প্রেমবসন্ত_২ ।২৮।
হামিদাআক্তারইভা_Hayat
“আচ্ছা মামু,তুমি এত সুন্দর কেন?”
আদির কথায় অর্ণ ভ্রু কুঁচকে বলে,
“তুমি সৌন্দর্যের কী বুঝো?”
আদি অর্ণর গোছাল চুল গুলো এলোমেল করে দিয়ে বলল,
“তোমার বউ আমার খালামনিকে বলছিল,তুমি নাকি খুব সুন্দর।”
কায়নাত চোখ বড় বড় তাকায়।তৎক্ষণাৎ অর্ণও চোখ তুলে তাকিয়েছে কায়নাতের দিকে।কায়নাতের ইচ্ছে করল আদিকে তুলে বারান্দা দিয়ে ছুড়ে মারতে।অর্ণ দৃষ্টি সরিয়ে নিজের গাম্ভীর্য বজায় রেখে উঠে দাঁড়ায় সোফা থেকে।কায়নাত ভাবল অর্ণ বকবে,কিন্তু তেমন কিছুই হলো না।সে ওয়াশরুমে গেলে কায়নাত চোখ কটমট করে আদির দিকে তাকায়।বলে,
“এই বিচ্ছু!তোমায় আমি কথা লাগাতে বলেছি?তুলে কিন্তু আছাড় মারব।”
আদি মুখ কালো করে বলল,
“তুমি খুব খারাপ।আমি মামুকে বলব তুমি আমায় মেরেছ।”
“মিথ্যে বলবে কেন?কাছে আসো তুলে সত্যি আছাড় মারি।”
আদি গাল ফুলোল।তাকে রাহেলা বানু আর কায়নাত ছাড়া কেউ বকা দেয় না।বাচ্চাটার যেন খুব অভিমান হলো।সে চুপ করে গেলে কায়নাত আড়চোখে তাকায় তার দিকে।তার মায়া হলো।হালকা গলা কেঁশে বলল,
“কাছে এসো আমার।”
আদি আসলো না।কায়নাত গলা শক্ত করে বলল,
“একদম নাটক করবে না।এখনই আসো।”
আদি ঠোঁট কামড়ে দাঁড়িয়ে রইল।চোখ দুটো ছলছল করছে, কিন্তু জেদ ছাড়ছে না।একটু পরে ধীরে ধীরে পা বাড়াল।হাঁটতে হাঁটতে মাথা নিচু, যেন প্রতিটা কদমে অভিমান জমছে।বিছানার কাছে এসে হঠাৎ থেমে গেল।তারপর এক টানে চাদর টেনে নিয়ে বিছানায় উঠে কায়নাতের সামনে বসে পড়ল।
চোখের কোণে পানি টলমল।
“তুমি আমাকে ভালোবাসো না।” ক্ষীণ গলায় বলল।
“ভালোবাসতে যাব কেন?তুমি সব সময় আমার জামাইয়ের পিছু লেগে থাকো কেন?”
“আমার মামু।”
“আমারও জামাই।”
“আমি ভালোবাসি।”
“আমিও ভালোবাসি।”
আদি ঠোঁট চেপে ভ্রু কুঁচকে তাকাল।কায়নাত হুড়মুড়িয়ে বিছানা থেকে নেমে দাঁড়াল এবার।অর্ণর সামনে দাঁড়িয়ে থাকার মতো সাহস তার নেই।লোকটা হয় গিলে খাওয়া লুক নিয়ে তাকিয়ে থাকবে,নাহয় এমন কিছু কথা বলবে যেটা কায়নাত সইতেও পারবে না আবার কিছু বলতেও পারবে না।সে চোখ পাকিয়ে আদিকে দেখে দরজার দিকে এগিয়ে যেতে যেতে বলল,
“আমার জামাইয়ের আশেপাশে ঘুরবে না,বেয়াদব ছেলে।”
সে ঘর থেকে বের হলে আদি ঠোঁট বাঁকিয়ে তাকিয়ে থাকে সেদিকে।কায়নাতকে তার ভালোলাগে,কিন্তু যখন বকা-ঝকা করে তখন একটু মন খারাপ হয়।সে জ্বালায় ঠিকই,তবে সেটা তার ভালোলাগে বলে।
অর্ণ ওয়াশরুম থেকে বের হলো।বেরিয়ে আদিকে ওমন মুখ কালো করে বসে থাকতে দেখে বলল,
“কী হয়েছে?”
আদি ছলছল চোখে তাকিয়ে বলল,
“তোমার বউ আমায় মেরেছে।”
অর্ণও যেন এই কথা বিশ্বাস করল।কায়নাত যে আদিকে হিংসে করে এটা সে ভালো করেই জানে।এবং এটা বিশ্বাসযোগ্য বলে তার মনে হয়েছে।
তখন রাত হয়েছে বেশ।আগামীকাল শুক্রবার।আয়োজন যেহেতু কাল হবে তাই আজই কাজ এগিয়ে রাখছেন বাড়ির মহিলারা।বেহরুজ বেগম অন্য পরিবেশের হলেও কখনও অভিযোগ করেননি শ্বশুর বাড়ির পরিবেশ দেখে।তিনি সব জায়গায় মানিয়ে নিতে পারেন বলে মাশফিক চৌধুরী আজ অব্দি স্ত্রীকে নিয়ে বেশ গর্ব করেন।আজ থেকে ৩৪-৩৫ বছর আগে যখন তিনি বিয়ে করেছিলেন, তখন তার ব্যবসা-বাণিজ্য কিছুই ছিল না।সাধারণ একটা কোম্পানিতে ৭হাজার টাকার বেতনের চাকরি করতেন তিনি।বাপ-দাদার অঢেল টাকা-পয়সা থাকলেও কখনও তিনি বাবার কাছে দুটো টাকা হাত পেতে চাননি।
ওই সময়ে বেহরুজ বেগমের সাথে তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন সবার সম্মতি নিয়ে।ভালোবাসার সম্পর্ক ছিল না,তবে ভালো বন্ধুত্ব ছিল।তিনি বিয়ের প্রস্তাব দিলে বেহরুজ বেগম বিনা বাক্যে রাজী হয়ে যান চৌধুরী বাড়ির বউ হতে।অথচ মাশফিক চৌধুরীর অবস্থা ছিল খুবই খারাপ।নিজে চলত খুব কষ্ট করে।সেখানে বেহরুজ বেগমকে বিয়ে করে তার দায়িত্ব নেয়ার মতো সাধ্য তার ছিল না।তবে আজ তিনি প্রতিষ্ঠিত একজন ব্যবসাহী।আল্লাহ দিলে আজ তার কোনো কিছুর কমতি নেই।
বেহরুজ বেগম বসে বসে সবার সাথে কাজ করছিলেন।লতা বেগম সবে এসে বসেছেন পাশে।বাড়িতে কিছু আত্মীয় এসেছেন সন্ধ্যার আগ দিয়ে।মাশফিক চৌধুরীর সম্পর্কে চাচাতো বোন হন তিনি।গ্রামে থাকার দরুণ তার কথা-বার্তা কিছুটা ওই পরিবেশের বললে ভুল হবে না।তিনি ভীষণ মিষ্টি গলায় বেহরুজ বেগমকে বললেন,
“তোমার বড় ছেলের খবর কী বেহরুজ?”
বেহরুজ বেগম মুচকি হেসে জবাবে বললেন,
“বেশ ভালো আপা।ছেলের এখন সংসার হয়েছে,ওকে নিয়ে আর চিন্তা করতে হয় না আমার।”
“শুনেছি লতার বড় মেয়ের সাথে তার বিয়ে হয়েছে।মেয়ে সংসার বোঝে?”
“হ্যা!ভীষণ লক্ষ্মী মেয়েটা।”
তখন আতিয়া বেগম এসে নিঃশব্দে পাশে বসলেন তাদের।সেখানে পেঁয়াজ,আদা,রসুন আরও অনেক কিছুই ছিলিয়ে রাখা হচ্ছিল।রান্নার কাজ আপাতত আজগর চৌধুরী দেখছেন।বাড়ির বাইরে থেকে প্রেমের কণ্ঠস্বর শোনা যাচ্ছে ভাইদের সাথে।বাড়ির মেয়েরাও বোধহয় সেখানেই উপস্থিত এই মুহূর্তে।আদির তীব্র কণ্ঠের হাসির শব্দ ভাসছে চারপাশ জুড়ে।বাচ্চাটা এত বেশি দুষ্টু!বাড়ির দো’তলার বারান্দা থেকে নুসরাত দাঁড়িয়ে তাদের কাণ্ড দেখছে।সব কেমন যেন নতুন রঙে রাঙিয়েছে নিজেকে।অজান্তেই হাসল সে।খানিকক্ষণ আগে শেহের কল করেছিল আদালকে।আদাল আদির নাম করে নুসরাতের কাছে ফোন দিয়ে চলে গিয়েছিল নিচে।ইচ্ছে না হলেও নুসরাত আজ শেহেরের সাথে কথা বলেছে বেশ কিছুটা সময়।শেহের কথা শুরু করলে যেন শেষই করতে চায় না।
সে দীর্ঘশ্বাস ফেলল।নিচে তাকিয়ে দেখল,আদি মামু আর খালাদের সাথে মিশে দৌঁড়া-দৌঁড়ি করছে।বাচ্চাটার হাসির শব্দে মুখরিত চারপাশ।এখন প্রায় রাত ৮টার কাছাকাছি সময়।
জয়া নাজনীনের ঘর থেকে বেরিয়েছে সবে।নাজনীন আজ সারাদিন বাড়ি ফেরেনি।লোকটা কোথায় গেছে তার জানা নেই।দাদার কাছে শুনেছে আজ কোনো মাল কোথাও যায়নি।তাহলে লোকটা গেল কোথায়?কেনোই বা সারাদিন বাড়ি ফেরেনি সে?
জয়া মুখ কালো করে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামছিল।বড় ড্রয়িংরুমের এক কোণায় বসা মহিলাদের মধ্যে থেকে রেখা বেগম গলা ছেড়ে বললেন,
“এই জয়া,এদিকে আয় তো।”
জয়া গুটি গুটি পায়ে সেদিকে এগিয়ে গেলে রেখা বেগম বলেন,
“নাজনীন গেছে কোথায়?ওকে তো ফোনেও পাওয়া যাচ্ছে না।”
বেহরুজ বেগম বললেন,
“অর্ণও তো সন্ধায় বাইরে গেল।ওরা দুই ভাই গেছে কোথায়?প্রেম জানে বোধহয়,ওকে ডেকে নিয়ে এসো তো জয়া।”
জয়া মাথা নাড়িয়ে বাড়ির বাইরে পা রাখল।সেখানে উপস্থিত সকলকে দেখলেও নজরে এলো না কায়নাতকে।সে এগিয়ে গেল প্রেমের নিকট।প্রেম জয়াকে দেখে মজা করে বলল,
“আসসালামু ওয়ালাইকুম ভাবি,কী অবস্থা আপনার?”
এত বড় ভাইয়ের কাছে এই ভাবি ডাক শুনে চমকাল সে।পর-মুহূর্তে মুখ কুঁচকে বলল,
“কীসের ভাবি?আমাকে দেখে কী বুড়ি মনে হয়?”
“সেই তো!কায়নাত ভাবিও কিন্তু একই কথা বলেন।আপনাদের ভাবি ডাকলে এত বিরক্ত হন কেন,বলুন তো?”
“তাহলে কী খুশিতে নাচব?”
“আমার ভাইদের বয়স একটু বেশি হতে পারে,তাই বলে বুড়ো নয়।”
“হয়েছে,হয়েছে।আপনার ভাই কোথায় জানেন?”
প্রেম ভ্রু কুঁচকে বলল,
“আশ্চর্য!আমার ভাইয়ের খোঁজ তুমি করছো কেন?আমার ভাইকে দিয়ে তোমার কাজ কী?”
জয়া আশ্চর্য হয়ে বলল,
“আমি তার বিয়ে করা বউ।বউ হয়ে জামাইয়ের খোঁজ রাখতে পারব না?”
“আমার ভাই তোমার জামাই হলো কী করে?”
জয়া খানিক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল।প্রেম যে অর্ণর কথা বলছে এটা বুঝতে একটু সময় লাগল তার।কী বাজে ব্যাপার!সে বিরক্ত হয়ে বলল,
“নাজনীন ভাইয়ের কথা বলছি।বোনের জামাইকে নিয়ে কথা বলতে যাব কোন দুঃখে?”
প্রেম থতমত খেয়ে মাথা চুলকে বলল,
“নাজনীন ভাই তার এক বান্ধুবীর সাথে দেখা করতে গেছে।”
জয়ার মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ল।নাজনীন কোনো মেয়ের সাথে দেখা করতে গেছে?আদৌ এটা সত্যি?তার জানা মতে নাজনীনের কোনো মেয়ে বন্ধু নেই।সে নাজনীনকে খুব ভালো করে চেনে।সে হনহন করে হাঁটা ধরল বাড়ির দিকে।সদর দরজার সামনে গিয়ে দাঁড়াতেই বাড়ির গেটে শব্দ হলো বাইকের।সে পিছু ফিরে ভ্রু কুঁচকে তাকাতেই দেখতে পেল নাজনীন আর অর্ণ ঢুকছে বাইক নিয়ে।নাজনীন বাইক থেকে নেমে জয়ার দিকে তাকাতেই জয়া হনহন করে ভেতরে ঢুকে গেল।নাজনীন ভ্রু কুঁচকে খানিকক্ষণ তাকিয়ে থেকে বাড়ির দিকে পা বাড়াল।প্রেম অর্ণর নিকট এগিয়ে এসে বলল,
“গিয়েছিলে কোথায়?”
অর্ণ এলোমেলো চুল ঠিক করে দো’তলায় তার ঘরের বারান্দার দিকে তাকিয়ে বলল,
“নাজনীন ভাই কল করেছিল,তাই গিয়েছিলাম সেখানে।”
“আমায় ডাকলে না যে?”
অর্ণ হালকা গলা কেঁশে কথা এড়িয়ে গিয়ে বাড়ির দিকে হাঁটা ধরল।হাত ব্যথায় টনটন করছে।সে আড়চোখে তাকাল নাজনীনের দিকে।মারপিট করে আজ একজনের হাত-পা ভেঙে হসপিটালে পাঠিয়েছে দুই ভাই।হাতাহাতির সময় নাজনীন বেশ ব্যথা পেয়েছে ঘাড়ে।
(২.৫k রিঅ্যাক্ট পূরণ করতে আপনাদের এত কষ্ট হয়?অন্যদের মতো তো বলি না রিঅ্যাক্ট না আসলে গল্প দিব না।সময় বের করে দিচ্ছি,তবুও আপনাদের রেসপন্সের এই অবস্থা।পেইজের রিচ ডাউন হচ্ছে বলে এখন পেইজে সমস্যা হয়।আমার সময় না থাকলে তো আমি গল্প লিখতে পারব না।আমার সমস্যা বুঝতে হবে আপনাদের।)
চলবে…?
Share On:
TAGS: প্রেমবসন্ত সিজন ২, হামিদা আক্তার ইভা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ১২
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ২৭.১
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ২৪
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ২৩
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ২০
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ১৪
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ২২
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৮
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৭
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ২