অবাধ্য_হৃৎস্পন্দন (৫৫)
সোফিয়া_সাফা
আজ ফুলের ঘুম ভাঙল সকাল আটটায়। সে ফ্রেশ হয়ে এসে সিদ্ধান্ত নিল আজ ভার্সিটিতে যাবে। যদিও কিছুদিন আগে ফুল ভেবেছিল উদ্যানকে বলে ভার্সিটি চেঞ্জ করে নেবে কিন্তু মেহেক তাকে আশ্বাস দিয়ে বলেছে যে আবেশকে তার ব্যাপারে সে কিছুই বলবে না। তাই ফুল আর ভার্সিটি চেঞ্জ করার প্রয়োজন বোধ করেনি। খানজাদা নিবাস থেকে ফেরার পর মাঝেমধ্যেই সে ভার্সিটির চত্বরে উঁকিঝুঁকি মেরে এসেছে। প্রতিদিনই তাকে নিয়ে গিয়েছিল লুহান।
রুম থেকে বের হয়ে ফুল প্রথমেই এলো লুহানের রুমের সামনে। প্রায় দু মিনিট ননস্টপ নক করার পর লুহান জম্বির মতো টলতে টলতে হেঁটে এসে দরজা খুলে দিল। চোখ কচলে ফুলকে দেখেই একটা দীর্ঘ হাই তুলে সে শুধাল, “কী ব্যাপার?”
ফুল মিনমিনিয়ে বলল, “ভার্সিটিতে যাবো, লুহান স্যার। তৈরি হয়ে নিন ঝটপট।”
লুহানের চোখমুখ কুচকে গেল, “তোমাকে বলেছি ফুল, যেদিন ভার্সিটিতে যাবে তার আগের দিনই আমাকে বলে রাখবে।”
“আসলে গতকালও ভাবিনি যে যাবো। অবশ্য বৌভাতের ঝামেলায় ভাবার সময়ও পাইনি। হঠাৎ ক্যালেন্ডারের দিকে তাকিয়ে দেখলাম আজ ১৮ই সেপ্টেম্বর। আমার একটা ক্লাস টেস্ট পরীক্ষা আছে আজ। যেতেই হবে।”
লুহান মাথা হেলিয়ে সায় দিল, “ঠিক আছে, রেডি হয়ে নাও। আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি।”
ফুল হালকা হেসে নিচে চলে এলো ব্রেকফাস্ট করতে। ডাইনিং হলে তখন অনি আর রিদম বসে ছিল। তাদের দুজনকে দেখে ফুল একটু অবাক হলো। তবুও সেদিকে ভ্রুক্ষেপ না করে কিচেনের দিকে পা বাড়াতেই অনি ডেকে উঠল, “হেই ফুলবানু, তোমার সাথে একটা বিষয় নিয়ে ডিসকাসড করার ছিল। একটু সময় দিতে পারবে?”
ফুলের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ল। তার সাথে আবার কোন বিষয়ে আলোচনা করবে তারা? ফুল এগিয়ে গেল, “জি বলুন!”
অনি খাবার সরিয়ে রেখে পানি খেয়ে নিল। তারপর বলল, “তুমি রিদমকে যেভাবে আইডিয়া দিয়েছিলে আমাকেও একটা আইডিয়া দাও।”
ফুল বোকা চোখে তাকাল। টেনে টেনে বলল, “আই…ডিয়া চাই? কিন্তু কোন ব্যাপারে?”
অনি বুঝিয়ে বলল, “ও-ই যে কসমেটিকস সার্জারির আইডিয়া দিয়েছিলে না? সেটার জন্যই তো রিদম উর্বীকে বিয়ে করতে পারল? আমাকেও একটা আইডিয়া দাও অনিলার সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য।”
ফুল ভাবনায় পড়ে গেল। “কিন্তু রিদম স্যার তো আমার আইডিয়া শোনেন নি। উনি নিজের বুদ্ধিতেই যা করার করেছেন। আপনিও নিজের বুদ্ধিতে কিছু কেন করছেন না?”
“আমি অনেক কিছুই করেছি ফুলবানু। কিন্তু কোনো কিছুতেই বিশেষ লাভ হয়নি। আর হ্যাঁ, রিদম তোমার আইডিয়া এপ্লাই করতে পারেনি কারণ সময় ছিল না। তবে তোমার আইডিয়া কিন্তু ভালোই ছিল। প্লিজ আমাকেও একটা আইডিয়া দাও।”
ফুল একটু ভেবে বলল, “আমার তো মনে হয়না যে আমার আইডিয়া ভালো ছিল। আমি মোটেও চাইনি উনি নিজের সাথে তেমন কিছু করুক।”
“ওহহো ফুলবানু, তুমি শুধু বলো কী করলে অনিলা আমার সাথে নরমাল হতে পারবে। আইডিয়া যতই ঝুঁকিপূর্ণ হোক না কেন আমি ফুলফিল করবো।”
গালে হাত রেখে ফুল ভাবুক ভঙ্গিতে গভীর ভাবনায় ডুবে গেল। তাকে ভাবতে দেখে রিদম ও অনি ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে লাগল। বেশ কয়েক মিনিট পর ফুল নিরবতা ভেঙে বলল, “আমার কাছে একটা আইডিয়া আছে কিন্তু আপনি সেই আইডিয়া ফলো করবেন বলে মনে হয়না।”
অনি বেশ জোর দিয়েই বলল, “আমি সবকিছু করতে পারব। দরকার হলে রিদমের মতো…”
ফুল হকচকিয়ে গেল, “না বাবা! তেমন কিছু করতে হবে না।”
“বলো তাহলে কী করতে হবে।”
“আপনি শুধু অনিলা আপুকে একবার তার বাবা-মায়ের কাছ থেকে ঘুরিয়ে আনুন। আমি দেখেছি সে তার মাকে অনেক মিস করে।”
সঙ্গে সঙ্গেই অনির মুখটা কালো হয়ে গেল। আঙুল উঁচিয়ে ফুল জোর দিয়েই বলল, “একটু আগেই না বললেন সব করতে পারবেন, তবে এখন চুপসে গেলেন কেন?”
অনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে মুখ খুলল, “আসলে আমার বাবা-মা নেই, তাই আমিও ওকে ওর বাবা-মায়ের কাছ থেকে দূরে রেখেছি সবসময়। ভেবেছি এর ফলে ও হয়তো বুঝতে পারবে আমাকে। কিন্তু তেমনটা হয়নি কখনো।”
রিদম অবিশ্বাসী চোখে তাকাল। বুঝতে পারল না অনি এগুলো ফুলকে বলছে কেন? হোয়াই?
“কেন, আপনার বাবা-মা কোথায়?” ফুল অবধারিত প্রশ্ন ছুড়ে দিল।
অনি নিজেকে সামলে নিয়ে বলল, “নেই তারা। আমি রাস্তায় ঘুরে ঘুরে বড় হয়েছি। যাকে বলে স্ট্রিট চাইল্ড।”
ফুলের মুখটাও ফ্যাকাসে হয়ে গেল এবার। তবুও প্রসঙ্গ পাল্টে বলল, “আপনার বাবা-মা নেই সেটা আলাদা কথা অনি স্যার। কিন্তু অনিলা আপুর তো আছে। কোনো কিছু না থাকার চেয়ে, থেকেও না থাকাটা বেশি যন্ত্রণাদায়ক। আপনি তাকে কষ্ট দিচ্ছেন, এই কারণেই হয়তো সে চেয়েও আপনার সাথে স্বাভাবিক হতে পারছে না।”
কথাটা বলেই ফুল কিচেনের দিকে পা বাড়াল। তখনই রিদম ডেকে উঠল, “আমাকেও আরও একটা আইডিয়া দিয়ে যাও বোকাফুল।”
ফুল এবার বিরক্ত হলো, “আপনি মজা করছেন আমার সাথে? কোন বিষয়ে আবার আইডিয়া চাই আপনার?”
রিদম উঠে এসে ফুলের সামনে দাঁড়াল, “রেগে যাচ্ছো কেন?”
“তো রেগে যাবো না? আপনার সাথে কথা বলতেও ভয় করছে আমার।”
রিদম হাসল, “শোনো না, উর্বী কথা বলছে না আমার সাথে। একটা আইডিয়া দাও ওর মন ভালো করার।”
“বউয়ের মন ভালো করার জন্য আমার পরামর্শ চাইছেন? বাহ! বাহ!”
“তেমন কিছু নয় বোকাফুল। তোমার আগের আইডিয়া টা চমৎকার কাজে দিয়েছি, তাই আবারও এসেছি।”
ফুল একটু নরম হলো। রিদম উর্বীকে এতো ভালোবাসে দেখে তারও শান্তি শান্তি লাগছে। এর জন্যই হয়তো বলে অন্যদের ভালোবাসা দেখতেও ভালো লাগে। ফুল গলা খাঁকারি দিয়ে বলল, “তাকে হানিমুনে নিয়ে যান রিদম স্যার। দুজন মিলে অনেক অনেক কোয়ালিটি টাইম স্পেন্ড করুন। ছোট খাটো প্রসঙ্গ টেনে হলেও তাকে কথা বলানোর চেষ্টা করুন। আপনি চাইলে আমি কয়েকটা জায়গা সাজেস্ট করতেই পারি।”
“চাই মানে? আলবাত চাই। বলো, বলো।”
“বাংলাদেশের মধ্যে বলব?”
“না, না। কে বলতে পারে উর্বী হয়তো ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের সুন্দর সুন্দর জায়গা গুলো দেখে ফেলেছে।”
ফুল বিজ্ঞদের মতো বুকে হাত গুটিয়ে নিল, “হুম দেশের বাইরে গেলেই বেশি রোমাঞ্চকর হবে। আমার সাজেশনে সুইজারল্যান্ডের ইন্টারলাকেন, ইতালির ভেনিস, গ্রিসের সান্তোরিনি আর মালদ্বীপ আছে।”
রিদমের মুখ হা হয়ে গেল, “হুম, জায়গা গুলো আসলেই সুন্দর। কিন্তু কোথায় যাওয়া যায় বলো তো।”
“আমার মনে হয় মালদ্বীপ যাওয়া বেটার হবে। নীল পানির ওপর ওই যে কাঠের ঘরগুলো থাকে না? কী যেন বলে… ওহ হ্যাঁ ওয়াটার হাউজ। চারপাশে শুধু পানি আর আপনারা দুজন থাকবেন। কথা না বলে যাবে কোথায় উর্বী আপু! আচ্ছা, আপনি কখনো গিয়েছিলেন সেখানে?”
“না, তবে এবার যাবো বউকে নিয়ে।” রিদম মিথ্যা বলল। আসলে সে বহুবার মালদ্বীপ গেছে। শুধু মালদ্বীপ নয় কাজের খাতিরে অধিকাংশ দেশগুলোতেই যাওয়া আসা হয় তার।
“ঠিক আছে, আপনারা সেখান থেকে ঘুরে আসুন তাহলে।”
রিদম একটু ভেবে বলল, “তোমরাও চলো আমাদের সঙ্গে।”
ফুলের চোখমুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল। তবুও উৎসাহ দমিয়ে রেখে বলল, “আপনাদের তেহকে বলে দেখুন।”
তন্মধ্যেই লুহান রেডি হয়ে চলে এল, “তুমি রেডি?”
ফুল জিব কেটে বলল, “রেডি হয়েই নিচে নেমেছি কিন্তু ব্রেকফাস্ট করিনি তো।”
লুহান স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে কিচেনের দিকে পা বাড়াল, “ওহ ভালো, আমিও ব্রেকফাস্ট করার সময় পেয়ে গেলাম। জলদি করো, নইলে লেট হয়ে যাবে।”
ব্রেকফাস্ট শেষে লুহান ফুলকে নিয়ে ভার্সিটির উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ল।
দুদিন পর!
সকাল সকালই অনি অনিলাকে নিয়ে তৈরি হয়ে এস্টেটের বাইরে এসে দাঁড়াল। তাদের সাথে অনেকগুলো লাগেজ আর ব্যাগপত্র আছে। উদ্যানের দিকে তাকিয়ে অনি বলল, “তোর পার্সোনাল কাজ শেষ হলে ফুলবানুকে নিয়ে চলে আসিস, ঠিক আছে?”
উদ্যান কিছুই বলল না। ফুল মলিন চোখে অনিলার দিকে তাকাল। অনিলা কেঁদেই যাচ্ছে, সে একদিকে ভীষণ খুশি। কারণ অনি বলেছে দেশে ফিরে তাকে তার বাবা-মায়ের সাথে দেখা করাতে নিয়ে যাবে। কিন্তু অন্যদিকে ফুলকে রেখে যেতেও তার মন চাইছে না। সে আবারও ফুলকে জড়িয়ে ধরল। ভাঙা কণ্ঠে বলল, “তেহুর কী কাজ বাকি আছে আমি জানি না। কিন্তু তোমাকে রেখে যেতে ইচ্ছা করছে না।”
ফুলের চোখ ভিজে উঠলেও সে কোনোমতে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করল। সে কাঁদতে চায়না, তাকে কাঁদতে দেখলে অনিলা যাওয়ার সিদ্ধান্ত বদলে ফেলবে। সে চায়না অনিলা শুধু মাত্র তার জন্য বাবা-মায়ের সাথে দেখা করার সুযোগ হারিয়ে ফেলুক।
“কেঁদো না অনিলা আপু। বাবা-মায়ের কাছে যাচ্ছো ভেবে খুশি হয়ে যাও।”
“আমি খুশি হতে চাইছি ফুল। কিন্তু বিশ্বাস করো পারছিনা।”
আলিঙ্গন থেকে মুক্ত হয়ে ফুল তার চোখ মুছে দিল। “একদম কাঁদবে না। আমাদের আবার দেখা হবে অনিলা আপু, হবে না বলো?”
অনিলা ঠোঁট চেপে উপরনিচ মাথা নাড়ল। “হ্যাঁ, কিন্তু আমার তোমার জন্য খারাপ লাগছে। তুমি একা হয়ে যাবে। উর্বীও তো হানিমুনে চলে গেল। হানিমুন শেষে মেক্সিকো ব্যাক করবে।”
“সমস্যা নেই, অনিলা আপু। কয়েকটা দিনই তো, দেখতে দেখতেই চলে যাবে। একটু হাসো প্লিজ।”
অনিলা জোরপূর্বক হাসল। শেষবারের মতো তাকে জড়িয়ে ধরে অনির সাথে গাড়িতে উঠে বসল। গাড়িটা যতক্ষণ দেখা গেল ফুল ততক্ষণ তাকিয়ে রইল সেদিকে। কয়েক ফোঁটা অশ্রুকণা ঝরঝরিয়ে গড়িয়ে পড়ল চোখ বেয়ে। সে চোখ মুছতে মুছতে ভাবল উদ্যান কীভাবে তাদের মালদ্বীপ ঘুরতে যাওয়া নাকচ করে দিয়েছিল।
গতকালকের ঘটনা!
“তোরা হানিমুনে যাবি, সেখানে আমি গিয়ে কী করবো?” উদ্যানের নির্বিকার কণ্ঠে খাবার টেবিলে নিস্তব্ধতা নামল।
রিদম বলল, “ঘুরতে যাবি, অনিলা আর অনি মেক্সিকো ফিরে যাবে। এখানের কাজও সব শেষ। বাকিরা মিলে মালদ্বীপ গেলে মন্দ হয়না।”
উদ্যান হাত ধুয়ে উঠে দাঁড়াল, “আমার কোনো ইচ্ছা নেই। পরীক্ষা চলছে আমার, এই সময় ঘুরতে যাওয়ার মানে বাঁশ… আই মিন মুড নেই আমার। সোহম, লুহান আর মেলোকে নিয়ে যা।”
লুহান মাথা নাড়ল, “আমি সিঙ্গেল মানুষ গিয়ে কী করবো?”
সোহম বলল, “আমিও বাবা কাবাবে হাড্ডি হতে চাইনা। গ্রুপ ট্যুর হলে একপায়ে রাজি হয়ে যেতাম।”
মেলোও সায় দিল না, “সোহমের সাথে একমত।”
রিদম মুখ ভেঙাল, “ঠিক আছে যাসনা কেউ। আমি কিন্তু ছবি তুলে গ্রুপে পাঠাবো, তখন আবার হাহুতাশ করিস না।”
এবার অনি প্রস্তাব রাখল, “তাহলে রিদম আর উর্বী হানিমুনে যাক। আমরা বাকিরা মেক্সিকো ফিরে যাই।”
উদ্যান তাতেও অসম্মতি জানাল, “আমার কিছু পার্সোনাল কাজ আছে। এখন যেতে পারব না। বাকিরা চাইলে ব্যাক করতে পারে।”
মেলো নির্লিপ্ত সুরে বলল, “আমি তেহুর সাথেই ব্যাক করবো।”
লুহান তৎক্ষনাৎ বলল, “আমিও!”
সোহম তাল মিলিয়ে বলল, “আমিও তাহলে থেকে যাচ্ছি।”
বর্তমান!
উর্বীও যাওয়ার আগে ফুলের জন্য মন খারাপ করেছিল। তারও ইচ্ছে করছিল না ফুলকে রেখে যেতে। সে যাবে না বলে দিতে চেয়েছিল কিন্তু ফুলের জন্যই পারেনি। ফুল চায়নি তার জন্য সে হানিমুন যাওয়া বাঞ্চাল করে দিক।
“ভেতরে যাবে নাকি এখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে অশ্রু বিসর্জন দেবে?” পাশ থেকে সোহমের কথা শুনে দ্রুত হাতে চোখ মুছে নিল ফুল। পেছনে তাকিয়ে দেখল সোহম আর সে ছাড়া কেউ নেই বাড়ির বাইরে।
সে উলটো ঘুরে ভেতরে চলে গেল। সোহমও দীর্ঘশ্বাস ফেলে তার পিছু নিল।
কেটে গেল কয়েকদিন। একাকিত্বকে সঙ্গী করে দিন কাটাচ্ছে ফুল। একা একা ভালো না লাগায় সে প্রায় প্রতিদিনই ভার্সিটিতে যায়। উদ্যান আর তার মধ্যেকার দূরত্ব যেন ক্রমেই বেড়ে চলেছে। লোকটা কখন আসে যায় সে যেন টেরই পায়না।
এখন রাত্রি বেলা।
ফুল খেয়াল করেছে প্রায় কয়েকদিন ধরে উদ্যান এই সময় সোহম আর লুহানকে নিয়ে বাইরে বের হয়। ফেরে খুব রাতে। ফুল ভাবল আজ সে গিয়ে ব্যাপারটা একটু খতিয়ে দেখবে। যেই ভাবা সেই কাজ!
সে রুম থেকে বেরিয়ে উদ্যানের দরজার সামনে এসে দাঁড়ায়। দরজাটা চাপিয়ে রাখা ছিল। তখনই ভেতর থেকে সোহমের উদ্বেগ মেশানো কণ্ঠ শোনা গেল, “ক্লাবে আজ পার্টি আছে। দেশ বিদেশ থেকে বাছাই করা মেয়েরা আসবে। যদি আজও তোর কাউকে পছন্দ না হয় তাহলে ধরে নিবি পৃথিবীর কোনো মেয়েই তোর পছন্দ হবেনা।”
ফুল আর শুনতে পারল না। উল্টো পালটা ভাবনা তার মস্তিষ্কের জেঁকে বসল। সে মনে মনে এক দৃঢ় সংকল্পে উপনীত হলো। মূলত সে বেশ কয়েকদিন ধরেই এই পরিকল্পনার রচনা করেছে। সে ভালো করে মাথায় ওড়না প্যাঁচিয়ে এস্টেট থেকে বেরিয়ে মূল ফটকের সামনে চলে এল।
সে যেহেতু প্রায়ই বাইরে যায় সেহেতু সে জানে কোথায় কী আছে। এস্টেট থেকে বের হওয়ার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সমুখে দন্ডায়মান বিশালাকৃতির এই ইলেকট্রনিক দরজাটা। বর্তমানে ফুল সেটার সামনেই দাঁড়িয়ে আছে। আশেপাশে কেউ নেই, মূলত এই গেটের ওপাশে সুবিশাল পার্কিং এরিয়া অবস্থিত। সেই পার্কিং এরিয়া পেরিয়ে কিছুটা দূরে অসংখ্য গার্ডস পাহারায় দাঁড়িয়ে থাকে সর্বক্ষণ।
ফুল একটা শুকনো ঢোক গিলে দরজার সেন্সর বোর্ডের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করল। জায়গাটাজুড়ে হরেক রঙের ক্ষুদ্র লাইট জ্বলে উঠছে, আবার নিভেও যাচ্ছে। সে কাঁপা কাঁপা হাতটা ধীরে ধীরে সেন্সর বোর্ডের দিকে বাড়িয়ে দিল।
হঠাৎই গতকালকের একটা ঘটনা মনে পড়ে গেল। ভার্সিটিতে যাওয়ার সময় লুহান ফিংগারপ্রিন্ট ব্যবহার না করে পিন ব্যবহার করেছিল। লুহানের ঠিক পেছনেই দাঁড়িয়ে ছিল ফুল। কারণটা অবশ্য ফুল নিজেই তৈরি করেছিল।
সকালে সবার আগে এসে সে ফিংগারপ্রিন্ট সেন্সরের ওপর স্বচ্ছ এক টুকরো টেপ লাগিয়ে দিয়েছিল। ফলে ফিংগারপ্রিন্ট কাজ না করায় বাধ্য হয়েই লুহানকে পিন ব্যবহার করতে হয়েছিল। আর ফুল তীক্ষ্ণ নজরে সেই পিনের প্রতিটি সংখ্যা মুখস্থ করে নিয়েছিল।
লুহান দরজা পার হয়ে বের হতেই ফুল দ্রুত হাত বাড়িয়ে সেন্সর থেকে টেপটা খুলে ফেলেছিল। তারপর স্বাভাবিক ভঙ্গিতেই সরে গিয়েছিল সেখান থেকে; যেন কিছুই ঘটেনি।
অবশ্য সে ইচ্ছে করেই টেপটা সরিয়ে ছিল। নইলে অন্য কারো ফিংগারপ্রিন্ট ব্যবহারে সমস্যা হতে পারত, আর তাতে সন্দেহের জন্ম নিত।
,
,
,
গাড়ির ড্রাইভিং সিটে বসে সিটবেল্ট লাগিয়ে নিল লুহান। সোহম আর উদ্যান বসেছে পেছনের সিটে। মিনিট কয়েকের মধ্যেই গাড়িটা রাস্তায় নেমে পড়ল। নিরবতা ভেঙে সোহম বলল, “তোর মতিগতি সুবিধার ঠেকছে না। এক সপ্তাহ ধরে নিয়মিত ক্লাবে যাচ্ছিস। বলি, ঘরে বউ থাকতে বাইরে নজর দেওয়াটা কি খুব প্রয়োজন?”
পরনের মেরুন রঙের ব্লেজারের কলার ঠিক করতে করতে উদ্যান চাপা গলায় বলল, “বউ আমার কোনো প্রয়োজনে আসছে না। কারো ওপর একবার চোখ আটকে গেলেই, কিনে নিয়ে আসবো।”
লুহান নাক কুচকে ফেলল, “তুই না ভালোবাসিস তোর ওয়াইফকে? তাহলে এগুলো কীভাবে বলছিস?”
“বউকে ঘিরে আমার যা যা এক্সপেকটেশানস ছিল কিছুই পূরণ করতে পারেনি আমার ওয়াইফি। প্রয়োজনীয় ভেবে প্রিয়জন বানিয়েছিলাম। ভালোওবেসেছি তাকে কিন্তু সে প্রতিনিয়ত আমার ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছে।”
সোহম বিরসমুখে বলল, “তুই ইউজফুলকে ভালোবাসার কথা স্বীকার করেছিস মাত্র তিন মাস হলো, এর মধ্যেই এতো অধৈর্য হয়ে পড়েছিস? আরে অনিকে দেখ বছরের পর বছর পার করে দিচ্ছে।”
লুহান একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, “হ্যাঁ আশেপাশে তাকিয়ে দেখ এমন আরও অনেকেই আছে যারা ভালোবেসে সারাজীবন সন্ন্যাসী হয়েও কাটিয়ে দিতে পারবে।”
উদ্যান বিরক্তমাখা কণ্ঠে বলল, “অনির কথা বলছিস? বিয়ের আগে কতো গুলো মেয়ের সাথে রাত কাটিয়েছে হিসেব আছে? ওসব ভালোবাসা টাসা কিচ্ছু নয়। ও ক্লান্ত হয়ে থেমে গেছে; রিদমও তাই। আর লুহান তুই একরাতেই হয়তো ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিলি।”
স্টিয়ারিং এর ওপর রাখা লুহানের হাতটা শক্ত হয়ে গেলেও সে মৃদু গলায় বলল, “তারপরও বউ রেখে বাইরে যাওয়াটা কেমন হয়ে গেল না? রিদম আর অনিও কিন্তু বিয়ের পর ওসব ছেড়ে দিয়েছে।”
উদ্যান তাচ্ছিল্য মিশিয়ে বলল, “ওরা বিয়ের পর ছেড়েছে আর আমি বিয়ের পর শুরু করবো। এতে এতো হেসিটেশনের কী আছে?”
“তোর মুখ থেকে এসব কথা শুনবো স্বপ্নেও ভাবিনি।” সোহম আফসোসের স্বরে আওড়াল।
উদ্যান সোহমের দিকে ফিরল, “আমি নিজেই ভাবিনি, কিন্তু ওয়াইফিকে কিস করার পর থেকেই ভাবতে হচ্ছে।”
ডিকির মধ্যে জবুথবু হয়ে বসে থাকা ফুল তাদের কথাগুলো শুনে জমে গেল জায়গাতেই। খাড়া হয়ে গেল শরীরের প্রত্যেকটা লোপকূপ। নিঃশ্বাস নিতেও যেন ভুলে গেল মেয়েটা।
প্রায় চল্লিশ মিনিট পর, গাড়ির ইঞ্জিনের গর্জন থেমে যেতেই চারপাশটা নিথর হয়ে এল। ফুল বুঝতে পারল তারা গন্তব্যে পৌঁছে গেছে। কাঁপাকাঁপা হাতে সে অন্ধকারের ভেতর হাতড়ে ফিরল ইমার্জেন্সি রিলিজ হ্যান্ডেলটি। হ্যাঁচকা টানে ডিকিটা খুলতেই এক চিলতে কৃত্রিম আলো তার চোখেমুখে পড়ল।
তাড়াহুড়ো করে বেরোতে গেলে ডিকির ধাতব কিনারার সাথে মাথাটা ঠুকে গেল ফুলের। তবুও সবকিছু উপেক্ষা করে বাইরে পা রেখে দেখল এটা একটা পার্কিং লট। ফুল ওড়না টেনে মুখের অর্ধেকটা ঢেকে পার্কিং লট থেকে বের হতেই তার চোখ আটকে গেল সামনে দাঁড়িয়ে থাকা বিশাল এক ভবনে। অন্ধকারের বুক চিরে ভবনটার গায়ে জ্বলজ্বল করছে রক্তাভ আর বেগুনি রঙের নীয়ন সাইনবোর্ড: ‘Bodyshop Club’।
প্রবেশদ্বারের সামনে কালো পোশাক পরা কয়েকজন লম্বা-চওড়া বাউন্সার দাঁড়িয়ে আছে, তাদের মুখভঙ্গি কঠোর আর নিরাবেগ। ফুল দেখল উদ্যান, সোহম আর লুহান—তিনজন কোনো বাধা ছাড়াই সোজা দরজার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বাউন্সারেরা নত মস্তকে দরজা খুলে দিল, যেন তাদের আগমনের প্রতীক্ষাতেই ছিল তারা। উদ্যানেরা ভেতরে ঢুকতেই ফুল কয়েক কদম দূরত্ব রেখে অনুসরণ করল তাদের। ভিআইপি অতিথিদের আপ্যায়নে বাউন্সারেরা যখন ব্যস্ত, ঠিক সেই অসতর্ক মুহূর্তেই ফুল মাথা নিচু করে দরজার ফাঁক গলে ভেতরে ঢুকে পড়ল।
ভেতরে পা রাখতেই ফুলের দম যেন আটকে এল। চড়া পারফিউম, দামি তামাক আর উগ্র মিউজিকের এক অদ্ভুত জটলা সেখানে। মানুষের ভিড়ের আড়ালে নিজেকে সেঁধিয়ে দিয়ে ফুল তার দৃষ্টি স্থির রাখল উদ্যানের ওপর।
মিনিট কয়েকের মধ্যেই শুরু হলো মূল আয়োজন। মঞ্চের মতো উঁচু প্ল্যাটফর্মে সারিবদ্ধভাবে এনে দাঁড় করানো হলো একদল কিশোরীকে। প্রত্যেকের রূপ যেন নিখুঁত কোনো ভাস্কর্যের মতো, চোখ ধাঁধানো সৌন্দর্যে ভরপুর। উদ্যান তখন সামনের সারিতে আয়েশ করে বসে সিগারেটে লম্বা টান দিচ্ছে। ধোঁয়ার কুণ্ডলী তার মুখটাকে আরও গম্ভীর করে তুলেছে।
ফুলের মাথা ঘুরতে শুরু করেছে, এখানে আসার সিদ্ধান্তটা একদমই ভালো ছিল না। তার এখনই আফসোস হচ্ছে। সে আর কিছুই দেখতে চায়না; সহ্য করতে পারবে না যে। ফুল উদ্যানকে নিয়ে ভাবনায় এতোটাই ডুবে ছিল যে এটা খেয়ালই করল না ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকজন তাকে সন্দেহের চোখে দেখছে। তাকে নিয়ে কানাঘুষাও চলছে আশেপাশে। কারণ এখানের কোনো মেয়েই তার মতো সালোয়ার কামিজ পরে আসেনি। তাই তাকে অনায়েসেই সবার থেকে আলাদা করা যাচ্ছে।
হঠাৎই দপ করে নিভে গেল শুভ্র রঙের আলো। তার পরিবর্তে জ্বলে উঠল বিভিন্ন রঙের নীয়ন লাইট। সাউন্ড বক্সে চড়া বাসে বেজে উঠল এক গান:
আ লাকি, লাকি গার্ল
শি গট ম্যারিড টু আ বয় লাইক ইউ
শি’ড কিক ইউ আউট ইফ শি এভার, এভার নিউ
‘বাউট অল দ্য – ইউ টেল মি দ্যাট ইউ ডু
পর্দার আড়াল থেকে নগ্নপ্রায় কিছু মেয়ে মঞ্চে এসে উদ্দাম নাচ শুরু করতেই ফুল দুহাতে চোখ ঢেকে ফেলল।
ডার্টি, ডার্টি বয়
ইউ নো এভরিওয়ান ইজ টকিং অন দ্য সিন
আই হিয়ার দেম হুইসপারিং
‘বাউট দ্য প্লেসেস দ্যাট ইউ’ভ বিন
অ্যান্ড হাউ ইউ ডোন্ট নো হাউ টু
কিপ ইউর বিজনেস ক্লিন
এবার সাজিয়ে রাখা মেয়ে গুলো একে একে উদ্যানের দিকে এগোতে লাগল। ফুল চোখ মেলতে না চাইলেও; তার মন মানল না। সে পিটপিট চোখে চেয়ে দেখল, একদম প্রথমে থাকা মেয়েটা উদ্যানের উরুর ওপর বসে পড়ল। মেয়েটি যখন কামুক ভঙ্গিতে উদ্যানের ঠোঁটের খুব কাছে মুখ নিয়ে গেল, উদ্যান নির্বিকার চিত্তে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে সিগারেটে টান দিল। মেয়েটা বুঝে গেল উদ্যানের তাকে পছন্দ হয়নি। সে মুখ কালো করে সরে পড়ল একদিকে। গানের কলিগুলো যেন মুহূর্তেই ফুলের হৃৎপিণ্ডে হাতুড়ি পেটা করতে লাগল:
মাম্মি ডোন্ট নো ড্যাডি’স গেটিং হট
অ্যাট দ্য বডি শপ, ডুইং সামথিং আনহোলি
হি’জ স্যাট ব্যাক
হোয়াইল শি’স ড্রপিং ইট, শি বি পপিং ইট
ইয়ে, শি পুট ইট ডাউন স্লোলি
ফুল স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে যাবে তখনই দ্বিতীয় আরেকজন মেয়ে এসে উদ্যানের কোল দখল করল। চুমু খেতে যাবে তখনই আবারও উদ্যান মুখ ফিরিয়ে নিল। মেয়েটার ঠোঁট উদ্যানের গাল স্পর্শ করল।
ফুল চোখ বন্ধ করে কান্নায় ভেঙে পড়ল। না সে আর দেখতে পারছে না। কিন্তু সে না দেখলেই কি সব পরিবর্তন হয়ে যাবে? যাবে না তো!
এদিকে সোহম আর লুহানও মেয়েদের ঘেরাওয়ের মধ্যে পড়ে নাজেহাল। মেয়েগুলো তাদেরও ছাড় দিচ্ছে না একবিন্দুও। উদ্যানের এটেনশন না পেয়ে তাদের গলায় ঝুলে পড়তে চাইছে। পেছনে বসা অতিথিরা ইতোমধ্যেই ঈর্ষান্বিত দৃষ্টে তাকাচ্ছে তাদের দিকে। প্রতিদিনই সব মেয়েরা হুমড়ি খেয়ে পড়ে তাদের ওপর। পরবর্তীতে পাত্তা না পেয়ে শেষমেশ বাকিদের কাছে যায়।
নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুল যখন উদ্যানের দিকে দৌড়ে যেতে চাইল, ঠিক তখনই সজোরে ধাক্কা খেল কারো সাথে। টাল সামলাতে না পেরে তার ওড়নাটা খসে পড়ল মুখ থেকে।
“সরি…” বিড়বিড় করে সে আবার পা বাড়াতে চাইল, কিন্তু লোকটা শক্ত হাতে তার কবজি চেপে ধরল। ফুল লোকটার দিকে তাকাতেই ফুলের কণ্ঠনালী শুকিয়ে এল। লোকটা বিশালদেহী, চোখে কালো চশমা।
“ছা… ড়ুন! যেতে দিন আমাকে।” ফুলের কণ্ঠ কাঁপল। কিন্তু লোকটা ছাড়ল না বরং টেনে নিয়ে যেতে লাগল তাকে। ফুল নানাভাবে বোঝাতে চাইল সে কিছুই করেনি। তাকে যেন ছেড়ে দেয়, তবুও লোকটা ছাড়ল না তাকে।
“উদ্যান! উদ্যান! প্লিজ এদিকে তাকান।” ফুল সর্বশক্তি দিয়ে চিৎকার করল, কিন্তু সেই চড়া মিউজিক আর মানুষের উল্লাসের নিচে তার কণ্ঠস্বর ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর হয়ে মিলিয়ে গেল।
উদ্যানের হঠাৎ মনে হলো খুব পরিচিত কেউ তাকে ডাকছে। সে বসা থেকে দাঁড়িয়ে অস্থির চোখে চারপাশে তাকাল, কিন্তু তাকে ‘উদ্যান’ বলে ডাকবে এমন কাউকে চোখে পড়ল না। তার উদাসীনতায় বিরক্ত হয়ে সোহম তার কানের কাছে মুখ নিয়ে বলল, “এদিক ওদিক কী খুঁজছিস। সামনে তাকা, নতুন ড্রাফট আসছে! না দেখেই রিজেক্ট করে দিবি নাকি?”
উদ্যান একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে আবার বসে পড়ল। তার চোখের সামনে কতগুলো শরীর যে এল আর গেল, তার কোনো হিসাব রইল না। নিজের ওপর একরাশ জমাটবদ্ধ বিতৃষ্ণা নিয়ে শেষমেশ উঠে দাঁড়াল উদ্যান। সোহম আর লুহান আড়চোখে একে অপরের দিকে তাকাল; বুঝে গেল উদ্যান এস্টেটে ফিরে যেতে চাইছে। তারাও তাল মিলিয়ে চলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে পা বাড়াল।
তারা পা বাড়াতেই ক্লাবের হোস্ট আর দুজন দালাল অতি ক্ষিপ্রতায় সামনে এসে দাঁড়াল। একজন দালাল বিনীতভাবে নিচু হয়ে শুধাল, “স্যার, ডিডন্ট এনিওয়ান ম্যানেজ টু ক্যাচ ইয়োর ইন্টারেস্ট টুডে আইদার?”
উদ্যান উত্তর দিল না, শুধু তাচ্ছিল্যের সাথে ডানে-বামে মাথা নাড়ল। হোস্ট এবার একটু উৎসাহ নিয়ে বলল, “স্যার, দেয়ার উইল বি অ্যানাদার লাইন-আপ অব গার্লস টুনাইট। অল অব দেম উইল বি বেঙ্গলি। উড ইউ লাইক টু টেক আ লুক?”
উদ্যান অনাগ্রহী কণ্ঠে বলল, “নো, আই’ম ডান ফর টুডে।”
অন্যজন দালাল সুযোগ বুঝে বলে উঠল, “স্যার, ইফ ইউ কুড টেল আস হোয়াট কাইন্ড অব গার্ল ইউ প্রিফার, উইল ট্রাই টু অ্যারেঞ্জ সামওয়ান অ্যাকর্ডিংলি।”
উদ্যান থমকে দাঁড়াল। শূন্যে ধোঁয়ার কুণ্ডলী পাকিয়ে সে কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে রইল, তারপর ধীরলয়ে বলতে শুরু করল, “শী মাস্ট রীচ এক্সাক্টলি আপ টু মাই শোল্ডার্স। শীল হ্যাভ লং, ফ্লোয়িং হেয়ার। আইজ সো লার্জ অ্যান্ড ডীপ দ্যাট ওয়েন দে ফিল উইদ টিয়ার্স, দে লুক লাইক ট্রান্সপারেন্ট গ্লাস। হার টিয়ার্স… দে মাস্ট ফল লাইক কোল্ড পার্লস। লুকিং ইনটু হার আইজ শুড ফীল লাইক স্টেয়ারিং অ্যাট আ শ্যাটারড স্কাই। হার লিপস মাস্ট বি অ্যাজ সফট অ্যাজ ডেলিকেট পেটালস। দেয়ার শুড বি আ বিউটি মার্ক অ্যাবাভ হার লোয়ার লিপ। হার লিপস শুড ট্রেম্বল হোয়েন শী’স শাই… ইন পেইন… অর অ্যাংরি। দ্য টিপ অফ হার নোজ অ্যান্ড হার চীকস মাস্ট টার্ন আ ডীপ, রোজি রেড সামটাইমস। শী শুড ক্যারি আ সুইট, লিংগারিং ফ্রেগ্র্যান্স, অ্যান্ড কিসিং হার… ইট মাস্ট টেস্ট লাইক স্ট্রবেরিজ। দ্যাটস অল!”
তার চাহিদার এমন নিখুঁত আর মোহাবিষ্ট বর্ণনা শুনে লোক তিনজন একে অপরের মুখের দিকে বোকার মতো চেয়ে রইল। উদ্যান বুঝতে পারল সে ঘোরের বশে অনেক কিছু বলে ফেলেছে। তবুও সে ধার ধারলো না। নির্লিপ্ত কণ্ঠে ফের বলল, “ফাইন্ড সামওয়ান লাইক দ্যাট। অ্যান্ড ইউ’ল বি রিওয়ার্ডেড বিয়ন্ড ইয়োর ইম্যাজিনেশন।”
উদ্যান আর এক মুহূর্ত অপেক্ষা করল না। ভারী বুটের শব্দ তুলে দর্পের সাথে সে দরজার দিকে এগিয়ে গেল। সোহম আর লুহান নিঃশব্দে তাকে অনুসরণ করল।
চলবে,,,
শব্দসংখ্যা: ৩৩০০+
Share On:
TAGS: অবাধ্য হৃৎস্পন্দন, সোফিয়া সাফা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
অবাধ্য হৃৎস্পন্দন পর্ব ২৫(প্রথমাংশ+শেষাংশ)
-
অবাধ্য হৃৎস্পন্দন পর্ব ৪৬
-
অবাধ্য হৃৎস্পন্দন পর্ব ৫
-
অবাধ্য হৃৎস্পন্দন পর্ব ১৩
-
অবাধ্য হৃৎস্পন্দন পর্ব ২২
-
অবাধ্য হৃৎস্পন্দন পর্ব ১৮
-
অবাধ্য হৃৎস্পন্দন পর্ব ১৫
-
অবাধ্য হৃৎস্পন্দন পর্ব ১৬
-
অবাধ্য হৃৎস্পন্দন পর্ব ৪
-
অবাধ্য হৃৎস্পন্দন পর্ব ৩৬