প্রেমবসন্ত_২
হামিদাআক্তারইভা_Hayat
২.
রাতের রান্নার আয়োজন চলছে বাগানে।বেহরুজ বেগম একবার খাবার দেখতে গিয়েছিলেন।ছেলেকে তো ঠান্ডা খাবারই খাওয়াতে হলো।ছেলে মেয়ে গুলো খাবারের জন্য পাগল বানিয়ে ফেলছে।
বেহরুজ বেগমের ছোট মেয়ে,নিশা।সে সেজো ভাইয়ের হাতে থাপ্পড় খেয়ে বর্তমানে মায়ের আঁচল ধরে ঘুরঘুর করছে।বয়স ১৯,অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্রী সে।অথচ মেয়েটা এখনো সেই বাচ্চাই রয়ে গেছে।সে এবার ভীষণ বিরক্ত হলো।মায়ের শাড়ির আঁচল টেনে ধরল শক্ত করে।বেহরুজ বেগম ঘাড় ঘুরিয়ে কপাল কুঁচকে ফেললেন।
“নিশা,কী হচ্ছে?”
“তুমি কেন ভাইয়াকে কিছু বললে না?ও আমাকে কত জোরে মেরেছে জানো?”
“তুই জানিস না আদাল কেমন?ওর সাথে লাগতে যাস কেন?”
“আমি কিন্তু বাবাকে বলে ঠিক ওকে মার খাওয়াব।তুমি কিছু বলবে নাকি বাবাকে গিয়ে বলব?”
“আচ্ছা বাবা,ওকে বকে দিব আমি।এখন যা,তোর ভাইদের ডেকে নিয়ে আয়।রাতের খাবার দেয়া হবে একটু পর।”
নিশা মাথা নাড়িয়ে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে গেলো।ঠিক তখন আতিয়া বেগম নামলেন সিঁড়ি বেয়ে।ডাইনিং টেবিলে খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে ইতোমধ্যে।তিনি নিচে নামতেই রেখা বেগম আড়চোখে শাশুড়ির দিকে তাকিয়ে গলা উঁচিয়ে বললেন,
“আম্মা,খাবার তো হয়ে গেছে।”
তিনি এগিয়ে গিয়ে দেখলেন সব ঠিক আছে।রাতে সবার খাওয়া দাওয়া হলো।আতিয়া বেগম কায়নাতের জন্য আলাদা করে খাবার নিলেন।তিনি জানেন মেয়েটা এত মানুষের মধ্যে খেতে পারবে না।সব কিছু যখন পরিষ্কার করা হচ্ছিল তখন বেহরুজ বেগম দেখলেন আতিয়া বেগম আলাদা করে খাবার বাড়ছেন।তিনি হাতের কাজ রেখে বললেন,
“মা,খাবার কার জন্য নিচ্ছেন?”
আতিয়া বেগম বলতেই ভুলে গেছেন কাজের চাপে।তিনি হাসি মুখে কিছু একটা বলতে গিয়েও থেমে গেলেন।তারপর বললেন,
“কায়নাতকে নিয়ে এসেছেন তোমার শ্বশুর।”
“কায়নাত?”
“লতার মেয়ে,কায়নাত সুবাহ।”
বেহরুজ বেগম আশ্চর্য হয়ে বললেন,
“লতার বড় মেয়ে?ও এই বাড়িতে?”
“হ্যা,সন্ধ্যায়ই তো নিয়ে এলেন ওকে।”
“আমাকে তো কিছুই বললেন না।ওর বড় মেয়েকে তো কখনো দেখিনি আমি।”
“চলো,আমার ঘরেই আছে।”
বেহরুজ বেগম হাতের কাজ শেষ করে শাশুড়ির সাথে দুতলায় উঠে এলে আতিয়া বেগম দরজার সামনে দাঁড়িয়ে বেহরুজ বেগমের দিকে ফিরলেন।
“শোনো,যতই হোক সে বাড়ির মেয়ে।খালি হাতে তাকে দেখবে তুমি?”
বেহরুজ বেগম বললেন,
“কী দিব মা?”
“কিছু একটা দিও,কিন্তু খালি হাতে দেখো না।”
বেহরুজ বেগম মাথা নাড়লেন।আতিয়া বেগম দরজা খুলে দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করলেন।কায়নাত বিছানায় শুয়ে ছিলো কম্বল মুড়িয়ে।হয়তো ঘুমিয়েও গেছে।বেহরুজ বেগম দেখলেন একটা মেয়ে গুটিয়ে শুয়ে আছে বিছানায়।মুখ খানা ফুলে গেছে।আতিয়া বেগম খাবারের প্লেট বেহরুজ বেগমের হাতে দিয়ে কায়নাতকে ডাকলেন।দ্বিতীয়বার ডাকতেই মেয়েটা পিটপিট করে চোখ খুলে আতিয়া বেগমকে দেখে উঠে বসল।
“ঘুম ধরেছে বুড়ি?খাবি না?”
বেহরুজ বেগম এগিয়ে এসে খাবারের প্লেট বিছানার এক কোনায় রেখে মুচকি হাসলেন।
“লতার মেয়ে তো একদম লতার মতো দেখতে মা।”
কায়নাত অপরিচিত মহিলাকে দেখে সালাম দিলো।বেহরুজ বেগম সালামের উত্তর নিলেন।পাশে গিয়ে বসে বললেন,
“আমি তোমার মেজো চাচি।”
কায়নাত আলতো করে মাথা নাড়ল।বেহরুজ বেগম নিজের গলা থেকে স্বর্ণের চেইনটা খুলে কায়নাতকে পরিয়ে দিতে গেলে কায়নাত চমকে উঠে বলে,
“আল্লাহ,কী করছেন আপনি?”
“মেয়ে মনে করে তোমাকে ছোট একটা উপহার দিচ্ছি।মায়ের দোয়া ভেবে নাও।”
আতিয়া বেগম হাসলেন।ভাবলেন বেহরুজ বেগমের সাথে এখন কথা বলার সময় হয়ে এসেছে।অনেক গুলো বছর পেরিয়ে গেছে,এখন কিছু কথা চাপা দিয়ে রাখলে বিপদ বাড়বে।
কায়নাত হাত মুখ ধুয়ে এসে বিছানায় বসলে দরজা ঠেলে ভেতরে এলো নিধি আর নিশা।আতিয়া বেগম ওদের বললেন কায়নাতের খাওয়া শেষ হলে আজ ওর সাথে এই ঘরেই থাকতে।পারলে সুহাদেরও এই ঘরে থাকতে।নিধি সম্মতি দিলে বেহরুজ বেগম ও আতিয়া বেগম ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন।কায়নাত ভীষণ অস্বস্বি নিয়ে খাবার শেষ করল।নিশা কায়নাতের দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হাসছিল এতক্ষণ।নিচ থেকে নিধির কাছে শুনেছি সে কায়নাতের কথা।মেয়েটাকে দেখতেই সে দাদি ঘরে এসেছিল।
কায়নাত নিশাকে অমন করে নিজের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে বলল,
“তুমি অমন করে আমার দিকে তাকিয়ে আছো কেন?”
নিশা কায়নাতের প্রশ্ন শুনে দেরি না করে হেসে উঠল।
“তুমি কিন্তু ভীষণ সুইট।”
কায়নাত কপাল কুঁচকে বলল,
“কী?”
“তুমি ভীষণ কিউট।শুনেছি তুমি আমার চাচাতো বোন।তোমাকে এই প্রথমবার দেখলাম।আমি তোমার চাচাতো বোন হই বুঝলে?আমার নাম নিশা,বয়স ১৯।অনার্স প্রথম বর্ষে…”
নিধি নিশার মাথায় চাপড় মেরে বলল,
“চুপ কর ফাজিল।নিজে নিজেই বকবক করছিস।ওকে তো কিছু বলার সুযোগ দে?”
নিশা মাথায় হাত ডলে বলল,
“তুই চুপ থাক।আমি আগে নিজের সম্পর্কে বলছি যাতে ওর কষ্ট করে কিছু জিজ্ঞেস করতে না হয়।”
“কখনো কাউকে কিছু বলার সুযোগ দিস তুই?”
“চুপ থাক।যাইহোক,তোমার নামটা কিন্তু ভীষণ সুন্দর কায়নাত।”
কায়নাত নিশার দিকে তাকিয়ে ছিল।আজ তার কী হয়েছে কে জানে!চৌধুরী বাড়ি আসার পর থেকে যাকেই দেখতে তাকে দেখেই মনে হচ্ছে আল্লাহ ভীষণ যত্ন নিয়ে প্রত্যেকটা মানুষকে তৈরি করেছেন।নিধি,নিশা দুজনেই ভীষণ সুন্দর।তার মনে হলো ওদের মতো সুন্দর এই গ্রামে সে আগে কখনো কাউকে দেখেনি।
নিধি কায়নাতের চুলে আলতো করে হাত বুলিয়ে বলল,
“তুমি এখন একটু বিশ্রাম নাও,আজ অনেক ক্লান্ত দেখাচ্ছে তোমাকে।”
কায়নাত মাথা নাড়ল,কিন্তু ঘুম তার কাছে যেন মুখ ফিরিয়ে আছে।ঘরের বাতাসে দুধ-গোলাপজলের হালকা গন্ধ, বাইরে ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দে রাতটা আরও গভীর হয়ে উঠছে।
নিশা তখনও চুপ করে নেই।বিছানার একপাশে বসে একের পর এক প্রশ্ন করছে,
“তুমি কী বই পড়ো? গান শোনো? প্রেম আছে তোমার?”
কায়নাত হঠাৎ মুখ তুলে তাকাল,চমকে গেলো একটু।
“প্রেম?”
নিধি মুখ চেপে হাসি আটকালো,
“এই মেয়েটার মুখে কিছু আঁটকায় না।”
“আরে আমি তো কৌতূহলী! সবাই বলে কায়নাত নাকি খুব চুপচাপ,তাই ভাবলাম দেখি এই চুপচাপ মানুষটার ভেতর কতটা কাণ্ডকারখানা লুকানো!”
কায়নাতের ঠোঁটে প্রথমবারের মতো হালকা একটা হাসি ফুটল।
“তেমন কিছু না।আমি চুপ থাকলেই সবাই ভাবে আমার অনেক রহস্য আছে।কিন্তু আমি ভীষণ বাচাঁল।”
নিধি হেসে বলল,
“আসলে চুপচাপ মানুষরাই সবচেয়ে গভীর হয়।ওদের ভেতর কথার বদলে গল্প লুকানো থাকে।”
নিশা চোখ পাকিয়ে বলল,
“তুই আবার দার্শনিক হচ্ছিস?”
“তুই চুপ কর নিশা।”
“না করব না।আজ নতুন মানুষ এসেছে,আমি কথা না বললে ও ঘুমাবে কীভাবে?”
কায়নাত একটু মৃদু হেসে বলল,
“তোমাদের মধ্যে কে বড়?”
নিধি বলল,
“আমি।”
নিশা সঙ্গে সঙ্গে যোগ করল,
“কিন্তু মিষ্টি আমি।”
নিধি মাথায় ঠুস করে একটা বালিশ ছুড়ে মারল,
“এই মিষ্টি! এবার চুপ করে শুয়ে পড়।”
ঘরজুড়ে তখন হালকা হাসির শব্দে নরম এক উষ্ণতা ছড়িয়ে পড়ল।কায়নাত অনুভব করল, কতদিন পর সে এমন নিশ্চিন্তে হাসছে।
রাত ক্রমশ গভীর হয়ে আসছে।বাইরে পুকুরঘাটে বাতাসে নারকেলপাতার দোল, দূরে কোথাও কুকুরের হালকা ডাকে সাড়া পড়ছে।নিধি উঠে জানালা বন্ধ করতে গেলো, বলল,
“বাইরে ঠাণ্ডা বাড়ছে।তুমি কম্বলটা টেনে নিও কায়নাত।”
কায়নাত মৃদু গলায় বলল,
“ধন্যবাদ।”
নিশা পাশ থেকে বলল,
“আমাকেও ধন্যবাদ দিও,কারণ আমি ঘুমাব তোমার পাশেই।”
নিধি আবার হাসল।কায়নাতের চোখে তখন ঘুম নেমে এসেছে।দু’চোখ ভারী হয়ে আসছে, তবু মন যেন অস্থির।মায়ের কথা মনে পড়ছে,সেই শেষ দেখা!মিলি বেগম বলেছিলেন, “আজ নিজের আসল ঠিকানায় যাচ্ছিস মা।সব সময় মনে রাখবি,বিয়ে মানুষের একবারই হয়।”
রাত পেরিয়ে গেল নিঃশব্দে।
জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তা চলছে এখন।পুরো দমে শীত পড়েছে ধরণীতে।এখন ভোর সকাল।চারপাশটা কুঁয়াশায় মুড়িয়ে তখন।বিয়ে সামনে সপ্তায় হলেও চৌধুরী বাড়ির আয়োজন দেখে মনে হচ্ছে আজই বিয়ে।আত্মীয় তেমন কেও এখনো আসেননি,তবে দুয়েকদিনের মধ্যে মনে হচ্ছে বাড়ি ভরে যাবে।এই ভোর সকালেই জেগে উঠেছে সবাই।বাড়ির কিছু ছেলে আত্মীয় মিলে বাগানে রান্নার কাজ শুরু করেছে।কাটাকাটি চলছে সেখানে।চৌধুরী বাড়ির বিশাল ছাদের এক কোনায় দাঁড়িয়ে আছে এক সপ্তদশী।শীতে শরীর কাঁপছে,তবুও একচুল পরিমাণ নড়ছে না।রাতে ভালো করে ঘুম হয়নি তার।নতুন পরিবেশে এসে মানিয়ে নিতে বড্ড কষ্ট হচ্ছে।
কুঁয়াশা এতই বেশি যে ছাদ থেকে নিচে কী হচ্ছে সেটাও দেখা যাচ্ছে না।কায়নাত ঠোঁট উল্টালো।আতিয়া বেগমের দেয়া একটা মোটা শাল ভালো করে গায়ে জুড়িয়ে পিছু ঘুরতেই দেখতে পেল একটা লম্বাটে ছাঁয়া।কালো রঙের মোটা ট্রাউজার প্যান্ট,আর কালো হুডি গায়ে জড়িয়ে কেও একজন সিগারেট ধরিয়েছে।কায়নাত চমকে উঠল কোনো পুরুষ মানুষকে দেখে।মুখ দেখা যাচ্ছে না লোকটার।
সে মাথার কাপড় ভালো করে টেনে নিল।হঠাৎ কেঁশে উঠল সে।সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটা গম্ভীর গলায় জিজ্ঞেস করল,
“কে ওখানে?”
ভীষণ ভারী একটা কণ্ঠস্বর।ছাঁয়াটা এগিয়ে এলে কায়নাত পাশ কেটে দরজার দিকে দৌঁড়ে যায়।
অর্ণ হতভম্ব হয়ে পিছু ঘুরে দাঁড়ায়।এই সাতসকালে বাড়ির কোন মেয়ে ছাদে এসেছে?অর্ণ দীর্ঘশ্বাস ফেলে।হাতের সিগারেট ফুরিয়ে এসেছে প্রায়।
প্রেম আর স্বার্থরা সবাই এক ঘরে ঘুমিয়েছিল।প্রেমের ঘরে তার দুই ভাই এবং অর্ণর তিন বন্ধু,মোট ৬জন একই ঘরে ছিল তারা।সূর্য তখন নিজের আলোয় আলোকিত করতে ব্যস্ত চারপাশ।শেহের আর মেহরাব উঠে গেছে ঘুম থেকে।সবাই ভোরে মসজিদ থেকে এসে আবার ঘুমিয়েছিল।মাঝারি সাইজের বিছানায় ৬টা দাঁমড়া একসাথে যেভাবে পেরেছে সেভাবেই ঘুমিয়েছে।বর্তমানে প্রেম স্বার্থকে ঝাঁপটে জড়িয়ে ধরে ঘুমাচ্ছে।শেহের সয়তানী করে কয়েকটা পিকচার তুলে রাখল।
খানিকক্ষণ পেরোতেই প্রেমের ঘুম হালকা হয়ে এলো।বেলা তখন ৯টা ছাড়িয়েছে।পিটপিট করে চোখ মেলে দেখল স্বার্থকে।বেচারা নাক ছিঁটকে সরে এসে স্বার্থর পেটে গুতো মেরে বলল,
“স্বার্থ ভাই?তুমি তো বিছানায় হিসু করে দিয়েছ।ছিঃ, বাজে গন্ধ বের হয়েছে।”
স্বার্থ হুড়মুড়িয়ে উঠে বসল।শরীর থেকে মোটা কম্বল সরিয়ে ভেতরে উকি মেরে দাঁত কটমট করে প্রেমের দিকে ফিরল।প্রেম হামাগুড়ি দিয়ে বিছানা থেকে নামতে গেলে স্বার্থ ওর ট্রাউজার টেনে ধরে।প্রেম আঁতকে উঠে বলে,
“ইয়া আল্লাহ,স্বার্থ ভাই আমার সম্মান নিয়ে টানাটানি করবে না একদম।দূরে সরো খচ্চর।”
“আমার ঘুমের বারোটা বাজিয়ে তুই পালাচ্ছিস কোথায়?”
“দেখো ভাই,আমি ডাক্তার মানুষ!আমি তোমার মতো সারাদিন শুয়ে বসে থাকি না।”
স্বার্থ রেগে প্রেমের প্যান্ট টেনে ধরলে প্রেমও স্বার্থর ট্রাউজার টেনে ধরল।ঠিক তখন দরজা দিয়ে নিশা ঢুকল ৪কাপ চা নিয়ে।হাতে চায়ের ট্রে নিয়ে সামনে তাকাতেই এমন একটা দৃশ্য চোখে পড়তেই চিৎকার করে উঠল।
“ছিঃ, কী করছো তোমরা এসব?”
প্রেম ও স্বার্থ দুজনেই হকচকিয়ে দরজার দিকে তাকায়।নিশাকে দুজনে দেখেই হতভম্ব।
পরের সেকেন্ডেই প্রেম চিৎকার করে বলল,
“ইয়া আল্লাহ! এটা কী কাণ্ড!নিশু তুই কখন এসেছিস?”
নিশা চোখ বন্ধ করে বলল,
“দুইটা দাঁমড়া ছেলে একে অপরের প্যান্ট ধরে টানাটানি করছে! এটা বাড়ি না সার্কাস?”
স্বার্থের মাথায় রক্ত চড়ে গেল।ও ঝট করে কম্বল টেনে গায়ে জড়িয়ে প্রেমের দিকে তাকিয়ে বলল,
“তোর জন্যই এই কেলেঙ্কারি! তুইই না বলছিলি আমি বিছানায় হিসু করেছি?”
“আরে ভাই,আমি তো মজা করছিলাম! তুমি যে এমন করে ট্রাউজার ধরে বসে পড়বে ভাবিনি।”
নিশা এক হাত কোমরে রেখে বলল,
“ওই ট্রাউজার টানাটানি বন্ধ করো দুজনেই! আর তোমরা তিনজন একঘরে শোও কেন বলতো? মানে, একটা বিছানায় ছয়টা গরিলা?”
শেহের ঘরের এক কোনার সোফায় বসে বলল,
“নিশা,বিয়ে বাড়ি মানেই টাইট বাজেট! একঘরেই সব ফিট করতে হয়েছে।”
“ফিট না ফাট, আমি জানি না!”
নিশা চায়ের কাপ নামিয়ে টেবিলে রেখে ফের বলল,
“চা খাও, কিন্তু পরেরবার দরজা লক করে নিও।”
প্রেম তাড়াতাড়ি বলে উঠল,
“কিছু দেখিসনি তো আবার?”
স্বার্থ দাঁত চেপে বলল,
“তুই চুপ থাক, তোর জন্যই মানসম্মান গেছে।”
“তোমার মুখে ছাই পড়ুক!”
•
সকাল ১০টা বাজে।
শীতের রোদটা যেন এখনো কুঁয়াশার ভেতর আটকে আছে।চৌধুরী বাড়ির বাগানজুড়ে হালকা শিশিরে ভেজা ঘাস, বাতাসে ধোঁয়াটে ঠাণ্ডা গন্ধ।দূরে রান্নাঘর থেকে ভেসে আসছে চায়ের পাতার গন্ধ।
অর্ণ নিজের ঘরে তখনই গোসল সেরে ফ্রেশ হয়েছে।ঘড়িতে তাকিয়ে দেখল সকাল দশটা। অভ্যাসবশত জানালার পর্দা সরিয়ে বাইরে তাকিয়ে কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।শীতের সূর্যের মৃদু আলো তার মুখে এসে পড়েছে,চোখে পড়ল পাখির ঝাঁক উড়ে যাচ্ছে আকাশ ছুঁয়ে।
চৌধুরী বাড়ির দোতলার বারান্দা পেরিয়ে সিঁড়ির মুখে এলো অর্ণ।চুল এখনো ভেজা,ছাই রঙা শার্টের উপরের দুটো গলার বোতাম খোলা,হাতে ঘড়ি পরতে ভুলে গেছে।তার দৃষ্টি হঠাৎ থেমে গেলো সিঁড়ির পাশের দাদির ঘরটায়।
ঘরের মাঝখানে লাল খয়েরী রঙের শাড়ি পড়ে একটা মেয়ে উল্টো হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।দীর্ঘ কালো চুলগুলো পিঠে ছড়িয়ে আছে,যেন আঁধারে ঢাকা অমাবস্যা রাত।
অর্ণ ভ্রু কুঁচকালো।মুহূর্তে মুখে এক হালকা বিরক্তির ছাপ।কে এই মেয়ে?তার জানা মতে এই বাড়ির কোনো মেয়ের এত লম্বা চুল নেই।
(#প্রেমবসন্ত_২ পুরোটাই আলাদা কাহিনি।আমি তো গল্প শুরু করার আগেই বলেছি সিজন২ কায়নাত এবং অর্ণকে নিয়েই লেখা হবে।রেসপন্স করছেন না কেন? আপনারা রেসপন্স না করলে লেখায় মন বসবে না।রেসপন্স করুন পাপীর দল।)
চলবে…?
Share On:
TAGS: প্রেমবসন্ত সিজন ২, হামিদা আক্তার ইভা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৩
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ১২
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ২১
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৪
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ২২
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ১৪
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৮
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৭
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ২৭.১
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ১০