Golpo romantic golpo নিষিদ্ধ চাহনা

নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ৪৯


নিষিদ্ধ_চাহনা

পর্ব_৪৯

লেখিকাসারাচৌধুরী

🚫অনুমতি বাদে কপি করা সম্পুর্ন নিষিদ্ধ🚫

ফাইজ পিহুর দিকে একটু এগিয়ে আসতে পিহু নেশালো কন্ঠে বললো…

-“প্লিজ কাম বেবস…!

ফাইজ যেনো একটু অস্থির হয়ে গেলো।সাদি দূর থেকে বুজলো ফাইজ মেয়েটার দিকে একেবারে চলে এসেছে সেও একটু একটু করে এগিয়ে আসতে লাগলো।ফাইজ পিহুর মুখের দিকে নিজের মুখ নিয়ে আসতেই পিহু আগে থেকে হাতে বের করে রাখা রোমাল টা ফাইজ এর নাকে চেপে ধরলো।ঘটনা টা এতো তারাতাড়ি ঘটলো যে ফাইজ কিছু বুজে উঠার আগেই তার মাথায় চক্কর দিয়ে উঠলো।পিহু টান দিয়ে গাড়ির ব্যাক সিটের দরজা খুলেই ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলো ফাইজ কে।ভেতরে যেতে গিয়ে গাড়ির দরজায় ফাইজ এর মাথায় প্রচন্ড লাগে।সাথে সেখান থেকে রক্ত বের হওয়া শুরু হয়।

পিহু এক প্রকার লাথি মেরে জোর করে ঠেলে ফাইজ কে গাড়ির ভিতরে বসিয়েছে।দূর থেকে সাদিরা যখন বুজতে পারে অচেনা মেয়েটা ফাইজ কে কিডন্যাপ করছে তখনই দৌড়ানো শুরু করে।কিন্তু ততক্ষনে দেরি হয়ে গেছে।মারিয়া ফুল স্পিডে পার্কিং থেকে গাড়ি বের করে ছুটে চলেছে নিজেদের আস্তানার দিকে।

এদিকে সাদি তার এসিস্ট্যান্ট কে বাকিদের উপর নজর রাখতে বলে নিজে গাড়ি নিয়ে বের হয় ওদের পিছু করতে।পিহু হাতে গ্লভস পরছে।চোখে মুখে কেমন শান্তি শান্তি।পিছনে পড়ে আছে ফাইজ অজ্ঞান অবস্থায়।রুমালে গাড়ো আকারের ক্লোরোফম মেশানো থাকায় সাথে সাথে সেন্স হারিয়েছে ফাইজ।

মারিয়া হটাৎ ড্রাইভ করতে করতে বলে উঠে….

-“ম্যাম স্যার এর গাড়ি আমাদের ফলো করছে কিচ্ছুক্ষন ধরে।আমি শিওর হওয়ার জন্য উলটো দিকে টার্ন নিয়েছি তাও পিছু করছে।

মারিয়ার কথায় পিহু ও মিররে তাকিয়ে দেখে তাদের গাড়ির পিছনে সাদা রঙের একটা গাড়ি। পিহু সাথে সাথে মারিয়া কে বলে উঠে….

-“মারিয়া ব্রিজ রোডে গিয়ে ব্রিজের নিচ থেকে টার্ন নিবা।ওখানে চার রাস্তার মোড় আছে তো আর ধরতে পারবে না।

পিহুর কথা মতো মারিয়া তাই করলো গাড়ি আরো স্পীড এ দিলো।এদিকে সাদি সেই কখন থেকে ফলো করছে তবে নাগাল পাচ্ছে না।সাদির মাথায় চিন্তা ভরপুর এই মেয়ে কে।কে হতে পারে অচেনা রমনী যে একটা পুরুষকে মাফিয়াদের বার থেকে তুলে নিয়ে আসতে পারে।

ভাবতে ভাবতে হটাৎ চার রাস্তার মোড়ে এসে গাড়ির জ্যাম এর কারনে চোখের আড়াল হয়ে যায় গাড়িটা।সাদি কপালে চাপড়াই নিজের।একটা অচেনা মেয়ের কাছে হেরে গেলো। এটা কল্পনা করতে পারছে না।তার শিকার তার হাত থেকেই বাজ পাখির মতো কেও নিয়ে গেলো।তখনই ফোন আসে সাদির ফোনে।

সাদি বিরক্ত হয়ে ফোন কানে তুলতেই ওপাশ থেকে সাদির এসিস্ট্যান্ট বলে…

-“স্যার ফাইজ নামের ছেলেটার সাথে সাফা নামের মেয়েটাও নিখোজ।এরা এখন চিন্তিত অবস্থায় বেরিয়ে গেলো।বেশ রেগে আছে মনে হচ্ছে ইশান চৌধুরী।

-“ওহহহ শীট।

সাদি জোরে গাড়ির সিটে ঘুশি বসিয়ে বলে।এসিস্ট্যান্ট কে তাদের উপর নজর রাখতে বলে সাদি বেরিয়ে যায় বাড়ির উদ্দেশ্যে।তার আসা টাই ফাও।রাগে মাথা ফেটে যাচ্ছে।সব কিছু কেমন তাল গোল পাকিয়ে যাচ্ছে।সাদির এখন একটু মানষিক শান্তি দরকার সেটা একমাত্র পিহুর কাছেই পাবে।

সাদি আর দেরি না করে গাড়ি ঘুরিয়ে ছুটে চলে বাড়ির উদ্দেশ্যে। বাড়ির মালিক এখোনো বাড়ি ফেরেনি।তাদের উপর প্রচন্ড বিশ্বাস বলে পুরো বাড়িটা তাদের ভরসায় রেখে গেছে।প্রায় চল্লিশ মিনিট পর গাড়ি এসে ঢুকে বাড়ির ভিতরে।সাদি গাড়ি পার্কিং এ রেখে লিফট এ করে চলে আসে তিন তলায়।তিন তলার রুম গুলো বেশ গোসালো আর বড় বড়।তাই সাদির বেশ পছন্দ।

সাদি ক্লান্ত মাখা ভারাক্রান্ত মুখ নিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ঘরের কলিং বেল চাপ দেয়।পর পর কয়েকবার চাপ দেওয়ার পর পরই ঘুমু ঘমু চোখে ঢুলতে এসে দরজা খুলে দেয় পিহু।গায়ে উড়না নেই।চুল গুলো এলোমেলো।

পিহুকে এ অবস্থায় দেখে হাসি পেলো সাদির।সারাদিন এর সকল হতাশা ক্লান্তি সাথে সাথে গায়েব হয়ে গেলো।পিহু দরজা থেকে সরে দাড়াতেই সাদি ভিতরে ঢুকে।পিহু চোখ ডলতে ডলতে দরজা বন্ধ করে দিয়ে পিছু ঘুরতেই সাদি পিহুর কোমর জড়িয়ে ধরে।পিহু চমকায়।পিটপিট করে সাদির হাস্যজ্জ্বল মুখের দিকে তাকায়।সাফি পিহুর কপালে ভালোবাসার পরশ একে দিয়ে বলে….

-“জান ঘুমিয়ে গেছিলি।

-“হু।

সাদি এবার পিহুকে কোলে তুলে নেয়।সাথে সাথে পিহুর ঘুম ছুটে যায়।পিহু ছটফটায় উঠে সাদি পিহুকে সোজা বিছানায় নামিয়ে দিয়ে পিহুর কানের কাছে ফিশফিশ করে বলে….

-“খুব খিদা লাগছে জান তবে কোন ক্ষূধা আগে নিবারন করবো।মন টা খুব ক্লান্ত তুই একটু বসআমি ফ্রেশ হয়ে আসছি।

কথাটা বলেই সাদি কাবার্ড থেকে ট্রাওজার আর গেঞ্জি নিয়ে ওয়াশরুমে চলে যায়।এদিকে সাদি ওয়াশরুমে যেতেই পিহু একটা জোরে দোম ছাড়ে।পিহু এসে মাত্র ড্রেস পাল্টিয়েছে আর সাদি কলিং বেল দিয়েছে।পিহু যে এতক্ষন যেভাবে এক্টিং করছিলো এতে পিহুর নিজেকে নিজে নোবেল দিতে ইচ্ছা হচ্ছে।

ফাইজ কে আন্ডার গ্রাউন্ড রুমে একই ভাবে বেধে রেখে এসেছে পিহু।মারিয়া বলেছে ইচ্ছা মতো ধোলাই দিতে।সাফা কে পুরো সতেরোশ টুকরো করে প্রায় দুইশ কুকুর কে খাইয়ে দিয়েছে গার্ড দুটো।সাফার কোনো অংশ বাকি রাখে নাই।জামা কাপড় গুলো পেট্রোল দিয়ে পুড়িয়েছে।

সাদি ওয়াশরুম থেকে বের হতেই পিহু সেই এলোমেলো অবস্থায় ছুটে যায় কিচেনে।প্লেটে খাবার সাজিয়ে আনে।কিচেন থেকে অল্প ডোজের ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেয় পিহু খাবারে।তারপর খাবার নিয়ে এসে ঘুম ঘুম চোখে পরম যত্ন করে খাইয়ে দেয় সাদিকে।খাবার চিবুতে চিবুতে সাদি বলে উঠে…

-“আল্লাহ জানে কপালে কি আছে। পর পর দুই দিন ই মিশন ফেল হলো।

-“কেনো আজ কি হয়েছে…?

-“আর বলিস না।আমার মনে হয় এই গেম আমাদের ধারনার থেকে বড় কারন আজ একটা মেয়েকে দেখলাম…

-“কি দেখলেন।

সাদি আর কিছু বলেনা।চুপ করে যায়।পিহুকে এসব বলা মানে মানে ফাও ফাও মেয়েটার মাথায় চিন্তা দেয়া।খেতে খেতে সাদির চোখে ঘুম চলে আসে।সাদি খাওয়া শেষ করে নিলে।পিহু খাবার টেবিল এ রেখে আসে।সাদি পিহুর কপালে চুমু খেয়ে সোজা হয়ে সুয়ে বলে….

-“ভালোবাসি মাই ওয়াইফি।আই লাভ ইউ।লাভ ইউ মেরি মাচ।জান।

-“হুম আমিও ভালোবাসি আমার ফেল্টুস ডাক্তার সাহেব কে।

পিহুর কথায় সাদি ঠোঁট মেলিয়ে হাসে তারপর ঘুম জড়ানো কন্ঠে বলে উঠে….

-“স্টুপিড।


রাত একটা আঠারো।মারিয়া একটু আগে মেসেজ দিয়েছে।জ্ঞান ফিরেছে ফাইজ এর।জ্ঞান ফেরার পর থেকেই অকথ্য ভাষায় গালা গালি করছে সবাইকে।মারিয়া না পেরে কাগজ গুজে দিয়েছে মাইজ এর মুখে।

পিহু উঠে নিজেকে আবারো নিজ পোষাকে সাজিয়ে নেয়।কালো প্যান্ট কালো টপস আর তার উপর কালো জিন্সের জ্যাকেট। চুল গুলো গাডার দিয়ে বাধা।মুখে মাস্ক লাগানো।

পিহু সাদির পাশে বসে সাদির ঘুমন্ত মায়াবী মুখের দিকে তাকায়।সাদি ফর্সা হওয়ায় হালকা টোকাতেও সাদির ক্ষত স্থান লাল হয়ে যায়।পিহু জিন্সের প্যান্ট এর পকেট থেকে একটা সিরিঞ্জ বের করে সাদির শরীরে কিছু ইঞ্জেক্ট করলো।পিহু জানতো ঘুমের ওষুধে ঘুম ভাংবে না।তবে পিহু রিস্ক নিবে না।তাই ইঞ্জেকশন দিলো।এটার ডোজ চার ঘন্টা অব্দি থাকবে। তবে কারোর বোজার খমতা নেয় যে ঘুমিয়ে ছিলো।সাভাবিক থাকবে সব।পিহু সুক্ষ সিরিঞ্জ দিয়ে ইঞ্জেকশন দিয়েছে সাদিকে।

ইঞ্জেকশন দিয়ে সেটা আবার আগের মতো সুন্দর করে গুছিয়ে লুকিয়ে রেখে এসে সাদির পাশে বসে সাদির ঠোঁটে নিজের ঠোঁট দ্বারা ভালোবাসার পরশ দেয়।তারপর বিড়বিড় করে বলে…..

-“মাফ করবেন।আপনি হয়তো আমার এই পরিবর্তন টাকে মেনে নিতে পারবেন না তাই আমার এই পথ অবলম্বন। তবে আমি চাই না আমার আপনি অশুদ্ধ হন।আপনি আমার কাছে শুদ্ধ পুরুষ আমার ব্যাক্তিগত পুরুষ।আর আমিও আপনার বোকা স্টুপিড ই থাকতে চাই।আমি চাইনা আমার এই রুপ দেখে আপনি ব্যাথিত হোন।তবে সকল খুনিদের শাস্তি নিজ থেকেই দিবো আমি। আপনার কষ্ট করা লাগবে না।

কথাটা বলে পিহু আর দাঁড়ায় না।সাথে হাতের ঘড়ি দেখে কানে ব্লুতুথ পরতে পরতে বেরিয়ে যায় পিহু ঘর থেকে।যাওয়ার আগে বাইরে থেকে লক করে যায়।

চলবে…..

-(গল্প লেখার আগ্রহ হারিয়ে গেছে।লোকের পেজ এ ২-৩ হাজার লাইক হয়ে যায় আমার গল্প।আর আমার পেজ এ তোমাদের রিয়েক্ট দিতে কষ্ট হয়।১.৫k রিয়েক্ট হলে পরের পর্ব আসবে।আশা করি কেও হতাশ করবা না)-

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply