Golpo কষ্টের গল্প পরগাছা

পরগাছা পর্ব ১৭


পরগাছা |১৭|

ইসরাত_তন্বী

(অনুমতি বিহীন কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ)

চোখের ডানপাশ ঘেঁষে দৃশ্যমান একটা সরু চিহ্ন বহন করছে জীবনের কঠিন সত্য। উঁহু, ঠিক সত্য নয়, ওটা কলঙ্কের প্রতীক। তা যেন জন্ম এবং মৃত্যুর মতোই বাস্তব। চোখটা দ্বিখণ্ডিত করে রেখেছে সেই দাগ। এক পাশে অগাধ ভালোবাসা প্রস্ফুটিত হয়েছে তো অপরপাশে বিষাদময় বিচ্ছেদের রেশ লেপ্টে আছে। গুঞ্জরিকার করা জোরাল আঘাতে আরুষের ডান চোখটা ভ্রু সহ কেটে দুইভাগ হয়ে আছে। ভাগ্যের জোরে দৃষ্টিশক্তি হারাতে হয়নি। সৃষ্টিকর্তা রক্ষা করেছেন। স্বেচ্ছায় মাথা পেতে নেওয়া এই কলঙ্ক ছেলেটার কাছে জন্মদাগের মতোই সত্যি। মুক্তি নেই তার।

আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের কাটা চোখের দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে আরুষ। অধরযুগলে খেলা করছে তাচ্ছিল্যের হাসি। প্রিয়তমার থেকে পাওয়া ভালোবাসার শেষ স্মৃতি এটা। এই পর্যায়ে আলতো করে ক্ষতস্থান ছুঁয়ে দিল আরুষ। এই সাতদিনে ক্ষত শুকিয়ে এসেছে অনেকখানি। কিন্তু তা অমলিন হয়ে আছে। মৃত্যুর আগ অবধি এই দাগ তাকে বহন করতে হবে। কলঙ্কের মতোই রয়ে যাবে আমৃত্যু। হাহ্!

জীবন থেকে পেরিয়ে যাওয়া সাতটা দিনে শেখ পরিবার খানিকটা স্বাভাবিক হয়েছে। আরুষ ব্যবসায়িক কাজে আজ দুপুরে নগরে যাবে। এখন সেটার জন্যই নিজেকে পরিপাটি করছে। গোসল দিয়ে সফেদ রঙা একটা পাঞ্জাবী জড়িয়েছে শরীরে। সেই সময় হন্তদন্ত হয়ে খাবার হাতে কক্ষে প্রবেশ করল চন্দ্রা। ব্যস্ত গলায় বলল,
“দুঃখিত, খাবার আনতে দেরি করে ফেলেছি। রান্নাঘরে গুঞ্জ ছিল তাই এমনটা হয়েছে। অদিতির জন্য রান্না করছিল তো।”

আরুষের হাতে চিরুনি। সেটা যথাস্থানে রেখে পিছনে ফিরে তাকাল। মসৃণ কপাল গুটিয়ে এসেছে। ভ্রু জোড়া কুঁচকে ঘর্মাক্ত চন্দ্রার দিকে মিনিট দুই তাকিয়ে রইল। অতঃপর সবসময়ের মতোই গম্ভীর কণ্ঠের আদেশ ছুটে গেল চন্দ্রার উদ্দেশে,
“খাবার পালঙ্কে রাখো।”

চন্দ্রা মুচকি হেসে মাথা নাড়ল। এগিয়ে যেয়ে খাবারের থালা খানা বিছানার একপাশে রাখল। আরুষ বাক্যটা উচ্চারণ করেই বাথরুমে ঢুকেছে হাত ধুতে। ফিরে এসে বসল পালঙ্কে। খাবার মেখে মুখে তুলতেই মুখমণ্ডল কুঁচকে ফেলল। চাইল চন্দ্রার দিকে,
“কে রান্না করেছে?”

চন্দ্রার দৃষ্টি নিবদ্ধ আরুষের ক্ষত বিক্ষত চোখের দিকে। একজন মেয়ের ভেতরে ঠিক কতটা জেদ, রাগ, অভিমান জমে থাকলে এভাবে আঘাত করতে পারে? সেই ঘৃণার পারদ ঠাহর করা আদৌও কি সম্ভব? আরুষের করা প্রশ্নে একটু নড়েচড়ে দাঁড়াল মেয়েটা। প্রাণোচ্ছল কণ্ঠে প্রত্যুত্তর করল,
“আমি রেধেছি আপনার জন্য। কেন, ভালো হয়নি?”

“না।”

ছোট্ট জবাব টুকু দিয়ে পুনরায় খেতে মনোনিবেশ করল আরুষ। চন্দ্রার উজ্জ্বল বদন খানা ফ্যাকাসে হয়ে এল। ঠোঁটের কোণে লেগে থাকা হাসি টুকু মিলিয়ে গেল। কেউ যেন জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিল। দরজার কপাটকে আশ্রয় করে দাঁড়াল মেয়েটা। বুকচিরে দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এল। এই সাতদিনে মানুষটার মন পেতে কম করেনি চন্দ্রা। সকাল থেকে রাত অবধি পিছু ছুটেছে। এটা সেটা করে চলেছে। কিন্তু বরাবরের মতোই ফলাফল শূন্য। মন পাওয়া তো দূর, সুক্ষ্ম কোনো অনুভূতিও জাগাতে পারেনি ওই নিরেট হৃদয়ে। চন্দ্রার নেত্র জোড়া ছলছল করে উঠল। কিছুক্ষণ নীরবে ঠায় দাঁড়িয়ে রইল। কিছু একটা স্মরণ হতেই বলল,
“আপনি চোখের ডাক্তারটাও দেখিয়ে আসবেন। চোখটার অবস্থা ভালো নয়। একেবারে চিরে গেছে ভ্রু সহ। দেখতে কী বিভৎস দেখাচ্ছে!”

আরুষের খাওয়া শেষ ততক্ষণে। পাশের টেবিল থেকে পানির গ্লাস উঠিয়ে হাত ধুয়ে নিল। চন্দ্রা দ্রুত পায়ে এগিয়ে যেয়ে তোয়ালে দিল। আরুষ সেটা নিয়ে হাত, মুখ মুছে উঠে দাঁড়াল। চন্দ্রার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে চোখে চোখ রাখল। এতক্ষণে ক্ষীণ হাসল,
“আমাকে বিভৎস দেখাচ্ছে না? ওই ক্ষতের চেয়েও তো এই আমিটা বেশি ক্ষতবিক্ষত। থাক না একটা দুটো এমন কলঙ্কে মোড়ানো আঘাত। ক্ষতি কী?”

এমন অদ্ভুত কথার পরিপ্রেক্ষিতে চন্দ্রা ঠিক কী বলবে বুঝে উঠতে পারল না। পানিতে টইটম্বুর আঁখি জোড়া নিয়ে তাকিয়ে রইল। আরুষ শেষ বারের মতো আয়নায় নিজেকে পরখ করে নিল। গুছিয়ে রাখা ব্যাগটা হাতে তুলে নিল। চন্দ্রা থমকে দাঁড়িয়ে আছে। দেখে চলেছে আরুষের একেকটা পদক্ষেপ। সেই মুহূর্তে শ্রবণেন্দ্রিয়ে প্রবেশ করল আরুষের শীতল গলার আওয়াজ,
“আমি সবটা যেভাবে রেখে যাচ্ছি এসে যেন সেভাবেই পাই। গুঞ্জনের থেকে দুরত্ব বজায় রেখে চলবে। তোমার ভালোর জন্য বলছি। আত্মসম্মানহীন মেয়ে আমার একদম পছন্দ নয়।”

চন্দ্রার খুব অভিমান হলো। চলে যাচ্ছে তবুও কি একটা ভালো কথা বলা যায় না? চেপে রাখা অভিমান রাগের সহিত প্রকাশ পেল,
“সবসময় আমাকে কেন নিষেধ করেন? সব নিষেধাজ্ঞা কেবল আমার জন্যই বরাদ্দ কেন? একজন পুরুষ হয়ে মায়ের উপর উঠতে পারেন না? ইচ্ছা না থাকার সত্বেও মায়ের কথায় বিয়েতে বসে গেলেন? আমি তো পালিত কুকুর ছিলাম। অসহায় ছিলাম ভাগ্যের কাছে। কিন্তু আপনি? পারতেন না সব ভেস্তে দিতে?”

আরুষ চৌকাঠ পেরিয়েছে মাত্রই। এমন কথাতে চলন্ত পদযুগল থেমে গেল। নমনীয় ঘাড়টা বেঁকে চন্দ্রার দিকে ঘুরল। চাহনি তীক্ষ্ণ। কিছু সময় চুপ থেকে বলল। কণ্ঠস্বরে বিদ্রুপের ছাপ স্পষ্ট,
“তুমি পালিত কুকুর ছিলে আর আমি বাধ্য কুকুর ছিলাম। গুঞ্জনের ভাষায় কাপুরুষ।”

মুখের কথাতে সমাপ্তি টেনে হনহনিয়ে প্রস্থান করল আরুষ। চন্দ্রা অবাক চোখে সেদিকে তাকিয়ে রইল। মস্তিষ্ক কথাটার আধো অর্থ বুঝতে সক্ষম হলো। কিন্তু বাকিটা? সেটা সময়ের হাতেই ছেড়ে দিল মেয়েটা। গাল বেয়ে টপ টপ করে পানি গড়িয়ে পড়ল।
.

আরুষ নিচে নেমে এসে দাঁড়াল। চোখদুটো চারপাশে ভাসমান হলো। কিছু একটা খুঁজে চলেছে। সেই সময় কাঙ্ক্ষিত মুখটা নজরে এল। রান্নাঘর থেকে বেরোচ্ছে গুঞ্জরিকা। মেয়েটার মুখটা কোনো এক অজানা কারণে মলিন হয়ে আছে। আরুষকে দেখা মাত্রই গুঞ্জরিকা নিজেই এগিয়ে গেল ওর দিকে। এতে ছেলেটা কিঞ্চিৎ অবাক হলো বৈকি! যার সাথে এত লুকোচুরি আজ সেধে তার সাথে সাক্ষাৎ করছে। গুঞ্জরিকা আরুষের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে মুচকি হাসল,
“শহর থেকে ফেরার সময় আমার জন্য একটা লাল টকটকে শাড়ি নিয়ে আসবেন, শেখ বাবু।”
একটু থামল। মুখটা এগিয়ে আরুষের কান বরাবর নিল। ফিসফিস করে আওড়াল,
“একটা রাতের জন্য আমার দেওয়া কথা তুলে নিলাম। আমাকে ছোঁয়ার অধিকার পাবেন আপনি। জলদি ফিরবেন। অপেক্ষায় থাকব আমি।”

আরুষ নিজের কান দুটোকে বিশ্বাস করতে পারল না। লোচন জোড়ায় ছড়িয়েছে অবিশ্বাস্যতা। ছেলেটা মুখ ফুটে কিছু বলতে পারল না। অতি বিষ্ময়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।‌ কেবল মাথা নেড়ে সায় জানাল। গুঞ্জরিকা জবাব পেতেই সিঁড়ির দিকে অগ্রসর হলো। ঠোঁট দুটোতে খেলা করছে ক্রুর হাসি। অথচ নেত্রযুগলে ফুটে উঠেছে বিষন্নতা। যার অর্থ দুর্বোধ্য। কী চাইছে মেয়েটা? অদূরে দাঁড়ানো চন্দ্রা সবটুকু দৃশ্য স্বচক্ষে দেখল। চোখের পানি বাঁধ মানল না। শেষ জীবনে যে এই চোখের পানিই সঙ্গী হবে তার সেটা বুঝতে আর অবকাশ রইল না।
.

শাহরিয়ার বাড়িতে ফিরল শেষ বিকেলে। এখন ভাদ্র মাসের শেষ দিকে আমন ধান উঠছে। এইবছর আলহামদুলিল্লাহ ধানের ফলন ভালো হয়েছে। আড়তে কৃষকের ভীড় চোখে পড়ার মতো। তাই কাজের চাপ একটু বেশিই যাচ্ছে। এইতো এখন খাওয়া নাওয়া শেষ করে আবারও ছুটবে আড়তে। শাহরিয়ার বাড়িতে ফিরতেই কমলিকা ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রয়োজনীয় সবকিছু হাতে হাতে এগিয়ে দিচ্ছে।

শাহরিয়ার গোসল সেরে ঘরে প্রবেশ করল। দেখল টেবিলে খাবার বেড়ে রেখেছে কমলিকা। পাশেই দাঁড়িয়ে আছে মেয়েটা। অপেক্ষার প্রহর গুনছে তার জন্য। শাহরিয়ার এর মুখে হাসি ফুটে উঠল। এই মেয়েটাকে বড়ো ভাগ্য করে পেয়েছে। এগিয়ে যেয়ে কমলিকার সম্মুখে দাঁড়াল। মুগ্ধ দৃষ্টিতে একঝলক উপর থেকে নিচ অবধি পরখ করে নিল। মুখ নামিয়ে মেয়েটার কান বরাবর এগোল। কণ্ঠ গলার খাদে নামিয়ে ফিসফিস করে বলল,
“কমলা রঙে তোমাকে আজ ভীষণ সুন্দর লাগছে আমার কমলিকা বউ। প্রেম প্রেম পাচ্ছে আমার। একবার হবে নাকি?”

কমলিকা বিষ্ফোরক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। এক মুহুর্তের জন্য হতবাক হয়ে পড়ল। মানুষটা আজকাল একটু বেশিই ঠোঁটকাটা হয়ে যাচ্ছে। আগে তো এমন ছিল না। লজ্জায় আড়ষ্ট হয়ে পড়ল কমলিকা। বদন নুইয়ে ফেলল। রিনরিনে গলায় জবাব দিল,
“খেয়ে কাজে যান।”

শাহরিয়ার এগিয়ে এসে দুজনের মধ্যে অবশিষ্ট থাকা সবটুকু দুরত্ব ঘুচিয়ে ঘনিষ্ঠ হলো। কানের লতিতে ঠোঁট ছুঁইয়ে দিল। নিম্ন স্তরে বলল,
“তাহলে এখন তুমি আমার ভালোবাসা চাইছ না? প্রত্যাখ্যান করছ আমায়?”

কমলিকার গাল দুটো লাল হয়ে উঠেছে। কান দুটো দিয়ে ধোঁয়া ছুটছে। এই মানুষটার সামনে আর এক সেকেণ্ড ও দাঁড়ানো সম্ভব নয়। আলগোছে শাহরিয়ার এর বুকে ধাক্কা দিয়ে ছুটে পালাল কমলিকা। এটার জন্য ছেলেটা মোটেও প্রস্তুত ছিল না। হঠাৎ কমলিকার এমন কাণ্ডে কিছু সময় নিশ্চুপ রইল। পরক্ষণেই উচ্চস্বরে হেসে উঠল। এখন এই মেয়ে আর ওর সামনে আসবে না। বাচ্চা মেয়ে বিয়ে করার এই এক জ্বালা। তাদের লজ্জা কাটাতে যেয়ে নিজেদের বাবা হওয়ার বয়স পেরিয়ে যায়। শাহরিয়ার চেয়ার টেনে বসল। বিড়বিড় করে আওড়াল,
“শালার ছুঁচো মরা কপাল আমার। কপালে বিয়ে জোটে না। বিয়ে জোটে তো বউ কাছে আসে না। ছ্যাহ মার্কা জীবন একটা।”
.

শাহরিয়ার খাওয়া শেষ করে বাড়ি থেকে বেরিয়েছে। গন্তব্যস্থল আড়ত। গুটি গুটি পায়ে সেদিকেই হেঁটে চলেছে। পথিমধ্যে দেখা হলো গুঞ্জরিকার সাথে। মেয়েটা শাহরিয়ার এর কাছেই আসছিল কিছু প্রয়োজনে। রাস্তায় এভাবে দেখা হয়ে যাওয়ায় ভালোই হলো। ওতদূর আর যাওয়া লাগবে না। গুঞ্জরিকা হেসে নিজেই প্রথমে বলল,
“আসসালামু আলাইকুম ভাইজান। কেমন আছেন?”

শাহরিয়ার মুচকি হাসল,
“ওয়ালাইকুমুস সালাম ভাবী। আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহ রেখেছেন ভালো। আপনি কেমন আছেন? সব ঠিকঠাক তো?”

“আলহামদুলিল্লাহ ভাইজান আমিও ভালো আছি। ভাইজান কিছু কথা ছিল।”

শাহরিয়ার মাথা নেড়ে বলল,
“অবশ্যই ভাবী, নির্দ্বিধায় বলুন।”

গুঞ্জরিকা বড়ো একটা শ্বাস ফেলল। রয়ে সয়ে বলতে শুরু করল,
“ভাইজান দুটো দিন সময় আছে আমাদের হাতে। নদীর চরে একটা ঘর বেঁধে দিন আমায়। আমি মোড়লের সাথে গত পরশুদিন কথা বলেছিলাম। দলিল দেখিয়েছি ওনাকে। উনি জানিয়েছেন কোনো সমস্যা নেই।”

শাহরিয়ার ইশারায় আচ্ছা বোঝাল। তবে মনের মধ্যে খচখচ করতে থাকা প্রশ্নটা করে বসল,
“কিন্তু ভাবী সময় দুটো দিন কেন?”

গুঞ্জরিকা অকপটে বলল,
“আপনার বন্ধু নগরে গেছে। ফিরবে দুদিন বাদে। তার উপস্থিতিতে ওই বন্দি খাঁচা থেকে মুক্তির আশা করা বড়ো বোকামি।”

শাহরিয়ার এর হাস্যোজ্জ্বল মুখটা ম্লান হয়ে উঠল,
“ভাবী আরও একবার ভেবে দেখলে হতো না? আমার বন্ধুকে আমি চিনি। আপনার প্রতি তার ভালোবাসায় কোনো খাদ নেই। পুরো বাড়ির বিরুদ্ধে যেয়ে আপনাকে নিজের করেছিল আরুষ। এত সহজে পারবেন ত্যাগ করতে?”

“অথচ তার এরকম ভালোবাসা আমার চাই না ভাইজান। এত নিখাদ ভালোবাসায় বদহজম হচ্ছে আমার।”
সহজ-সরল স্বীকারোক্তি গুঞ্জরিকার। শাহরিয়ার হার মেনে নিল বোনের জেদের কাছে। মুখে হাসি ফুটিয়ে বলল,
“আচ্ছা, তাই হবে ভাবী। আমি আজকেই শ্রমিকদের সাথে কথা বলব।”

গুঞ্জরিকার অধরপল্লব দুপাশে প্রসারিত হলো। মিষ্টি কণ্ঠে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করল,
“ঠিক আছে ভাইজান। আপনার এই ঋণ শোধ করার সাধ্য নগন্য আমিটার নেই।”

শাহরিয়ার হেসে ফেলল,
“বোনের ভালোর জন্য এতটুকু করায় যায়। আচ্ছা ভাবী আপনি বাড়ি থেকে ঘুরে আসুন। আমি যাই। ওদিকে অনেক কাজ পড়ে আছে।”

গুঞ্জরিকা সাথে সাথেই নাকচ করে দিল,
“আজ না ভাইজান। অন্য দিন যাব। আমিও যাই এখন।”

শাহরিয়ার মাথা নেড়ে সম্মতি দিল। দুজন পাশ কাটিয়ে নিজেদের গন্তব্যে পা বাড়াল। গুঞ্জরিকার শরীর চলছে না। উপরে সে পাহাড়ের মত অটল অথচ ভেতরে কেবল ফাঁকা একটা গহ্বর। আজকাল ভীষণ ক্লান্ত লাগে। জীবন এই কোথায় এনে দাঁড় করিয়ে দিল ঠিক বুঝে উঠতে পারে না। তটিনীর একুল পায় না, ওকুল ও পায় না। মাঝ নদীতে ভেসে বেড়াচ্ছে। মাঝেমধ্যে রাগ জমে আব্বার উপরে। সেই মানুষটা নিজ হাতে ওকে এই স্রোতস্বিনীর বুকে ভাসিয়ে রেখে গেছে। সেই থেকে গন্তব্যহীন ভেসে চলেছে মেয়েটা। চলতি পথে ক্লান্ত গলায় বিড়বিড় করে আওড়াল গুঞ্জরিকা,

“আমি আপনার থেকে নিজেকে ততটাই দূরে সরিয়ে নিব, যতটা দূরে সরালে আর কখনো আমার অভিমান, ভালোবাসা আপনাকে স্পর্শ করতে না পারবে না।”

চলবে

(রিচেক নেই। ভুলত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। প্রিয় পাঠক আপনাদের সকলের রেসপন্স ও গঠনমূলক মন্তব্যের আশা রাখি।)

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply