প্রণয়ের_মায়াতৃষ্ণা ||৩৫||
ফারজানারহমানসেতু
সেদিন রাতেই বাড়িতে ফিরে এসে সবাই যেন অস্থির হয়ে পড়েছিলো। তূর্জানকেও অনেক কথা শুনিয়েছে মোস্তফা নেওয়াজ। একদিন তার মেয়েকে রেখে গেছেন তাই খেয়াল রাখতে পারেননি। আর সারাজীবন কিভাবে রাখবে? আরো অনেক কথা, কিন্তু তূর্জান কোনো উত্তর দেয়নি। প্রতিক্রিয়াও দেখায়নি। তাজারুল নেওয়াজ তো তূর্জানের সাথে তেমন কোনো কথাই বলেনি। হয়তো দুপুরে তার মিটিং ক্যানসেল করা নিয়ে । তূর্জানকে দায়িত্ব দিয়েছিলো বলেই রাতে ফিরেছেন সবাই। নয়তো মিটিংয়ের জন্য আগে ফিরতেন।
মানে এখন সব দোষ তূর্জানের। রেহেনা নেওয়াজ, রাহেলা নেওয়াজ আর তানিয়া নেওয়াজ এই সাতদিনে রোজাকে সুস্থ করে ছেড়েছে। রোজা আজ তিনদিন ভালো। তবে এই তিনদিনের মধ্যে তূর্জান আগ বাড়িয়ে কোনো কথা বলেনি রোজার সাথে। রোজা কিছু বললে, হ্যাঁ, হু বলেই উত্তর দেয় বেশি। রোজা ভেবেছে হয়তো বাড়ির সবাই রোজার অসুস্থতার জন্য তূর্জানকে রাগ করেছে, এখন সেই রাগ নিয়ে তূর্জান কথা বলছে না রোজার সাথে। আজ দুইদিন সুস্থ হয়েছে, কালকে আরাজের বার্থডে উপলক্ষে রাফেজ বাড়ি ফিরছে।
আজ বাড়ির সবাই ব্যাস্ত বললেই চলে আরাজের বার্থডে সেলিব্রেশন করার কাজে। ডেকেরেশনও শেষের দিকে। সবাই ব্যাস্ত শুধু রোজাকে বসিয়ে রেখেছে কিচ্ছু করতে দিচ্ছে না। প্রত্যেকবার রোজাই এসবে আগে থাকে অথচ এবার তাকে কিছু ছুতে পর্যন্ত দিচ্ছে না। রেহেনা নেওয়াজ এসে একবার জোর করে এটাওটা খাইয়ে দিয়ে যাচ্ছে, তো তানিয়া নেওয়াজ এসে কেমন লাগছে? কি খেতে মন চাচ্ছে, সেইসব জিজ্ঞাসা করছে। সাথে রাহেলা নেওয়াজ তো সুযোগ পেলেই রোজাকে ফাসিয়ে দিয়ে, দুনিয়ার যা ফ্রুটস আছে তা খেতে দিতে বলছে, দুই গিন্নি এসে মুখে পুরে দিয়ে গেলাচ্ছে।
আর তাজারুল নেওয়াজ আর মোস্তফা নেওয়াজ তো বাইরে গেলেই জিজ্ঞেস করে কি লাগবে? কিছু আনতে হবে কি-না?
এসব ভেবে রোজা সোফা থেকে উঠে একটা ফুলের ঝুড়ি ধরতেই রাফেজ বলল, “ রোজা!”
“ হুমম, ভাইয়া। কিছু বলবা? “
“ তূর্জান কে একটু ডেকে দিবে? না মানে এখনো ঘুম থেকে উঠেনি। “
রোজা বেশ অবাকই হলো। সকালে ওঠা মানুষ এখনো ঘুমাচ্ছে। না মানে আবার অসুস্থ না কি? রোজা দোমনা নিয়ে বলল, “ ভাইয়া উনি কি অসুস্থ? না মানে এত দেরিতে তো ওঠে না। “
“ জানিনা! সেই জন্যই তো তোমাকে বলছি একটু ডেকে দাও। “
বলেই সে অন্য দিকে চলে গেল। রোজা আরও কিছু জিজ্ঞাসা করার আগেই কাজে ব্যাস্ত হয়ে গেল। রোজাও কথা বলবে না। হুহহ! রোজা কি কিছু বলেছে? বলেছে যে আমার অসুস্থতার জন্য আপনি দায়ি। বলেনি তো। রোজা হয়তো ভালো থাকলে তূর্জান কে দোষ দিতে দিত না। বলে দিত সবাইকে তূর্জান ভাই আমাকে নিষেধ করেছিল আমিই জোর করে ভিজেছিলাম।কিন্তু সে নিজেই আজকে তুবার থেকে শুনেছে। তুবাকে জিজ্ঞেস করেছিল রোজা, “ হঠাৎ তূর্জান ভাই আমার সাথে কথা বলছে না কেন?”
তুবা সবটা খুলে বলল। রোজা সরিও বলতে চেয়েছে, কিন্তু তার তো সকাল থেকে দেখাই নাই। রোজা ভেবেছে হয়তো কোনো কাজে বাইরে গেছে। কিন্তু না, এখন শুনছে সে ঘুম থেকে ওঠেনি। কিন্তু সে তো কিছুতেই কথা বলবে না। অন্যের করা রাগের জন্য তার সাথে কথা বলছে না, সেও বলবে না।
এদিকে তুবার সাথে আরেক কান্ড ঘটে গেছে। একেতো সে নিজের মন হারানো ব্যক্তিকে এখনো খুজেই পেল না। আবার তাজারূল নেওয়াজ বলেছেন আজকের পার্টিতে নাকি তার কোনো বন্ধু আর বন্ধুর ছেলে আসবে। তার বন্ধুর ছেলের জন্য তুবাকে ভীষণ পছন্দ। আজকে পার্টিতে আসবেই যেহেতু সেহেতু তুবাকে একেবারে দেখে যাবে। তাজারুল নেওয়াজ প্রথমে সম্মতি না দিলেও তুবাকে জিজ্ঞাসা করেছিল, তার কাউকে পছন্দ আছে না -কি? তবে তুবা কি বলতো? যাকে চেনেই না! যে হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে গেলো। তার কথা পরিবারকে কিভাবে বলতো? হয়তো অচেনা লোককে চিনলে, বা তার সম্পর্কে কিছুটা জানলে সে পরিবারকে বলতো, তার পছন্দ আছে। কিন্তু সে তার সম্পর্কে কিছুই অবগত না। যদিও রোজা বলেছিলো তুবাকে, সবটা তূর্জান বা মিরানকে জানাতে। কিন্তু তুবা ভয়েই কাউকে কিছু বলেনি। আর রোজাকেও বলতে দেয়নি। তুবা যেহেতু চুপ ছিল, তাই তার চুপ থাকাকেই সবাই ধরে নিয়েছে পরিবারের পছন্দই তার পছন্দ। তাই তাজারুল নেওয়াজ ও তার বন্ধুকে হ্যাঁ বলেছেন।
“পৃথিবীর বুকে এই নিশ্চুপতার জন্যই মানুষ তার প্রিয় মানুষকে হারায়। পরে হারিয়ে সারাজীবন আফসোস নিয়ে বেচে থাকে। মানুষ আফসোস নিয়ে বেচে থাকে, কিন্তু এতটুকু সাহস পায় না, প্রিয় মানুষকে নিজের বলে দাবি করতে।”
তুবার এই নিয়ে মন আরো খারাপ। সকাল থেকে নিচেই আসেনি। একটু আগে রাফিয়া ডেকে নিয়ে এসেছে। তাই দোমনা নিয়ে তুবাকে ডেকে বললো, “ তুবা রাফেজ ভাইয়া তোর ভাইকে ডেকে আনতে বলল। গিয়ে ডেকে নিয়ে আয়। “
তুবার মন খারাপ স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে রোজা। তুবা ভ্রু কুচকে বলল, “ এমনি সময় তূর্জান ভাই, তূর্জান ভাই করে মুখে ফেনা তুলিস। এখন কি হলো? আমার ভাই হয়ে গেলো। “
“ কিছু না। ডেকে নিয়ে আয়। “
তুবার হাতে আগেই ফুলের ঝুড়ি ছিল। রাফেজ ডাকতেই বলল, “ ভাইয়া আমাকে ডাকছে। তুই গিয়ে ডেকে নিয়ে আয়। আর আমার ভালো লাগছে না।“
বলেই চলে গেল। রোজা যাবে না মানে, যাবে না। মিরানকে ডাকার আগেই সে উল্টো ঘুরে চলে গেল। যেন সামনে রোজা তা দেখতেই পাচ্ছে না। রাফিয়া তো আরাজ কে নিয়ে ব্যাস্ত। ধূর ভালো লাগছে না। সবাই ব্যাস্ত মানে, রোজাকেই যেতে হবে। রোজা দোমনা নিয়ে সিড়ি বেয়ে তূর্জানের রুমের সামনে গিয়ে থামল। দরজা দেখে মনে হলো খোলাই আছে। তবে নক করাই শ্রেয়। কয়েকবার নক করার পরও ভেতর থেকে কোনো শব্দ এলো না। রোজা অবাক হলো বটে। তবে পরক্ষনেই ভাবলো হয়তো বেলকনিতে। তাই ভিড়িয়ে রাখা দরজা ঠেলে ভিতরে ঢুকল।
ঘরটা অদ্ভুত নীরব। পর্দা টানা, হালকা অন্ধকার। রোজা দরজাটা ভেতর থেকে আলতো করে ঠেলে বন্ধ করল। ঘরের নীরবতা যেন আরও গভীর হয়ে উঠল, যাকে নীষক কালো তিমির বলা চলে । রুমে গিয়ে আগে পর্দা সরালো, এতক্ষনে আধারে পরিপূর্ণ রুম যেন, একটু আলো পেয়ে তৃষ্ণান্ত মিটিয়েছে।
পর্দা সরাতেই পর্দার ফাঁক দিয়ে গলে আসা আলোটা সরাসরি এসে তূর্জানের মুখে পড়েছে। তূর্জান চোখ মুখ কুচকে নিলো মুখে আলো পড়ায়। বেডের দিকে তাকাতেই দেখল,তূর্জান গভীর ঘুমে। তূর্জানকে দেখে মনে হচ্ছে অদ্ভুত,শান্ত, নিস্তব্ধ, যেন জীবনেও রাগেনি।
কিছুটা অস্বাভাবিক লাগল তার। এত গভীর ঘুম কেন ঘুমাচ্ছে ? রোজা ডাকলো বেশ কয়েকবার, কিন্তু এত ডেকেও উঠলো না?
রোজা একটু এগিয়ে গেল। বুকের ভেতরটা কেমন যেন কাঁপছে। ধীরে ধীরে বেডের পাশে গিয়ে দাঁড়াল। নিচু গলায় ডাকল,“তূর্জান ভাই…?”
নাহ কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। বেডের পাশে বসে পড়ল রোজা । একটু ঝুঁকে খুব আস্তে বলল, “তূর্জান ভাই… উঠবেন না ?”
রোজার বুকটা কেমন করে উঠল। এত ডাকার পরও না ওঠা।তাও তূর্জানের দ্বারা,এটা অসম্ভব! রোজা এবার হাত বাড়িয়ে তার কপালে ছোঁয়া দিল। শরীর ঠান্ডা না, জ্বরও নেই, কিন্তু ঘুমটা অস্বাভাবিক গভীর কেন? কোনো সাড়া নেই।
আরও একটু ঝুঁকে এল সে। হাত বাড়িয়ে কাঁধে আলতো ছোঁয়া দিতেই, হঠাৎই তূর্জান নড়ে উঠল।
পরক্ষণেই কিছু বুঝে ওঠার আগেই তূর্জান ঘুমের ঘোরেই, নিজের হাত দিয়ে শক্ত করে চেপে ধরল রোজার কবজি। রোজা চমকে উঠল, কিছু বুঝে ওঠার আগেই হাত ধরে টেনে নিল নিজের দিকে। এক টানে রোজা তার বুকের উপর এসে পড়ল।
“আহ্—!”
রোজার নিঃশ্বাস যেন আটকে গেল। চোখ বড় বড় হয়ে গেল তার। তূর্জানের বুকের ধুকপুকানি স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে। গরম নিঃশ্বাস আছড়ে পড়ছে রোজার কপালে। তার একটা হাত শক্ত করে জড়িয়ে আছে রোজার কোমরে, আরেকটা হাত এখনো আবদ্ধ করে রেখেছে রোজার হাত।
“তূ… তূর্জান ভাই… ছাড়ুন…”
কিন্তু তূর্জান যেন শুনছেই না। ঘুমে এতটা উন্মাদ,
ঘুমের ঘোরেই, আধো জাগ্রত অবস্থায়
কণ্ঠে ক্লান্তি, অথচ অদ্ভুত একটা অধিকারও মিশিয়ে খুব আস্তে বলল,“ চুপ… নড়ো না। বিরক্ত করছো কেন? আমি শান্তি পাচ্ছি না।”
“তূ… তূর্জান ভাই !ছাড়ুন… কেউ দেখে ফেলবে। কি ভাববে?”
চোখ না খুলেই বলল তূর্জান,“ হুশশ! কেউ আসবে না। আমাকে ঘুমাতে দাও। আমি একটু শান্তিতে ঘুমাতে চাই। বউ থেকে যাও না……”
এই কথাটা শুনে রোজার বুকটা ধক করে উঠল। কণ্ঠটা এত অসহায়,এত ক্লান্ত, রোজা থেমে গেল।
ধীরে ধীরে মাথা তুলে তাকাল তার দিকে। তূর্জানের চোখ বন্ধ, মুখে অদ্ভুত শান্তি… অথচ সেই শান্তির ভেতরেও যেন ক্লান্তির ছাপ।
রোজার রাগ, অভিমান,সব যেন একটু একটু করে গলে গেল। হাসিও পেল ভীষণ, কেন জানা নেই। তবে এই লোক যে বউয়ের জন্য পাগল তা বুঝতে বাকি নেই। রোজা ফোন আনেনি, ফোন আনলে ভিডিও করে রাখতো! বিয়ের আগেই বউ নিয়ে স্বপ্ন দেখে এই লোক। তবে সারাদিন খ্যাচখ্যাচ করে, এখন শান্ত হয়ে আছে একটু জ্বালানোই যায়।
রোজা মৃদু গলায় বলল,“আমি তো কোথাও যাচ্ছি না। ”
তবুও ছাড়ানোর চেষ্টা করতেই তূর্জান আরও একটু শক্ত করে জড়িয়ে ধরল তাকে। যেন ভয় পাচ্ছে, ছেড়ে দিলে হারিয়ে যাবে। রোজা এবার একটু জোর করেই ছাড়ানোর চেষ্টা করল। কিন্তু তূর্জান আরও শক্ত করে টেনে নিল তাকে নিজের দিকে। রোজার গলার কাছে মুখ রেখে ফিসফিস করল, “ বউপাখি, একটু থাকো… প্লিজ। একটু ঘুমাবো, বিশ্বাস করো একটু.. বহুবছরের ঘুমতৃষ্ণার্থ আমি। প্লিজ একটু শান্তি তে ঘুমাতে দেও।”
এই “প্লিজ” শব্দটা যেন রোজার সব রাগ, অভিমান আবারও গলিয়ে দিল।
রোজা এবার আর জোর করল না। শুধু নিঃশব্দে শুয়ে রইল তার বুকের ওপর, কানের কাছে তূর্জানের হৃদস্পন্দন। তার হাতটা ধীরে ধীরে উঠিয়ে রাখল তূর্জানের বুকের ওপর। অনুভব করল, হৃদস্পন্দনটা অস্বাভাবিক দ্রুত। তার নিজেরও যেন অদ্ভুত শান্তি লাগছে। খুব আস্তে জিজ্ঞেস করল রোজা,“এভাবে কেন ধরেছেন?”
“ কারণ ভয় পাচ্ছি। “
“কি ভয় আপনার ?”
“তুমি দূরে চলে যাবে…”
এই কথাটা শুনে রোজার চোখ বড় হয়ে গেল।তূর্জান আবার গোপনে বিয়ে করে রাখেনি তো। তাকে নিয়ে এভাবে বলছে। হয়তো বিয়ে করে রেখেছে, তাইতো কথায় কথায় বউ বলে ফেলে। তবে তা তো বাড়ির সবাইকে জানাতে হবে। ছ্যাহ, দাওয়াত না দিয়েই বিয়ে করে ফেলল তূর্জান, তবে খতিয়ে দেখতে হচ্ছে বিষয়টা। তা ভেবেই আবার বলল,“আমি তো কোথাও যাচ্ছি না, এই দেখুন আপনার কাছেই আছি। একদম…”
তারপর বুকে অবস্থান করা হৃদপিন্ড দেখিয়ে বলল, “ এই যে এখানে। “
“সবাই তো তোমার হয়ে কথা বলে। কিন্তু তুমি কিছু বলো না,আমি দোষী হয়ে যাই… আমি তো তোমার খারাপ চাইনা, আমি জীবন দিয়ে বাচাতে চাই তোমাকে, বিশ্বাস কর বউ।”
রোজার বুকটা মোচড় দিয়ে উঠল। আসলেই ড্রাংক হয়ে আছে মনে হচ্ছে। সব কথা একেবারে বলছে। কখনো রোজার কথা কখনো বউ না কি আছে তার কথা। তবে এবার রোজার বেশ গিল্টি ফিল হলো, তার জন্য তূর্জান কষ্ট পেয়েছে।
“আমি… আমি তো শুনিনি তূর্জান ভাই সবাই কি বলেছে। আজকে শুনেছি, বিশ্বাস করুন সবাইকে বলেছি, আপনি আমাকে নিষেধ করেছিলেন, আমিই শুনিনি।”
“ওরা সবাই আমাকে ইররেসপনসিবিলিটি বলেছে। আমি নাকি তোমার দায়িত্ব নেওয়ার যোগ্য না।”
একটা অদ্ভুত নীরবতা নেমে এলো দুজনের মাঝে। তার দায়িত্ব নিতে পারবে না মানে? পরক্ষনেই রোজা ভাবল, হয়তো, তার দায়িত্ব দিয়েছিলো তূর্জানকে সেটাই বলছে। রোজা ধীরে ধীরে বলল,“সরি…”
কিন্তু হঠাৎই মনে পড়ল, সবাই তো নিচে অপেক্ষা করছে! হঠাৎই নিচ থেকে কারো ডাক ভেসে এলো,, “রোজা! তূর্জান! কোথায় তোমরা?দেখ কে এসেছে!”
রোজা ধীরে ধীরে বলল, “তূর্জান ভাই। উঠতে হবে ছাড়ুন,,সবাই ডাকছে।”
তূর্জান একটু নড়ল। ভ্রু কুঁচকালো, যেন শব্দটা কানে গেছে। ধীরে ধীরে চোখ খুলল।
চোখ খুলেই প্রথমে কিছু বুঝতে পারল না। তারপর যখন দেখল,রোজা তার বুকের উপর… তার হাতের বাধনে আবদ্ধ চোখ দুটো এক মুহূর্তে স্থির হয়ে গেল। দুজনের চোখে চোখ… সময় যেন থেমে আছে। রোজা চমকে উঠল। তাড়াতাড়ি উঠে বলল, “শেষ! সবাই খুঁজছে!”
“রোজা তুই এখানে? আমার রুমে কেন …?”
রোজা লজ্জায় লাল হয়ে গেল। তাড়াতাড়ি উঠে বসতে গিয়েও থেমে গেল কারণ তূর্জানের হাতে এখনো আবদ্ধ। তারপর রোজা মুখ ফিরিয়ে আস্তে বলল, “ছাড়ুন… সবাই ডাকছে আপনাকে…”
তূর্জান ধীরে ধীরে হাত সরিয়ে দুহাতে মাথা চেপে ধরল। মাথা কেমন ঝিম ধরে আছে, ঘুমের রেশ কাটেনি ভালো করে। কালকে রাতে মিরান আর রাফেজের সাথে শুধু এককাপ কফি খেয়েছিলো, পরে মাথা ঝিম ধরায় রুমে এসে ঘুমিয়ে পড়েছিলো।এসব ভাবনার মাঝেও তার চোখ এখনও রোজার দিকেই। তূর্জান ধীরে ধীরে উঠে বসে বলল, “ ডাকছে তো যা… না হলে সবাই আবার আমাকেই দোষ দিবে।”
রোজা দরজার দিকে গিয়ে থামল। একবার ফিরে তাকিয়ে বলল, “ আপনি কি পারফিউম ইউস করেন তূর্জান ভাই ?”
“তোকে কেন বলবো, হোয়াই? “
“বললে কি হবে?
“অনেক কিছু হবে!”
“বলুন না!”
“Roja Perfums Haute Luax . কেন?“
“ না আপনার চয়েস ভালো আছে ।পারফিউমের গন্ধটা যাস্ট ওয়াও। “
একটু থেমে আবার বলল,, “ আপনি যাবেন না নিচে ? না মানে সবাই আপনাকেও ডেকেছে।”
“ কে ডেকেছে? “
রোজা উত্তর দিল না। শুধু যাওয়ার সময় পিছনে না ফিরেই বলল,“নিচে আসেন তাড়াতাড়ি , সবাই অপেক্ষা করছে।”
নিচে আসতেই দেখল, মিরান আর রাফেজ একসাথে দাঁড়িয়ে হাসছে। আর কিছু কথা বলছে। রোজাকে দেখেই বলল, “ কি রে বনু? ভাইয়া উঠেছে? “
“ হুমম!উঠেছে। “
“ তোকে কিছু বলেছে? “
রোজাকে যেইসব আবল তাবল বলেছে তা এখন বললে নিশ্চয় রোজা তূর্জানের দুজনেরই মান সম্মান শেষ। রোজাও তো আবল তাবল বকে এসেছে। তাই মাথা নেড়ে বলল, “ না। “
না বলতেই অবাক হয়ে রাফিয়া বললো, “মানে কিছুই বলেনি? “
“ না,কি বলবে? কিছু বলতে চেয়েছিলো। “
“ নাহ! এমনি বললাম। “
তারপর রোজাকে নিয়ে একটু দূরে গিয়ে বললো, “ তোর গা থেকে ভাইয়ার পারফিউমের গন্ধ আসছে কেন? “
রোজা সত্যিই ঘাড় নিচু করে শুকলো। সত্যিই তো তূর্জানের শরীরের ঘাম আর পারফিউমের গন্ধ মিশে একাকার রোজার গায়ে। ইশ! কি লজ্জা? ওই হিটলার ওভাবে টান দিয়ে বুকে না ফেললেই তো। আর ওমন কথা না বললেই রোজা তখন ওখানে থাকতো না। আর র এখন এই পরিস্থিতিতে পড়তে হতো না।
রোজাকে চুপ থাকতে দেখে রাফিয়া বলল,” আচ্ছা আর লজ্জা পাস না, বললেই হয় তুই ভাইয়ার রুমে গিয়েছিলি, তাই পারফিউমের গন্ধ তোর গায়ে জড়িয়ে আছে। যা শাওয়ার নিয়ে রেডি হয়ে আয়, একটু পর পার্টি শুর হবে। তুবাকেও বলিস শাওয়ার নিয়ে রেডি হয়ে আসতে। “
রোজা তাদের কথা মতো নিজের রুমে চলে গেল। তবে যেতে যেতে বারবার নাসারন্ধ দাড়া ওই তীব্র গন্ধ শুকে নিয়ে কিছু একটা অনুভব করল।
রোজা চোখের অগোচর হতেই, মিরান বলল, “ আমি ওই ফার্মাসিস্ট কে দেখে নিবো। বলল, একশো পার্সেন্ট কাজ হবে,ঘুমে মাতাল তো হবেই। এখন কি হলো, কিছুই হয়নি, কিছু বলেওনি । আমার টাকা ওয়েস্ট হয়েছে তাছাড়া কিছু হয়নি। মানে তূর্জান নেওয়াজকে মাতাল করার ওষুধ তৈরী হয়নি।“
রাফিয়া পাশ দিয়ে যেতে যেতে বলল, “ ওষুধের প্রভাবে সব হয়েছে , আই মিন, ভাইয়া কিছু তো রোজাকে বলেছে। বেশি কিছু না হলেও কিছু একটা বলেছেই! আ’ম সিওর। “
ইনশাআল্লাহ চলমান….
আমার পেইজ লিংক Farzana Rahman Setu
Share On:
TAGS: প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা, ফারজানা রহমান সেতু
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ১৩
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ৩
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ২২
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ১৫
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ৫
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ২৬
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ১৬
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ৬
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ২৭
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ৮