নির্লজ্জ_ভালোবাসা
লেখিকাসুৃমিচৌধুরী
পর্ব ৭০ (❌কপি করা নিষিদ্ধ❌)
কাঁপা কাঁপা হাতে তিথি একটা লাল গোলাপ তুলল। একটু আগেই সে অনেক অনুনয়-বিনয় করেছে অন্য কোনো ডেয়ার নেওয়ার জন্য, কিন্তু আয়ান বাদে বাকি সবার এক কথা তাকে এই ডেয়ারই পালন করতে হবে, নাহলে আজ তার নিস্তার নেই। তিথিও একদম বাধ্য মেয়ের মতো বাগান থেকে গোলাপ ফুলটা ছিঁড়ে আনল। ফুলটা হাতে নিয়ে সে যখন সবার সামনে এসে দাঁড়াল,অমনি শিহাব আর রৌদ্র এক প্রকার জোর করে টেনে-হিঁচড়ে আয়ানকে দাঁড় করাল। আয়ান কিছুতেই দাঁড়াবে না বলে শক্ত হয়ে বসে ছিল, কিন্তু রৌদ্র আর শিহাবও আজ ছাড়ার পাত্র নয়। শেষমেশ আয়ান পাথরের মতো স্থির হয়ে তিথির সামনে এসে দাঁড়াল।
আরশি এবার বেশ আয়েশ করে বসে তিথির দিকে তাকিয়ে হুকুমের সুরে বলল।
“হুম, শুরু কর!”
তিথির সারা শরীর থরথর করে কাঁপছে। তার মনে হচ্ছে সে কোনো খেলা বা নাটক নয়, বরং সত্যি সত্যি আয়ানকে প্রপোজ করতে যাচ্ছে। তার হৃৎপিণ্ড যেন পাঁজরের হাড় ভেঙে বেরিয়ে আসতে চাইছে। তিথি কাঁপা কাঁপা পায়ে আয়ানের একদম কাছে গিয়ে দাঁড়াল। আয়ানের সেই তীক্ষ্ণ আর শীতল দৃষ্টির সামনে দাঁড়ানোই দায়। তিথি এবার মাথা নিচু করে ধীরে ধীরে হাঁটু গেঁড়ে বসল। চোখ দুটো শক্ত করে বন্ধ করে ফুলটা আয়ানের দিকে উঁচিয়ে ধরে অজান্তেই বলতে শুরু করল।
“হাজারো রাজপ্রাসাদে তুমিই আমার এক প্রজা,
আমার এই শূন্য হৃদয়ের তুমিই একমাত্র রাজা,
সহস্র রাগ অভিমান ভুলে আজ চাই শুধু তোমার ছায়া,
আজীবন এভাবেই ভালোবেসো, রেখো একটু মায়া,
আমি তোমায় ভালোবাসি, আই লাভ ইউ আয়ান ভাইয়া।”
তিথির কথাটা শেষ হতেই চারপাশটা যেন এক মায়াবী নিস্তব্ধতায় ডুবে গেল। ছাদের সেই হইচই হঠাৎ থেমে গিয়ে সবাই একদম স্থির হয়ে তিথির দিকে অবাক চোখে তাকিয়ে রইল। কেউ ভাবতেই পারেনি তিথি এভাবে ছন্দ মিলিয়ে প্রপোজ করবে সে যেন সত্যি সত্যিই আজ পারফরম্যান্স দিয়ে সবাইকে মাতিয়ে দিয়েছে। কিন্তু আয়ান? সে এক মুহূর্তও আর সেখানে দাঁড়িয়ে থাকল না। কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে, কোনো কথা না বলে সে সোজা গিয়ে নিজের জায়গায় ধপ করে বসে পড়ল।
মুহূর্তেই নিস্তব্ধতা ভেঙে সবাই একসাথে জোরে জোরে হাততালি দিতে শুরু করল।তিথি তখনও হাঁটু গেঁড়ে বসে, ফুলটা সামনে ধরে চোখ বন্ধ করে ছিল। হাততালির প্রচণ্ড শব্দে সে যখন ধক করে চোখ খুলল, সামনে তাকিয়ে দেখল সেখানে আয়ান নেই। সে অবাক হয়ে বসার জায়গার দিকে তাকিয়ে দেখল আয়ান মুখ ফিরিয়ে গুম মেরে বসে আছে। তিথির বুকের ভেতরটা একটু মোচড় দিয়ে উঠল এতটা ঘটা করে সবার সামনে বলার পরেও আয়ান একটা কথা না বলেই এভাবে চলে গেল? তিথি অজান্তেই বেশ মন খারাপ করে ধীরে ধীরে নিজের জায়গায় এসে বসে পড়ল।
এবার আরশি আবার বোতলটা ঘোরালো। বনবন করে ঘুরে বোতলটা এবার গিয়ে থামল সরাসরি রৌদ্রের দিকে। আয়ান এবার যেন সুযোগ পেয়ে গেল। সে মুহূর্তেই নড়েচড়ে বসে বলল।
“ভাইয়াকে আমি ধরব! আচ্ছা ভাইয়া, কী নেবে তুমি?”
রৌদ্র একটুক্ষণ সময় নিয়ে ভাবল। তার মুখে সেই চিরচেনা আত্মবিশ্বাসের হাসি। সে তুরাকে একবার আড়চোখে দেখে নিয়ে বলল।
“ঠিক আছে, এই খেলাতে আমি সবসময় ট্রুথ নিতাম, কিন্তু এইবার ডেয়ার নিলাম। দেখি আমার ছোট ভাই কত বড় কাজ দিতে পারে!”
আয়ান এবার ঠোঁটের কোণে এক শয়তানি হাসি ফুটিয়ে তুলল। সে রৌদ্রের দিকে তাকিয়ে বলল।
“চিন্তা করো না ভাইয়া, খুব বড় কোনো কাজ দেব না। কাজটা বেশ ছোট কিন্তু মজার। তোমার চোখ শক্ত করে বেঁধে দেওয়া হবে। এখানে যতজন মেয়ে আছে, তাদের মধ্য থেকে শুধু তোমার ভালোবাসার শক্তি দিয়ে তোমাকে তুরাকে খুঁজে বের করতে হবে। তবে মনে রেখো কোনো কথা বলা যাবে না আর একদম চিটিং করা যাবে না!”
আয়ানের এই ডেয়ার শুনে সবার মধ্যে আবার উত্তেজনা তুঙ্গে উঠল।রৌদ্র আর কোনো কথা বলল না। সে আজ নিজেই নিজের কাছে প্রমাণ করতে চায় যে, চোখের দৃষ্টি ছাড়াই তার মন তুরাকে চিনতে পারে কি না। আয়ান উঠে এসে রৌদ্রের চোখে একটা কালো রুমালটা বেশ শক্ত করে বেঁধে দিল। এরপর তুরা, তিথি, আরশি আর আরফাকে এক লাইনে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হলো। শিহাব রৌদ্রের কাঁধ ধরে সবার সামনে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়ে হালকা ধাক্কা দিয়ে বলল।
“নে ভাই খুঁজ! মনে রাখিস, একদম চিটিং করবি না কিন্তু!”
রৌদ্র হাত বাড়িয়ে অন্ধকারে হাতড়াতে হাতড়াতে প্রথমেই আরফাকে স্পর্শ করল। আরফা মুখ টিপে টিপে হাসছে। রৌদ্র আরফার মুখটা ছুঁয়েই হাত সরিয়ে নিয়ে তিথিকে ধরল। তিথিও একদম পাথরের মতো চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল। এবার রৌদ্র আরশিকে ধরল এবং অনেকক্ষণ ধরে আরশির মুখটা খুঁটিয়ে হাত দিয়ে অনুভব করল। সে যখন আরশিকে ছেড়ে পাশে দাঁড়ানো তুরাকে ধরতে যাবে, ঠিক তখনই আরফা এক শয়তানি বুদ্ধি আঁটল। সে দ্রুত তুরাকে একপাশে সরিয়ে দিয়ে নিজেই তুরার জায়গায় দাঁড়িয়ে পড়ল।
রৌদ্র আবারও আরফাকেই ধরল। আরফার এই কাণ্ড দেখে নেহাল, শিহাব আর আয়ান মুখ টিপে হাসতে লাগল। রৌদ্র আরফার মুখ হাত দিয়ে অনুভব করে একটু থমকে দাঁড়িয়ে পড়ল। সে যেন কিছুতেই মেলাতে পারছে না তুরা আসলে কোনটা। রৌদ্রকে এভাবে বিভ্রান্ত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে নেহাল ফোড়ন কাটল।
“কী ভাই? হার মেনে নিয়েছো নাকি?”
রৌদ্র জেদের বশে না-সূচক মাথা নাড়ল। সে আবারও আরশিকে ধরল, তারপর তিথিকে। এবার যখন সে আবারও তুরাকে ধরতে গেল, আরশি এবার শয়তানি শুরু করল। সে তুরাকে টান দিয়ে নিজের জায়গায় এনে নিজে তুরার জায়গায় দাঁড়িয়ে পড়ল। রৌদ্র আবারও আরশিকেই ধরল। এভাবে বেশ কিছুক্ষণ ধরে আরশিরা রৌদ্রকে নিয়ে গোলকধাঁধায় খেলাতে লাগল।
শেষমেশ শিহাব দেখল রৌদ্র কিছুতেই হার মানছে না, তখন সে আরশিদের চোখের ইশারায় তুরাকে ধরতে দেওয়ার সংকেত দিল। শিহাবের ইশারা বুঝে এবার আরশিরা আর কোনো শয়তানি করল না। তুরাকে রৌদ্রের সামনে এসে স্থির হয়ে দাঁড়াতে দিল।
রৌদ্র এবার খুব ধীরে ধীরে হাত বাড়িয়ে তুরার নরম গালে স্পর্শ করল। রৌদ্রের আঙুল ছোঁয়া মাত্রই তুরা যেন এক অজানা শিহরণে ছ্যাঁত করে কেঁপে উঠল। তুরা পলকহীন চোখে রৌদ্রের ওই চোখ বাঁধা মুখটার দিকে তাকিয়ে রইল। রৌদ্রের তপ্ত আর ভারি নিশ্বাসগুলো তুরার কপালে আছড়ে পড়ছে। তুরা অবচেতনেই হালকা হালকা কাঁপতে শুরু করল। সে মনে মনে ভাবছে, রৌদ্র কি সত্যিই তাকে চিনে নিতে পারবে?
এদিকে তুরাকে ধরার সাথে সাথেই রৌদ্রের ঠোঁটের কোণে এক বিজয়ীর বাঁকা হাসি ফুটে উঠল। কারণ সে জানে, সে যখনই তুরাকে নিবিড়ভাবে স্পর্শ করে, তুরা ঠিক এভাবেই কেঁপে ওঠে। রৌদ্র তুরাকে শুধু স্পর্শ করেনি, বরং বেশ গভীরভাবে অনুভব করছিল। আর এই অনুভূতিটাই তাকে সত্যটা আজ জানিয়ে দিল। এতক্ষণ সে আরশি, তিথি কিংবা আরফাকে যখন ধরেছে, তারা সবাই একদম স্থির ছিল, কেউ বিন্দুমাত্র কাঁপেনি। কিন্তু তুরার এই বিশেষ প্রতিক্রিয়া বা রিয়াকশন রৌদ্রের খুব ভালো করে চেনা।
রৌদ্র এক মুহূর্ত দেরি না করে তুরাকে এক ঝটকায় নিজের বুকের মাঝে টেনে নিল। এক হাত দিয়ে শক্ত করে তুরাকে জড়িয়ে ধরে সবার সামনে সগৌরবে ঘোষণা করল।
“শী ইজ মাই ওয়াইফ।”
মুহূর্তে সবার মুখ জাস্ট হা হয়ে গেল। চারপাশটা এমনভাবে নিস্তব্ধ হয়ে গেল যেন সবাই কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছে। তুরা নিজেও অবিশ্বাস্য চোখে রৌদ্রের দিকে তাকিয়ে রইল। তার মাথায় যেন একটা বিদ্যুৎ খেলে গেল সে ভাবল যে মানুষটা নিরেট অন্ধকারের মাঝেও শুধু অনুভূতির জোরে তাকে চিনে নিতে পারে, সেই মানুষটা কি কোনোদিন তাকে ঠকাবে? তুরার ভাবনায় যেন এক মুহূর্তের জন্য শর্ট লেগে গেল, রৌদ্রের প্রতি তার বিশ্বাসটা এক ধাক্কায় বহুগুণ বেড়ে গেল।
সবাইকে ওভাবে চুপ থাকতে দেখে রৌদ্র মনে মনে বেশ ভয় পেয়ে গেল। তার বুকটা ধক করে উঠল এই ভেবে সে কি তবে ভুল কাউকে ধরে ফেলেছে? তার চিরচেনা সেই অনুভূতিটা কি আজ তাকে মিথ্যা প্রমান দিল? ভাবতেই রৌদ্র কাঁপা কাঁপা হাতে চোখ থেকে রুমালটা খুলে ফেলল। মাথা নিচু করে নিজের বুকের মাঝে তুরাকেই দেখতে পেয়ে রৌদ্রের সারা শরীরে এক শান্তির পরশ বয়ে গেল। সে এক দীর্ঘ শান্তির নিঃশ্বাস ছাড়ল না, সে ভুল করেনি, সে তার তুরাকেই খুঁজে পেয়েছে।
মুহূর্তেই স্তব্ধতা ভেঙে ধীরে ধীরে সবাই জোরে জোরে হাততালি দিতে শুরু করল। নেহাল তালি দিতে দিতে এগিয়ে এসে অবাক কণ্ঠে বলল।
“বাহ রৌদ্র ভাই! তোমার ভালোবাসার কোনো তুলনা হয় না। আমি তো জাস্ট শক্ খেয়ে গিয়েছি!”
সবাই রৌদ্রের এই অসম্ভব দক্ষতার প্রশংসা করতে লাগল। হাসাহাসি আর হুল্লোড়ের পর আবার সবাই যার যার জায়গায় গিয়ে বসল। এবার তিথি বোতলটা ঘোরাল। বোতলটা বনবন করে ঘুরতে ঘুরতে একদম সরাসরি গিয়ে থামল আয়ানের দিকে।
আয়ানকে টার্গেট হতে দেখে তুরা যেন মেঘ না চাইতেই জল পেয়ে গেল। সে বসা থেকে এক প্রকার ফাল মেরে উঠে চনমনে গলায় বলল।
“আমি প্রশ্ন করব! আয়ান ভাই, বলো তুমি কী নিবে? ট্রুথ নাকি ডেয়ার?”
আয়ান কিছুক্ষণ গম্ভীর হয়ে বসে রইল। তার ওই তপ্ত চোখের দৃষ্টি যেন ছাদের রেলিং ছাপিয়ে অজানায় হারিয়ে যাচ্ছিল। তারপর সবার দিকে তাকিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল।
“সবাই যখন ডেয়ার নিচ্ছে, তাহলে আমি কেন বাদ থাকব কেন? আমিও ডেয়ারই নিলাম। দেখি, আমার কপালে আজ কী দুঃখ জমা আছে!”
আয়ানের কথা শেষ হতে না হতেই তুরা এক মুহূর্ত দেরি না করে ছাদ থেকে ভোঁ দৌড় দিল। সবাই অবাক হয়ে একে অপরের মুখ চাওয়া-চাওয়ি করতে লাগল ভাবল তুরা আবার কোথায় নিরুদ্দেশ হলো! সবার ভাবনার রেশ কাটার আগেই তুরা হাঁপাতে হাঁপাতে কাঁধে করে রৌদ্রের গিটারটা নিয়ে হাজির হলো। সে গিটারটা এমনভাবে ধরল যেন ওটাই এখনকার মাইক। সে ঘোষণা করার ভঙ্গিতে বলল।
“শোনো শোনো সবাই! আমাদের মাঝে এখন আয়ান ভাইয়া গিটারের টুংটাং শব্দের সাথে সাথে গান গেয়ে শোনাবে।”
পুরো ছাদ হাততালিতে ফেটে পড়ল। আয়ান একটা শান্তির নিশ্বাস ছাড়ল যাক বাবা, গান গাইতে বলেছে! অন্তত শিহাবের মতো শাড়ি পরে ক্যাটওয়াক বা রৌদ্রের মতো চোখ বাঁধার পরীক্ষা তো দিতে হচ্ছে না। তুরা আয়ানের কোলের ওপর গিটারটা রেখে পাশে বসল। রৌদ্র আয়ানের কাঁধে হাত রেখে উৎসাহ দিয়ে বলল।
“নে ভাই, অনেকদিন তোর গান শুনি না। শুরু কর।”
সবাই এবার গালে হাত দিয়ে আয়ানের সুরের জাদুতে মগ্ন হওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিল। তিথিও একদম স্থির হয়ে বসল। তার বুকের ভেতরটা ধুকপুক করছে।আয়ান ধীরে ধীরে গিটারটা ঠিক করে ধরে এক লম্বা শ্বাস টেনে চোখ বন্ধ করল। গিটারের তারে আঙুল ছোঁয়াতেই এক বিষণ্ণ সুর রাতের নিস্তব্ধতা চিরে ছড়িয়ে পড়ল। নিজের অজান্তেই মনের গহীন থেকে একরাশ হাহাকার গানের কলি হয়ে বেরিয়ে আসতে লাগল।
~মন কেন কান্দে রে তোরই লাগিয়া~
~বুক চিরে দেখ না রে তুই কাছে আসিয়া~ (২বার)
~নিজের হাতে তীর মারিলি কলিজার ভিতর~
~তোর জন্য আজও আমি বান্ধি নাই রে ঘর~
~তোর জন্য আজও আমি বান্ধি নাই রে ঘর~
~মন কেন কান্দে রে তোরই লাগিয়া~
~বুক চিরে দেখলি না রে তুই কাছে আসিয়া…~
আয়ানের গলার সেই আকুতি আর গিটারের করুণ সুর যেন পুরো ছাদের বাতাস ভারী করে তুলল। তিথি এক দৃষ্টিতে আয়ানের শান্ত হয়ে থাকা ফ্যাকাশে মুখটার দিকে তাকিয়ে রইল। সে অনুভব করতে পারছে, এই গানটা কেবল খেলার অংশ নয় বরং আয়ান আজ গানের প্রতিটি কথায় নিজের অবহেলিত ভালোবাসার দীর্ঘশ্বাসগুলোই উগরে দিচ্ছে। আয়ানের চোখের কোণটা একটু ভিজে উঠল।
আয়ান ধীরে ধীরে গানের শেষ প্রান্তে চলে এল। একদম শেষ কলিটা গাওয়ার সময় তার গলাটা যেন কিছুটা ধরে এল, এক অদ্ভুত হাহাকার মিশিয়ে সে গাইল।
~ভালো তোরে ভেসে যাবো সারা জনম ভর~
এই কথাটুকুর মাঝেই যেন আয়ান আজ বাস্তবের কোনো গভীর সত্য প্রকাশ করে দিল। তিথির আত্মা যেন মুহূর্তে ছ্যাঁত করে উঠল। তার বুকের ভেতর এক প্রলয়ংকরী ঝড় বয়ে যাচ্ছে। সে নিজেকেই প্রশ্ন করতে লাগল আয়ান এত কষ্টের গান কেন গাইছে? আর গানটা শুনতে শুনতে তার নিজেরই বা কেন এত খারাপ লাগছে? আয়ানের প্রতিটি সুর যেন তিথির হৃদয়ে তীরের মতো বিঁধছে।
গান শেষ হতেই পুরো ছাদ জুড়ে এক নিস্তব্ধতা নেমে এল। শিহাব অবাক চোখে আয়ানের দিকে তাকিয়ে থেকে শেষমেশ নিস্তব্ধতা ভেঙে বলল।
“গানটা গাইছো ভাই একদম ফাটাইয়া দিছো! কিন্তু এমন বুক ফাটানো কষ্টের গান কেন? আমার তো প্রাই হার্ট ব্লাস্ট হওয়ার দশা হইছিল!”
আয়ান শিহাবের কথার কোনো সরাসরি উত্তর দিল না। সে আকাশের দিকে তাকিয়ে একটা তপ্ত লম্বা শ্বাস টানল। তারপর খুব শান্ত গলায় বলল।
“আমার মন যেই গানে সায় দিয়েছে, আমি আজ সেই গানই শুনিয়েছি। যাই হোক, আপনারা খেলেন, আমি আর খেলব না। আমার কিছু জরুরি কাজ আছে।”
বলেই আয়ান এক মুহূর্ত দেরি না করে উঠে দাঁড়াল। কারও কোনো উত্তরের অপেক্ষা না করেই সে বড় বড় পা ফেলে ছাদ থেকে নিচে চলে গেল। সবাই আয়ানের যাওয়ার পথের দিকে একদম হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে রইল। তাদের মনে কেবল একটাই প্রশ্ন আয়ানের হঠাৎ কী হলো? যে আয়ান সবসময় সবাইকে হাসিয়ে মাতিয়ে রাখত, সেই মানুষটা আজ এমন নীরব আর গম্ভীর হয়ে গেল কীভাবে।
আয়ানের এই আকস্মিক প্রস্থানে আড্ডার আমেজটা পুরোপুরি বিষিয়ে গেল। এরপর আর কেউ খেলা চালিয়ে যাওয়ার উৎসাহ পেল না। সবাই একে একে উঠে ধীরে ধীরে ছাদ থেকে বিদায় নিল। শুধু তিথি একাই অন্ধকার ছাদের রেলিং ঘেঁষে দাঁড়িয়ে রইল। আকাশের এক কোণে চাঁদটা আজ বড্ড একা লাগছে তার কাছে, ঠিক যেমনটা সে নিজে অনুভব করছে।
রানিং…!
Share On:
TAGS: নির্লজ্জ ভালোবাসা, সুমি চৌধুরী
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৬৫
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৫৩
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ২০
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৪৩
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৮
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৫৯
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ১০
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৩৪
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৪
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৬১