শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৪৭.১
সাদিয়াসুলতানামনি
জাওয়াদের কোলে চড়ে তার গলা জড়িয়ে ধরে কাঁধে মুখ গুঁজে ফুপাচ্ছে তাজওয়াদ। মাম্মা তাকে শুধু শুধু বকা দিলো কেন? তার কি কষ্ট লাগে না শুধু শুধু বকা খেতে? কাঁদতে কাঁদতে ফর্সা মুখশ্রী লাল টমেটো বানিয়ে ফেলেছে বাচ্চাটা। জাওয়াদ তাঁকে নিজের সাথে নিয়ে আসে নিজের কেবিনে। ছেলেকে চলে গিয়েছে বাবার সাথে, পূর্ণতা কি আর না গিয়ে পারে? সেও রাগে ফোঁস ফোঁস করতে করতে তার পেছনে যায়।
কিন্তু জাওয়াদের কেবিনে ঢোকার পূর্বে দরজার সাথে লাগানো নেমপ্লেটের লেখা দেখে পূর্ণতা ছোটখাটো একটা শক খায়। কারণ সেখানে থাকা স্টেইনলেস স্টিলের উপর গোটাগোটা অক্ষরে লেখা রয়েছে “Head director of Oishorjo Creations”। সঙ্গে সঙ্গে পূর্ণতার মস্তিষ্কে বিদ্যুৎ বেগে একটা প্রশ্ন খেলে যায়, ” জাওয়াদ সাহেব এই কেবিনে ঢুকলো কেনো?”
পূর্ণতা আর কিছু ভাবতে নিবে তখনই কেবিনের ভেতর থেকে তাজওয়াদের খিলখিলিয়ে হাসার শব্দ পায় সে। আপাততের জন্য সকল ভাবনা চিন্তাকে নিজের মনেই চেপে নিয়ে সে ভেতরে প্রবেশ করে। ভেতরে গিয়ে দেখে জাওয়াদ তাজওয়াদকে সুইভেল চেয়ারে বসিয়ে গোল গোল ঘুরাচ্ছে। তাই তাজওয়াদ হাসছে। বিষয়টা তাজওয়াদের দারুণ লাগে। মায়ের অফিসেও গিয়ে সে মাঝে মধ্যে এমন দুষ্টুমি করে।
তাজওয়াদ চেয়ারের হাতল শক্ত করে ধরে খিলখিল করে হাসতে হাসতে বলে–
—ভালো আঙ্কেল, আলো জোলে ঘুলাও। মজা লাগছে আমাল।
ছেলের কথায় জাওয়াদ তেমন বিশেষ একটা কান দেয় না। কারণ বেশি জোরে ঘুরালে পরে তাজওয়াদেরই খারাপ লাগবে। মিনিট দুয়েকের মতো এমন করে খেলে জাওয়াদ থেমে যায়। জাওয়াদ থেমে যাওয়ায় তাজওয়াদ তার দিকে তাকিয়ে বলে–
—কি হলো? অফ কললে কেন ঘুলানো?
জাওয়াদ তাজওয়াদকে চেয়ার থেকে উঠিয়ে নিজে বসে তারপর ছেলেকে নিজের কোলের উপর বসায়। আদুরে গলায় বলে–
—এমনভাবে বেশি ঘুরলে পরে মাথা ঘুরবে। বমি বমি লাগবে সোনা। আজকের জন্য এইটুকুই যথেষ্ট।
তাজওয়াদ আর জেদ করে না। ভদ্র বাচ্চার মতো মেনে নেয় তার ভালো আঙ্কেলের কথা। হুট করে মনে পড়ে তার আজকে ড্রয়িং করা পিকচারটির কথা। সে তার মায়ের দিকে তাকিয়ে অতি উৎসাহ নিয়ে বলে–
—মাম্মা, আমাল ড্রয়িংটা দাও। ভালো আঙ্কেলকে দেখাবো।
পূর্ণতা এতক্ষণ জাওয়াদের কেবিনের একপাশে রাখা সোফায় বসে ফোন টিপার বাহানায় আঁড়চোখে বাবা-ছেলের কর্মকাণ্ড দেখছি। সত্যি বলতে, বিষয়টা দেখতে তার মোটেও খারাপ লাগছিল না। সে ছেলের কথা মতো নিজের পার্সে ভাজ করে রাখা পেপারটা বের করে দেয়। তাজওয়াদ তার ড্রয়িং পেপারটার ভাজ খুলে অনেক আগ্রহ নিয়ে জাওয়াদকে দেখিয়ে বলে–
—জানো আঙ্কেল, আজ আমাল স্কুলে মিসলা ড্রয়িং শিখিয়েছে। বলেছে আমাদেল মোস্ট ফেভারিট কিছু আঁকতে। আমাল তো তোমাকে আল মাম্মাকে অনেএএক ভালো লাগে। তাই আমি মিসেল হেল্প নিয়ে তোমাকে, আমাকে আল মাম্মাকে এঁকেছি। সুন্দল হয়েছে না?
