⭕পূনর্জন্ম বা টাইম ট্রাবল কোন ধর্মে গ্রহনযোগ্য
_______________________________ নয়,এটি কেবল রুপকথার উপমা।
___________________⭕
“প্রেম যদি সত্য হয়,মৃত্যু তাহার অন্ত নয়।অসংশোধিত প্রেম আমাকে আবার জন্ম দিয়েছে ব্লু ব্লাড গার্ল।”
ঝকঝকে তকতকে অন্ধকার এক রাত।আলোরা ঘাপটি মেরে বসে আছে ল্যাম্পপোস্টের নিচে।ভয়ংকর কন্ঠস্বরটি ভেসে আসার সাথে সাথেই ল্যাম্পপোস্টের আলোগুলো নিভে গেলো।
নাহ! লোডশেডিং নয়, বরং কারো একজনের সুক্ষ্ম পরিকল্পনার জাল বুনন প্রক্রিয়া। চারদিক অন্ধকারে তলিয়ে যেতেই পা থেমে গেলো মেয়েটির,অন্ধকারে অস্পষ্ট চাহুনি তবে ভয় আর আতংক স্পষ্ট। কিছু একটা হতে চলেছে খুব শীঘ্রই খারাপ কিছু ঘটতে চলেছে।
মেয়েটি ভাবনার সময় পেলো বড়জোর 20 সেকেন্ড,ঠিক সেই সময়টাকে পাল্লা দিয়ে বড় বড় পা ফেলে সামনে এসে দাড়ালো ছয় ফিট উচ্চতার একজন পুরুষ।দুই ঠোঁট গোল করে এক সু মধুর সুর তৈরি করে শিস বাজাতে বাজাতে রমনির খুব কাছাকাছি চলে এলো লোকটা।
নীল এক জোড়া চোখ তাক করলো মেয়েটির ভয়াতুর নেত্রমনির গভীরে।হুট করেই কিছু একটা হলো, পাল্টে গেলো গুমোট পরিবেশের অস্থিরতা, মেয়েটি নিজেকে হারিয়েছে, এক দূর্লব অপার্থিব সৌন্দর্যে ঘেরা এক জোড়া চোখের তীক্ষ্ণতা, তার কর্নিয়া ভেদ করে সরাসরি মস্তিষ্ক নড়বড়ে করে দিলো। কেমন রোবটের মতোই তাকিয়ে রইলো এক ধ্যানে। আগা গোড়া সফেদ রঙে মোড়ানো ব্যাক্তির কিছু বলার প্রয়োজন পড়লো না আর, সেই সুরেলা সুর তৈরি করে হাটা শুরু করলো আবারও , অদ্ভুত ভাবে অজ্ঞাত মেয়েটিও অনুসরণ করে হাটতে লাগলো তার পিছু পিছু, যেনো এক মায়াজালে আটকে গিয়েছে সে।
নিজের আলিশান কাউচে পায়ের উপর পা তুলে বসে আছে নীল চখের সেই সুপুরুষ, এক অপার্থিব সৌন্দর্যের দূত।দু ঠোঁটর ফাক গলিয়ে উড়িয়ে যাচ্ছে সিগারেটের ধোঁয়া, ডানহাতের দুআঙুলের ভাজে চেপে ধরা সিগারেটের পুড়ে যাওয়া অংশটুকু টোকা দিয়ে ফেলছে কিছুক্ষণ পর পর , অন্যহাতে ধরে রাখা ওয়াইনের গ্লাসে চুমুক দিচ্ছে বড় তৃপ্তি সহকারে, প্রতিটি কাজ এতো স্থিতিশীল, আনুমানিক যেনো টরটয়েসের মতোই ধীর গতিতে করছে সব।
তার সামনে বসে আছে অর্ধনগ্ন মেয়েটি, জিন্স আর ইনার টা বাদে শরীরে আপাতত কিছু নেই,নক্ষত্রের মতো ছোট ছোট ফুলের প্রিন্ট করা টপস টা লুটিয়ে পড়ে আছে মেঝেতে।মেয়েটির চোখে মুখে এক অদ্ভুত নিস্পৃহতা ,যেনো দুনিয়ার ভাবনা থেকে সে বিচ্ছিন্ন, তার মস্তিষ্ক হিসেব মতো চলছে না, মস্তিষ্কের পুরোপুরি কন্ট্রোল লোকটার চোখে, নীল নয়নজোড়া দ্বারা ঠিক যেরকম ইশারা করছে ঠিক তেমনটাই করছে রমনি। যেনো সে প্রানহীন এক রোবর্ট।
লোকটা ওয়াইনের গ্লাস হাতে নিয়েই ধীরে ধীরে এগিয়ে গেলো রমনির কাছে।অর্ধনগ্ন দেহের উজ্জ্বলতা বা মোহনীয় টান টান ত্বক,কোন কিছুই তাকে আকর্ষন করে না, না স্পর্শ করার ইচ্ছে আছে তার, তার তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রমনির কোমরে,উদরের মধ্য ভাগের আবর্তবিশেষ অংশে।যাকে আমরা সাধারণ ভাষায় নাভিপদ্ম হিসেবে আখ্যা দেই। নীল চোখের সমস্ত তীক্ষ্ণতা মিশিয়ে কিছু একটা খুজে যাচ্ছে সে, কিন্তু পেলো না, রমনির উদরের অংশে এমন কিছু একটা থাকার কথা ছিলো যেটা লোকটা খুজছে।
কাঙ্খিত জিনিসটা খুজে না পেয়েই হিংস্রতা ধরা দিলো নীল চোখের মনি জোড়ায়। টেবিলের উপর সাজিয়ে রাখা অসংখ্য অস্র সস্র, তারমধ্য থেকে একটি চাপাতি উঠিয়ে নিয়ে মেয়েটির দিকে বাড়িয়ে দিলো, মেয়েটি জড়বস্তুর মতো চাপাতি হাতে নিয়েই নিসংস ভাবে নিজের নগ্ন শরীরে আঘাত করা শুরু করলো রোবটের মতো।মূহুর্তেই লাল রক্তে রঞ্জিত হলো হলুদ আভায় আলোকিত বদ্ধ ঘর।অথচ সে ব্যাক্তির কোন হেলদোল নেই, সে পুনরায় গিয়ে বসলো নিজের কাউচের উপর,সিস বাজাতে বাজাতে বিরবির করলো,
ওহে নীল রক্তের মেয়ে কোথায় তুমি?,
অপূর্ণতা বুকে নিয়ে মৃত্যু ভালোবাসি
এক জনমে সব চাওয়া পূরণ হয় না সখি।
~~~~~~
হিপনোসিস মানে কি যানো?
নিস্পাপের জানার আগ্রহ না পেয়ে,আয়মান নিজ থেকেই আবার শুরু করলো,
“হিপনোটাইজ হলো তীব্র আবেগ এবং কল্পনা শক্তি দ্বারা অন্যের মনকে প্রভাবিত করা।”
“যেমন?”
মেইনরোডের প্রায় মাঝমাঝি চলে এসেছে নিস্পাপ, এক হাত শক্ত করে চেপে রাখা আছে আয়মানের হাতে,আয়মান নিজের কথার মধ্যে নিস্পাপের ধ্যান আটকে রাখার চেষ্টা চালাচ্ছে,
“মানে হলো কাউকে হিপনোটাইজ করার মাধ্যমে তার মস্তিষ্কের নিয়ন্ত্রণ হাতের মুঠোয় চলে আসে।আই মিন একজন মানুষ অন্য আরেকজন ব্যাক্তির মস্তিষ্ক পরিচালনা করতে পারে।”
নিস্পাপ কপাল কুচকালো,
“কিভাবে?”
“সম্মোহনের আরেকটি নাম হলো,চোখের স্থিরকরণ।সম্মোহনের জন্য একটি বিশেষ কৌশল হলো চোখ,একটি মানুষের মস্তিষ্কে সম্মোহনী প্রভাব তৈরি করার জন্য চোখই যথেষ্ট। “
“আপনি এমন কেনো আয়মান? আপনি প্রতিদিন এই একই ভাবে রাস্তা পার হওয়ার সময় কোন না কোন কথা বলে আমাকে ভুলিয়ে রাখার অযথা চেষ্টা কেন করেন।”
প্রায় মিনিট দশেক সময় নিয়ে প্রসস্ত রাস্তা পার হওয়ার পর নিস্পাপ হাপাতে হাপাতে বললো।
নিস্পাপের কথায় আয়মান দূর্বোধ্য হাসলো,নিস্পাপের হাতটা তখনও নিজের মুঠোয় বন্দী,
“অযথা নয় নিস্পা,বর্তমান দেশের অবস্থা মারাত্মক ভয়াবহ, কেউ একজন নিজের চোখের ইশারায় মানুষকে হিপনোটাইজ করছে,বিশেষ করে মেয়েদের হিপনোটাইজ অব্দি থেমে থাকলে হতো কিন্তু সে সম্মোহনের মাধ্যমে নিজের হাতেই নিজেকে খুন করাচ্ছে।”
নিস্পাপ নিস্প্রভ হাসলো, হাসির সাথে সাথেই দু গালের অগ্রভাগে গর্ত হয়ে খুব সুন্দর দুটো টোল স্পষ্ট হলো,তার চোখে মুখে ভীতির চিহ্ন অব্দি নেই।লাবন্যময় মিষ্টি কন্ঠে বললো,
“তাই আপনার আমাকে নিয়ে চিন্তা হচ্ছে তাইতো? অথচ আপনি ভুলেই গিয়েছেন সম্মোহন করার জন্য আমার দুটো চোখই অন্ধ।”
নিস্পাপের কথায় ধরাস করে উঠে আয়মানের বুক, চুপসে যায় মুখবির,সম্মোহনী কন্ঠে বলে,
“তুমি জানো না নিস্পাপ তোমার ওই অন্ধ চোখ জোড়াও কাউকে সম্মোহন করার জন্য যথেষ্ট।”
“কাউকে সম্মোহন করার ইচ্ছে আমার নেই।”
“কিন্তু আমার যে খুব ইচ্ছে তোমাকে সম্মোহন করার, তোমার মস্তিষ্কটা নিজের নিয়ন্ত্রণে এনে একবার ভালোবাসি শব্দটা উচ্চারণ করানোর বড়ই সখ আমার।”
নিস্পাপ চট করেই নিজের হাতটা আয়মানের কাছ থেকে সরিয়ে নিলো,
“আপনাকে বোঝাতে বোঝাতে আমি পাগল হয়ে যাবো, কেনো বুঝতে পারছেন না আমি অন্ধ, একটা অন্ধ মেয়েকে ভালোবাসা মানে ভবিষ্যৎ অন্ধকার করে দেওয়া। “
আয়মান এগিয়ে এসে দাড়ালো নিস্পাপের সামনে, বড় যত্ন করে দু হাত রাখলো নিস্পাপের গালের উপর,
“আমার ভবিষ্যতের চিন্তা আমাকে করতে দেও নিস্পা।”
তারপর নিস্পাপের হাতটা টেনে নিয়ে নিজের বুকের উপর রেখে বললো,
“আমি তোমাকে এই খান থেকে ভালোবাসি নিস্পা।তোমার অন্ধত্ব আমার ভালোবাসা এক ইঞ্চিও টলাতে পারবে না।”
নিস্পাপ হাত সরিয়ে নিলো,
“ভালোবাসা নয় আয়মান, এটা আপনার আবেগ। আবেগ দিয়ে জীবন চলে না। যাকে একবার ভালোবাসি শব্দটা বলা হয় তাকে কিন্তু সারাজীবন আকড়ে ধরে রাখতে হয়। কিন্তু আমি অন্ধ, একটা অন্ধ মেয়েকে ভালোবাসি বলাটা সহজ কিন্তু সারাজীবন বয়ে বেড়ানো টা এক জিনিস নয়।
আয়মান আরো কিছু বলার আগেই, বাধা দিলো নিস্পাপ,
“আপনার অফিসের দেরি হয়ে যাচ্ছে আয়মান, আমার সাথে আসার প্রয়োজন নেই।আমি একাই নিজেকে সামলাতে পারবো।”
একনাগাড়ে কথাগুলো উগ্রে দিয়ে উত্তরের অপেক্ষা করলো না সে,সোজা হাটা ধরলো নিজের গন্তব্যে।
নিস্পাপ আত্মবিশ্বাসী একটা মেয়ে, নিজের অন্ধত্ব নিয়ে তার কোন অভিযোগ নেই, না আছে কোন কষ্ট। নিজের অন্ধত্ব কে সে কখনোই প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখে না।সে বরাবরই নিজেকে স্ট্রংগার হিসেবে প্রেজেন্ট করতে সাচ্ছন্দ্যবোধ করে।সে চায় না অন্ধ বলে কেউ তাকে তিরস্কার করুক বা পায়ে মাড়িয়ে চলুক।অন্ধত্ব ডিঙিয়ে পড়াশোনাও চালাচ্ছে নিজের মতো।
অথচ সবকিছুর মধ্যেও তার দূর্বলতা গিয়ে ঠেকে একটি যায়গায় আর সেটি হলো মা।বছর পাঁচেক হতে না হতেই একদিন তার মা গলায় ফাস দিয়ে আত্মহত্যা করে।তখনও নিস্পাপ সব কিছু দেখতো, ওই যে ঘরের সিলিং ফ্যানের সাথে ফাস লাগানো মায়ের শরীর টার দিকে সেদিন পাঁচ বছরের ছোট্ট নিস্পাপ গভীর ধ্যানে তাকিয়েছিলো।অবুঝ নিস্পাপ তখনও বুঝতে পারে নি তার মা তাকে আজীবনের মতো ছেড়ে চলে গিয়েছে। উল্টো পুলিশ না আসা অব্দি,ঝামেলায় জড়ানোর ভয়ে মায়ের ঝুলানো শরীর টায় যখন কেউ হাত দেয় নি সেখানে সে খাটের ওপর দাঁড়িয়ে মায়ের পা ধরে ধুলাচ্ছে আর খিলখিল হাসছিলো, ছোট্ট চিকন কণ্ঠে বলছিলো,
“আমাকেও একটু দোলাও না মা, আমিও দোল খাবো।”
কথা গুলো মানস্পটে ভেসে উঠতেই, নিস্পাপের চোখ থেকে নামলো বর্ষার ধারা।নিজেকে সামলে নিলো চুটকিতেই। গন্তব্য শেষ।নিজের ছোট খাটো একটা ফুলের দোকানের সাটার খুলে ব্যাস্ত হাতে ফুল গুলো সাজাতে লাগলো একের পর এক।দূর থেকে দেখলে কে বলবে মেয়েটা অন্ধ।
নিস্পাপের কাছে অন্ধত্ব একটি আপেক্ষিক বিষয়।এই যে সে দেখতে পায় না অথচ তার আশেপাশের আলোর অস্তিত্ব টের পায় খুব ভালো করে।একটা মানুষ কিভাবে কথা বলে?কথা বলার সময় মানুষের মুখের অভিব্যক্তিও টের পায়,সত্য মিথ্যা, সুখ দুঃখ যে-ধরনেরই হোক না কেনো,একটা মানুষের মানসিক অবস্থাও আঁচ করতে পারে সুক্ষ্ম ভাবে।
একটু আগে আয়মানের বলা কথাগুলো ভাবায় তাকে,চোখে না দেখুক সে স্পষ্ট উপলব্ধি করতে পেরেছে আয়মানের ভালোবাসার গভীরতা,কিন্তু নিস্পাপ চায় না কারো জীবনের অভিসাপ হতে।
ফুলের দোকান বন্ধ করতে সময় প্রায় অনেক হয়ে গিয়েছে, রাত এগারোটার কাছাকাছি ঘড়ির কাটা, সময় দেখতে পারে না নিস্পাপ, কিন্তু উপলব্ধি করতে পারে প্রতিটি ক্ষন, প্রতিটি ঘন্টা।তাড়াহুড়ো করেই দোকান বন্ধ করেছে সে, মনে মনে আয়মানের কথা ভাবলো, কিন্তু না! আজ দোকান থেকে বেড়িয়ে আয়মানের সুমধুর কন্ঠ শুনতে পেলো না, নাকে এসে ঠেকলো না পরিচিত স্মেল।
বাড়ি থেকে দোকানের দুরত্ব প্রায় বিশ মিনিটের পথ।প্রতিদিন পায়ে হেটেই আসে সে।তবে ফিরতে বেশ দেরি করে না কখনো, মাঝে মধ্যে দেরি হয়ে গেলেও একা পথের সঙ্গি হয় আয়মান। কিন্তু আজ অভিমান করে আয়মানও আসলো না। মন খারাপের অভিব্যক্তি ফুটে উঠলো নিস্পাপের চেহারায়।দেরি না করে হাটা ধরলো দ্রুত, কিন্তু মনের মধ্যে ভয় আর খচখচানিটা বাড়ছে রাস্তা পার হওয়া নিয়ে। আয়মান না থাকলে রাস্তা পার হওয়া নিয়ে খুব ঝামেলা পোহাতে হয় তার। মনে মনে দোয়া করতে লাগলো কেউ একজন আসুক তাকে রাস্তাটা পার করে দিক।
প্রায় পাঁচ মিনিটের মতো মেইন রোডের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে নিস্পাপ,, যার কারনে রাস্তায় ছোট খাটো একটা জ্যাম বেধে গিয়েছে। চারদিক থেকে গাড়ির হর্ন আর মানুষের চেচামেচির আওয়াজে দিকভ্রান্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে মেয়েটা, নিজেকে খুব অসহায় লাগছে এখন, কি করবে লোপ পেলো চিন্তাশক্তি।
কিন্ত হটাৎ করেই বুঝলো কারো শক্ত হাতের মুঠোয় তার হাত আটকেছে, লোকটা মালের বস্তার মতো এক প্রকার টেনে হিচড়ে নিয়ে যাচ্ছে তাকে।নিস্পাপ উপলব্ধি করলো লোকটা প্রচুর রেগে আছে, মেজাজ গরম হলো নিস্পার,রাগুক না হয় যা ইচ্ছে তাই করুক এভাবে রাস্তা পার করানোর কি মানে? তেতে উঠলো নিস্পাপ,
“কে আপনি? মনুষ্যত্ববোধ নেই নাকি আপনার? এভাবে টেনে হিচড়ে কেউ রাস্তা পার করে?”
অপর পাশ থেকে গাড়ির হর্ন ছাপিয়ে ভেসে এলো গমগমে কন্ঠ,
“তাওসিফ তাকরিম কাউকে কৈফিয়ত দেয় না।”
চলবে,,,,,
‼️আমি আগেও বলেছি আর এখনো একই কথা বলছি, রেসপন্স না পেলে আমি গল্প অফ করে দিবো।‼️
হিপনোটাইজ
তাজনিন_তায়্যিবা
সূচনা পর্ব
Share On:
TAGS: তাজনিন তায়্যিবা, হিপনোটাইজ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
হিপনোটাইজ পর্ব ৯
-
হিপনোটাইজ পর্ব ২
-
হিপনোটাইজ পর্ব ৪
-
হিপনোটাইজ পর্ব ৮
-
হিপনোটাইজ পর্ব ৫
-
হিপনোটাইজ পর্ব ৬
-
হিপনোটাইজ পর্ব ৩
-
হিপনোটাইজ পর্ব ১০
-
হিপনোটাইজ পর্ব ৭