নির্লজ্জ_ভালোবাসা
লেখিকাসুমিচোধুরী
পর্ব ৭৬ (❌কপি করা নিষিদ্ধ❌)
তিথির মুখ থেকে বের হওয়া প্রতিটি শব্দ আয়ানের কানে তীরের মতো এসে বিঁধল। আয়ান স্তম্ভিত হয়ে দাঁড়িয়ে রইল, তার মস্তিষ্ক যেন কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে। তিথি কী বলল? বাবু পৃথিবীতে আলো দেখতে আসছে? এই কথা তিথি ছাড়া আর কেউ জানে না, এমনকি তার বাবাও না?
আয়ানের বুকটা ধক করে উঠল। এর মানে কি তিথি প্রেগন্যান্ট? তিথির গর্ভে তার নিজের রক্ত বেড়ে উঠছে? এক মুহূর্তের জন্য আয়ানের মনে হলো চারপাশের বাতাস ভারী হয়ে আসছে। তার ভেতরটা এক অদ্ভুত অস্থিরতায় ফেটে যেতে চাইল। সে নিজেকে সামলে নিয়ে আবারও কান খাড়া করল, কারণ তিথি আবারও কিছু বলতে শুরু করেছে।
তিথি আকাশের দিকে তাকিয়ে কাঁপাকাঁপা হাতে চোখের জল মুছে নিল। তার কণ্ঠস্বর কান্নায় ভেঙে আসছিল। সে অস্ফুট স্বরে পুনরায় বলল।
“জানি না আয়ান, তুমি আমাকে কোনোদিন ক্ষমা করবে কি না। তোমার এই পাথরের মতো নীরবতা আমাকে প্রতি মুহূর্তে দগ্ধ করছে। কিন্তু তুমি কি জানো? তোমার এই এড়িয়ে চলা আর অবহেলার ভয়ে আমি আজ তোমাকে তোমার নিজের সন্তানের খবরটা পর্যন্ত দিতে পারছি না। বলতে পারছি না যে তুমি বাবা হতে চলেছ। আমি জানি, আমি হয়তো তোমার কাছে অপরাধী, কিন্তু এই নিষ্পাপ শিশুটা তো কোনো দোষ করেনি। ও কেন ওর বাবার আদর থেকে বঞ্চিত হবে?।”
আয়ানের কানে কথাগুলো পৌঁছাতেই তার শরীরের রক্ত যেন টগবগ করে ফুটে উঠল। তার চোখ থেকে কয়েক ফোঁটা তপ্ত অশ্রু গড়িয়ে পড়ল, কিন্তু সেই জল মায়ার নয়, বরং এক প্রচণ্ড আক্রোশ আর যন্ত্রণার। আয়ান দুই হাতের মুঠি শক্ত করে ধরল, রাগে তার বুকটা কামারের হাপরের মতো ওঠানামা করছে। সে আর এক মুহূর্তও নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারল না।
মুহূর্তের মধ্যে বড় বড় পা ফেলে আয়ান তিথির পিছনে এসে দাঁড়াল। তিথি কিছু বুঝে ওঠার আগেই আয়ান ঝড়ের গতিতে তার হাত ধরে নিজের দিকে ঘুরিয়ে আনল এবং সজোরে ‘ঠাস’ করে তিথির ফর্সা গালে এক থাপ্পড় বসিয়ে দিল। সেই চড়টা যেন নিস্তব্ধ ছাদের বুকে বজ্রপাতের মতো শোনাল।
আচমকা এমন ঘটনায় তিথি ভয়ে কুঁকড়ে গেল। সে চোখে সর্ষে ফুল দেখছে। তার গালটা মুহূর্তে রক্তবর্ণ হয়ে ফুলে উঠল। কাঁপাকাঁপা চোখে সামনে তাকাতেই দেখল আয়ান দাঁড়িয়ে আছে তার চোখের মণি দিয়ে যেন আগুনের গোলা বের হচ্ছে। তিথি বড় বড় শ্বাস নিতে নিতে ভাবল, আয়ান কখন এল? ও কি তবে সব শুনে ফেলেছে?তিথি নিজের গাল হাত দিয়ে চেপে ধরে ধরা গলায় বলল।
“আ-আ-আয়ান! তু-তুমি এখানে?”
আয়ান কোনো উত্তর না দিয়ে এক ঝটকায় তিথির চোয়াল চেপে ধরল। যন্ত্রণায় তিথির মুখটা বিকৃত হয়ে গেল। আয়ান দাঁতে দাঁত চেপে রাগে ফেটে পড়ে বলল।
“বল! তুই আমাকে আর কী কী থেকে আলাদা করতে চাস? তুই কি আমাকে জ্যান্ত মেরে ফেলতে চাস? তোর হিম্মত হয় কী করে আমার থেকে এত বড় একটা সত্যি লুকিয়ে রাখার?”
তিথির চোখ দিয়ে অনবরত নোনা জল গড়িয়ে পড়ছে। চোয়ালের ওপর আয়ানের আঙুলের চাপ ক্রমশ বাড়ছে, মনে হচ্ছে হাড়গুলো এখনই গুঁড়ো হয়ে যাবে। তিথি কোনোমতে কাঁপা কাঁপা গলায় বলল।
“আ-আয়ান, তুমি কী বলছো আমি বুঝতে পারছি না আমি কী করেছি?”
আয়ানের বুকটা যেন এখন ফেটে যাচ্ছে। যাকে সে নিজের জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবেসেছে, যার অবহেলায় সে দিনের পর দিন জ্যান্ত লাশের মতো বেঁচে আছে, সেই মানুষটাই তার কাছ থেকে এত বড় একটা সত্যি লুকিয়ে যাচ্ছে! এই হাহাকার আর মান অভিমানের বোঝা যেন আর সইতে পারছে না আয়ান।মুহূর্তের মধ্যে আয়ান তিথির চোয়াল ছেড়ে দিল। কোনো কিছু না ভেবেই সে ধপ করে ছাদের মেঝেতে হাঁটু গেঁড়ে বসে পড়ল। পরম আবেশে আর অধিকারবোধে তিথির পেটটা নিজের দুই হাতে জড়িয়ে ধরল আয়ান। তারপর তিথির পেটে মুখ গুঁজে সে এক উন্মাদ পাগলের মতো হাহাকারে কেঁদে দিল। আয়ানের এমন আকস্মিক আচরণে তিথি পাথরের মতো স্থির হয়ে গেল তার সবটুকু ভয় এক নিমেষে বিস্ময়ে রূপ নিল।আয়ান তিথির পেট জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে ভাঙা গলায় বলতে লাগল।
“আমি কোনোদিন তোকে ক্ষমা করব না তিথি, কোনোদিন না! তুই তিলে তিলে আমার জীবনটা শেষ করে দিচ্ছিস। একে তো তুই আমাকে নিজের থেকে দূরে সরিয়ে দিয়ে জ্যান্ত মেরে ফেলেছিস, তার ওপর এখন আমার সন্তানের কাছ থেকেও আড়াল করে রেখেছিস? তুই কীভাবে পারলি তিথি, কীভাবে পারলি আমার রক্তকে আমার কাছ থেকে আড়াল করতে?।”
আয়ানের কথা শুনে তিথির শরীরটা থরথর করে কাঁপতে লাগল। আয়ান যে তার প্রতিটি কথা শুনে ফেলেছে, এই ভাবনায় মেরুদণ্ড দিয়ে এক শীতল স্রোত বয়ে গেল তিথির উপর। তিথি আর নিজেকে স্থির রাখতে পারল না, আয়ানের কান্নায় ভেঙে পড়া দেখে সেও কান্নায় ভেঙে পড়ল। তিথি ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে ধরা গলায় বলল।
“আ-আয়ান, বিশ্বাস করো, আমি তোমার কাছ থেকে লুকাতে চাইনি। আমি শুধু তোমাকে সত্যিটা বলার মতো শক্তি খুঁজে পাচ্ছিলাম না। তুমি যখন আমাকে এড়িয়ে চলো, চরম অবহেলা করো, তখন নিজেকে দুনিয়ার সবচেয়ে বড় অপরাধী মনে হয়। তুমিই বলো আয়ান, একজন অপরাধী হয়ে আমি বুক ফুলিয়ে এই খুশির খবরটা তোমাকে দেব কোন সাহসে?।”
কিন্তু আয়ান তখন তিথির কোনো যুক্তি বা কান্নাই নিজের কানে নিচ্ছে না। সে যেন বাবা হওয়ার এক অসীম আর স্বর্গীয় খুশিতে অন্য কোনো দুনিয়ায় হারিয়ে গেছে। তিথির পেটে মুখ গুঁজে সে এক অদ্ভুত ঘোরের মধ্যে আবুল-তাবুল বলতে শুরু করল। তার কণ্ঠে এখন আর আগের সেই তীব্র ঘৃণা নেই, বরং এক অবুঝ আকুতি মিশে আছে।আয়ান তিথির পেটে বারবার পরম মমতায় চুমু খেতে খেতে ফিসফিস করে বলল।
“আমার কলিজা সোনা, তুমি আর এক মুহূর্ত দেরি করো না। তুমি খুব তাড়াতাড়ি এই পৃথিবীতে চলে আসো। তুমি আর আমি মিলে তোমার এই পচা মাম্মাকে অনেক অনেক শাস্তি দেব। তুমি দেবে তোমাকে তোমার বাবার থেকে আড়াল করে রাখার জন্য, আর আমি দেব আমাকে এতদিন জ্যান্ত লাশ বানিয়ে রাখার জন্য। আমরা দুজনে মিলে ওকে একদম জ্বালিয়ে মারব, বুঝলে সোনা?”
আয়ানের এই অদ্ভুত বাচ্চামো আর ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ দেখে তিথির চোখের জল যেন বাঁধ মানল না। যে মানুষটা কিছুক্ষণ আগে তাকে চড় মেরেছিল, সেই মানুষটাই এখন তার অনাগত সন্তানের সাথে কথা বলছে। আয়ান যেন ভুলে গেছে তিথির প্রতি তার পাহাড় সমান অভিমানের কথা। এই মুহূর্তে সে শুধু একজন বাবা, যে তার সন্তানের প্রথম অস্তিত্বের খবর পেয়ে দিশেহারা।
কিছুক্ষণ পর আয়ান উঠে দাঁড়িয়ে চোখের পানি মুছে ফেলল। তার চোখের সেই নরম ভঙ্গি নিমেষেই উধাও হয়ে সেখানে জায়গা করে নিল।এক অদ্ভুত কাঠিন্য পাগলামির জেদ। আয়ান দাঁতে দাঁত চেপে বলল।
“শুনে রাখ তিথি, আমার সন্তানটা শুধু পৃথিবীতে আসতে দে! আমাকে এ পর্যন্ত যতটুকু কষ্ট দিয়েছিস, তার সবটুকু হিসাব আমি কড়ায়-গণ্ডায় শোধ করে নেব। আমি আর আমার সন্তান মিলে তোকে সারাক্ষণ জ্বালিয়ে মারবো তখন বুঝবি তোর এই পাগল স্বামীকে দূরে রাখার ফল।”
বলেই আয়ান এক মুহূর্ত দেরি করল না, ঝড়ের বেগে ছাদ থেকে নিচে নেমে গেল। তিথি স্তম্ভিত হয়ে ওখানেই দাঁড়িয়ে রইল। কান্নার মাঝেও সে হেসে ফেলল আয়ান যে বাবা হওয়ার খুশিতে পাগল হয়ে গেছে তা নিশ্চিত। তারপর তিথিও ধীর পায়ে আয়ানের পিছু পিছু নিচে নেমে এল।
আয়ান সোজা গিয়ে তার বাবা আরিফুল খান আর মা হিমি খানের ঘরের দরজার সামনে দাঁড়াল। সে যেন হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে। পাগলের মতো দরজায় কড়া নাড়তে লাগল সে। আরিফুল খান আর হিমি খান তখন মাত্রই ঘুমের দেশে তলিয়ে যাচ্ছিলেন। ছেলের এমন অস্থির আর ঘনঘন ডাক শুনে দুজনেই ধড়ফড় করে বিছানা থেকে উঠে পড়লেন। আরিফুল খান তড়িঘড়ি করে চশমাটা নাকে বসিয়ে দরজা খুলে দিলেন। সামনে আয়ানকে ওভাবে হাঁপাতে দেখে তিনি বিচলিত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন।
“কী হয়েছে আয়ান? এত রাতে এমন পাগলের মতো অস্থির হয়ে ডাকছিস কেন আমাদের? কোনো বিপদ হয়েছে?”
আয়ান মুহূর্তের মধ্যে বড় করে একগাল হাসল, তার চোখে তখন আনন্দ আর উত্তেজনার অদ্ভুত এক মিশ্রণ। সে আরিফুল খানকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে খুশিতে আত্মহারা হয়ে বলল।
“বাবা, আমি অনেক খুশি! আজ আমি এতটাই খুশি যে তোমাকে ভাষায় বোঝাতে পারব না। বাবা, তোমার সেই ছোট আয়ান এখন আর ছোট নেই। আজ তোমার আয়ান নিজেও বাবা হতে চলেছে! তোমার মতো করেই আঙুল ধরে হাঁটিয়ে হাঁটিয়ে শেখানোর ক্ষমতা আমারও হচ্ছে বাবা। আমি বাবা হচ্ছি!”
আয়ানের কথা শুনে আরিফুল খান আর হিমি খান পাথরের মতো স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন।হিমি খান যেন নিজের কানকেই বিশ্বাস করতে পারছেন না। তিনি অবাক হয়ে বললেন।
“কী বলছিস এসব? তুই বাবা হচ্ছিস মানে?
আয়ান আরিফুল খানকে ছেড়ে এবার হিমি খানকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলল।
“হ্যাঁ আম্মু! তোমার সেই ছোট ছেলে আজ নিজেও বাবা হতে যাচ্ছে। তুমি দাদি হতে যাচ্ছো আম্মু!”
হিমি খান আর আরিফুল খান একে অপরের দিকে তাকালেন।হঠাৎ হিমি খানের নজর গেল দরজার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা তিথির দিকে। তিথি মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে, লজ্জায় তার দুগাল টকটকে লাল হয়ে উঠেছে। তিথির সেই লাজুক মুখ আর অবনত ভঙ্গি দেখে হিমি খানের আর বুঝতে বাকি রইল না যে আয়ান যা বলছে তা একবর্ণও মিথ্যে নয়। হিমি খান মুহূর্তে হাত জোড় করে বললেন।
“আলহামদুলিল্লাহ!”
তিনি আয়ানকে ছেড়ে দ্রুত তিথির কাছে এগিয়ে এলেন। তিথির থুতনিটা আলতো করে উঁচিয়ে ধরে আদুরে ধমকের সুরে বললেন।
“আমার সন্দেহটাই তাহলে ঠিক ছিল! এই জন্যই তুই দুপুরে মাছ-মাংস ফেলে আচার দিয়ে ভাত খাচ্ছিলি? তোর সাহস কত বড়, এত বড় খুশির খবরটা আমাদের কাছে লুকিয়ে রেখেছিলি”
তিথি কোনো কথা বলতে পারল না, লজ্জায় আর আড়ষ্টতায় তার মাথা আরও নিচু হয়ে গেল। এদিকে আয়ান যেন খুশিতে পাগল হয়ে গেছে। সে চিৎকার করে বাসার সবাইকে ডেকে তুলল। মাঝরাতে এমন হুলস্থল দেখে বাড়ির সবাই জেগে উঠল।
তিথির মা হওয়ার খবরটা যখন জানাজানি হলো, বাড়ির পরিবেশ এক নিমিষেই বদলে গেল। সবাই যেমন অবাক, তার চেয়েও দ্বিগুণ খুশি। আনোয়ার খান,আরিফুল খান আর আশিক খান এই তিন ভাই খুশিতে রীতিমতো বাচ্চাদের মতো নাচানাচি শুরু করে দিলেন। একে অপরকে জড়িয়ে ধরে তারা বলতে লাগলেন।
“আমাদের বাড়ির দুই মেয়েই একসাথে মা হতে যাচ্ছে! আমরা নানা-দাদা হতে চলেছি।”
হিমি খান, তনুজা খান আর রৌশনি খান যেন তিথিকে ভালোবাসায় ভরিয়ে দিলেন। তনুজা খান তো তুরার মতো তিথির সারা মুখে চুমু খেয়ে অস্থির করে তুললেন। তুরাও নিজের শারীরিক অসুস্থতা ভুলে পরম মমতায় তিথিকে জড়িয়ে ধরল। দুই বোনই প্রায় একই সময়ে মা হতে যাচ্ছে এমন ঘটনা সত্যিই বিরল আর অভাবনীয়। অবশ্য লেখিকা চাইলে কী না হয়! পর্দার আড়ালে বসে লেখিকা কলম ঘুরিয়েছেন বলেই তো এই দুই বোনের জীবনে খুশির জোয়ার একসাথে এল।
আশিক খান নিজের দুই মেয়ের দিকে তাকিয়ে মুহূর্তের জন্য স্মৃতিকাতর হয়ে পড়লেন। তিনি তিথি আর তুরার মাথায় পরম মমতায় হাত বুলিয়ে দিলেন। তারপর দুজনকে দুই হাত দিয়ে নিজের বুকের সাথে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলেন।
তার স্পষ্ট মনে পড়ে যাচ্ছে, এই তো সেদিনকার কথা! ছোট ছোট দুটো ফ্রক পরে এই দুই মেয়ে তার হাত ধরে টলমল পায়ে হাঁটত। তিনি দুজনের দুটো আঙুল ধরে ধরে কত শিখিয়েছেন কীভাবে পা ফেলতে হয়। সেই ছোট্ট সোনামণিরা আজ কত বড় হয়ে গেছে! আজ তারা নিজেরাই একেকটা প্রাণের জন্ম দিতে যাচ্ছে।
আশিক খানের মনের ভেতরটা এক অদ্ভুত সুখে ভরে উঠল। খুশিতে আর আবেগে তার চোখের কোণ চিকচিক করে উঠল। তিনি ধরা গলায় বললেন।
“আমার আম্মু দুটো আজ কত বড় হয়ে গেছে! আমি ভাবতেই পারছি না তোরা মা হতে যাচ্ছিস। তোদের এই আঙুল ধরে হাঁটা শেখানো দিনগুলো যেন আমার চোখের সামনে এখনো ভাসছে। তোরা সবসময় সুখে থাকিস সোনামণিরা এটাই আমার একমাত্র চাওয়া।”
বাড়ির সবাই তখন গোল হয়ে দাঁড়িয়ে এই দৃশ্য দেখছিল। তনুজা খানও স্বামীর এমন আবেগ দেখে চোখের জল সামলাতে পারলেন না। পুরো বাড়িতে তখন খুশির এক পশলা বৃষ্টি বয়ে যাচ্ছে। রৌদ্র দূরে থাকলেও এই খবরের রেশ যেন ফোনের মাধ্যমে সাত সমুদ্র তেরো নদী পার হয়ে তাকেও ছুঁয়ে গেল। এবং রৌদ্রও অনেক খুশি হলো। তাহলে দুই ভাই এক সাথে বাপ হতে যাচ্ছে। এইটা কি আসলেই সম্ভবত। অবশ্য লেখিকা চাইলে কি না সম্ভব তাই না।
রানিং…
Share On:
TAGS: নির্লজ্জ ভালোবাসা, সুমি চৌধুরী
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৩৮
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৩৬
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৫৯
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ২১
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৩৩
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৩০
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৫০
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৩৯
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৬৮
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৭৩