জাওয়াদ ছেলের অপরিপক্ক হাতে অঙ্কিত ড্রয়িং খানা দেখে প্রচণ্ড আবেগী হয়ে পড়ে। বাচ্চা নিজের অজান্তেই তাদের ফ্যামিলি পিকটা ড্রয়িং করেছে। মাঝে তাজওয়াদ তার ডান পাশে জাওয়াদ ও বাম পাশে পূর্ণতা। ড্রয়িংয়ে জাওয়াদের বুঝানোর জন্য তার অবয়বটাকে ডার্ক ব্রাউন কালার করে দিয়েছে হালকা করে। আর পূর্ণতা ও নিজের অবয়বটা সাদাই রেখেছে। সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, তাজওয়াদ তার অঙ্কিত ছবিটায় তাদের তিনজনের কারো চোখ-মুখ আঁকেনি। ছবিটা দেখে জাওয়াদের চোখের কার্নিশে নোনাপানি জমা হতে থাকে।
জাওয়াদ নিজের হাতে ছবিটা তুলে নিয়ে অস্ফুটস্বরে বলে–
—ভীষণ সুন্দর হয়েছে সোনা। আমার দেখা বেস্ট একটা পিকচার তুমি ড্র করেছো।
ভালো আঙ্কেলের প্রশংসা ছোট্ট তাজওয়াদ খুশিতে ডগমগ হয়ে যায়। সে মুখে হাসি টেনে আজ স্কুলে কি কি করেছে তা ভীষণ আগ্রহ নিয়ে শুনছে। পূর্ণতা একা একা বসে বিরক্তবোধ করছে। জোহরের আজান হয়ে যাওয়ায় পূর্ণতা জাওয়াদের ডেস্কের সামনে এসে শান্ত গলায় বলে–
—তাজওয়াদ বাসায় চলো। ভালো আঙ্কেলকে তোমার ড্রয়িং দেখানো হয়ে গিয়েছে। বাসা গিয়ে মাম্মার অনেক কাজ আছে আগামীকালকের জন্য। চলো সোনা।
তাজওয়াদ এখনই জাওয়াদকে ছেড়ে যেতে চায় না। সে গোবেচারার মতো মুখ করে বলল–
—মাম্মা, আত্তু থাকি না প্লিজ।
—না সোনা। তোমার লাঞ্চের সময় হয়ে গিয়েছে। মাম্মার লাঞ্চ করে মেডিসিন নিতে হবে। জেদ করে না সোনা বাচ্চা। তাছাড়া কাল তো আবার দেখা হবেই আঙ্কেলের সাথে তোমার।
জাওয়াদ ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করে–
—কাল কি আছে?
পূর্ণতা এবার পূর্বের ন্যায় শান্ত ভাবেই বলে–
—কাল তাজওয়াদের পঞ্চম জন্মবার্ষিকী।
কথাটা শ্রবণেন্দ্রিয়ে প্রবেশ করতেই জাওয়াদের বুকের সাথে সাথে মস্তিষ্কেও একটা চাপ লাগে। তার সন্তান জন্মের পাঁচ বছর পূর্ণ হবে কাল। প্রায় পাঁচটা বছর তার সন্তান তাকে না চিনেই, না দেখেই কাটিয়ে দিলো। তার একটা ভুল কতগুলো সময় নষ্ট করে দিলো। কতগুলো সুন্দর মুহূর্ত তার অধরাই রয়ে গেলো। আচ্ছা, এই মুহূর্ত গুলো কি ভবিষ্যতে কোনদিন আবারও হাতছানি দিয়ে জাওয়াদকে ডাকবে? নাকি দূরত্ব নামক অভিশাপ ছেয়েই থাকবে তাদের জীবনে?
জাওয়াদের ধ্যান ভঙ্গ হয় তাজওয়াদের ছোট ছোট কোমল হাতের স্পর্শে। সে তার দুইহাত দিয়ে জাওয়াদের দু’গাল ধরে তাকে নিজের দিকে ফেরায়। তারপর একরাশ উচ্ছ্বাস নিয়ে বলে–
—আঙ্কেল, তুমি কাল আসবে তো আমাল বার্থডেতে? প্লিজ আঙ্কেল, এসো তুমি।
তাজওয়াদ এত সুইট আর কিউট করে জাওয়াদকে আসার কথা বলে যে, সে কোন অন্যকোন পাষাণও গলে রাজি হয়ে যেতো যাওয়ার জন্য। জাওয়াদ তো একপায়ে খাড়া যাওয়ার জন্য। তাও সে এই কথাটুকু পূর্ণতার মুখ থেকে শুনতে চায়। সে আঁড়চোখে একবার পূর্ণতার দিকে তাকিয়ে তারপর নিজের মুখটা দুঃখী দুঃখী করে বলে–
—যেতে তো চাই আমি। কিন্তু গেলে যদি তোমার মাম্মা আমাকে ভাগিয়ে দেয়? তাছাড়া সে তো আমাকে ইনভাইট করেনি যাওয়ার জন্য।
জাওয়াদের কথা শুনে পূর্ণতা ঠিকই তার দুই নাম্বারি মনোভাব বুঝতে পেরে যায়। সে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে থাকে জাওয়াদের দিকে। অন্যদিকে তাজওয়াদেরও মন বলে ওঠে, তাই তো। মাম্মা তো ভালো আঙ্কেলকে ইনভাইট করেনি আমাদের বাসায় যাওয়ার জন্য। এই কথাটা মনে হতেই তাজওয়াদ তার মায়ের দিকে তাকায়। চোখে মুখে একরাশ আকুতি নিয়ে। পূর্ণতা এই বাপ-বেটার কাহিনি দেখে হতাশ, বড়ই হতাশ।
— কালকে আপনাকে আমাদের বাসায় যাওয়ার জন্য ইনভাইট করেই আমরা এসেছিলাম। ছেলেটা চায় আমাদের সকলকে নিয়ে দিনটা কাটাতে। আশা করি আসবেন, নাহলে ওর মনটা খারাপ হয়ে যাবে।
জাওয়াদ হুট করে জিজ্ঞেস করে–
—আমি না গেলে ওর মায়ের মনটা খারাপ হবে না?
—ওর মায়ের মনের সাথে আপনার লেনাদানা পাঁচ বছর আগেই শেষ হয়ে গিয়েছে। তাই ওর মায়ের জন্য আপনার আসা, না আসা কোন ফ্যাক্ট না।
মুখের কথা যে ধা/রালো ছু/রির থেকেও তীক্ষ্ণ সেটা জাওয়াদ বহু আগেই উপলব্ধি করতে পেরে। কিন্তু দিনকে দিন তার উপলব্ধি আরো গভীর হচ্ছে।
—এখন আমাদের যেতে হবে। আসো তাজ, আমার কাছে আসো।
পূর্ণতা তার একহাত বাড়িয়ে দেয় ছেলের উদ্দেশ্যে। তাজওয়াদও পূর্ণতার সাথে যাওয়ার জন্য জাওয়াদের কোল থেকে নামতে উদ্যত হয়, কিন্তু জাওয়াদ তাকে নামতে দেয় না।
বরং সে কণ্ঠে একপ্রকার আকুতি নিয়ে বলে–
—আজ আমার সাথে লাঞ্চ করলে কি খুব বেশি ক্ষতি হয়ে যাবে? আজকের জন্য লাঞ্চটা করো আমার সাথে প্লিজ।
—তাজওয়াদকে ফ্রেশ করাতে হবে, আমার ফ্রেশ হতে হবে, আমার মেডিসিন আছে দুপুরের। এসব কিভাবে হবে?
ভ্রু নাচিয়ে জিজ্ঞেস করে পূর্ণতা তাকে।
—চাইলেই সব সম্ভব। আমি ব্যবস্থা করছি তোমাদের ফ্রেশ হওয়ার। আর ঔষধ গুলো নাহয় বাসায় গিয়ে নিয়ে নিও।
—আমার ও আমার ছেলের জন্য আপনার এত ঝামেলা করতে হবে না। ওকে ছাড়ুন, বাসায় যেতে হবে আমাদের।
—তোমরা তো আমারই। তোমাদের জন্য কিছু করা ঝামেলার হয় নাকি?
—হাহ্!
তাচ্ছিল্য ভরে হেঁসে ওঠে পূর্ণতা। তার এই তাচ্ছিল্যের হাসি জাওয়াদের বুকে অনুতাপের আগুন জ্বালিয়ে দেয় আবারও। অপরাধবোধ চোখ নুইয়ে যায়। তার সেই অপরাধবোধের গুমট হাওয়া পুরো কেবিনে ছড়িয়ে পড়ে। সেই গুমট পরিবেশকে দূর করতেই বোধহয় তখন আসে জিনিয়া।
—ভাবীপু, তাজওয়াদ তোমরা?
জিনিয়ার গলার আওয়াজের সকলের ধ্যান ভঙ্গ হয়। তাজওয়াদ তো তার পিপিকে দেখে জাওয়াদের কোল থেকে মুচড়ে নেমে তার উদ্দেশ্য ছুট লাগায়।
—পিপিইইইইইই….
জিনিয়া হাতের টিফিনবাক্সটা নিচে রেখে ভাতিজাকে কোলে তুলে নেয়। দু’জন দু’জনের উপর প্রাণ দেয়, এতই গভীর তাদের ভালোবাসা। জিনিয়া তাজওয়াদকে আদরে আদরে ভরিয়ে দিয়ে বলে–
—আমার সোনাবাচ্চা কেমন আছেন?
—ভালো আছে পিপি।
জিনিয়া তাজওয়াদকে কোলে রেখেই টিফিনবাক্সটা নিচ থেকে নিয়ে কেবিনের ভেতরে প্রবেশ করে। পূর্ণতার কিছু বলার আগেই তাজওয়াদই ফরফর করে বলে দেয় তারা কেনো এসেছিল জাওয়াদের সাথে দেখা করতে।
পূর্ণতা জিনিয়ার কাছে এসে তাজওয়াদকে নেওয়ার জন্য হাত বাড়ালে জিনিয়া অনুরোধের সুরে বলে–
—ভাবীপু, আজ লাঞ্চ করে যাও। আমি নিজ হাতে রান্না করেছি। প্লিজ ভাবীপু, তুমি না আমার লক্ষী ভাবীপু।
—তুমি রাঁধতে পারো?
—হ্যাঁ, টুকটাক শিখেছি ভাইয়ের জন্য। ভাইয়া তো গত পাঁচ বছর ধরে মায়ের হাতের রান্না খায় না। বাহিরের খাবার খেয়ে খেয়ে একবার ফুড পয়/জনিং হয়ে হসপিটাল অব্দি যেতে হয়েছিল একবার ভাইয়াকে। তারপর থেকে আমিই আগ্রহ করে রান্না শিখেছি।
জিনিয়ার কথা শুনে পূর্ণতা হতভম্ব হয়ে যায়। যেই ছেলে মায়ের রান্না ব্যতীত অন্য কারো রান্না মুখেই তুলত না, সে কিনা পাঁচ বছর ধরে তার হাতের রান্নাই খায় না। এ-ও কি সম্ভব?
জিনিয়া আর জাওয়াদ পুরো কোমড় বেঁধে লেগে পড়ে পূর্ণতাকে আজ তাদের সাথে লাঞ্চ করার জন্য। জাওয়াদ ফাঁকে ফাঁকে তাজওয়াদকেও উস্কে দেয়, তার মাকে রাজি করানোর জন্য। জাওয়াদ, জিনিয়া আর তাজওয়াদের অসম্ভব পীড়াপীড়িতে অবশেষে পূর্ণতার জেদকে হার মানতে হয়। পাঁচ বছর পর পূর্ণতা আবারও তাদের সাথে বসে লাঞ্চ করে। তারা নিজেদের সাথে টনিকেও ডেকে নেয়। লাঞ্চ করা শেষ করে পূর্ণতা আর দেরি করে না বাসার উদ্দেশ্যে বের হওয়ার জন্য।
জিনিয়া ও জাওয়াদ তাদের গাড়ি অব্দি এগিয়ে দিতে আসে। পূর্ণতারা গাড়িতে বসার আগে পূর্ণতার ফোনে একটা কল আসে। পকেট থেকে ফোনটা বের করে দেখে নওশাদ কল করেছে। সে কলটা রিসিভ করে কৌতুক করে বলে–
—বিদেশি সাহেবের গ্রাম এক্সপ্লোর করা হলো তাহলে? মনে পড়লো আমাদের কথা?
পূর্ণতাকে এমন হাসতে হাসতে কথা বলতে দেখে জাওয়াদ ভ্রু কুঁচকে তার দিকে তাকিয়ে থাকে। কার সাথে কথা বলছে পূর্ণতা এমন করে? প্রশ্নটা তার মন ও মস্তিষ্কে ঘুরপাক খেতে থাকে।
—কালকের সাত সকালে আমাদের বাসায় চলে তো নওশাদ ভাই। তোমার চ্যাম্পের জন্মদিন মনে আছে কি তোমার?
নওশাদের নামটা শুনে জাওয়াদের পায়ের তলা থেকে মাথার তালু অব্দি জ্ব”লে ওঠে। তার দৃষ্টিতে, ছেলেটা এক নাম্বারের ছ্যাচড়া। কেনো? কারণ, জাওয়াদের ভাষ্যমতে নওশাদ সবসময় চুংগামের মতো চিপকে থাকতে চায় তার বউ-বাচ্চার সাথে। কোন ভদ্র-সভ্য পুরুষ কি অন্যের বউ-বাচ্চার সাথে এত চিপকে থাকে? একমাত্র ছ্যাচড়াই করে এসব কাজকর্ম।
—আজই আসবে? আসো তাহলে। রাতটা আমাদের বাড়িতেই থেকো। তোমার চ্যাম্প খুশিতে নেচে উঠবে এটা শুনলে পড়ে। নাও ওর সাথে কথা বলো।
পূর্ণতা তার ফোনটা তাজওয়াদকে দিয়ে বলে তার বাবাই ফোন করেছে। তাজওয়াদ ঝটপট ফোনটা নিজের কানে চেপে ধরে শুরুতে কতক্ষণ নালিশ জানায়, কেন নওশাদ এতদিন আসল না তার সাথে দেখা করতে? এরজন্য তাজওয়াদ ভীষণ রাগ করেছে তার বাবাইয়ের সাথে। এরপর যখন তাজওয়াদ শুনে, নওশাদ আজ তার সাথে দেখা করতে আসবে এবং রাতটা তাদের বাড়িতেই থাকবে তো সত্যি সত্যিই সে খুশিতে খলবলিয়ে ওঠে। তাজওয়াদ নওশাদের সাথে কথা বলতে বলতেই গাড়িতে উঠে বসে। পূর্ণতা জিনিয়ার থেকে বিদায় নিয়ে নিজেও গাড়িতে উঠে পড়ে। তারা দু’জন গাড়িতে উঠতেই টনি গাড়ি চালানো শুরু করে দেয়।
জাওয়াদ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তাদের চলন্ত গাড়ির দিকে তাকিয়ে থাকে যতক্ষণ না পর্যন্ত সেটা দৃষ্টি সীমার বাহিরে চলে যায়। বুকের ভেতর প্রচণ্ড ক্ষোভ ও সংশয় কাজ করছে তার। সে কিছুতেই মানতে পারছে না, নওশাদ আজ আহমেদ ম্যানশনে থাকবে।
জিনিয়াও গাড়িতে করে বাসার উদ্দেশ্য রওনা হয়ে যায়। জাওয়াদ নিজের কেবিনে এসে ভাবতে থাকে কিভাবে নওশাদের মায়া থেকে তাজওয়াদ ও পূর্ণতা সরিয়ে আনবে।
[গল্পটি ভালো লাগলে বেশি বেশি শেয়ার করে আপনার গল্প প্রেমী বন্ধুদের নিকট পৌঁছে দিন। ]
চলবে?
[আজ আমি একটু বেশিই অসুস্থ। আমার বাসায় আম্মু-নানু অসুস্থ। আমাদের জন্য দোয়া রাখবেন।
ভুলক্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। গঠনমূলক মন্তব্য করবেন। হ্যাপি রিডিং মাই লাভিং রিডার্স ]
Share On:
TAGS: শেষ পাতায় সূচনা, সাদিয়া সুলতানা মনি
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৮
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৪
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ২৯
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৪২.১
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ১৯
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৪১.২
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ১৬
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৪২.২
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৩+বোনাস
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ১