Golpo romantic golpo নিষিদ্ধ চাহনা

নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ২৮ (ক)


নিষিদ্ধ_চাহনা (নোট টুকু পড়ার অনুরোধ রইলো)

পর্ব_২৮ (ক)

লেখিকাসারাচৌধুরী

🚫অনুমতি বাদে কপি করা সম্পুর্ন নিষিদ্ধ🚫

জেরিনের হাত ধরে রাস্তা অব্দি এসে দুই বান্দুবী আবার আলাদা হয়ে গেলো।যার সেই নিজ নিজ গন্তব্যে। জেরিন রিক্সায় উঠতেই পিহু ও একটা রিকশায় উঠে পড়লো।দুজনের গন্তব্য ঠিক আগের মতো বিপরীতে তবে এখন একটু বেশিই দূরে।

রিকশা চলতে শুরু করে।মৃদু বাতাস এসে বাড়ি খাই পিহুর মুখে।কপালের সামনে থাকা ছোট্ট চুল গুলো এলোমেলো উড়তে থাকে।পিহু একবার পিছন ফিরে তাকায়।না কেও নেই।তবে বুকের ভিতরে খুব শুন্যতা অনুভব হচ্ছে পিহুর।খুব খারাপ লাগছে তার।মন টাও উত্তাল সমুদ্রের মতো অশান্ত।পিহুর চোখের কোন ঘেষে অজান্তেই এক ফোটা অশ্রু গড়িয়ে পড়ে। পিহু হিসেব মেলাতে পারে না।কি থেকে কি হলে কোথায় এসে জীবন থমকালো।

থেমেছে তো থেমেছে দুই নৌকার মাঝে এনে ফেলেছে।কোনোটাই পিহু যেতে পারছে না।চাইলেও বিবাহ টা বিচ্ছেদ হবে না।আর চাইলেও নাবিল কে সে পাবেনা।এ এক অসহ্য যন্ত্রনা।রিকশা আপন গতিতে চলতে লাগলো শহরে চকচকে রাস্তা দিয়ে।পিহ আজো মানতে পারে না অনাকাঙ্ক্ষিত বিয়ের কথা তবে মেনে নিতে হবে।পিহু আবারো ডুব দিলো কল্পনায়….

ফ্লাসব্যাক…..

সাদি মাত্র ঘুম থেকে উঠেছে বাইরের পরিবেশ ঠান্ডা হলেও ঘরের ভিতরের এসির তাপমাত্রা কমানোর কারনে ঘর বেশি ঠান্ডা।ইশান রা চলে গেছে আজ দুদিন হলো।সাদি যেনো সস্তির নিশ্বাস ফিরে পেয়েছে নিজের মাঝে।আজ সকাল সকাল হসপিটালে যেতে হবে ইমারজেন্সি একটা অপারেশন আছে।সাদি তাড়াহুড়ো করে ফ্রেশ হয়ে না খেয়েই শুধু মাত্র আতিয়া বেগম কে বলে বেরিয়ে যায় হসপিটালের উদ্দেশ্যে। আতিয়া বেগম শত বার খেয়ে যেতে বল্লেও সাদি তাড়াহুড়ো করে বেরিয়ে যায়।তাড়াহুড়োর তাড়নায় ঘরে নিজের ওয়ালেট রেখে যায় সাদি।

এদিকে সকাল সকাল আতিয়া বেগমের খেয়ে যা বাবা অল্প একটু খেয়ে যা।সকাল সকাল না খেয়ে বের হতে নেই।এসব কথা শুনেই রুম থেকে বেরিয়ে আসে পিহু।চোখে মুখে এখোনো ঘুমের রেশ কাটেনি।দেখে বোঝাই যাচ্ছে আতিয়া বেগমের চিল্লানোর কারনে পিহুর ঘুম পালিয়েছে।পিহু করিডোর এ আসতেই দেখে সাদি বেরিয়ে গেছে।পিহু মনে মনে বেশ বিরক্ত হয়।একটা মানুষ কে এতবার বলার পরেও না খেয়ে যায়।তাকে এতবার কেন দুবার বলার আগেই সে খেয়ে নিবে যদি করলা ভাজি না হয়।ইদানীং পিহুর করলা জিনিস টা সবার উপরের অপছন্দের তালিকায় অন্যতম।

পিহু সিড়ির দিকে যেতে গিয়েও কিছু একটা ভেবে সাদির রুমে চলে আসে।কি মনে করে আসলো জানে না।তবে রুম অন্ধকার দেখে চোখ মুখে বিরক্তের রেশ চলে আসে।পিহু ঘরের ভিতরে এসে জানালার পর্দা সরাতেই চকচকে আলো ঘরের ভিতর প্রবেশ করে।পিহু পিছু ঘুরতেই চোখ যায়। সাদির বেড সাইট টেবিল এর উপর রাখা ওয়ালেট এর উপর। ওয়ালেট এর নিচে দুটো খাম ভাজ করা।পিহু সেদিকে না তাকিয়ে চলে যেতে গিয়েও কৌতুহল নিয়ে বিছানার পাশে গিয়ে বসে।সাদির ওয়ালেট উচু করে খাম দুটো উচু করে হাতে নেই।সপ্তদশী পিহুর মনে তখন প্রখর কৌতুহল বাসা বাধে খাম খোলার।যদিও যানে এতে সাদির কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাগজ আছে তবুও খুলার ইচ্ছা তাকে ছেয়ে ফেলে।পিহু প্রথম খাম টা খুলতেই দেখতে পায়।তার সেই সিগনেচার করা পেপার টি।

সাথে সাথে পিহুর কপাল কুচকে যায়।এক মনে পিহু ভেবে উঠে..আচ্ছা এটা এখানে কেন..?পিহুর কৌতুহলী মন দ্বিতীয় খাম টা খুলে দেখতে চায়।পিহু খুলতেই বেশি অবাক হয়।সাথে সাথে পায়ের নিচের মাটি সরে যায় পিহুর।মাথার ভিতর চক্কর দিয়ে উঠে।

দ্বিতীয় খামে একটা দলিল। দলিল বললে ভুল হবে বিয়ের রেজিস্ট্রিপেপার।আর কনের জায়গায় পিহু স্বয়ং নিজে আর বরের জায়গায় সাদির একটা ছবি।দুজনের সিগনেচার ই করা আছে।পিহু ঘামতে শুরু করে হাত পা কাপতে শুরু করে এলোমেলো ভাবে।ঠিক তখনই দরজা দিয়ে রুমে প্রবেশ করে সাদি।মুলত ওয়ালেট আর এই খাম দুটোই নিতে এসেছিলো সে।পিহু পুরো কাগজ টা পড়তে পারে না।

সাদি এসে পিহুকে পিছন থেকে ডাকতেই পিহু চমকে উঠে দাঁড়ায়।ফলে সাথে সাথে হাতে থাকা কাবিন নামা হাত ফসকে পড়ে যায়।সাদি সেদিকে একবার তাকিয়েই বুজতে পারে এটা কিসের কাগজ। তবে এখন তার সময় নেই।হসপিটালে পৌছাতে হবে বেশি টাইম নেই।মাঝরাস্তা থেকে ফিরে এসেছে যে ভয় নিয়ে।আজ সেটাই পরিপূর্ণ হয়ে গেলো।সাদি পিহুর থেকে এই কাগজ লোকানোর জন্যই মুলত আলমারি থেকে বের করেছিলো হসপিটালের কেবিনে রাখবে বলে।

সাদি জানতো পিহু এতে খুব রেগে যাবে আর হলো ও তাই। সাদি কাগজ থেকে মুখ উচিয়ে পিহুর মুখের দিকে তাকাতেই ঠাশ করে একটা চড় পড়লো সাদির গালে।সাদি প্রায় হতভম্ব হয়ে গেছে পিহুর এমন চড়ের কারনে।সাদি অবাক হওয়া চোখে পিহুর দিকে পুনরায় তাকাতেই পিহু প্রচন্ড রেগে সাদির কলার চেপে ধরে বলে উঠে…
-“এগুলা কি..? কি করলেন আপনি আমার সাথে..?

সাদি যেনো মুখের ভাষা হারিয়েছে। যে ভয়টা সে পেয়েছিলো সেই ভয়টা বাস্তবায়িত হয়েছে।তবে পিহুর এমন রুপ সাদির কল্পনায় ছিলো না।সাদিকে চুপ থাকতে দেখে পিহু দ্বিগুন রেগে সাদির কলার ঝাকিয়ে বলে উঠে…
-“বেইমান আমার সরলতার সুজোগ নিতে আপনার লজ্জা করলো না ছিহ্ কিভাবে পারলেন আপনি।

সাদি দেয়ালে থাকা ঘড়ির দিকে এক পলক তাকালো।মোবাইল ভাইব্রেট হচ্ছে তার। এর মানে হসপিটাল থেকে কল আসছে।এদিকে পিহুকে কি বলবে খুজে পাচ্ছে না। বকার কিছু নেই।সে যেটা করেছে সেটা পিহু কখোনো সহযে মানবে না।এটা সাদি জানে। সাদিকে অন্য মনষ্ক দেখে পিহু সাদির বুকে এক হাত দিয়ে ধাক্কা দিতেই সাদি নিজের গম্ভীর কন্ঠে বলে উঠে…
-“আমার কলার ছাড় পিহু আমার তাড়া আছে..!

-“আগে আমার প্রশ্নের উত্তর দেন এতোটা অমানুষ কিভাবে হলেন আপনি…

-“পিহুউউ…

-“কি হচ্ছে কি পাইছেন আমাকে।আমার সরলতার সুজোগ নিয়ে কি করলেন এটা বিশ্বাসঘাটক বেইমান।মির জাফর ও আপনার চেয়ে ভালো ছিলো।ছিহ্।

-“পিহু আমাকে ছাড় আমার হসপিটালে যেতে হবে একজন এর জীবন বাজি আছে। ইমারজেন্সি যেতে হবে ছাড়।

-“আমার জীবন নষ্ট করে আর একজনের জীবন বাচাতে যাবেন লজ্জা করে না আপনার।(সাদির কলার ঝাকিয়ে বলে পিহু)

-“লাস্ট বার বলছি কলার ছাড় আমাকে যেতে দে।ভালো হবে না কিন্তু।আমি ফিরে এসে সব বলবো..!

-“কি বলবেন আপনি। বিশ্বাসঘাতক জা*য়ার।

সাদির রাগের মাত্রা যেনো ছাড়িয়ে গেলো এ ঝটকায় পিহুকে নিজের থেকে ছাড়িয়ে ফেললো পিহু কিছুদুর সরে গেলো টাল সামলাতে না পেরে।সাদি মেঝে থেকে কাগজ টি তুলে ভাজ করে পকেট এ পুরতে নিয়ে বের হতে যাবে তখনই পিহু আবারো পিছন থেকে ঠাশ করে কাগজ টা টেনে নিয়ে টুকরো টুকরো করে ফেলে নিমিষে।

সাদি পিছু ঘুরে এক পলক সেদিকে তাকালো।ইতিমধ্যে আতিয়া বেগম সাদির দরজায় এসে দাড়িয়েছেন।তিনি মুলত পিহুর চিল্লানোর আওয়াজ শুনে এসেছিলো এখানে।মনে করেছিলো সাদি তাকে আবার মেরেছে। তবে এসে এখোনো বুজে উঠতে পারিনি কি হয়েছে। আতিয়া বেগমের সামনেই সাদি পিহুর গালে ঠাশ ঠাশ করে পরপর কয়েকটা চড় বসায়।চড় গুলো এতো জোরে পিহুর গালে লাগে যে সাথে সাথে পাচ আঙুলের ছাপ বসে যায়।

সাদি রাগে গর্জে বলে উঠে……
“এটা তুই কি করলি…?

পিহু চোখে পানি নিয়ে গালে হাত দেওয়া অবস্তায় ও রাগী কন্ঠে বলে…
-” যা করেছি ভালো করেছি। কেন করলেন আপনি এমন আমার জীবন টা ধ্বংস করে দিলেন একেবারে।ছিহ্।

সাদি ঠাশ করে আবার পিহুর গালে চড় মারে।এবার পিহু কেদে ফেলে কষ্টে বুক ফেটে কান্না এলো তার।সাদি পিহুর চোয়াল শক্ত করে চেপে ধরে।।আতিয়া বেগম নিজেই কেপে উঠেছেন।সাদি গর্জে বলে উঠলো….

-“হাও ডেয়ার ইউ।তোর সাহস কিভাবে হয় আমার সাথে মুখে মুখে তর্ক করার।কি বললী তুই বিশ্বাস ঘাটকতা করেছি আমি।হ্যা আমি করেছি তোর কি।আমার যা ইচ্ছা তাই করবো।তোর এটা ভাবার সাহস কি করে হলো,,ছোট থেকে যে গাছ আমি যত্ন করে বড় করলাম আর সেই গাছের ফল অন্য জন ভোগ করবে।তোরে বিয়ে করেছি তুই আমার বউ। শেষ মানবি কি মানবি না তোর বেপার…

সাদি আর কিছু বলতে পারলো তার আগেই তার গালে ঠাশ করে জোরে চড়ের আঘাত এর শব্দ হলো।সাদির সাথে সাথে পিহুর ও চোখ বড় বড় হয়ে গেছে।সাদি অবাক হয়ে বলে উঠলো….
-“তুমি এখানে…?

চলবে…..

নোট:- কেও এই পর্ব পড়ে বাজে মন্তব্য করবেন না।ভালো না লাগলে ইগনোর করবেন তবুও বাজে মন্তব্য করবেন না।আর একটা পর্বে বিয়ের সব কাহিনী ক্লিয়ার হয়ে যাবে।তার পর বাকি প্রশ্ন গুলো। একটু ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করবেন প্লিজ😊

-(আগামী পর্বে অনেক কিছু জানবেন।আজকের পর্ব কেমন হয়েছে বলে জাবেন আশা করি ভালো লাগবে।

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply