ভালোবাসার_সমরাঙ্গন ||১১||
সারিকা_হোসাইন
দুপুরের পরপর ঘুম ভাঙলো মৌনতার।ঘুম থেকে উঠার পর মাথাটা বেশ হালকা লাগলো তার।শরীরের ভেতর জ্বর জ্বর ভাবটাও এখন আর নেই।মাথাটা বেশ হালকা লাগছে সেই সাথে ঝরঝরে লাগলো পুরো শরীর।তন্দ্রা ভাব কাটতেই বিছানা থেকে নেমে টেবিলের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো মৌনতা এরপর হাতে নিলো ইংরেজি বইটা।এই বইয়ে তনুর চিঠিটা রেখেছে সে।বাড়ির কেউ হুট করে চিঠিখানা দেখলে মৌনতা কে ভুল বুঝবে।আর কোনো ভাবে সেটা রণ’র হাতে পড়লে তবে আর রক্ষে নেই।তপ্ত শ্বাস ফেলে ইংরেজি বই উল্টে পাল্টে চিঠিটা খুজলো মৌনতা।কিন্তু বইয়ে চিঠি নেই।এবার মাথা ঘুরে উঠলো মৌনতার।রণ আর তহুরা ছাড়া বাড়িতে কেউ নেই।তহুরা ভুলেও এ ঘরে আসবে না।রণ নিজেও আসবে না।তবে চিঠিটা গেলো কোথায়?
সমস্ত বইয়ের ভাঁজ,টেবিলের তল,কাঁথা, বালিশ ,বিছানা সব তন্ন তন্ন করে চিঠিটা খুজলো মৌন।কিন্তু চিঠি লাপাত্তা।পড়ার টেবিলের বরাবর গ্রিল হীন খোলা জানালা।মৌন ভেবে নিলো বাতাসে উড়ে গিয়েছে চিঠি।তাই কক্ষ ত্যাগ করে বাড়ির পেছনের জঙ্গলে যাবার জন্য দৌড়ে বেরিয়ে এলো।সিঁড়িতে আনমনে জোরে ধাক্কা লাগলো কারোর শক্ত শরীরের সাথে ।তাল সামলাতে না পেরে উপুড় হয়ে পড়ে যেতে নিলো মৌনতা।এমন সময় কেউ টেনে ধরলো মৌনতার ওড়না।পড়তে পড়তে মৌনতা আটকে রইলো।এরপর কিঞ্চিৎ ঘাড় ঘুরিয়ে পেছনে তাকাতেই রণকে চোখে লাগলো।মৌনতার ওড়নার দুই মাথা হাতে পেঁচিয়ে ধরে আছে সে।ছেড়ে দিলেই মৌনতার চোখা নাক ভোঁতা হবে সেই সাথে খুলে পড়বে দাঁতের কপাট।
মৌনতার ওড়না চেপে ধরেই সিঁড়ির দু ধাপ নেমে এলো রণ।আর এক ধাপ পেরুলেই মৌনতার শরীর ছুঁই ছুঁই।গলায় টান টান ফাঁস টের পেতেই হাত দিয়ে ওড়না ঢিলা করার চেষ্টা করলো মৌন।কিন্তু আরেকটু বাধন শক্ত করে মৌনতা কে একদম নিজের কাছে নিয়ে এলো রণ।খুক খুক করে কেশে ফেললো মৌন।চোখেও জল জমেছে অল্প।মৃদু হেসে মৌনতার হাত চেপে ওড়না ছেড়ে দিলো রণ।এরপর ঠান্ডা গলায় বললো
“কিসের এত তাড়াহুড়ো?কার ডাকে সাড়া দিতে এমন উদ্ভ্রান্তের ন্যয় ছুটছিস?
মৌনতা হাত ছাড়াতে ছাড়াতে বলে উঠলো
“ছেড়ে দাও।এই মুহূর্তে এসব ফাজলামো ভালো লাগছে না।জরুরি কাজ পড়েছে আমার ।
এক ভ্রু উঁচু করে ঠোঁট বাঁকালো রণ।এরপর বড় বড় চোখে বললো
“বাপরে?আমাদের মৌনতা সাবেরি এতো বিজি মানুষ?বাহ!দারুন তো ব্যাপার টা!তা কি কাজ শুনি?জবাব না পেলে হাত ছাড়বো না মোটে।
মৌনতা হাত মোচড়াতে মোচড়াতে বলে উঠলো
“রণ ভাই ছেড়ে দাও,লাগছে।
হাতের বাধন আরেকটু শক্ত করে রণ বললো
“লাগার জন্যই তো ধরেছি।আগে বল কোথায় যাচ্ছিস?
এবার বেকায়দায় পড়লো মৌন।তাই কিছুক্ষণ ভেবে বলে উঠলো
“তনুপু তোমাকে একটা চিঠি লিখেছিল।আমায় বলেছে সেটা তোমায় দিতে।কিন্তু ঘুম থেকে উঠে চিঠিটা পাচ্ছি না।হয়তো জানালা দিয়ে উড়ে পরে গেছে পেছনের ঝোপে।ওটাই আনতে যাচ্ছি।
রণ দুই ভ্রু উপরে তুলে শুধালো
“কোথায় রেখেছিলি?
“ইংরেজি বইয়ে।
মুহূর্তে রণ’র মনটা ভেঙে টুকরো টুকরো হলো।বুকে চিনচিনে সূক্ষ ব্যথা হলো।শরীর টাও কেমন বৃদ্ধ মানুষের ন্যয় শক্তিহীন লাগলো।হাঁপানি রোগীর ন্যয় বুক ধড়ফড় করে উঠলো।না চাইতেও মৌনতার হাত ছেড়ে দিলো রণ।
এদিকে সিঁড়িতে বেকায়দায় দাঁড়ানোর কারনে আবারও চিৎ হয়ে পড়তে নিলো মৌন।কিন্তু এবার আর একা পড়লো না।রণ’র শার্ট খামচে ধরলো বাঁচার তাগিদে।কিন্তু নিজেকে হারিয়ে ফেলা রণ মৌনতা কে বাঁচলো না।সে নিজেও বাঁচলো না।হুড়মুড়িয়ে পড়লো মৌনতার উপর।রণ’র থুতনি গিয়ে ঠেকলো মৌনতার সুডৌল চূড়ায়।কিন্তু রণ’র কোনো হেলদোল হলো না।সে ভগ্ন গলায় শুধু শুধালো
“পিয়ন কবে থেকে হয়েছিস তুই?তোর পিয়ন গিরি আমার মন ভেঙেছে তা কি তুই জানিস?ভাঙা মন জুড়বে কে এবার?
বলেই মৌনতার বুকে শুয়ে চোখ বুজে ফেললো রণ।সারাদিন যেই সুখে দিন কাটাচ্ছিল সে সেই সুখের হঠাৎ অসুখ হলো।রণ’র জীবন বৃথা ঠেকলো।ইচ্ছে হলো মৌনতার মতো বেসুরে গলায় কাঁদতে।কিন্তু সে তো শক্ত পোক্ত ভারিক্কি পুরুষ।কান্না কি তার শোভায়?
মৌনতা হাতির ওজনের ন্যয় রণকে ধাক্কা দিয়ে সরাতে চাইলো।কিন্তু মৌনকে আরো আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে এক হাত মৌনতার মাথার পেছনে ঠেলে রণ বলে উঠলো
“শুয়ে থাক।আমার মরন হচ্ছে।জানাজায় উঠিস একবারে।তখন কেউ আর ছুবে না তোর কাঁচা লেবু।
মৌন লজ্জায় কুঁচকে গিয়ে বলল
“তোমার মাথার পজিশন ঠিক নেই।আমি ব্যথা পাচ্ছি।তুমি উঠো ।
রণ চোখ খুলে তাকিয়ে দেখলো নিজের শোয়ার জায়গাটা।এরপর বললো
“সয়ে নে।পরে কষ্ট কম হবে তোর।
“আমার কষ্ট কম করার জন্য তোমার এতো না ভাবলেও চলবে।
“আমি না ভাবলে কে ভাববে?
“যার সাথে আমার বিয়ে হবে সে।
“তোর তো বিয়ে হবে না।আমি হতে দেবো না।চুপচাপ শুয়ে থাক বলে দিলাম।নয়তো লাত্থি দিয়ে কোমরের হাড় ভেঙে ফেলবো বলে দিলাম।
মৌনতা শুনলো না।সে কাচুমাচু করে নড়ে উঠলো।মানুষটা কেমন বেয়াড়া আর ফাজিল হয়ে ফিরে এসেছে এবার।কথার ধরন যেমন বেফায়েশ চোখ মুখের ভাষাও তেমন বেহায়া।
মৌনতা রণকে ঠেলে উঠে দাঁড়িয়ে বলে উঠলো
“তোমার চরিত্রে দোষ আছে।সুযোগ বুঝে তুমি এডভান্টেজ নেবার চেষ্টা করছো আমার সাথে।বেশি বাড়াবাড়ি করলে বাড়ির সবাইকে বলে দেবো আমি।
মেঝেতে উপুড় হয়ে শুয়ে অনুভূতি হীন মানুষের ন্যায় রণ বলে উঠল
“দে বিচার।তাও যদি ভাঙা মন জুড়ে।
মৌনতা আর এক মুহূর্ত দাঁড়ালো না।মুখ নাড়িয়ে রণকে গালাগাল করতে করতে বেরিয়ে গেলো।নিষ্ঠুর মৌনতার যাবার পানে তাকিয়ে তনু মেয়েটার উপর চরম ক্রোধ জন্মালো তার।ইচ্ছে হলো আছড়ে মেয়েটার গু বের করে ফেলতে।মেয়ে মানুষ এতো বেহায়া এটা মানতে কষ্ট হলো তার।ইচ্ছে করলো সৌম্য’র বিয়ে ভেঙে দিয়ে মেয়েটাকে চটাস চটাস চড় মেরে বাড়ির মানুষের কাছে ধমকে বিচার দেবার।
মনের রাগ কন্ট্রোল করতে না পেরে উঠে বসে সৌম্য কে কল করলো রণ।সৌম্য ফোন তুলতেই রণ হিসহিস করে বলে উঠলো
“বিয়েতে গিয়ে যদি তোমার শালিকে দেখি তবে লাত্থি দিয়ে বুকের ছাটুনির হাড় ভাঁজ করে ফেলবো।
সৌম্য ভ্যাবলা কান্তের ন্যয় হা করে রইলো এই কথায়।এরপর সবাইকে কাপড়ের দোকানে বসিয়ে চিপায় এসে শুধালো
“কি করেছে তনু?
রণ তেজী গলায় বলল
“কি করেনি তাই বলো?
“সেটাই তো জানতে চাচ্ছি।
“আমাকে লাভ লেটার দিয়েছে।বিশ্রি ভাবে উপস্থাপন করেছে সেই লেটার।আর হাতের লেখা!ইয়াক।ওসব কোনো লেখা?এভাবে কেউ প্রেম পত্র লেখে?দেখে মনে হচ্ছে তেলাপোকার পায়ে কালি মাখিয়ে কাগজে ছেড়ে দিয়েছে।কাকের ঠ্যাঙ বগের ঠ্যাঙ লেখা।তোমার বউকে বলবে বিয়ের দিন সামনে পড়লে তরকারির পাতিলে চুবিয়ে মারবো।
বলেই খট করে লাইন কেটে ডেকে উঠলো
“মৌনরে, বুঝলি না আমাকে।একদিন কাঁদবি।সেদিন আর আমাকে পাবি না।
বলেই মুখ চেপে ধরে এদিক সেদিক তাকালো রণ।আশেপাশে কেউ নেই।কেউ শুনলে এখনই ইজ্জত লুটে যেতো খোলা বাজারে।মানুষ বুজে ফেলতো রণ কেমন কাঙাল।
পুরো জঙ্গল তন্ন তন্ন করে চিঠি খুজলো মৌনতা।কিন্তু চিঠি তো দূর একটা কাগজের টুকরো পর্যন্ত নেই সেখানে।মৌনতা যখন চিঠি খুঁজতে চূড়ান্ত ব্যস্ত তখন ভরাট গলায় ভেসে এলো
“চিঠি আমার ঘরে।আমি নিয়েছি চিঠি।বৃথা শ্রম খাটাস না।
আকস্মিক মোটা গলায় লাফিয়ে উঠলো মৌনতা।এরপর নিজেকে ধাতস্থ করে বলে উঠলো
“তাহলে এতক্ষনে বলছো কেনো?
“কারন এতক্ষন ভুল ধারনা নিয়ে ছিলাম।ভেবেছিলাম তুই লিখেছিস।
সাথে সাথে মৌনতা প্রতিবাদ করে বলে উঠলো
“ছি ছি আমি তোমাকে কোন দুঃখে চিঠি দিতে যাবো আমি?ওসব নজরে তোমাকে দেখি না আমি।তাছাড়া তুমি দেখতে কালো নিগ্রোদের মত।আমি যাকে ভালোবাসবো সে হবে আকাশের জোৎস্নার মতো।এমন আন্ধার রাত নয়।
মৌনতার কথায় নিজের হাত পায়ে নজর বুলালো রণ।নিগ্রোরা এমন শ্যাম বর্ণের হয় এটা এতোদিন তার অজানা ছিলো।মৌনতার কথায় মনে হলো তার গায়ের রঙ আরও তিন চার শেড যেনো কালো হলো।এরপর মৌনতার পানে কপাল কুঁচকে তাকিয়ে রণ বলে উঠলো
“চাঁদের গায়ে কলঙ্ক আছে জানিস?সুন্দর ছেলেদের চরিত্র খারাপ হয়।ওরা তোকে রেখে অন্য মেয়ের পিছে লাইন দেবে।তখন খুব কাঁদবি।কাঁদতে কাঁদতে চোখের নিচে ঘা হবে,সর্দিতে নাক বন্ধ হবে।কষ্ট আর কষ্ট।বলার মতো আমাকেও পাবি না তখন।
মৌনতা মুখ বাকিয়ে বললো
“তাতে তোমার কি?
ঠাস করে সহসাই এক চড় বসালো মৌনতার গালে রণ।এরপর গলা টিপে বলে উঠলো
“আমার কি মানে?আমার সব।বুঝেছিস তুই হারামজাদী গাঁধী রানী ?
বলেই হনহন করে প্রস্থান নিলো রণ।চড় খেয়ে গাল চেপে ধরে কেঁদে ফেললো মৌনতা।এরপর গলা উঁচিয়ে বলে উঠলো
“কুতবাসা।
সন্ধ্যার পরপর ফিরলো সৌম্য রা।যার যার ব্যাগ নিয়ে গাড়ি থেকে নেমে ঘরে ফিরলো সকলে।শায়লা ফিরতেই দৌড়ে এল মৌন।এরপর শুধালো
“কি কি কিনলে মা?
নিজের জন্য কম কম জিনিস পত্র কিনে মৌনতার জন্য বেশি বেশি কেনাকাটা করেছে শায়লা।চুরি,কানের ঝুমকা, গলার চেইন,নতুন দুটো ড্রেস,জুতা আরো অনেক কিছু।শায়লা একে একে সবকিছু মৌনতার সামনে বের করে বলে উঠলো
“বিয়ের দিন আর বৌভাতের দিন এই ড্রেস দুটো পরবি।সাথে ম্যাচিং জিনিসপত্র আছে।যা ঘরে গিয়ে ট্রায়াল দিয়ে দেখ।
মৌনতা জিনিসপত্র গুলো নিয়ে নিজ ঘরে ঢুকে দরজা আটকে জামা ট্রায়াল দিতে তৈরি হলো।এমন সময় হঠাতই দুপুরের কথাটা মনে পড়লো।রণ’র থুতনি লাগানো স্থানে আনমনে হাত ছোয়ালো।হঠাতই শরীরটা কেমন ঝাকুনি দিলো।সম্বিৎ ফিরে পেতেই মৌনতা জামা গুলো ছুড়ে মারলো বিছানায়।মনে হলো চারপাশ থেকে রণ দেখার চেষ্টা করছে।ঝটপট কক্ষের বাতি নিভিয়ে বেলকনিতে এসে দাড়ালো মৌন।ওপাশের বেলকনির দরজা খোলা।মুখোমুখি বেলকনি টা রণ’র।ওই কক্ষেও আলো নেই।মৌনতা উঁকিঝুঁকি দিয়ে দেখার চেষ্টা করলো রণ কি করছে?
এমন সময় ভেসে এলো কাকুতি মিনতির স্বর
“চীফ আমাকে একটা সপ্তাহ সময় দিন প্লিজ।দুদিন বাদে আমার বড় ভাইয়ের বিয়ে।বিয়েটা এটেন্ড করেই আমি রাঙামাটি মিশনে জয়েন করবো।প্লিজ আমাকে একটা সপ্তাহ সময় দিন।তাছাড়া আমার রিকভারি ছুটি এখনো শেষ হয়নি।
ওপাশ থেকে কি উত্তর এলো শোনা গেলো না।শুধু রণ ধীর বাধ্যগত গলায় বলল
“ঠিক আছে বিয়েটা শেষ হলেই আমি ফিরে আসবো।
কেটে গেলো কল।আর কোনো সাড়া শব্দ নেই।মৌনতা এক নজরে ওপাশের বেলকনিতে তাকিয়েই রইলো।অন্ধকার কিছুটা দূরীভূত হলো দেশলাইয়ের আলোতে।সেই সাথে জ্বলে উঠলো সিগারেট।রণ লম্বা টান দিয়ে শূন্যে ধোয়া উড়িয়ে বলে উঠলো
“কি দেখছিস এভাবে যা ঘরে যা।
মৌনতা স্তব্ধ দাঁড়িয়ে মনে মনে বলে উঠলো
“অন্ধকারে আমায় দেখা যাচ্ছে?নাকি উনার ইন্দ্রিয় জানান দিচ্ছে এখানে আমি?
তাৎক্ষণিক রণ বলে উঠলো
“বাতাসে তোর শরীরের গন্ধ ভেসে আসছে মৌনতা।সরে যা।নয়তো অঘটন ঘটিয়ে ফেলবো আমি।পরে কাঁদবি আর দোষ দিবি।সেই দোষে গর্দান যাবে আমার।কিন্তু আমি হাসি মুখে গর্দান পেতে দেবো।
মৌনতা তবুও সড়লো না।সিগারেট ছুড়ে ফেলে ঘরে ঢুকলো রণ।মৌনতা এগিয়ে এসে দরজার সিটকিনি খোলে পুনরায় এসে বেলকনিতে দাঁড়ালো।মৌনতার মন বললো রণ আসবে এ ঘরে।রণকে গ্রহণ করতে তার ও কেমন ইচ্ছে জাগলো।কীয়তখন গড়াতেই পুরুষালি গন্ধে মৌনতার টনক নড়লো।তবুও বাইরে দৃষ্টি পেতে দাঁড়িয়ে রইলো মৌন।হ্যাচকা টানে মৌনতা কে নিজের বুকে এনে রণ শুধালো
“জেনে বুঝে পোড়াচ্ছিস তাই না?
রণ’র শার্টের কলার চেপে ধরে রণ’র চোখে চোখ রেখে মৌনতা ফিসফিস করে বলে উঠলো
“আমাকে এতোটা নিষ্ঠুর কেনো মনে হলো তোমার?
মৌনতার কপালে ঠোঁট ছুঁইয়ে রণ বলে উঠলো
“বার বার নিষ্ঠুরতার প্রমান দিচ্ছিস তাই।
এমন সময় শায়লা ধমকে বলে উঠলো
“কিরে কি ভাবছিস এভাবে?সেইযে ডেকেই চলেছি শুনতে পাচ্ছিস না?
হকচকিয়ে মৌনতা শায়লার মুখের পানে তাকালো।শায়লার দুই কাঁধে মৌনতার হাত।ইতস্তত আর ভয়ে হাত ঝটপট সরিয়ে মৌনতা বলে উঠলো
“জ্বরের ঘোর এখনো কাটেনি মা।মতিভ্রম হচ্ছে।
শায়লা কপাল কুচকে শুধালেন
“ডাক্তারের কাছে যাবি?
মৌনতা একপলক রণ’র বারান্দায় তাকালো।এরপর বললো
“ডাক্তার বাড়িতেই আছে মা!
চলবে
Share On:
TAGS: ভালোবাসার সমরাঙ্গন, সারিকা হোসাইন
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ২০
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ২৮
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৩১
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৯
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৭
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৩০
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ২৩
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ২৪
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৬
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ২