নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ২০
নাজনীননেছানাবিলা
পর্ব_২০
অনুমতি ব্যতীত কপি করা নিষেধ ❌❌❌❌❌❌
বিশেষ নোট: দুপুরে পর থেকে ভীষণ জর উঠেছিল। ভেবেছিলাম গল্প দিব না। তবুও লেখা ছিল বলে দেতে পারলমা। দোয়া করবেন এবং অন্য গল্প আসবে না সরি।
বাড়িতে আজ কেউই নেই।সবাই ঘুরতে গিয়েছে। ইরফানও গিয়েছিল বটে কিন্তু বাহানা করেই সবার আগে চলে এসেছে। বাকি সবার বাড়ি ফিরতে দুই তিন ঘন্টা লাগবে। ইরফান নিজের বাবার রুমে ঢুকে পুরো রুমে কিছু একটা তল্লাশি করছে। সেদিন বাবা এবং চাচাদের কথা শুনার পর থেকেই এই রুমটার আশেপাশে ঘুরঘুর করছিল যাতে কিছু জানতে পারে। কিন্তু পরবর্তীতে আর কিছুই জানতে পারিনি। কিন্তু তার বাবা এবং চাচাদের কথায় বোঝা গেল বাপ চাচারা তাদের বোন কে অনেক ভালোবাসে। অবশ্যই যার যার রুমে তাদের বোনের কোনো না কোনো স্মৃতি থাকবেই। তাই এই সুযোগটা কাজে লাগাচ্ছে। অবশেষে পেয়ে গেল তার বাবার ডায়েরি। বুদ্ধি করে পুরো ডায়েরিতে যা যা লেখা আছে সব কিছু ছবি তুলে নিল। ডাইরিতে কয়েকটা ছবি পেল। একটি ছোট্ট শিশু মেয়ের। বুঝতে বাকি রইল না এটা তার ফুপি। তারপর আরেকটি ছবি পেল যেখানে তার বাবা এবং চাচারা আছে এবং মাঝখানে একটি মাত্র মেয়ে। ছবিটি খুব ভালো করে দেখে নিল এবং নিজের ফোনে আরেকটি ছবি তুলে । ডায়েরি তে যতটুকু চোখ বুলিয়েছে ততটুকু তো বুঝতে পেরেছে তারা ফুফু কেন তাদের সাথে নেই এখন। কারণ তার ফুপু বাবার বেস্ট ফ্রেন্ডের সাথে পালিয়ে প্যারিসে চলে গিয়েছে।
ইরফান চোরের মত জিনিসগুলো ঠিক জায়গায় রেখে আবার নিজের রুমে চলে এলো। এরপর থেকেই তার মাথায় চড়ে উঠলো প্যারিস যাবার ভুত। চায়না সে যে তার বাবার সাথে তার ফুফুর সম্পর্ক ঠিক হোক। তার ফুপুকে নিয়ে তার কোন সমস্যা নেই। কিন্তু ফুফাতো ভাইকে নিয়ে আছে। সে নিজের কানে শুনেছে তার বাবাকে বলতে যে তার থেকে নাকি সেই ছেলেটা অনেক ভালো। এইটা সে সহ্য করতে পারছে না। দেখা যাবে ভবিষ্যতে তার ফুফুর সাথে তার বাবার সম্পর্ক ভালো হয়ে যাবে এবং নিলার সাথে তার ফুফাতো ভাইয়ের বিয়ে টিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এবং সে এইটা কখনোই হতে দেবে না।তাই তো নীলার মাধ্যমে নিজের পরিবারকে রাজি করিয়ে প্যারিসে চলে গেল। কিন্তু প্যারিসে গিয়ে যা করলো সে তা মনে পড়তেই শরীরের পশম দাঁড়িয়ে যায় তার।
এতক্ষণ ইরফান তার অতীতের করা ঘটনা ভাবছিল।খুব বেশি বাড়াবাড়ি করে ফেলেছে সে এটা হারে হারে টের পাচ্ছে এখন। তার উপর নীলা কেও হারিয়ে ফেলেছে। নিজের করা বোকামির উপর নিজের ভীষণ ঘৃণা হচ্ছে এখন।আর এই বাড়িতে তো এখন প্রায় ঝামেলা হয় আরশির জন্য। বলতে গেলে আরশি ঝামেলা করে। হয়তো ইরফানের মা কে নিজের মা হিসেবে এখনো মেনে নিতে পারছে না মেয়েটা। মেয়েটা সমস্যা কি সে বুঝতে পারছে না। বিয়ের আগে তারা কতবার কাছাকাছি এসেছে। অথচ বিয়ের পর এই মেয়েটার প্রতি আর কোন ইন্টারেস্ট পাচ্ছে না সে।
এসব ভেবেই এক দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো। এখন আর মির্জা বাড়িতে ফিরতে ইচ্ছা করে না তার। বর্তমানছ প্যারিসে যাবার জন্য কোন সুযোগ পাচ্ছে না। তবুও মাথায় বুদ্ধি এসেছিল আরশিকে নিয়ে হানিমুনে যাবে। কিন্তু এই মেয়েটা নাছোড়বান্দা সে প্যারিসে যাবে না গেলে সুইজারল্যান্ড বা অন্য কোথাও যাবে। ইরফান খুব ভালোভাবে বুঝতে পারছে যে মেয়েটি ইচ্ছে করে করছে এমন। তাই সেও বলে দিয়েছে হানিমুনে কোথাও যাবেনা তারা। ব্যাস এই নিয়ে এখন তাদের মধ্যে মনোমালিন্য চলছে। অবশ্য এতে ইরফানের যায় আসে না।
চিতই পিঠা বানানোর সকল উপকরণ প্রস্তুত রেখেছে নীলা এবং ইকরা।আজ তাদের ইউনিভার্সিটি অফ।নীলা অবশ্য ইকরা কে সবটা বুঝিয়ে দিয়েই নিজে ইউনিভার্সিটি থেকে পাওয়া একটি প্রজেক্ট করতে যাবে। গতকাল ইউনিভার্সিটি থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রজেক্ট দিয়েছে। এই প্রজেক্টে যে প্রথম হতে পারবে তারা ফুল স্কলারশিপে পড়তে পারবে ইউনিভার্সিটিতে। আর নীলার যে করেই হোক এই প্রজেক্টে উত্তীর্ণ হতে হবে। কারণ নিজ যোগ্যতাই নিজের প্রয়োজন মেটানোর আনন্দই আলাদা। তাই তো প্রজেক্ট পাওয়ার পর থেকেই এই প্রজেক্টের প্রতি জান লাগিয়ে দিয়েছে। ও হ্যাঁ ইকরা এবং নীলা অ্যানুয়াল ফাংশনের বেস্ট ড্রেজিং সেন্সের জন্য বাছাইকৃত হয়েছে। এবং প্রাইজ পেয়েছে। গতকালই এসেম্বলিতে ঘোষনা করে সবাই সামনে তাদেরকে উপহার দেওয়া হয়েছে। কিন্তু নীলার মধ্যে একটা আক্ষেপ রয়ে গেল যে সেই দিন লিসা মানে সেই অহংকারী মেয়েটি আসেনি। নাহলে নীলা মেয়েটির সামনে দিয়ে বারবার নিজের প্রাইজ নিয়ে ঘুরে বেড়াতো।
প্রোজেক্টের কাজ করছে মন দিয়ে নীলা। তিন ঘন্টা ভরে লেগেছিল কাজে। এখন আর মন বসছে না তাই চেয়ার টেবিল ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো। জানালার সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে বাহিরের সুন্দর দৃশ্য দেখতে লাগলো। আইফেল টাওয়ার আগে শুধু ফোনে এবং টিভিতে দেখেছে এবং এখন নিজের রুমের জানলা দিয়েই দেখতে পাচ্ছে। আসার পর একবারও কোথাও ঘুরতে যাওয়া হয়নি। আসলে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় এসে নিজেকে মানাতে মানাতে অনেকটা সময় কেটে গিয়েছিল। তার ওপর আবার ইকরা একটু অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। কিন্তু এখন মন বলছে কোথাও ঘুরতে যেতে। কিন্তু তার এখানে আপন বলতে তো কেউই নেই। কথাটি ভাবতেই হঠাৎ তার টনক নড়ে উঠলো। সে তো ভুল ভাবছে তার তো খুব কাছের একজন আছে এখানে। কিন্তু আফসোস এইটাই যে সে জানে না তার সে কাছের মানুষটি এখন কোথায় আছে। তার মিনু ফুফু।
হ্যাঁ নীলা সবকিছু জানে। সেদিন প্যারিসে আসার আগেই তার বাবার রুম থেকে একটি ডায়েরি পেয়েছিল এবং সেটি সম্পূর্ণ পড়ে ফেলেছিল। এখানে তার বাবা নিজের ছোট বোনকে নিয়ে অনেক কিছু লিখেছিল। ছোট বোনের প্রতি ভালোবাসা স্নেহ মমতা, রাগ অভিমান সমস্ত কিছু সেই ডায়েরিতে লেখা ছিল। এখানে তার ফুপির একটা ছবিও ছিল। নীলা সেই ছবিটা আসার সময় নিজের সাথে নিয়ে এসেছে। খুব ইচ্ছে করছে নিজের ফুফির সাথে দেখা করতে। এত বড় দেশে সে নিজের ফুপি কে কি করে চিনবে। কি করে খুঁজে বের করবে। তার জন্য অন্তত একটা পরিচিত মানুষ তার প্রয়োজন। এই দেশে তার কোন পরিচিত মানুষ নেই। হঠাৎ মনে পরল একজন ব্যক্তির কথা। একমাত্র এই ব্যক্তিটি তাকে সাহায্য করতে পারবে। মূর্তির মত দাঁড়িয়ে না থেকে চট করে নিজের ব্যাগ থেকে সেই কার্ডটি বের করল এবং কার্ডে থাকা নাম্বারটিতে কল লাগালো। দুইবার রিং হতেই অপর পাশের মানুষটি ফোন ধরল। নীলা নিজের পরিচয় দিতেই মানুষটি খুব ভালোভাবেই তার সাথে কথা বলবো। সে বলল তার খুব প্রয়োজন। লোকটি বলল সে তার যথাসম্ভব চেষ্টা করবে সাহায্য করার জন্য। তারপর আর কি? দুজন মিলে দেখা করার সিদ্ধান্ত নিল। আইফেল টাওয়ারের ব্রিজের ওপর তারা দেখা করবে। কিন্তু এখন না। লোকটির ইদানিং কিছু সার্জারি আছে। নেক্সট উইকেন্ডে দেখা করবে তারা।
মিহাল মায়ের কোলে মাথা রেখে শুয়ে আছে। তার মাথার চুলে পরম যত্নে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে তার মা। এবং নিজের ছোটবেলার কাহিনী শোনাচ্ছে। তার বেশ ভালোই লাগে নিজের মামা বাড়ির কাহিনী শুনতে। তার মায়ের কথায় এতটুকু স্পষ্টোত্তর যে তার মামারা তার মাকে অনেকটাই ভালোবাসতো। হয়তো এখনো ভালবাসে।
অতীতের কথা বলতে বলতে হঠাৎ তার মা বলে উঠলেন_
নিলয় ভাইয়ের মেয়েটি হয়তো অনেক বড় হয়ে গিয়েছে। কি নাম রেখেছে কে জানে। হয়তো ভাইয়ের নামের সাথে মিলিয়ে কিছু একটা রাখা হয়েছে। ইস্ যদি মেয়েটাকে আরেকবার বুকে নিয়ে আদর করতে পারতাম তাহলে পরানটা জুড়িয়ে দিত।
মিহাল আর কথা শুনে নিজের মাথা উপরে তুলে ফেলল মায়ের কোল থেকে। তারপর মায়ের দিকে নরম দৃষ্টিতে তাকিয়ে স্নিগ্ধ স্বরে বলল_
তুমি যদি থাকতে তাহলে সেই ছোট্ট মেয়েটির নাম কি দিতে?
তার মা কিছুক্ষণ চিন্তা করে তারপর জবাব দিল_
আমার নীল রঙ খুব পছন্দের। আবার ভাইয়ের নাম ও নিলয়। অবশ্যই আমি তার নাম নীলা দিতাম। নীলা মির্জা নামটা কিন্তু বেশ মানাতো।
মিহাল ঈষৎ হাসলো। মনে মনে বলল __
তোমার এবং তোমার ভাইদের মনের অনেক মিল আছে। তাই তো মেয়েটির নাম নীলা মির্জা রাখা হয়েছে। কিন্তু আমার জন্য সে সব সময় নীলাঞ্জনা থাকবে। এবং মাঝেমধ্যে লীলা রানী, অথবা ঝাসি কি রানী। এবং আমি কথা দিচ্ছি খুব শীঘ্রই তুমি সেই ছোট্ট মেয়েটিকে আবার বুকে জড়িয়ে নিতে পারবে।
নিজের ছেলেকে কিছু বলতে না দেখে এবং একা একা ঈষৎ হাসতে দেখে মিনা কিছুটা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন_
এভাবে পাগলের মত হাসছিস কেন? কারো প্রেমে পড়েছিস নাকি? কাউকে ভাল লাগলে আমাকে বলে ফেল। আশা করি তোর পছন্দ কখনোই খারাপ হবে না। আমি হাসি মুখে মেনে নেব।
মিহাল ঠোঁট কামড়ে হাসলো।তার মা কতদূর চলে গেল। কিন্তু আসলেই কি সে কাউকে পছন্দ করে?. নিজের মন কে জিজ্ঞেসা করল চোখ বন্ধ করে।চোখ বুজতেই তার চোখের সামনে ভাসমান হয়ে এলো একজোড়া মায়াবী আঁখি। তারপর মায়াবী মূখশী।তেজী অঙ্গি ভঙ্গি।
সে সঙ্গে সঙ্গে চোখ খুলে ফেলল। হবে মাত্রই সে নীলার চেহারা দেখতে পেলো। না চাইতেও মুখে হাসি ফুটে উঠল।
ইসরাতুল মিনা মির্জা ছেলের এহেন কান্ড দেখে হতভম্ব হয়ে গেলেন।মনে হচ্ছে ছেলেটার মাথা গিয়েছে।তিনি ছেলের মাথা হাত দিয়ে বললেন_
বাবা তুই একটু খোলা আকাশের নিচে ঘুরে আয়।
মিহাল হেসে ছাদে চলে গেল।
নীলা এবং ইকরা ইউনিভার্সিটি তে এসেছে। দুজন মিলে করিডোর দিয়ে হাঁটছে এমন সময় সামনে দিয়ে মিহাল হেঁটে আসছে। তাদের ঠিক সামনে দাঁড়িয়ে পরল।নীলা এবং ইকরা উভয়ই সালাম দিল।মিহাল সালামের জবাব দিয়ে ইকরার হাল জিজ্ঞেস করল।ইকরা ভদ্র মেয়ের মতোন জবাব দিল।নীলা এদিক সেদিক তাকিয়ে আছে। কিন্তু সে তো জানেই না বাজ পাখির ন্যায় এক জোড়া চোখ তাকে দেখেই যাচ্ছে।
মিহাল গলা খাঁকারি দিয়ে বলল_
আমি কিছু দিনের জন্য ট্রেইনিং নিতে শহরের বাইরে যাচ্ছি।তোমরা নিজেদের খেয়াল রেখো।
এইবার নীলা নিজের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা পেশিবহুল সুদর্শন লোকটির পানে দৃষ্টিপাত করল।
পরনে তার কালো পেন্ট এবং সাদা টি শার্ট। এবং হালকা খয়েরী রঙের ডেনিম জ্যাকেট।বেশ ভালোই মানিয়েছে লোকটিকে এই পোশাকে।নীলা তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে চোখ বুলিয়ে নিল সামনে দাঁড়িয়ে থাকা সুদর্শন যুবকটির উপর।ঘন কালো সিল্কি চুল।খাড়া নাক,দীর্ঘদেহী অবয়ব, ঈগলের মতো তীক্ষ্ণ চাহনি বা শান্ত কিন্তু দৃঢ় ভঙ্গি, এবং পেশীবহুল সুগঠিত শরীর।ঠোঁটের কোণে লেগে থাকা সেই মৃদু হাসিটি যেন এক নিমিষেই হৃদয়ে বসন্ত নামাতে পারে।
নীলার ভেতর টা কেঁপে উঠলো।এ কিসের ইঙ্গিত জানা নেই তার।
মিহাল পকেট থেকে একটি কার্ড বের করে নীলার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল_
যদি কোন সমস্যা হয়, এবং নিজেরা সামলাতে না পারো তাহলে আমাকে কল করো।
নীলা পলকহীন দৃষ্টিতে কিছুক্ষণ চেয়ে থেকে কার্ডটি নিয়ে নেয়।এমন না যে লোকটি তার নজর করেছে বরং বিষয়টি এমন যে লোকটি তাকে অবাক করে তুলছে।
বেল পরতে নীলা আর ইকরা মিহালের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে নিজেদের ক্লাসের দিকে যেতে লাগলো।মিহাল এক দৃষ্টিতে তার নীলাঞ্জনার চলে যাওয়া দেখতে লাগলো। মুখে তার মিষ্টি হাসি ফুটে উঠল। কিন্তু পরক্ষণেই মনে পরল ইরফান নামক হাতির লম্বা শুঁড়ের মতো দেখেতে কেউ তার নীলাঞ্জনা কে বিয়ে করে ফেলেছে। মিহালের চোয়াল শক্ত হয়ে গেল। চোখে মুখে ঈর্ষার ছাপ ফুটে উঠল। তার বড্ড জ্বলে এ কথাটি মনে পরতেই। অন্তর খানা পুড়ে কয়লা হয়ে যায়। সে সিদ্ধান্ত নিয়ে নিল।যে করেই হোক নীলা কে নিজের করে ছাড়বে।আর দূরে যেতে দিবে না।
এটা যদি তার প্রতি তার সহানুভূতি হয় তাহলে সহানুভূতিই, মায়া হলে মায়াই, আর ভালোবাসা হলে ভালোবাসা। কিন্তু নীলা কেবল তার।সে অতীত নিয়ে পরোয়া করবে না।নীলা বিবাহিত কিনা। কিন্তু নীলার বর্তমান তার সাথে জড়িয়ে গেছে এবং সে ভবিষ্যৎ তার সাথেই জড়িয়ে ফেলবে। এভরিথিং ইজ ফেয়ার ইন লাভ এন্ড ওয়ার।
মনে মনে এসব পরিকল্পনা করে বাঁকা হেসে ইউনিভার্সিটি ত্যাগ করল।
লিসা ইউনিভার্সিটিতে এসেছে কিন্তু মাথায় উইগ পরেছে। নীলা হাসলো। লিসা এসে নীলার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বলল __
তুমি যা বলবে সব সময় তার বিপরীতে চলবো আমি। লিসা কায়নাত ভয় পায় না কাউকে উল্টো ভয় দেখায়।
সোজা আঙ্গুলে ঘি না উঠলে আঙ্গুল বাঁকাতে দ্বিতীয়বার ভাববো না।
নীলা বাঁকা হাসলো। তার চোখে মুখে ভয়ের কোন ছাপ নেই। বরং মনে হচ্ছে তার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটি এই মুহূর্তে কোন কৌতুক বলেছে।সে নিজের হাসিকে আয়ত্তে এনে বলতে শুরু করব__
সোজা আঙ্গুলে ঘি না উঠলে আঙ্গুল বাঁকা করে ঘি উঠানোর মেয়ে আমি না। পায়ের নিচে পিষে ফেলে সমস্ত ঘি এক নিমিষেই বের করে ফেলা আমি আমি নীলা মির্জা।
বলেই হনহনিয়ে চলে গেল। লিসাল মুখ অপমানে থমথমে হয়ে গেল। মেয়েটাকে যতবার অপমান করতে যাচ্ছে ততবার সে নিজেই অপমানিত হয়ে আসছে। এই অপমান আর সহ্য করতে পারছে না। কিছু একটা তো করতেই হবে।সে বুঝে গিয়েছে মেয়েটা খুব সাহসী। মেয়েটিকে আঘাত করতে হলে তো দুর্বল জায়গায় আঘাত করতে হবে। ভেঙে ফেলতে হবে মেয়েটিকে।
এবং তার জন্য অনেক পরিকল্পনা করতে হবে।লিসার সেই পরিকল্পনা করতে শুরু করল।
চলবে??
Share On:
TAGS: নাজনীন নেছা নাবিলা, নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ৭
-
নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ১৫
-
নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ১৮
-
নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ৯ প্রথম অংশ
-
নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ১২
-
নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ৪
-
নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা সারপ্রাইজ পর্ব
-
নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ৮+বোনাস
-
নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ৩+বোনাস পর্ব
-
নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ৫(প্রথমাংশ+শেষাংশ)