প্রেমবসন্ত_২ ।২৭.১।
হামিদাআক্তারইভা_Hayat
বিশাল ডাইনিং টেবিলে সকলে বসে আছেন।কী নেই সেখানে?আয়োজনের শেষ নেই।কায়নাত খাবার বেড়ে দিচ্ছে শ্বশুরের প্লেটে।অর্ণ চুপচাপ খাচ্ছে।এক পর্যায় নীরবতা ভেঙে খাওয়ার মাঝেই মাশফিক চৌধুরী বললেন,
“অর্ণ,তোমার কী কাজ নেই?হুট করে কাউকে না জানিয়ে খুলনা এলে কেন?”
কায়নাত চমকে উঠল খানিক।অর্ণ কাউকে না জানিয়ে খুলনা এসেছে?
বাবার প্রশ্নে অর্ণর কপালে ভাঁজ পড়ে।সে ঠোঁট চেপে বলে,
“মাইন্ড ফ্রেশ করতে এসেছি।”
“বেশ ভালো।কাউকে না জানিয়ে এলে যে?”
পাশ থেকে প্রেম খেতে খেতে বলে,
“ভাবিকে বোধহয় মিস করছিল ভাইয়া।তোমরা একটু শরম করো আব্বু,এভাবে এসব কথা জিজ্ঞেস করে কেউ?”
অর্ণর কাঁশি উঠে গেল তৎক্ষণাৎ।কায়নাত তাড়াতাড়ি পানি এগিয়ে দিয়ে পিঠে হাত বুলিয়ে দিতে লাগল।ওর চুড়ির ঝুনঝুন শব্দ অর্ণর কানে এসে লাগছিল।সে পানি খেতেই কায়নাত জিজ্ঞেস করল,
“আস্তে-ধীরে খেতে পারছেন না?এভাবে কেউ খায়?”
তখন সবাই ঠোঁট টিপে হাসছেন ওদের দেখে।জয়া মুখ কালো করে নাজনীনের দিকে তাকাল।লোকটার গলায় একটু খাবার আঁটকে গেলে সেও পানি এগিয়ে দিয়ে গলা টিপে ধরে বলত,”অনেকদিন পর আজ আমার মনের আশা পূরণ হয়েছে।”
অর্ণ মাথা নেড়ে খাওয়ায় মন দিল।আদি গাল ফুলিয়ে জয়ার পাশে বসে খাবার খাচ্ছে নুসরাতের হাতে।বাচ্চাটা জয়ার আঁচল টেনে ধরতেই জয়া কপাল কুঁচকে পাশে তাকিয়ে একটু ঝুঁকে এলে আদি ফিসফিস করে বলে,
“তোমার জামাই এত খারাপ কেন?”
জয়া চোখ বড় বড় করে বলে,
“খারাপ মানে?”
“দেখো,ওইযে ওই আন্টির দিকে তাকিয়ে আছে।”
জয়া সামনে তাকায়।জারা চুপচাপ বসে খাবার খাচ্ছে।নাজনীনও তাই!সে চুপচাপ নিজের মতো করে খেলেও জয়া আর খাবার খেতে পারল না।গলা দিয়ে খাবার নামলই না।
নিধি চুপটি করে দাঁড়িয়েছিল নিশা আর কায়নাতের সাথে।তারা সবাই একসাথে খাবে।বড়দের খাওয়া প্রায় শেষ।আজগর চৌধুরী আড়চোখে নিধির দিকে তাকিয়ে বললেন,
“ভাবছি এবার নিধির বিয়েটা নিয়ে ভাবব।তুলে না দিলেও আকদ করিয়ে রাখব।”
নিধি হতভম্ব দাদার কথায়।প্রেম তৎক্ষণাৎ চোখ তুলে তাকায় দাদার দিকে।মাশফিক চৌধুরী কিছু বলার আগেই প্রেম গম্ভীর গলায় বলে,
“নিধি এখনও পড়ছে দাদা।বিয়ের এত তাড়া কেন?”
আজগর চৌধুরী বললেন,
“ভালো ভালো পরিবার থেকে প্রস্তাব আসছে।একটা ছেলে বেশ পছন্দ হয়েছে আমার।স্কুলের শিক্ষক।ব্যবহার ভীষণ ভালো।”
প্রেম শব্দ করে গ্লাস হাত থেকে নামিয়ে বলল,
“দুনিয়ায় ছেলের অভাব হয়েছে?ওকে ওই ছেলের সাথেই কেন বিয়ে দিতে হবে?”
সকলে অদ্ভুত নজরে তাকালেন তার দিকে।নিধি প্রেমের এহেন আচরণে থতমত খেয়ে গেছে।প্রেম না খেয়েই হাত ধুইয়ে উপরে চলে গেল।বেহরুজ বেগম ছেলের এমন অস্বাভাবিক আচরণ দেখে সন্দিহান চোখে তাকালেন নিধির দিকে।মেয়েটার মুখ ভীষণ শুকনো ঠেকল তার কাছে।মাশফিক চৌধুরী বললেন,
“হলো কী ওর?রেগে গেল কেন?”
বেহরুজ বেগম বললেন,
“আমি দেখে নিচ্ছি।খাওয়া শেষ করো।”
বড়দের খাওয়া শেষ হলো।জয়া আর খেল না তখন।নাজনীন নীরব চোখে সব পর্যবেক্ষণ করলেও কিছু বলল না।জায়গা খালি হতেই কায়নাত দাদি আর বোনদের সাথে খেতে বসল।অর্ণ নাজনীনের সাথে গেছে বাড়ির বাইরে।নিশ্চিত দুজন গিয়ে এখন সিগারেট টানবে।
খাওয়ার টেবিলে ফারিহা বসে বসে আচার খাচ্ছিল।কায়নাত সবে মুখে ভাত তুলেছে,সঙ্গে সঙ্গে আতিয়া বেগম বললেন,
“এবার একে একে কায়নাতের কোলে পুঁচকু এলে ভালো হয়।”
তিনি খুব স্বাভাবিক ভাবে বললেও কায়নাতের অস্বাভাবিক ভঙ্গি ফুটে উঠল চেহারায়।বিয়ে নামক জিনিসটা একটা ধাঁধায় আঁটকে আছে।সে দীর্ঘশ্বাস ফেলল।সকলের খাওয়া দাওয়া হলে কায়নাত ঘরে ফিরতেই দেখতে পেল আদি বিছানায় কম্বল মুড়িয়ে অর্ণর ফোনে কার্টুন দেখছে।আর অর্ণ বারান্দার সামনে পকেটে হাত গুঁজে বাইরে তাকিয়ে আছে একমনে।মেয়েটা ফুঁসে উঠল।বলল,
“আদি এই ঘরে কী করছে?”
অর্ণ কপাল কুঁচকে পিছু ফিরে তাকায়।আদি ফোন থেকে দৃষ্টি সরিয়ে কায়নাতকে দেখে বলে,
“আমার মামুর ঘরে আমি এসেছি,তাতে তোমার কী পাগল?”
কায়নাত আঁচল কোমরে গুঁজে হনহন করে আদির দিকে এগিয়ে গেলে আদি চিৎকার করে বিছানা থেকে নেমে দৌঁড়ে গিয়ে অর্ণর কোলে উঠে।অর্ণর গলা জড়িয়ে ধরে বলে,
“দেখেছ মামু?তোমার বউ কেমন আমাকে মারে?খুব বেয়াদব মহিলা।”
কায়নাত হতবাক।মামুর ডায়লগ এখন এই বিচ্ছুটাও দিতে শুরু করেছে।অর্ণ লম্বা শ্বাস টেনে আদিকে নিয়ে ঘরে প্রবেশ করলে কায়নাত কিছুটা চাপা রাগ নিয়ে বলে,
“আপনি ওকে কিছু বলবেন না?ও আমায় এসব বলে কেন?”
অর্ণ আদিকে বিছানার উপর দাঁড় করিয়ে ছোট্ট চোয়াল হাতের মুঠোয় নিয়ে বলে,
“ভালো বাচ্চারা এসব বলে ডাকে না আদি।সে তোমার মামি হয়।মামুকে যেমন ভালোবাসো,তেমন মামিকেও ভালোবাসবে,সম্মান করবে।মনে থাকবে?”
আদি ঠোঁট উল্টে বলে,
“তোমাকে আমি ভালোবাসি।”
“মামিকেও বাসতে হবে।”
“তাহলে তোমার মেয়ের সাথে আমাকে বিয়ে দিবে?”
অর্ণ আশ্চর্য আদির মুখে এমন কথা শুনে।কায়নাত থমথমে মুখে দাঁড়িয়ে তাদের পাশেই।অর্ণ মুখ খোলার আগেই কায়নাত কটমট করে বলল,
“ছেলের অভাব পড়েছে?তোমার সাথে আমার মেয়ের বিয়ে দিতে যাব কোন দুঃখে?”
আদি মুখ কালো করল।গাল ফুলিয়ে বলল,
“আমি ওকে ভালোবাসব।”
“ভালোবাসতে হবে না।তোমার সাথে আমার মেয়ের বিয়ে দিব না।”
ছোট্ট আদির চোখ চিকচিক করে উঠল অভিমানে।গুটিয়ে এলো অর্ণর বুকে।অর্ণ চোখ ছোট ছোট করে কায়নাতের দিকে তাকিয়ে আদির পিঠে হাত বুলিয়ে বলল,
“আচ্ছা!তোমাকে আমার মেয়ের সাথে বিয়ে দিব।”
আদি খুশিতে লাফ দিয়ে মামুর কোলে উঠল।কায়নাতকে দেখে বলল,
“তুমি খারাপ।”
কায়নাত রেগে বিরক্ত হয়ে বিছানার এক কোণায় গিয়ে শুয়ে পড়ল।পিঠ ফিরিয়ে নিল অর্ণর দিক থেকে।আদি তখনও অর্ণর গলায় ঝুলে আছে।খুশিতে টইটম্বুর।অর্ণ তাকে নামিয়ে দিয়ে বলল,
“এবার যাও।রাতে ঘুমাবে না?”
“আমি এখানে থাকি?”
“না।”
“কেন?”
“মায়ের কাছে যাও।”
আদি ঠোঁট বেঁকিয়ে কায়নাতের দিকে একবার তাকাল।তারপর দৌঁড়ে বেরিয়ে গেল ঘর থেকে।দরজা বন্ধ হতেই ঘরের ভেতর অদ্ভুত এক নীরবতা নেমে এলো।অর্ণ ধীরে এগিয়ে এসে বিছানার পাশে দাঁড়াল।কায়নাত নড়ল না।চোখ বন্ধ করে আছে,কিন্তু ঘুম আসছে না।অর্ণ চুপচাপ তাকিয়ে রইল কিছুক্ষণ।তারপর নিচু গলায় বলল,
“আপনি কী বাচ্চা?”
কোনো উত্তর এলো না।অর্ণ দীর্ঘশ্বাস ফেলল।বেচারার মনে হচ্ছে জীবনটাই লস।বউ আর ভাগ্নে দুজনেই বাচ্চা।দুটোই ঝগড়ায় সেরা!
এদিকে আদি দৌঁড়ে এলো মায়ের ঘরে।নুসরাত চুল বেঁধে বিছানা করছিল।নিশা সোফায় বসে ভিডিও কলে কথা বলছে।আদি ছোট্ট ছোট্ট পা ফেলে এগিয়ে গিয়ে উকি মারল ফোনে।ওপাশে শেহেরকে দেখেই ঝাঁপিয়ে পড়ল নিশার কোলে।খালার হাত থেকে ফোন নিয়ে বলল,
“আমরা এসে গেছি বাবা।”
ওপাশ থেকে শেহের হেসে বলল,
“রাতে খেয়েছিস?”
“হু।”
“কোথায় ছিলিস এতক্ষণ?”
“মামুর ঘরে।মামুকে আজ বলে এসেছি আমি বিয়ে করব।”
শেহের আশ্চর্য হয়ে বলল,
“কাকে বিয়ে করবি তুই?”
“মামুর মেয়েকে।”
নিশা কপাল চাপড়ে বোনের দিকে তাকাল।নুসরাত গম্ভীর হয়ে বিছানায় বসে আছে।শেহেরের পাশে স্বার্থ শুয়ে ছিল চুপচাপ।সে পাশ থেকে আড়ালে বসে নিশাকে দেখছিল।
আদি জেদ ধরেছে সে বিয়ে করবেই করবে।নুসরাত ছেলেকে বকাও দিয়েছে অনেক,তবু ছেলেটা কারোর কথা শুনছে না। স্বার্থ আদির আবদার শুনে বলল,
“প্যান্ট টা খোল তো, আগে কাজটা সেরে আসি।”
আদি মুখ কালো করে বলল,
“বড় হয়েছি কিনা,সেটা দেখতে প্যান্ট খুলতে হবে?আমার একটা শরম আছে না?”
“বিয়ে করতে শরম পাচ্ছিস না,অথচ প্যান্ট খুলতে শরম করছে?”
নিশা খট করে কল কেটে দিল।নুসরাত সঙ্গে সঙ্গে আদিকে ধমক দিয়ে বলল,
“কতবার বলেছি শেহের ভাইকে বাবা ডাকবে না?সে তোমার বাবা হয়?আমার কথা তুমি বোঝো না?”
আদি মায়ের কথা পাত্তা দিলে তো?সে চুপচাপ বিছানার চাদর খাপছে উপরে উঠে কম্বলের নিচে ঢুকল।নুসরাত হতবাক ছেলের খাম-খেয়ালি ব্যবহার দেখে।নিশা শুকনো ঢোক গিলল।বলল,
“পরে বুঝিয়ে বলিস।”
নুসরাত ধমকে উঠল,
“তোদের জন্য আজ ওর এই অবস্থা।দিন দিন বেয়াদব হচ্ছে একটা।শেহের ভাই কিংবা স্বার্থ ভাই কেউ যেন ওকে নিয়ে আর মাতামাতি না করে।”
•
আগামীকাল শুক্রবার।আজ আজগর চৌধুরী হজুরদের বলে আসবেন মিলাদের ব্যপারে।সামনে সপ্তায় অর্ণ সিলেট যাবে অফিসের কাজে।বোনেরা বায়না ধরেছে তারাও যাবে সঙ্গে।অর্ণ যদিও নিতে চায়নি,তবে বাবার কথায় রাজী হয়েছে।ভালোই হবে।বোনদের নিয়ে তো কখনও কোথাও যাওয়া হয় না,এই বাহানায় নাহয় নিয়ে যাওয়া যাবে।প্রেম বড় ভাইয়ের সাথে বাইরে এসেছে সকালে।অর্ণ চুপচাপ চা খাচ্ছে দোকানে বসে।প্রেম আড়চোখে ভাইয়ের গম্ভীর মুখ দেখে বলল,
“নুসরাতের ব্যপারে একটু কথা বলব।”
অর্ণ খানিকক্ষণ চুপ থেকে নিজে থেকেই বলল,
“নুসরাত না চাইলে কিছুই হবে না।জোর করে সংসার করা যায় না।”
“তুমি জানো?”
“আমার বন্ধুকে আমার থেকে ভালো আর কে চিনবে?”
“কিন্তু শেহের ভাই করবে টা কী?বয়স তো কম নয়।বাড়িতে রেগুলার ঝগড়া হচ্ছে এসব নিয়ে।”
অর্ণ দীর্ঘশ্বাস ফেলল।কালও শাওনের সাথে তার কথা হয়েছে।আদিকে নিয়েই মূলত কথা।এদিকে নুসরাত চাইছে না আদি তার বাবার কাছে একদিনের জন্যও থাকুক।শেহেরের জন্যও কিছু করতে পারছে না।
রোদের প্রখরতা বাড়লে চারপাশ আলোয় চিকচিক করে ওঠে।গ্রামের রাস্তার ধুলো-কোণা সব উড়ে এসে আঁচড়ে পড়ছে সর্বাঙ্গে।অর্ণর ডাস্ট এলার্জি থাকায় বেশ বিপাকে পড়তে হলো তাকে।প্রেম প্রাণ ভরে শ্বাস টানল।দাদি বাড়িটা বেশ পছন্দ তার।খোলা আকাশ,সবুজে ভরা গাছ-পালা,মহলের মতো বিশাল বাড়ি—সবই তার ভীষণ পছন্দ।বিশেষ করে সেই যুবতীর নূপুরের ঝুনঝুন শব্দ।হঠাৎ করেই প্রেম হেসে ফেলল।অর্ণ চোখ ছোট ছোট করে বলল,
“হাসছিস কেন?”
প্রেম বলল,
“তেমন কিছু নয়।ভাবছি লম্বা একটা সময় ছুটি কাটাব।মাইন্ড ফ্রেশ করার জন্য একটু নিজেকে সময় দেয়া দরকার।”
অর্ণ মাথা নাড়ল।
চৌধুরী বাড়ি কিছু আত্মীয় এসেছেন দূর থেকে।যাদের বাড়ি দূরে,তারা আজই হয়তো আসবেন।কায়নাত প্রায় সবাইকে চেনে।নাজনীনের বিয়ের সময় সবার সাথে টুকটাক কথা হয়েছিল।সে বড়দের সাথে কথা বলছে।তাকে ডেকেছেন তারাই।রাহেলা বানু সোফায় বসে কপাল কুঁচকে সদর দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা নুসরাতের দিকে তাকিয়ে আছেন।নুসরাত ফোনে কারোর সাথে কথা বলছে।তিনি যেন ভীষণ বিরক্ত।বিরক্ত নুসরাতের আচরণে।তিনি গলা ছাড়লেন তৎক্ষণাৎ,
“এই মাইয়া,এই!”
নুসরাত পিছু ফিরে তাকায়।রাহেলা বানুকে দেখে কল কেটে দেয়।সে আদির স্কুলে কথা বলছিল ছুটির জন্য।সে এগিয়ে আসতেই রাহেলা বানু বসতে বললেন ওকে।নুসরাত পাশে বসতেই তিনি জিজ্ঞেস করলেন,
“বিয়া-টিয়ার ব্যপারে কিছু ভাবছ?”
নুসরাত খুব শান্ত স্বরে বলল,
“এসব নিয়ে এখনও কিছু ভাবিনি।আদিকে নিয়েই আমার ভবিষ্যৎ।”
“ভাবো নাই কেন?অন্যের ঘাড়ে না থাইকা একটা বিয়া সাদী নিয়া ভাবো।কেউরে পছন্দ করো নাকি?”
ছোট্ট আদি তখন রাহেলা বানুর পেছনে এসে দাঁড়িয়েছে।ফট করে সামনে এসে বলল,
“তুমি বিয়ে করবে বড় নানি?তোমাকে বিয়ে করিয়ে দিব?”
আদির মুখে এমন কথা শুনে রাহেলা বানু চোখ কটমট করে বললেন,
“বেয়াদব পোলা কয় কী এডি?আমার কী বিয়ার বয়স আছে?”
“তাহলে আমার মাকে বলো কেন?তোমারও তো জামাই নেই।”
রাহেলা বানু আদির দিকে এমন ভাবে তাকালেন,যেন একই চিবিয়ে খেয়ে ফেলবেন।তিনি ধমক দিয়ে বললেন,
“এই পোলা কী কইলি?”
আদি চোখ ছোট ছোট করে কিছু বলার আগেই নুসরাত তাকে কাছে টেনে ধমক দিল।দাদির কাছে ক্ষমা চেয়ে বলল,
“মাফ করবেন বড় দাদি।বাচ্চাটা একটু দুষ্টু।”
“পোলারে শিক্ষা দাও।এমন বেয়াদব হইলে কপাল পুড়ব তোমার।কেরা ওরে এডি শিখায়?”
বেহরুজ বেগম এগিয়ে এসে বললেন,
“কী হয়েছে ফুপু?”
রাহেলা বানু চোখ পাকিয়ে বললেন,
“তোমার নাতিরে মানুষ বানাও বেহরুজ।এমন বদ পোলা আমি জীবনেও দেখি নাই।”
“কী করেছে আদি?”
“কী করে নাই ওইডা কও।এই পোলা কয় আমারে আবার বিয়া দিব।”
বেহরুজ বেগম আদির দিকে ফিরলেন।আদি ঠোঁট উল্টে মিনমিন করে কী যেন বলল।তিনি দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।আতিয়া বেগম এসব শুনে বলেন,
“ও বাচ্চা মানুষ আপা।আপনি ওর কথা কানে নিচ্ছেন কেন?”
“তুমি কম কথা কও আতিয়া।”
নুসরাত রেগে এবার সত্যি সত্যি আদির গালে থাপ্পড় মেরে বসল।ঝাড়ি মেরে বলল,
“কতবার বলেছি বড়দের সাথে বেয়াদবি করবে না?আমার কথা কানে যায় না তোমার?”
উপস্থিত সকলেই হতবাক।আদি গলা ফা টিয়ে চিৎকার শুরু করেছে।কায়নাত এগিয়ে এসে আদিকে ছাড়াতে গেলে নুসরাত ফের ওর হাত শক্ত করে চেপে ধরে বলে,
“এসব কোত্থেকে শিখেছ তুমি?কিছু বলছি না বলে মাথায় উঠেছ?”
কায়নাত আর কিছু না ভেবে শক্ত করে আদির হাত ধরে নুসরাতের হাত থেকে ছাড়িয়ে নিল।
চোখে কঠিন দৃষ্টি,গলায় চাপা রাগ।
“থামো আপু।বাচ্চাটাকে মারছ কেন?”
নুসরাত ক্ষণিক থমকে গেল।তার চোখ লাল।কণ্ঠ কাঁপছে।
“তুমি আমাকে শেখাবে?ও বেয়াদব হচ্ছে দিন দিন।আজ যা বলছে,কাল আরও বড় কথা বলবে।”
আদি কাঁদতে কাঁদতে কায়নাতের আঁচল শক্ত করে ধরে আছে।হেঁচকি উঠে গেছে।
কায়নাত নুয়ে পড়ে ওকে বুকে জড়িয়ে ধরল।
“বেয়াদব হলে শাসন করো,বোঝাও।হাত তুললে কী শিখবে?”
রাহেলা বানু নাক সিঁটকিয়ে বললেন,
“এইসব আদিখ্যেতা বাদ দাও।”
বেহরুজ বেগম এবার কঠিন গলায় বললেন,
“ফুপু,ও আমার নাতি।কার হাতে কীভাবে শাসন হবে,আমি দেখব।”
নুসরাত আর নিজেকে সামলাতে পারল না।চোখে জল এসে চিকচিক করছে চোখ জোড়া।ছেলেকে মেরে কী তার খারাপ লাগছে না?তবুও সে বলল,
“বাবা ছাড়া কি মায়েরা একা সন্তান মানুষ করতে পারে না?”
সে ফের বেহরুজ বেগমের দিকে তাকিয়ে বলল,
“দেখেছ কেন আমি এখানে আসতে চাই না?প্রত্যেকদিন এসব নিয়ে কথা শুনতে কার ভালোলাগে মা?”
রাহেলা বানু নাক ছিঁটকে প্রস্থান করলে আতিয়া বেগম নুসরাতের মাথায় হাত বুলিয়ে বলেন,
“মন খারাপ করিস না।জানিসই তো আপা কেমন।”
বাড়িতে তখন অর্ণরা প্রবেশ করল।ভেতরে প্রবেশ করে আদি আর নুসরাতকে কাঁদতে দেখে কপালে গভীর ভাঁজ পড়ল।এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস করল কী হয়েছে।সব কিছু জানার পর অর্ণ ঠান্ডা হয়ে নুসরাতের হাত ধরে বাড়ির বাইরে নিয়ে এলো।বাগানে তখন কেউ নেই।অর্ণ ভাবল এই পরিবেশে বোনের সাথে কথা বললে ভালো হবে।দোলনা দুলছে একটু একটু।অর্ণ ছোট বোনের মাথায় হাত রাখল।নরম গলায় বলল,
“আমাদের হাতের সব গুলো আঙুল যেমন সমান হয় না,ঠিক তেমন সবার মন মানসিকতাও এক নয়।মানুষের কাজই হচ্ছে বলা।তাই বলে মানুষের কথা শুনে মন খারাপ করলে চলে?”
নুসরাত নাক টেনে বলল,
“আমি এখানে থাকব না।এদিকে নিয়ে আমি ঢাকা ফিরে যাই।”
“শোন,তোর পরিবার আমরা না?আমরা যেখানে তোকে স্বাধীনতা দিয়েছি সেখানে অন্য কারোর মন্তব্য গ্রহণ কেন করছিস?তোর জীবন তোর অধিকার।”
নুসরাত চোখ মুছল।গলার ভেতর জমে থাকা কষ্টটা আর চেপে রাখতে পারছে না।
“স্বাধীনতা যদি সত্যিই থাকত ভাইয়া,তাহলে আমাকে বারবার প্রমাণ করতে হত না যে আমি একা পারি।সবাই ভাবে বাবাহীন সন্তানকে মানুষ করা মানেই তাকে নষ্ট হতে দেয়া।”
“কেউ তোর সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুললে সেটার উত্তর তোর কর্ম দেবে।কথা দিয়ে নয়।”
“আদি তো এসব বোঝে না ভাইয়া।বাচ্চাটা দিন দিন ভীষণ দুষ্টু হচ্ছে।”
থেমে শুকনো ঢোক গিলে বলল,
“শেহের ভাই আর স্বার্থ ভাইকে বলবে আদিকে নিয়ে যেন বাড়াবাড়ি না করে।”
অর্ণ মাথা নাড়ল।সে মাথা নাড়লেও খুব ভালো করে জানে কাজের কাজ কিছুই হবে না।স্বার্থ এমন একটা মানুষ,আদিকে আকাশে উঠিয়ে রাখলেও উড়ে গিয়ে নিয়ে আসবে।
বই:#প্রেমবসন্ত (এটা সিজন-১)
প্রিঅর্ডারপোস্ট
“এই মেয়ে দাঁড়াও!”
থেমে গেল কায়নাতের পা।বুক কাঁপছে দুরুদুরু,কাঁপছে চোখের পাতা,ঠোঁট তিরতির করে কম্পিত হচ্ছে।
অর্ণ কায়নাতের থেকে ঠিক কয়েক হাত দূরুত্ব রেখে দাঁড়িয়ে আছে।কায়নাত পিছু ঘুরে তাকাল না,তবে শুকনো ঢোক গিলে বলল,
“বলুন?”
অর্ণ বিরক্তিকর কণ্ঠে শুধোয়,
“সকাল সকাল এই ছাদ নষ্ট করলে কেন?”
ছাদ নষ্ট করেছে?কায়নাত অবাক হয়ে মাথা নিচু করে পাশে তাকাল।একটু জায়গায় মাটি ঢেলেছে সে—তা ছাড়া পুরো ছাদ পরিষ্কার।বেজায় বিরক্ত হলো সে।দাঁতে দাঁত চাপল অর্ণর বাক্য শুনে।কালকে রাতে এই লোকের সাথেই তার ধাক্কা লেগেছিল খুব ভালো করে বুঝে গেছে।এভাবেই কালকে ধমক দিয়েছিল এই লোক।কায়নাত গেটের দিকে এগিয়ে যেতে যেতে বলল,
“ময়লা করেছি বেশ করেছি। দরকার হলে পুরো বাড়ি ময়লা করব, তাতে আপনার কী?অসভ্য লোক!”
অর্ণর কপালে ভাঁজ।সেই ভাঁজ ফেলে তাকিয়ে ছিল ষোড়শীর পিছুপানে।ঘন লম্বা চুল গুলো পিঠ ছড়িয়ে খিলখিল করে হাসছিল।অর্ণ এত বড় চুল কখনও দেখেছে বলে মনে হলো না।উজ্জ্বল রাঙা গায়ে ছিল সাদা রঙের সালোয়ার-কামিজ।মেয়েটা চলে গেছে ততক্ষণে।একদম দৃষ্টির আড়ালে।কে এই ষোড়শী?কী তার পরিচয়?
বই-প্রেমবসন্ত
লেখক-হামিদা আক্তার ইভা-Hayat
প্রকাশনী- নয়া উদ্যোগ প্রকাশনী
প্রকাশক- Shafayat Khandaker Zayan
প্রচ্ছদ- Fariha Tabassum
মুদ্রিত মূল্য-৭০০৳
প্রি-অর্ডার মূল্য- ৪৫০৳ (৩৫% ছাড়ে)
শুধুমাত্র প্রি-অর্ডারকারী পাবেন,
-রঙিন পুস্তানি
-ইলাস্ট্রেশন
-স্পেশাক বুকমার্ক
-লেখকের চিঠি
অর্ডার করতে ইনবক্স করুন প্রকাশনীর পেইজ কিংবা যেকোনো বুকশপ পেইজে 💫
অর্ডার করুন আপনার পছন্দের যেকোনো বুকশপ কিংবা প্রকাশনীতে।নিচে বুকশপ লিংক দিয়ে দিচ্ছি।
১. https://www.facebook.com/share/1BtYUTLeZZ/?mibextid=wwXIfr
২. https://www.facebook.com/share/1DA9BUVLqz/?mibextid=wwXIfr
(২.৫k রিঅ্যাক্ট পূরণ করুন।দুঃখিত বইয়ের জন্য গল্প লিখতে পারিনি তিনদিন।বই নিয়ে কারোর প্রশ্ন আছে?)
চলবে..?
Share On:
TAGS: প্রেমবসন্ত সিজন ২, হামিদা আক্তার ইভা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ১৮
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ২০
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ২২
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ২৭.২
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ২৮
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ১৯
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ১৩
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ২৫
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ২১
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ গল্পের লিংক