পরগাছা |৯|
ইসরাত_তন্বী
(অনুমতি বিহীন কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ)
মাত্রই বাজার থেকে ফিরেছে শাহরিয়ার। আজ কাঁচা মালামাল কেনার চাপ একটু বেশি থাকার দরুন বাড়িতে ফিরতে বেশখানিকটা দেরি হয়ে গেছে। স্বামী বাড়িতে আসতেই কমলিকা ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়েছে। এটা সেটা এনে এগিয়ে দিচ্ছে। শাহরিয়ার নিজের পরিহিত পাঞ্জাবী খুলতে ব্যস্ত। কমলিকা গামছা হাতে পায়ে পায়ে এগিয়ে এসে ছেলেটার ঠিক ডান পাশটাই দাঁড়াল। মুখে হাসি ফুটিয়ে চেয়ে রইল। শাহরিয়ার পাঞ্জাবী খুলে পাশ ফিরল। ভ্রু তুলে জিজ্ঞাসা করল, “সব ঠিকঠাক ছিল তো বউ রানী? মুখটা এমন শুকনো দেখাচ্ছে কেন?”
কমলিকা চোখ নুইয়ে মাথা নাড়ল। যার অর্থ হ্যাঁ। শাহরিয়ার জবাব পেতেই আলনার দিকে অগ্রসর হলো। লুঙ্গি খোঁজা অবস্থাতেই ফের শুধাল, “আম্মা ঠিক আছে? ঠিকঠাকভাবে খেয়েছেন আজ?”
“জি, তবে আম্মার কোমরের ব্যথাটা বেড়েছে। আজ গোসল করাতে যেয়ে বেশ কসরত করতে হয়েছে। আমার মনে হয় আম্মাকে নগরে নিয়ে যেয়ে চিকিৎসা করার প্রয়োজন। এইসব কবিরাজের ঝাড়ফুঁকে আর কাজ হচ্ছে না।”
শাহরিয়ার লুঙ্গি এবং স্যান্ডো গেঞ্জি নিয়ে পিছনে ফিরল। কপালে গুটিকয়েক চিন্তার ভাঁজ দৃশ্যমান হলো। ভ্রু কুঁচকে ভাবল কিয়ৎকাল। ইশারায় কমলিকাকে গামছাটা দিতে বলল। প্রত্যুত্তর করল, “আচ্ছা, দুয়েক দিনের মধ্যেই হাতের কাজ সেরে আম্মাকে নিয়ে নগরেই যাব। ওই মানুষটা ছাড়া আমি বড্ড একা গো বউরানী।”
কমলিকা সন্তুষ্ট হলো জবাবে। ওর নিজের মা নেই। শাশুড়িকে আঁকড়েই বেঁচে আছে। মিষ্টি করে হাসল মেয়েটা। গামছাটা শাহরিয়ার এর হাতে দিয়ে দিল। পরপরই বলল, “আজ গোসল না করলে হতো না? এমনিতেই আপনার ঠাণ্ডা লেগে আছে। গরম পানি আছে ওটা দিয়ে সম্পূর্ণ শরীর মুছে নিলেই তো পারেন।”
বউয়ের এমন বোকা বোকা কথা শুনতে বেশ ভালো লাগে শাহরিয়ার এর। হেসে ফেলল ছেলেটা, “সারা দিন ধুলো বালির সাথে থেকে বলছ গোসল না করতে? এই শরীর নিয়ে রাতে আমার ঘুম হবে না। কম করে কয়েক মগ পানি ঢেলে আসি মাথায়।”
কমলিকা এক কথায় মেনে নিল। বলল, “আচ্ছা, আপনি গোসল দিয়ে আসুন। আমি ততক্ষণে খাবার বেড়ে আনি আপনার জন্য।”
শাহরিয়ার হেসে মাথা নেড়ে উলটো ঘুরল। সম্মুখে দুই পা এগিয়েই থমকে দাঁড়িয়ে পড়ল। বাড়ির উঠান দিয়ে হেঁটে অতিব পরিচিত একজন মানুষ ওদের ঘরের দিকেই এগিয়ে আসছে। কমলিকা নিজেও তাকিয়েছে ততক্ষণে। এই অসময়ে মানুষটাকে দেখে ঈষৎ অবাক হয়েছে বৈকি! পরক্ষণেই নিজেকে স্বাভাবিক করে নিল। কক্ষ থেকে বেরিয়ে সামনে অগ্রসর হলো। দাওয়ায় দাঁড়িয়ে হাসিমুখে জিজ্ঞাসা করল, “আরে ভাবী যে! আসেন ভাবী। কেমন আছেন?”
গুঞ্জরিকা হেঁটে এসে কমলিকার মুখোমুখি দাঁড়াল। হাপাচ্ছে মেয়েটা। দেখে মনে হচ্ছে এই পাঁচ মিনিট হেঁটে এসেই ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। বড়ো বড়ো শ্বাস ফেলে নিজেকে ধাতস্থ করল। মুখে হাসি ফোটানোর প্রয়াস চালাল। ছোট্ট করে বলল, “আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহ ভালো রেখেছেন। ভাবী পানি হবে একটু?”
“অবশ্যই ভাবী আপনি ঘরের ভেতরে এসে বসুন। আমি এক্ষুনি পানি নিয়ে আসছি।”
গুঞ্জরিকা হ্যাঁ সূচক মাথা দোলাল। কমলিকা জবাব দিয়েই খাওয়ার ঘরের দিকে ছুটল। শাহরিয়ার দুয়ারের সম্মুখে নিশ্চুপ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। পরিচিত সেই হাসিখুশি উজ্জ্বল মুখটা আজ ফ্যাকাসে দেখাচ্ছে। দেখে মনে হচ্ছে ওর বোনটা দীর্ঘদিন রক্তশূন্যতায় ভুগছে। গুঞ্জরিকার যখন বিয়ে হয়ে শেখ বাড়িতে আসে তখন শাহরিয়ার অবিবাহিত ভবঘুরে একজন ছেলে। মাঝেমধ্যেই শেখ বাড়িতে যাওয়া হত বন্ধুর কাছে। কথায় কথায় গুঞ্জরিকার সাথে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। শাহরিয়ার এর দয়ার মন। খুব মায়া হত মেয়েটাকে দেখে। গুঞ্জরিকা যখন মন ভার করে বলত ওর সাতকুলে কেউ নেই তখন শাহরিয়ার এর বুক ভার হত। ভাইয়ের স্নেহের হাতটা মাথার উপরে রাখত। সেই থেকে ভাই-বোনের সুন্দর একটা সম্পর্ক বিদ্যমান দুজনের মাঝে। যেকোনো সুখকর সময় কিংবা বিপদে মেয়েটা সবার আগেই শাহরিয়ারকে স্মরণ করে। আজও হয়ত তার ব্যতিক্রম নয়। শাহরিয়ার ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটিয়ে শুধাল, “ভাবী আপনার শরীর খারাপ নাকি? দেখে তো অসুস্থ মনে হচ্ছে। ভেতরে এসে বসুন আগে।”
কথাটা বলেই দরজার সামনে থেকে সরে দাঁড়াল শাহরিয়ার। গুঞ্জরিকা নিঃশব্দে কক্ষে প্রবেশ করে বিছানায় বসল। মাথাটা কেমন ঝিমঝিম করছে। বুকটা শব্দ তুলে লাফাচ্ছে। অথচ কারণ অজানা মেয়েটার নিকট। কিছুক্ষণ চুপ থেকে রয়ে সয়ে উত্তর দিল, “আমি ঠিক আছি ভাইজান। আপনার সাথে কথা ছিল কিছু।” পরক্ষণেই নজর শাহরিয়ার দিকে পড়তেই বলে উঠল, “দুঃখিত অসময়ে আসার জন্য। আপনি আগে হাতের কাজ সেরে আসুন ভাইজান। আমি অপেক্ষা করছি।”
শাহরিয়ার বাধ্যের মত মাথা নাড়ল। রাত হয়ে যাচ্ছে। সময় ক্রমশ পেরিয়ে চলেছে। বেশি দেরি হলে সমস্যা। জবাব দিল, “আচ্ছা ভাবী আপনি বসুন। আমি বেশি সময় নিব না।”
গুঞ্জরিকা মাথা নেড়ে সম্মতি দিল। শাহরিয়ার হেসে দ্রুত পায়ে প্রস্থান করল। ততক্ষণে কমলিকা পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। একেবারে ভাত নিয়ে এসেছে। মেয়েটার পাগলামিতে গুঞ্জরিকার চক্ষু চড়কগাছ। আশ্চর্য হয়ে জানতে চাইল, “আপনি পাগল হয়েছেন ভাবি? আমি এখন কিচ্ছুটি খাব না। ভাইজানের সাথে দুটো প্রয়োজনীয় কথা বলেই চলে যাব।”
কমলিকা হাতের থালা এবং পানির মগ টেবিলের উপরে রাখল। এগিয়ে এসে গুঞ্জনরিকার পাশে বসে ওকে দুহাতে নিজের সাথে জড়িয়ে ধরল। মেয়েটার আকস্মিক এমন কাজে গুঞ্জরিকা চমকাল। কমলিকা নরম আদুরে গলায় আবদার করল, “আপনি আমার বড়ো বোনের মত ভাবী। আমার কোনো বড়ো বোন নেই। ছোট বোনের কথাটা রাখুন। দু্ই লোকমা হলেও মুখে দিন। নাহলে আমার মন শান্ত হবে না।”
এত আহ্লাদ, এত নিঃস্বার্থ ভালোবাসা পেতেই গুঞ্জরিকার চোখের কোণে পানি জমল। সেই দুপুরে ভাত খায়নি গুঞ্জরিকা। ওই ভাতের দানা গলা দিয়ে নামত না। দোতলায় উঠেই এক ঝটকায় নিজের হাতটা সরিয়ে নিয়েছিল অপরপক্ষের হাতের মুঠোয় থেকে। বেশ শক্ত করে দুটো কথাও শুনিয়েছিল। আজকাল ওই মানুষটার সান্নিধ্য বড্ড পীড়া দেয় গুঞ্জরিকাকে। মানুষটা অসহায় চাহনিতে গুঞ্জরিকার দিকে তাকিয়ে ছিল। হয়ত চেয়েও থামাতে পারেনি। জোর খাটাতে পারেনি আর। গুঞ্জরিকা পিছু ফিরে দেখেনি। অযথা মায়া বাড়িয়ে লাভ কী? যেই স্টেশন পেরিয়ে এসেছে সেখানে ফিরে কেন দেখবে? কক্ষে ঢুকেই শরীরের ভার ছেড়ে দিয়েছিল পালঙ্কে। খুব কেঁদেছিল। বুক উজাড় করে কেঁদেছিল মেয়েটা। নিজের অহেতুক ভাবনায় স্বেচ্ছায় ইতি টানল গুঞ্জরিকা। নিজেকে সামলিয়ে দুহাত উঠিয়ে আলগোছে কমলিকার পিঠের উপরে রাখল। মুচকি হাসল, “এভাবে আবদার করলে না রেখে পারি?”
কমলিকা খুশিতে গদগদ হয়ে উঠল। গুঞ্জরিকাকে ছেড়ে দাঁড়াল। হাত ধুয়ে এসে খাবারের থালা হাতে এগিয়ে এল, “আমি আপনাকে খাইয়ে দেই ভাবী?”
গুঞ্জরিকার মুখের হাসি বাড়ল। মাথা নাড়ল, “জি, অবশ্যই।”
কমলিকা অনুমতি পেতেই তড়িঘড়ি করে এসে পাশে বসল। ভাত মেখে গুঞ্জরিকার মুখের সামনে এক লোকমা ধরল। গুঞ্জরিকা জলপূর্ণ ছলছল নেত্র যুগল নিয়ে কয়েক সেকেন্ড চেয়ে রইল। পর মুহূর্তেই খাবার টুকু মুখে নিল। কিছু মানুষ থাকে অসাধারণ। তাদের সাথে আমাদের রক্তের কোনো সম্পর্ক থাকে না অথচ দিব্যি তারা আমাদের ভরসার স্থল হয়ে ওঠে। দুর্দিনে কেবল তাদের সঙ্গই পাওয়া যায়। বহুমাত্রিক স্বার্থের এই পৃথিবীতে স্বার্থান্বেষী মানুষের ভীড়ে এখনো কিছু সৎ, চমৎকার মনের মানুষ রয়ে গেছে। তাই তো পৃথিবী এখনো মানুষের বসবাসযোগ্য আছে। অসহায়েরা বাঁচার স্বপ্ন দেখতে পারে।
.
শেখ বাড়ির পরিবেশ হাসিঠাট্টায় মুখরিত। আমন্ত্রিত অতিথিদের পায়ের ধুলো পড়েছে ইতোমধ্যে বাড়িতে। ক্ষণে ক্ষণে বসার ঘর থেকে ভেসে আসছে উচ্চ হাসির আওয়াজ। পরিবারের প্রায় সকলে অতিথিদের সাথে সেখানেই উপস্থিত আছে। সবাই খুশির আমেজে মেতে থাকলেও আরুষের মুখমণ্ডল গম্ভীর দেখাচ্ছে। গুঞ্জরিকাকে সে শাহরিয়ারদের বাড়ির দিকে যেতে দেখেছে। আর এখানেই দুশ্চিন্তাটা। শাহরিয়ার গুঞ্জরিকার সবচেয়ে বড়ো বিশ্বাসের স্থল। নতুন কোনো উপায় ছেলেটা ঠিক খুঁজে দিবে। গুঞ্জরিকাকে কোনোভাবেই হারাতে পারবে না আরুষ। কোনোভাবেই না। তাকে বাধতে প্রয়োজনে যতটা করতে হয় করবে। নিজের নাম খারাপের প্রয়োজন পড়লেও করবে। যদিও তার যৎসামান্য বাকি অবধি নেই। আকাশ কুসুম ভাবনার মাঝেই আরুষের কর্ণগোচর হলো পাত্রের পিতার কণ্ঠস্বর, “আরুষ বাবা তোমার বউ মানে আমাদের বউমা কোথায়? তাকে তো কোথাও দেখছি না।”
আরুষ একটু নড়েচড়ে বসল। মেঝেতে নিবিষ্ট দৃষ্টি তুলে ওনার দিকে তাকাল। হাসার চেষ্টা করল। জবাবে গুরুগম্ভীর কণ্ঠস্বর ভাসমান হলো কক্ষজুড়ে, “আমার বউ বাড়িতে নেই। বাড়িতে এলেই পরিচয় করিয়ে দেওয়া হবে।”
এতরাতে বাড়ির বউ বাইরে কোথাও গেছে! বিষয়টা একটু দৃষ্টিকটু বটে। তবে তামজাদ চৌধুরী নামের ভদ্রলোক সেসব গোনায় ধরলেন না। হাসলেন, “আচ্ছা বাবা।” ঘাড় ঘুরিয়ে আসমান শেখের দিকে চাইলেন, “ভাইজান তাহলে মেয়েকে নিয়ে আসতে বলুন। আমরা কথা এগোয়। আড্ডা তো অনেক হলো। এইবার আসল কাজে আসি।”
আসমান শেখ দ্রুত মাথা নেড়ে সম্মতি দিলেন, “জি, ভাইজান অবশ্যই।” পরপরই সারথীকে ইশারা করলেন অদিতিকে বসার কক্ষে আনার জন্য। সারথি ইশারায় আচ্ছা বুঝিয়ে ঘর থেকে প্রস্থান করল।
মিনিট পাঁচেকের ব্যবধানে কক্ষের সম্মুখে অদিতিকে নিয়ে হাজির হলো চন্দ্রা। পিছনে সারথীও আছে। অদিতি সালাম দিল সকলের উদ্দেশে। উপস্থিত সকলে বিড়বিড় করে উত্তর দিল। চন্দ্রা অদিতিকে সঙ্গে নিয়ে শ্লথগতিতে এগিয়ে এসে আরুষের পাশে বসিয়ে দিল। নিজেও ওর পাশেই দাড়াল। সারথী এসে পুনরায় মায়ের পাশেই বসল। এক দেখাতেই পাত্রপক্ষের মেয়ে পছন্দ হয়ে গেল। পাত্রপক্ষের সবাই সমস্বরে আওড়ালেন মা শা আল্লাহ। ইতোমধ্যে সবার সাথে পরিচয় পর্ব শেষ হয়েছে। নতুন আরও একটা মুখ দেখতেই তামজাদ চৌধুরী জিজ্ঞাসা করলেন, “এটা কি আমাদের বউমা?”
আয়েশা শেখ খুশিতে গদগদ হয়ে পড়লেন। তাৎক্ষণিক জবাব দিলেন, “জি….”
অথচ মুখের কথাতে সমাপ্তি টানতে পারলেন না। ওনাকে থামিয়ে দিয়ে অদিতি বলে উঠল, “ভাবী আমাদের পরিবারের নতুন সদস্য। ভাইজানের দ্বিতীয় স্ত্রী। আমার ভাবীজান একটু প্রয়োজনে বাইরে গেছে। ফিরে আসবে কিছু সময়ের মধ্যেই।”
পরিবারের সকলের মুখমণ্ডল থমথমে হয়ে উঠল। কেবল হাসির দেখা মিলল আরুষ এবং আসমান শেখের অধর যুগলে। চন্দ্রা ভীষণ অপমান বোধ করল। রাগান্বিত চোখে মেঝেতে চেয়ে রইল। দুজন মানুষের থেকে দুরকম জবাব পেয়ে পাত্রপক্ষের হয়ে আসা তিনজন বেশ অবাক হলো। আশ্চর্য হয়ে পড়ল অদিতির এমন স্পষ্ট জবাবে। এখানে পরিবারের সকলে উপস্থিত অথচ কারোর পরোয়া না করে কী নির্দ্বিধায় জবাব দিল। গ্রামপ্রধান জামশেদ চৌধুরী এই মেয়ের স্বাধীনচেতা মনোভাব সম্পর্কে অবগত ছিলেন আজ স্বচক্ষে দেখেও নিলেন। তামজাদ চৌধুরী হাসিমুখে অদিতিকে জিজ্ঞাসা করলেন, “ভালো আছ মা? নাম কী তোমার?”
অদিতি মাথা নুইয়ে নরম কণ্ঠে উত্তর করল, “আলহামদুলিল্লাহ, ভালো আছি। আপনি কেমন আছেন? এবং আমার নাম অদিতি শেখ।”
“মা শা আল্লাহ মা, তোমার মতোই সুন্দর তোমার নাম। পড়াশোনা করেছ তো মা?”
“আমার পড়াশোনা চলমান এবং এটা আমি চলমানই রাখতে চাই।”
কথার মাধ্যমে ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে নিজের দাবিটা ঠিকই জানিয়ে দিল অদিতি। পাত্র রবী বেশ উপভোগ করছে তার হবু স্ত্রীর কথাবার্তা গুলো। ইতোমধ্যে সে নিজের সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে। হয় অদিতি নয়ত কেউ নয়। প্রথম সাক্ষাতেই তার অদমনীয় রুপে পা পিছলে পড়েছে ছেলেটা। তামজাদ চৌধুরী এই পর্যায়ে ছেলের দিকে তাকালেন। ইশারায় জানতে চাইলেন মেয়ে পছন্দ কি-না? রবী তখনই মাথা নেড়ে সম্মতি দিল। অমনিই ওনার মুখে হাসি ফুটে উঠল। আসমান শেখের দিকে চেয়ে বললেন, “ভাইজান মেয়ে আমাদের পছন্দ হয়েছে। বিয়ের তারিখ আগামীকাল সকালে জানিয়ে দেওয়া হবে।”
তামজাদ চৌধুরীর মুখনিঃসৃত কথা শোনা মাত্রই আলহামদুলিল্লাহ ধ্বনিতে মুখরিত হলো কক্ষের চারপাশ। আসমান শেখ মুচকি হাসলেন, “ঠিক আছে ভাইজান। আমাদের কোনো সমস্যা নেই। আপনারা নিজেদের সুবিধামতোই করুন।”
এমন জবাবে সন্তুষ্ট হলেন তামজাদ চৌধুরী। হয়ত নিজেও কিছু বলতে নিচ্চিলেন, সেই সময়ে অদিতি বলে বসল, “আমি পাত্রের সাথে একাকী কিছু কথা বলতে চাই।”
ঘরের মধ্যে বিস্ফোরণ ঘটাল অদিতির বলা কথাটা। সকলে হকচকিয়ে গেল। অথচ রবী মৃদু শব্দে হেসে ফেলল। বলল, “জি, অবশ্যই। কেন নয়?”
অদিতি পুনরায় সবাইকে সালাম দিয়ে উঠে দাঁড়াল। রবীর দিকে আড়দৃষ্টিতে তাকাল, “আসুন আমার সাথে।”
অদিতির পিছু পিছু বসার ঘর থেকে বেরিয়ে গেল রবী। গুরুজনেরা ফ্যাল ফ্যাল করে ওদের প্রস্থান দেখল। চন্দ্রা দাঁতে দাঁত পিষে দাঁড়িয়ে আছে। এই মেয়েকেও এখন আর সহ্য হচ্ছে না। চন্দ্রার অচেতন মন, মস্তিষ্ক আরও একজনকে নিজের প্রতিদ্বন্দ্বি বানিয়ে বসল। যার দ্বায় কেবল তার নিজের।
চলবে
(ভুলত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। প্রিয় পাঠক আপনাদের সকলের গঠনমূলক মন্তব্য ও রেসপন্সের আশা রাখি।)
Share On:
TAGS: ইশরাত জাহান জেরিন, পরগাছা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
পরগাছা পর্ব ৩
-
প্রেমতৃষা পর্ব ৪৩
-
প্রেমতৃষা পর্ব ২৭
-
প্রেমতৃষা পর্ব ৩১+৩২
-
প্রেমতৃষা পর্ব ৮+৯+১০
-
প্রেমতৃষা পর্ব ১
-
পরগাছা পর্ব ৫
-
প্রেমতৃষা পর্ব ৪৯
-
প্রেমতৃষা পর্ব ২৫+২৬
-
প্রেমতৃষা ৪২ ( শেষ অর্ধেক)