Golpo romantic golpo প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা

প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ৯


প্রণয়ের_মায়াতৃষ্ণা ||৯||

ফারজানারহমানসেতু

রোজা খুব ভোরেই আজ উঠে গেছে, এখনো মাইকে নামাজের আহব্বান শোনা যাচ্ছে। রোজা এমন সময় ওঠে না, তাকে ফজরের নামাজ পড়ার জন্য ডাকতে ডাকতে তুবার গলার পানি শুকিয়ে যায়।
পাশে তুবা শুয়ে আছে। মাথার ভেতর কেমন যেন গুলিয়ে আছে সবকিছু। গত রাতের সেই অগ্নিদৃষ্টি পুরুষটার চোখ আজও যেন তাকে ঝলসে দিচ্ছে। সে নাহয় একটু অগোছালো তাই বলে ওভাবে তাকাবে। রোজার পুরো বিশ্বাস তার অগোছালো রুপ দেখে তূর্জান ওমন দৃষ্টি দিয়েছে। দেওয়া স্বাভাবিক নেওয়াজ বাড়ির একটা সম্মান আছে না। আর নতুন বন্ধুদের এনে বোনদের এই অবস্থা দেখলে রাগবেই তো। রোজা আজ তুবাকে ডেকে উঠিয়ে নামাজ পড়ল। তুবা এমনিতেই সকালে উঠে, কিন্তু রোজা আজ ডেকে তুললো বিধায় মনে করেছে তা কি দেরি হয়ে গেল। তবে না আজ তার দেরি হয়নি বরং রোজা আগে উঠেছে।

সকালটা শুরু হলো আজ অদ্ভুত এক অস্বস্তি আর স্বাভাবিকতার মিশেলে। চারিদিকে ফজরের আযান প্রতিধ্বনি হচ্ছে। কালকে রাতে তূর্জান রুম থেকে বেরোয়নি।খাবার ও খায়নি! সবাই ডাকতে চেয়েছিল, কিন্তু মিরান নিষেধ করায় ডাকেনি। যদিও তার কথার দাম দেওয়া হয়না, তবে কাল যেহেতু ওর বুদ্ধিতে তূর্জানকে থামানো সম্ভব হয়েছে। তাই মিরানের কথা মেনে নেওয়া হয়েছে। তূর্জান সকালে চা খায়,পুরোনো অভ্যাস। মা কি তা ভোলে,আজ সে চা চায়নি। তানিয়া নেওয়াজই চা বানাতে গেলো।
প্রতিদিন রুমে সকল অখাদ্য থাকে বলে রোজা আর তুবাকে রুমের বাইরে যেতে হয় না। খেতে খেতে পড়ে দুবোন। তবে আজ যে তা নেই! তাই পড়তেও বসল না দুই ব্যক্তি। খানিকক্ষণ রুমে বসে থেকে তুবা ইয়ারপড বের করল। দুইজন কানে লাগিয়ে কি যেন শুনতে শুনতে নিচে নামল।

দুবোন রওনা দিল কিচেনের উদ্দেশ্যে, এখন দুজনে চুপচাপ গিয়ে পটেটো, কুকিজ নিয়ে খেয়ে পরে নাস্তার সময় বলবে, “ ক্ষিদে নেই! “

নয়তো ওই নাস্তায় থাকা ডিম সেদ্ধ, জুস, ইত্যাদি পুষ্টিকর খাবার কি প্রতিদিন খাওয়া যায়।
যদিও রোজার রাতের কাজ হলো, নিজের রুমে এসব খাদ্য রাতেই নিয়ে রেখে দেওয়া। তবে কালকে খাবার খেয়ে রুমে চলে গেছে। হয়তো নেওয়া হয়নি, তাই সকালে উঠে পড়েছে এসব খাওয়ার জন্য।
কিচেনে ঢুকতেই দেখে তানিয়া নেওয়াজ চুপচাপ দাড়িয়ে চা বানাচ্ছেন। রোজা তুবার কানের কাছে মুখ নিয়ে বলল, “ বড় আম্মু এত তাড়াতাড়ি উঠেছে কেন? “

“ আম্মুরা প্রতিদিন এই সময়েই ওঠে, তুই ঘুমিয়ে থাকিস তাই জানিস না। কোনোদিন ফজরের সময় উঠেছিস, নামাজ তো পড়িস প্রায় সকালে!”

রোজা হালকা স্বরে বলল, “ আমি কিন্তু তোকে আজকে জাগিয়ে তুলেছি! যদিও তুই এই ক্রেডিট আমায় দিবি না, জানি!”

একটু থেমে আবার বলল, “ তুই বড় আম্মুর সাথে কথা বল, আমি নিয়ে আসছি!”

“ আমি আজকে খাবো না। তুই তোর টা নিয়ে আয়!”

“ কেন.. কেন? খাবি না, তোর কি আবার গোলুমলু টেডিবিয়ার হওয়ার শখ জেগেছে মনে?”

“ নাহ! ভাইয়া অনেক দিন পর এসেছে, তাই একসাথে ব্রেকফাস্ট করবো। “

“ ওহ ভালো, তোর ভাই এসেছে, তুই না খেয়ে থাক। আমি ভাই কারোর জন্য না খেয়ে থাকতে পারবো না। আর ওসব পুষ্টি খেতে পারবো না। “

তুবা ইয়ারপড খুলে দুটোই রোজার কানে দিয়ে রুমে গেলো। আজ সে কতদিন পর ভাইয়ের সাথে বসে খাবে। এটা কি মিস করা যায়? উহু এটা মিস করা যাবে না। তুবা যেতেই রোজা তানিয়া নেওয়াজ কে বলল, “বড় আম্মু , আমি কিছু সাহায্য করবো?”

তানিয়া তাকিয়ে মৃদু হাসলেন, কানের একটা ইয়ারপড খুলে বলল” রাতে রুমে কিছু নেওয়া হয়নি তাইতো? “

এই যাহ বুজে ফেলল। ভাগ্য আজ সহায় হচ্ছে না। একজন খাবে না বলল। আরেকজন বুঝে ফেলল। রোজা হেসে বলল, “ বুঝেই যখন ফেলেছো, তখন আর কি? যাই এক প্যাকেট চিপস, আর কুকিজ খেয়ে আসি!”

তানিয়া নেওয়াজ বললেন, “ আজ যেহেতু ভাগ্য সহায় হচ্ছে না, তো পুষ্টি খেতে হবে। “

রোজা সকালের ব্রেকফাস্ট কে পুষ্টি বলেই বেশি ডাকে। তাই তাকে খেপাতেও এই শব্দটা বেশি বলে বাড়ির লোকজন। রোজা ইয়ারপড তানিয়া নেওয়াজের থেকে নিয়ে কানে লাগিয়ে নিল। সে কি আর কথা শোনার বান্দা। সেই ঠিকই তার খাদ্য নিয়ে খেতে শুরু করল।

ঠিক তখনই পেছন থেকে গম্ভীর গলা ভেসে এলো,“ চায়ে চিনি কম দিও আম্মু ।”

“ হ্যাঁ, আমার মনে আছে! সেই পুরোনো অভ্যাস এখনো আছে। তোরা সবাই ডাইনিং এ বোস চা,কফি সব করে দিচ্ছি। “

রোজা মানুষ দেখে কান থেকে ইয়ারপড গুলো খুলে ফেলল। বাইরের মানুষ একটু সম্মান দেওয়া উচিত। পিছন থেকে অনিল, আলিশা, আর আ্যমেলাও বলল, “ আন্টি আমরাও আজ চা খাবো, বিডিতে এসেছি বিডির কালচার না মানলে হয়। আর আমাদের চায়েও চিনি কম।“

রোজা এতক্ষন ও পিছনে তাকায়নি।মানুষের হালকা কথাবার্তা কানে যাচ্ছে,সে চিপস খেতে ব্যাস্ত। পিছনে তাকাতেই দেখল তূর্জান আর তার ফেন্ডরা সব। দরজার পাশে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে তূর্জান । চোখদুটো আজ শান্ত, তবে গভীর ধূসর সমুদ্রময়। যার চাহনি মারাত্মক সুন্দর।
রোজা ভ্রু কুঁচকে ফেলল। এই লোকরা চা খায়? বিদেশীরা তো কফি খায়! যাক বাংলাদেশের বিড়াল বিদেশী সাজতে চায় না, সাথে বিদেশী বিড়াল বাংলাদেশী সাজতে চায়।

রোজা বড় আম্মুর কাছ থেকে একটু সরে সামনের দিকে এসে বলল, “আপনাদের ডায়াবেটিস আছে?”

মিরান হুট করে কিচেনে ঢুকে বলল, “না না, ভাইয়া বা ভাইয়ার ফেন্ডদের কারোর ডায়াবেটিস নেই। ভাইয়া চিনি কম খাবে তাই ওনারাও চিনি কম খাবে। তাছাড়া ভাইয়ার মিষ্টি সহ্য হয় না, লবণ বেশি পছন্দ! তাই না..”

তারপর তূর্জানের কানের কাছে মুখ নিয়ে বলল, “দুলাভাই!”

মিরানের শেষ কথা কেউ শোনেনি, তাই অনিল হেসে যোগ দিল, “ইন্ডিয়াতে আমরা বলি, সুগার কম, অ্যাটিটিউড বেশি!”

আলিশা আর আ্যমেলা একসাথে হেসে উঠল।
রোজা অবাক হয়ে তাকাল সবার দিকে।
এই লোকটা এতক্ষণ গম্ভীর মুখে দাড়িয়ে ছিলো , এখন সবাই তার সাথে মজা করছে? সে কিছুই বলছে না। যেন সে কালা, কানে কিছুই শুনছে না।

তূর্জান শান্তভাবে মিরানের কানের কাছে মুখ নিয়ে বলল, “চিনি কম মানে মিষ্টি কম না।আর মিষ্টি তো সামনে দাঁড়িয়েই আছে, তাই না শালা!”

মিরান কেশে উঠল। তাকেও বাঁশ দেওয়ার মানুষ চলে এসেছে। রোজা সহ উপস্থিত কেউই কিছু বুঝল না।
তানিয়া নেওয়াজ জিজ্ঞেস করলেন, “কি হয়েছে?“

“ বড় আম্মু মিষ্টি….

রোজা ভ্রু কুচকে বলল, মিষ্টি,কোথায়? ভাইয়া তুমি মিষ্টি কোথায় পেলে?”

মিরান এবার বুঝেছে সে ভুল জায়গায় ভুল কথা বলেছে। তাই বুক চাপড়ে বলল, “আমি! আমি ফুলটাইম ভন্ডামী, পার্টটাইম মিষ্টি! তাই ভাইয়া বলছিলো, যে ভালো হয়ে যেতে। “

রেহেনা নেওয়াজ ততক্ষনে কিচেনে এসেছেন। সাথে রাফিয়াও উঠে এসেছে। রেহেনা নেওয়াজ বলল, “ তা ভালো হয়ে যেতে বলল, তুই কেশে উঠলি কেন? “

“ আসলে কি বলো তো আম্মু, ভাইয়া অনেক দিন বাইরে ছিলো তাও আমার ভন্ডামীর কথা জানে। তাই হঠাৎ শুনে গলায় আটকে গেছে। “

রাফিয়া বলল, “ হুমম! ঠিকই তো। তোমরা ভাইয়াকে এমন ভাবে ধরেছে, যেন ভন্ডামীতে মিরান ভাইয়াই সেরাহহ!”

“ভাবি এইটা প্রশংসা ছিলো নাকি বদনাম?”

★★

নেওয়াজ পরিবারের ছেলে সদস্যরাও নাস্তার টেবিলে হাজির হলো। তূর্জানের ঠোঁটেও হালকা হাসি ফুটল।এত বছর পর একসাথে নাস্তা করা। রোজা এক ঝলক তাকিয়ে আবার চোখ নামিয়ে ফেলল।
ডাইনিং টেবিলে আরাজ ঘোষণা দিল, “আজ আমি কাকামনির পাশে বসবো!”

তূর্জানকে চুপ থাকতে দেখে অনিল আরাজকে বলল,
“ তুমি আমার পাশে বসো। আমি নিউ পিপল ফ্রেন্ডলি, আর তোমাকে গল্প শুনিয়ে খাওয়াবো।”

সাথে তাজারুল নেওয়াজ ও বলল আরাজ কে অনিলের কাছে বসতে। আরাজ উঠে গিয়ে অনিলের পাশে বসল। টেবিলে আর দুটো চেয়ার বাকি। তূর্জান মোস্তফা নেওয়াজের দিকে তাকিয়ে হাসল। যার মানে তূর্জান প্রথমে রাউন্ড জিতে গেছে, রোজা তার পাশে বসবে।
তবে যার জন্য চেয়ার রাখা হলো, সে বসল না।
সে গিয়ে মোস্তফা নেওয়াজের পাশে বসল। মিরান পরে আসায় সে তূর্জানের পাশে বসল। তূর্জান কাঁটাচামচ থামিয়ে তাকাল রোজার দিকে, এই মেয়ে তাকে জিততে দেবে না। মোস্তফা নেওয়াজ কেশে উঠলেন। তূর্জান তাকাতেই, ইশারায় বোঝাল, “মোস্তফা নেওয়াজের মেয়েকে পটানো এতো সহজ না। প্রথম রাউন্ডে হেরে গেলে। “

তূর্জান লাভার ন্যায় তাকিয়ে আছে রোজার দিকে, কিন্তু রোজা তাকানোর প্রয়োজন মনে করলো না।

মিরান তূর্জানের কাছে ফিসফিসিয়ে বলল,
“ভাইয়া, লাভা কমাও।গরম নাস্তা আরও গরম হচ্ছে। শেষে গরমে বাড়ি গলে যাবে!”

খাবারের মাঝে তাজারুল নেওয়াজ বলল, “ তুমি কি পারিবারিক ব্যবসায় থাকবে, নাকি অন্য কিছু করবে? “

“ আপাতত প্রফেসর থাকতে চাই। পরে ভেবে তোমাকে জানাবো!”

“ সব তোমার ইচ্ছা! কিন্তু মিরান কেন বলেছিলো, তুমি এসে অফিসে জয়েন করতে চাচ্ছো? “

“ তখন ভেবেছিলাম প্রফেসারি ছেড়ে দেব, এখন ইচ্ছে করছে না। আর একবছর যেহেতু এটা করেছি, তাই ভাবছি ছাড়বো না। “

বলেই মোস্তফা নেওয়াজের দিকে তাকালো, মোস্তফা নেওয়াজ চোখ তুলতেই তূর্জান ভ্রু বাকালো। মোস্তফা নেওয়াজ ও কম যায় না। তিনি মুখ বাকালেন।
মিরান বলল, “ ভাইয়া এ কিয়া হুয়া? শশুরের মেয়ে পটাচ্ছো, নাকি শশুরের সাথে ফাইট করছো। তোমাদের ড্রামার নাম দিবো, জামাই শশুরের লড়াই, করতে গিয়ে ভেঙেছে কড়াই!”

“ না ড্রামার নাম রাখ, ভিলেন শশুরের ভিলেন মেয়ে!”

তারপর সকলের দুষ্টু মিষ্টি আড্ডাতে খাওয়ার পর্ব শেষ করল। নিজের যাওয়ার সময়, তূর্জান মোস্তফা নেওয়াজের পাশ ঘেসে যেতে যেতে বলল, “এক রাউন্ড তুমি জিতেছো, এক রাউন্ড আমি, আর পরবর্তীতে আমিই জিতবো! মেয়ে, মেয়ে করছো! তোমাকে বাবা থেকে কাকা শশুড় বানিয়ে ছাড়বো। ”

“ সে যাই বানাও পরে ভেবে দেখবো, জিতলে কিভাবে? এখন পর্যন্ত আমার মেয়ের সাথে কথা বলতেই পারলে না। “

“ওহ শশুরমশাই আপনার মতো খেলোয়াড় আমি নই, যে প্রথম রাউন্ডে জেতার আশায়, শেষ রাউন্ড নষ্ট করবো! আগে জিতি বা নাই জিতি, শেষ রাউন্ডে তো আমিই জিতবো!”

“ কনফিডেন্স ভালো জামাই, অভার কনফিডেন্স ভালো না। “

“ সে পরে দেখা যাবে, শশুরমশাই!”

★★

সারাদিনে সবাই ঘুরে ঘুরে বেড়াল। যেহেতু বিদেশ পাটি এসেছে বিডি ঘুরতে। বিকেলে ফেরত এসে রোজা, তুবা, আ্যমেলা, আলিশা সবাই বসে আড্ডা দিচ্ছে। আ্যমেলার অর্ধ বাংলা আরও বেশি মাতিয়ে দিচ্ছে আড্ডা। আ্যমেলা বলল, “ আমার বিডিতে সানসেট দেখার অনেক ইচ্ছা!”

আলিশা ও বলল, “ হুম! আমরা আজকে তাহলে সানসেট দেখবো। কিভাবে সূর্য তার আলো কমিয়ে আধারে পরিণত করে পৃথিবীকে, যদিও পুরো পৃথিবী আধার হয়না। অর্ধেক পৃথিবীতে আলো থাকে!”

আ্যমেলা বলল, “ রোজা তুমি কি আধারে ভয় পাও? “

মিরান রুমে ঢুকল তখন, বলল, “ আমার বনু আধারে ভয় পায় না মিস ঝামেলা, আধার আমার বনুকে ভয় পায়!”

আ্যমেলা পিছনে তাকালো। বলল, “ আমি আ্যমেলা, নট ঝামেলা!”

সবাই হেসে ফেলল। এই দুই জন নাম নিয়ে পরে থাকে। রোজা বলল, “ আরে থামো, আর আধারে ভয় পাওয়ার কি আছে? আমার না অনেক শখ সামনে থেকে তাদের দেখবো। আমার সামনে এসে আমার সাথে কথা বলবে!”

আলিশা বলল,“ এ্যাহ, এ আবার কেমন শখ? আমি এমন শখের কথা আগে শুনিনি। রোজা তোমার সাহস আছে বলতে হয়। নয়তো কে এমন শখ মনে পুষে রাখে? “

তুবা বলল,“ আরে আপু একটা শখের কথা শুনেই, অবাক! আরো যে ভাবনাগুলো আছে শুনবেন?’

“ আরও কি ভাবনা ? “

“ এই ওর সামনে মাটি দুভাগ হয়ে যাবে, ঘুমের মাঝে নাকি ফ্যান নিচে গায়ে পড়বে,বাড়িতে আগুন ধরলে ও কি আগে বের করবে ইত্যাদি। যা ইতিহাসে লিখলে সেই ইতিহাস উপহাস হয়ে যাবে।”

রোজা বলল,” আরে আপু ওর কথা বাদ দাও, আমরা আজ সানসেট দেখবো। সাথে রাতে ছাদে ছোটখাটো পার্টি করবো, আর যদি বলেন পার্টিতে তাদেরকে ডেকে নেচে প্রমান করবো, আমি ভূ’তে ভয় পাইনা। “

মিরান হাসল, হেসে বলল, “ হয় বোন, আই বিশ্বাস করি, তুই ভূ’ ত ভয় পাস না। আর না পাওয়া স্বাভাবিক পেত্নী ভূতে ভয় পায় না। “

আ্যমেলা মিরানকে উদ্দেশ্য করে বলল, “ আপনি বেশি বাজে বকেন, রোজা তো খুবই চুপচাপ। “

“ হয় মিস, ভালো মানুষের দাম কেউ দেয় না। ও যদি চুপচাপ হয়, তাহলে বেশি কথা বলা মানুষ দুনিয়ায় খুজে পাবেন না। “

“ ভাইয়া তুমি আমায় ইনডাইরেক্টলি টকেটিভ বললে? “

“ নাহ বোন, তোরে আমি ডাইরেক্টলি টকেটিভ বলছি। “
তুবাকে দেখিয়ে বলল, “ ওর স্বামী মারা গেছে না কি? ওমন প্যাচার মতো মুখ কেন? “

তুবা বলল, “ নাহ স্বামী মরে নাই, আমার তো ভাবী মরছে! তাও ভাইয়ার পাগলামো স্বপ্নে দেখে।“

আলিশা বলল, তোমরা অনেক হ্যাপি, সবাই অনেক আনন্দে থাকো? তোমাদের মতো পরিবার সবার স্বপ্ন। “

“ পরিবার ভালো হোক বা না হোক, কথা ধৈর্য দিয়ে শুনে, তার সাথে মিলিয়ে ভন্ডামী করা, ইটস ডিফরেন্ট!”

আলিশা বলল, তাহলে সব ঠিক আছে, আমরা আজ সানসেট দেখবো। “

আ্যমেলা বলল, “ হ্যাঁ, আমরা সবাই আজ সানসেট দেখবো। “

মিরান বলল, “ তোমরা সানসেট দেখো, আমি আজ বহুবছর পর লাভসেট দেখবো। “

ইনশাআল্লাহ চলবে…

দেরিতে দেওয়ার জন্য সরি পাখিরা। পরীক্ষা ছিলো।

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply