অসম্ভবরকমভালোবাসি_তোমায়
লেখিকাসুমিচৌধুরী
পর্ব ১৪
🚫অনুমতি ব্যতীত কপি করা নিষিদ্ধ🚫
ড্রয়িং রুমে সোফায় শুভ্র আর ইমনকে পাশাপাশি বসে থাকতে দেখে রিদি যেন আকাশ থেকে পড়ল। এই তো কিছুক্ষণ আগে এখানে শুধু ইমন ছিল, হঠাৎ শুভ্র কোত্থেকে আসল? ঠিক তখনি রান্নাঘর থেকে রাবেয়া এহসানের কণ্ঠ ভেসে এল, তিনি চেঁচিয়ে বললেন।
“রিদি, তোর শুভ্র ভাইকে একটু ওয়াশরুমে নিয়ে যা। ছেলেটা অনেক ক্লান্ত, আমি এখানে কিছু কাজ করছি।”
রিদি নিজের ভেতরে সবটুকু সাহস সঞ্চয় করে শুভ্রের সামনে এসে দাঁড়িয়ে আমতা আমতা করে বলল।
“স্যার… ইয়ে না মানে, শুভ্র ভাই… আপনি?”
শুভ্র সোফায় আয়েশ করে হেলান দিয়ে বসে তার সেই চেনা গম্ভীর গলায় বলল।
“কেনো, আমি কি আসতে পারিনা জরিনা সুন্দরীদের বাড়িতে?”
পাশ থেকে ইমন অবাক হয়ে বলল।
“জরিনা সুন্দরী মানে কী বলছো ব্রো?”
শুভ্র এবার বাঁকা হেসে বলল।
“চল ইমন, তোকে একটা গল্প শুনাই। একটা স্যার একটা মেয়েকে তার নাম জিজ্ঞেস করল, আপনার নাম কী? মেয়েটা উত্তরে বলল, জ্বি স্যার আমার নাম জরিনা সুন্দরী…”
বাকিটুকু বলার আগেই ইমন হাসতে হাসতে সোফায় গড়াগড়ি খেতে লাগল। রিদি রাগে আর অপমানে কটমট করে শুভ্রের দিকে তাকাল। ইমন হাসতে হাসতে হাঁপিয়ে উঠে বলল।
“ব্রো, আজকাল নিজের নামও কেউ এমন করে বলতে পারে? আমার জানা ছিল না তো!”
শুভ্র এবার রিদির লাল হয়ে যাওয়া মুখের দিকে তাকিয়ে রহস্যময় সুরে বলল।
“জানতে চাইবি না মেয়েটা কে?”
ইমন কৌতূহল নিয়ে বলল।
“বলো, তার সাথে আমি একটু দেখা করব। মিস জরিনা সুন্দরী!”
শুভ্র তখন রিদির রাগী চোখের দিকে সরাসরি তাকিয়ে শান্ত গলায় বলল।
“এই যে সামনে দাঁড়িয়ে আছে তোর একমাত্র আদরের বোন, মিস জরিনা সুন্দরী।”
ইমন চোখ কপালে তুলে চরম বিস্ময় নিয়ে বলল।
“তার মানে তুমি এতক্ষণ এই বাঁদর আপুর গল্পই করছিলে!”
শুভ্র ধীরস্থিরভাবে মাথা নাড়ল। ইমন এবার রিদির দিকে ফিরে এক গাল হেসে পৈশাচিক আনন্দ নিয়ে বলল।
“বাহ বাহ! মিস জরিনা সুন্দরী আপি, কী চমৎকার নাম! তো জরিনা না দিয়ে যদি সুখিনা সুন্দরী বলতে, তবে মনে হয় আরও বেশি মানাইত, তাই না ব্রো?”
রিদি এবার ধৈর্যের বাঁধ হারিয়ে সোফার একটা কুশন টেনে নিয়ে ইমনের দিকে সজোরে ছুড়ে মারল। দাঁতে দাঁত চেপে চেঁচিয়ে বলল।
“বেয়াদব হয়ে গিয়েছিস? নিজের বড় বোনের সাথে ইয়ার্কি মারিস!”
শুভ্র এবার সোজা হয়ে বসল। তার কণ্ঠস্বর মুহূর্তেই বরফের মতো শীতল আর গম্ভীর হয়ে গেল। সে রিদির চোখের দিকে তাকিয়ে তীক্ষ্ণ গলায় বলল।
“ইমন যথেষ্ট ভদ্র আছে, অন্তত তোর মতো না যে ক্লাসের স্যারের সাথে এমন সস্তা মজা করিস। আজ ফুপা আসুক, তোর সব কুকীর্তি আর বেয়াদবির কথা আমি ফুপার কাছে বলব।”
শুভ্রর কথা শুনে রিদির কলিজা যেন শুকিয়ে এক ফোঁটা হয়ে গেল। মুখটা মুহূর্তেই শ্রাবণের মেঘলা রাতের মতো অন্ধকার হয়ে এল। শুভ্র যদি সত্যিই আব্বুর কাছে সব বলে দেয়, তবে তো আজ কপালে বড় দুঃখ আছে! রিদি একদম মিইয়ে গিয়ে ভয়ে ভয়ে আমতা আমতা করে বলল।
“ভা-ভাইয়া, বিশ্বাস করেন আমি তো জাস্ট একটু মজা করেছিলাম।”
রিদির করুণ মুখটা দেখে শুভ্র মনে মনে বেশ মজা পেল। কিন্তু সে নিজের হাসি চেপে মুখটা আরও পাথরের মতো গম্ভীর করে বলল।
“মজা? সিরিয়াসলি ক্লাসের স্যারের সাথে এমন মজা করিস? তোর এই বেয়াদবিটা ফুপাকে না বলে আমি শান্তি পাব না।”
রিদি এবার ভয়ে কাঁপতে শুরু করল। আব্বুর রাগের কথা মনে পড়তেই সে বুক ধকধকানি নিয়ে শুভ্রের দিকে তাকিয়ে মিনমিন করে বলল।
“প্লিজ ভাই-ইয়া, আব্বুকে কিছু বলবেন না। বিশ্বাস করেন, আমি আর কখনো এমন করমু না।”
শুভ্র এবার ঠোঁটের কোণে একটা রহস্যময় হাসি ফুটিয়ে তুলল। বাঁকা চোখে তাকিয়ে বলল।
“বলব না? তা এতে আমার লাভ কী? শুনলাম ইমন নাকি তোর কাছ থেকে এক হাজার টাকা খসিয়েছে। তো, আমি কী পাব?”
রিদি চোখ কপালে তুলে অস্ফুট স্বরে বলল।
“কীহ! ইমন আপনাকে সব বলে দিয়েছে?”
শুভ্র আয়েশ করে বসে বলল।
“হুম, এখন বল আমি কী পাব?”
রিদি এবার ইমনের দিকে রাগী চোখে তাকাল। মনে মনে যেন ওকে চিবিয়ে খাচ্ছে। ইমন দাঁত বের করে হেসে বলল।
“কীহ! আমার দিকে ওভাবে তাকাও কেন? কিছুই করতে পারবে না। তোমার দুইটা গোপন সত্য আমি জেনে গেছি। এখনকার কথাটা ব্রো না বললেও আমি বলে দেব যে তুমি ক্লাসের স্যারের সাথে সস্তা মজা করো।”
রিদি বুঝল, আজ সে গর্তে পড়েছে তো পড়েছেই। আস্ত একটা কুমিরের মুখে পা দিয়ে ফেলেছে সে। কেন যে নাম নিয়ে মজাটা করতে গেল! রিদি এবার নিরুপায় হয়ে শুভ্রের দিকে তাকিয়ে বলল।
“আচ্ছা বলেন, কী লাগবে আপনার?”
শুভ্র ইমনের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বলল।
“বল তো ইমন, ওর কাছ থেকে কী নেওয়া যায়?”
ইমন এবার শয়তানি হাসি হেসে মোক্ষম বুদ্ধিটা দিল।
“ব্রো, তুমি তো অনেক ক্লান্ত। নিশ্চয়ই শরীরটা মেজমেজ করছে। তো আপুকে দিয়ে পা টেপাও আর চুল টানাও। দেখবে খুব আরাম পাবে। এর থেকে বড় শাস্তি আর রিদি আপুর জন্য বড় অপমান আর কিছু হয় না!”
রিদির চোখ কপালে উঠে গেল। ইমনের এমন বাঁকা বুদ্ধি আর শুভ্রের প্রশ্রয় দেখে সে যেন নিজের কানকেও বিশ্বাস করতে পারছে না। শুভ্র সোফায় আরও আয়েশ করে হেলান দিয়ে বসল। তারপর ইমনের দিকে তাকিয়ে ধূর্ত হাসিতে বলল।
“তা খারাপ বলিস নাই তুই। যদিও কারো বডি টাচ করা আমার একদম পছন্দ না, তবে তুই যেহেতু বলেছিস আরাম পাওয়া যায়, একবার ট্রাই করে দেখি কেমন লাগে?”
বলেই শুভ্র সামনের সেন্টার টেবিলের ওপর আয়েশ করে পা দু’টো তুলে দিল। তারপর রিদির দিকে আড়চোখে তাকিয়ে হুকুমের সুরে বলল।
“মিস জরিনা সুন্দরী, শুনলেনই তো আপনার ভাই কী বলল? সো, দেরি না করে তাড়াতাড়ি পা টিপতে শুরু করেন তো।”
রিদি বুঝল এখন কথা বাড়িয়ে কোনো লাভ নেই। এই দুই ভাই মিলে আজ ওকে কোণঠাসা করে ফেলেছে। অভিমানে আর রাগে রিদির চোখ ফেটে জল আসতে চাইল, কিন্তু নিরুপায় হয়ে সে ফ্লোরে হাঁটু গেড়ে বসল। কাঁপা কাঁপা হাতে শুভ্রের শক্ত পায়ের ওপর হাত রাখল সে। অতি অনিচ্ছায় শুভ্রের পা টিপতে লাগল রিদি। শুভ্র ধীরে ধীরে চোখ বন্ধ করে ফেলল, যেন রিদির হাতের স্পর্শে সত্যিই কোনো আরাম বা অন্য কোনো অনুভূতি খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করছে। ড্রয়িং রুমে এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতা নেমে এল।
হঠাৎ করেই শুভ্র যেন বাস্তবে ফিরে এল। সে এক ঝটকায় পা সরিয়ে নিয়ে সোফা ছেড়ে সটান দাঁড়িয়ে পড়ল। রিদির দিকে অগ্নিদৃষ্টিতে তাকিয়ে রুক্ষ গলায় বলল।
“হয়েছে, আর পা টিপতে হবে না। তবে মনে রাখিস রিদি, এরপর যদি আর কখনো এমন বেয়াদবি করিস, তবে ফুপাকে বলতে হবে না আমি নিজেই তোকে চড়িয়ে তোর সব ক’টা দাঁত ফেলে দেব।”
কথাটা বলেই শুভ্র আর এক মুহূর্ত দাঁড়াল না। গটগট করে ড্রয়িং রুম পেরিয়ে নিজেই ওয়াশরুমে চলে গেল। রিদি ফ্লোরে বসেই স্তম্ভিত হয়ে ওর যাওয়ার পথের দিকে তাকিয়ে রইল।
“বস, ভালো করে খবর নিয়েছি মেয়েটার।”
নির্ভান হাতের ফোন টিপা থামিয়ে বরফশীতল গলায় বলল।
“বল?”
গার্ড মাথা নিচু করে বলতে শুরু করল।
“বস, মেয়েটার পুরো নাম তাসনিন রিদিকা। বাবা ইকবাল এহসান, মা রাবেয়া এহসান। ছোট ভাই ইমন। তাসনিন রিদিকা বর্তমানে ঢাকা রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ ইন্টার ফার্স্ট ইয়ারে পড়ছে।”
নির্ভান শান্তভাবে শুনল, তার চোখেমুখে কোনো ভাবান্তর নেই। সে কেবল সংক্ষেপে বলল।
“ঠিক আছে, তুই এখন যা।”
গার্ড চলে যেতেই নির্ভান সোফা থেকে উঠে ধীর পায়ে ব্যালকনিতে এল। দূরে অন্ধকার আকাশের দিকে তাকিয়ে এক রহস্যময় হাসি ফুটল তার ঠোঁটে। সে বিড়বিড় করে নিজেকেই বলল।
“তাসনিন রিদিকা আপনাকে মারার আগে দুই চোখ ভরে একটু দেখার আকাশ সমান ইচ্ছে জেগেছে আমার। আপনি কোন খেতের মুলা যে এই আরহাম খান নির্ভানের হার্টবিট কাঁপিয়ে দেন!”
কথাটা বলতেই নির্ভানের চোখ দুটো পাথরের মতো শক্ত হয়ে গেল। চোয়াল শক্ত করে সে দ্রুত পায়ে বাইরে সুইমিংপুলের সামনে এসে দাঁড়াল। সেখানে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা গার্ডদের সামনে যমের মতো দাঁড়িয়ে সে গর্জে উঠে বলল।
“তিন দিনের মধ্যে আমার ওই মেয়েটাকে চাই! কীভাবে আনবি, কোত্থেকে আনবি তা আমি জানি না। তবে যদি ওই মেয়ে না আসে, তবে তোদের লাশ যাবে কবরে এটা মাথায় রাখিস।”
নির্ভান একটু থেমে রক্তচক্ষু নিয়ে সবার দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে বলল।
“আই ওয়ান্ট হার ইন থ্রি ডেজ, আদারওয়াইজ আই উইল কিল এভরি ওয়ান অফ ইউ! ডু ইউ আন্ডারস্ট্যান্ড?”
রাতের ডিনার সেরে শুভ্র বেশিক্ষণ থাকল না। ইকবাল এহসান আর রাবেয়া এহসানের সাথে কিছুক্ষণ কথা বলে সে বিদায় নিল। ইকবাল এহসান তাকে থেকে যাওয়ার জন্য বেশ জোরাজুরি করেছিলেন, কিন্তু শুভ্র তার সেই চিরচেনা গাম্ভীর্য নিয়ে জানাল তার জরুরি কাজ আছে। রিদি দূর থেকে দেখল শুভ্র একবারের জন্যও তার দিকে ফিরে তাকাল না। মনটা এক নিমেষেই বিষণ্ণতায় ভরে গেল ওর। নিজের রুমে এসে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল সে মানুষটা কি কখনোই তাকে বুঝবে না? একরাশ হতাশা নিয়ে বিছানায় গা এলিয়ে দিতেই কখন যে ঘুমের রাজ্যে তলিয়ে গেল, টেরও পেল না।
পরদিন সকালে রিদির ঘুম ভাঙল পাখির কিচিরমিচির আর জানলার ফাঁক দিয়ে আসা কড়া রোদে। চোখ কচলাতে কচলাতে আড়মোড়া ভেঙে ফ্রেশ হয়ে নিল সে। মেজাজটা আজ বেশ ফুরফুরে। গুনগুন করে গান গাইতে গাইতে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামছিল রিদি। কিন্তু ড্রয়িং রুমে তাকাতেই তার পা দুটো যেন মেঝেতে গেঁথে গেল!
সে দেখল ড্রয়িং রুমে রীতিমতো মেলা বসেছে। তার বাবা-মায়ের সাথে গম্ভীর মুখে বসে আছেন মামা সোহান চৌধুরী আর মামি সাহেরা চৌধুরী। আর তাদের পাশেই চঞ্চল ভঙ্গিতে বসে আছে শুভ্রা। শুভ্রা রিদিকে দেখা মাত্রই একগাল হেসে দৌড়ে এল।
“কিরে মহারানী! তোর কি এখন ঘুম ভাঙল? সূর্য তো মাথার ওপর উঠে গেছে!”
রিদি বিস্ময় নিয়ে ড্রয়িং রুমের দিকে ইশারা করে বলল।
“তোরা… তোরা কখন এলি?”
“সকাল সকালই চলে এসেছি। অনেক বড় সারপ্রাইজ আছে তোর জন্য!”
ঠিক তখনি সোহান চৌধুরী বেশ ভারিক্কি গলায় রিদিকে ডাক দিলেন।
“রিদি মা, এদিকে আয় তো!”
রিদি একটু ঘাবড়ে গেল। সবার মুখ কেন জানি আজ অন্যরকম লাগছে। সে ধীর পায়ে এগিয়ে গিয়ে সোহান চৌধুরীর সামনে দাঁড়িয়ে মাথা নিচু করে বলল।
“আসসালামু আলাইকুম মামা।”
সোহান চৌধুরী স্নেহের হাসিতে বললেন।
“ওয়ালাইকুম আসসালাম। আয় মা, আমার পাশে এসে বোস।”
রিদি গুটিগুটি পায়ে গিয়ে সোহান চৌধুরীর পাশে সোফায় বসল। সোহান চৌধুরী পরম মমতায় রিদির মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন। সারা ড্রয়িং রুমে তখন পিনপতন নীরবতা। সবার উৎসুক চোখের সামনে তিনি হঠাৎ রিদির চোখের দিকে তাকিয়ে নরম গলায় প্রশ্ন করলেন।
“আমার মেয়ে হবি?।”
রানিং…!
আজকেও গল্প দিলাম আশা করি সবার সাপোর্ট পাবো, আর আমার গল্প নিয়ে আলোচনা করতে আমার গ্রুপে এড হন সবাই।
Share On:
TAGS: অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোকে, সুমি চৌধুরী
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোকে পর্ব ২
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৮২
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৮৭
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৬২
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৭৫
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৮৯(সমাপ্ত)
-
অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোকে গল্পের লিংক
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৬০
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৫৮
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৭৩