নীভৃতেপ্রেমআমার_নীলাঞ্জনা
নাজনীননেছানাবিলা
সারপ্রাইজ_পর্ব
অনুমতি ব্যতীত কপি করা নিষেধ ❌❌❌❌❌
নীলা এই দিক সেইদিক তাকাচ্ছে এবং ইকরা কে খোঁজার চেষ্টা করছে কিন্তু কোথাও দেখতে পারছে না।কপালে তার চিন্তার ভাঁজ পরলো। সে আর এক জায়গায় স্থির হয়ে বসে থাকতে পারছে না। মেয়েটা ফোন রেখে গিয়েছে নয়তো ফোন দিলেই জানা যেত। তার ওপর মেয়েটা ভীতু প্রকৃতির।নীলা আর নিজের স্থানে বসে থাকতে পারলো না উঠে দাঁড়ালো। হঠাৎ লিসার নজর গেল নীলার দিকে। নীলাকে এখানে দেখে তার চোখ বড় বড় হয়ে গেল।সে তো একটু আগে ছিল মেয়েটি কে _
সে আর কিছুই ভাবতে পারলো না লিসা।তার হাত পা রিতিমত কাঁপছে।
নীলা নিজের সিট থেকে উঠে সামনে তাকাতেই দেখলো
ওইদিনের মেয়েটি তার দিকে ভীতুর ন্যায় চেয়ে আছে।নীলার সন্দেহ হলো। এই মেয়েটি তো সেই দিনও তার দিকে তেজি দৃষ্টি নিয়ে চেয়েছিল অথচ আজ তার তাকানো ধরন একদম ভিন্ন। কিন্তু নীলা এই বিষয় নিয়ে মাথা ঘামালো না। সে চলে এলো সেখান থেকে। উদ্দেশ্য তার ইকরার কাছে যাওয়ার।
মিহাল ল্যাপটপে টাইপ করছে। অবশেষে নতুন স্টুডেন্ট দের লিস্ট পেয়ে গিয়েছে সে। এখন শুধু এদের মাঝে একজন মেয়েকে তার খুঁজে বের করতে হবে। একের পর এক স্টুডেন্ট এর ডিটেলস দেখে যাচ্ছে সে। কোথাও মির্জা নাম খুঁজে পাচ্ছে না। অবশেষ পাঁচজন বাঙালি মানুষ পেয়েছে যাদের নামের শেষে মির্জা আছে। তাদের মধ্যে তিনজন মেয়ে আর দুইজন ছেলে। এখন শুধু এই তিনজন মেয়ের মধ্যে একজনকে খুঁজতে হবে।এক জনের নাম নুসা মির্জা, আরেক জনের নাম মুনা মির্জা এবং একজনের নাম নীলা মির্জা। নামটি পড়ার পর তার কেমন অদ্ভুত অনুভূতি হলো।মন বললো এইটাই সেই ছোট্ট নীলাঞ্জনা। কিন্তু সে মনের থেকে বেশি মাথার কথাকে প্রায়োরিটি দেয়। তাই সিওর হবার জন্য নীলা মির্জার ডিটেইলস চেইক করতে লাগলো। আস্তে আস্তে লোড হচ্ছে প্রোফাইল। প্রথম নীলা মির্জার নাম শো করল। তারপর তার একাডেমিক ডিটেলস আসলো । তারপর জন্ম তারিখ যা দেখে মিহালের টনক নড়লো।কারণ তার মনে আছে নীলাঞ্জনার জন্ম তারিখ।সেই দিন তারা বাংলাদেশ গিয়েছিল। ২০ এপ্রিল। তারপর শো করলো মা বাবার নাম।যা দেখে মিহাল স্তব্ধ হয়ে গেল। বাবার নাম নিলয় মির্জা অর্থাৎ তার মেজো মামা।মিহালের ঠোঁট হাসি ফুটে উঠল। অবশেষে সে তার লক্ষ্য পৌঁছানোর সিঁড়ি হাতে পেয়েছে। ঠোঁট দিয়ে একটা কথাই বের হলো_
নীলা মির্জা।সেই ছোট্ট নীলাঞ্জনা এখন নীলা মির্জা।বেশ সুন্দর নাম। কিন্তু নীলাঞ্জনা নামটা পারফেক্ট।
মুখে তার স্মিত হাসি ফুটে উঠল।মুখের হাসি বজায় ছবিতে ক্লিক করলো।ছবি আস্তে আস্তে লোড হচ্ছে। সিগন্যালে সমস্যা দেখা দিচ্ছে খুব ধীরে ধীরে ছবি লোড হচ্ছে।কপাল পর্যন্ত দৃশ্যমান হয়েছে ছবিটি।যেই না চোখের ভ্রু পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে ওমনি মিহালের ফোন বেজে উঠল।মিহাল বিরক্তি নিয়ে পকেট থেকে ফোন বরে করে ফোন ধরতেই ফোনের অপর প্রান্ত থেকে মুনভি বলতে লাগলো __
প্লিজ তাড়াতাড়ি C4 ক্লাসে আয় না থাকা তুই একদম মেডিকেল রুমে যা গিয়ে ব্যবস্থা কর একটু ইমার্জেন্সি আছে ভাই।
মুনভির কথা শুনে মিহাল দুশ্চিন্তায় পরে গেল হঠাৎ কি হলো এমন। কিন্তু এহেন পরিস্থিতিতে কোনো প্রশ্ন না করে সে ফোন কেটে দিল। এবং কম্পিউটার অফ করে বের হয়ে গেল রুম থেকে। উদ্দেশ্য তার মেডিকেল রুম।
তার আর দেখা হলো না নীলা কে।
নীলা C4 ক্লাসের দিকে আসতে লাগলো।সে শুনেছিল ইকরা এখানে আসছে তাই এখানে চলে এলো। তার মন বলছে কিছু একটা হয়েছে।
অন্যদিকে মুনভি C4 রুমে ইকরা কে ধরে নিয়ে একটি বেঞ্চের উপর বসালো এবং দেওয়ালে হেলান দিয়ে মাথা রাখলো ইকরার।দরজা দিয়ে আলো আসছে রুমে।মুনভি নিজের ফোনের লাইট জ্বালিয়ে সুইচ বোর্ড খুঁজতে লাগলো এবং অবশেষে পেয়েও গেল।লাইট জ্বালিয়ে দিতেই পুরো রুম আলোকিত হয়ে গেল।মুনভি আবার দৌড়ে চলে গেল ইকরা কাছে। মেয়েটির মাস্ক খুলবে কি খুলবে না বুঝতে পারছে না।আবার কোলো নিয়ে মেডিকেল রুমে যাবে কিনা সেটাই নিয়েও দ্বিধাবোধ করছে । মেয়েটির জন্য সে পর পুরুষ কি করে এভাবে ছুঁইবে? কিন্তু এখন যে আর কোনো উপায় না।আবার তার কোর্ট দিয়ে কোনো রকম পিঠ ঢাকা হয়েছে।সে নিজ হাতে কোর্টটি পরিয়েও দিতে পারছে না।
এমন সময় নীলা হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এলো।ইকরা ইকরা করে ডাকতে ডাকতে ক্লাসরুমের ভেতর ঢুকে পড়লো। ইকরা কে এই অবস্থায় দেখে তার হাত পা ঠান্ডা হয়ে গেল। অবাকের চরম পর্যায়ে চলে গেল সাথে দুশ্চিন্তা তো আছেই।আর ইকরার পাশে সেই দিনের ছেলেটি।
নীলা দৌড়ে ইকরার কাছে গিয়ে ইকরার বাহু জোড়া আলতো করে ধরে চিন্তিত কন্ঠ বলতে লাগলো _ ইকরা এই ইকরা চোখ খুল বোন আমার। এইযে আমি আছি তো। মুনভি সে দিনের মেয়েটিকে দেখে কিছুটা নিশ্চিন্ত হল। তারপর নিজ থেকেই সমস্ত ঘটনা খুলে বলল এবং বলল
ওকে এই কোর্টটা ভালো গরিব পরিয়ে দাও এবং মুখের মাস্ক খুলে দাও। তাহলে ভালোভাবে শ্বাস নিতে পারবে। আর পানি থাকলে অনেক ভালো হতো। ওকে মুখে ছিটিয়ে জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা করা যেত। এবং ওকে ধর আমিও আছি দুজন মিলে মেডিকেল রুমে নিয়ে যাবো।
তখন নীলা যুবকটির দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো _
কিন্তু এই অনুষ্ঠানের সময় তো স্টেজের সামনে আছে সবাই। মেডিকেল রুমের ডক্টর কি করে পাবো?
মুনভি আশ্বাস দিয়ে বলল__
ডোন্ট ওয়ারি আমি নিজেই একজন ডাক্তার।
নীলা যেন চিন্তা মুক্ত হলো।সে ইকরা কে কোর্ট পরিয়ে নিতে গেলে দেখলো পিঠ অনেকটা ছুলে গিয়েছে। রক্তের দাগ লেগে আছে। কিন্তু ভাগ্য ভালো যে রক্ত পড়া বন্ধ হয়েছে। নীলা খুব যত্ন সহকারে ইকরার কে কোর্ট পরিয়ে দিল। এবং মুখের মাস্ক খুলে ফেলল। তার কাছে ভাগ্যক্রমে একটি পানির বোতল ছিল সে বোতল থেকে অল্প একটু পানি ইকরার চোখ মুখে ছিটিয়ে দিতেই ইকরার জ্ঞান ফিরল।সে আস্তে আস্তে চোখ খুলল। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গেই ভয়ে গুটিয়ে গেল।নীলা তাকে আগলে নিল।তারপর ইকরা কে ধরে তুললো এবং ইকরার হাত নিজের কাঁধের উপর নিল। আর নিজের এক হাত ইকরার কোমরে রাখলো এবং আরেক হাত দিয়ে ইকরার অন্য হাত যেটি তার কাঁধে ছিল সেটি শক্ত করে ধরল।মুনভি আরেক পাশে এসে ইকরার অন্য হাত ধরল। দুজন মিলে সাবধানতা অবলম্বন করে নিয়ে যেতে লাগলো মেডিকেল রুমের দিকে।
আরিশ যথাসম্ভব চেষ্টা করছে বাড়ির সবার প্রিয় হয়ে ওঠার কিন্তু পারছে না। সবাই যেন নীলার শোকে শোকাহত হয়ে আছে। আরশির কাছে লাগছে সবাই এমন ভাব করছে যেন নীলা এই দেশ থেকে নয় বরং এই দুনিয়া থেকে চলে গেছে। অবশ্য দুনিয়া থেকে চলে গেলে হয়তো সে খুশি হত। আরশির এমন ন্যাকামি একদমই ভালো লাগছে না। অন্যদিকে ইবাদ তাকে দেখলেই একই গান গায় “খিচুড়ি খিচুড়ি “এখন তো তার নিজেরও খিচুড়ি খাবারটার প্রতি অভক্তি চলে আসছে। খিচুড়ির নাম শুনলে নিজের কথা মনে পরে তার।আর ইরফান সে যে লেগেছে যেভাবেই হোক সে নাকি প্যারিসে যাবে। আর এর এক মাত্র মাধ্যম হচ্ছে বিজনেস। তাই বিদেশে এমন কোন ক্লায়েন্ট খুঁজেছে যার সাথে বিজনেস করার জন্য তাকে প্যারিসে দিতে হবে। এবং এই কারণেই সে দিন-রাত বিজনেসের কাজে মনোনিবেশ করছে।তার আর আরশির সম্পর্ক বিয়ের পর আগানোর বদলে বড় পিছিয়ে যাচ্ছে।আগে তারা যেভাবে থাকতো এখন তার উল্টো হয়ে যাচ্ছে। ওইযে নিয়তি কাউকে ছাড় দেয়না। হয়তো নিজেদের পাপের শাস্তি এখন থেকে তারা পাওয়া শুরু করেছে।
মিহাল মেডিকেল রুমে এসে লক খুলে আগে বেড রেডি করেছে। আর প্রয়োজনীয় জিনিস সব সামনাসামনি রেখেছে। যেহেতু ফাংশন চলছে তাই সবাই সেখানেই আছে এজন্যই মেডিকেল রুমে কোন ডাক্তার নেই আপাতত। আর সে ডাকার প্রয়োজন মনে করেনি কারণ মুনভি নিজেই একজন ডাক্তার।
হঠাৎ মুনভির কন্ঠ আসলো তার কানে।মুনভি মেডিকেল রুমের দরজার সামনে এসে দাঁড়িয়ে বলল_
মিহাল।
কন্ঠটি শুনে পেছনে তাকাতেই তার চোখ এক জোড়া চোখে আটকে গেল। সেই নীল শাড়ি পরা মেয়েটি দাঁড়িয়ে আছে।নীলা ও অবাক হয়ে নিজের ইকোনমিক প্রফেসরকে দেখতে। এবং মনে মনে বলল_
তার মানে পেয়ারে লাল এর নাম মিহাল। কিন্তু পেয়ারে লাল টাই বেশি সুন্দর।
মিহাল অবাক হলো কিছুটা কিন্তু মুনভি আর সেই মেয়েটির মাঝখানে থাকা আরেক জন কে দেখে সে হুঁসে ফিরল। মেয়েটিকে দেখে বোঝা যাচ্ছে মেয়েটি অসুস্থ।মিহাল সঙ্গে সঙ্গে সরে গিয়ে তাদের ভেতর দিয়ে আসতে দিল।তারা দুজন মিলে ইকরাকে বেডের উপর বাসালো।ইকরা পিঠের পেছনে নীলা বালিশ রাখলো।ইকরা আস্তে আস্তে নীলার হাত ধরে নরম স্বরে বলল_
নী, হ, নীলা আ,, আমাকে ছে,, ছেড়ে,, ক,, কোথাও যাবি না প্লিজ প্লিজ আমি আমার ভয় করছে।
ইকরার কথাটি শুনে নীলার চোখ ভরে উঠলো সে ইকরা কে জড়িয়ে ধরল।সে বুঝতে পারছে ইকরা কতটা ভয় পেয়েছে।আর মুনভি তার মন ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেল মেয়েটি মুখ থেকে বের হওয়া এই অস্পষ্ট কথা শুনে। তার নিজের উপর রাগ উঠছে এখন যদি সে আরেকটু আগে এসে পড়তো তাহলে হয়তো আমার কিছুই হতো না।
কিন্তু মিহালের যেন পুরো দুনিয়া থমকে গেছে এমন অবস্থা হয়েছে। একটু আগে মেয়েটি যে নাম উচ্চারণ করল সেই নামটি তার কর্ণপাত হতে একদম হৃদয় গিয়ে লাগলো।
নীলা তার মানে কি এই মেয়েটিই নীলা মির্জা? যাকে সে নীলাঞ্জনা বলে।
চলবে???
এখন নীলা নিবে লিসার ক্লাস ☠️☠️🐸
Share On:
TAGS: নাজনীন নেছা নাবিলা, নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ৫(প্রথমাংশ+শেষাংশ)
-
নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ১৪
-
নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ১
-
নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ১৩
-
নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ৬(প্রথমাংশ + শেষাংশ)
-
নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ৮+বোনাস
-
নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ১১
-
নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ৭
-
নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ১৬
-
নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ১০