Golpo romantic golpo প্রেয়সীর অনুরাগ

প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব শেষ


প্রেয়সীর_অনুরাগ

লেখনিতে —#সাদিয়াজাহানসিমি

পর্ব_শেষ

( কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ 🚫 )

ওরা সবাই গাড়ির জন্য দাঁড়িয়ে আছে রাস্তার পাশে। গাড়ি যাতায়াতে ব্যাঘাত ঘটেছে একটু আগের ঘটনার জন্য। মানুষের ঢল রাস্তায় নেমে এসেছে। এখন কিছুটা হলেও স্বাভাবিক হয়েছে পরিস্থিতি। গাড়ি চলাচল কম করছে।প্রায় আধ ঘন্টা পর গাড়ি পেয়ে ওরা ওঠে বসে। গাড়িতে মানুষ গদগদ হয়ে আছে। মানুষের মাথা ছাড়া আর কিছু দেখা যাচ্ছে না। ছেলেরা দাঁড়িয়ে মেয়েদের বসতে দেয়।তাও দুই সিটে তিনজন চেপে চেপে বসেছে। এখান থেকে বাসায় ফিরতে প্রায় একঘন্টার রাস্তা। কিন্তু আজ বোধহয় দুই ঘন্টা লেগে যাবে। পাঁচ মিনিটের রাস্তা আধ ঘন্টায় এসেছে কোনোরকম। তারপর ধীরে ধীরে জ্যাম ছুটছে শুরু করে। এইবার গাড়িটা গতি বাড়িয়ে দিল। রাস্তা ফাঁকা হয়ে আসছে। ফাঁকা রাস্তা দেখেই ড্রাইভার জোরে গাড়ি টান দিল। তবে এটাই বুঝি ভাগ্যে দুর্ভিক্ষ হয়ে দেখা দিল। বিশাল বড় ট্রাক এর সাথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধাক্কা খেয়ে রাস্তার ডানপাশে খাদে পড়ে গেল। হঠাৎ চোখের পলকে ঘটে যায় সবকিছু। কেউ কিছু বুঝতেই পারেনি। মুহূর্তেই চারদিকে আর্তনাদ ছড়িয়ে পড়ে। চারপাশে মানুষের চিল্লাচিল্লি ছড়িয়ে পড়ে।


হঠাৎ করে রোহানের ফোনটা বেজে উঠলো। রাতের খাবার খেতে বসেছিল সবাই। এমন সময় ফোন। আসাতে কিছুটা বিরক্ত হয় রোহান। ফোনটা রিসিভ না করে; খাওয়ায় মনোযোগ দিল। বাজতে বাজতে ফোনটা কেটে গেছে। পুনরায় ফোনটা বেজে উঠলো। এইবার ও রোহান ফোনটা রিসিভ করলো না।
“কি হলো,ফোনটা রিসিভ কর ভাইয়া।”

জায়িনের কথায় রোহান খেতে খেতে বিরক্ত হয়ে বলল,
“যেই করুক। খাওয়া আগে বুঝেছিস।”

জায়িন আর কি করবে। অগ্যতা খাওয়ায় মনোযোগ দিল। তবে ওপাশের ব্যক্তির বোধহয় তোড় সইছে না। পুনরায় ঘর কাঁপিয়ে বেজে উঠল ফোন খানা। উদ্যান খেতেই বসেছে যা। কিন্তু কিছুই খেতে পারছে না। গলা দিয়ে ভাত নামছে না। আনচান লাগছে খুব। কোনো রকম ঢোক গিলে বলল, “রিসিভ কর ফোনটা। জরুরী হতে পারে।”

রোহান বাধ্য হয়ে দাড়িয়ে পকেট থেকে ফোনটা বের করে। স্ত্রিনে ভেসে আছে আননোন নাম্বার। এতে কপাল কুঁচকে যায় রোহানের। ফোনটা রিসিভ করে ওপাশ থেকে কথা শুনে মুহুর্তে জমে গেল রোহান। কান থেকে সজোরে ফোনটা মেঝেতে আছড়ে পড়ে।সবাই থতমত খেয়ে গেল। রোহান ঘনঘন শ্বাস নিতে শুরু করে।চোখ বেয়ে আপনাআপনি পানি গড়িয়ে পরল। ঊষা তড়িঘড়ি করে উঠে দাড়ালো।
“কি হয়েছে ভাইয়া? কাঁদছো কেন! কে ফোন করেছে?”

“রা রাফসা এক্সিডেন্ট করেছে! চট্টগ্রাম মেডিকেলে আছে। অবস্থা ভালো না।”

সবাই স্তম্ভিত হয়ে যায়। নিজের কানকে যেন বিশ্বাস করতে পারছে না। উদ্যান সবেই পানি মুখে দিতে নিচ্ছিল। এ কথায় উদ্যানের হাত থেকে পানির গ্লাসটা ছিটকে পড়ে । বিস্ময়ে চোখজোড়া কপালে উঠে গেল যেন।


ফরাজী বাড়ির সবাই এখন মেডিকেলে অবস্থিত। হুমাইরা ফরাজী কাঁদতে কাঁদতে অবস্থা খারাপ। উদ্যান একপাশে মুর্তির ন্যায় দাঁড়িয়ে আছে। রাত প্রায় আনুমানিক একটা। ওরা চারজন আঘাত পেলেও তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি।

“সরি! আমাদের সবোর্চ্চ চেষ্টা দিয়েছি। সি ইজ ডেড!”

মুহূর্তেই বাজ পড়ল ফরাজী বাড়ির উপর। হুমাইরা ফরাজী এক চিৎকার দিয়ে জ্ঞান হারান। বাকিরা কাঁদছে। উদ্যান যেন নিজের সামনে সব ঝাপসা চোখে দেখছে। জ্ঞান হারিয়ে ঢলে পড়ে উদ্যান। চারদিকে হাহাকার করছে। কাকে কে সামলাবে।


“মায়াবী, তুমি কেন চলে গেলে? আমার কথা মনে পড়ল না তোমার? এতো পাষান কেন হলে তুমি! আমায় ভালোবাসি কথাটা বলার একটা সুযোগ দিতে। তুমি চলে গিয়ে আমার জীবনটা তছনছ করে দিলে। বিশ বছর হয়ে‌ গেল,তোমায় দেখি না। আমার তৃষ্ণার্ত দৃষ্টি তোমায় খুঁজে বেড়ায়। এতো এতো মানুষ দেখি, কিন্তু তোমায় দেখি না। তুমি কতদূরে! আমায় নিয়ে যাও তোমার কাছে।”

কান্নায় ভেঙে পড়ে আভিয়ান।
*
“তুই চলে গিয়ে বাড়িটা ভেঙে পড়েছে। এখন আর আগের মতো আনন্দ হয় না। জানিস বহুদিন বাড়িতে কেউ বায়না ধরে না। নতুন নতুন সদস্য এসেছে বাড়িতে। তোর ভালোবাসার মানুষের একটা ফুটফুটে মেয়ে হয়েছে। জানিস দেখতে ঠিক তোর মতো। সব দোষ আমার, আমি কেন সেদিন তোকে ফেলে ফুফুর বাড়িতে গিয়েছিলাম! সেই অপরাধ বিশটা বছর ধরে আমায় কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে। আমি কখনো নিজেকে ক্ষমা করতে পারবো না। তবুও আমায় ক্ষমা করে দিস তুই।”

                         ~অপূর্ণতা

যাই হোক আমার মনটা ভালো নেই। এতো এতো ঝামেলায় আমি বোধহয় শেষ হয়ে যাবো। তাই শেষ করে দিলাম।

আবার সত্যি সত্যি ভাববেন না ইহা একটি ৬তানি পোস্ট। কান্না করে লাভ নেই 🙆

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply