Golpo romantic golpo প্রণয়ের রূপকথা

প্রণয়ের রূপকথা পর্ব ৭২


প্রণয়ের_রূপকথা (৭২)

কবুল বলার ঠিক আগ মুহূর্তে উঠে গেল অরণ্য। সকলের চোখে মুখে এক রকম প্রশ্ন জাগ্রত হলো। এমনিতেই এই বিয়ে নিয়ে কত কি কাহিনী হয়ে গেল। এখন আবার অরণ্য ঠিক বিয়ের আগ মুহূর্তেই উঠে গেল! অরণ্য এগিয়ে এলো রাত্রির দিকে। রাত্রি বিস্ময় হয়ে চেয়ে। ও নিজেও বুঝতে পারে না কী হচ্ছে।

“রাত্রি, আমার কিছু কথা আছে।”

আশেপাশের সবাই দ্বিধাগ্রস্ত। রাত্রির বাবা রমিজ বললেন,”অরণ্য, বাবা কথা এখনই বলতে হবে? বিয়েটা হোক?”

অরণ্যর বলতে হলো না। রাত্রিই বলল,”আগে কথা শেষ হবে বাবা। তারপর বিয়ে।”

এ কথার পর পরই আসর ছেড়ে উঠল রাত্রি। সামনের দিকে অগ্রসর হতেই ওর পেছন পেছন এল অরণ্য। একটা আলাদা ঘরে এসে রাত্রি বুক ভরে দম নিল। তারপর বলল,”বলো, কী কথা আছে অরণ্য।”

অরণ্য’র চোখ দুটো লাল। রাত্রিও তৈরি যে কোনো সিদ্ধান্তের জন্য। ও তাকাতেই, অরণ্য এক প্রকার ছুটে এসে জড়িয়ে ধরল রাত্রিকে। এমনটা একদমই আশা করেনি ও। রাত্রি কথা হারাল। খানিক সময় নিয়ে অরণ্য ওকে ছাড়ল।

“রাত্রি।”

একটু থামল নাম উচ্চারণের পর। অরণ্যকে কেমন যেন দেখাচ্ছে। রাত্রি এবার বলল‍,”বলো অরণ্য। কী বলবে?”

মেয়েটির হাত তুলে নিল অরণ্য। তারপর একটু সময় নিয়ে চোখের দিকে চাইল। দৃষ্টির মিলন হতেই ও বলল,”কদিন ধরেই বলতে চাচ্ছি। কিন্তু দ্বিধায় বলতে পারছিলাম না। কিন্তু না বলেও শান্তি পাব না।”

রাত্রি ওর কথার মানে বুঝে না। চেয়ে থাকে ফ্যালফ্যাল করে। অরণ্য সময় নিয়ে বলে,”আমি কখনো বিশ্বাস করতাম না, আমি একটি মেয়েকে জীবনে ঠাই দেব। লাইফ নিয়ে আমার প্ল্যানই ছিল না। একজনকে নিয়ে সারাজীবন থাকা, একজনের সঙ্গ পাওয়া, পুরোটা এক ঘেয়ামির মতন লাগত। তোমার সাথে প্রেমটাও মজার ছলে ছিল।”

এ অবধি বলার পর রাত্রি বলল,”তুমি কি বিয়েটা করতে চাচ্ছ না অরণ্য?”

অরণ্য করুণ চোখে চায়। রাত্রির গলা ধরে আসে। ও বলে,”চাইলে বলতে পারো। আমি ম্যানেজ করব।”

অরণ্য ফের সময় নেয়। তারপর বলে,”আমি, আমি তোমাকে কতটা ভালোবেসে ফেলেছি তা নিজেকে খু ন করেও বোঝাতে পারব না রাত্রি। যদি ভবিষ্যতে আমি কখনো তোমাকে এতটা কষ্ট দেই, যাতে করে বিচ্ছেদ নামক চিন্তা আসে তোমার মাঝে, তবে দয়া করে আমাকে খু ন কোরো। তাও ওমন কিছু বোলো না যা আমাকে বাঁচিয়ে রেখেও মৃ ত্যু র মতন অনুভূতি দেবে।”

রাত্রি অবাক চোখে চেয়ে। অরণ্য কথা গুলো বলে রাত্রির হাত দুটো ফের তুলে নেয়। আবারো বলে,”আমি না, চোখের সামনে অনেক ব্রোকেন সম্পর্ক হতে দেখেছি। আমার ভয় হয় রাত্রি। আমি তোমাকে কখনো হারাতে চাই না। কখনোই না।”

রাত্রি আর পারে না। এ ছেলের মাথা ঠিক আছে? এসব বলার জন্য কবুল বলার আগ মুহূর্তে সবাইকে চিন্তায় ফেলে এলো? ও বড়ো হতাশ হয়।

“তুমি যে পাগল, আর আমি সারাজীবন একটা পাগলকে সঙ্গী করতে চলেছি এ বিষয়ে আর কোনো সন্দেহ নেই অরণ্য।”

ওর কথায় অরণ্য একটু লজ্জার মতন পায়। তারপর বলে,”জানি না। হয়তো পাগল। কিন্তু এই কথা গুলো না বলতে পারলে শান্তি লাগত না। রাত্রি, কখনো বিচ্ছেদ চেও না। আচ্ছা, এমন কোনো অপশন নেই যেখান থেকে নিশ্চিত হবে আমরা কখনো বিচ্ছিন্ন হব না?”

এবার সত্যিই হেসে ফেলে রাত্রি। অরণ্যর বাহুতে ইষৎ ধাক্কা দিয়ে বলে,”এই পাগল, তুমি আসো তো। আর একটু লেট হলে বিয়ের আগেই আমি বিচ্ছেদ করে ছাড়ব।”

খুব সুন্দর ভাবে রাত্রি-অরণ্যর আর আবির-হেরার বিয়েটা হয়ে যায়। দীপ্র আর কুহু পাশাপাশি দাঁড়িয়ে। কুহু ভাবছিল ওর বিয়ের কথা। একদম হুট করেই কীভাবে কীভাবে যেন বিয়েটা হয়ে গেল। কত গুলো শর্ত জুড়ে দিয়েছিল ও। দীপ্র ভাই সবটা মেনেও নিয়েছিল। আর তারপর, এক কোনো আয়োজন ছাড়া কবুল বলা। অথচ ছোটবেলা থেকেই কি এক ধুমধামে বিয়ের শখ ছিল ওর। সেসব ভাবতে ভাবতে ও যেন হারিয়ে যাচ্ছিল কোনো এক রূপকথার জগতে। আর সেই রূপকথার রাজুকমার, ঠিকই ওরমনের কথা বুঝল। তাই খানিকটা ঝুঁকে নরম সুরে বলল,”তোর কোনো ইচ্ছেই অপূর্ণ রাখব না আমি।”

কুহু চাইল মাথা তুলে। দীপ্র কিছুটা ঘেঁষতেই মেয়েটির শরীর জুড়ে একটা হাওয়া বয়ে গেল। ও নজর সরিয়ে বলল,”আপনি জানেন নাকি আমার মনে কি ইচ্ছে হচ্ছে?”

দীপ্র হাসে। বলে,”তা বোধহয় জানি।”

“তাহলে বলেন শুনি।”

“তোর মন চাচ্ছে বউ সাজার। দীপ্র দেওয়ানের বউ। তাই তো?”

কুহু এত লজ্জা পেল যে, ও মিইয়ে রইল। দীপ্র ফের বলল,”ঠিক বলেছি তো জান?”

“ঠিক বলেননি।”

“সেটা কিন্তু তোর চোখ মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে।”

“আপনি একটু বেশিই বুঝেন দীপ্র ভাই।”

বলেই জায়গাটি থেকে সরে গেল ও। দীপ্র বুঝল কুহু লজ্জা পাচ্ছে। আসলে ও নিজেও চায়নি ওভাবে বিয়ে করতে। তবে ভাগ্যের লিখন কে বদল করতে পারে?

কণা আবিষ্কার করল তার মন কাউকে একটা চায়। আর এই চাওয়া একদিনে নয়, অনেকদিন ধরে একটু একটু করে তৈরি হয়েছে। ও নিজের হাতটা দেখে। তারপর চুমু খায় একটি বিশেষ জায়গায়। যেখানে লুকিয়ে রাখা একটি বিশেষ নাম। ওর মনের মানুষ। ওর গোটা পৃথিবী।
“কবে এভাবে ভালোবেসে ফেললাম?”

এ কথা বলেই কণা ফোনটা তুলে। রাগীবের নাম্বারটি ও ব্লক করে রেখেছিল। সেটা খুলে, ম্যাসেজ লিখে।
“রাত্রি আপুর বিয়ে হয়ে গেল।”

সঙ্গে সঙ্গে সীন হয় ম্যাসেজটি। তবে রিপ্লাই আসে না কোনো। কণা চেয়ে থাকে। একটা সময় পর রিপ্লাই হিসেবে সরাসরি কল আসে। কণা একটু সময় নেয়। তারপর রিসিভ করে।

“হ্যালো।”

“তুমি ব্লক করে রেখেছিলে আমায়?”

“হ্যাঁ।”

ওর সোজাসাপ্টা জবাব। ওপাশ থেকে রাগীব দীর্ঘশ্বাস ফেলে। বলে,”রাত্রির বিয়ে হয়ে গেল?”

“হুম, হয়ে গেল।”

“তুমি আমাকে হেল্প করতে পারতে কণা। ওর সাথে শেষবার কিছু কথা ছিল।”

“সে তো অন্যের বউ হোতো। কথা বলে কী করতেন?”

“তাই তো। অন্যের বউ।”

বলে‍ দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে। কণা বলে,”ব্লক করার জন্য সরি।”

“না ঠিক আছে। তুমিই তো ছোট মানুষ। কী আর করতে?”

“আমি ছোট নই।”

“ছোট নও?”

“জি। আমি এবার ইন্টারে পড়ি।”

রাগীব বোধহয় একটু হাসল। বলল,”হ্যাঁ, খুব বড়ো হয়ে গেছ।”

“এভাবে বলছেন কেন? আমাকে কী ছোট লাগে? আসলেই লাগে?”

রাগীব একটু সময় নেয়। তারপর বলে‍,”না। ছোট লাগে না।”

এ কথায় কণা খুশি হয়। তবে ওর খুশি বেশি সময় থাকে না। রাগীব ফের বলে,”তোমাকে লাগে বাচ্চা। একদম বাচ্চা।”

ওর মুখের হাসি মিলিয়ে যায়। ও ঠোঁট কামড়ে বলে,”আপনি লোকটা ভালো না।”

“হুম। সেই জন্যই তোমার বোনকে পেলাম না।”

ফের রাত্রিপুর কথা? কণার ভালো লাগে না। এখনো কেন রাত্রিপুর কথা বলতে হবে? কান্না পায় খুব। ও আর কিছু বলে না। কলটি কেটে দেয়। কেবল এক নীরব অভিমানে বুদ হয়ে রয়।

চলবে….
কলমে ~ #ফাতেমাতুজনৌশি

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply