Golpo romantic golpo প্রেয়সীর অনুরাগ

প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ১৪ ( দ্বিতীয় অংশ )


প্রেয়সীর_অনুরাগ পর্ব_১৪ ( দ্বিতীয় অংশ )

লেখনিতে —#সাদিয়াজাহানসিমি

পর্ব_১৪ ( দ্বিতীয় অংশ )

( কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ❌ )
পূর্ব আকাশে সূর্য উঠেছে কিছুক্ষণ পূর্বে। নিত্যদিনের মতো রাফসা আজও ঘুম থেকে উঠে পড়েছে। নামাজ আদায় করে রাফসা প্রতিদিনের ন্যায় কফির জন্য নিচে চলে যায়। তবে নিচে আজ ভিন্নতা দেখা যায়।
রান্নাঘরের ভেতরটা তখন নীরব। শুধু কেটলির হালকা সিস্‌ শব্দ আর চামচে কাপে ধাক্কা লাগার টুংটাং। হলদে লাইটের আলোটা উদ্যানের মুখে পড়ছে।
উদ্যান খালি গায়ে দাঁড়িয়ে কফি বানাচ্ছে। মার্শাল শরীর—অযথা ফোলা নয়, আবার রোগা-পাতলাও না। কাঁধ দুটো চওড়া, বুকের ওপর দিয়ে আলো বয়ে গেছে ঢেউয়ের মতো। হালকা ঘামে ত্বক একটু চকচক করছে, যেন আলোটা আরও গভীর হয়ে লেগে আছে শরীরের বাঁকে বাঁকে। হাতের পেশিগুলো স্পষ্ট, কফির জারটা ধরার সময় কবজিতে টান পড়ে, মুহূর্তে সেটা চোখে পড়ে যায়।
হলদে আলো তার গায়ের রঙটাকে আরও উষ্ণ করে তুলেছে। মুখটা আধো আলো-আঁধারে—চোখে ক্লান্তির ছায়া, কিন্তু ভেতরে একটা শান্ত ভাব। চুলগুলো এলোমেলো, যেন সে খেয়ালই করেনি নিজেকে গুছোনোর কথা। কফির গন্ধ ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে,
এই আলোতে, এই মুহূর্তে, উদ্যানকে খুব সাধারণ লাগছে। লেখিকা – সাদিয়া জাহান সিমি

রাফসা এত সকালে উদ্যান কে রান্না ঘরে দেখে খানিক অবাক হলো বটে। এই লোক এত সকালে রান্নাঘরে কি করছে ! এখন কফি খাবে কি করে ও। দোনা মোনা করে উল্টো ঘুরে যেতেই নিবে তখনই পেছন থেকে উদ্যানের রাশভারী কন্ঠ ভেসে আসে, “এসেই চলে যাচ্ছিস কেন! কফি খাবিনা ?”

রাফসা পিছন ফিরল খুব সাবধানে। সকাল সকাল কথা বাড়াতে চাইছে না তাই খুব স্বাভাবিক ভাবে বলল, “না, এমনি এসেছিলাম।”

উদ্যান ভ্রু কুচকে শুধায়, “এমনি এমনি তো আর আসিস নি। তোর হ্যাবিট সকালে কফি খাওয়া।”

রাফসা এবার যেন আগের চেয়ে দ্বিগুণ অবাক হলো। উদ্যান কি করে জানল কফি খাওয়ার হ্যাবিট হয়েছে! গত দুবছর আগে থেকে সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে কফি খাওয়া রাফসা প্রতিদিনের রুটিন‌। কিন্তু উদ্যান তা কি করে জানল! কঠোর গলায় আওরালো, “আপনি কি করে জানেন কফি খাওয়া আমার হ্যাবিট?”

রাফসার কোথায় উদ্যান খানিক ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসলো। গম্ভীর গলায় বলে, “এসেছি কয়েক দিন তো হলো। শুনলাম এক মহারানীর নাকি সকালে কফি না খেলে সারাদিন মাথা ধরে থাকে। কি দিনকাল এলো, নতুন নতুন নিয়ম বের হয়।”

“তাতে আপনার সমস্যা কি?আপনারটা খাচ্ছি ?

উদ্যান এতক্ষণ যাবৎ রসিকতা করেও কথা বললেও এখন কন্ঠ ভার করে জবাব দেয়, “তোকে বলেছি না, বেয়াদবি আমার মত পছন্দ না। গলা উচিয়ে কথা বলবি না একদম। আমার সব খেয়ে ফেললেও তোকে কিছুই বলব না।”

“একশ বার বলবো, আপনি কেন আমার জীবনে হস্তক্ষেপ করছেন! আপনাকে বলেছি আমি কিছু! আপনি আপনার মত থাকেন, আমাকে আমার মত থাকতে দিন।”

উদ্যান নিরস গলায় জবাব দেয়, “এত চেঞ্জ! কিন্তু কেন?”

উদ্যানের প্রশ্নে রাফসা খানিক হাসলো তাচ্ছিল্যের স্বরে বলে, “তার পেছনে আপনার অবদান বেশি মিস্টার রাউদ! ধন্যবাদ আপনাকে, আপনার জন্যই আজ আমি এতদূর আসতে পেরেছি।”

“হ্যাঁ হ্যাঁ, কিন্তু আমার শুধু ধন্যবাদ চলবে না।”

রাফসা ভ্রু কুঁচকে বলল, “তাতে আপনার চলুক, না চলুক, আই ডোন্ট কেয়ার !”

“নিজেকে চেঞ্জ করতে গিয়ে, বড়দের সাথে খারাপ বিহেভার করছিস বলে মনে হয় না?”

রাফসা তাচ্ছিল্য হেসে কঠোরভাবে জবাব দেয়, “বড়রা ছোটদের অপমান, তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে কথা বললে, ছোটরা কি করে বড়দের সম্মান করবে? এই সাইন্স টা তো বুঝলাম না বড় ভাই !”

“সমস্যা নেই, আমার কাছে আসিস। আমি বুঝিয়ে দেব নে।”

“তার দরকার নেই। আপনার কাছে যাওয়ার জন্য বসে নেই।”

উদ্যান নিজের জন্য কফি ঢেলে কাপে রাফসার পানে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করে, “তোকে দিব ?”

“নো নিড।”। লেখিকা – সাদিয়া জাহান সিমি

উদ্যান ফের গম্ভীর হয়ে কফির কাপ নিয়ে রাফসার পাশ কাটিয়ে যেতে যেতে মৃদুস্বরে গান গেয়ে উঠলো,

 ~  "আমি তোর ব্ল্যাক কফি , তুই আমার সুগার 
   আমি তোর কোকাকোলা, তুই আমার বার্গার 
    তোর ওই হটনেসে জ্বলে আমি ছারখার 
     পারছিনা আর বেবি, তোকে খুব দরকার!"~

রাফসা ঘাড় ঘুরিয়ে তাকিয়ে রইল কটমট করে। মন চাইছে মাথায় তুলে আছাড় মারতে। ও ঘুরে কিচেনে ঢুকে। বিরক্তিতে চিবুক শক্ত হয়ে আসে।


দুপুর দুটোর বেশি,,,
রাফসা নতুন বোরকা থেকে বেছে একটা বোরকা পড়েছে। সব বোরকা কালো হলেও ডিজাইন ভিন্ন ভিন্ন। আজ ব্যাগ নিতে হবে না। কোচিংয়ে আজ বায়োলজি এক্সাম নিবে। মুখে মাস্ক পড়ে বেরিয়ে পড়ে। নিচে নামতেই মাহিন ঝড়ের বেগে হাজির হয় রাফসার সামনে। এতে রাফসা খানিক থতমত খেয়ে গেল। বুকে হাত দিয়ে বড় বড় দুটো দম ফেললো। হঠাৎ করে সামনে আসাতে কিছুটা ভয় পেয়েছে। মৃদু চেঁচিয়ে উঠলো, “মাহিন ভাই, এভাবে কেউ সামনে আসে? ভয় পেয়েছি তো। আর একটু হলে আমার ফুসফুস অ্যাটাক হয়ে যেতো।”

রাফসার কথায় মাহিন ফিক করে হেসে দেয়।ভ্রু নাচিয়ে জিজ্ঞেস করে, “রাফসা তোর ডাক্তারি পড়তে হবে না রে। আর এতদিন শুনে এসেছি, হার্ট অ্যাটাক হয়। আজ তোর থেকে শুনলাম, ফুসফুস অ্যাটাক হয়। এটা কি নতুন রোগ ডাক্তার সাহেবা?”

“আমার হার্ট এত দুর্বল নয় মাহিন ভাই। ওটা যত্ন করে তালা মেরে সিন্দুকে ভরে রেখেছি। যাতে কেউ আমার হার্টকে কষ্ট দিতে না পারে। তাহলে হার্ট অ্যাটাক হবে কিভাবে? ওকে তো বন্দী করে রেখেছি! তাই আমার ফুসফুস অ্যাটাক হবে।”

মাহিন চোখ বড় বড় করে বলে, “এই সারছে কাম।তোর হার্ট কোথায় রেখেছিস! জলদি করে আমায় বলে দে। আমি সযত্নে আমার হার্টের পাশে রেখে দেই। “

রাফসা মুখ বাঁকালো। মাহিন নিঃশব্দে হাসলো খানিক। রাফসা তাড়া দিয়ে বলল, “আমি আসছি, মাহিন ভাই। কোচিংয়ের লেইট হয়ে যাচ্ছে।”

“কোচিং যাবি? চল, আমি দিয়ে আসি।”

রাফসা বাঁধ সাধলো, “না, আমি যেতে পারবো। তুমি রেস্ট নাও।”

“বাইক নিয়ে যাবো ভেবেছিলাম। থাক,তুই না গেলে আর কি করার।”

কথাটা বলেই আড়চোখে রাফসার পানে চাইলো। রাফসার বাইক খুব প্রিয়। নিজেই রাইডিং শিখতে চেয়েছিল। কিন্তু রাজিব ফরাজীর জন্য পারেনি। একমাএ মেয়ে নিয়ে ওনি কখনো রিস্ক নিতে চায় না। বাইকের কথা শুনে রাফসা চুপ করে দাঁড়িয়ে গেল। বাইকে ওর খুব লোভ। রাফসা জিভ দিয়ে গাল ঠেললো। মিনমিন করে বলল, “আচ্ছা,চলো। বড়দের কথা ফেলতে নেই। এতো করে যখন বলছো,তাহলে চলো।”

মাহিনের মুখে বিজয়ের হাসি ফুটে উঠল। ও জানতো বাইকের কথা শুনে রাফসা একপায়ে রাজি হয়ে যাবে।
“একবার বলেছি। এতো বার করে কখন বললাম!”

মাহিনের কথায় নিমিষেই মুখটা চুপসে গেল রাফসার। নিরস গলায় বলল, “ও, একবার বলেছো তাই না! আচ্ছা, আমি একাই চলে যাই।”

রাফসা চলেই যেতে নিবে। মাহিন পথ আঁটকে দাঁড়িয়ে বলল, “দাঁড়া, বাইকের চাবিটা নিয়ে আসছি।”

মাহিন চাবি আনতে রুমের দিকে চলে যায়। রাফসা সোফায় বসলো। পুরো ড্রইং রুম ফাঁকা। সবাই ল্যান্স করে নিজেদের ঘরে রেস্ট নিচ্ছে। দুমিনিট এর মাঝেই মাহিন ফিরে আসে ডান হাতের আঙুলে চাবি ঘুরাতে ঘুরাতে শেষ বাজিয়ে গানের সুর তুলছে।রাফসা উঠে দাঁড়ায় দুইজন একসাথে বেরিয়ে গেল। মাহিন বাইকে বসে স্টাট দেয় । রাফসা তখনো দাঁড়িয়ে আছে ।মাহিনের কাছে একটাই হেলমেট ।নিজেরটা রাফসাকে পরিয়ে দিতে নিলে রাফসা তড়িঘড়ি করে বলল, “না মাহিন ভাই , আমি এটা পড়ব না। বিরক্ত লাগে আমার হিজাব কুঁচকে যাবে ।তুমি পড়ো।”

“সেফটির জন্য পড়তে হয়। আমার লাগবে না এদিক আয় তোকে পরিয়ে দেই ।”

“না আমার ভালো লাগেনা এসব পড়তে !’

“আচ্ছা ওঠ বস।
রাফসা উঠে বসলো। মেয়েদের মত করে বসে ব্যাগটা কোলে নিয়ে এক হাত চেপে ধরল অপর হাত মাহিনের কাঁধে শক্ত করে ধরে ।

“বসেছিস ঠিক মতো ?”
“হ্যাঁ বসেছি স্টাট দাও বাইক।”

মাহিন লুকিং গ্লাসে রাফসার পানে চেয়ে মৃদু হাসলো। মনের সুখে বাইক স্টার্ট দিল। মেইন গেইট পার হতেই উদ্যান বাড়ির গাড়ি নিয়ে ঢুকে। ওরা উদ্যান কে না দেখলেও উদ্যান ওদের পেছন থেকে দেখে সহজেই চিনে নিল। ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে শুধায়, “ডিসগাস্টিং পিপলস!”

উদ্যান দুপুরে বাড়িতে ছিল না। সকালে নাস্তা করে বেরিয়েছিল বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিবে বলে। আর এখন বাড়ি ফিরল।


কোচিং সেন্টারের সামনে বাইক থামতে রাফসা নেমে দাঁড়ালো
“ছুটির পর এখানেই দাঁড়াবি আমি এসে নিয়ে যাব ।”

রাফসা হাসিমুখে বলল, “ঠিক আছে। তুমি সাড়ে চারটার দিকে চলে এসো , তখন ছুটি হবে ।

মাহিন মৃদু হেসে বাইক স্টার্ট দিল আচ্ছা বলে চলে যায়।

তৎক্ষণাৎ পেছন থেকে দুই জোড়া হাত রাফসার উপর হামলে পড়ে। সায়মা বাহুতে কিল মেরে বলে, “এই শালী, তোর এই আসার সময় হল? বলেছিলাম না, একটু ওদিকে ঘুরতে যাব। দেরি করলি কেন?”

রাফসা জিভ কাটে। ও বেমালুম ভুলেই গেছে। মনে ছিল না একটুও। কেবলার মতো হেসে বলল, “আরেকদিন যাব হ্যাঁ! আজ আসতে লেট হয়ে গেছে, সরি।”

সাবিকুন কটমট করে পুনরায় পিঠে একটা চাপড় মেরে বলে, “সেই কখন এসে দাঁড়িয়ে আছি! আর তুই এখন আসলি? বেত্তমিজ মহিলা।”

রাফসা নাক মুখ কুঁচকে বলে, “ছিঃ ,আমি এখনো অবিবাহিত। শালী, আমায় মহিলা ডাকছিস কেন তুই?”

“বাই দ্যা রাস্তা, ওই ছেলেটা কে ছিল ভাই? দেখতে কিন্তু কড়া একটা ম,,,

ততক্ষণাৎ রাফসা মুখ চেপে বলে, “এ্যাই শালি, তুই কি ভালো হবি না? যাকে দেখিস, তাকেই তোর কড়া মনে হয়?”

সায়মা মুখ থেকে রাফসার হাত সরানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু পারছেনা কোনোরকম। রাফসা বেশ শক্ত করেই চেপে ধরেছে।
“আয় হায় রে, সাদু। ছাইড়া দে শালিরে। ও মরে গেলে একটা বিয়ে খাইতে পারবো না। আমি মোটা হয়না শুধু তোদের বিয়ে খাওয়ার জন্য। এখন ওই শালি মরে গেলে শেষ। ও আল্লাহ, ছাইড়া দে শালিরে।”

“এ্যাই শালি মরে গেলেও দুইটা দাওয়াত খেতে পারবি।”

সাবিকুন ভ্রু কুঁচকে বলে, “দুইটা কেমনে ?”

রাফসা দাঁতে দাঁত চেপে বলে, “আরেহ আবাল! একটা চাইর দিইন্না, আরেকটা চল্লিশশা। আবার বছরে বছরে মেজবান হবে।”

“কথাটা তুই মন্দ বলিসনি। কিন্তু, ও মরে গেলে আমরা জামাই নিয়ে কাপল ভিডিও বানাবো কীভাবে? এ্যাই না, ছাইড়া দে এই শালিরে।”

রাফসা ছেড়ে দিল। সায়মা ছাড়া পেতে মুখ চেপে নিজেকে একটু স্বাভাবিক করে দাঁতে দাঁত চেপে বলে, “শালী তোদের মত বন্ধু থাকার চেয়ে না থাকাই ভালো। এই দুঃখ আমি কোথায় রাখবো! কচু গাছে ফাঁসি খেতে ইচ্ছা করছে।”

“পরে ফাসি দিস। এখন কোচিং এ চল। স্যার চলে আসবে।”

“হ্যাঁ চল!”

তিনজন কথা কাটাকাটি করতে করতে কোচিংয়ের ভেতর চলে যায়।


কোচিং থেকে বেরোতেই দেখে মাহিন বাইক নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সাইমাদের বিদায় দিয়ে মাহিনের কাছে দির পায়ে হেটে যায়। মাহিন বাইকে বসে ফোন দেখছে।
“চলো তাড়াতাড়ি। তোমাদের বাড়ি যেতে হবে।”

রাফসার আওয়াজ শুনে মাহিন ফোন থেকে মুখ তুলে তাকাল ।পকেটে ফোন ঢুকাতে ঢুকাতে বাইকে উঠে বসে ।রাফসা উঠতেই নিবে মাহিন জিজ্ঞেস করে, “কিছু খাবি আইসক্রিম বা চকলেট ?”

রাফসা খুশি হয়ে গেল মাহিনের কথা শুনে
“হ্যাঁ চকলেট খাব !আইসক্রিম খেতে ইচ্ছা করছে পারলে দুটোই আনো !”

মাহিন পুনরায় বাইক থেকে নেমে দাঁড়ায়।
“তুই দাঁড়া , আমি সামনের দোকান থেকে নিয়ে আসছি ।”
রাফসা মাথা নাড়লো মাহিন মুচকি হেসে সে চলে যায় দোকানে। দুই মিনিটের মধ্যে হাতে একটা প্যাকেট নিয়ে হাজির হয় মাহিন। রাফসার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল, “ধর তোর কলিজা ফুসফুস !”

রাফসা হেসে প্যাকেটটা নিল। একটা চকলেট বের করে খেতে খেতে বাইকে উঠে বসে। বাইকটা চলে যেতেই রনি বাইকের পানে চেয়ে পকেট থেকে ফোন বের করে। আভিয়ান কে কল দিয়ে বলে, “ভাই, ভাবি একটা ছেলের সাথে বাইকে করে যাচ্ছে ।”

ওপাশ থেকে একথা শুনে নিমেষেই চোয়াল শক্ত হয়ে যায় আভিয়ানের। চিবুক শক্ত করে বলল, “বাইকের পিছু নে। খোঁজ নিয়ে দেখ, ছেলেটা আমার মায়াবীর কি হয়। যদি অন্য কিছু হয়, তখনই উড়িয়ে দিবি ওই মাদারবোর্ডকে‌।”

“আচ্ছা ভাই!”

কথা শেষ করে রনি বাইক চালিয়ে ছুটলো পেছন পেছন।
;
;

“আমি এক সপ্তাহের জন্য সুইজারল্যান্ড যাচ্ছি। তোরা এদিকে খেয়াল রাখিস।”

আভিয়ানে কথায় আকবর মাথা নাড়িয়ে বলল, “ভাই, হঠাৎ সুইজারল্যান্ড কেন? সামনে ইলেকশন। আপনি এখন দেশের বাইরে গেলে, আপনার বাবা রেগে যাবে।”

“বাবাকে আমি সামলে নেবো। বিয়ের শপিং করতে যাচ্ছি। কাল ফ্লাইট, চলে আসব।”

আকবর চোখ বড় বড় করে বলল, “বিয়ের শপিং এর জন্য সুইজারল্যান্ড যেতে হবে? আর , ভাই কার বিয়ে?”

আভিয়ান সিগারেটে শেষ টান দিয়ে আকাশের পানে ধোঁয়া উড়িয়ে দিল। হাত থেকে সিগারেট ফেলে দিয়ে পায়ে পিষ্ট করতে করতে বলে, “আমার মায়াবীর জন্য। ঠিক করেছি, সুইজারল্যান্ড থেকেই বিয়ের শপিং করব। কারণ, যেদিন ওকে প্রথম রোদ্র দুপুরে দেখেছিলাম। সেইদিন আমি সুইজারল্যান্ড থেকে বাংলাদেশে আসি। সুইজারল্যান্ড আমার জন্য লাকি!”

আকবর হাসলো আভিয়ানের পাগলামি দেখে। তবে মুহূর্তেই মুখটা থমথমে হয়ে গেল কিছু মনে করে।


বাড়িতে এসেই দেখলো ঊষা রেডি হয়ে বসে আছে। রোহান ফোন টিপছে। রাফসা এসে ঊষার পাশে বসে।
“রাফসা আপু,চলে এসেছো? তোমার জন্যই ওয়েট করছিলাম।”

জারার কথা শুনে রোহান ফোন থেকে মাথা তুলল।
“এক্সাম কেমন হয়েছে রাফু? ভালো হয়েছে তা?”

রাফসা উৎফুল্ল হয়ে বলল, “হ্যাঁ মেজো ভাইয়া। খুউউব ভালো হয়েছে। বায়োলজি আমার ফেবারিট সাবজেক্ট। ভালো না হয়ে যাবে কোথায়!”

“হ্যাঁ,এইবার চল। আর ভালো লাগছে না।সেই কখন রেডি হয়ে বসে আছি।”

ওরা সবাই উঠে দাঁড়ায়।রোহান বলে, “আরে,উদ‌্যান কোথায়? ওকে ফেলে চলে যাবো নাকি?”

তখুনি উদ্যান ঘড়ি পড়তে পড়তে সিঁড়ি দিয়ে নামে। জায়িন দেখতেই বলে, “ওই যে , বড় ভাইয়া। চলে এসেছে।”

উদ্যানের গায়ে কালো শার্ট জড়ানো। চুলগুলো সেট করে রাখা। হয়তো আজ চুল কেটেছে। দাঁড়ি ও কিছুটা ছাঁটাই করা। পুরুষের সৌন্দর্য চাপ দাঁড়িতে। এতে পুরুষের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয়। উদ্যান রাফসার পানে এক পলক তাকালো।ফোনে ডুবে আছে। আশেপাশে কোন খেয়াল নেই রাফসার।
উদ্যান গম্ভীর কন্ঠে শুধায়, “চল।”

রাফসা ফোন রেখে উঠে দাঁড়ায়। মাহিন রাফসার পাশে দাঁড়িয়ে বললো, “তোমরা গাড়ি করে চলে যাও। আমি রাফসা বাইক নিয়ে আসছি।”

“হ্যাঁ,তোমরা যাও। আমি মাহিন ভাইয়ের সাথে আসছি।”

উদ্যানের পা জোড়া থেমে গেল। পেছনে ঘাড় ঘুরিয়ে এক পলক তাকিয়ে পুনরায় হাঁটা দিল। ওর‌ পেছন পেছন সবাই রওনা হয়।

চলবে..?

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply