সদ্য ১৬ বছরে পা দেওয়া মাইমাকে জোর করে বিয়ে দেওয়া হয়েছে ৩০ বছরের এক লোকের সাথে। অন্ধকার ঘরটায় মাইমা বিধ্বস্ত অবস্থায় ভয়ে জুবুথুবু হয়ে বসে আছে। চোখমুখের অবস্থা ভয়াবহ রকমের খারাপ। উশখুশ করছে সে।
মাতাল অবস্থায় ঘরে ঢুকলো আয়াশ ইনান মির্জা।টলোমলো পায়ে এগিয়ে আসছিলো বিছানার দিকে। মাইমা ভয়ে পিছিয়ে গেলো ছয়ফুট উচ্চতার সুঠামদেহী আয়াশকে দেখে। ঘরের আলোয় শ্যাম রঙের আয়াশকে দেখতে ঠিক তার স্বপ্নের রাজকুমারের মত লাগছে। কিন্তু সে তো শুনেছিল বুড়ো লোকের সাথে তার বিয়ে হয়েছে।এই লোকটাকে তো বুড়ো মনে হচ্ছে না। তাহলে কি এ তার বর নয়? চিৎকার করে উঠল মাইমা।
দুদিন আগেও সে বান্ধবিদের সাথে খেলতো।এসব বিয়ে টিয়ে কোনো ধারনা ছিলো না তার।মাথার উপর বাবা নামক বট গাছটা যে ছিলো।যেইনা সেই ছায়া দেওয়া গাছটা হারিয়ে গেলো অমনি জীবনটা ওলটপালট হয়ে গেলো।
আয়াশ খাটের কাছে এসে থেমে গেলো।চোখমুখ কুঁচকে গেলো।
“চিৎকার করছো কেন?”
রেগে প্রশ্ন করলো সে। মাইমা তার লাল চোখ দেখে কিছু বলার সাহস দেখালো না। আয়াশ একে একে গায়ে থাকা কাপড় খুলতে শুরু করলো। শেষে শুধু রইলো ব্ল্যাক প্যান্ট টা। সে সরাসরি মাইমার কাছে গিয়ে বসলো।
“খোলো এসব।ফাস্ট”
শাড়ী চেপে ধরলো মাইমা। কেঁদে ফেললো।কিসব বলছে। বিরক্ত হলো আয়াশ।নেশায় বুদ হয়ে গেছে সে।বন্ধুরা জোর করে পিল খাইয়ে দিয়েছে।নিজের মধ্যে সে এখন নেই। ইমার্জেন্সী কারো সঙ্গ দরকার। সে রেগে নিজেই খুলে নিলো ষোড়শী মাইমার শাড়ী। ছুড়ে ফেললো মেঝেতে।চোখের পলকেই বস্ত্রহীন করে ফেললো।
চিৎকার করতে শুরু করলো মাইমা।কিন্তু সাউন্ড প্রুফ দড়জা ভেদ করে তার আওয়াজ বাইরে পৌঁছলো না। আয়াশ একে একে তার শরীরের প্রতিটা কোনা নিজের নামে করে নিয়েছে। সারারাত চললো তার অত্যাচার। একসময় জ্ঞান হারিয়ে ফেললো মাইমা।
শেষ রাতের দিকে ক্লান্ত আয়াশ লুটিয়ে পড়ল মাইমার বুকে। ঘুমে বুদ হয়ে গেলো সে।জানতে পারল না নেশা অবস্থায় সে সদ্য বিবাহিত ষোড়শী মেয়েটার উপর কি পরিমান অত্যাচার করেছে।
সকাল ১০ টা পেরিয়েছে। বেলকনি পেরিয়ে আলোর ছটা এসে পড়েছে রুম জুড়ে। বিছনায় নগ্ন I অবস্থায় দুজন।
ফোনের তীব্র শব্দ কানে পৌঁছাতেই সজাগ হয় আয়াশ। বেড সাইড থেকে ফোনটা নিয়ে কানে ধরে। হ্যালো বলতেই ওপাশ থেকে কারো গম্ভীর কন্ঠ ভেসে আসে।
“১০ টা ছাড়িয়েছে সময়। দড়জা খোলো।”
আয়াশ ফোনটা নামিয়ে রাখলো।এভাবে তো কল দিয়ে মা কখনো জাগায় না। সে ধীরে ধীরে চোখ খুললো।প্রথমেই দৃশ্যমান হলো রুমটা।গড়াগড়ি দেওয়ার উদ্দেশ্যে নড়তেই টের পেলো কোনো এক মানব দেহের অস্তিত্ব। তড়িৎ তার মস্তিষ্ক সজাগ হয়ে উঠলো।
ভালো করে তাকাতেই দেখতে পেলো ফর্সা দেহের রক্তিম মুখ করে জ্ঞান হারিয়ে থাকা মাইমাকে।এক মুহূর্তের জন্য চোখ ধাঁধিয়ে গেলো তার।পরক্ষণেই সে বুঝতে পারলো দুজনই নগ্ন।
উঠে বসলো আয়াশ।চোখের সামনে বস্ত্রহীন সুন্দরী এক নারী। উহু নারী নয়, ষোড়শী বাচ্চা মেয়ে। আয়াশ অপলক চেয়ে থাকল মেয়েটার মুখের দিকে।যেনো আটকে গেছে সে। ধপধপে ফর্সা মুখ,গোলাপের পাপড়ির মত ঠোঁট জোড়া। গাল মুখ লাল হয়ে গেছে। কালো চুল গুলো মুখে ছড়িয়ে আছে।
অনেকক্ষন লাগলো আয়াশের নজর ফিরাতে। এতো সুন্দর মেয়ে! চোখ যখন মেয়েটার শরীরে গেলো দেখতে পেলো অজস্র মারের দাগ। কালশিটে পরে গেছে। পুরোনো হয়তো।ভ্রু কুঁচকে গেলো তার। দাগ গুলোর সাথে নতুন কিছু কামড়ের দাগ। তখনই আয়াশকে তার মস্তিষ্ক জানান দিলো এই কামড়ের দাগ গুলো তার করা।
কোনোভাবে নিজেকে সামলে নিয়ে সাদা চাদরে ঢেকে ফেললো মাইমাকে।আয়াশ এতক্ষণে বুঝতে পারল এই মেয়েটা কাল রাতের বিয়ে করে ফেলে আসা বউ তার।
সে উঠে দাড়ালো।কোনরকম একটা টাওয়েল জড়িয়ে নিজেকে ঢাকলো।
“ড্যাম, এটা কি করেছি আমি? আর ইউ ক্রেজি আয়াশ?”
নিজেকেই নিজে বললো সে।মেয়েটার দিকে যতবার যাচ্ছে চোখ আটকে যাচ্ছে।
বিছানার কাছে এসে চিন্তিত মুখে মেয়েটার পাশে বসলো।গালে হাতে রেখে নাড়িয়ে বললো,
“এই মেয়ে,চোখ খোলো।এই মেয়ে,শুনছো”‘
কোনো সাড়া নেই।আর কয়েকবার ডেকে বুঝতে পারলো মেয়েটা সেন্সলেস।নিজের উপর খানিক রাগ হলো।কি করেছে এটা!
তার ভাবনার মাঝেই ফোনটা আবার বাজলো। মায়ের কল দেখে কি করবে বুঝতে না পেরে দরজা খুলে দিলো সে।
আহিনুর মির্জা রুমে ঢুকলেন।ছেলের দিকে চোখ যেতেই অনেক কিছু বুঝে ফেললেন তিনি। বিছানার দিকে তাকালেন। বিধ্বস্ত মাইমাকে দেখে কপাল কুচকে গেলো তার।তিনি তড়িঘড়ি করে ছুটে গেলেন মেয়েটার দিকে।কোলে মাথা তুলে নিয়ে বললেন,
“হোয়্যাট দ্য হেল ইজ দিস, আয়াশ।কি করেছো তুমি এসব?”
চলবে…..
প্রিয়া_আমার ( গল্পের নাম)
দূর্বা_এহসান (লেখায়)
সূচনা_পর্ব
Share On:
TAGS: দূর্বা এহসান, প্রিয়া আমার
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
ডার্ক ডিজায়ার পর্ব ৩(প্রথমাংশ + শেষাংশ)
-
ডার্ক ডিজায়ার গল্পের লিংক
-
প্রিয়া আমার পর্ব ৩
-
ডার্ক ডিজায়ার পর্ব ৪
-
ডার্ক সাইড অফ লাভ পর্ব ৩
-
ডার্ক ডিজায়ার পর্ব ৭
-
প্রিয়া আমার গল্পের লিংক
-
ডার্ক ডিজায়ার পর্ব ১০
-
ডার্ক সাইড অফ লাভ পর্ব ৪
-
প্রিয়া আমার পর্ব ২