Golpo romantic golpo অন্তরালে আগুন

অন্তরালে আগুন পর্ব ৪৬


অন্তরালে_আগুন

পর্ব:৪৬

তানিশা সুলতানা

সৌন্দর্য শুধুমাত্র একটা শব্দ। যেটা কিছু বছর পরে বিলীন হয়ে যাবে। তাছাড়া নওয়ান তালুকদার বরাবরই একটা কথা মেনে চলে
“সৌন্দর্যের প্রেম ক্ষণস্থায়ী
আর মনের প্রেম চিরন্তন

সৌন্দর্যে স্নেহা এগিয়ে থাকলেও মায়ায় নুপুর সেরা। তার টানা টানা আঁখি পল্লবে অদ্ভুত একটা নেশা রয়েছে। যেটা প্রতি নিয়ত ঘায়েল করে নওয়ান তালুকদারকে। শত শত বিশ্ব সুন্দরীর ভিড়ে মায়াবতী নুপুর অতুলনীয়।
মায়া এক মরণব্যাধি অসুখ। ক্যান্সারের থেকেও ভয়ংকর।
কেউ একবার মায়ায় পড়লে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সেই মায়া কাটিয়ে উঠতে পারে না।
এই মুহুর্তে নওয়ানের মনে হচ্ছে সে যদি নুপুরের মায়ায় না পড়তো। যদি তাকে ভালো না বাসতো তবে জীবনটা অন্য রকম হতো।

“স্নেহা
আমি তোকে ভালোবাসলাম কেনো বল তো? আমি তোর হলে তুই খুশি থাকতিস
আর তুই আমার হলে আমি বেঁচে থাকতাম।
কি অদ্ভুত ভাগ্য আমাদের।
তুই আমায় হারিয়ে মরলি
আমি তোকে না পেয়ে মরছি।

নওয়ানের কথা গুলো বড্ড অদ্ভুত লাগলো স্নেহার। বুকের বা পাশে চিনচিন ব্যাথা শুরু হয়। বিষন্ন ঠোঁটের কোণে এক চিমটি হাসির রেখা দেখার মেলে। বহুদিন বৃষ্টির অপেক্ষায় থাকা মরুভূমি যেনো এক ফোঁটা বৃষ্টির কণার সন্ধান পেলো।
টকটকে ফর্সা মুখে সেই হাসিখানা বড্ড মানায়। বিষন্নতায় মনে হয় চাঁদের আলো মেঘে ঢেকে যাচ্ছে। নওয়ান তাকিয়েই ছিলো মেয়েটার মুখ পানে। তাই তো স্পষ্ট দেখতে পেলো সেই খুশি।
কেনো খুশি হলো?
নওয়ান তালুকদার তাকে ভালো না বেসে আফসোস করছে এটা ভেবে?
না কি নুপুর তাকে ভয়ংকর ভাবে ধ্বংস করবে এটা ভেবে?
এ কি হলো নওয়ান তালুকদারের। সে তো এমন ছিলো না?
তবে কি চরিত্রের দোষ ধরা পড়লো? চরিত্রহীন হয়ে গেলো না কি? হতেও পারে।
পুরুষের চরিত্র এবং নারীর গায়ে কলঙ্ক কখন লেগে যায় টের পাওয়া যায় না।
তবে নওয়ান তালুকদার চরিত্রহীন উপাধি পেতে চায় না। শেষ নিঃশ্বাস ওবদি চাঁদ নামক নারীতে আসক্ত থাকতে চায়।
তার মৃত্যুর পরেও যেনো সেই নারী বড্ড গর্বের সঙ্গে বলতে পারে “আমার ছিলো একজন বেয়াদব নেতা। যার ভেতরে সব দোষই বিদ্যমান ছিলো। তবে চরিত্রহীন নয়। সে আমাকে অসম্ভব ভালোবাসতো।”

সিগারেট শেষের পথে। যখন তখন হাতে ছ্যাঁকা লেগে যাবে। ব্যাপার খানা খেয়ালে নেয় নওয়ানের। তবে স্নেহার খেয়ালে রয়েছে।
“সিগারেট ফেলতে হবে।

নওয়ান শুনলো এবং ফেলে দিলো সিগারেটের বাকি অংশ। তারপর গম্ভীর মুখ খানা আরও একটু গম্ভীর করে বলে
” থেকে যা স্নেহা। আমি থাকবো না তুইও না থাকলে আমার চাঁদকে কে দেখে রাখবে?
তাকে কে ই বা যত্ন করে আগলাবে?

স্নেহা একটুখানি হেসে বলে ওঠে
“আপনি বড্ড স্বার্থপর। সর্বক্ষণ নিজেকে নিয়ে মগ্ন। কখনো কখনো অন্য কারো কথা ভাবতে হয়।

বলেই স্নেহা সেখান থেকে চলে যায়। নুপুর একটু দূরে দাঁড়িয়ে শুনছিলো নওয়ান এবং স্নেহার কথা। উহুমম মোটেও সে শুনতে চায় নি। আঁড়ি পাতা তার স্বভাব নয়। তবুও কেনো জানি শুনতে ইচ্ছে করলো।
স্নেহা যেতেই নওয়ান আবার সিগারেট জ্বালায়। তাতে দীর্ঘ টান দিয়ে বলে
” চাঁদ কাম হেয়ার

নুপুর একটুখানি চমকালো। লোকটা দেখে ফেললো কিভাবে? সে তো আড়ালে রয়েছে। তাহলে?
বোকা নুপুর জানেই না নওয়ান তালুকদার তার উপস্থিতি টের পায়। না দেখেও অনুভব করতে পারে তাকে।
“আপনাকে অন্য কারো সঙ্গে সহ্য করতে পারি না আমি।

বলেই নুপুর সেখান থেকে চলে যায়। নওয়ান একটু হাসে। প্রতিত্তোরে তার বলার মতো অনেক কথা ছিলো তবে বলতে পারে না।
কন্ঠে খাঁদ নামিয়ে গান ধরে
“এত কথা বলি পাখি হয়ে উড়ে যায় সব
তোমাকেই ছুঁতে পারে না।
এতোবার আসা যাওয়া একই পথ দিয়ে কই
তোমার তো চোখে পড়ে না।
তাহলে কি আমি কেউ নয়
যেনো অজানা ভাষায় লেখা বই
আমার তো মনে হয় মাঝেমাঝে ছুঁয়ে দেখি
সুযোগটা পাচ্ছি কই?
আমি সুযোগটা পাচ্ছি কই


রাজনীতি বা ক্ষমতা মানুষকে অন্ধ করে দেয়। ঠিক তেমন ভাবেই অন্ধ হয়েছে নায়েব তালুকদার। সে তার ক্ষমতার জন্য সব করতে পারে। আর তার ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য নওয়ান তালুকদারও সব করতে পারে।
গতকাল পার্টি অফিসে জরুরি বৈঠক বসানো হয়েছিলো। দায়িত্ব রত সকল মন্ত্রী দের নিয়ে গঠিত সেই বৈঠকে তথ্য মন্ত্রী আব্বাস ভূইয়াকে খু/ন করে দেয় নওয়ান।
কারণটা খুবই সামান্য। সে ন্যায়ের কথা বলছিলো।
” সঠিক ভোট হয় নি
“এভাবে রাষ্ট্র চলবে না
” প্রধানমন্ত্রীকে হতে হবে বিচক্ষণ এবং সৎ

তার জ্ঞান মূলক কথা শুনেই মেজাজ চটে গিয়েছে নওয়ানের।
সে নিজ স্থান ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে বলে
“আই ফা** ইউওর সততা।
বালের টপিক নিয়ে কথা বলতে এসেছেন?

আব্বাস শুকনো ঢোক গিলে বলে
” আমি ভুল বললাম কিছু?
সরকার গঠন হয়েছে ৮ দিনও হলো না। এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে দেড়শো মেয়ে নিখোঁজ।
চাঁদাবাজি বেড়েছে হাজারগুণ।
বাহিরের দেশে পাচার হয়ে গিয়েছে প্রায় একশো কোটি কাটা মূল্যের সম্পদ।
আর দিনে এই অবস্থা হলে বাকি পাঁচ বছরে কি হবে?

ব্যাসস তখনই পকেট থেকে বন্দুক বের করে পরপর পাঁচটা শুট করে দেয়।

চলবে

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply