দিয়ে শুভ্র একদম শান্ত ভঙ্গিতে রিদির পাশে খাটে বসল। তারপর খুব ধীর গলায় বলল।

“ভয় পাচ্ছিস আমাকে?”

শুভ্রের এমন কোমল কণ্ঠ শুনে রিদির কলিজা ছ্যাত করে উঠল। সে একটু সরে গিয়ে কাঁপা কাঁপা গলায় বলল।

“না… না, ভয় পাব কেন আপনাকে? আপনি কি ভূত নাকি যে ভয় পাবো।”

শুভ্র এবার রিদির চোখের দিকে তাকিয়ে এক বিচিত্র হাসি হাসল। তারপর নিচু স্বরে বলল।

“ওহ, ভয় না পেলে তো আরও ভালো! তাহলে আমি আরও খুশি মনে বাসর করতে পারব।”

শুভ্রের মুখে এমন কথা শুনে রিদি যেন আকাশ থেকে পড়ল। সে তোতলামি করে বলল।

“মা-মানে? কী বলছেন আপনি? বাসর করবেন মানে?”

শুভ্র এবার রিদির একদম গা ঘেঁষে বসল। ওর শরীরের তপ্ত নিঃশ্বাস রিদির ঘাড়ে লাগছে। শুভ্র রিদির কানের কাছে ফিসফিস করে বলল।

“বাসর মানে বুঝিস না? এই যে আমার রুমে লাল শাড়ি পরে বসে আছিস, এই রাতটাই তো বাসর রাত। আজ তোকে অনেক আদর দেব, অনেক সোহাগ দেব।”

রিদি এবার ভয়ে খাট থেকে পেছাতে পেছাতে একেবারে কোণায় চলে গেল। দেয়ালের সাথে পিঠ ঠেকিয়ে দিয়ে সে কাঁপা গলায় বলল।

“শু-শুভ্র ভাই, এসব না করলে কি হয় না?”

শুভ্র এবার রিদির দিকে আরও এগোতে এগোতে বলল।

“তা কীভাবে হয় জান? এই রাতটা নিয়ে আমার কত স্বপ্ন! বউকে আদরে আদরে ভরিয়ে দেব। এখন তুই-ই যখন আমার বউ, তখন তোকেই আজ সারা রাত মন ভরে আদর করব।”

কথাটা বলেই শুভ্র ঝড়ের বেগে রিদির কাঁধ দুটো খপ করে ধরে ফেলল। রিদি এবার প্রায় কেঁদেই দিল।

“শুভ্র ভাই, প্লিজ ছেড়ে দিন! আমার খুব ভয় করছে!”

কিন্তু শুভ্র আজ যেন কোনো কথাই শুনবে না। সে রিদির কথাকে পাত্তা না দিয়ে এক ঝটকায় ওকে কাঁধ ধরে শুইয়ে দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ল রিদির ওপর। রিদি আতঙ্কে আর ভয়ে গগনবিদারী এক চিৎকার দিল।

“আবআআআআআআআ!”

এক ঝটকায় ধড়ফড়িয়ে উঠে বসল রিদি। বুকটা কামারশালের হাপরের মতো ওঠানামা করছে, কপাল বেয়ে ঘাম ঝরছে দরদর করে। সে বড় বড় শ্বাস নিতে নিতে চারদিকে তাকাল। জানালার পর্দা চিরে সকালের এক চিলতে রোদ এসে পড়েছে ওর বিছানায়। বাইরে পাখির কিচিরমিচির শোনা যাচ্ছে।

রিদি হতভম্ব হয়ে কয়েক সেকেন্ড স্তব্ধ হয়ে বসে রইল। চারপাশটা ভালো করে পর্যবেক্ষণ করে দেখল সে তার নিজের রুমেই আছে। অর্থাৎ, এতক্ষণ যা হলো সেই বিয়ে, সেই ভয়ংকর বাসর রাত সবই ছিল একটা দুঃস্বপ্ন! কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই এর।ভাবতেই রিদি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। হাত দিয়ে কপালের ঘাম মুছতে মুছতে নিজের মনেই বিড়বিড় করে বলল।

“উফ! কী ভয়ংকর স্বপ্ন! এই শুভ্র ভাই তো স্বপ্নেও আমাকে শান্তিতে থাকতে দিবে না!”

ঠিক তখনি রিদির ফোনটা কর্কশ শব্দে বেজে উঠল। রিদি ধড়ফড় করে ফোনটা হাতে নিয়ে দেখল শুভ্রা কল দিয়েছে। কলটা রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে শুভ্রার ঝঝাঁলো গলা ভেসে এল।

“কিরে! এখনো আসিস না কেন? কলেজে কি আজ আসবি না নাকি?”

শুভ্রার কথা শুনে রিদি ফোনের স্ক্রিনে সময়ের দিকে তাকাল। ৯:৪৮ বেজে গেছে! রিদির চোখ তো চড়কগাছ। কখন যে বেলা এত গড়িয়ে গেল সে টেরই পায়নি। কাল রাতের ওই বিটকেলে স্বপ্নের চক্করে পড়ে সব ওলটপালট হয়ে গেছে। সে তাড়াহুড়ো করে শুভ্রাকে বলল।

“আমি দশ মিনিটের মধ্যে আসছি, তুই দাঁড়া!”

বলেই ফোনটা বিছানায় ছুড়ে ফেলে এক দৌড়ে ওয়াশরুমে ঢুকে গেল। কোনোমতে নাকে-মুখে পানি দিয়ে দ্রুত রেডি হয়ে না খেয়েই বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ল সে। পেছন থেকে রাবেয়া এহসান অনেকক্ষণ ডাকলেন নাস্তা করার জন্য, কিন্তু রিদি যেন তখন হাওয়ার বেগে ছুটছে, কিছুই কানে গেল না তার।

রিদি যখন হন্তদন্ত হয়ে কলেজে পৌঁছাল, তখন সে পুরো ঘেমে নেয়ে একাকার। সোজা নিজের ক্লাসের দরজার সামনে এসেই সে পাথরের মতো থমকে গেল। ক্লাসের ভেতরে শুভ্র! শুভ্র সামনের দিকে তাকিয়ে অত্যন্ত গম্ভীর মুখে লেকচার দিচ্ছে।

শুভ্রকে সামনাসামনি দেখামাত্রই রিদির সেই রাতের স্বপ্নের কথা হুবহু মনে পড়ে গেল সেই লাল শাড়ি, শুভ্রর সেই বাসর রাতের কথা, আর সেই ঝাঁপিয়ে পড়া! রিদি নিজের কপালে নিজেই একটা থাপ্পড় মারল। ইশ! শুভ্র ভাইরে সে স্বপ্নে কী না কী বানিয়ে ফেলছিল!রিদি কয়েক সেকেন্ড নিজেকে সামলে নিল। বুক ভরে একটা লম্বা শ্বাস নিয়ে সব আজেবাজে চিন্তা ঝেড়ে ফেলে একদম স্বাভাবিক হওয়ার অভিনয় করল। তারপর দরজার দিকে এক কদম এগিয়ে বিনীতভাবে বলল।

“মে আই কাম ইন স্যার?”

শুভ্র লেকচার থামিয়ে ধীরস্থিরভাবে দরজার দিকে তাকাল। শুভ্রর সেই তীক্ষ্ণ চাউনি রিদির শরীরের ভেতর দিয়ে যেন তীরের মতো বিঁধে গেল।শুভ্র বাম হাতের কবজিটা উল্টে ঘড়ির দিকে এক পলক তাকাল। তার চোয়াল শক্ত হয়ে এল। ক্লাসের পিনপতন নীরবতার মাঝে তার গম্ভীর কণ্ঠস্বর প্রতিধ্বনিত হলো।

“কয়টা বাজে?”

রিদি কোনো উত্তর দিতে পারল না, স্রেফ মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইল। সে জানে সে দেরি করে এসেছে। শুভ্র রিদির নীরবতা দেখে এবার আরও কঠোর গলায় ধমক দিয়ে বলল।

“মিস তাসনিন রিদিকা, আমি কি আপনাকে কোনো প্রশ্ন করেছি? কানে যায়নি আপনার?”

রিদি এবার মিনমিন করে অপরাধীর মতো বলল।

“সরি স্যার, আজ একটু দেরি হয়ে গেছে।”

শুভ্র হাতের মার্কারটা ডেস্কে সজোরে রেখে সোজা হয়ে দাঁড়াল। একজন প্রফেশনাল লেকচারের মতো তীক্ষ্ণ আর কর্তৃত্বপূর্ণ গলায় বলল।

“লেকচার শুরু হওয়ার বিশ মিনিট পর ক্লাসে আসাটা আপনার কাছে স্রেফ ‘একটু দেরি’? ডিসিপ্লিন সম্পর্কে আপনার ধারণা কি এতটাই নড়বড়ে? দরজার ওখানেই কান ধরে দাঁড়িয়ে থাকুন।”

রিদি অপমানে আর বিস্ময়ে হাঁ হয়ে গেল। ক্লাসের সবার সামনে আবার এমন এমন শাস্তি! সে আমতা আমতা করে প্রতিবাদ জানাতে চাইল।

“স্যার, বললাম তো দেরি হয়ে গেছে, মানে পরিস্থিতিটা…”

শুভ্র হাত তুলে তাকে থামিয়ে দিল। তার চোখেমুখে কোনো দয়া বা প্রশ্রয় নেই। অত্যন্ত রুক্ষ স্বরে সে আদেশ দিল।

“আই অ্যাম নট ইন্টারেস্টেড ইন ইওর চাইল্ডিশ এক্সকিউজেস। আপনার ব্যক্তিগত গাফিলতি আমার ক্লাসে চলবে না। দিস ইজ এ রেপুটেড মডেল কলেজ, নট এ কিন্ডারগার্টেন। আই সেড হোল্ড ইওর ইয়ার্স অ্যান্ড স্ট্যান্ড দেয়ার। রাইট নাউ!”

রিদি বুঝল, আজ শুভ্র কোনো ছাড় দেবে না। স্বপ্নের সেই রোমান্টিক মানুষটা আর বাস্তবের এই জল্লাদ টিচারের মধ্যে আসমান-জমিন তফাত। রিদি আর কথা না বাড়িয়ে সবার সামনে মাথা নিচু করে কান ধরল।লজ্জায় আর রাগে তার গাল দুটো লাল হয়ে ওঠল।

ক্লাস শেষ হওয়ার সাথে সাথেই শুভ্র ডায়েরিটা বগলে চেপে গটগট করে বেরিয়ে গেল। একবারও পেছনের দিকে ফিরে তাকাল না। রিদি যেন খাঁচা থেকে ছাড়া পাওয়া পাখির মতো ধপ করে শুভ্রার পাশে গিয়ে বসে পড়ল। তার মুখটা রাগে লাল হয়ে আছে। ফিসফিস করে সে শুভ্রকে যাচ্ছেতাই গালি দিতে শুরু করল।

“অমানুষ একটা! কী ভেবেছে ও নিজেকে? সামান্য পাঁচ-দশ মিনিটের জন্য ক্লাসের সামনে সবার আগে কান ধরিয়ে রাখল! খবিশ কোথাকার! ভালোবাসি বলে যা ইচ্ছে তাই শাস্তি দেই, দেখিস আমিও একদিন শাস্তি দিমু সেদিন কাঁদবি শা*লা আমার জন্য।”

এদিকে করিডোর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে শুভ্রর ঠোঁটে এক চিলতে হাসি ফুটে উঠল। রিদির ওই অসহায় মুখ আর রাগী চাহনিটা মনে পড়তেই তার কঠোরতা যেন এক নিমিষেই কর্পূরের মতো উড়ে গেল। শুভ্র মৃদু হেসে বিড়বিড় করল।

“পাগলি একটা!”

কিছুক্ষণ পর ক্লাসে প্রিন্সিপাল স্যার ঢুকলেন। পিনপতন নীরবতার মাঝে তিনি ঘোষণা করলেন যে, প্রতি বছরের মতো এবারও কলেজের’বার্ষিক সাংস্কৃতিক ও বসন্ত উৎসব’ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সপ্তাহব্যাপী এই উৎসবে নাচ, গান, নাটক আর আবৃত্তি থেকে শুরু করে নানা ধরনের প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। প্রিন্সিপাল স্যার বললেন।

“এই উৎসব আমাদের কলেজের ঐতিহ্য। আমি চাই প্রত্যেকে কোনো না কোনো ইভেন্টে অংশগ্রহণ করো। কার কী প্রতিভা আছে সেটা দেখানোর এটাই সুযোগ। মনিটর, সবার নাম একটা লিস্টে লিখে আজ বিকেলের মধ্যে আমার টেবিলে দিয়ে দাও।”

প্রিন্সিপাল স্যার চলে যেতেই ক্লাসে শোরগোল শুরু হয়ে গেল। শুভ্রা রিদির কনুইতে একটা ধাক্কা দিয়ে ফিসফিস করে বলল।

“কিরে রিদি, তুই তো খুব সুন্দর গান করিস। এবার কিন্তু নাম লেখাতে হবে। কে জানে, হয়তো বিচারকের আসনে শুভ্র ভাইও থাকতে পারে!”

শুভ্রর নাম শুনেই রিদি আবার ক্ষেপে গেল।

“ও যদি বিচারক হয়, তবে আমি স্টেজে উঠে গান গাইব না, বরং ওর ওপর দিয়ে স্টিম রোলার চালিয়ে দেব!”

শুভ্রা রিদির রাগী চেহারার দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে টিপ্পনী কেটে বলল।

“ইস! আমার ভাইয়ের ওপর তোর এত রাগ কেন রে? ভাইয়া তো শুধু তোকে ডিসিপ্লিন শেখাতে চেয়েছিল।”

রিদি এবার যেন ফেটে পড়ল। হাত-পা নেড়ে চোখমুখ কুঁচকে সে রীতিমতো শুভ্রর নামে নালিশ করতে শুরু করল।

“দেখিস না? খালি উঠতে-বসতে ধমক! তার ওপর সামান্য একটু ভুলের জন্য ক্লাসের সামনে ওভাবে শাস্তি দিতেও এক সেকেন্ড বুক কাঁপল না ওর! আরে বাবা, ওকে ভুল করে টিচার না বানিয়ে যদি আদালতের জজ বানানো হতো, তবে তো রক্ষে ছিল না। অপরাধীরা আর জন্মেও মনে হয় এই পৃথিবী চাক্ষুষ করতে পারত না! জেলের ঘানি টানতে টানতে হাড়গোড় সব পপেট হয়ে যেত! আর ওর সামনে কেউ যদি ভুলেও টু শব্দ করত, তবে তো নির্ঘাত ফাঁসির আগে চারবার কান ধরিয়ে ওঠবস করাত!”

রিদির এই কথা বলার স্টাইল দেখে শুভ্রা হেসেই অস্থির। রিদি তখনও থামছে না, গরগর করতে করতে বলল।

“তোর ভাই তো মানুষ না, ও হলো জ্যান্ত একখানা ডিসিপ্লিন মেশিন! চার্জ ফুরিয়ে গেলে মনে হয় ধমক দিয়ে চার্জ বাড়িয়ে নেয়। জাস্ট ভাব, জজ সাহেবের চেয়ারে বসে ও গম্ভীর মুখে বলছে অর্ডার অর্ডার! আসামি কেন দশ মিনিট দেরিতে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছে? কাঠগড়াতেই ওকে কান ধরিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখা হোক!’ উফ! কী জঘন্য চিন্তা!”

রানিং…!

ইহা এই ভন্ডামিটাই আমি কমেন্টে বলেছিলাম সামনে মজা আছে😁😁,
কেউ মন খারাপ করিও না বিয়ে হবে তোমরা যখন বুড়া বুড়ি হয়ে যাবে তখন বিয়ে হবে🐸

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply