নিষিদ্ধ_চাহনা
পর্ব_৩৫
লেখিকাসারাচৌধুরী
🚫অনুমতি বাদে কপি করা সম্পুর্ন নিষিদ্ধ🚫
প্রচন্ড রাগে জেরিন তার পিঠে থাকা কলেজ ব্যাগ টি দিয়ে নাবিলের মুখে বাড়ি মারে।ব্যাগের ভিতর নতুন কেনা কড়ির ফ্লাওয়ার বেজ টার জন্য আরো জোরে লাগে নাবিলের মুখে। হটাৎ আক্রমন এ নাবিল টাল সামলাতে না পেরে মাটিতে আচড়ে পড়ে।
নাবিল পড়ে যেতেই আৎকে উঠে পিহু।কিন্তু জেরিন চোখ আজ ভয়ানক অগ্নিয়গিরির মতো জলজল করছে।নাবিল পড়ে যাওয়ার সাথে সাথে ঘুরে তাকাতেই জেরিন নিজের ব্যাগ এর উপরি ভাগের কিছু অংশ শক্ত করে হাতের মুঠোই ধরে পর পর আরো কয়েকবার বাড়ি মারে নাবিলের মুখে।
পিহুর মুখে হাত। কি বলবে বুজে উঠতে পারছে না।এদিকে নাবিল একের পর এক আক্রমনের কারনে রুখে দাড়াতে পারে না।কান ফেটে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে।ইতিমধ্যে লোকজন আসতে শুরু করেছে এদিকে।নাবিল বা হাতের বৃদ্ধা আঙুল দিয়ে ঠোঁট মুছে জেরিন এর দিকে তাকাতেই জেরিন নিজের গায়ের সর্বোচ্চ জোর দিয়ে মারে এবার।নাবিলের মাথা গিয়ে লাগে জলপাই গাছ এর গোড়ায় ইটের পাটার উপর।
জেরিন গর্জে উঠে নাবিলের উদ্দেশ্যে বলে…
-“তোর লজ্জা করে না।অমানু** জানো*য়ার এর চেয়েও খারাপ তুই।তোরে ভী ভাবতাম ভেবেই ঘৃনায় গা গুলিয়ে আসছে আমার।তুউ কিভাবে পারলি ওর মতো একটা মেয়েকে ইউজ করতে লজ্জা করলো না তোর।আল্লাহ যা করে ভালোর জন্যই করে ওই জন্যই তোর মতো কাপুরুষ কে নিজের সর্বোস্ব দেওয়ার আগে সাদি ভাই ওকে প্রটেক্ট করছে।তোর মতো ভাইয়ের মুখে থু।
জেরিন থু মারে নাবিলের দিকে। তার পর এক মুহুর্ত দেরি না করে পিহুর হাত ধরে টেনে নিয়ে আসে।পুহুরা আসতেই লোকজন নাবিল কে উঠে দাড় করাই।পর পর মার খাওয়াই বেশ লেগেছে গাল থেকে দুটো দাত ভেঙে পড়েছে সাথে সাথে।মেয়ে মানুষ বলে কেও তাদের কাছে আসে নি।এদিকে পিহু নিশ্চুপ মাথার ভিতরে ঘুরছে তার।
যে নাবিল কে জীবন প্রান দিয়ে ভালোবাসলো সেই কিনা এমন করলো।শুধু মাত্র টাকার জন্য কেও এমন নিখুত অভিনয় করতে পারে জানা ছিলো না পিহুর।রিতিমতো পুরো দুনিয়া চক্কর দিচ্ছে তার।জেরিন এখোনো রাগে ফুশছে।এই একমাত্র পিহু যে কিনা পিহুর বিপদে পিহুর অপমানে নিজের আপন পর ভুলে যায়।যত দিন যাচ্ছে তত সম্পর্ক গভীর হয়ে যাচ্ছে।
পিহু ও জেরিন কে সব থেকে ভালোবাসে।প্রতিদিন প্রায় বিশ-পচিশ বার ভিডিও কলে কথা বলে তারা।জেরিনের রাগ হচ্ছিলো না তবে যখন পিহুকে নিয়ে খারাপ মন্তব্য করছিলো তখন আর সহ্য করতে পারে নি জেরিন।এত কিছুর মধ্যে ভুলে গেছে জেরিন পিহুর সাথে দেখা করার আসল কারন এর কথা।
কলেজ গেট থেকে বেরিয়ে জেরিন একটা রিকশা ডেকে উঠে পড়ে পিহু কে নিয়ে রিকশায়।উদ্দেশ্য পিহুদের এপার্টমেন্ট।সে জানে পিহুর মানষিক অবস্থা কেমন এখন।পিহু ও কিছু বলে না রকশা চলতে শুরু করে।পিহু মাথা এলিয়ে দেয় জেরিন এর ঘাড়ে।জেরিন তাকায় পিহুর ক্লান্তি ভরা মুখের দিকে বেশ মায়া হয় মেয়েটাকে দেখে।পিহু ব্যাগ এর চেন খুলে দেখে সদ্য আসার আগে দু হাজার টাকা দিয়ে কেনা ফ্লাওয়ার ভেজ টা ভেঙে গিয়েছে।জেরিন এর মন টা খারাপ হয়ে গেলো।
কত শখের ছিলো জিনিস টা।কতদিন ধরে শোপিচ এর দোকানের কাচের ভিতরে পড়ে থাকতে দেখেছে।টাকার অভাবে নিতে পারেনি।আর আজ নিতে পারলেও তা ভেঙে গিয়েছে।জেরিন আর ভাবলো না।যা ভাগ্য থাকে না তা নিয়ে মন খারাপ করে লাভ হয় না।
জেরিন ব্যাগ এর উপরে ছোট্ট পকেট চেন টি খুলতেই ফোন খুজে পাই সাথে চিঠিটাও।ডায়রির পাতা থেকে ছিরে চিঠির খামে পুরে এনেছে সে।তবে এসে এমন সৎ্যের মুখোমুখি হয়ে ভুলেই গেছিলো।জেরিন মুখে কিছু বলতে পারবে না কান্নারা সব দলা পাকিয়ে আসবে।জেরিন চিঠি আর মোবাইল টা নিজের হাতে রাখলো।মোবাইল থেকে খুজে খুজে সাদির নাম্বার বের করে কল দিয়ে জিজ্ঞাসা করলো বাড়িতে আছে কিনা।সাদি বাড়িতে আছে শুনে স্বস্তির নিশ্বাস ফেললো জেরিন।
জামজট পুর্ন রাস্তা মাড়িয়ে রিকশা এসে থামে কাঙ্খিত বাড়ির সামনে।জেরিন নেমে ভাড়া মিটিয়ে পিহুকে নিয়ে চলে যায় নির্দিষ্ট ফ্লাট এর সামনে।তার পর কলিংবেল দিতেই সাদি এসে দরজা খুলে দেয়। পিহুর এখোনো মাথা ঘুরছে। তবে জেরিন এর তারপ্রতি এমন ভালোবাসা দেখে গর্বে বুক ভরে উঠছে তার।
সাদি পিহুর মলিন মুখের দিকে একবার তাকালো সাথে মনে হলো দুপুরের মারের কথা সেজন্যই কি মেয়েটার মন খারাপ।জেরিন চলে গেলে নাহয় একটু ছোট হইবে বউ এর কাছে।জোর করে হলেও মাফ চাইবে।সাদির ভাবনার মাঝেই জেরিন সাদিকে ভাইয়া বলে ডেকে উঠে।সাদিও কল্পনা থেকে বেরিয়ে সোফায় গিয়ে বসে।জেরিন সব খুলে বলতেই রাগে পায়ের রক্ত মাথায় উঠে যায় সাদির চোখ মুখ শক্ত হয়ে যায়।হাত মুষ্টিবদ্ধ হয়ে যায়।
বেশ কিছুক্ষন সময় কাটিয়ে জেরিন উঠতে যেতেই পিহু জেরিন কে জড়িয়ে ধরে কেদে উঠে।জেরিন পিহুকে সান্তনা দিয়ে বলে…
-“পাগলী মেয়ে তুই তো জানিস আমাদের রুহু আগে থেকেই কারোর না কারোর সাথে জুড়ে থাকে।আর রুহুর জগতে ভাইয়া তোকে চেয়েছিলো আর তুই ভাইয়াকে চেয়েছিলি।নাবিল শুধু দুনিয়ার মায়া।ওর মতো কাপু*রুষ কে ভুলতে সময় লাগবে না।আর সাদি ভাইয়া তোকে ভালোবাসে।আমার বিশ্বাস নাবিল কে ভুলতে তোর সময় লাগবে না।
পিহুর জেরিনের কথার পিঠে কেদে কেদে বলে উঠে…..
-“তোর মতো কেও আমারে বুজে না।কেও আমারে একটু সান্তনা দেয় না।তুই এতো ভালো কেন।তুই আমার বান্ধুবী না তুই আমার কলিজা।
-“হুম কলিজা।এবার শক্ত হও।আমি কিন্তু এমন কোমল পিহুকে চাইনা।পিহু হবে সব সময় স্ট্রং। কি হবে তো।
-“হুম হবে।-(জোর পুর্বক হেসে বলে পিহু)-
-“গুড..।
জেরিন উঠে দাঁড়ায়।সাদি যদিও বাড়ি পর্যন্ত দিয়ে আসবে বললো নিজের গাড়িতে করে তবে জেরিন রাজি হলো না।উলটো পিহুর অজান্তে ফিশফিশ করে বললো…
-“পিহুরে একটু টাইম দেন ওর মন ভালো না।
জেরিন কে দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দিতে এলো সাদি ও পিহু।যাওয়ার আগে সাদির হাতে কাঙ্খিত চিঠি টা দিয়ে বললো…
-“সময় নিয়ে পড়বেন আমি আপনাকেই দিতাম পিহুর মাধমে তবে দেখা জলো বলে দিয়ে দিলাম।
সাদি কিছু বুজলো না ঠিকি তবে মাথা ঘামালো না চিঠিটা ভাজ করে প্যান্ট এর পকেটে পুরে নিলো।জেরিন যাওয়ার আগে হেসে পিহুকে একবার জড়িয়ে নিলো।একে অপরের কপালে চুম্বন করে হাত নাড়িয়ে চলে গেলো।জেরিন চলে যেতেই আবারো পিহুর ভিতরের শুন্যতা জেকে বসলো। প্রচন্ড মাথা ঘুরতে শুরু করলো।নিজেকে সামলাতে না পেরে ঠাশ করে পড়ে যেতে গেলো পিহু।ঠিক সময়ে সাদি ধরে ফেললো।কোলে তুলে নিজের ঘরে নিয়ে গিয়ে পরম যত্নে বিছানায় সুইয়ে দিলো।
সাদি বুজতে পেরেছে পিহুর মাথায় মানুষিক চাপ এর কারনে এই সেন্স হারিয়েছে।সাদির হাত ফুলে দ্বিগুন।কাচ বের করে ড্রেসিং করলেও ব্যান্ডেজ করেনি সাদি।জেরিনের কথা মাথাই আসতেই পকেট থেকে চিঠি টা বের করলো। নিঃসন্দেহে সাদির মতে জেরিনের মতো কোনো বন্ধু হয় না।আপন এর চেয়েও আপন মেয়েটা পিহুর জন্য। সাদি চিঠির ভাজ খুলে পড়তে শুরু করলো।
নাবিল কে ক্লিনিকে নিতেই কোনো এক পরিচিত ছদ্মবেশির সাথে দেখা হয় নাবিলের।ট্রিটমেন্ট করার সাথে সাথে সব বলে দেয় নাবিল ছদ্মবেশি কে।নাবিলের কথা শুনে ছদ্মবেশি পুরুষ টা নাবিলের উপর বেজায় খেপে গেলো সাথে সাথে কারোর কাছে ফোন দিয়ে কিছু একটা বলে দিলো।
ওপাশ থেকে কি বললো নাবিল শুনতে না পারলেও নাবিল উঠে বসতে যেতেই লোকটি নাবিলের গলায় একটা ইঞ্জেকশন পুশ করে।সাথে সাথে নাবিল নিস্তেজ হয়ে পড়ে যায়।নাবিলের এমন নিস্তেজ মুখের দিকে তাকিয়ে কেবিন এর দরজা লাগিয়ে দেয় লোক্টি তারপর দাত কটমটিতে হেসে বলে…
-“আই এফ এস টিম এ সেকেন্ড কোনো চান্স বলে কিছু হয় না মি: নাবিল সাবের।খুব বড় ভুল করেছো তুমি।
জেরিন নিজের মাথার উপর থেকে যেনো বড় কোনো পাথর নামাতে পেরেছে চিঠিটা দিয়ে।এখন তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরতে পারলেই পরিক্ষার দিন সকাল নয়টার আগে আর বাড়ি থেকে বের হবে না সে।আর নিজের সাথে কাওকে নিয়ে কলেজ গেলে তার আর কোনো রিস্ক থাকবে না।জেরিনের ভাবনার মাঝেই কোথা থেকে একটা কালো মাইক্রো এসে থামে তার রিকশার সামনে কুছু বুজে উঠার আগেই রিকশা চালকের মাথায় পর পর কয়েকবার শুট করে।মাথার মস্তিষ্ক ছড়িয়ে যায় ছিন্ন ভুন্ন হয়ে।জেরিন চিৎকার করতে যেতেই একজন কালো মাস্ক পরিহিত ব্যাক্তি জেরিনের মুখ চেপে ধরে ক্লোরোফম মিশিত রোমাল দিয়ে।
জেরিন মুখ দিয়ে কিছু বলার আগেই অজ্ঞান হয়ে যায়।লোক গুলো জেরিন কে নিয়ে উঠে যায় গাড়িতে।চলতে শুরু করে গাড়িটি।
চলবে………
-(গল্পের এক নতুন মোড় আশা করি ভালো লাগবে।গল্পের থিম অনুযায়ী এই বিষয় টা খুব কমন।কেও বাজে মন্তব্য করবেন না।বেশি বেশি রেসপন্স করবেন)-
Share On:
TAGS: নিষিদ্ধ চাহনা, সারা চৌধুরী
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ১৬
-
৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ১
-
৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ৯
-
৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ১২
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ১৫
-
৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ৬
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ২৮ (খ)
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ১৪
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ৮
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ৪