Golpo romantic golpo প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা

প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ৩৩


প্রণয়ের_মায়াতৃষ্ণা ||৩৩||

ফারজানারহমানসেতু

চারিদিকে বৃষ্টির ঝুম শব্দ ভেজার আরো ইচ্ছে কে বাড়িয়ে দিচ্ছে। যেমনি বৃষ্টি থামার নাম নেই।তেমনি রোজা হাত ছড়িয়ে ভিজে যাচ্ছে। রোজার পিছনে কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়ে দাড়িয়ে আছে তূর্জান। সময় যেন থমকে গেছে। চারপাশে শুধু ঝুম বৃষ্টির শব্দ… আর তাদের দুজনের নিঃশ্বাস। রোজা যেন বাচ্চাদের মতো বৃষ্টি উপভোগ করছে। ছাদে জমে থাকা পানিতে পা ডুবিয়ে হাটছে। তূর্জান তাকিয়ে আছে ওর দিকে… গভীর, স্থির দৃষ্টিতে। তূর্জান রোজার দিকে তাকিয়ে বলল, “আর কতক্ষণ থাকবি? এবার জ্বর আসবে কিন্তু!”

রোজা আকাশের দিকে তাকিয়ে বলল,“ আর একটু থাকি। ভিজে তো গেছিই জ্বর আসলে এমনিতেই আসবে, আর ভিজলে কিছু হবে না।

“তাহলে সারারাতই এখানে ভিজতে থাক।”

“থাকবো।”

তূর্জান একটু হেসে মাথা নাড়ল, হঠাৎ কি ভেবে
রোজার ছড়িয়ে রাখা হাত নিজের হাতে আবদ্ধ করলো। একটানে নিজের দিকে করে করে তূর্জান ঘোরলাগা কণ্ঠে বলল, “ সারারাত বৃষ্টিতে ভিজবি। তারপর জ্বর হলে?”

“আপনাকে আমার ভয় করছে! এমন কেন করছেন ?”

এই এক কথায় তূর্জান থেমে গেল। বউ তার আজ সারাদিন এই এককথা বলছে, আপনাকে আমার ভয় করছে। সে কি বাঘ না ভাল্লুক হয়ে গেছে। আচ্ছা সে কেমন করছে? বৃষ্টি মাথায় করে সামনে বউ রেখে চুপ করে দাড়িয়ে থাকবে না কি? এর চেয়ে ছোট রোজাই ভালো ছিলো অনন্ত নিজে থেকে সামনে, পিছনে, আশেপাশে ঘুরঘুর করতো।

আচমকাই বজ্রপাতের শব্দের কারণে রোজা চমকে উঠল। হঠাৎ আসা বজ্রপাতের আলোয় রোজার চোখেমুখে আলোর ছিটা পড়ল। রোজা অজান্তেই তূর্জানের দিকে এগিয়ে এসেছে। তূর্জানের দিকে হঠাৎ এগিয়ে আসায় রোজার মুখ তূর্জানের বুকের কাছে গিয়ে ঠেকল। মাতাল করা পারফিউম আর তূর্জানের হৃদযন্ত্রের তীব্র হার্টবিট সে শুনতে পাচ্ছে।

তূর্জান দুহাত দ্বারা নিজের বাহুডোরে আবদ্ধ করে কোমড়ে হাত রাখল রোজার । একেতো বৃষ্টির ঠান্ডা পানি, আরেক তূর্জানের এভাবে কোমড়ে হাত রাখা। রোজার ভয়েই গোলাপি ঠোঁট তিরতির করে কাপতে লাগলো। অজানা ভয়ে চোখ বন্ধ করল। তূর্জান হালকা হেসে উঠল। তবে রোজার তা দেখার ভাগ্য হলো না। রোজা কোমড়ে রাখা হাত দুটো তূর্জানের থেকে ছাড়ানোর জন্য ছটফটে উঠল। তবে হাতের বাধন ঢিলে হওয়ার চেয়ে মনে হচ্ছে শক্ত হচ্ছে। বৃষ্টি আরও জোরে পড়তে লাগল। হঠাৎ তূর্জান রোজার ভেজা চুলের খোপা ছেড়ে দিল। চুলগুলো যেন ছাড়া পেয়েই অবাধ্যের ন্যায় পিঠ ছড়িয়ে কোমড়ের নিচ পর্যন্ত লেপ্টে গেলো ।

মুখে লেপ্টে থাকা চুলগুলো কানের পাশে গুজে দিয়ে লম্বা কেশরাশী দুভাগ করে সামনে ছড়িয়ে দিল। যদিও রোজার গায়ে ওড়না বৃষ্টির পানিতে ভিজে শরীরের সাথে লেপ্টে আছে । তূর্জানের আঙুলের স্পর্শে কেঁপে উঠল রোজা। তবে আসল ঘটনা বুঝতে পেরে তূর্জানের হাত থেকে ছোটার জন্য মরিয়া হলো উঠল। ইশ! কি লজ্জা? তূর্জান ছাড়ল না। বরং মোহ লাগা কণ্ঠে আওড়াল, “এভাবে ভিজতে থাকলে ঠান্ডা লাগবে ম্যাডাম। তখন দায়ভার কে নিবে? হু?”

“আপনিও তো এখানে আছেন। আপনার ঠান্ডা লাগবে না?”

তূর্জানের চোখে এবার অন্যরকম কিছু জ্বলে উঠল। সে হালকা ঝুঁকে এল।ফলস্বরূপ দুজনের ঠোঁটের মধ্যে অল্প দুরুত্ব থাকল। সেই কণ্ঠ,
“ আপনি দেখছি আমাকে নিয়ে খুব সিরিয়াস হয়ে গেছেন। তা হঠাৎ আমার চিন্তা ?”

রোজা কিছু বলল না শুধু তাকিয়ে রইলো। কিইবা বলবে? রোজা কেনই বা তূর্জানের চিন্তা করতে গেল। কিছুক্ষণের জন্য দুজনই চুপ করে দাড়িয়ে রইলো। তারপর রোজা বুঝে ওঠার আগেই তূর্জান রোজাকে কোলে তুলে নিল।“এই! এইই কি করছেন? “

“ আপনার বাবার কথায় ভিআইপি ট্রিটমেন্ট চলছে ম্যাডাম আপনার। তা ঠান্ডা লাগবে তখন কি করবেন? তখন বৃষ্টিবিলাসের জন্য আপনার বাবা আমাকে দোষ দিবে। আমি এসব দোষ ঘাড়ে নিতে পারবো না।”

“নামান! রুমে যাচ্ছি। আমি হাঁটতে পারি!”

“ সিড়িতে পানি পড়েছে। যদি পড়ে যান? “

“ আপনি যদি আমাকে নিয়ে হাটতে গিয়ে পড়ে যান? তখন দুজনেরই কোমড় ভাঙবে।”

“ উহু! পড়বো না। আপনি আমার আমানত, আপনাকে জীবন দিয়ে হলেও আগলে রাখবো। “

রোজা হয়তো ভাবলো তূর্জানের কাছে তার বাবা একদিনের জন্য রেখে গেছে। তাই এই কথা বলছে। কিন্তু বোকাহরিনী এটা বুঝল না, তূর্জান সারাজীবনের কথা বলেছে। সেই নয়বছর বয়স থেকে তূর্জানের কাছে রোজা আমানত।

“এভাবে হুটহাট কাছে আসছেন কেন? আর কোলেই বা নিচ্ছেন কেন? আমি কি ছোট মানুষ যে এভাবে ট্রিট করছেন?”

তূর্জান কোনো উত্তর দিল না রুমে ঢুকেই রোজাকে সোফায় বসিয়ে দিল। দুজনেই ভিজে জবজবে।। নিজে তোয়ালে এনে রোজার মাথায় ধরে বলল,“চুপ করে বস…”

“আমি নিজেই পা….”

“চুপ থাকতে পারিস না? সারাদিন বকবক করতেই থাকিস ।”

রোজা চুপ করে গেল। তূর্জান নিজের হাতে ওর চুল মুছতে লাগল। নিজে আগে রোজার রুম থেকে রোজার কাপড় নিয়ে এসে ফ্রেশ হয়ে নিতে বলল। রোজা তূর্জানের কথা মতো গিয়ে কাপড় চেঞ্জ করে এলো। তারপর রোজাকে পড়তে বসতে বলে নিজেও ওয়াশরুমে গেল। ঘড়ির কাটায় তখন দশটার কাছকাছি সময় চলমান। তূর্জানের হঠাৎ করা এইসব দৃশ্য… রোজার কাছে একদম নতুন। একটা মানুষ কাজিনকে এতটা কেয়ার করতে পারে? হয়তো তূর্জানকে নাদেখলে রোজা জানতই না।

তার চোখ ধীরে ধীরে নরম হয়ে এল। পড়ার টেবিলে বসে বইয়ের উপর মাথা রেখেই হাজার জল্পনা কল্পনা করতে থাকল।


সকাল সাতটা বেজে পনেরো মিনিটে রোজার ঘুম ভাঙলো। উঠতেই খেয়াল হলো সে তূর্জানের রুমে। অবাক করা বিষয় হলো তার গায়ের কাপড় আজ একটুও এলোমেলো হয়নি। যেখানে প্রতিদিন সে এলোমেলো হয়ে ঘুমিয়ে থাকে। তুবা রাগ দেখায় সেখানে আজ সে পরিপাটি হয়ে ঘুমিয়ে ছিল। তবে আশেপাশে চোখ বুলিয়ে তূর্জানকে দেখতে না পেয়ে কেমন অদ্ভুত অনুভূতি হলো। রোজা নিশ্চই ঘুমিয়ে গেছিলো, আর তূর্জানের বেডে রোজাকে শুইয়ে দিয়ে তূর্জান নিজের রুম থেকে বের হয়ে গেছে ।” এইইই একমিনিট রোজাকে বেডে আনলো কে? সে তো
পড়ার টেবিলে ছিল রাতে। তাহলে কি… আর ভাবতে পারল না রোজা।

তবে রোজার জন্য তূর্জান আজ হয়তো ঘুমাতে পারেনি। বা সোফায় ঘুমিয়েছে। এখন অতকিছু ভাবার সময় নেই। নিজের রুমে যাওয়ার জন্য পা বাড়াল।রুমে গিয়ে দেখল তুবা আগেই উঠে গেছে। মনটা এখনো খারাপ তবে আগের থেকে মনে হচ্ছে একটু ভালো। রোজা পুরোনো কথা বলে আর তুবার কষ্টটাকে ঘাটতে চাইলো না।

রোজা আর তুবা ফ্রেশ হয়ে নিচে নামতেই দেখল তূর্জান সোফায় বসে ফোন স্কল করছে। মনে হচ্ছে ফোনে ডুবে আছে। চারিদিকে কিছু নেই হাতের ফোন ছাড়া। অথচ রোজা একটু ফোন ধরলেই ধমকায় পড়তে বসার জন্য। হঠাৎ ফোনে বলতে শুনল, তূর্জান কাল অনেক রাত জেগেছে তাই চোখ এমন হয়ে আছে। হয়তো কোনো ফ্রেন্ড বা অন্য কেউ। অসহ্য লোক! তবে কিছু বললো না দুজন।

কিচেনে পা বাড়াল, ক্ষুধা লেগেছে। কিছু বানিয়ে খেতে হবে। তবে কিচেনে যাওয়ার আগেই দরজার কলিং বেল বেজে উঠল। রোজা ভেবেছে বাড়িতে সবাই ফিরে এসেছে। ভাবতেই দৌড়ে গিয়ে দরজা খুলল। কিন্তু হতাশ হলো, একজন ডেলিভারি বয়কে দেখে। ডেলিভারি বয় নিজের দায়িত্ব অনুযায়ী খাবার ডেলিভারি করে চলে গেল। তবে খাবার রোজার হাতে দেওয়ার সময় যে ডেলিভারি বয়ের হাতের টাস রোজার হাতে লেগেছে তা সোফায় বসা লোকের চোখ এড়ায়নি। তূ্র্জান উঠে দাড়াল, তারপর রোজার কাছে গিয়ে তার থেকে সব খাবার নিয়ে তুবার হাতে দিয়ে দিল, “ তুই খাবার রেডি কর আমি আসছি। “

বলেই রোজার হাত ধরে টেনে উপরের তলায় উঠতে লাগলো। তবে রোজা কিছু বলার আগেই তূর্জান রোজার হাত ধরে ওয়াশরুমে নিয়ে গেল। রোজা বলে উঠল,

~~“আরে কি.. কি করছেন,পড়ে যাবো।”

তবে তূর্জান উত্তর দেওয়ার প্রয়োজনবোধ করল না। রোজাকে টেনে নিয়ে গেলো ওয়াশরুমে। গিয়ে সোজা লাক্সারী রেইন শাওয়ার ছেড়ে দিতেই রোজা কিছুটা তূর্জানের দিকে এগিয়ে গেল। ফলস্বরূপ তূর্জানের বুকে মাথা ঠেকল। তূর্জানের শরীর থেকে Roja Perfums Haute Luxe পারফিউমের গন্ধ। রোজা বলল,

~~ “ সরুন তো। ভিজে গেলাম।

~~” সরেই আছি। আর ভিজে গেলি কোথায়? ভেজার জন্যই তো এখানে নিয়ে দাড় করেছি। “

~ “ মানেহহ! আরে আমি এতসকালে শাওয়ার নিব না।”

তূর্জান জোর করে রোজাকে রেইন শাওয়ারের
নিচে দাড় করালো।তূর্জানের হাতে বডিওয়াশ নিয়ে পুরোটা রোজার গায়ে ঢেলে দিল। রোজা হতবাক হয়ে দাড়িয়ে রইলো। পানি রোজার গা বেয়ে নিচে পড়তে থাকল। তবে এতক্ষন তূর্জান চুপ করে দাড়িয়ে থাকলেও রোজার দিকে তাকাতেই কেমন যেন কেপে উঠল। রোজার গায়ে পানি লেপ্টে আছে । তূর্জান সেদিকে একনজর দেখেই চোখ নামিয়ে নিল। রোজার হাত থেকে কালকের রাতে করা ব্যান্ডেজটা একটানে খুলে ফেলল। যদিও কাল রাতে বৃষ্টির জন্য সেটা নষ্ট হয়ে গেছিলো, কিন্তু রাতে আবার তূর্জান যত্নসহকারে ব্যান্ডেজ করে দিয়েছে।

পুরো বোতল বডিওয়াশ দিয়ে হাত ঘষতে থাকল। রোজা চোখ বন্ধ করে নিল। একেতো কালকের পর থেকে ভালোই জ্বলছিল। জ্বালা শেষ হয়নি এখন আবার হাতের ঘর্ষনে হাত দিগুন জ্বলছে। তূর্জান বেশ কিছুক্ষন পর হ্যান্ড শাওয়ার দিয়ে হাত ধুয়ে দিল। রোজা পানিতে ভেজার কারনে একমাপে কেপে চলছে। হয়তো জ্বর আসবে, কাল রাতে বৃষ্টিতে ভেজায় এবার নিশ্চিত আটবছর আগের মতোই জ্বরে হসপিটালে যেতে হবে।

কাপাকাপি করতে থাকলে তার কাপাতে বিপরীতে দাড়িয়ে থাকা পুরুষের হৃৎপিণ্ড দিগুন কাপছে। তূর্জান রোজাকে ছেড়ে পাশের দেয়ালে হেলান দিয়ে দাড়িয়ে বলল,

“দ্রুত শাওয়ার নিয়ে ফ্রেশ হয়ে নে।”

“ফ্রেশ হবো মানে কি? আমার গায়ে কি নোংরা লেগেছে? আমি তো ঘুম থেকে উঠে মাত্র ফ্রেশ হয়ে নিচে গেলাম। আমাকে ভিজিয়ে দিলেন, এত সকালে কেউ শাওয়ার নেয়।”

“কেউ না নিলে তুই নিবি।”

রোজাকে চুপ করে দাড়িয়ে থাকতে দেখে তূর্জান রোজার দিকে এগোতে এগোতে বলল,“শাওয়ার নিবি নাকি হেল্প করব। দ্বারা হেল্প করছি? “

রোজা তূর্জানের এগোনো দেখে বলল, “শাওয়ার নিচ্ছি, আগে আপনি এখান থেকে যান।”

তূর্জান বলল,“দুইমিনিটে শাওয়ার নিবি, কালকে রাতে ভিজেছিস, আবার এখন এভাবে বেশিক্ষন থাকলে ঠান্ডা লেগে যাবে। “

বলেই ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে রুমে এলো। রোজার আর কি করার? একে তো ভিজে গেছে এখন পুরো শাওয়ার নেওয়া ছাড়া উপায় নেই। কাপতে কাপতে শাওয়ার নিল। সাথে তূর্জানের চৌদ্দগুষ্টি উদ্ধার করল বকে বকে। রোজা বেরচ্ছে না দেখে তূর্জান ওয়াশরুমের দরজায় নক করল। তবে ভিতর থেকে কোনো শব্দ না পাওয়ায় রোজাকে ডাকল। রোজা বলল,“আমি জামা আনিনি।”

“তো, এখন কি করব? জামা নিয়ে যাসনি কেন?স্টুপিড।“

“আপনি জামা আনার সময় দিলেন কোথায়? আসামির মতো টানতে টানতে ওয়াশরুমে নিয়ে আসলেন।”

“ ঠান্ডা লেগে যাবে। “

“(…)”

“ কি হলো কথা কানে যাচ্ছে না। বোবা হয়ে গেছিস? বের হ। “

রোজা ভাবল তূর্জান রুমে গেলেই সে বাথরোব পরে রুমে গিয়ে ড্রেস পরে নেবে। “ অদ্ভুত লোক আপনি! জামা ছাড়াই বের হবো। আপনি আপনার রুমে যান।”

বলতেই তূর্জান দরজায় ফের নক করল। বলল,
“ডোর খোল। “

“মানে?”

“ ডোর খুলবি নাকি এক থাপ্পড় দিব।স্টুপিড কোথাকার? মাথায় বাজে চিন্তার বাসা নিয়ে ঘুরিস, সব চিন্তা ছুটিয়ে দিবো। “

রোজা হালকা করে দরজা খুলে উকি দিল। যদিও গায়ে বাথরোব জড়ানো। উকি দিতেই তূর্জান রোজার হাতে জামা ধরিয়ে দিয়ে বলল,

“দ্রুত বের হবি। আমার টাইম ওয়েস্ট হচ্ছে। “

“তো দাড়িয়ে থাকতে বলেছে কে? “

“থাপ্পড় দিয়ে সব দাত ফেলে দিব স্টুপিড। বড়দের সম্মান করার ম্যানার্সটুকুও নেই। সারাদিন শুধু মুখে মুখে কথা বলিস।”

একটু থেমে বিরবিরালো, “ছাহহ! তূর্জান নেওয়াজ তোর বুকের বামপাজঁরের হাড়ের কোয়ালিটি এমন ত্যাড়া। তো একটু তো সহ্য করতেই হয়। “

বলেই হাসলো। ইদানিং একাই হাসি পায় রোজার কান্ড মনে পড়লে। কিছুক্ষন পর রোজা কাপতে কাপতে মাথায় টাওয়াল পেচিয়ে ওয়াশরুম থেকে বের হলো। পরনে কালো প্লাজুসেট। বের হয়েই বেডের দিকে দৌড় লাগাল। গন্তব্য বিছানায় কাঁথা মুড়ি দিয়ে ঘুমাবে। হয়তো জ্বর আসবেই। নয়তো যেই পরিমান শীত লাগছে তাতে কাঁথার নিচে না গেলে নিশ্চিত মৃত্যু। দৌড় দিবে তার আগেই তূর্জান রোজার হাত টেনে ধরল। রোজা এসে একদম তূর্জানের বুকে পড়ল। তূর্জান রোজার কোমড় পেচিয়ে ধরল একহাতে। রোজা কিছুটা উষ্ণ অনুভব করল।

তবে শীতে হাতপা রীতিমতো কাপছে। তূর্জান রোজাকে বেডে বসিয়ে কাঁথা দিয়ে রোজাকে পেচিয়ে দিল। তারপর রোজার হাত টেনে নিয়ে নিজে জেল লাগিয়ে ব্যান্ডেজ করে দিল। তূর্জান হাত ছাড়তেই রোজা ওভাবেই শুয়ে পড়ল। তূর্জান রেগে বলল, “খাবার খেয়ে ওষুধ খেয়ে নে। জ্বর আসতে পারে!”

“আমি এখন খাবো না। “

“কেন? “

“কাল রাতে আমার ঘুম হয়নি। তাই এখন ঘুমাবো।”

“তুই কাল রাতে দশটায় ঘুমিয়েছিস। তাও বলছিস ঘুম হয়নি?”

“ এ্যাহ, আপনিই বললেন যে,কাল অনেক রাতে ঘুমিয়েছেন। “

“তো!”

“তাহলে এখন বলছেন দশটায় ঘুমিয়েছি।আমি তো পড়ছিলাম।“

“হুমম , তুই দশটায় ঘুমিয়েছিস। আর কিভাবে? না মানে স্বপ্নে পড়ছিলি?“

“ আমি নাহয় ঘুমিয়ে পরেছিলাম,আপনি তাহলে রাত জেগে কি করেছেন? “

“ অনেক বছর পর কাউকে দেখছিলাম। যে ঘুমালে তাকে কেমন লাগে।”

“আপনি একটা হিটলার, অশুদ্ধ পুরুষ।”

“কেন? আমি আবার কি করলাম?”

“আপনি অন্যের বউকে কেন দেখছিলেন। নিজ বিয়ে করে নিজের বউকে দেখতে পারেন না অশুদ্ধ পুরুষ ।”

“নিজের বউকেই তো দেখছিলাম।এখানে অশুদ্ধ হওয়ার কি আছে? “

ইনশাআল্লাহ চলমান…

হি হি লোমান্টিক (রোমান্টিক ) পর্ব কিছু পাপী পাঠকের জন্য। এই পর্ব কাল থেকে এডিট করতে করতে জীবন শেষ। খালি মনে হয় বেশি রোমান্টিক হয়ে গেছে। তাও আজ অনেক রোমান্টিক দিছি।

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply