প্রেমবসন্ত_২ ।৩৯।
হামিদাআক্তারইভা_Hayat
ভোরের ম্লান আলোয় কায়নাতের ঘুম ভাঙল এক অসহ্য যন্ত্রণায়। শরীরটা নাড়াতে গেলেই মনে হচ্ছে প্রতিটা হাড় কেউ পিষে দিয়েছে। ব্যথার চোটে কপাল কুঁচকে দু হাত দিয়ে চাদরটা খামচে ধরল ও।
আস্তে আস্তে চোখের পাতা মেলতেই ওর হার্টবিট যেন থেমে গেল। দেখল সে আর অর্ণ একটা মাত্র পাতলা কম্বলের নিচে একদম কাছাকাছি শুয়ে আছে। নিজের অনাবৃত কাঁধ আর কম্বলের নিচে দুজনের নগ্ন শরীর অনুভব করতেই ওর মস্তিষ্ক মুহূর্তেই ফাঁকা ফাঁকা ঠেকল। কাল রাতের কোনো স্মৃতিই ওর মাথায় নেই। সে শুধু মনে করতে পারছে ছাদে সেই বাজে গন্ধের পানীয়টা খাওয়ার কথা, তারপর সব আবছা।
বিছানার চারপাশে তাকাতেই ওর দম বন্ধ বন্ধ লাগল। সারা ঘরে শাড়ি, ব্লাউজ আর অর্ণর শার্ট ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। একটা সাজানো ঘর যে কতটা লণ্ডভণ্ড হতে পারে, তার প্রমাণ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে মেঝের ওই কাপড় আর জিনিস গুলো। ভয়ে কায়নাত নিজের মুখ চেপে ধরল। ডুকরে কান্না আসতেই ওর শরীরটা কেঁপে উঠল।
ঠিক তখনই অর্ণর ঘুম ভাঙল। সে আড়মোড়া ভেঙে উঠে বসে কায়নাতের দিকে একপলক তাকাল। কায়নাতের কান্নামাখা বিধ্বস্ত চেহারা দেখে অর্ণর ঠোঁটে এক চিলতে হাসি ফুটে উঠল।
কায়নাত ধরা গলায় কাঁদতে কাঁদতে বলল, “আপনি… আপনি আমার সাথে কী করেছেন? আমি তো কিছুই মনে করতে পারছি না! আমার শরীরটা এমন ব্যথায় ছিঁড়ে যাচ্ছে কেন?”
অর্ণ এবার ওর সেই লাগামছাড়া কথা শুরু করল।ঘুম থেকে সবে ওঠার কারণে কণ্ঠ ছিল ভীষণ ভারী।
“ব্যথা তো হবেই! কাল রাতে যেভাবে তুমি আমার উপর জাঁকিয়ে বসেছিলে, তাতে আমারই তো এখন হাসপাতালে থাকার কথা। এখন উল্টো সাধু সেজে কান্নাকাটি করছ কেন?”
কায়নাত দুই হাতে কান চেপে ধরল। ও চিৎকার করে বলতে চাইল সে এমনটা করতে পারে না। কিন্তু অর্ণ ওকে থামতে দিল না। সে কায়নাতের কাঁধের একটা গাঢ় নীলচে দাগে আঙুল ছুঁইয়ে বলল,
“এই যে দাগগুলো দেখছ? এগুলো কাল রাতে তোমারই ডিমান্ড ছিল। বারবার আমার কলার টেনে ধরে আবদার করছিলে। তোমার সেই বন্য আবদার মেটাতে গিয়ে আমার নিজের পিঠের চামড়া যে তুমি নখ দিয়ে ছিলে দিয়েছ, তার খবর আছে? এখন সতীপনা দেখিয়ে কী হবে, যখন কাল রাতে তুমিই ছিলে আসল অপরাধী!”
কায়নাতের মনে হচ্ছিল পৃথিবীটা যদি এখন দুই ভাগ হয়ে যেত, ও ভেতরে ঢুকে যেত। অর্ণর প্রতিটা কথা বিষাক্ত তীরের মতো ওর গায়ে বিঁধছে।
অর্ণ বিছানা ছেড়ে নামতে নামতে একদম নির্লজ্জের মতো বলল,
“নিজের শাড়িটার দিকে তাকাও। ওটা কী আমি ছিঁড়েছি? উহু, ওটা তো তুমিই ‘গরম লাগছে’ বলে খুলে আমার মুখে ছুঁড়ে মেরেছিলে। বিশ্বাস করো জান, কাল রাতে তোমার ওই রূপ দেখে আমি নিজেই ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম।”
কায়নাত অবিশ্বাস্য চোখে ফ্যালফ্যাল করে অর্ণর দিকে তাকিয়ে রইল। ওর দুচোখ বেয়ে জল গড়িয়ে নামছে, কিন্তু দৃষ্টি অর্ণর উপর স্থির। অর্ণ যে তার স্বামী, সেই অধিকারের জায়গাটা কী তবে কাল রাতে এমন বীভৎস আর বেহায়া রূপে ধরা দিয়েছিল? অর্ণর প্রতিটি লাগামহীন কথা কায়নাতের কানে বিষের মতো ঢুকছে।
কায়নাত ধরা গলায় ভাঙা স্বরে বলল,
“আমি… আমি কী আসলেই এমনটা করেছি? আপনি তো আমার স্বামী, আপনি অন্তত আমাকে আঁটকাতে পারতেন।”
অর্ণ কায়নাতের অসহায় চাউনি দেখে ওর সেই ঠোঁটের বেহায়া হাসি আরও চওড়া হলো। সে বিছানায় কায়নাতের গা ঘেঁষে বসল। ওর নগ্ন শরীরের উত্তাপ কায়নাতের কাঁপুনি বাড়িয়ে দিচ্ছে।অর্ণর কণ্ঠস্বরে কেমন নেশা লেগে আছে মনে হলো।
“তোমাকে আঁটকাব? আমি কী পাগল? কাল রাতে তুমি যেভাবে আমার পাগল করে দিয়েছিলে, সেখানে কোনো পুরুষের সাধ্য ছিল না নিজেকে আঁটকানোর। বিশ্বাস করো জান, তোমার ওই মাতাল কণ্ঠের ‘অর্ণ’ ডাকটা শুনে মনে হচ্ছিল বারবার নিজের সবটুকু উজাড় করে দিই।”
কায়নাত স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে রইল। অর্ণর চোখেমুখে কোনো অপরাধবোধ নেই, বরং এক ধরণের বিজয়ের নেশা। অর্ণ আবার বলল,
“ওই যে দেখো, মেঝের উপর তোমার ওই সাধের চুড়িগুলো ভাঙা অবস্থায় পড়ে আছে। ওগুলো কেন ভেঙেছে জানো? কারণ তুমি আমার গলা এমন ভাবে জড়িয়ে ধরেছিলে যে আমার নিশ্বাস বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। তোমার ওই নখের আঁচড়গুলো এখনো আমার পিঠে জ্বলজ্বল করছে। কাল রাতে তুমি আমার স্ত্রী ছিলে না, তুমি ছিলে এক তৃষ্ণার্ত মানবী। এখন ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থেকে কী হবে? যা হওয়ার তা তো হয়েই গেছে, আর বিশ্বাস করো সোনা—ওটা আমার জীবনের সেরা রাত ছিল।”
কায়নাত কোনো কথা বলতে পারল না। অর্ণর এই নির্লজ্জ স্বীকারোক্তি আর কাল রাতের এই নতুন সত্যের ভার সে সইতে পারছে না। সে ভাবছে, এই মানুষটা কী আসলেই তার সেই গম্ভীর স্বামী অর্ণ, নাকি অন্য কেউ?মুখের ভাষার এমন বেহায়া অবস্থা কেন?অর্ণ কোনোদিনও তাকে এসব বলবে না।সে কী স্বপ্ন দেখছে?আবার এসেছে ওই লোকটা স্বপ্নে?
কায়নাতের সারা শরীর লজ্জায় রি রি করে উঠল। অর্ণর কথাগুলো তার কানে যেন গরম সিসার মতো বিঁধছে। তার শান্ত, গম্ভীর স্বামীটা এক রাতেই এতটা বেহায়া আর অসভ্য কীভাবে হয়ে গেল? কায়নাতের মনে হলো সে বোধহয় কোনো দুঃস্বপ্ন দেখছে। সে নিজের গালে চিমটি কাটতে চাইল, কিন্তু শরীরের প্রতিটি কোষ যে ব্যথায় কুঁকড়ে যাচ্ছে, তা তো কোনো স্বপ্ন নয়!
সে রাগে, অপমানে আর শরীরের অসহ্য যন্ত্রণায় বিছানায় হাত-পা ছুড়ে চিৎকার করে কাঁদতে চাইল। কিন্তু সেই তীক্ষ্ণ ব্যথার ঢেউ তাকে স্থির করে রেখেছে। সে নড়াচড়া করতে পারছে না, কেবল ছটফট করছে। কায়নাত তড়িঘড়ি করে দুহাতে কম্বলটা টেনে নিজের নগ্ন শরীর ঢাকার আপ্রাণ চেষ্টা করল। ওর চোখের জল এখন রাগে রূপান্তরিত হয়েছে। সে চিৎকার করে বলে উঠল,
“আপনি একটা আস্ত বেহায়া! অসভ্য লোক! কাল রাতের সুযোগ নিয়ে এখন এসব নোংরা কথা বলছেন? ছিঃ! আমি ভাবতেই পারছি না আপনি আমার সেই অর্ণ!”
অর্ণ ওর চিৎকার শুনে ঘাবড়াল না। সে ধীরেসুস্থে বিছানা থেকে নামল। কায়নাত চোখ সরিয়ে নিল, কিন্তু আড়চোখে দেখল অর্ণ মাত্র একটা টাওয়াল কোমরে পেঁচিয়ে ওর দিকে এগিয়ে আসছে। অর্ণর বলিষ্ঠ অনাবৃত শরীরে কাল রাতের নখের আঁচড়গুলো এখনো স্পষ্ট। অর্ণ নিজের চোখ দুটো ছোট ছোট করে ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসল।
“শরমে এখন মুখ লুকাচ্ছ কেন জান? যা দেখার, যা ছোঁয়ার—তা তো কাল রাতেই সবটুকু দেখে নিয়েছি। এমনকি তোমার শরীরের তিলগুলোও এখন আমার মুখস্থ। এখন এত নাটক করে লাভ নেই, এই বেহায়া লোকটার কাছেই তো কাল রাতে বারবার ধরা দিচ্ছিলে।”
কায়নাত মুখ খুলে কড়া কিছু বলতে যাবে, তার আগেই অর্ণ ঝুঁকে এসে ওকে পাঁজাকোলা করে কোলে তুলে নিল।
কায়নাত চিৎকার করে বলল,
“ছাড়ুন আমাকে! কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন? আমি আপনার সাথে কোথাও যাব না!”
অর্ণ ওর কোনো কথাই কানে নিল না। সে বলিষ্ঠ হাতে কায়নাতকে নিজের বুকের সাথে লেপ্টে ধরে ওয়াশরুমের দিকে হাঁটা দিল। অর্ণ নিচু স্বরে কিন্তু কড়া গলায় বলল,
“ঝগড়া করার শক্তি যখন নেই, তখন মুখটা বন্ধ রাখো। এই বিধ্বস্ত অবস্থায় তোমাকে একা ছাড়লে ওয়াশরুমে গিয়ে আছাড় খাবে। তার চেয়ে বরং চলো, স্বামী হিসেবে না হয় বাকি ‘সেবাটুকু’ আজ আমিই করি!”
•••
অর্ণর ঘরটা বেশি বড়ও নয় আবার বেশি ছোটও নয়।সেই ঘরটা আজ একটু বেশি এলোমেলো।অর্ণর ঘরটা এখন যেন একটা রণক্ষেত্র। মেঝেতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ওলটপালট আসবাবপত্রই বলে দিচ্ছে কাল রাত আর আজ সকালের সেই বিধ্বংসী ঝড়ের কথা। কায়নাত অর্ণর বড়সড় নীল শার্টটা গায়ে জড়িয়ে বিছানার এক কোণে গুটিসুটি মেরে বসে আছে। এক ঘণ্টা ধরে নাক মুছতে মুছতে সমানে কেঁদে চলেছে সে। ওর সবথেকে বড় অভিমান হলো—কাল রাতের নেশার ঘোরে যা হওয়ার হয়েছে, কিন্তু আজ সকালে ওর শরীর ব্যথায় ছিঁড়ে যাচ্ছে জেনেও অর্ণ কেন আবার ওর অত কাছে এলো? কেন আবারও জোর-জবস্তি করল?
অথচ অর্ণকে দেখো! সে সোফায় বসে ল্যাপটপ নিয়ে এমন গম্ভীর হয়ে কাজ করছে যেন সে কায়নাতকে চেনেই না। কায়নাত হেঁচকি তুলে তাকাল। অর্ণর এই বেহায়া ভাবটা সে নিতে পারছে না।
এমন সময় দরজায় নক পড়ল। রিসোর্টের স্টাফ দুপুরের খাবার নিয়ে ভেতরে পা রাখতেই কায়নাত চিৎকার করে উঠল,
“আপনি কেন ঘরে এসেছেন? যান এখান থেকে! কেউ আসবেন না এই ঘরে!”
স্টাফ বেচারা হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। অর্ণ ল্যাপটপ থেকে চোখ না সরিয়েই ঠান্ডা গলায় বলল,
“ইটস ওকে, জাস্ট লিভ দ্য ফুড অ্যান্ড গো। থ্যাংক ইউ।”
লোকটা চলে যেতেই অর্ণ উঠে দাঁড়াল। নিজের গায়ের শার্টের হাতাগুলো কায়দা করে গুটাতে গুটাতে কায়নাতের সামনে এসে দাঁড়াল। “খাবারটা খেয়ে নাও। তারপর ঔষধটা খেয়ে একটু ঘুমাও। শরীর ঠিক করতে হবে।”
কায়নাত বলল,
“আমি কিচ্ছু খাব না! কেন খাব? আপনি বড্ড খারাপ!”
অর্ণ একটু অদ্ভুত ধরনের মানুষ।নিজের রাগ চেপে রাখার দারুণ ধৈর্য তার আছে।তবে আজ কেন যেন বড্ড বিরক্ত লাগছে এই ধৈর্য।সে রেগে তাকাল। কায়নাতের এই লাগামছাড়া চিৎকার আর জেদ দেখে সে হুট করে গর্জে উঠল,
“একদম চুপ! আর একটা শব্দ করলে তুলে এক আছাড় মারব, বেয়াদব মহিলা! একে তো নিজে পাগলামি করে এই অবস্থা করেছ, আবার এখন জেদ দেখাচ্ছ? দশ মিনিটের মধ্যে যদি এই খাবার শেষ না করো,তোমার শরীরের হাড় আজ আমি গুঁড়ো গুঁড়ো করব। মনে থাকে যেন!”
অর্ণর এই বিধ্বংসী রূপ আর চোখের সেই রাগী চাউনি দেখে কায়নাতের কলিজা শুকিয়ে খাঁ খাঁ অবস্থা। সে জানে অর্ণ যা বলে তা করে ছাড়ে। ভয়ে হেঁচকি তুলতে তুলতে সে বাচ্চাদের মতো ফুঁপিয়ে উঠল। অর্ণর রাগী চোখের দিকে তাকিয়ে সে কাঁপাকাঁপা হাতে ভাতের নলা মুখে তুলল। বাচ্চাদের মতো হেঁচকি তুলে তুলে সে খাবার গিলছে আর অর্ণর দিকে তাকাচ্ছে।
খাওয়ার মাঝপথে হঠাৎ গলায় খাবার আঁটকে গিয়ে কায়নাত বিষম খেল। অর্ণ দ্রুত কায়নাতের পাশে বসে ওর মাথায় হাত রাখল আর পানির গ্লাসটা ঠোঁটের কাছে ধরল। অত্যন্ত আদুরে স্বরে বলল,
“আস্তে খাও। কেউ কেড়ে নিচ্ছে না।”
কায়নাত পানি খেয়ে বড় বড় চোখে অর্ণর দিকে তাকাল। এই মানুষটা কখনো তপ্ত আগুনের মতো পুড়িয়ে দেয়, আবার কখনো বৃষ্টির মতো শীতল হয়ে আসে।
খাওয়া শেষ হতেই কায়নাত ঔষুধ খেয়ে মুখ ফিরিয়ে শুয়ে পড়ে বিছানায়।ওর মনের ভেতর তখন অভিমানের পাহাড় জমেছে। কাল রাতের কথা নাহয় বাদই দিল, কিন্তু আজ সকালে ওর শরীরের এই জরাজীর্ণ অবস্থা দেখেও অর্ণর মায়া হলো না? উল্টো আবার তাকে ওই অসহ্য ব্যথার মাঝেই পিষে দিল? কায়নাত কম্বলটা গায়ের উপর টেনে নিয়ে নিজেকে গুটিয়ে নিল।
কায়নাতের এই রুষ্ট ভঙ্গি আর মুখ ফিরিয়ে নেওয়া দেখে অর্ণর ঠোঁটে এক চিলতে বাঁকা হাসি ফুটে উঠল। সে বিছানায় আয়েশ করে বসে কায়নাতের দিকে তাকিয়ে বিদ্রূপের স্বরে বলল,
“বাহ্! এখন তো দেখছি বেয়াদব মহিলা বেশ ভালো নাটক শুরু করেছে। কাল মধ্যরাতে যে নারী নেশার ঘোরে পাগলামি করে আমার সম্মানহানি করেছে, আমাকে নাজেহাল করেছে—সেটা বুঝি একদম ভুলে গেলেন? আর এখন এমন ভাব করছেন যেন আমিই আপনাকে ধরে এনে জোর করেছি! বেয়াদব মহিলা একটা।”
অর্ণর এমন বেহায়া, ব্যঙ্গাত্মক কথা শুনে কায়নাত নাক ফুলিয়ে ঘুরে তাকাল।অর্ণ কপাল কুঁচকে তাকাল মেয়েটার দিকে।এটা সত্যি কায়নাতের শরীর আজ বড্ড বেশি খারাপ।কান্না-কাটির ফলে নাক মুখ লাল হয়ে একাকার অবস্থা।তবুও যেন অর্ণর মায়া হলো না।ঠোঁটের কোন হালকা বেঁকে এলো।কায়নাত হেঁচকি তুলে বলল,
“আমি কিন্তু ঘর থেকে বেরিয়ে যাব বলে দিলাম।আপনি কেন বারবার কানের কাছে একই কথা বলে যাচ্ছেন?”
অর্ণ বলল,
“তাহলে সব দোষ আমায় দিচ্ছ কেন?আমি তোমায় জোর করেছি?”
অর্ণর সাথে তর্কে পেরে ওঠা যে অসম্ভব, সেটা কায়নাত হাড়েহাড়ে টের পাচ্ছে। এই লোকটা নিজের দোষ স্বীকার করা তো দূরে থাক, উল্টো এমন সব বেহায়া কথা বলবে যে সহ্য করা অসম্ভব! কায়নাত চুপটি করে কম্বলটা মাথার উপর টেনে নিয়ে মুড়ি দিয়ে শুয়ে পড়ল।
অর্ণ বিছানায় আয়েশ করে পা ছড়িয়ে বসে কায়নাতের এই গুটিসুটি মেরে পড়ে থাকা দেখল। ওর ঠোঁটের কোণে সেই হাসিটা এখনো লেপ্টে আছে। সে কম্বলের উপর দিয়ে কায়নাতের পিঠে হালকা টোকা দিয়ে বলল,
“কী হলো? আর কোনো লজিক খুঁজে পাচ্ছ না? কাল রাতে তো ডিকশনারি উল্টে কত কী বললে, আর এখন একদম বোবা হয়ে গেলে যে!”
কায়ানাত কম্বলের ভেতর থেকেই ধমকে উঠল,
“চুপ করুন আপনি! আমি আপনার সাথে কোনোদিনও কথা বলব না।অসভ্য লোক একটা।”
(২.৫k রিঅ্যাক্ট দিবা সবাই,নাহলে মাইর দিব।আজকের পর্বটা কায়নাত আর অর্ণর।আজকে স্পেশাল কিছু দিতে চেয়েছিলাম কিন্তু সময় পাইনি।ইনশাআল্লাহ আগামী পর্বে দিব।রেসপন্স করুন সবাই।)
চলবে…?
Share On:
TAGS: প্রেমবসন্ত সিজন ২, হামিদা আক্তার ইভা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৩২
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৮
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৬(প্রথমাংশ +শেষাংশ)
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ১৭(প্রথমাংশ +শেষাংশ)
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৩৪.১
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ২৫
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৩৩
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৩৭
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৪
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ১৪