Golpo romantic golpo নতুন প্রেমের গান

নতুন প্রেমের গান পর্ব ৯


নতুন প্রেমের গান (০৯)

প্রফেসর শেখ সিয়াদাত শাহারিয়ার মুখটাই বারবার ভেসে উঠছে সুপ্রভার চোখের সামনে। তার কাঁপতে থাকা মন বলছে সিয়াদাত আসবে ।তাকে এই মানুষরূপী জা’নোয়ার গুলোর হাত থেকে উদ্ধার করতে অবশ্যই আসবে।সুপ্রভার চোখদুটো অস্থির হয়ে সিয়াদাতের খোঁজ চালায়। কিন্তু না! সিয়াদাত
কোথাও নেই।সুপ্রভার নিজেকে বড্ড অসহায় লাগে। ক্ষণে ক্ষণে কেঁপে উঠে তার জীর্ণশীর্ণ বুক। পাঁচ জোড়া চোখের লোলুপ দৃষ্টি তার দিকেই আবদ্ধ হয়ে রয়েছে। জিহ্বায় উপচে পড়া কামুকতা। কৃষ্ণবর্ণ গাঁয়ের রং। হলদেটে দাঁতের বিশ্রী হাসির শব্দ বজ্রধ্বনির ন্যায় কর্ণে বাজতে থাকে সুপ্রভার।

সুপ্রভা তার পরিধেয় বেনারসী শাড়ি টা শক্ত করে আঁকড়ে ধরে। নিজের ঘোর বিপদ আঁচ করতে পেরে আঁখিদ্বয় বেয়ে গড়িয়ে পড়ে নোনাজল।একটু সাহায্যের আশায় সুপ্রভা ফের চতুর্দিকে দৃষ্টি ঘোরায়। কিন্তু চারিদিক নিস্তব্ধ । নেই কোনো জনমানব। শোনা যাচ্ছে শুধু ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক। মাঝেমধ্যে আবার কুকুরের ঘেউ ঘেউ আওয়াজ ভেসে আসছে। সুপ্রভার ললাট জুড়ে বিস্তর ঘাম। পরনের ব্লাউজ টা ভিজে জবজবে হয়ে গিয়েছে।চোখের সামনে যেন সবটা ব্লার হয়ে উঠেছে।ভেসে উঠছে বাবা , মা ,আদরের মামার হাস্যোজ্জ্বল মুখখানি।হয়তো আর কখনোই সরেজমিনে তাদেরকে দেখার সৌভাগ্য হবে না। হয়তো আগামীকাল সকালে কোন এক নর্দমার স্তুপে পড়ে থাকবে তার নিথর দেহ খানি। বে‌ওয়ারিশ লাশ হবে তার নাম। যেটা জানতেও পারবে না সুপ্রভার স্বজনেরা।

নিজেকে বাঁচানোর কোনো রাস্তা খুঁজে পায় না সুপ্রভা। লোকগুলো নিজেদের পরনের শার্ট খুলে রাস্তায় ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে সুপ্রভার শাড়ির আঁচলের দিকে হাত বাড়িয়ে দেয়।

ঠিক তখনই একটা পুরুষ অবয়ব এসে সকলের সামনে দাঁড়ায়। গুরুগম্ভীর গলায় বলে–

“ এখানে কী হচ্ছে?”

লোকটাকে দেখে বাঁচার ক্ষীণ আশার প্রদীপ জ্বলে ওঠে সুপ্রভার মনে।সুপ্রভা দৌড়ে আগন্তুক লোকটার পেছনে গিয়ে দাঁড়ায়। মাস্তান ছেলেগুলো আগন্তুক লোকটার উপর চড়াও হয়। বেঁটে কায়ের একটা ছেলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে বলে–

“দেখ ভাই তোর সাথে আমাদের কোনো শত্রুতা নেই। মা ** টাকে আমাদের হাতে ছেড়ে দিয়ে , চুপচাপ কেটে পড়। নয়তো হিরোগিরি তোর মার সা**** মধ্যে ভরে দিব। তুই….” সম্পূর্ণ কথাটা শেষ করার আগেই বেঁটে লোকটা ছিটকে রাস্তায় পড়ে যায়।তার নাক ফেটে ফিনকি দিয়ে র’ক্ত বের হচ্ছে। আগন্তুক লোকটা নিজের সর্বশক্তি দিয়ে বেঁটে লোকটার নাক বরাবর ঘুষি দিয়েছে।দলের লোককে আহত দেখে অন্যদের চোখে ক্রোধের আগুন জ্বলে ওঠে।তারা সবাই আগন্তুক লোকটার উপর ঝাপিয়ে পড়ে। কিন্তু লোকটার গায়ে যেন অসুরের শক্তি।সে একাই চারটা লোককে মে’রে
আহত করে দিয়েছে। এক পর্যায়ে বেঁটে লোকটা
রাস্তা থেকে উঠে এসে সুপ্রভার পেট বরাবর ছুরি চালিয়ে দিতে যায়। কিন্তু ছুরি সুপ্রভার শরীর স্পর্শ করার আগেই আগন্তুক লোকটা ছুরিটা আটকে দেয়।ধারালো ফলায় চিরে যায় তার তালু,র’ক্ত গড়িয়ে পড়ে পিচঢালা রাস্তায়।তবুও লোকটা ছুরি ছাড়ে না।সুপ্রভা পাশেই একটা ইটের টুকরো দেখতে পায়।সে এক মিনিট‌ও বিলম্ব না করে ইটের টুকরোটা তুলে নেয়।মনে সাহস জুগিয়ে বেঁটে লোকটার মাথায় বারি মে’রে দেয়।লোকটা ফের রাস্তায় লুটিয়ে পড়ে।সুপ্রভা দৌড়ে এসে আগন্তুক লোকটার হাত ধরে।কপালে চোখ তুলে ভেজা গলায় বলে–

“ হায় আল্লাহ! কতো র’ক্ত বের হচ্ছে।আপনি কি পাগল? চিনেন না জানেন না অপরিচিত একটা মেয়ের জন্য নিজের র’ক্ত ঝরালেন?”

লোকটা কোনো কথা বলে না।সহসা সুপ্রভার লোকটার উপর দৃষ্টি যায়।লোকটার হাত দুটো ছাড়া কিছুই দেখে যাচ্ছে না। নিজেকে কালো কাপড়ে মুড়িয়ে রাখা।মুখে মাষ্ক পরা,চোখে সানগ্লাস। মোদ্দা কথা লোকটাকে চেনার কোনো জো নেই।সুপ্রভা কী করবে বুঝে উঠতে পারে না।দিশেহারা হয়ে নিজের শাড়ির আঁচল ছিঁড়ে লোকটার র’ক্তাক্ত হাত বেঁধে দেয়।এতোটা র’ক্ত ঝরেছে তবুও লোকটার মধ্যে কোনো হেলদোল নেই।সে এদিক ওদিক চোরা দৃষ্টিতে তাকিয়ে দৃঢ় গলায় বলল – “ তাড়াতাড়ি গাড়িতে উঠুন।কুইক।”

সুপ্রভার বুকটা কেঁপে উঠে। অজানা শঙ্কায় দেহ , মন শিউরে উঠে।সুপ্রভা শুকনো ঢোক গিলে
লোকটাকে কিছু বলতে উদ্যত হয় ঠিক তখনই তার ফোন বেজে ওঠে।ফোনটা রাস্তায় পড়ে ছিল।সুপ্রভা দ্রুত ফোনটা তুলে কল রিসিভ করে। তৎক্ষণাৎ ফোনের অপর প্রান্ত থেকে বিচলিত গলা শোনা যায় —

“ তুই ঠিক আছিস প্রভা? তোকে কতবার কল করেছি, তুই কল রিসিভ করিস নি কেন?”

সুপ্রভা আগন্তুক লোকটার থেকে একটু দূরে সরে যায়। নিজেকে ধাতস্থ করে বলে– “ আমি ঠিক আছি সিমি। ফোনটা সাইলেন্ট ছিল, তাই খেয়াল করি নি।”

প্রভা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে। নির্ভীক চিত্তে বলে–

“আমার মনে শঙ্কা বিরাজ করছিল। তুই একা একটা মেয়ে এতো দূর আসবি।তাই আমি ভাইয়াকে পাঠিয়েছি।তোর ফোন নাম্বার‌ও দিয়েছি।ভাইয়া তোর সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে। তুই নিশ্চিতে নির্বিঘ্নে ভাইয়ার সাথে চলে আয়।”

সুপ্রভা হতভম্ব গলায় বলে – তোর ভাইয়া তো সিলেটে থাকে।উনি এতো তাড়াতাড়ি এখানে ? কিভাবে সম্ভব?”

“ তোর সামনে যে দাঁড়িয়ে রয়েছে সে আমার দাভাই।আমার বড় চাচ্চুর ছেলে।”

সুপ্রভার বুকের উপর থেকে বড়সড় একটা পাথর সরে যায়।সে আগন্তুক লোকটার দিকে একপল তাকিয়ে দৃষ্টি নামিয়ে নেয়। নিচু গলায় বলে–

“ লোকটাকে কেমন জানি ছেলেধরা মনে হচ্ছে আমার।এই গরমের মধ্যেও নিজেকে ঢেকে রেখেছে।তার কি গরম লাগে না?”

“ সেটা আমাকে জিজ্ঞেস করছিস কেন? দা‌ভাইকে জিজ্ঞেস কর।”

সুপ্রভার বলার অনেক কিছুই ছিল। কিন্তু বলা হয় না।সিমির দাভাই তাকে তাড়া দেয়– “ মিস সুপ্রভা চটজলদি গাড়িতে উঠুন।এই জায়গাটা সেইফ নয়।”

সুপ্রভা রাস্তায় পড়ে থাকা ব্যাগটা কাঁধে তুলে নেয়।
চৌধুরী বাড়ি বের হবার সময় এই ব্যাগটা, নিজের জমানো সামান্য কিছু টাকা আর ফোনটা নিয়ে এক কাপড়ে বেরিয়ে এসেছে। পুরনো সব দুঃখ কষ্ট ভুলে চোখে নতুন স্বপ্ন, নতুন আশা নিয়ে সুপ্রভা গাড়িতে উঠে বসে।সিমির দাভাই তখনো নির্বিকার।সুপ্রভা একটু নড়েচড়ে বসে। মৌনতা ভেঙে নিজ থেকেই জিজ্ঞেস করে —

“ নিজেকে আপাদমস্তক ঢেকে রেখেছেন কেন?”

লোকটা কোনো প্রকার ভনিতা ছাড়াই বলে–

“ ছেলেদের পর্দা করা ফরজ তাই।”

চলবে ???

[ গল্পটা আপনাদের কি ভালো লাগছে না। শেষ করে দিব?]

® Nuzaifa Noon

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply