নিষিদ্ধ_চাহনা
পর্ব_৩৬
লেখিকাসারাচৌধুরী
🚫অনুমতি বাদে কপি করা সম্পুর্ন নিষিদ্ধ🚫
জানিনা কিভাবে শুরু করবো।বা আপনাকে কিভাবে বলবো।যদিও চিঠি টা আপনি পড়বেন আমি জানতাম।আমাকে মাফ করে দিয়েন। আসলে আমার এই ভুল এর কোনো ক্ষমা হয় না সাদি ভাইয়া।তবুও ছোট বোন মনে করে মাফ করে দিয়েন।আসলে আমি জানতাম আপনার বাবা – মায়ের খুনি কে আর এর সাথে কে কে জড়িয়ে আছে।তবে আমি অনেক বড় স্বার্থপর হয়েছিলাম।নিজের বাবা-মাকে বাচানোর জন্য পিহুর এতো কষ্ট দেখেও বুকের উপর পাথর চাপা দিয়ে ছিলাম আমি।তবে আমি পারবো না আর কষ্ট সহ্য করতে আর না পারবো আপনার সামনে দাড়াতে।তাই সব এই চিঠিতে বলে দিচ্ছি।আঙ্কেল আন্টি কে খুন করেছে আপনার ই আপন ভাই ইশান। আর ফাইজ। হয়তো আপনি এখন ভাবছেন আমি কিভাবে জানলাম।তাহলে শুনেন আমি ও একজনকে ভালোবাসতাম আমার অচেনা চিঠি ওয়ালা।আস্তে আস্তে চিঠি থেকে ফোনে কথা বলা শুরু তার পর কলেজ এর ক্লাস ফাকি দিয়ে কয়েকদিন দেখা করেছি।তারপর হটাৎ একদিন দেখলাম আপনাদের বাড়ির দারোয়ান এর চাকরি টা সে করছে।সেদিন খুব চমকেছিলাম আমি।সাথে নিজের ভবিষ্যৎ এর কথা ভেবে মনটাও খারাপ হয়েছিলো।তারপরের দিন জিজ্ঞাসা করলে সে বলে মাত্র কিছুদিনের জব তারপর ও ডুবাই চলে যাবে।আমিও আর কিছু বলি নি।ও আমাদের বাড়ির পাশের গলিতেই বাসা ভাড়া নিয়েছিলো।ওর পুরো নাম কি আজো জানি না।তবে ও বলেছিলো ওর নাম জাহিন।আমি বড্ড বোকা ওকে ভালোবেসেছিলাম।যেদিন আঙ্কেল আন্টি কে মেরে ফেলা হলো ওইদিন আমি ওকে খুজতেই ওর বাড়িতে গিয়েছিলাম।গিয়ে দেখি ও তাড়াহুড়ো করে বাড়িতে তালা দিচ্ছিলো।ওর পরনে থাকা সাদা শার্ট এ রক্ত।আমি তখন কিছু না বুজলেও যখন আপনাদের বাড়িতে গেলাম সব ক্লিয়ার হয়ে গেলো।আপ্নারা এত কিছুর ভিতরে হয়তো ভেবেছিলেন ওই ছেলেটা আগুনে পুড়ে মারা গেছে।তবে আপনি জানলে বেশি অবাক হবেন ওর নামে থানায় পুরো চার টে মার্ডার কেচ আছে। আমি আমার ফ্রেন্ড আশিক এর কাছ থেকে শুনেছি ওর বাবা পুলিশ।এই ঘটনার পর থেকেই ছোট ছোট চিরকুট আসতো খালি।কিছুই লেখা থাকতো না।তবে একদিন এলো আমাকে মেরে ফেলার হুমকির কাগজ।আমি যদি আপনাদের বলি তবে আমাকে মারবে তার আগেই আমার বাবা মাকে মারবে।আর একটা মেয়ে হয়ে তখন বড্ড স্বার্থপর হয়ে খুনিদের চিনেও আমি বলিনি।তবে আমি আর এই পাপ সহ্য করতে পারছি না।হয়তো ওরা আমাকে মেরে ফেলবে তবে তার আগে আমি সব কিছু আপনাকে বলে দিচ্ছি।আর এই খুনের মাস্টার মাইন আপনার ভাই হলেও এই খুনের সাথে জড়িত একটা মেয়েও আছে।যদিও সে বাংলাদেশের না।এটাও আমি একদিন লুকিয়ে জাহিন এর ফোন কল রেকর্ড থেকে শুনেছিলাম।কথাটা এমন ছিলো।কাজ হয়ে গেলে সোজা এয়ারপোর্টে আসবে।ওখানেই তোমার নতুন পরিচয় পাবে।তখন বুজি নি কিসের কাজ তবে আপনার বাবা মা মারা জাওয়ার পর বুজেছি।তারা আপনার বাবা আর পিহুকে মারতে চেয়েছিলো।তবে সেদিন পিহু বাড়িতে ছিলো না।আর লিখতে পারলাম না কোনো প্রশ্ন থাকলে একটু কষ্ট করে কল দিবেন।আমি আপনার কল এর অপেক্ষায় থাকবো ভাইয়া।আমার কলিজাটাকে একটু দেখে রাখবেন। জানি আপনি ওকে অনেক ভালোবাসেন।তবুও আপনি ওর স্বামি কোনো ভুল করলে মাফ করে দিয়েন।নিতান্তই মেয়েটা বাচ্চা।আমার মতো এখোনো ওর ধারনা হয়নি।আমি জানি আপনি অনেক বুজেন তাও ওকে সামলিয়ে রাখবেন। ও অনেক কষ্ট পেয়েছে ছোট থেকে।আপনি এবার ওকে একটু আনন্দে রাখবেন।
ইতি…
জেরিন আফরোজা।
জেরিনের দেওয়া চিঠি টা পড়ে শেষ করে সাদি স্তম্ভ।পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে গেছে মনে হচ্ছে।চোখের কোন ভিজে যাচ্ছে।একটা ছেলে হয়ে বাবা মাকে মারতে লজ্জা করলো না।এতো খারাপ কিভাবে হলো ও।এতো পাষান হতে পারলো।সাদির মাথায় রাগ চেপে বসলো এই খুনের বদলা সে নিবে। খুন দিয়ে খুনের প্রতিশোধ নিবে।কিছু প্রশ্ন এখোনো সাদির মাথায় ঘুরছে সব গুলো জেরিন নিশ্চয় জানবে।
সাদি ঘুমন্ত নিশ্পাপ পিহুর দিকে এক পলক তাকালো।আসলেই মেয়েটা ভাগ্যবতী জেরিনের মতো বেস্ট ফ্রেন্ড পেয়ে।এই জমানায় কয়জন ই বা এমন বন্ধু পাই।যে যানে নিজের জীবন শেষ হবে যেনেও বন্ধুর কষ্ট কমাতে সব বলে দেয়।সাদি উঠে দাঁড়িয়ে বেলকোনিতে যায়।পকেট থেকে মোবাইল টা বের করে জেরিনের ফোনে কল লাগায়।
সন্ধ্যা হতে না হতেই সাফা নিজের জামা কাপড় গুছিয়ে নিয়ে বের হয়ে গেলো বাড়ি থেকে।পরনে ব্লু রঙের জিন্স আর টপ্স উপ্রে ছোট একটা জিন্সের জ্যাকেট।নাবিলের মা অবাক হলেন সাফার এমন কান্ডে।সাফা ব্যাগ নিয়ে বের হতেই হায়দার জিজ্ঞাসা করলো…
-“কোথাই যাচ্ছো মা।তাও আবার এই ড্রেসে…?
সাফা কপাল কুচকে তাকালো সোফায় বসে থাকা দুজনের দিকে তারপর চোখ উল্টিয়ে ভেংচিয়ে বলে উঠলো….
-“আমি কারোর প্রশ্নের উত্তর দিতে বাধ্য নয়।তবে যে ভুল আপনার ছেলে করেছে তার শাস্তি এবার আপানারাও পাইতেন।আমি তো আবার আপনাদের দুক্কু দেখতে পারবো না তাই আপনাদের শান্তি দিচ্ছি।তবে যতই হোক আমি তো অনেক দানশীল তাই আপনাদের জীবন টা ভিক্ষা দিলাম টাটা সাচুমা এন্ড মাই হটি শচুর।
বলেই সাফার পান্টের পিছনে রাখা বন্দুক টা বের করে কায়া ও হায়দার কিছু বুজে উঠার আগেই পর পর কয়েকটা গুলি চালালো দুজনের মাথায় ও বুকে।সাথে সাথে মৃদু আওয়াজ করে সোফা তেই কাত হয়ে পড়ে গেলেন দুজন।
সাফা জোরে হেসে ঠোঁট দুটো প্রসারিত হলো।জিন্সের পকেট থেকে হ্যান্ড গ্লব্স বের করে পরে নিলো।তারপর ছোট্ট একটা চিকন নিখুঁত ছুরি বের করলো জ্যাকেট এর পকেট থেকে। এগিয়ে গেলো কায়া ও হায়দার এর মৃত শরীর এর কাছে। খুব নিখুত করে কপালে লিখে দিলো… ❝I F S❞ তারপর জোরে হেসে বললো…
-“আই এফ এস কখোনো ভুল কে মাফ করে না।আর তার পরিবার কেও বাচতে দেই না।আমাকে মাফ করবেন আমার হাতের একশ উনিশ আর বিশ নাম্বার আপনারা।
সাফা হেসে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলো।যাওয়ার সময় সদর দরজায় বড় একটা তালা দিয়ে দিলো গ্লাভস গুলো কায়া বেগম এর মুখে ছুড়ে দিয়ে এসেছে সে।সাফা নাবিল দের গাড়ি বের করে ড্রাইভ করতে করতে ফোন দিলো কোনো একজন এর কাছে।সাথে সাথেই রিসিভ হলো ওপাশের ফোন।
ওপাশ থেকে কিছু বলার আগেই সাফা হেসে বলে উঠলো…
-“খুব মায়া লেগেছিলো তবে আমার ডিকশোনারি মায়া কিভাবে করে সেটাই ছিলো না।
ওপাশ থেকে লোকটি বলে উঠলো…
-“লাশ কি করেছো…?
-“আবার কি করবো এটাই শেষ বোম ছিলো আঠাশ মিনিট টাইম সেট করে চলে এসেছি।
-“মানে..?
-“সাফা তুমি কিন্তু সাইকো হয়ে যাচ্ছো..?
-“কি করবো ডার্লিং বলো তোমার সাথে দেখা হওয়ার পরেই তো সাইকো হয়েছি।
-“তোমার ফ্লাইট কইটাই..?
-“আমি ওসব বিদেশ যেতে পারবো না।আমারে ধরবে সে ক্ষমতা কারোর নেই কোনো প্রমান ও নেই।
-“সাফা তুমি কিন্তু ক্লু ছেড়ে আসছো সবাই কিন্তু সন্দেহ করবে আমাদের।
সাফা আর শুনলো না কল টা কেটে দিয়ে ফোন টা ছুড়ে মারলো পাশের ছিটে।তারপর মনের সুখে গাড়ি চালাতে থাকলো।তার কোনো পিছু টান নেই।নেই কোনো পরিবারের প্রতি মায়া।আছে শুধু টাকার প্রতি নেশা।আর এই নেশার জন্য মানুষ মারতে তার হাত কাপে না।
অন্ধকার এক রুমের কোনায় হাত পা মুখ বাধা অবস্থায় পড়ে আছে জেরিন।মাথা খুব এক্সন্ত্রনা করছে।চোখ মেলে তাকানোর শক্তি নেই।সব যেনো ঘুরছে এখোনো অবিলম্বে। ঘরের ভিতরে পচা পচা খুব বাজে দুর্গন্ধ।মনে হচ্ছে কত বছর ধরে পরিস্কার হয় না এই ঘর।বা পচা জিনিস ফেলার ভাগাড়।ঠিক তখনই জেরিনের কানে ভেসে এলো বুটের শব্দ।হয়তো কেও এদিকেই আসছে।জেরিন সাহায্যের জন্য চোখ মেলে তাকালো। মুখ দিয়ে কথা বলার শব্দ করলো ঠিক তখনই অন্ধকার ঘরের দরজা খুলে গিয়ে আলো প্রবেশ করলো। সাথে সাথে জেরিনের আধো আধো খোলা চোখ বড় বড় হয়ে গেলো……
চলবে……..
-(গল্প শেষ হতে বেশি দেরি নেই।খুব তাড়াতাড়ি সমাপ্ত হয়ে যাবে।সাফার আসল পরিচয় একটা টুইস্ট।নাবিলের পরিবার কে কেন মারলো সেটা য়ো বুজেছো সবাই।কেও বাজে মন্তব্য করবেন না আশা করি ভালো লাগবে)-
Share On:
TAGS: নিষিদ্ধ চাহনা, সারা চৌধুরী
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ২৪
-
৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ৩
-
৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ১১
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ৩২
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ২১
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ২৮ (ক)
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ৩১
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ২৫
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ১৫
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ২০