নিষিদ্ধ_চাহনা (নোট টুকু পড়ার অনুরোধ রইলো)
পর্ব_২৮ (খ)
লেখিকাসারাচৌধুরী
🚫অনুমতি বাদে কপি করা সম্পুর্ন নিষিদ্ধ🚫
সাদি অবাক হয়ে আতিয়া বেগমের দিকে তাকিয়ে আছে।এই প্রথম আতিয়া বেগমের হাতে এমন চড় গেলো।সাদি যেনো অবাকে চরম সিমায় পৌছে গেছে। সাদি কিছু বলতে যাবে রার আগে আতিয়া বেগম কঠিন গলাই বলে উঠলো…
-“কি করলি তুই এটা।কেন করলি এমন। বিবেকে বাধে নাই এমন একটা কাজ করতে তোর..?
সাদি চুপ থাকলো না। এই প্রথম সেও মায়ের মুখের উপর কথা বললো।রাগী কন্ঠে বলে উঠলো..
-“কি করেছি ওকে আমি বিয়ে করেছি।বউ হিসেবে গ্রহন করেছি এতে কি ভুল আছে।
-“ভুল নেই মানে।মেয়েটার অনুমতি ছাড়া ওকে বোকা বানিয়ে তুই বিয়ে করেছিস..?
-“প্রথমত আম্মু তুমি কিছু জানো আর দ্বিতীয়ত আমার মনে হয় না আমি কোনো ভুল করেছি..?
আতিয়া বেগম ছেলের এমন ভাবলেশহীন কথায় চটে গেলেন বেশ।চোখ মুখ শক্ত করে নিলেন।কান্নারত পিহুকে বুকের সাথে জড়িয়ে নিলো মমতার সাথে। তারপর সাদির উদ্দেশ্য বলে উঠলো তোর আব্বু জানলে তোকে ছেড়ে কথা বলবে না। একবার তো ভুল করেছিস আবার আর এক ভুল করেছিস। তোর কি বিবেক নেই ভেবে পাচ্ছি না আমি।তোর আব্বু তোরে বাড়ি থেকে বের করে দিবে।একেবারে।
মায়ের কথার পিঠে কিছু বলার ইচ্ছা না থাকলেও সাদি আর চুপ রইলো না।সব তো ফাশ হয়েই গেলো।তাহলে একটু খারাপ হলে ক্ষতি কি এই খারাপ এর মধ্যে সত্যি প্রকাশ হলে..?সাদি রাগী কন্ঠে বলে উঠলো….
-“তো দাও বের করে আমি আমার বউ নিয়ে চলে যাচ্ছি।আমি এখানে না থাকলে আমার বউকেও রাখবো না।
সাদির কথাই পিহু আতিয়া বেগমের ঘাড় থেকে মাথা তুলে কপাল কুচকে গলা ড়েনে বলে উঠলো..
-“কে আপনার বউ..?আমি এ বিয়ে মানি না।
পিহ্য কথাটা বলা মাত্রই সাদি এক টান দেয় পিহুর বাহুতে সাথে সাথে ছিটকে সরে যায় আতিয়া বেগমের কাছ থেকে পরপরই আবারো গালে ঠাশ করে থাপ্পড় পড়ে পিহুর।পিহু এবার পড়ে না সাদি বাহু ধরে আটকে নেয়।তিবে মাথার ভিতরে চক্কর দিতে শুরু করে। আতিয়া বেগম অবাকের উপর অবাক হচ্ছেন নিজের ছেলের কর্মকান্ডে। সাদি পিহুর ক্লান্ত মুখশ্রীর দিকে তাকিয়ে রাগী কন্ঠে বলে উঠলো…
-“হাও ডেয়ার ইউ।এই বিয়ে মানবি না মানে কি।তুই মানা না মানার কে।তুই বলেছিলি তোর জীবন আমি নষ্ট করেছি।তাই আজ বিয়ে করে বউ এর স্বিকৃতি দিয়েছি কাগজ কলমে।তবে তুই মানিস আর না মানিস মুখে কবুল বলে তোকে বিউম্যে করবো আজই।
-“সাদিইই..!
-“প্লিজ স্টপ আম্মু।কি ভাবছে ও।একটা চার বছরের মেয়ে যখন বলেছিলো আপনি আমাকে বিয়ে করবেন ভায়া।তকজন অবাক হলেও আমি কথা দিছিলাম ওরে বিয়ে করবো করেছি।
-“কি আজে বাজে বকছিস মাথা খারাপ হইছে তোর…?
সাদি নিজের চুল খামছে ধরলো দুই হাত দিয়ে।চোখের শিরা গুলো লাল বর্ন ধারন করেছে।সাদি পাগলের মত পাশে থাকা বুকশেলফ এ কয়েকটা ঘুশি দিয়ে বলতে শুরু করে….
-“হ্যা আম্মু আমি পাগল আসলেই পাগল আজ তোমরা জেনেছো কাল পুরো পৃথিবী জানবে।কেন জানবে শুধু আমার এই পাগলামির জন্য। কখোনো জিজ্ঞাসা করেছো আমি কি চাই।করোনি শুধু চাপিয়ে দিয়েছো।এই যে মেয়েটাকে দেখছো সেই এগারো বছরের কিশোর বয়স থেকে ওকে হৃদয়ে আবদ্ধ করে রেখেছি।সেদিন ও বলেছিলো আমায় বিয়ে করবে। আমিও ওর কথায় সায় দিয়েছিলাম।তবে তোমাদের সব কিছু চাপিয়ে দেওয়ার জন্য ধীরে ধীরে প্রানবন্ত আমি টা গম্ভীর হয়ে উঠলাম আর এই মেয়েটা আমাকে ভয় পেতে শুরু করলো।কেনোই বা পাবেনা।হুট হাট রেগে যাওয়া স্বভাব আমার।আর ওর সাথে কথা বলতে গেলেই ও কেদে দিতো তাই আমার রাগ হতো ওরে মারতাম।এক সময় চরম ভুল করলাম।ওর থেকে দুরুত্ব বাড়াতে আমি ফারজুর সাথে সম্পর্কে গেলাম কি হলো আমাদের সম্পর্ক হলো না বরং এই মেয়েটার জীবনে কলঙ্কের দাগ লাগিয়ে দিলাম।
সাদি একটু থামলো।আতিয়া বেগম চুপ করে সাদির কথা শুনে যাচ্ছে। পিহু ও মাথায় হাত ফিয়ে দেয়াকে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে।হয়তো শুনছে নয়তো না সাদি জোরে একটা শ্বাস নিয়ে আবার বলতে শুরু করলো…
-” আমি যানতাম এই ভুল এর ক্ষমা হয় না।আর ওর সামনে থাকা মানে ওর মনে আরো ভয়ের জন্ম দেওয়া তাই সে রাতেই পাড়ি জমিয়েছিলাম কানাডায়।তিন বছর বেশ কেটেছিলো।মনে পড়েনি বেশি।তবে সেদিন প্রথম দেখার পর আভারো পুরোনো ক্ষত জেগে উঠেছে আমার এই পাপের প্রায়িশচিত্ত করতে হবে। এসব ভাবার মাঝেই জানতে পারি ও…..
মাফ করে দিও আম্মু আর বলতে পারবো না।আমি চাই না আমার স্ত্রীর অন্য যায়গার রিলেশন সম্পর্কে কিছু বলতে।তবে ছেলেটার নাম নাবিল।আর এই বিয়ে করেছি যাতে ও নাবিল এর না হয়।পিহু আমার মানে আমার।অনলি সাদি।এবার যা বলার বল মতে পারো তবে ওরে আমি তিন কবুল পড়ে পরিপূর্ণ বউ হিসেবে মেনে নিবো আজ যেভাবেই হোক। তোমি আর কিছু বলবা।আর না বললে আব্বুর কাছে গিয়ে আমি সব বলবো। আর আব্বু না মানলেও আমি ওকেই বিয়ে করবো।
সাদির কথা থাম মতেই দরজার ওপাশ থেকে ইলিয়াস চৌধুরী গম্ভীর কন্ঠে বলে উঠেন…
-“আমাকে কিছু বলা লাগবে না আমি সব শুনেছি যা হবার হয়েছে।আমি কাজি দেখেছি কালিমা পড়িয়ে দিয়ে যাবে। এক্ষুনি চলে আসবে।
এসময় যেনো ইলিয়াস চৌধুরী কে কেও আশা করে নি এখানে।আতিয়া বেগম ও সাদি একসঙ্গে অবাক হয়ে বলে উঠে…
-“তুমি এখানে…?
-“তোমাদের কথাকাটির সময় এসেছি।আর এসেছি ভালোয় হয়েছে।আমিও চেয়েছিলাম সাদির সাথে পিহুর বিয়েটা হোক।যেভাবেই হোক।আমি ভেবেছিলাম আমার ছেকে রাজি হবে না তবে আমি ভুল সাদি রাজি আছে।তবে আল্লাহ যা করেন ভালোর জন্য করেন।
সকলের কথার পিঠে ক্লান্ত পিহুর মুখ দিয়ে আর কথা আসেনা।গাল ফুকে গেছে তার।তবে এখানে কে কি বলেছে কিচ্ছুই বুজে নি।শুধু তাকিয়েই যা ছিলো।কানের ভিতরে শা শা শব্দের কারনে মাথা যন্ত্রনা হচ্ছিলো তার।যেগে থেকেও কেমন ঘুমিয়ে গেছিলো।বেলা গড়িয়ে ঘড়ির কাটা বারোটায় তখন সাদি পিহুর মৌখিক বিবাহো সম্পন্ন হয়।সাদির কাছে সব ঠিক থাক্লেও পিহুর কাছে সব ঘুলাটে।সুইসাইড এর মতো বিভৎস চিন্তা এসে ভিড়ছে মাথায়মতবে শরীর বড্ড ক্লান্ত।সাদি কাজি কে দিয়ে বিয়ের তারিখ টা ঠিক করে নেয় কাগজে ২৫-০১-২০২৫।পিহু ক্লান্ত শরীর নিয়ে সাদির ঘরেই ঘুমিয়ে পড়ে।পরক্ষনে সাদি এসে দাঁড়ায় ঘুমন্ত পিহুর মাথার কাছে।আজ হসপিটালে গেলো না তবে মেয়েটাকে নিজের করে পেলো এখান্ত তার।শুধুই তার।
হটাৎ রিকশা ওয়ালার ডাকে পিহু বাস্তবে ফিরে আসে।সাথে বেশ ভড়কেও যায়।রিকশা ওয়ালা একটু কাটখুট্টা সুরেই বলে উঠলো…
-“এইজে আফা কহন দে ডাকতাছি নামবার জচ্ছা নাই নাকি আজব বেপার।
পিহু কিছু না বলে রিকশা থেকে নেমে ভাড়ামিটিয়ে গেটের সামনে আসতে দারোয়ান গেট খুকে দেয়।পিহু হাটতে শুরু করে সরু রাস্তা দিয়ে।যেটা সোজা বিল্ডিং এর পার্কিং এ গিয়ে থেমেছে।পিহু সেখান থেকে ঘুরে সিড়ি বেয়ে নিজের ফ্লাট এর দিকে যেতে শুরু করলো এক এক পা করে।
নাবিল এর জীবন টা কেমন হতাশায় ভরে যাচ্ছে।মাঝে মাঝে মনে হয় পাগল।চুল গুলো বড্ড এলোমেলো।বেশ বড় বড় হয়ে গেছে।সারাদিন হাসতে থাকা ছেলেটা এখন কেমন সারাদিন মন মরা হয়ে পড়ে থাকে।কিচ্ছু ভালো লাগে না ওর।আজকেও কলেজ এর সামবে থেকে বাড়িতে ফিরেই ঘরের ভিতরে সেই যে ঢুকেছে আর বাইরে আসার নাম গন্ধ নেই।হাজার ডাকলেও কথা শুনে না।
সিগারেট এর আগুনে নিজের লালছে ঠোঁট এই কিছু মাসের তফাৎ এ কালচে পোড়া করে ফেলেছে।কেমন ছন্নছড়া হয়ে গেছে ছেলেটা।আগ্ব্র মতো কলেজ মাঠে আর আড্ডা দেয় না।একজনকে নিজের করে পাওয়ার জন্য নিজের অপছন্দ থাকা সত্তেও বাবার ব্যাবসার ভার সামলানো সেই ছেলেটার এখন আর খোজ নেই।পুরো বন্ধুমহল নাবিল নামক এক যুবক কে প্রতি মুহুর্তে মনে করলেও নাবিলের মনে শুধু সেই সপ্তাদশী পিহুরানীর বাশ। খুব ভালোবাসে তাকে।
নাবিল কখোনো বিশ্বাস করতো না ভালোবাসা কাদায়।তবে আজ তিলে তিলে উপলব্ধি করতে পারছে সে।যাকে নিয়ে ছোট্ট একটা সুখের কুড়েঘড় বাধার ইচ্ছা ছিলো সে আজ অন্যর ঘর সুখের ভরয়ে দিচ্ছে।নাবিল ও চেয়েছিলো তাদের একটা ছোট্ট সংসার তবে বিধাতা হয়তো সেটা আর ভাগ্য পর্যন্ত লিখে নি।
নাবিলের মা নাবিল কে ডাকতে ডাক মতে রান্না ঘর নাবিল এর দরজার সামনে এসে দাঁড়ায়।ছেলেটার কষ্ট তাকেও পিড়া দেই।তবে যা হয়ে গেছে তা বদলানো যাবে না। তিনি পিহুকে আগে না দেখলেও ছেলের জন্য বাধ্য হয়েছেন পিহুকে দেখতে।বেশ মানাতো দুজন কে।নাবিলের মা ঘরের দরজায় হালকা ধাক্কা দিতেই মহিলাটির চোখ বড় হয়ে যায়।সেই সাথে জোরে বলে উঠে…..
-“নাবিললল….
চলবে……
নোট:-সংক্ষিপ্ত আকারে দিয়েছি তাও ইনশাআল্লাহ বুজতে পারার মতো দিয়েছি।
-(আশা করি বিয়ের সব ক্লিয়ার।এবার বাকি টুকু ক্লিয়ার হয়ে যাবে।তবে আসল টুইস্ট বাকি।সবাই গেজ করো কি হতে পারে।আমি জানি সাদু বেবির অনেক অনেক পাঠিকা গেজ করতে পারবে।আজকের পর্ব কেমন লেগেছে বলে জাও আশা করি ভালো লাগবে)-
Share On:
TAGS: নিষিদ্ধ চাহনা, সারা চৌধুরী
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ১
-
চার বছরের চুক্তির মা গল্পের লিংক
-
নিষিদ্ধ চাহনা গল্পের লিংক
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ১৩
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ২৮ (ক)
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ১৯
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ২১
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ৮
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ১৫
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ৩১