পরগাছা |১৬|
ইসরাত_তন্বী
(অনুমতি বিহীন কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ)
শেখ বাড়ির পরিবেশ স্তব্ধ। থমকে গেছে মানুষগুলোর হৃৎস্পন্দন। বাড়ির উপর দিয়ে মৃদুমন্দ গতিতে বয়ে চলেছে বিষাদ মিশ্রিত পবন। শরীরের সহিত মিশে বুকব্যথার সৃষ্টি করছে। সুক্ষ্ম যন্ত্রনাটা শরীর জুড়ে নিজেদের রাজত্ব চালিয়ে চলেছে। মৃত্যু সংবাদ বুঝি এতটা হৃদয়বিদারক হয়! সৃষ্টিজগতের অতি সাধারণ নিয়মে মানুষের এতটা অনিয়ম হতে পারে! হাহ্!
সুনসান নীরবতায় মোড়ানো পরিবেশে ভাসমান হলো আশ্চর্যান্বিত শীতল পুরুষালী কণ্ঠস্বর,
“কী বললেন? কে পাঠিয়েছে আপনাকে?”
দুঃসংবাদ নিয়ে আসা যুবক ছেলেটার নাম চৈতন্য। তখনও দরজার সম্মুখে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে। প্রশ্ন ভেসে আসা মুখটার দিকে তাকাল। প্রশ্নটা আরুষ শেখ করেছে। চৈতন্য চেনে তাকে। বিয়ের দিন দেখেছে। ব্যস্ত গলায় প্রত্যুত্তর করল,
“জি ভাইজান সত্য শুনেছেন। রবী ভাই আর নাই। দ্রুত চলুন। আমি গরুর গাড়ি সঙ্গে নিয়েই এসেছি। আপনারা গেলেই দাফন সম্পন্ন করা হবে।”
বাক্যগুলো বজ্রপাতের ন্যায় আঘাত হানল শেখ বাড়িতে। ভূমিধ্বসের মত ধ্বসে পড়ল প্রতিটি মানবমন। উপস্থিত সকলে যেন নিজেদের কান দুটোকে বিশ্বাস করতে পারছে না। যা শুনছে সবটা দুঃস্বপ্ন মনে হচ্ছে। সব তো ঠিকই ছিল তাহলে হঠাৎ কী হলো? তবে কি ওটা তাসের ঘর ছিল? চোখের সামনেই মিলিয়ে গেল। চোরাবালি সবটা গিলে নিল। দুচোখ মেলে দেখার সময়টুকুও দিল না? সবার ভাবনায় ভাটা পড়ল রোকেয়া শেখের আত্মচিৎকারে। ভদ্র মহিলা মেঝেতে শরীর ছেড়ে দিয়েছেন। চিৎকার করে কাঁদছেন। মেয়ের শোকে মায়ের মন ভেঙ্গে দুমড়ে মুচড়ে যাচ্ছে। ওনাকে ঠেকিয়ে রাখা দুষ্কর। একজন মায়ের আর্তনাদে প্রকৃতি মূর্ছা যাওয়ার উপক্রম। সবাই ছুটেছে ওনার দিকেই। আসমান শেখ বুকে হাত রেখে চেয়ারে বসে পড়লেন। বুকটা জ্বলে পুড়ে ছারখার হয়ে যাচ্ছে। সারথী ছুটল ওনার দিকে। আসমান শেখ নিস্তেজ গলায় আওড়ালেন,
“আমার আম্মা, আমার মেয়ে।”
আরুষ নিজের ক্ষততে তিল পরিমাণ গুরত্ব দিল না। বড়ো বড়ো পা ফেলে এগিয়ে এসে গুঞ্জরিকার মুখোমুখি দাঁড়াল। আলগোছে শাড়ির আঁচলটা হাতে তুলে নিল। জোর প্রয়োগ করে একাংশ ছিঁড়ে মাথায় বাঁধল। কেবল রক্ত বন্ধ করার জন্য এতটুকু করা। তবে রক্তের স্রোতকে থামাতে ওতটুকু প্রলেপ যথেষ্ট ছিল না। সেটা বয়ে চলল নিজ ধারায়। আরুষ সেইসবের পরোয়া না করে হন্তদন্ত হয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেল। শরীর চলছে না ছেলেটার। বলিষ্ঠ দেহের সবটুকু শক্তি কে যেন ক্রমশ শুষে নিচ্ছে। ওর পিছু ছুটল চৈতন্য। সবকিছুতে গুঞ্জরিকা নীরব দর্শক ছিল। সবাই যখন রোকেয়া শেখ আর আসমান শেখকে সামলাতে ব্যস্ত গুঞ্জরিকা তখন দ্রুত পায়ে সদর দরজা ডিঙিয়ে বাইরে বেরিয়ে এল। কণ্ঠস্বর তুলনামূলক উঁচু রেখে চৈতন্যকে ডাকল,
“ভাইয়া শুনছেন? একটু দাঁড়ান।”
চৈতন্য বেশ খানিকটা দূরে এগিয়ে গেছে। হঠাৎ পিছু ডাকে থেমে গেল। পিছনে ফিরে তাকাল। গুঞ্জরিকা পায়ের গতি বাড়িয়ে ওর দিকে এগিয়ে গেল। দুরত্ব রেখে দাঁড়িয়ে ছোট্ট করে জিজ্ঞাসা করল,
“আমার অদিতির কী অবস্থা ভাইয়া?”
গুঞ্জরিকার কণ্ঠস্বর বারবার রোধ হয়ে আসছে। একটা বাক্যও ঠিকভাবে উচ্চারণ করতে পারছে না। চৈতন্য ম্লান কণ্ঠে জানাল,
“ভাবী ভাইজানের লাশের পাশে বসে ছিল। সবাই কাঁদলেও ভাবী কাঁদেনি। কেবল নীরব চোখে তাকিয়ে ছিল।”
জবাব টুকু দিয়ে অস্থির পদযুগলে বাড়ির আঙিনা ত্যাগ করল চৈতন্য। গুঞ্জরিকা ঠায় দাঁড়িয়ে রইল। মানসপটে উঁকি দিল সেদিনের সন্ধ্যার ঘটনা। কানে বাজল অদিতির বলা একটা বাক্য,
“ভাবীজান একটা সুন্দর সংসার আমার হবে তো?”
হলো না। সত্যিই হলো না। একটা সুন্দর সুখের সংসার হলো না মেয়েটার। সবটা শুরু হওয়ার আগেই সমাপনী রেখা টানা হলো। গুঞ্জরিকার গাল বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ল। মুখটা ঘোমটার আড়ালে থাকার দরুন তা লোকচক্ষুর অন্তরালে রয়ে গেল।
.
চৌধুরী বাড়ির বাতাসে আজ নিঃশব্দের হাহাকার মিশে আছে। বাড়ির আঙিনায় পদযুগল রাখলেই বুক ভার হয়ে আসছে। চোখের কোণে জল জমছে। গ্রামের প্রতিটা মানুষ আজ কাঁদছে। সকলের নেত্র যুগল সিক্ত, বুকটা ব্যথায় পিষ্ট। তবে চোখের পানি ঝরছে কেবল একটা তরতাজা প্রাণ অকালে ঝরে যাওয়াকে কেন্দ্র করে নয়। তারা কাঁদছে একজন মেয়ের কপাল পোড়ায়। ঘর বাঁধার আগেই ভাঙনের সুরে জর্জরিত হওয়ার যাতনায়। সুবিশাল জায়গা নিয়ে গড়ে ওঠা চৌধুরী বাড়ির উঠানে এক চিলতে অংশও ফাঁকা নেই আজ।
রবী আজ সকালে হাঁটতে বের হয়েছিল প্রতিদিনের মতোই। এটা ছেলেটার শৈশবের পুরোনো অভ্যাস। চৌধুরী নিবাসের পিছনের বাগানেই হাঁটছিল। অদিতি তখন গভীর তন্দ্রায় আচ্ছন্ন। গতরাতেও দুজন গল্প গুজব করে ভোররাতে ঘুমিয়েছিল। দুটো রাত তারা কেবল একে অপরকে জানার জন্যই নির্ধারণ করেছিল। তাই মেয়েটাকে আর ডাকেনি রবী। বাগানে হাঁটার সময় নাকি পায়ের পাতায় কিছু একটা কামড়ে দেয়। একটু জ্বালা যন্ত্রণা করলেও ছেলেটা বিশেষ পাত্তা দেয়নি। ভেবেছিল কোনো পোকা হবে হয়ত। এরকম কামড় প্রায় রোজই খাওয়ার দুর্ভাগ্য হয়। কিন্তু কিছু সময়ের ব্যবধানে যখন তরল রক্তের উপস্থিতি অনুভব করে তখন একটু খটকা লাগে রবীর। পা ধরে ওখানেই বসে পড়ে। পায়ের পাতায় নজর বোলাতেই দুটো দাঁতের উপস্থিতি স্পষ্ট দেখতে পায়। বিচক্ষণ মস্তিষ্কের রবী ঘটনা তৎক্ষণাৎ উপলব্ধি করতে পারে। ততক্ষণে শরীরে জ্বালা পোড়া শুরু হয়ে গেছে। দংশন স্থান কালচে হতে শুরু করেছে। ওই শরীর নিয়েই আতঙ্কে বাড়িতে ছুটে আসে। ঝাঁপসা চোখে মুখ থুবড়ে পড়ে বাড়ির প্রাঙ্গণে। অত্যধিক শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। উঠানের একপাশে বকুল গাছের নিচে কামনা দাঁড়িয়ে ছিল। শাখায় ঘাঁটি বাঁধা সুন্দর পুষ্পগুলোকে মুগ্ধ চোখে দেখছিল। হঠাৎ রবীকে ওভাবে পড়ে থাকতে দেখে তড়িঘড়ি করে এগিয়ে আসে। চিৎকার করে সবাইকে ডাকে। যে যেভাবে পারে দৌড়ে এসে হাত পা কাপড় দিয়ে শক্ত করে বেঁধে দেয়। যেন বিষ মাথা অবধি উঠতে না পারে। কিন্তু ততক্ষণে অনেকখানি দেরি হয়ে গিয়েছিল।
অদিতি ঘুম থেকে উঠে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হয়েছিল সবে। নিচ থেকে সকলের কান্নার আওয়াজ, চিৎকার চেঁচামেচির শব্দ শুনে মেয়েটা দৌড়ে বাড়ির বাইরে আসে। রবীকে ওরকম অবস্থায় দেখে ছুটে এসে ওর সম্মুখে বসে পড়ে। মাথাটা আলগোছে কোলের উপর রাখে। নিষ্প্রভ, ব্যাকুল কণ্ঠে বারবার শুধায়,
“কোথায় কষ্ট হচ্ছে আপনার? কথা বলুন। যাবেন না আমাকে ছেড়ে। নিজের কথা রাখুন। বলুন কোথায় কষ্ট হচ্ছে? আমি সব কষ্ট দূর করে দিব। কথা বলুন। শুনছেন?”
কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত রবী তখন কথা বলার অবস্থায় ছিল না। শত চেষ্টাতেও মুখ ফুটে কিচ্ছুটি বলতে পারে না। কেবল অধর জোড়া থরথর করে কাঁপছিল। হয়ত শেষ বারের মত কিছু বলতে চাইছিল তার রাগিনীকে। অথচ ভাগ্য সহায় হয়নি। অদিতির ডান হাতটা আলতো করে নিজের হাতের মুঠোয় পুরে রাখে রবী। ততক্ষণে ওঝা এসে উপস্থিত হয়েছে চৌধুরী বাড়ির আঙিনায়। একপ্রকার ঝরের গতিতে তাকে উপস্থিত করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। বয়স্ক ওঝা ত্বরান্বিত পায়ে হেঁটে এসে রবীর সামনে দাড়াতেই ছেলেটা শরীরের ভার ছেড়ে দেয়। আস্তে ধীরে আঁখি জোড়া চিরজীবনের জন্য বুজে নেয়। প্রাণ ত্যাগ করে তার রাগিনীর কোলে মাথা রেখে, হাতটা শক্ত করে ধরে। মৃত্যুর পরে সেই হাতটা ছাড়াতে বেশ কসরত করতে হয়েছিল বটে। এমন মৃত্যু কয়জনের কপালে জোটে? মাত্র এক দিনের সংসারে কে এত ভালোবাসা পেয়ে থাকে? তারা দুজন নিয়তির কাছে হেরে গেলেও ভালোবাসা নামক শব্দটার কাছে জিতে গেল নয়কি? অদিতি তখন থেকে একখণ্ড পাথরের ন্যায় সেখানেই বসে আছে। একচুলও নড়াতে পারেনি কেউ। লাবণ্য চৌধুরীর কান্নার করুণ সুরে যেন কেঁপে উঠছে ভূমি। সন্তান হারা মায়ের শোকে প্রকৃতি গুমোট ভাব ধরে আছে। তারাও যেন মায়ের সমান ব্যথিত।
বেলা পড়ে এসেছে। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতে চলল। রবীকে শেষ গোসল দেওয়া সম্পন্ন হয়েছে ইতোমধ্যে। অবশেষে কয়েক গ্রাম পেরিয়ে শেখ পরিবার এসে পৌঁছাল দূর গ্রামের চৌধুরী বাড়িতে। গরুর গাড়ি থেকে নেমে সবাই একপ্রকার ছুটল। রোকেয়া শেখকে সালেহা শেখ ধরে নিয়ে গেল। আয়েশা শেখকে সারথী এবং চন্দ্রা ধরে হাঁটছে। আরুষ আর আসমান শেখ একসাথে হাঁটছেন। গুঞ্জরিকা কোনোদিকে না তাকিয়ে সোজা হাঁটা ধরল অদিতির দিকে। ভীড় ঠেলেঠুলে মেয়েটার পাশে যেয়ে বসল। নিঃশব্দে দুহাতে আগলে নিল অদিতিকে। বুকের মাঝে আঁকড়ে ধরল মেয়েটার মাথা। তৎক্ষণাৎ পরিচিত একটা শরীরের ঘ্রাণ অদিতির নাসারন্ধ্রে ঠেকল। এতক্ষণে দৃষ্টি চ্যুত হলো মেয়েটা। একবার গুঞ্জরিকার দিকে তাকাল। পরক্ষণেই লোচন জোড়া বুঁজে গুঞ্জরিকার বুকে পড়ে রইল। সেই চাহনিতে গুঞ্জরিকার কঠিন হৃদয় হুহু করে কেঁদে উঠল। মেয়েটার চোখদুটো ফ্যাকাশে। কেউ যেন সুন্দর নেত্র যুগলে এই ধরিত্রীর সবটুকু বিষাদ লেপ্টে দিয়েছে। লেপন করা আছে প্রিয়জন হারানোর হাহাকার, শূন্যতা। ফুটে উঠেছে অমোঘ নিয়তি মেনে নেওয়ার যন্ত্রনা। মানব জীবন বড়ো অদ্ভুত!
শেখ পরিবারের সকলে রবীকে শেষ বারের মতো দেখল। ফর্সা শরীরখানা ফ্যাকাসে নীল হয়ে আছে। ওই চোখ দুটো আর কখনো খুলবে না। চিরজীবনের মতো বন্ধ হয়ে গেছে। রবীকে দাফন করার নির্দিষ্ট সময় দৌড় গড়ায় কড়া নাড়ল। মুরুব্বিরা এগিয়ে এলেন কবরস্থানে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশে। অথচ খাটিয়া ছাড়লেন না লাবণ্য চৌধুরী। দুহাতে আকড়ে ধরলেন নিজের সাথে। উনি আর্তনাদ করে বলে চলেছেন,
“আমার কলিজার টুকরোকে নিও না তোমরা। আমার বাচ্চাটা অন্ধকার ভয় পায়। আমি ছাড়া আমার বাচ্চার চলবে না। খুব কাঁদবে একাকী। ওকে নিও না তোমরা।”
এক জীবনের শেষ বিদায়বেলা বড়োই কঠিন। এত সহজে কি ত্যাগ করা যায় এই ধরণির আকাশে বাতাসে ভেসে চলা মায়া, মমতা, মোহ? লাবণ্য চৌধুরীর মুখ নিঃসৃত যন্ত্রণাক্লিষ্ট শব্দ গুলোতে আরও একদফা কাঁদল গ্রামবাসী। মানুষটা নিজের মধ্যে নেই। জোরপূর্বক ধরে রাখা হলো ওনাকে। প্রাণের টুকরো ছেলেকে তিনি কোনোভাবেই নিয়ে যেতে দিবেন না। সন্তান হারা জন্মদাত্রীর হাহাকারে ক্রমশ ভারী উঠছে চৌধুরী বাড়ির পরিবেশ। কী করুণ সুর সেই কান্নার! তামজাদ চৌধুরী, আরুষ সহ আরও দুজন কাঁধে তুলে নিল খাটিয়া। বাবার কাঁধে ছেলের লাশ। এর চাইতে হৃদয়বিদারক কি আর কিছু হতে পারে এই পৃথিবীর বুকে? চোখের পানি ফেলতে ফেলতে এগিয়ে চললেন তামজাদ চোধুরী। আরুষ আজ নির্জীব হয়ে গেছে। সামান্য কয়েক দিনের পরিচয়ে বড্ড আপন হয়ে গিয়েছিল ছেলেটা। ছোট ভাইয়ের জায়গা দখল করে নিয়েছিল তার চমৎকার ব্যবহার দিয়ে। অথচ বাস্তবতা সব কেড়ে নিল।
অদিতি নিষ্প্রাণ নেত্রে রবীর শেষ প্রস্থানের দিকে একচিত্তে তাকিয়ে আছে। সকাল থেকে এই অবধি মেয়েটা না একফোঁটা চোখের পানি ফেলেছে আর না একটা শব্দ উচ্চারণ করেছে। এই পর্যায়ে গুঞ্জরিকার একটা হাত শক্ত করে ধরল। শরীর খানা থরথর করে কাঁপছে। অদূরের খাটিয়াটার দিকে ঝাঁপসা দৃষ্টিতে চেয়ে প্রথমবারের মত অস্ফুট স্বরে আওড়াল,
“শেষ, সব শেষ ভাবীজান। আমার একটা সংসার হলো না।”
মুখের কথা শেষ হতেই মেয়েটার চারপাশ ঘনিয়ে আঁধার নেমে এল। চোখ দুটো নিজ থেকেই বুঁজে গেল। দিকবেদিক শূন্য অনুভূত হলো। অদিতি অচেতন হয়ে পড়েছে অনুভব করতেই গুঞ্জরিকা হাউমাউ করে কেঁদে উঠল। মুহুর্তেই হুলুস্থুল কাণ্ড বেঁধে গেল। জনসমাগমের মধ্যে থেকে কেউ ছুটল পানি আনতে কেউ বা ছুটল ওদের দিকে।
.
মধ্যরাতে প্রকৃতি নিঃসাড় নীরবতায় আচ্ছন্ন হয়ে আছে। শেখ পরিবারের সকলে ঘণ্টাখানেক হলো নিজ বাসগৃহে এসে পৌঁছেছে। সবাইকে অবাকের শীর্ষে পৌঁছে দিয়ে অদিতিও বাবার বাড়িতে ফিরে এসেছে। সঙ্গে কিচ্ছুটি আনেনি। সারাদিনে শুধু একটা বাক্য উচ্চারণ করেছে মেয়েটা। গোসল খাওয়া দাওয়া কিছু নেই। বাড়িতে এসেই নিজ কক্ষে খিল দিয়ে নিজেকে ঘরবন্দি করেছে। রোকেয়া শেখের কান্না থামেনি। একভাবে কেঁদেই চলেছেন। মেয়ের শখের ঘরটা ভেঙে যাওয়ায় ওনার বুক ফেটে যাচ্ছে। পরিবারের সবাই বসার ঘরেই উপস্থিত আছে কেবল গুঞ্জরিকা এবং আরুষ ব্যতীত।
অন্ধকারের অতল গহ্বরে তলিয়ে আছে বদ্ধ কক্ষখানা। নিঃশ্বাসের শব্দ ব্যতীত আর কোনো শব্দের আনাগোনা নেই। পালঙ্কের একপাশে একটা নারী কায়া স্পষ্ট। বালিশে মাথা রেখে একদৃষ্টে ছাদের দিকে তাকিয়ে আছে। চাহনি মৃত। আনন পাণ্ডুর বর্ণ ধারণ করেছে। সহসা ঠোঁটের কোণ ঘেঁষে সুক্ষ্ম তাচ্ছিল্যের হাসির রেশ ছড়াল। সেভাবেই স্থির দৃষ্টিতে চেয়ে বিড়বিড় করে বলল,
“তাকে ভোলা অসম্ভব নয়
আবার সম্ভবও নয়”
চলবে
(রিচেক নেই। ভুলত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। আপনাদের সকলের রেসপন্স ও গঠনমূলক মন্তব্যের আশা রাখি।)
Share On:
TAGS: ইসরাত তন্বী, পরগাছা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
পরগাছা পর্ব ১৪
-
পরগাছা পর্ব ১৭
-
পরগাছা পর্ব ৭
-
পরগাছা পর্ব ১০
-
পরগাছা পর্ব ২
-
পরগাছা পর্ব ১৩
-
পরগাছা পর্ব ৬
-
পরগাছা পর্ব ১১
-
পরগাছা গল্পের লিংক
-
পরগাছা পর্ব ৩