নিষিদ্ধ_চাহনা
পর্ব_৩৯
লেখিকাসারাচৌধুরী
🚫অনুমতি বাদে কপি করা সম্পুর্ন নিষিদ্ধ🚫
সকাল গড়িয়ে দুপুর।কারেন্ট এসেছে তবে বৃষ্টি থামেনি।আজ প্রকৃতির মন খারাপ হয়তো।সাদি বাইতে থেকে খাবার নিয়ে এসেছে।যদিও সে রান্না করতে পারে তবে এখন রান্না করতে গেলে পিহুর খেয়াল রাখতে পারবে না সে।পিহুর গায়ে জ্বর নেই তবে চোখ মুখ বসে গেছে কেমন ফ্যাকাশে লাগছে পিহুর চাঁদ মুখ খানা।
সাদি ঝাল ঝাল খিছি ফাস্ট ফুড। চিপ্স,,ভাজা সব এনেছে কখন কি খেতে ইচ্ছা করবে তার প্রেয়সীর। কয়েক রকম আলাদা কোল ড্রিংকস ও নিয়ে এসেছে।আসার আগে জেরিন দের বাড়ি চেক করে এসেছে।না বাড়িতে কেও নাই।বাড়ি বাইরে থেকে তালা মারা।আশে পাশের মানুষ ও জানে না।
জানবে কিভাবে এখনকার মানুষ কেও কাওকে খোজ রাখে না।সাদি ফোন দিয়েছিলো কয়েকবার জেরিনের বাড়িতে তবে কেও ফোন রিসিভ করেনি এক সময় ফোন বন্ধ করে দিয়েছে।সাদির ইগো তে বাধে বেপার টা।তাই সাদি ও আর কল দেই না।
পিহুর দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সাদি।চোখ মুখ শীতল। পিহু পিটপিট করে চেয়ে আছে সাদির দিকে।ঠোঁট এ তৃপ্তির হাসি।তখন কার কথা মনে পড়ে হাসলো পিহু।যে ছেলে বমি করার সময় ঘৃনা করে নিজের হাত মুখের সামনে এনে দিতে পারে।যার গায়ে বমি করার পরও চোখ মুখ শক্ত না করে আদরের সাথে বুকে জড়িয়ে নিয়েছিলো।
পিহু জানে যে ছেলে এমন পরিচ্ছিতিতে পাগল এর মতো ভড়কে যায়। সে আর যাই হোক কখোনো মিথ্যা ভালোবাসতে পারে না।পিহু বুজেছে সাদির ভালোবাসা সত্যি।তবে সে এতো তাড়াতাড়ি গ্রহন করতে পারবে না।
সাদি বেশ খানিক্ষন তাকিয়ে থেকে গলা ঝাড়া দিলো।সাথে সাথে পিহুর চোখ খাদে নামিয়ে নিলো।সাদি শান্ত ভাবে হাত এগিয়ে নিয়ে পিহুর চুলে হাত বুলিয়ে দিতে লাগলো।পিহু চোখ বন্ধ করে নিলো আবেশে।সাদি আস্তে করে বলে উঠলো…
-“কিছু খাবি..?নিয়ে আসবো..?সব কিনে এনে রেখেছি তোর পছন্দের খাবার গুলো।সকাল থেকে কিছু খাস নি। খেয়ে ওষুধ খেতে হবে।
সাদির ডাকে পিহু চোখ খুলে তবে হুট করে পিহুর বাম চোখের কোন দিয়ে গড়িয়ে পড়ে এক ফোটা উত্তপ্ত নোনাজল।কথায় আছে কাছের মানুষ কষ্টে থাকলে বাম চোখ দিয়ে পানি আসে।পিহুর ও তেমন হলো।হুট করে বুকের ভিতর কেমন হাহাকার করে উঠলো।
পিহুর চোখে হটাৎ পানি দেখে চমকালো সাদি তাড়াতাড়ি নিজের দু হাত এর তালুর মাঝে পিহুর ছোট্ট মুখের আদল খানা নিয়ে এলো।তারপর গাল চাপড়ে উত্তেজিত কন্ঠে বলে উঠলো…
-“এই পিহু..চোখে পানি কেন জান।কি হচ্ছে তোর।শরীর খারাপ লাগছে এই জান।
পিহু চোখ মেলে সাদির চোখের দিকে তাকালো।অসুস্থতার জন্য কেমন লাগছে মেয়েটাকে।কন্ঠটাও কেমন কাতর হয়ে গেছে।পিহু ধীর কন্ঠে বলে উঠলো…
-“সা..সাদু…?
সাদি জেনো পিহুর এই কন্ঠে আরো পাগলপ্রায় হয়ে গেলো।বুকের ভেতর তোলপাড় শুরু হয়েছে তার।হুট করে কি হলো মেয়েটার।এভাবে কথা বলছে কেন।সাদি উৎকন্ঠা ভাবেই বললো….
-“কি হচ্ছে বল…?
পিহুর চোখ দিয়ে আরো এক ফোটা পানি গড়িয়ে পড়লো।হুট করে ফুফিয়ে কেদে উঠলো মেয়েটা।বুকের ভিতরে অসম্ভব কষ্ট হচ্ছে তার।দোম আটকে আসছে।পিহুর কান্না দেখে সাদি পিহুকে উঠিয়ে নিজের বুকের সাথে জড়িয়ে নিলো তবে কান্নার কোনো কারন পেলো না।সাদি পিহুকে বুকের সাথে জড়িয়ে নিয়ে মাথার চুলে হাত বোলাতে বোলাতে বলে উঠলো…
-“কি হয়েছে জান।আমি আছি তো বল আমাকে।কিচ্ছু বলবো না তোকে।বল আমাকে কাদিস না আমার কষ্ট হয় তোর চোখের পানি দেখে।
সাদির কথায় পিহুর কান্না খানিকটা কমে আসে।তবে কান্না থামায় না।কান্নারত কন্ঠেই বলে উঠে….
-“সা..সাদি আমার না হটাৎ করেই খুব কষ্ট হচ্ছে।আমার খুব অস্থির লাগছে।আমার দোম আটকে আসছে সাদি।মামুনিকে হারানোর পর যেমন কষ্ট হচ্ছিলো আমার আবার তেমন কষ্ট হচ্ছে।আমার কাছের কেও খুব কষ্টে আছে সাদি।আমার মন বলছে।
সাদি নিশ্চুপ।পিহুর ছোট্ট মাথাটা তার বুকে।পিহুর চোখের পানিতে নীল রঙা শার্ট টার কিছু অংশ ভিজে গাড় নিল রঙ ধারন করেছে। পিহু একটু থেমে আবারো বলে উঠলো…
-“জেরিনের কোনো বিপদ হয়নি তো।ওর জন্য মন পুড়ছে খুব আমার।কান্না গুলো দলা পাকিয়ে যাচ্ছে সাদি।ও কি অসুস্থ।ওর কি হয়েছে।আমার মন বলছে আমার জেরিন ঠিক নেই সাদি।ওর কাছে একটু কল দেন ওরে এখানে আসতে বলেন।
সাদি নিশ্চুপ।জেরিনের জন্য তারও চিন্তা হচ্ছে।কাল বিকাল থেকে মেয়েটা নিখোজ।কোনো কল ধরছে না।না আছে হদিশ।সকাল সকাল খবরের কাগজে হেডলাইন দেখলো।আজীমপুর রোডে কাল সন্ধ্যা নাগাত কেও বা কারা একটা রিকশা চালক কে পর পর কয়েক বার গুলিবিদ্ধ করে মাথার মগজ উড়িয়ে দিয়েছে।সাদি ভেবে পাই না।একজন রিকশা চালকের সাথে মানুষের কি শত্রুতা।রিকশা যেহেতু নিলি না ফাও মানুষ টাকে কেনো মারলি।
সাদিকে চুপ থাকতে দেখে পিহু আবারো বলে উঠলো…
-“দেন না মোবাইল টা।ওরে একটু আসতে বলি।ও কাল কি বলতে চেয়েছিলো আমাকে।বলে নি।ওরে খুব দেখতে ইচ্ছা করছে।
সাদি চুপ থাকে। তবে এখন যদি বলে পিহুকে ফোনে পাচ্ছে না।তাহলে পিহু আরও অসুস্থ হয়ে যাবে তার থেকে বানিয়ে কিছু একটা বলে দেই।তার কাছে এখন সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ কাজ পিহুকে সুস্থ করা।মেয়েটাকে অসুস্থ দেখতে মোটেই ভালো লাগছে না সাদির।
সাদি আসতে করে বলে উঠলো।মিথ্যা বলায় গলা কাপছে তার।তবুও বললো…
-“জেরিন কল দিয়েছিলো তবে তুই ঘুমাচ্ছিলি।তাই কথা বলে রেখে দেছে।কাল বআ পরশু আসবে ও।
-“কেন কোথাই গেছে..?
-“ওর দাদু মারা গেছে তাই ভোর ভোর সবাই গ্রামে গিয়েছে।আর গিয়ে পৌছানোর পর ফোন দিয়েছিলো।
-“কিন্তু ওর দাদু তো আরো চার বছর আগে মারা গেছে।
সাদি পিহুর কথা শুনে থমকে গেলো।তবে থামলে চলবে না তাড়াতাড়ি করে বলে উঠলো।
-“ওর আব্বুর কাজিন এর মা।মানে ওর দাদু বুজলি।
-“হুম ফোন দেন কথা বলবো।
-“ও দিবে বলছে।এখন ওর কাছে ফোন থাকবে না।
সাদির কথাটা খুব একটা বেশি বিশ্বাস হলো না পিহুর।ভ্রু কুচকে রইলো কিছুক্ষন।তবে সত্যিই হয়তো।কারন সাদি মিথ্যা বলে না তার সাথে।পিহু এবার সাদির বুক থেকে মাথা তুলে নিলো।বেশ লজ্জা লাগছে তার।হুট করে জড়িয়ে ধরছে লোকটা এতে বেশ শান্তি লাগছে পিহুর তবে সাথে লজ্জা ও পাচ্ছে।তবুও মাথা নিচু করেই বলে উঠলো…
-“খিদে লেগেছে খুব..?
-“কি খাবি…?
-“যা ইচ্ছা আনেন।
সাদি টুশ করে পিহুর কপালে মাঝে একটা চুমু দিয়ে উঠে চলে গেলো বাইরে ডাইনিং টেবিল এর উপর থেকে খাবার গুলো নিতে।এদিকে সাদির এহেন কান্ডে পিরো জমে গেছে পিহু।
হুট করে নিজের সামনে নিজের চিঠিওয়ালা প্রেমিক নামক খুনিকে দেখে চমকালো জেরিন।আরো বেশি চমকেছে যখন দেখলো তারে খুবলে খাওয়া সেই নরপশু গুলো তাকে ভাই ভাই করে ডাকছে।হুট করে চোখের সামনে তুড়ি বাজানোর কারনে ধ্যান ভাঙে জেরিনের।জাহিন জেরিনের নরম গাল টা চেপে ধরলো।সারা মুখে নোখের আচরের দাগ অনেক।
জেরিন কুকড়িয়ে উঠলো।জেরিনের চোখ মুখ দেখে জাহিন ছেলে গুলো কে ইশারা করতেই বাইরে চলে গেলো ছেলেগুলো।চেয়ারের উপর অযত্নে পড়ে আছে একটা খঞ্জর।জাহিন হিশহিশিয়ে জেরিনের উদ্দেশ্য বলে উঠলো…
-“কি বেপার দেমাগি মেডাম।ভালোবাসা বুজলে না।বান্ধুবীর জন্য মায়া দরদ উতলে পড়ছিলো।কতবার বললাম যা দেখেছো যা শুনেছো সপ্ন ভেবে ভুলে যাও।উহু তুমি তা করলা না বা*ল পাকনামি করলা।ওদের বলে দিতে গেলা।তোমার ভাই নাবিল টাও বড্ড বোকা।সব বলে দিলো তোমাদের।ইশ।
জাহিন হাত এতো জোরে জেরিনের গাল চেপে ধরেছে জেনো জেরিনের চোখ বেয়ে পানি পড়তে লাগলো যন্ত্রনায়।জাহিন এক টান দিয়ে অন্য হাত দিয়্ব জেরিনকে জড়িয়ে থাকা চাদক্র টি খুলে ফেললো।চোখের সামনে দৃশ্যমান হলো নগ্ন দেহটি।
জাহিন লালসার দৃষ্টি নিক্ষেপ করে জেরিনের চোখের দিকে তাকিয়ে মুখ চগেড়ে দিয়ে বলে উঠলো…
-“তোকে জিবন্ত অবস্থায় এমন করে তার বান্ধুবির কাছে নিবো তোর বান্ধুবির আত্মা শুকিয়ে যাবে।যদিও ওর শরীর টাও আমার লাগবে।আর তোর টাও।কাল তো অনেক ফুর্তি করলি আর আজ আমার পালা।নে শুরু করি।
কথাটা বলেই জাহিন নিজের শার্ট খুলতে শুরু করলো।এদিকে জেরিন ব্যাথা যুক্ত শরীর নিয়ে কিছুটা সরে গিয়ে কাদতে কাদতেই বলে উঠলো..
-“এতোটা নিষ্ঠুর হবেন না।ক্ষমা চাওয়ার জন্য কিন্তু দ্বিতীয় বার জন্ম নিবেন না
জাহিনের হাত থেমে যায় ঠাশ করে জেরিনের মুখে একটা দাবাং মার্কা চড় বসিয়ে দিয়ে ঝাপিয়ে পড়ে জেরিনের উপর রাক্ষসের মতো।
চলবে……
-(বন্ধুত্ব এমন একটা জিনিস।একে অপরের দুঃখ উপলম্ভি করা যায় দূর থেকেই।আজকের পর্ব কেমন হয়েছে বলে যাবেন আশা করি ভালো লাগবে।বেশি বেশি রেসপন্স করবেন)-
Share On:
TAGS: নিষিদ্ধ চাহনা, সারা চৌধুরী
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ৭
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ১৫
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ২২
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ১৪
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ২৪
-
৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ১৩
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ২৫
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ৪০
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ৩
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ১৩