Golpo romantic golpo নিষিদ্ধ চাহনা

নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ১৫


নিষিদ্ধ_চাহনা

পর্ব_১৫

লেখিকাসারাচৌধুরী

🚫অনুমতি বাদে কপি করা সম্পুর্ন নিষিদ্ধ🚫

পিহু অবাক হলো সাথে ভ্রু কুচকে গেলো। পিহু কোম্রে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে কিছু বলতে যাবে তার আগে পিছন থেকে আতিয়া বেগম বলে উঠে…

-“ও আমারে কি ডাকবে না ডাকবে তাতে তোর সমস্যা কই…?

সাদি নিজের মায়ের কথায় যেনো আরো রেগে গেলো তবুও শান্ত ভাবে বললো..
-“ও তোমারে মামুনি বলে ডাকবে না মানে ডাকবে না।

আতিয়া বেগম বিরক্ত হলেন ছেলের আবার কি হয়েছে। আতিয়া বেগম কিচু বলতে যাভেন তার আগেই পিহু মিনমিনিয়ে বলে উঠলো…
-“আমি এক শো বার ডাকবো আপনার কি..?

কথা টা পিহু আস্তে বল্লেও সাদি স্পষ্ট শুন মতে পেলো মুহুর্তেই চোখে মুখে আবার রাগ দেখা দিলো।সাদি পিহুর দিকে রাগী দৃষ্টি নিক্ষেপ করে রাগী কন্ঠে বকে উঠে..
-“কি বললি তুই আর একবার বল…?

সাদির হুংকারে পিহু সহ আতিয়া বেগম ও কেপে উঠলো।আতিয়া বেগম সাদিরে শান্ত করতে এগিয়ে এসে শান্ত কন্ঠে শুধালো..
-“কি হয়েছে বাবু ও আমাকে মামুনি ডাকলে কি সমস্যা।

সাদি আতিয়া বেগমের থেকে সরে গিয়ে কাটকাট কন্ঠে বললো..
-“কেন ডাকবে তোমারে মামুনি অন্য কোনো ওয়ার্ড নাই।

পিহু আবারো বিড়বিড় করে বলে উঠলো..
-“এতো বড় দামড়া পোলারে বাবু ডাকছে ছেহ।

সাদি শুনলো কিছু বলতে গিয়েও বললো না কারন জানে পিহু এখন মার খেতে পারে তার হাতে।

আতিয়া বেগম এতক্ষনে বুজে গেছেন ঘটনা খুব গভীর। তাই আতিয়া বেগম শান্ত কন্ঠে বলে উঠলো..
-“আমি তো ওর মা তাই আমাকে মামুনি বলে ডাকে।

-“হোয়াট…?-(সাদি চোখ বড় বড় কতে তাকিয়ে বলে উঠে)

-“মানে মেয়েরা তো মাকে নামুনি ডাকবেই।

-“না ডাকবেনা তুমি অনলি আমার আম্মু ওর আম্মু না।

-“কি হয়েছে তোর বলতো..?

-“আমি বলেছি তোমাকে ও মামুনি ডাকবে না তো ডাকবে না।

আতিয়া বেগম দেখলো পিহুর মুখ টা কালো হয়ে গেছে। হয়তো সাদির এমন বাড়াবাড়ির জন্য। আতিয়া বেগম বললো..
-“ও আমার মামুনি বলে ডাকলে সমস্যা কি তাই বল আগে…?

-“ও কে তোমাকে মামুনি ডাকার…?

-“ও তোর বোন আমার মেয়ে তাই আমারে মামুনি ডাকবে।

সাদি যেনো আকাশ থেকে পড়লো চোখ মুখ বড় করে অবাক হওয়া কন্ঠে বললো..
-“হোয়াট।

-“ও তোর বোন ই তো..?

-“আম্মু তুমি কি পাগল হয়েছো সে আমার ছোট চাচুর মেয়ে নট মাই সিস।ওকে।

-“সেই একই তোর বোন ই হয়.?

-“এই বার বার বোন বোন করো কেন ও বোন না আমার,, ও আমার চাচুর মেয়ে ও যেনো তোমারে মামুনি না ডাকে।আমার জাস্ট অসহ্য লাগে ও যখন তোমাকে মামুনি ডাকে।

আতিয়া বেগম কিছু বলতে যাবে তার আগেই পিছন থেকে পিহু নিজের ভারাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে বলে উঠলো…
-“থাক চাচি আমাকে নিয়ে আর কিছু বলতে হবে না আমি আর তোমারে মামুনি বলে ডাকবো না।আসলে আমার ভুল জার মা নেই তার অন্যের আম্মুকে মা মনে করা উচিত নয় আমি আর ডাকবো না সাদি ভাইয়া আপনার আম্মুকে মামুনি। আপনার আর অসহ্য লাগবে না।

কথা গুলো বলেই পিহু ভারাক্রান্ত হৃদয় আর অশ্রুভেজা চোখ নিয়ে সিড়ি বেয়ে ছুটে উপরে চলে এলো।তারপর নিজের রুমে এসে দরজা লাগিয়ে দিয়ে দরজাত ঠেশ দিয়ে বসে হাটুতে মুখ বুজে কেদে উঠলো।তার খুব কষ্ট হচ্ছে আজ,,নিজের বাবা মাকে মনে পড়ছে খুব।চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে ধারাহীন নোনাজল।পিহু হাটুঁতে মুখ গুজেই আওড়ালো…

-“আম্মু জানো এতোদিন তোমার অভাব বুজি নি।আসলেই আমি এতিম আম্মু।আমার কেও নাই।আপু ও নেই।আজ সাদি ভাইয়াও মামনিকে ডাক মতে নিষেধ করেছে কাল থেকে হয়তো বাবাই কেও বাবাই বলে ডাকা হবে না।আমারে একা রেখে চলে গেলে কেন আম্মু তোমরা।

পিহুর এমন কথা বলে চলে যাওয়া দেখে সাদি স্তব্ধ। আতিয়া বেগম সাদির উপর প্রচন্ড রেগে বলে উঠে..

-“নে খুশি তো তুই মেয়েটাকে কাদাতে চাইছিলি কাদিয়েছিস খুব ভালো করেছিস।তোর থেকে এটা আসা করি নাই। খুব নিষ্ঠুর হয়ে গেছিস তুই।

বলেই আতিয়া বেগম রাগী ভাব নিয়ে ঘরের দিকে চলে গেলেন।সাদি স্তব্ধ। সাদি বুজতে পারে নাই ঘটনা উলটে যাবে।সে এখোনো বুজতে পারছে না কি থেকে কি হয়ে গেলো।গাড়িতে নাবিল যখন বলেছিলো পিহুর মামুনি বলে ডাকাটা সাদির বোনের মতো বোঝায়। তখন সাদির খুব রাগ হয়েছিলো আর সেই রাগের জন্য সাদি এত বড় একটা ঝামেলা পাকিয়ে ফেললো।সাদি নিজের উপর নিজেই বিরক্ত দুই হাত দিয়ে নিজের চুল টেনে ধরে জোরে নিশ্বাস নিলো।

সাদি বড় বড় পা ফেলে উপরে নিজের রুমে চলে এলো,, নিজের রুমে ঢোকার আগে পিহুর বন্ধ দরজার দিকে তাকিয়ে মনের কোনে একটু খারাপ লাগা কাজ করলো আসলেই সে কি কষ্ট দিয়ে ফেললো মেয়েটাকে।সাদি ভাবতে পারছে না।রুমে ঢুকে লাইট জালিয়ে এপ্রোন টা বাস্কেট এ ছুড়ে দিয়ে ওয়াশরুমে চলে গেলো ফ্রেশ হতে।

বেশ লম্বা সময় শাওয়ার নেওয়ার পরে সাদি ব্লাক ট্রাওজার আর খালি গায়ে টাওয়াল দিয়ে চুল মুছতে মুছতে বের হলো ওয়াশরুম থেকে।সাদি রুমে চারিদিকে একবার চোখ বোলালো না সব গোছানো তার মানে পিহু রুমে এসেছিলো সে ইচ্ছা করেই সব কিছু অগোছালো করে রেখে দেই পিহুর জন্য। সাদি জানালার পর্দা টেনে দিয়ে লাইট অফ করে বিছানায় ক্লান্ত শরীর এলিয়ে দিলো।মন বলছে পিহুর কাছে যেতে। মেয়েটা কি করছে জানতে।তবে ইগো বাধা দিচ্ছে।সাদি হাত চোখের উপর দিয়ে চোখ বুজলো আপাতত মস্তিষ্ক ঠান্ডা করা প্রয়োজন যার জন্য ঘুম প্রয়োজন।সাদি পাশ ফিরে সুয়ে রইলো নিরবে।

পিহু হাটু থেকে মুখ তুলে এগিয়ে চললো বেলকোনির দিকে।বেলকোনিতে গিয়ে কর্নারে থাকা দোলনায় বসে পড়লো মাথা এলিয়ে দিলো দোলনায়।তারপর আকাশের দিকে তাকিয়ে কষ্টে ভরা হৃদয় নিয়ে ধীর কন্ঠে গেয়ে উঠলো…

-“বুকের ভিতর ফুটছে যেনো..!
-“মাছের কানকোর লাল..!
-“এতো নরম..!
-“শাড়ির সুতো বুনছে যেনো..!
-“সেই লালের কঙ্কাল..!
-“বিপদ বড়..!
-“কথার ওপর..!
-“কেবল কথা..!
-“সিলিং ছুতে চাই..!
-“নিজের মুখের আয়না আদল..!
-“লাগছে অসহায়..!

চলবে……

-(আজ এটুকুই জরের কারনে লিখতে পারিনি,,একটু মানিয়ে নিও প্লিজ,, আমার জন্য দোয়া করো এই জ্বর নিয়ে লিখতে পারাও অনেক কঠিন,,কেও বাজে মন্তব্য করবেন না)-

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply