Golpo romantic golpo প্রিয়তার পূর্ণতা

প্রিয়তার পূর্ণতা পর্ব ১


বুঝলে প্রিয়তা,তোমায় বিয়ে করেছি আমার মা-বোনকে শায়েস্তা করতে।ওরা ইট ছুড়লে তুমি ছুড়বে পাথর।পারলে চুলের মুঠি ধরে ঘোরাবে আমার বোনটাকে।
আমি কড়া আদেশ।অন‍্যায়ের সঙ্গে কোনো আপোষ নয়।ওরা একটা বললে তোমার তিনটে বলে শোধ দিতে হবে।আর তোমার কথার আঘাত যেন হয় ছুরির চেয়েও ধারালো।মুখের বাণীতেই যেন ঘায়েল হয় ওরা।

নিজের সদ‍্য বিবাহিত স্বামীর মুখে এমন কথা শুনে অবাকের চরম পর্যায়ে পৌঁছে প্রিয়তাশ্রি।
একেতো এই বিয়েতে তার মত ছিলনা একদমই।অবিবাহিত মেয়ে সে!
অথচ বিয়ে হলো বিবাহিত বউ ম*রা পুরুষের সঙ্গে।
প্রিয়তাশ্রি আমার নাম।মা-বাবার বাধ‍্য মেয়ে।
অনার্স ফাইনাল ইয়ার।গায়ের রঙ ধবধবে ফর্সা।লম্বা, স্বাভাবিক স্বাস্থ‍্য।ঘনো কালো চুল।মার্জিত ব‍্যাবহারে আমি ছিলাম সেরায় সেরা।
সেই আমার কপালে জুটলো বিবাহিত এক পুরুষ!

ইনি আমার কল্পনা জগতের বাইরে।আমার রুপকথার রাজকুমারের স্বপ্নকে দুলিৎসাত করে যেন প্রবল ঝড় উঠেছে মনে।
বুক পাজর দুমড়ে মুচড়ে গিয়েছে এই বিয়েতে।
‘কবুল’ বলার সঙ্গে সঙ্গে আমি নিজেকে হারিয়ে ফেলেছি।নিজের ইচ্ছাকে সমাহিত করেছি।

ভাবনার মাঝখানেই উঠে দাঁড়ায় সামনে থাকা পুরুষটি।
হাত ঘড়ি খুলতে খুলতে বলে,”কাউকে ভালোবাসেন?”

উনার মুখের এমন প্রশ্নে কিছুটা হতবাগ আমি।
তবুও উত্তর দিলাম। দু পাশে মাথা নাড়লাম।
অর্থাৎ ‘না’।

সে কিঞ্চিৎ হেসে বলল,”তাহলে আপনি বুঝবেন কীভাবে!
তবুও বলছি।চোখ বন্ধ করুন।ভাবুন আপনার সবচেয়ে কাছের মানুষটিকে।যাকে আপনি ভালোবাসেন।
এবার ভাবুন আপনাদের ঘরে আপনি বাদে অন‍্য একজন। আপনার বিছানায় বসে সে।ফুলে সাজানো খাট।আজ তাদের বাসর রাত।তাও আপনারই সামনে।
কেমন লাগবে আপনার?”

উনার কথার তালে কখনই যেন চোখ বুজেছি আমি।প্রশ্নে তাকাই ফট করে।হাসফাস লাগছে।ঘেমে গিয়েছি আমি।এ কেমন অনুভূতি?

‍লোকটা আমার মুখের দিকে তাকিয়ে খানিক হেসে বলে,”ওর ও এমনই লাগছে?”

মনে সাহস জুগিয়ে প্রশ্ন করি,”ও কে?”

লোকটা আর কোনো জবাব দেয়না।মুখাকৃত পরিবর্তন হয় উনার।রাগে চোখ-মুখ লাল।
চোখ দুটো বড়ো বড়ো করে আমার সামনে এসে কর্কশ কন্ঠে বলে,”আপনার জানতে হবেনা।আপনার কাজ শুধু আমার মা-বোনকে শায়েস্তা করা।শুধু শায়েস্তা নয়।শাস্তি দেওয়া।চরম শাস্তি।”

“কিন্তু কিসের শাস্তি?”

উনি আবারো ঝাঁঝালো স্বরে বললেন,”সেটাও আপনার জানতে হবেনা।যা বললাম তাই শুনুন।”

বোকা বনে গেলাম যেন আমি।
কারণ বলবেনা অথচ শাস্তি দিতে বলছে।এ কোন মছিবতে পড়লাম আমি?
লোকটা কী পাগল?আর যাই হোক একজন মাথা খারাপ লোকের সঙ্গে বিয়ে দেবেনা আমায়।
যতোদূর শুনেছি উনি একজন ইঞ্জিনিয়ার।

বিষ্ময়ের দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে আমি।এমন সময় দরজায় নক করে তার ছোট বোন রিপা।চিৎকার করে বলে,”ভাইয়া দরজা খোলো।মা অসুস্থ।মরা মরা অবস্থা।”

লোকটার চেহারাতে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখলাম না।সে সুন্দর করে বিছানায় গিয়ে বসলো।যেন কিছু শোনেই নি।
এগিয়ে এসে বললাম,”শুনছেন না আপনার বোন কী বলছে?আপনার মা অসুস্থ।”

লোকটা বিছানায় শুয়ে পড়লো চাদর মুড়ি দিয়ে।আমি গোলগোল চোখ করে তাকিয়ে আছি শুধু।এরই মাঝে মেয়েটা ডেকে উঠলো আবারো।
“ভাইয়া দরজা খোলো।মা মনে হয় আর বাঁচবে না।তোমাকে দেখতে চাইছে শেষ বারের মতো।”

এবারও কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়না তিনি।
বিরক্ত হলাম আমি।এ কেমন নির্দয় মানুষ?নিজের মায়ের মৃত্যু সময়তেও চুপ থাকে!

দরজা খুলতে এগিয়ে গেলাম।পেছন থেকে উনি ধীর স্বরে বললেন,”ছোট বেলা একটা গল্প পড়েছেন রাখাল বালকের?
সে ছিল মিথ‍্যাবাদী।বাঘ এসেছে বলে চিৎকার করে গ্রামবাসীকে ডেকে বিরক্ত করতো।”

তীক্ষ্ণ স্বরে বললাম,”আপাতত আপনার গল্প শোনার মতো মুড নেই আমার।
আপনি বিবেকহীন হতে পারেন আমি নই।’

দরজা খুলে ঘর ছেড়ে বেরোলাম।রিপা ভেতরে একবার উকি দিয়ে বলল,”ভাইয়া আসছেনা?
না আসলে থাক।আপনি চলুন ভাবি।”

আমায় টেনে টেনে নিয়ে গেল শাশুড়িমার ঘরে।সবে ঘরে ঢুকেই দেখলাম তিনি মেঝেতে বসে পানের জায়গা থেকে পান বানিয়ে মুখে পুড়ছেন।আমায় দেখে ঘাবড়ে গিয়ে পানটা মুখ থেকে বের করে রেখে বিছানায় বসে বলে,”তুমি এসেছো বউমা?
ঐ আসলে মাড়িতে ব‍্যাথা হচ্ছিলো তাই পান মুখে দিলাম।
তা বসো বউমা।”

মিনমিনে স্বরে বললাম,”আপনি নাকি অসুস্থ মা?”

“ঐ আরকি!
হার্টের সমস্যা আমার।একলা থাকতে পারিনা রাতে।মাথায় চিন্তা এসে ভর করে বুকে চাপ দেয়।
কিছু মনে না করলে একটা কথা বলবো তোমায় বউমা?”

“বলুন।”

“আজকের রাতটা তুমি আমার কাছে থাকবে?
বুকের ব‍্যাথাটা বেড়েছে।না জানি কখন কী হয়!
রিপার কাল পরিক্ষা।রাত ভোর পড়াশোনা করবে।
আমার বড়ো মেয়ে মানে তোমার ননাসের ছেলের গায়ে জ্বর।ও ছেলে নিয়েই ব‍্যস্ত।
আমায় দেখবে কে বলো মা!”

চরম হতাশা নিয়ে কথাগুলো বলে দীর্ঘশ্বাস নিলেন তিনি।আমার মায়া হলো বড্ড।
অসুস্থ একটা মানুষ,অথচ তাকে দেখার কেউ নেই।
এক বাক‍্যে রাজি হয়ে গেলাম সঙ্গে থাকতে।তিনি খুশিতে গদগদ হয়ে শুয়ে পড়তে বলল।

বললাম,”পরণের লেহেঙ্গাটা আর গহনাগুলো খুলে আসি মা।এগুলো পড়ে ঘুমোতে পারবোনা।”

শাশুড়িমার মুখ যেন অন্ধকার হলো।
বাধা দিয়ে বললেন,”ঘরে যাওয়ার আর দরকার নেই।আমার বাথরুম ইউজ করো।রিপা তোমার ঘর থেকে সুতি জামা নিয়ে আসছে।”

মাথা নাড়লাম।ফ্রেশ হতে বাথরুমে গেলাম।
রিপা আমার জামা দিয়ে গেল।গহনা গুলো খুলতে লাগলাম যত্ন সহকারে।এগুলো আমার নানীর দেওয়া।মা ছিলেন নানির একমাত্র মেয়ে।সেই সুত্রে মা ই পেয়েছিল সব। এবার পেলাম আমি।নানী ছিলেন জমিদার গিন্নি।শখের বালাই ছিল না তার।মন যা চাইতো নানা গড়িয়ে এনে দিত।ভারী কারুকার্য ও পুরু করে গড়া প্রতিটি গহনা।সবচেয়ে আকর্ষণের হলো হাতের এই বালা জোড়া।নিখুত কারুকার্যে গড়া মজবুত বালাটি ছিল ভীষণ সুন্দর।
গহনা গুলো দেখে বোঝার উপায় নেই যে যুগ পার হয়েছে এগুলোর।

আনমনে ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসি ফুটে ওঠে।
গহনা গুলো ওরনার মাঝে পোটলা করে রেখে দেই।

বের হয়ে সবে দরজা খুলেছি ওয়াশরুমের,এমন সময় দেখি বড়ো ননাস মানে সুমা আপুর ছেলে সামির মেঝেতে গাড়ি নিয়ে খেলছে।
দৌড়চ্ছে!
বিষয়টা আমার একটু কেমন যেন লাগে।বাচ্চাটা নাকি অসুস্থ!তাহলে এতো ফিট হয়ে খেলছে কীভাবে?

আমায় বের হতে দেখে সুমা আপা দ্রুত এসে ছেলের হাত ধরে দাঁড় করালো।চোখ রাঙালো।ছেলেটা মুখ ছোট করলো।মাথা নিচু করলো।আপু একগাল হেসে বলল,”ছেলেটা একদম কথা শোনেনা।জ্বর শরীর নিয়ে খেলতে যায়।তোমরা শুয়ে পড়ো।আমি আসছি।”

ছেলেটাকে টানতে টানতে নিয়ে যায় সে।
রিপাও পড়াশোনা আছে বলে বিদায় নেয়।মা দরজা লাগিয়ে দেন।
আমি গহনা গুলো নিয়ে বিছানায় বসতেই শাশুড়িমা একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রয় সেদিক পানে।
বলে,”এগুলো পুরোনো আমলের খাটি সোনার গয়না তাই না মা?”

“জ্বী।”

“দেখেই বুঝেছিলাম।তা মা এখানে কতো ভরি হবে সব মিলিয়ে?”

“সঠিক হিসেব আমার জানা নেই ।তবে মায়ের থেকে শুনেছিলাম আট-দশ ভরি হতে পারে।”

শাশুড়িমা অবাক দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন।আমি একটু অপ্রস্তুত হয়ে পড়লাম।ধীর স্বরে বললাম,”আপনি ঔষধ খেয়েছেন?”

“খেয়েছি।তুমি বসো।আমি তোমার বিছানা গুছিয়ে দেই।”

নিজে করে নিতে চাইলাম আমি।উনি নিষেধ করলেন।নতুন বউ আমি।প্রথম দিন এসেই নাকি কাজ করা মানায় না।
বললেন,”আজকের দিনে তোমায় থাকতে বললাম তুমি কিছু মনে করোনি তো মা?
আসলে প্রথম দিনেই তোমায় আমি আপন করে নিয়েছি।মেয়ে মনে করেছি তাই সাহায্য চাইলাম।”

“না নাহ।সমস‍্যা নেই।”

শুতে যাব এমন সময় বাহির থেকে দরজায় খটখটানি।

সে এসেছেন।যার সঙ্গে আমার বিয়ে হয়েছে।নাম জানা নেই।
মা বিরক্তিতে কপাল কুচকায়।
বললেন,”শুয়ে পড়ো প্রিয়তা।আমিও শুয়ে পড়বো।এখন আর দরজা খোলার প্রয়োজন নেই।ডেকে ডেকে সারা না পেয়ে একাই চলে যাবে।”

আমি চুপ করে রইলাম।
উনি আবারো দরজায় নক করে খুলতে বলতে।
বিব্রত বোধ করি আমি ।ক্ষীন স্বরে বললাম,”মা উনি হয়ত আপনাকে দেখতে এসেছে।বা কোনো প্রয়োজনে।এতোবার নক করছে!”

মা এবার অসন্তুষ্ট হলেন।একপ্রকার বাধ‍্য হয়েই দরজা খুলে দিলেন।ঝাঁঝালো কন্ঠে বললেন,”কী সমস্যা?কী দরকার তোর?রাত বিরেতে বিরক্ত করছিস কেন?”

“বিরক্ত তো তোমরা আমায় করছো।আজ আমাদের বাসর ঘর,অথচ আমার বউকে এনে নিজের কাছে রেখে দিয়েছো।কোনো কমনসেন্স নেই?
নাকি আগের বারের মতো ফন্দি এটেছো?”

মা আমতা আমতা স্বরে বললেন,”কথার কোনো ছিড়ি নেই তোর।কী বলবি বল।কী দরকার?”

“আমার বউকে দরকার।”

ওদিকে লজ্জায় আমি পারলে মাটির সঙ্গে মিশে যাই।এ কেমন লাগামহীন পুরুষ মানুষ?

শাশুড়িমা বিরবিরিয়ে কী যেন বলে পেছন তাকালেন।
আমাকে উদ্দেশ্য করে বললেন,”কী বলবে শুনে এসো।তাড়াতাড়ি শুনে আসবে মা।তোমায় ভরসা করে থাকতে বলেছি।আমি কিন্তু অসুস্থ।”

একবার মাথা কাত করে দরজার দিকে এলাম।
লোকটা তাকে অনুসরণ করতে বলে চলে যায়।
সে হাঁটতে হাঁটত‍ে অন্ধকার মতো একটি জায়গা দিয়ে উঠতে লাগে।সম্ভবত এটা সিড়ি।আমি বুঝতে পারিনি।প্রথম সিড়িতে পা বেধে পড়ে যেতে নেই।তিনি কিন্তু একটু দূরেই।চাইলেই আমায় ধরতে পারতো।অন্তত সাবধান করতে পারতো।

দু-হাত দিয়ে সিড়িতে ভর দিয়ে পড়ার হাত থেকে বেঁচেছি।আমার মৃদু চিৎকারে তিনি থেমে যান।
দৃষ্টি সামনে রেখেই বলে,”চাইলেই আপনাকে হেল্প করতে পারতাম।কিন্তু করলাম না একটা কারণে।”

ততক্ষণে উঠে দাঁড়িয়ে হাত ঝাড়ছি।
মনে মনে বললাম হেল্প না করে এখন কারণ দেখাচ্ছে!

তিনি ঘাড় বাকিয়ে পেছনে তাকিয়ে বলল,”এখানে আপনার তিনটে শিক্ষা হলো।
প্রথমত,সামনের পথ অনুমান না করে পা বাড়ানো যাবেনা।
দ্বিতীয়ত, কাউকে অন্ধবিশ্বাস করে তার পথে পথ মেলানো যাবেনা।
এবং শেষ,অন‍্যের সাহায্যের আশায় না থেকে নিজেকেই নিজের আত্মরক্ষা করতে হবে।”

আমি বোকার ন‍্যায় দাঁড়িয়ে তার কথাগুলো শুনে গেলাম।বলছে কী লোকটা?
এসব যেন আমি জানিনা!শেখাতে এসেছে!

উনি পুনরায় গম্ভীর গলায় বললেন,”চলে আসুন।”

সে আগে গিয়ে ছাদের একপ্রান্তে দাঁড়ায়।
আমি দূরত্ব বজায় রেখে দাঁড়িয়েছি।

কিছুপল আকাশ পানে তাকিয়ে রইলেন তিনি।
এরপর হঠাৎ করে বললেন,”আপনাকে সাহসি হতে হবে।
পর্বতের মতো মাথা উচু করে থাকতে হবে সবসময়।নদীর মতো বয়ে চলতে হবে।থামলে চলবেনা।আকাশের মতো চকচকে ও পরিষ্কার হতে হবে মুখের বুলি।
আপনায় ভরসা করে এনেছি।আপনিই পারবেন এই পাপের রাজস্র ভেঙে সবকিছু আলোকিত করতে।”

বললাম,”আপনি ভীষণ সিনেমাটিক কথা বলেন।”

লোকটা কিঞ্চিৎ হাসলেন।
কী যেন বলতে যাবে আবার,তখনই ননদ রিপা এসে উপস্থিত।
বললেন,”মায়ের শ্বাসকষ্ট হচ্ছে।ভাবিকে নিয়ে যেতে হবে।”

ও কোনো উত্তরের আশা না করেই আমায় টানতে টানতে নিয়ে যেতে লাগে।
মনে মনে বলি, শ্বাসকষ্ট হলে ডাক্তার ডাকতে হবে।
আমায় বলার কী আছে!

মনের প্রশ্ন মনেই থাকে।
বলার আর সাহস পাইনা।

ঘরে ঘিরে দেখলাম শাশুড়ি জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছে।
আমি ব‍্যতিব‍্যস্ত হয়ে তার হাত-পা ঘসতে লাগলাম।চিৎকার করে বললাম ডাক্তার ডাকতে।হাসপাতাল নিয়ে যেতে।
রিপা বলল প্রয়োজন নেই।হাত-পা মালিশ করলেই নাকি সেরে যায়।
তাই করলাম।প্রায় মিনিট পাঁচেক পার হলো।এরমাঝে শাশুড়ি দু-বার উঠে বসেছে।একবার পানি খেয়েছে।আর একবার মেয়েকে বলেছে ঘরের দরজা দিতে।
রিপার নাকি পরিক্ষা।তাহলে পড়া বাদে ও কী করে শুধু দাঁড়িয়ে?

রিপাকে বললাম,”তোমার না পরিক্ষা!তুমি পড়ো।মাকে আমি দেখছি।”

সে ঝাঁঝালো স্বরে জবাব দিল,”অসুস্থ মাকে রেখে পড়া যায়?”

আর কিছু বললাম না আমি।
মিনিট দশেক পর শাশুড়ি ঠিক হলো।উঠে বসলো।
আমায় ধন‍্যবাদ দিল।

এরপর আমতা আমতা করে বলল,”একটা কথা ছিল বউ।”

বললাম,”বলুন মা।”

“আমাদের বাড়িতে নিয়ম নতুন বউর বিয়ে হয়ে এসে তার বাবার বাড়ির গহনাগুলো হতে পছন্দমত একটি গহনা তার ননদ থাকলে উপহার হিসেবে দেয়।
ননদ তো বোনেরই মতন।তো তুমিও,,,,,,”

বললাম,”এমন নিয়ম তো শুনিনি।তবে আপনাদের বাড়ির নিয়ম যেহেতু,তো দিচ্ছি সাধ‍্য মতো।”

গহনার পোটলা খুলতেই ননদ সামনে এগিয়ে এলো।
হাতের আঙুল গুলো একত্র করে চৌকা করে রাখলো।চুড়ি পড়ার সময় আমরা যেমন করি।
আমি বেছে বেছে একটা সুন্দর আংটি তার হাতে পড়িয়ে দিয়ে মুখের দিকে তাকালাম।
মেয়েটার গম্ভীর মুখ।খুশি হয়নি নাকি?

শাশুড়ি কেমন অবলা হেসে বলল,”এটা দিলে?”

“হ‍্যা।আংটিটা সুন্দর না?সিম্পল ডিজাইনের মধ্যে।ও সবসময় পড়ে থাকতে পারবে।”

শাশুড়ি আবারো একটু হেসে বললেন,”হ‍্যা সুন্দর সুন্দর!”

রিপা কিছুই বলল নাহ।গম্ভীর মুখ নিয়েই চলে গেল।

আমি বুঝতে পারলাম না বিষয়টি।হলো কী মেয়েটার? আংটি পেয়ে খুশি হয়নি নাকি?

আনমনে এসব ভাবতে ভাবতেই শুয়ে পড়েছি।চোখে ঘুম নেই।ভাবছি শাশুড়ির বলা তখনের কথাটি।
এ বাড়ির বউরা মানে?
আমি যতোদূর জানি উনিই বড়ো।চার ভাইবোন উনারা।দু-ভাই,দু-বোন। ছোট ভাই বিয়ে করেনি।তাহলে আর বউ এলো কী করে?উনার বড়ো বউ নাতো?

মুখখানা থমথমে হয়ে গেল আমার।
চুপচাপ শুয়ে রইলাম চোখ বন্ধ করে।ঘরে ড্রিমলাইট জ্বলছে।
একটু পর শাশুড়িমা ধীরে ধীরে উঠে বসে আমার দিকে ঝুকে গেল।
চোখের সামনে হাত নাড়লো। সাধারণত মানুষ ঘুমিয়েছে কিনা খেয়াল করে যেভাবে।

ভাবলাম কিছু লাগবে হয়ত।
বললাম,”কিছু লাগবে মা?”

সে চমকে গেল যেন।
আমতা আমতা করে বলল,”পা পানি।”

উঠে বসে বেড সাইট টেবিল থেকে গ্লাসে পানি দিয়ে বললাম,”বললেই হতো।
আপনি চিন্তা করবেন না।আমি সজাগ আছি।অসুস্থ মানুষ রেখে সারারাত ঘুমোনো অমানবিক কাজ।”

বলল,”সমস‍্যা নেই।ঘুমোয়।”

আমি নিষেধ করি।
উনি শুয়ে পড়েন।আমি এক কাত হয়ে।মা বারবার এদিক-ওদিক ঘুরছে।নড়াচড়া করছে প্রচন্ড।
যেন শান্তি পাচ্ছেনা।
একটু পর সে উঠে দাঁড়ালেন।
বললেন রিপা পড়ছে কিনা দেখতে যাবে।মায়ের মন।
নিয়ে যেতে চাইলাম আমি।সে নিষেধ করলো।একাই যাবে।

গেল তিনি।
আমি শুয়ে রইলাম।মিনিট পাঁচেক পর ফিরে এলেন হাতে একগ্লাস দুধ নিয়ে।বললেন,”বাসর ঘরে দুধ খেতে হয়।তোমার খাওয়া হয়নি।মনে ছিল না আমার।এজন‍্য নিয়ে এলাম।খেয়ে নাও।”

আমি যতোদূর জানি এসব নিয়ম এখন আর কেউ মানেনা।
আর মানলেও এটা স্বামী-স্ত্রীরা পালন করে থাকে।
শাশুড়িরা নতুন বউকে দুধ খাওয়ায় এ আবার কেমন নিয়ম?

বললাম,”এতো রাতে দুধ খাবোনা আমি মা।এছাড়াও দুধ আমার পছন্দ না।আর আমিতো আপনার সঙ্গে আছি।বাসর ঘরে নয়।তো না খেলেও চলবে।”

উনি ভ্রু কুচকে বলল,”সে যেখানেই থাকো।আজ বিয়ের প্রথম রাত।খেতেই হয় আজ।
খেয়ে নাও মা।নাক ধরে খেয়ে নাও।খেতেই হবে।”

উনি রীতিমতো জোর করেই খাইয়ে দিলেন।দু ঢোক খেয়ে মুখ সরিয়ে নিতেই বলল,”পুরোটা খাও নাহলে কাজ করবেনা।”

অবাক হয়ে বললাম,”কী কাজ করবেনা?”

উনি কাপা স্বরে বলল,”ঐ ঐ নিয়ম আরকি।পুরোটা খাওয়ার নিয়ম।”

বাধ‍্য হয়েই খেতে হলো।খেয়ে বিছানায় মাথা রাখলাম।মা এসে মাথায় বিলি কেটে দিচ্ছে।সে তো অসুস্থ।তবুও দিচ্ছে।ভালো লাগছে আমার।মা মা ফিল হচ্ছে সত‍্যিকারের।
মিনিট দুয়েকের মাঝেই ঘুম ঘুম ভাব চলে আসে।
একটু পর যেন চোখের পাতা টেনে তুলতে পারছিনা।
চোখ বুজে ফেলেছি কিন্তু মস্তিষ্ক তখনও জাগ্রত।
শাশুড়ির হাসির শব্দ পেলাম।
ঘুমে তলিয়ে গেলাম।স্বপ্নে দেখছি কেউ আমায় জ”বা”ই করছে।

প্রিয়তার_পূর্ণতা

Nadia_Afrin

(নতুন গল্প।সাংসারিক,রোমান্টিক ও থ্রিলার কম্বিনেশন।ভালো লাগবে।কিছু বাস্তব চরিত্র ফুটে উঠবে।)
প্রেমনীতি কাল দেওয়ার চেষ্টা করবো।

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply