রোদ্দুরেরছেঁড়ামানচিত্র
পর্ব_৩
কলমে #নিলুফানাজমিননীলা
★★★
তৃণা দাঁড়িয়ে আছে বেলকনিতে। দৃষ্টি তার বাইরের দিকে। মির্জা বাড়িটা শহরে হলেও, বাড়ির পরিসরটা অনেকটা বড়। বাড়ির চারদিকেই অনেক গাছপালা রয়েছে। তৃণা এখন এক ধ্যানে সেই গাছগুলোর দিকেই তাকিয়ে আছে। জীবনের কথা চিন্তা করেই ব্যথিত হচ্ছে মেয়েটি।
হঠাৎ পেছন থেকে কেউ ডেকে উঠল,
“হ্যালো ভাবি।”
তৃণা অবাক হয়ে পেছনে তাকালো। দেখল, একটি হাসিমুখের ছেলে দাঁড়িয়ে আছে। পরনে টি-শার্ট, তার উপরে বোতাম খোলা শার্ট। ছেলেটার সাথে আবার নৌশিও আছে। তৃণা ছেলেটাকে চিনতে পারল না।
তৃণাকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে ছেলেটা হেসে দিয়ে বলল,
“আমাকে চিনতে পারছেন না, তাই তো?”
তৃণা শুধু মাথা নাড়ালো, যার অর্থ সে সত্যিই ছেলেটাকে চিনতে পারছে না। ছেলেটা হেসে সামনে এগিয়ে এসে বলল,
“আমি আদনান, আদনান মির্জা। আপনার দেবর।”
তৃণা এবার হেসে বলল,
“ও আচ্ছা! আপনাকে আগে দেখিনি, তাই চিনতে সমস্যা হলো।”
আদনান হেসে বললেন,
“আরে, সমস্যা নেই। আমিও আপনাকে দেখিনি। এই প্রথমই দেখলাম।”
তৃণা আবারও মুচকি হাসলো। নৌশি এবার আদনানের দিকে ফিরে বলল,
“কী রে, এত সুন্দর করে কথা বলছিস? ভদ্র সাজার চেষ্টা করছিস নাকি?”
আদনান রাগী দৃষ্টিতে নৌশির দিকে তাকিয়ে বললেন,
“পিচ্চি, মুখ সামলে কথা বল। আর ভাবির সামনে তুই-তুকারি করছিস কেন? আমি তোর বড় ভাই হই, তাই ভাইয়া ডাকবি। আর আমি বরাবরই ভদ্র।”
নৌশি মুখ ভেংচি কেটে বলল,
“আইছে বড় ভাই আমার।হ্যা তবে ডাকতে পারি আদু ভাই বলে।” বলেই নৌশি খিলখিল করে হেঁসে উঠল।
আদনান নৌশির মাথায় ঠাস করে চড় দিয়ে দিলো। এরকমটা ওদের মাঝে হতেই থাকে। এটা নতুন না। নৌশি আর আদনানের সম্পর্ক সাপ আর নেউলের মতো।তাদের মাঝে মাঝে বয়সেরও তেমন পার্থক্য নেই।
নৌশি এবার তৃণার দিকে তাকিয়ে বলল,
“জানো ভাবি, এই আদনানের বাচ্চা সাত দিনে একদিন গোসল করে। আর শুধু তাই না, ওর চরিত্র খারাপ একশোটা মেয়ের…”
পরের কথাটা সে আর বলতে পারল না। আদনান নৌশির মুখ চেপে ধরে বললেন,
“নৌশি, তুই আমার ইজ্জতের বারোটা বাজাতে পারিস না।”
তৃণা তাদের অবস্থা দেখে মুখে চেপে হাসছে। হঠাৎ তৃণার মোবাইলে আবারও একটা কল আসলো। নৌশি আর আদনান ঝগড়া করতে করতেই চলে গেল।
তৃণার মোবাইলটা তখনো চার্জেই দেওয়া। তৃণা গিয়ে দেখল তৌহিদ আবারও কল করেছে। তৃণা কালক্ষেপণ না করে কল রিসিভ করল। ওপাশ থেকে তৌহিদের কণ্ঠস্বর ভেসে এলো।
তৃণা কথা বলতে পারছে না, শুধু তৌহীদের কণ্ঠটাই শোনা যাচ্ছে। তৌহীদ আবারও ওপাশ থেকে বলল,
“হ্যালো তৃণা। আমার কথা শুনতে পারছো তুমি?”
তৃণা ভীষণ ধীর কণ্ঠে বলল, “হ্যাঁ, শুনতে পারছি।”
তৌহীদ হয়তো তৃণার থেকে এরকম উত্তর আশা করেনি। তাওহীদ বলল,
“তুমি এটা কী করে করতে পারলে? কীভাবে অন্য একটা ছেলেকে বিয়ে করতে পারো তুমি? আমি তো তোমাকে ভালোবাসতাম।”
তৌহীদের কণ্ঠে কাঁপা কাঁপা সুর শোনা গেল। হয়তো ছেলেটা কথাটা বলতে গিয়ে কেঁদে দিয়েছে।
তৃণা বলল, “আমার কোনো উপায় ছিল না।”
তৌহিদ বলল, “যা হওয়ার হয়েছে, তুমি আমার সাথে আগামীকাল যেভাবেই হোক দেখা করবে।”
তৃণা সাথে সাথে অসম্মতি জানালো, বলল,
“না, সম্ভব না। আমি দেখা করতে চাই না।”
তৌহিদ জেদি কণ্ঠে বলল,
“আমি অপেক্ষা করব। যদি তুমি না আসো, তাহলে আগামীকাল তুমি আমার মৃত্যুসংবাদ পাবে।”
বলেই তৌহিদ তৃণাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে কল কেটে দিল। তৃণার ভীষণ কান্না পাচ্ছে। মেয়েটি কী করবে, বুঝে উঠতে পারছে না।
অনেকক্ষণ পর তৃণা রুম থেকে বের হতেই দেখল, ওমর হাওলাদার, মানে তৃণার বাবা, মেইন গেট দিয়ে ঢুকছেন। তৃণার মুখে তাড়াতাড়ি হাসি ফুটে উঠল। সে দৌড়ে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে গেল।
ইতিমধ্যে আহাদ মির্জা আর ওমর হাওলাদার দুই বন্ধুর কুশল বিনিময় হয়ে গেছে। তৃণা তার বাবাকে জড়িয়ে ধরল। ওমর হাওলাদারও মেয়েকে জড়িয়ে ধরলেন। তৃণা বাবাকে জড়িয়ে ধরেই ডুকরে কেঁদে দিল।
ওমর হাওলাদার মেয়ের মুখে হাত বুলিয়ে বললেন,
“এভাবে কাঁদছিস কেন পাগলী মেয়ে?”
“তোমার কথা খুব মনে পড়ছিল, আব্বু।”
ওমর হাওলাদার মেয়েকে জিজ্ঞেস করলেন,
“সবকিছু ঠিকঠাক আছে তো মা?”
তৃণা মিথ্যা হেসে বলল,
“হ্যাঁ আব্বু। এই বাড়ির সবাই অনেক ভালো।”
আহাদ মির্জা অবাক হয়ে তৃণার দিকে তাকিয়ে রইলেন। এত খারাপ ব্যবহার করল বাড়ির মানুষেরা, তবুও তৃণা তার আব্বুকে কিছুই বলল না।
ওমর হাওলাদার আহাদ মির্জার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “আরিয়ান কোথায়?”
আহাদ মির্জা কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন। আরিয়ান তার শ্বশুরের সাথে দেখা করবেন না বলে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে গেছেন। কিন্তু এই কথাটা কীভাবে বলতে পারেন তিনি?
আহাদ মির্জা বললেন,
“আসলে কোম্পানিতে একটা বিশেষ দরকারে যেতে হলো আরিয়ানকে। চিন্তা করিস না, কিছুক্ষণের মধ্যেই হয়তো চলে আসবে।”
ওমর হাওলাদার বললেন,
“এখানে সবাই আছেন, কিন্তু বিয়াইনকে দেখতে পাচ্ছি না যে?”
তখনি দেখা গেল, মায়মুনা বেগম সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে আসছেন।
ওমর হাওলাদার জিজ্ঞেস করলেন, “ভালো আছেন বেয়াইন?”
মায়মুনা বেগম মুখের ভাব কালো করে বললেন,
“একটা নষ্ট, চরিত্রহীনা মেয়েকে আমার ছেলের ঘাড়ে গছিয়ে দিয়ে বলছেন ভালো আছি কিনা।”
উপস্থিত সকলে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল। রাহি বেগম (বড়মা) মায়মুনাকে ফিসফিস করে বললেন,
“কী করছিস কী মেজো? কেন এসব কথা বলছিস?”
মায়মুনা বেগম উচ্চস্বরে বললেন, “যা বলেছি, একদম ঠিকই বলছি।”
তৃণার চোখ বন্ধ হয়ে এলো। শেষ পর্যন্ত চরিত্রহীনার অপবাদ পেতে হচ্ছে এত এত মানুষের সামনে! অথচ কোনো দিন মেয়েটি কোনো ছেলের হাত অবধি ধরেনি। কিন্তু কেন এসব বলছেন মায়মুনা?
ওমর হাওলাদারের মুখটা শুকিয়ে গেল। আদরের মেয়ের সম্পর্কে এমন কথা কোন বাবাই বা সহ্য করতে পারে? তিনি বললেন, “এসব কী বলছেন বেয়াইন?”
আহাদ মির্জা নিজ স্ত্রীর প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে বললেন,
“মায়মুনা, তুমি করছো কী এসব? থামো বলছি!”
কিন্তু না, স্বামীর আদেশও তিনি মানলেন না। আরও ঘৃণ্য স্বরে বললেন, “যা সত্যি, তাই বলছি! এই মেয়েটা চরিত্রহীন। খারাপ একটা মেয়ে। তোমরা সবাই ভাবলে কী করে, এরকম একটা মেয়েকে আমার ছেলের বউ করে ঘরে তুলব? আর আপনিই বা কেমন বাবা?”
তৃণা এবার চক্ষু লাল করে মাথা তুলে মায়মুনা বেগমের দিকে তাকালো,
“আমাকে যা বলার বলুন, আমাকে মারুন, কাটুন, সমস্যা নেই। কারণ এইগুলো আমার অভ্যাস আছে। কিন্তু খবরদার আমার বাবাকে কিছু বলবেন না। তাহলে আমি ভুলে যাব, আপনি আমার গুরুজন।”
তৃণার এহেন কথায় মায়মুনা আরও রাগে হুঙ্কার করে বললেন,
“কী! বড় সাহস! মুখে মুখে তর্ক করে! ইচ্ছে হচ্ছে এখুনি গলা টিপে ধরি!”
ইতিমধ্যে আদনান, নৌশি এবং নুসরাত নিচে নেমে এলো। এই দৃশ্য দেখে তাদের চক্ষু চড়কগাছ। এই কী ব্যবহার? কিন্তু মায়মুনা বেগম তো এমন নন! বাড়িটাকে সবসময় খুশি রাখেন এই ভদ্রমহিলা। কিন্তু তৃণার বেলায় এতটা খারাপ ব্যবহার কেন?
ওমর হাওলাদার অসহায় চোখে নিজ বন্ধুর দিকে তাকিয়ে বললেন,
“আহাদ, তোর ছেলের সাথে আমার মেয়ের বিয়ে দিয়েছিলাম এই আশায় যে আমাদের বন্ধুত্ব অটুট থাকবে। কিন্তু এই কি তোর পরিবারের আসল রূপ? তুই নিজ বন্ধুর মান রাখতে পারলি না!”
আহাদ মির্জা ধপ করে সোফায় বসে পড়লেন। ওনার সবকিছু সামনে অন্ধকার মনে হচ্ছে। তিনি নিজের বন্ধুকে কী জবাব দেবেন!
ওমর হাওলাদার তৃনাকে এক হাতে জড়িয়ে ধরে বললেন, “আমার মেয়ে সস্তা নয় যে আপনারা আমার মেয়ের সাথে যা-তা করবেন। ও আমার রাজকন্যা। আজ এই মুহূর্তে আমার মেয়েকে নিয়ে যাচ্ছি। আর হ্যাঁ, খুব তাড়াতাড়ি ডিভোর্স লেটার পাঠিয়ে দেব।”
মায়মুনা বেগম ভীষণ খুশি হলেন। এটাই উনি চাচ্ছিলেন।
রাহি বেগম অনুরোধ করে বললেন,
“মায়মুনার আসলে রাগ হয়েছে, তাই এরুপ বলছে। দয়া করে তৃণাকে নিয়ে যাবেন না। কয়েকদিন টাইম দিন, সব ঠিক হয়ে যাবে।”
ওমর হাওলাদার ক্ষমা চেয়ে বললেন, “মাফ করবেন। এরকম জায়গায় আমার মেয়েকে ফেলে যেতে পারি না আমি।”
তৃণার দিকে তাকিয়ে বললেন, “চল মা।”
কিন্তু ওমর হাওলাদারকে অবাক করে দিয়ে তৃণা এক পা-ও নড়লো না। ওমর হাওলাদার মেয়েকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বললেন, “কী হয়েছে? চল।”
তৃণা বাবার চোখের দিকে তাকিয়ে বলল,
“কোথায় যাব আব্বু? এটা আমার স্বামীর বাড়ি। যেভাবেই হোক, বিয়েটা হয়ে গেছে। আমি কোনোভাবেই এই বাড়ি ছাড়তে পারব না।”
ওমর হাওলাদার মেয়ের কথা শুনে অবাক হয়ে বললেন, “এসব কী বলছিস মা? এত কিছুর পর তুই থাকবি এখানে?”
তৃণা তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে বাবাকে ফিসফিস করে বলল, “তোমার বাড়ি আর শ্বশুরবাড়ি সবটা ঘুরে ফিরে একই, আব্বু। সেখানে মা-বোন অত্যাচার করত, সহ্য করে নিতাম। এখানকার অত্যাচারও সহ্য করে নেব। ওই বাড়ির মায়ের অত্যাচার থেকে তো আমাকে বাঁচাতে পারোনি বাবা, তাহলে এই বাড়ির অত্যাচার থেকে কী করে বাঁচাবে?”
ওমর হাওলাদার চুপ করে গেলেন। কী বলবেন নিজের মেয়ের উত্তরের জবাবে? উত্তর দেওয়ার মতো কিছু নেই। ওমর হাওলাদার উপলব্ধি করলেন তিনি উপযুক্ত বাবা হতে পারেননি।
ওমর হাওলাদার আর কিছু বলতে পারলেন না। কাঁপা কাঁপা পায়ে বেরিয়ে গেলেন। তৃণা বাবার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে শুধু অশ্রু বিসর্জন দিল।
মায়মুনা বেগম রাগে ড্রয়িংরুম থেকে চলে গেলেন। আহাদ মির্জা তৃণাকে কিছু বলতে চাইলেন, কিন্তু পারলেন না। তিনিও ধীর পায়ে সে জায়গা ত্যাগ করলেন।
★★★
তখন দুপুর পার হয়ে গেছে। তৃণা সদ্য শাওয়ার নিয়ে ওয়াশরুম থেকে বের হলো। তৃণা একটি নীল রঙের শাড়ি পরেছে।
তখনি হঠাৎ রুমে আরিয়ান প্রবেশ করে। আরিয়ানকে দেখে কিছুটা থতমত খেয়ে গেল তৃণা। আরিয়ানের চোখ প্রথমেই গেল তৃণার মুখের দিকে। শ্যামলা বরণের মুখে পানির ছিটা লেগে আছে। ততক্ষণাৎ আরিয়ান চোখ ফিরিয়ে নিলেন।
আরিয়ানের চোখের সামনে ভেসে উঠল আজ থেকে আরও চার বছর আগের দেখা নিজের ভালোবাসার মানুষটার মুখ। যেই মেয়েটাকে সে প্রথম দেখাতেই ভালোবেসে ফেলেছে, যাকে এখনো ভালোবেসে যাচ্ছে।
আরিয়ানের মুখে বিরক্তি ফুটে উঠল। অথচ প্রথমে যখন রুমে ঢুকে তৃণাকে দেখেছিলেন, তখন এতটা বিরক্তিকর মুখ ছিল না।
তৃণা আরিয়ানের দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকায় আরিয়ান রেগে বললেন,
“এভাবে হ্যাবলার মতো দাঁড়িয়ে থেকো না। সরো।”
তৃণা চোখ ফিরিয়ে নিল। আরিয়ান ওয়ারড্রোব থেকে টি-শার্ট আর ট্রাউজার বের করে ওয়াশরুমে ঢুকে গেল।
তৃণা ড্রেসিং টেবিলের সামনে বসে চুলগুলো সামনের দিকে নিয়ে মুছতে লাগল। তৃণা কল্পনায় হারিয়ে গেল। মনে পড়ল তৌহিদের কথা। তৌহিদ বলেছে, তার সাথে দেখা করতে। কিন্তু তৃণা চায় না দেখা করতে।
হারিয়ে গেল সেই প্রথম দিনে, যেদিন দেখেছিল তৌহিদকে। তৌহীদ তার সৎ মায়ের ভাইয়ের ছেলে। তৌহীদ আমেরিকা থাকত। প্রথম যেদিন তাদের বাড়ি এসেছিল, সেদিনই ছেলেটাকে অন্য রকম লেগেছিল। জীবনে প্রথম মনে হয়েছিল, ভালোবাসা কী! কিন্তু কখনো মুখ ফুটে বলতে পারেনি ভালোবাসার কথা। তৌহীদ অনেক ভাবেই বুঝিয়েছে তৃণাকে যে সে তৃণাকে ভালোবাসে, কিন্তু তৃণা সব বুঝেও না বোঝার ভান করে থাকত।
কিন্তু এখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। এখন সে আরিয়ানের স্ত্রী।
তৃণা কল্পনা থেকে বেরিয়ে এলো। নিজের মনকে বোঝালো, ‘এসব ভেবে এখন আর লাভ নেই। আমার স্বামী আছে।’
ওয়াশরুমে শাওয়ারের নিচে দাঁড়িয়ে আরিয়ান চোখ বন্ধ করলো। তার মনে বারবার ভেসে উঠছে অন্য একটি মুখ। সেই মুখটি, যার জন্য তার হৃদয় কেবলই তীব্রভাবে অপেক্ষা করে।
“চারটা বছর ধরে আমি কেবল একটি মানুষকে কল্পনা করে গেলাম। আমি কীভাবে অন্য কাউকে মেনে নেব?” আরিয়ান নিজেকে প্রশ্ন করেন।
আরিয়ান ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে আসলো। তৃণা তখন মাথা নিচু করে চুল মুছতে ব্যস্ত। সে আরিয়ানকে খেয়াল করেনি।
আরিয়ানের চোখ প্রথমেই পড়ল ব্লাউজের উপর দিয়ে দেখা শ্যামলা ত্বকে, যেখানে জখমের আঘাত স্পষ্ট। সেই আঘাতগুলো কালো বর্ণ ধারণ করে আছে।
আরিয়ান গলা খাঁকারি দিল। সাথে সাথে তৃণা শাড়ির আঁচল টেনে পিঠ ঢাকলো।
আরিয়ান কৌতূহল চাপতে না পেরে বলল,
“পিঠে কিসের দাগ এগুলো? কোথায় চুরি করতে গিয়ে ধরা খেয়েছিলে নাকি?”
তৃণা আরিয়ানের কথায় চমকে উঠল। তারপর কিছুক্ষণ মাথা নিচু করে বলল,
“আমার সৎ মায়ের ভালোবাসার দাগ।”
আরিয়ান ফ্যাল ফ্যাল নয়নে তৃণার দিকে তাকিয়ে রইল। তৃণা নিজের চোখের জল লুকিয়ে আবারও মাথার চুল মুছতে লাগল।
তৃণা মনে মনে বলল, ‘আল্লাহ, আমার জীবনে সুখ না দিলেও চোখের জল ভরপুর দিয়েছে। সারাজীবন কাঁদলেও বোধহয় চোখের জল শুকাবে না।’
চলবে…
( ভীষণ অসুস্থতার মাঝেও পর্বটা লিখেছি।হয়তো ঠিক গুচিয়ে লিখে উঠতে পারিনি। ভুল হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।আর অবশ্যই একটা মন্তব্য করে যাবেন।)
Share On:
TAGS: নিলুফা নাজমিন নীলা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
রোদ্দুরের ছেঁড়া মানচিত্র পর্ব ১৮
-
রোদ্দুরের ছেঁড়া মানচিত্র পর্ব ১৪
-
রোদ্দুরের ছেঁড়া মানচিত্র পর্ব ১
-
রোদ্দুরের ছেঁড়া মানচিত্র পর্ব ১২
-
রোদ্দুরের ছেঁড়া মানচিত্র পর্ব ২৭
-
রোদ্দুরের ছেঁড়া মানচিত্র পর্ব ২১
-
রোদ্দুরের ছেঁড়া মানচিত্র পর্ব ২৪
-
রোদ্দুরের ছেঁড়া মানচিত্র পর্ব ৫
-
রোদ্দুরের ছেঁড়া মানচিত্র পর্ব ২
-
রোদ্দুরের ছেঁড়া মানচিত্র পর্ব ২৬