পিদিমজ্বলারাতে. ১২ ✍️ #রেহানা_পুতুল
বাজখাঁই কণ্ঠে সবাইকে শাসিয়ে বলল তৌসিফ। নিমিষেই জাহেদ গর্জে উঠল ছেলের উপর। রুদ্রমূর্তি ধারণ করে বলল,
“গলা নামিয়ে কথা বল। তোর কথায় সব হবে না-কি ? ভাইদের পরিবারের কথা না হয় বাদ দিলাম। কিন্তু তোর দাদা,দাদি? তাদের দেখতে হবে না?”
বরাবরের মতই জাহেদের উপর তার পরিবারের বাকি উপস্থিত সদস্যরা সন্তুষ্ট হলো। তৌসিফ পিতার দিকে তাকিয়ে রাগত স্বরে বলল,
“অবশ্যই হবে। একশোবার হতে হবে। কারণ রাবেয়া আমার মা। আপনি আমার বাবা। সুতরাং মা,বাবার ভালোর জন্য যেকোনো সিদ্ধান্ত আমি নিতেই পারি। আমি তো একবারও বলি নি দাদা,দাদীকে দেখব না। নতুন ঘর করা,ভিন্ন হওয়ার মানেই কী দাদা,দাদীকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া? একদম তা নয়। বরং তারা আগের চেয়ে বেশী যত্ন পাবে আমাদের কাছ থেকে। একঘরের ভিতরে বাস করে নিজেকে আরো মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতে চান আপনি? শত্রুদের সুযোগ করে দিতে চান? ঘরের শত্রু বিভীষণ! মনে রাখবেন। আপনি অন্ধ হয়ে আছেন। তাই উচিত-অনুচিত, ভালো-মন্দ,সাদা-কালো কিছুই বুঝতে পারেন না। অন্ধের কাছে যেমন সবই একরকম লাগে। রাত যা দিনও তা। ঠিক আপনার অবস্থাও তাই। ঘরের ভিতরে মায়ের সাথে কে কীভাবে চলে, কিছুই চোখে পড়ে না আপনার। আর নিজেই তো ঠিকভাবে চলতে পারেন না স্ত্রীর সাথে। অন্যদেরগুলো কীভাবে আপনার চোখে পড়বে? তাই আপনার কাছে মনে হয় সবই ঠিক আছে।”
গড়গড় করে কথাগুলো বলল তৌসিফ। বলা শেষে আর একদণ্ড দাঁড়াল না সে কারো সামনে। দপদপ পায়ে চলে গেল আমিনদের কাছে। তানভির লুঙ্গির কোঁচা মেরে কাঁঠাল গাছে উঠে গেল। হাতের ধারালো দাখানা দিয়ে কয়েকটি মোটা শক্ত ডাল কেটে মাটিতে ফেলল। নিচে নেমে এল সে। রাবেয়া এগিয়ে গিয়ে সেই দাখানা দিয়ে ডাল হতে পাতা ছাড়িয়ে নিতে লাগল। তানভির মায়ের হাত থেকে প্রায় জোর করে কেড়ে নিল দা খানা। নিজেই সবকটি পাতা ছাড়িয়ে নিল। তৌসিফকে দেখিয়ে ডাল মাফ দিয়ে কেটে টুকরো করে নিল।
মাটির চুলায় রান্না করছে মনি ও সিমা মিলে। খুকীও আজ হাত লাগাল। রাবেয়াকে কেউই কোনো কাজের ফরমায়েস দিল না। তবুও রাবেয়া নিত্যদিনের মতই তার উপর অর্পিত কাজগুলো একে একে সেরে নিচ্ছে। দুপুরে আমিনদের রঙ চা ও টোস্ট বিস্কুট দেওয়া হলো। খেয়ে তারা আবার কাজে হাত দিলো। সলিমুল্লা, মর্জিনা,খুকী,জাবেদ,জাহেদ,তৌসিফও তানভিরের উপস্থিতিতে বাড়ির ভূমি সমান তিনভাগে ভাগ হয়ে গেল। ঘর ভিটার জায়গা নিয়ে কিছুটা বাকবিতন্ডা হলো।
অবশেষে ঠিক হলো বর্তমান ঘর ভিটা ছোট ছেলে হিসেবে জাবেদ পাবে। জামাল পূর্বেই তার বাবাকে বলে রেখেছে নিদিষ্ট স্থানের কথা। তৌসিফ তা মেনে নিল। তাদের ঘর ভিটার স্থান বুঝিয়ে দিল সলিমুল্লা। তৌসিফ ও তানভির মিলে তাদের ভিটার ও জায়গাগুলোর চারপাশের সীমানায় খুঁটি গেঁড়ে দিল মজবুত করে। এভাবে কাজ শেষ হতে বিকেল গড়িয়ে গেল। আমিন দুজন বিদায় নিল।
পরেরদিন সকালে তারা আবার এল। উঠানে চেয়ার পেতে দেওয়া হলো। সবাই গোল হয়ে বসল। বাইরের ধানের জমিগুলো বন্টন হলো সমান তিন ভাগে। তা নিয়েও যুক্তিতর্ক শুরু হলো। ফসলি জমি হলো মোটে চারটা। তিনভাই তিনটা নিল। বাড়তি যেটা তা জাবেদ নিতে চাইল। সে আবদার করে পিতাকে বলল,
“আব্বা,সবই তো সমান হলো। ছোট ছেলে হিসেবে কী আমি একটু বেশী ভাগ পেতে পারি না? এই জমি আমাকে দিন।”
তৌসিফ কিছু বলতে গিয়েও পারে নি। তার আগেই জাহেদ ঠান্ডা অথচ কঠিন স্বরে বলে উঠল,
“তুই যদি এমন আবদার করতে পারিস,তাহলে তো পরিবারের বড় ছেলে হয়ে আমিও এটা আবদার করতে পারি। খোঁটা দিচ্ছি না। মনে করিয়ে দিচ্ছি কেবল পরিবারে আমার ত্যাগের কথা।”
বোবার মুখে বোল ফোটার মতই আকস্মিক জাহেদের কথা শুনে সবাই বিস্মিত ও স্তম্ভিত! তারা স্থবির হয়ে গেল। সবাই বোকা বোকা চাহনি নিক্ষেপ করল এ ওর মুখপানে। সেটা জাহেদের নজর এড়াল না।
সে ফের বলল,
“আপনাদের আশ্চর্য হওয়াটাই অতি স্বাভাবিক। কারণ আমার চরিত্রের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী আমি এখনও চুপ থাকার কথা। কিন্তু আমার বড় ছেলের এতদিনের কার্যকলাপ ও কথাবার্তায় এতটুকু ন্যায্য কথা বলার মানসিকতা আমার ভিতরে তৈরি হয়েছে।”
তৌসিফ ও তানভির প্রীত চোখে পিতার দিকে চাইল। মর্জিনা শ্লেষ মাখা কণ্ঠে বলল,
“সবাই আমাগো সন্তান। কাউরেই আমরা ঠকামু না। চোখ সমান রাখুম। এই জমিন কাউরেই দিতে হইব না। এইটার ধান সমান তিনভাগ হইবো। এইটার খরচ সমানভাগে তিন ভাই দিব। ব্যাস।”
“দাদীর সাথে আমি সহমত।”
বলল তানভির। বাকিরাও সহমত জানাল। এবং এটাই চূড়ান্ত হলো অবশেষে। আমিন দুজন চলে গেল। মর্জিনা ও সলিমুল্লা বিদীর্ণ মনে উঠে গেল। মর্জিনার অন্তরটা কইমাছের মতো তড়পাতে লাগল। তার হাতে জোড়ানো এতটা বছরের সংসারটা ভাগ হয়ে গেল। যেখানে এক হাঁড়ির ভাত এক পাটিতে বসে সবাই খেতো। সেখানে এখন তিন হাঁড়ি হয়ে যাচ্ছে। তার বুক চিরে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এল। সলিমুল্লা উদাসের মতো আকাশপানে মুখ তুলে চাইলেন। ঋজু ভঙ্গিতে চলে গেলেন নিজের রুমে।
সাথি অভিমান করে তৌসিফের সাথে কথা বলে না। এড়িয়ে চলে। তৌসিফও আর তাকে ঘাটায় না। নিজের মতো করে গম্ভীরভাবে চলে। পরের দিন সকালে জাবেদ,তৌসিফ চলে গেল গ্রাম থেকে নিজেদের কর্মস্থলে। যাবার আগে তৌসিফ মাকে শাসনের সুরে বলল,
“উঠান ঝাড়ু দিবানা বললাম। মেরুদণ্ড, কোমর মনে হয় পুরোটাই গেছে। আমি আবার এসে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাব। তুমি না দিলে ঠিকই অন্যরা দিবে। আর না দিলে নাই। উঠান ঘর বাড়ির সৌন্দর্য কী তুমি একাই উপভোগ করো? তারা করে না? তাহলে তোমার একার দায় হবে কেন? আর ট্যাবলেটের বিষয় আমি ভুলে যাই নি। বাদও দেই নি। বাবাকে কীভাবে এই ট্যাবলেট খাওয়ানো হয়েছে এবং কেন? এর রহস্য আমি উদঘাটন করবই।”
রাবেয়া ছেলের কথার প্রতিউত্তরে কিছু বলল না। মাথায় হাত বুলিয়ে আশীর্বাদ করে দিল প্রগাঢ় মাতৃস্নেহে! এবং দরদমাখা কণ্ঠে ছেলেকে বলল,
“বাবা ঘর হতে বাইর হওয়ার দোয়াটা পইড়া নে মনে মনে। মুখস্থ আছে না,শিখাইছিলাম যে?”
“মা,খুব মনে আছে। এই শোন, “বিসমিল্লাহি তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহ, লা-হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।” অর্থাৎ আল্লাহর নামে বের হলাম, আল্লাহর ওপর ভরসা করলাম, আল্লাহ ছাড়া কোনো শক্তি ও ক্ষমতা নেই।”
হাস্যোজ্জ্বল মুখে মাকে শব্দ করে শোনাল তৌসিফ। তানভিরও চলে গেল। দোয়ার কথা তাকেও স্মরণ করে দিল রাবেয়া। খুকীও চলে গেল শ্বশুরবাড়ি। তারপর একদিন সীমা জামালকে মিসকল দিল মনির মোবাইল থেকে। জামাল ব্যাক করল অবসর হয়ে। সিমা বাড়ির সবকিছু আদ্যোপান্ত অবগত করল স্বামীকে। শুনে জামাল বলল,
“জাবেদ হারামি আছে। এটা করতেই পারে। দেখা যায় আমাদের ঘরে বহু তুলকালাম কাণ্ড ঘটে গেল। তৌসিফও র * গ চটা হয়ে গেল। তাহলে কী সাথির বিষয়ে তাকে নিয়ে আর ভেবে লাভ আছে?”
সিমা বলল,
“লাভ লসের কী? তৌসিফ ভালো ছেলে। তাই আম্মাসহ আমরা সবাই সাথীর জন্য তারে পাত্র হিসেবে ঠিক করছি। বড় ভাবিও এইটা জানে কিছুটা। তিনিও সাথীরে অনেক স্নেহ করে নিজের মেয়ে নাই বলে। তৌসিফও চাচাতো বোন হিসাবে সাথীরে পছন্দ করে। আর এই পর্যন্ত তৌসিফ যা বলছে,করছে, সবই উচিত কাম করছে। খারাপ কিছু তো করেনি ছেলেটা। যেই ছেলে মায়ের প্রতি দায়িত্বশীল, সেই ছেলে স্ত্রীর প্রতিও দায়িত্বশীল হবে। বুইঝেন কিন্তু।”
“বুঝলাম। তাহলে নিয়ম হিসেবে তো ছেলের পরিবার প্রস্তাব দিবে আমাদের।”
“হ। সেইটাই। আপনে বাবারে বইলেন তৌসিফ এরপর বাড়ি আইলে প্রস্তাব দিতে। নতুন ঘর হইলেই তৌসিফ বিয়া করব।”
“আচ্ছা, বলব। কিন্তু তৌসিফ কী রাজি হবে নবনিকে বিয়ে করতে?”
“তৌসিফ মায়ের অন্ধভক্ত! হবে।”
এদিকে নবনীকে তার মা বলল,
“কিরে তুই যেই ছেলেকে পছন্দ করিস, তাকে না বাসায় আনার কথা? তাকে বলিস নি?”
তার কথায় তাল মিলিয়ে নবনীর বাবাও একই কথা বলল মেয়েকে। নবনী আমতা আমতা করে বলল,
“বলছি আব্বু। সে আসবে না। তোমরা অন্য পাত্র দেখো। আমার কোনো আপত্তি নেই।”
কণ্ঠে এক দরিয়া বিষাদ ঢেলে জানাল নবনী।
তার বাবা নজরুল ও মা হামিদা ভিমরি খেল মেয়ের কথায়। তারা একে অপরের দৃষ্টি বিনিময় করল। নজরুল বলল,
“কেন,সেই ছেলের সাথে কী তোর ব্রেকআপ হয়েছে?”
“নাহ আব্বু। রিলেশনই তো হয় নি তারসাথে। আবার কিসের ব্রেকআপ?”
নবনীর কথা শুনে তার বাবা, মা দ্বিগুণ আশ্চর্য হলো। কাহিনী কী জানতে চাইল। নবনি বাবা,মাকে সবিস্তাতে বলতে বাধ্য হলো। নবনীর মা নাক সিঁটকে বলল,
“তৌসিফ? তোর ক্লাসমেট না সে? তাদের না অভাবগ্রস্ত পরিবার?”
নজরুল স্ত্রীকে মৃদু ধমকে উঠলেন। পরক্ষণেই তাকে বুঝিয়ে নিলেন নিজের ভাষায়।
“তোমার কাছে মেয়ের মন বড় না কারো অর্থনৈতিক অবস্থা বড়? তৌসিফ তো যথেষ্ট ভালো চাকরি করে। নবনীর পছন্দের ছেলে যদি ঠেলাগাড়িও ঠেলতো,তবুও আমি তার হাতে নবনীকে তুলে দিতাম।”
হামিদা চুপ রইল মেয়ের সামনে। নজরুল মেয়েকে বলল,
“বুঝলাম। এক তরফা ভালোবাসা। একদিকে ক্লাসমেট। আবার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। বাকি রইল প্রেম। এটা হয়ে যাবে। ব্যাপার না মেয়ে। তোর বাপ সেটা ঠিক করে দিবে। তৌসিফের মোবাইল নাম্বার দে আমাকে। এমন সাইজ করব হারামজাদাকে আমি, পালিয়ে যাবে কোথায়? আমার ডাক্তার মেয়ের প্রেমকে সে প্রত্যাখাত করছে? ইগনোর করছে? এত বড় সাহস? হাঃহাঃহাঃ।”
রসিকতা করে কৌতুক হেসে বলল নজরুল। নবনী তার রসিক পিতার মুখে অমন কথা শুনে লজ্জায় নিজের ঠোঁট কামড়ে ধরলো। তিনি সেই রাতেই ফোন দিলেন তৌসিফকে। কুশলাদি বিনিময় করে তাদের বাসায় যেতে বললেন।
তৌসিফ বলল,
“হ্যাঁ আংকেল অবশ্যই আসব। আসার আগে আমি আপনাকে ফোন দিয়ে জানাব। আপনার নাম্বার সেভ করে রাখছি। কিন্তু আংকেল কোনো প্রয়োজন নাকি আমাকে?”
বিনয়ী গলায় জানতে চাইল তৌসিফ। কারণ সে দেখল নবনীর কোনো প্রসঙ্গই তার বাবা তুলল না। তাই তৌসিফ খানিকটা হোঁচট খেল। নজরুল মুঠোফোনের ওপ্রান্তে সহাস্য হেসে বললেন,
“প্রয়োজন অবশ্যই। তা তুমি আসলেই বলব।”
“আচ্ছা আংকেল।”
তৌসিফ কিছুটা ধারণা করল নবনীর বিষয়ে৷ তাছাড়া আর কিইবা হতে পারে। কারণ নবনীর পরিবারের সাথে তার ব্যক্তিগত কোনো সখ্যতা নেই।
হেমন্তের রৌদ্রজ্জল আকাশ। একদল নাম না জানা অচেনা পাখি উড়াউড়ি করছে চক্রাকারে। মৃদুমন্দ শীতল হাওয়া বইছে। রাবেয়া ঘরের বাইরে নারকেল গাছের গোড়ায় একাকী বসে আছে নিরালায়। তাকে দেখে জা সিমা এগিয়ে আসে। সে কণ্ঠকে খাদে নামিয়ে দু এক কথা বলল প্রসঙ্গত। পরমুহূর্তেই বলল,
“ভাবি,অভয় দিলে কিছু কথা কইতাম আপনার সাথে।”
“বুঝলাম না সিমা? হঠাৎ এমন কী হইল যে,তোরে অভয় দিতে হইব? যেন তুই আর কোনদিন আমারে ঘরের বা তোর নিজের কোনো লুকানো কথা কসনাই? যত বড় কথাই হোক কইয়া ফালা। সমস্যা নাই।”
“তৌসিফ ও সাথির বিয়া হইলে কেমন হয় ভাবি? সাথিরে তো নিজের মেয়ের মতই জানেন আপনে।”
সীমা অপেক্ষা করে রাবেয়ার মুখের দিকে চেয়ে।
গালভরা হাসি দিয়ে রাবেয়া বলল,
“সাথিরে আমি পিচ্চিকাল হতেই জানি। তৌসিফ সংসার জীবনে শান্তিতে থাকব সাথির মতো ঠান্ডা মেজাজের বউ পাইলেই। তবে কথা হইলো আমার তো কোনো আপত্তি নাই। কিন্তু তৌসিফ ও বাকিদের কথা আমি বলতে পারুম না।”
চলবে…১২
Share On:
TAGS: পিদিম জ্বলা রাতে, রেহানা পুতুল
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
পিদিম জ্বলা রাতে পর্ব ১৩
-
পিদিম জ্বলা রাতে পর্ব ৬
-
পিদিম জ্বলা রাতে পর্ব ৪
-
পিদিম জ্বলা রাতে গল্পের লিংক
-
পিদিম জ্বলা রাতে পর্ব ৩
-
পিদিম জ্বলা রাতে পর্ব ১৪
-
পিদিম জ্বলা রাতে পর্ব ১
-
পিদিম জ্বলা রাতে পর্ব ১৬
-
পিদিম জ্বলা রাতে পর্ব ৯
-
পিদিম জ্বলা রাতে পর্ব ৭