Golpo romantic golpo নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা

নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ২৭


নীভৃতেপ্রেমআমার_নীলাঞ্জনা

নাজনীননেছানাবিলা

পর্ব_২৭

অনুমতি ব্যতীত কপি করা নিষেধ ❌❌❌❌❌❌

ক্যাবে করে নিজেদের আ্যপার্টমেন্টে ফিরছে নীলা আর ইকরা। দুজনেই নিরব।ইকরা বসে বসে মুনভির কথা গুলো ভাবছে। লোকটা পারেও বটে।মুখ দেখেই ইকরা স্পষ্ট বুঝতে পেরেছিল যে মুনভি ভর্তা বানাতে পারে না।তুবুও ভাব নেওয়ার জন্য হ্যাঁ বলে দিল।

অন্যদিকে নীলা মনে মনে কেবল একটি কথাই আওড়াচ্ছে_
আমার ফুফুর সন্ধান পেয়েছি। অবশেষে ফুফু কে পেয়েছি।এখন যে করেই হোক ফুফুর সাথে পরিচিত হয়ে ফুফু আর বাবার এবং চাচাদের সম্পর্কে আগে মতোন করে তুলতে হবে। কিন্তু তার আগে ইরফানের সাথে উনার কি সমস্যা হয়েছে তা আমাকে জানতেই হবে।

কিন্তু নীলাকে মুনভির বলা একটা কথা ভীষণ ভাবাচ্ছে। মুনভি বলেছিল মিহাল নাকি তার প্রেমিক হাবুডুবু খাচ্ছে। কিন্তু এটা কি করে সম্ভব? তারপর আবার নীলার মনে পড়ে যায় যে মিহাল তার জন্য সারারাত জেগে থেকে তার প্রজেক্ট করে দিয়েছিল। নীলা নিজেকে এক গোলক ধাঁধায় আবিষ্কার করল। তার মনের মাঝে যত প্রশ্ন আছে সব প্রশ্নের উত্তর মুনভি এবং মিহালই দিতে পারে।


নীলা আর ইকরা কে ক্যাবে উঠিয়ে দেওয়ার পর তাদের গাড়ি কিছুটা দূরে যেতেই মুনভির পিঠে ভাদ্র মাসের তাল পরলো। আর সেই তাল অর্থাৎ মুনভির পিঠে জোরে ঘুষি মারার ব্যক্তিটি মিহাল স্বয়ং নিজেই।মুনভি এইবার ব্যথার আর্তনাদ করে উঠলো _
আউচ মিহাল।

মিহাল রাগে দাঁতে দাঁত চেপে বলল__
শা*লা আমায় বলিস নি কেন তুই আজ ওর সাথে দেখা করবি?

মুনভি পিঠে হাত বুলাতে বুলাতে জিজ্ঞেস করল _
ও টা কে? আচ্ছা বুঝছি তোর বোনের কথা বলছিস অবশ্য ভাবিও বলতে পারিস ইরফানের বউ বলে কথা।

মিহালের চোয়াল শক্ত হয়ে গেল।সে মুনভির দিকে অগ্নি দৃষ্টি নিক্ষেপ করে বলল_
ও আমার বোন তোর বোন। আর এত ভাবি ডাকার ইচ্ছে হলে নিজে ওকে ভাবি ডাকবি তাতে আমার কোন অসুবিধা নেই। এবং লাস্টবার ওয়ার্নিং দিচ্ছি ওই‌ ইঁদুরের নাম বলবি না। অসভ্য প্রানী ওকে তো আমি ইঁদুর মারার বিষ খাওবো।

মুনভি মিহালেল কথার মাঝে ফোড়ন কেটে বলল_
তার জন্য আপনাকে বাংলাদেশ যেতে হবে।

মিহল নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে বলল __
বাংলাদেশ এমনিতেও যেতে হবে ওমনিতেও যেতে হবে
কার ওই ইঁদুরমুখী ইরফানের কাছ থেকে তো নীলাঞ্জনা ডিভোর্স নেওয়াতে হবে তাই না?

মুনভি মনে মনে বলল __
যার বিয়ে হয়নি তার ডিভোর্স করানোর চিন্তা ভাবছে হাউ ফানি।

কিন্তু মুখে অবাকের ভঙ্গিমা এনে বলল__
কি বলছিস নীলার সাথে ইরফানের ডিভোর্স করাবি কেন?

মিহাল মুনভির কাঁধের উপর হাত রেখে কাঁধ থেকে ধুলা ঝাড়ছে এমন ভাবে হাত নাড়াতে নাড়াতে বলল_
সেই সব কথা তোর ভাবতে হবে না। আপাতত বাড়ি চলে ভর্তা বানাতে হবে তো নাকি? জীবনে বানিয়েছিস ভর্তা?

মুনভি দাঁত কেলিয়ে হেসে বলল__
পারি না তো।জানিও না বানাতে কি কি প্রয়োজন হয়। কিন্তু এখন তো অস্বীকার করতে পারি না সুন্দরী মেয়ের সামনে।আমার একটা প্রেস্টিজ আছে নাকি? আর আমি নিতান্তই একজন জেন্টলম্যান তোর মতোন ভিলেন না।

মিহাল বাঁকা হেসে বলল__
হয়েছে নিজের জেন্টলম্যান গিরি নিজের বউয়ের সামনে দেখাবি আমার সামনে না। আমার সামনে এরকম জেন্টাল ম্যান সেজে থাকলে আমি তোকে বিয়ে করব না। তাই আমার সামনে একদম ভালো সাজা নাটক করবি না।আর চল বাড়ি যাই।মার কাছ থেকে জেনে না হয় ভর্তা বানাবো?

মুনভি খুশি হয়ে বলল __
হ্যাঁ হ্যাঁ চল ভাই আর দেরি করিস না।


কী? তোরা ভর্তা বানানো শিখবি তাও আবার এই ভরা সন্ধ্যা বেলা? বলি বাইরে থেকে কি জ্বিন, ভুত ভর করেছে তোদের উপর?
বলেই কোমরে দুহাত রেখে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করল ইসরাতুল মিনা নিজের ছেলে এবং তার প্রাণ প্রিয় বন্ধুর দিকে।মিহাল এবং মুনভি দুজনেই ভরকে গেল।আসলে বাড়ি ফিরেই মিহাল তার মায়ের কাছে ক্লাস টু এর বাচ্চার মত বায়না ধরেছে ভর্তা বানানো শেখাতে। এই অসময়ে ভর্তা বানানোর কারণ জানতে চাইলে মিহাল কোনো নির্দিষ্ট কারণ বলতে না পারায় তার মা বেজায় চটেছেন।এখন মুনভি এবং মিহাল দুজনেই এখন মনে মনে দোয়া পড়ছে।

মিনা মির্জা আবার গলার স্বর কিছুটা ভারি করে বললেন__
কি হলো জবাব দিচ্ছিস না কেন? এখন ভর্তা বানানো শিখতে চাইলে কেন হঠাৎ? জীবনে তো কখনো চাসনি। তাহলে আজ কেন তাও এই মুহূর্তে? আবার কারণ বলতে পারছিস না? বড় হয়ে গিয়েছিস মানে এই না যে আমি এখন তোদেরকে মারতে পারবো না। রান্নাঘরেই আছি আর এখানে যেমন আমি আছি তেমন বেলুন আছে।বেলুন দিয়ে পিটিয়ে দুজনের মাথা ফাটিয়ে ভর্তা বানিয়ে দিব। তাড়াতাড়ি বল এই অসময়ে ভর্তা বানানো শিখতে চাইলি কেন? নাকি আমি মিনু কে কল করে আসতে বলবো?

নিজের মায়ের কথা শুনে মুনভি ঘাবড়ে গেল। কুনি দিয়ে মিহাল কে গুঁতো দিল‌।মিহাল মুনভির দিকে তাকাতেই মুনভি মিহাল কে চোখ দিয়ে ইশারা করে বলল তার মাকে সামলাতে।মিহাল শুকনো ঢোঁক গিলে মায়ের দিকে তাকালো।মিনা মির্জা ও এখনো উত্তরের আশায় নিজের সামনে অপরাধীর ন্যায় দাঁড়িয়ে থাকা দুই যুবকে দিকে চেয়ে আছে।

মিহাল তোতলাতে তোতলাতে বলল__
আসলে মা হয়েছে কি ওই যে মানে… আ…

মিনা মির্জা চোখ পাকিয়ে ধমকের সুরে বলেন __
মিহাল ওও আআ ইই এএ করো না যা বলার স্পষ্ট বলো। নয়তো একটা মারও মাটিতে পড়বে না।

মিহাল অসহায় দৃষ্টিতে মুনভির দিকে তাকালো। মুনভি মিহালের কাঁধে হাত রেখে তাকে আশ্বস্ত দিয়ে ফিসফিস করে বলল_
ভাই মুখে যা আসে তাই বল। চিন্তা করিস না তুই একা পিটনি খাবি না তোর সাথে আমিও খাব। দুজন মিলে না হয় আজকে একটু মাইর খেলাম সমস্যা নেই। দুজন মিলে ৫০-৫০ শেয়ার করে নিব। আপাতত বলে ফেল নয়তো দেখা যাবে দুজনের ফিফটির জায়গায় ৫০০% ৫০০% করে মাইর শেয়ার করতে হবে।

মিহাল এবার কিছুটা ভরসা পেল মায়ের দিকে তাকিয়ে এক নিঃশ্বাসে বললে ফেলল_
আসলে কালকে আমার এক বন্ধুর জন্মদিন। সে মাস খানেক আগে আমাদের কাছে ভর্তা খাওয়ার জন্য আর্জি জানিয়েছিল।কিন্তু মনে না থাকা এবং ব্যস্ততার কারণে তাকে ভর্তা বানিয়ে খাওয়ানো হয়নি। হঠাৎ মনে পড়ল কিছুদিন আগে সে বলেছিল তার জন্মদিনের দিন তাকে ভর্তা বানিয়ে খাওয়াতে হবে এটা ছিল তার আবদার এখন তার জন্মদিন কালকে আর আমাদের কোনরকম প্রিপারেশন নেই তাই তোমার কাছে আসা তুমি দয়া করে আমাদেরকে ভর্তা কিভাবে বানাতে হয় তা একটু বলে দাও এবং প্রথমে একটু দেখিয়ে দাও তারপর আজকে সারা রাত জেগে আমরা নিজ হাতে ভর্তা বানাবো।
কথাগুলো বলেই থামলা মিহাল এক লম্বা শ্বাস ফেললো।

মুনভি হা করে তাকিয়ে আছে মিহালের দিকে। সে কল্পনাও করতে পারেনি মিহাল তার মায়ের সামনে একনাগাড়ে এত বড় মিথ্যা কথা বলে ফেলবে। মিনা মির্জার মন হয়তো কিছুটা গলল।তিনি শীতল দৃষ্টি নিক্ষেপ করে শান্ত গলায় বললেন,,,, এ কথাটা আগে বললেই পারতি এতক্ষণে এক পদের ভর্তা কি করে বানাতে হয় তা শিখিয়ে দিতাম। যাই হোক এখন আর বেশি কথা না বলে পরনের কাপড়গুলো ছেড়ে অন্য কোন পোশাক পড়ে আয় তারপর আমি দেখিয়ে দিচ্ছি কিভাবে ভর্তা বানাতে হয়।

মিহাল আর মুনভি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো। মিহাল নিজের ঘরে গিয়ে কাপড় চেঞ্জ করে এলো। এবং মুনভি আগে থেকেই এ বাড়িতে আসা যাওয়া করতো তাই সবসময় তার জন্য একটি রুম বরাদ্দ থাকতো এবং সেখানে তার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র এবং কাপড় চোপড় থাকতো।মুনভি সেই রুমে গিয়ে চেঞ্জ করে নিল।দুজনেই শার্ট-প্যান্ট এবং হাফ হাতা গেঞ্জি পরে নিচে এলো। দুজনের চোখে মুখেই নতুন কিছু শেখার উৎফুল্ল।

মিনা মির্জা তিনটি শিলনোড়া বের করলেন। তাদের বাড়িতে আগে থেকেই ছিল। তিনটি থাকার কারণ হলো বাংলাদেশে মামুন খানের এক বন্ধু আছে যার ফ্যাক্টরিতে শিলনোড়া বানানো হয়। সে মাঝে মধ্যেই দেশ থেকে এখানে পাঠিয়ে দেন। ফলস্বরূপ এখন তাদের বাসায় তিনটা শিলনোড়া আছে। রান্নাঘরে সুন্দর করে সবকিছু সামনে রাখলেন মিনা মির্জা। মুনভি এবং মিহাল এসে মিনা মির্জার দুপাশে বসলো।

মিনা মির্জা তাদেরকে উদ্দেশ্য করে বলতে লাগলো__
ভর্তা বানানোর জন্য সবথেকে প্রয়োজন হলো কাঁচা মরিচ, শুকনা, মরিচ,এবং পেঁয়াজ এবং রসুন। এগুলোকে চুলোয় হালকা আঁচে একটু ভেঁজে নিতে হবে। আবার কিছু ভর্তা আছে যেগুলোতে জিনিসগুলো না ভাজলেও হয়। তাহলে ভর্তায় ধাক লাগে বেশি। ভর্তা কয়েক রকমের বানানো যায়। ঘরে যেগুলো আছে সেগুলো দিয়ে অল্প ভর্তা হবে। তাই আমি মার্কো কে পাঠিয়েছি বাইরে থেকে কিছু জিনিস আনতে। এখন আমি দেখিয়ে দিয়ে যাচ্ছি কিভাবে বানাতে হয় তোরা দেখে শিখেনে তারপর সে জিনিসগুলো আনলে তোরা নিজেদের মতো ভর্তা বানাতে পারবে।

মিহাল এবং মুনভি কেবল নিজেদের মাথা নাড়ল অর্থাৎ তারা বুঝতে পেরেছে। মিনা মির্জা কয়েক পদের ভর্তা অল্প অল্প করে বানিয়ে তাদেরকে শিখিয়ে দিলেন কিভাবে ভর্তা বানাতে হয়, যেমন লালমরিচের ভর্তা, ধনেপাতার ভর্তা, শুধু রসুন আর শুকনো মরিচের ভর্তা তাছাড়াও আরো কয়েক পদের ভর্তা বানানো শিখিয়ে দিলেন। মিহাল এবং মুনভি খুব মনোযোগ সহকারে দেখে নিল। এবং সাথে সাথে তারাও চেষ্টা করল। প্রথম প্রথম একটু কষ্ট হলেও পরে আস্তে আস্তে তারাও শিখে ফেলেছে। আর ছেলেমানুষ শরীরের জোর দিতেই মরিচ পেঁয়াজ এগুলো মিহি হয়ে যাচ্ছে সহজেই। তারা যখন কি করতে হবে তা বুঝে ফেলল তখনই মিনা মির্জাকে বুঝিয়ে সাজিয়ে ঘরে পাঠিয়ে দিল। এখন দুই বন্ধু মিলে কাজে লেগে পড়লো ভর্তা বানানোর। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখে তাদের শিখতে শিখতে রাত দশটা বেজে গেছে। আজ সারারাত জেগে থেকে ভর্তা বানাতে হবে।

মুনভি মিহালের দিকে তাকালো। মিহাল চুলের আঁচে পেঁয়াজ কাঁচামরিচ এগুলো ভাজছে। মুনভি মনে মনে বলল__
গত রাতেওত ছেলেটা ঘুমোয়নি, নীলার প্রজেক্ট বানানোর কারণে।আবার আজ পরিশ্রম করে ভর্তা বানিয়ে দিচ্ছে।মিহাল নিজে ও জানে না সে কতটা ভালবেসে ফেলেছে তার নীলাঞ্জনা কে। মন চাচ্ছে এখনি তাকে বলে দেই যে তার নীলাঞ্জনা বিবাহিত না কিন্তু তার আগে মিহালের নিজের ভালোবাসার কথা নিজের মুখ দিয়ে স্বীকার করতে হবে। আমি চাইনা মিহাল নিজের ইগো নিজের অস্বীকারোক্তির কারণে কিছু হারাক। বন্ধু হয়ে নিজের বন্ধুকে আর যাই হোক কষ্ট পেতে দিবো না।


নীলা এবং ইকরা সব কিছু গোছগাছ করে করে তৈরি রেখেছে। কালকে ইউনিভার্সিটি থেকে এসে খাওয়া-দাওয়া করে আসরের নামাজ পড়েই তারা যাবে সেখানে পিঠা বিক্রি করতে। বিকাল থেকে রাত আটটা পর্যন্ত ভালো বেচাকেনা করতে পারবে সেখানে।তারপর বাড়ি এসে আবার পড়াশোনা করতে হবে তাদের। এভাবেই প্ল্যান করলো দুজন মিলে। আর উইকেন্ডে সকাল থেকে রাত দশটা পর্যন্ত পালাপালা করে থাকবে দুজনে।

সকল কাজ মিটিয়ে ড্রয়িং রুমের সোফায় বসলে দুজনে। নীলা সিলিং এর দিকে তাকিয়ে থেকে ইকরার উদ্দেশ্যে বলল__
তোর কি মনে হয় পেয়ারে লাল এবং তোর সেই জেন্টলম্যান কি ভর্তা বানাতে পারবে? তারা কি আদৌ কখনো ভর্তা বানিয়েছে আমার তো মনে হচ্ছে কখনো ভর্তা খেয়েও দেখেনি। বডি দেখলেই মনে হয় সব সময় ডায়েট করে এসেছে।

ইকরা হেসে উঠল নীলার কথা শুনে। হাসতে হাসতে বলল__
এত চিন্তা হলে ফোন করে দেখ যদি তারা না পারে তাহলে আমাদেরই ম্যানেজ করতে হবে কিছু করার নেই।

নীলা বিন বাক্যে ফোন বের করে মুনভি কে কল লাগালো।
মুনভি কেবল একপদের অনেকগুলো ভর্তা বানিয়ে শেষ করল ভর্তাগুলো শিলনোড়া থেকে একটি বক্সে তুলে হাত ধুয়ে নিল কারণ এখন আরেক পদের ভর্তা বানাবে ঠিক এমন সময় হঠাৎ তার কল বেজে উঠল। মিহাল তখন শিলনোড়াতে ভর্তা বানাতে ব্যস্ত।
মুনভি কল ধরে কিছুটা দূরে গিয়ে ফিসফিসিয়ে কথা বলল_
হ্যালো আমি বেশি জোরে কথা বলতে পারব না কারণ আমি আর মিহাল রান্নাঘরে ভর্তা বানাচ্ছি তোমরা চিন্তা করো না। আর তোমার ফুফু প্রথমে দেখি দিয়েছিল ভালো করে আমাদেরকে তাই আমাদের ভর্তা বানাতে অসুবিধা হচ্ছে না।

নীলা আর ইকরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়লো। মুনভি লক্ষ্য করল মিহাল ভর্তা বানাতে বানাতে একা একাই বকবক করছে। মুনভি দুষ্টু হেসে নীলা এবং ইকরার উদ্দেশ্যে বলল_
মিহাল কি বলে শুনতে চাও তোমরা?

নীলা এবং ইকরা দুজনেই নড়ে চড়ে উঠলো এবং একসঙ্গে বলে উঠলো_
নিঃসন্দেহে হ্যাঁ।

মুনভি বাঁকা হেসে ফোন পকেটে ভরে মিহাল এর কাছে গিয়ে বলতে লাগলো__
আচ্ছা এই মুহূর্তে যদি তুই ইরফান কে পেতি তাহলে কি করতি?

মিহাল ভর্তা বানানো ছেড়ে মুনভির দিকে তাকালো এবং কিছুক্ষণ নীরব থেকে তারপর জবাব দিল_
তাহলে এই লাল মরিচের ভর্তা তার পাছায় লাগিয়ে দিতাম। আসছে আমার নীলাঞ্জনা কে বিয়ে করতে। সে আমার নীলাকে ডিজার্ভ করে না। আবার নাকি বাংলাদেশের নীলাকে বিয়ে করে বসে আছে। ইচ্ছে করছে এই ভর্তা ওর,,,
বলেই থামল মিহাল। ইরফান তার নাকে দম করে রেখেছে। ইচ্ছে করছে ইরফানের মাথা শিলনোড়ায় রেখে ভর্তা বানিয়ে ফেলতে কিন্তু আফসোস এখন সেটা করতে পারছে না তাই আবার ভর্তা বানানোর দিকে মনোনিবেশ করল।

নীলা এবং ইকরার ফোন মিউট করা ছিল। মিহালের কথা শুনে তারা দুজনে হাসতে হাসতে সোফা থেকে নিচে পড়ে গিয়েছে। নীলা অবাক না হয়ে পারছে না। মিহাল ইউনিভার্সিটিতে মুখের মাঝে যেই গম্ভীর্য এনে রাখে তার তুলনায় এখনের বলা কথা এক দম ভিন্ন। হাসতে হাসতে দুজনেই মাটিতে গড়াগড়ি খাচ্ছে। এমন কথা শুনতে হবে তারা কখনোই ভাবতে পারেনি।মুনভি নিজেও হাসতে হাসতে বেহাল অবস্থা। কোনমতে পকেট থেকে ফোন বের করে ফোন কেটে ফেলল সে। তার কটন ক্যান্ডির সামনে মান ইজ্জতের ফালুদা। মিহাল যদি জানতে পারে সে এইমাত্র যে কথাটি বলেছে সে কথাটি তার নীলাঞ্জনা শুনেছে তাহলে হয়তো মুভির ভর্তা বানিয়ে ফেলতে এতক্ষণে। কিন্তু আফসোস বেচারা কিছুই জানেনা।

আজকে রাত দুইটাই তারা দুজন মিলে কয়েক পদের ভর্তা বানিয়ে খান্ত হলো। দুজন মিলে বানিয়েও এতক্ষণ সময় লেগেছে কারণ আগে কখনো তাদের ভর্তা বানিয়ে অভ্যাস নেই। একটু পর পর হাত জ্বালাপোড়া করেছে। বারবার ভর্তা বানানো রেখে উঠে দাঁড়িয়েছে কারণ এভাবে বসে থাকার কারণে মাজায় টান পড়ে যায় বারবার। এসব করতে করতেই রাত দুইটা বেজে গিয়েছে তাদের। তারপর শাওয়ার নিয়ে বিছানায় গা এলিয়ে দিয়েছে দুই ক্লান্ত পুরুষ। অথচ শরীর ক্লান্ত থাকলেও চোখে মুখে বিরক্তির কোন ছাপ নেই কারণ তারা তাদের ভালোবাসার মানুষের জন্য কিছু করতে পেরেছে এতেই তারা খুশি। ভালোবাসার মানুষের জন্য তো একটু কষ্ট করাই যায়।

চলবে? কাল আসবে হয়তো।না আসলেও পরশু।

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply