দ্যাআনপ্রেডিক্টেবললাভ
পর্ব : ০৯
লেখক_Jahirul_islam_Mahir
☘️
“বাসর ঘরে বৌ সেজে বসে আছে আদ্রিয়ানা। তার হৃদয়টা যেন বিয়ের গানের তালে তালে নাচছে। সে অপেক্ষা করছে তার প্রিয় জামাই আদনানের জন্য”।
“ঘরের ভিতরে একটা মিষ্টি গন্ধ, ফুলের সুবাস আর আদ্রিয়ানার হৃদয়ের স্পন্দন”। “সে ভাবছে, “আদনান কোবে আসবে?”
“মিস্টার সাদা কালা পান্ডা আপনি কোথায়? এখনো আসছেন না কেনো? আপনার জন্য আপনার ঘরওয়ালী অপেক্ষা করছে তো”!
“আদ্রিয়ানা কথাটা বলে শেষ করতে না করতেই আদনান রুমে প্রবেশ করে। আদনানের চোখে একটা মিষ্টি হাসি। আদনান এগিয়ে এসে আদ্রিয়ানার মুখোমুখি বসে”। ঘোমটা টা তুলে আদ্রিয়ানার থুতনি ধরে মুখটা উপরে তুলে। আদ্রিয়ানা আদনানের দিকে তাকিয়ে একটা লজ্জা মিশ্রিত হাঁসি দেয়”। আদ্রিয়ানার হাঁসি দেখে বুকের বাঁ পাশে হাত দিয়ে বেড থেকে ফিট হয়ে পড়ে যায় আদনান”!
“আরে আরে সাদা কালা পান্ডা আপনি পড়ে গেলেন কেমনে” ?
“আদনান পলকহীন দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আদ্রিয়ানার দিকে”!
“মিস্টার সাদা কালা পান্ডা আপনি নিচে কি করছেন বেডের উপরে আসেন”।
“আদনান বেডের উপর উঠে বসে”! আদ্রিয়ানার দিকে তাকিয়ে বলে”,,
“মাশাআল্লাহ আমার বৌ টা কে তো অসম্ভব সুন্দর লাগছে”।
আদ্রিয়ানা লজ্জা লজ্জা ভাব নিয়ে ল্যাম্পের আলোয় আদনানের দিকে তাকালো।
“আপনাকে ও মেরুন কালারের শেরোয়ানি তে অসম্ভব সুন্দর লাগছে”।
” আদনান আদ্রিয়ানার হাতটা ধরে বললো”,, “আদ্রিয়ানা, আজকের দিনটা আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর দিন। কারণ আজকের দিনে আমি তোমাকে নিজের করে পেয়েছি”।
আদ্রিয়ানা ল্যাম্পের আলোয় আদনানের চোখের দিকে তাকিয়ে বললো, ” আপনার মতো একটা পান্ডা কে জামাই হিসেবে পেয়ে আমি ও অনেক খুশি”
আদনান মুচকি হাসে” আদ্রিয়ানা আদনানের দিকে ঝুঁকে এসে বলে,
“মিস্টার সাদা কালা পান্ডা আপনার এই মাফিয়া টাইপের হাসিটা আমাকে সবসময় পাগল করে দেয়।”
” আদনান আদ্রিয়ানার চোখের দিকে তাকিয়ে বলে,”
“আর তোমার এই চোখগুলো আমাকে সবসময় মায়ায় ফেলে দেয়।”
“আদনানের কথায় আদ্রিয়ানা লজ্জা পেয়ে যায়। ফলে আদনানের বুকে মুখ গুঁজে ফেলে”! আদ্রিয়ানার এমন কান্ড দেখে আদনান মুচকি হেসে আদ্রিয়ানা কে আগলে নেয় নিজের বিরহ ডুরে”। মিনিট পাঁচেক পর আদনান আদ্রিয়ানাকে আরও কাছে টেনে নিলো। আদ্রিয়ানার হৃদয়টা যেন আরও জোরে জোরে নাচছে। আদনান আদ্রিয়ানার চুলে হাত বুলিয়ে বললো,
“আদ্রিয়ানা, তুমি আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর উপহার। আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি আদ্রিয়ানা খুব”।
“আদ্রিয়ানা আদনানের বুকে মুখ গুঁজে বললো,
“মিস্টার সাদা কালা পান্ডা, আমি আপনাকে খুব ভালোবাসি। আপনি আমার সবকিছু।”
বাসর ঘরের রোমান্টিক মুহূর্তগুলো যেন আরও গভীর হচ্ছে… আদনান আর আদ্রিয়ানার ভালোবাসার গল্প আরও সুন্দর হচ্ছে…
মিনিট দশেকের পর আদনান আদ্রিয়ানার কানের কাছে মুখ নিয়ে বললো,
“ঘরওয়ালী চলো কুতকুত খেলা শুরু করি” !
“কুতকুত খলবেন মানে” ? বুঝি নিই “?
“বলছি যে এইসব লেহেঙ্গা পেহেঙ্গা খুলে কুতকুত খেলার জন্য রেডি হয়ে নাও”
“মিস্টার সাদা কালা পান্ডা আমি যা ভাবছি আপনি কি তা মিন করে বলছেন” ?
“Yes বৌ তুমি ঠিক ধরেছো”! চলো না খেলা শুরু করি এই খেলা খেলার জন্য ২৮ বছর অপেক্ষা করে আছি”! ২৮ বছর অপেক্ষার পর ফাইনালি আজকে আমার ও কুতকুত খেলার দিন আসছে”!
“তাহলে কুতকুত খেলার জন্য রেডি হয়ে নেন মিস্টার সাডা কালা পান্ডা”
“আদনান পরণে থাকা শেরোয়ানি টা খুলে ফ্লারে ছুঁড়ে মেরে বলে,,
“ও ফাইনালি আজ কুতকুত খেলবো”
“মিস্টার সাদা কালা পান্ডা আপনি কি রেডি” ?
“হুম ঘরওয়ালী আমি রেডি”!
“তাহলে চলেন কুতকুত খেলতে যায়”!
“কোথায় যাবো” আমি যে কুতকুত খেলার কথা বলছি সেই খেলা তো চার দেয়ালের মধ্যে দেখতে হয়” ?
“দুষ্টু পান্ডা বিয়ে করতে না করতেই দুষ্টু দুষ্টু কথা বলা শুরু করে দিলেন” ?
“আদনান আদ্রিয়ানা দিকে ঝুঁকে এসে কিছু বলতে যাবে তার আগেই আদ্রিয়ানা আদনানের হাত ধরে বলে”,,,
“মিস্টার সাদা কালা পান্ডা সবাই তো চার দেয়ালের মাঝেই কুতকুত খেলে আমরা না হয় ছাঁদে গিয়ে খোলা আকাশের নিচে কুতকুত খেললাম। কি বলেন দুষ্টু পান্ডা”!
“ঠিক বলছো তুমি তাহলে চলো যায়” ?
“হুম চলেন”!
“আদনান আদ্রিয়ানা কে কোলে তুলে নিয়ে পা বাড়ায় ছাঁদের উদ্দেশ্যে”। মিনিট দুয়েকের মধ্যে ছাঁদে পৌঁছে যায়। ছাঁদের মাঝখানে গিয়ে আদনান আদ্রিয়ানা কে কোল থেকে নামিয়ে দেয়”। আদ্রিয়ানা কোমর জড়িয়ে ধরে আদ্রিয়ানা কে নিজের কাছে টেনে নিয়ে কিছু বলতে যাবে তার আগেই আদ্রিয়ানা বলে উঠে”,,
“রিলেক্স দুষ্টু পান্ডা রিলেক্স ২৮ বছর তো ওয়েট করছেন আর একটু ওয়েট করেন ওকেই ” ?
“ওকেই বৌ”.
“মিস্টার সাদা পান্ডা আমাকে একটা ছোট ইটের টুকরা খুঁজে দিতে পারেন”?
“কেনো বৌ ইটের টুকরা দিয়ে কি করবা” ?
“করবো কিছু একটা এখন তাড়াতাড়ি একটা ইটের টুকরা খুঁজে দেন”!
“ওয়েট ছাঁদের উত্তর পাশে কিছু ইটের টুকরা আছে আমি নিয়ে আসছি”!
“হুম তাড়াতাড়ি নিয়ে আসেন”।
“আদনান ছাঁদের উত্তর পাশ থেকে একটা ইটের টুকরা এনে আদ্রিয়ানার হাতে দেয়। আদ্রিয়ানা আদনানের দিকে তাকিয়ে একটা মুচকি হাসি দিয়ে বলে”,,
“মিস্টার সাদা কালা পান্ডা এইবার চোখ বন্ধ করেন”!
“চোখ বন্ধ করবো কেনো ? বৌ আসলেই তুমি কি করতে চাইছো বলো তো” ?
“একটু পর সব বুঝতে পারবেন এখন চোখ বন্ধ করেন”।
“আদ্রিয়ানার কথা মতো আদনান চোখ বন্ধ করে”! আদ্রিয়ানার ইটের টুকরা দিয়ে ঘর আঁকা শুরু করে”! মিনিট পাঁচেকের মধ্যে ঘর আঁকা কমপ্লিট হয়ে যায়”!
‘মিস্টার পান্ডা এইবার চোখ খুলুন”
“আদনান চোখ খুলে বলে”,,
বৌ তুমি ঘর আঁকছো কেনো ?
“আপনাকে নিয়ে কুতকুত খেলার জন্য”! আপনি না একটু আগে বললেন আপনি বৌয়ের সাথে কুতকুত খেলার জন্য ২৮ বছর অপেক্ষা করছেন তাই,,
বাকিটুকু উচ্চারণ করতে পারে না আদ্রিয়ানা আর আগেই আদনান আদ্রিয়ানার কোমর জড়িয়ে ধরে আদ্রিয়ানা কে কাছে টেনে নেয়”
“আমি এই কুতকুত খেলার কথা বলি নিই বৌ”!
“তাহলে ” ?
“আদনান চোখ টিপ দিয়ে বলে”
“বাসর রাতের খেলার কথা বলছি”
“দুষ্টু পান্ডা দুষ্টু কথা বলা বন্ধ করেন”। আর নিজেকে কন্ট্রোল করেন। আপনার বৌ এখনো ছোট ওই সবের কিছুই আপনার বৌ বুঝে না “
“সমস্যা নেই আমি প্র্যাকটিক্যাল করে বুঝিয়ে দিবো আর দেখিয়ে দিবো”!
“কিন্তু আমি বুঝতে ও চাই না দেখতে ও চাই না”!
“এমন করো কেনো বৌ” তুমি কি জানো বাসর রাত নিয়ে একটা ছেলের কত স্বপ্ন থাকে? আর,,,
“বাকিটুকু উচ্চারণ করতে পারে না আদনান তাঁর আগেই আদ্রিয়ানা বলে উঠে,,
“নাহ আমি জানি না আর জানতে ও চাই না”!
“বাসর রাত নিয়ে দেখা স্বপ্ন টা এভাবে না ভাঙ্গে ও পারতা বৌ” ?
“আপনার স্বপ্ন ছিল আপনি বাসর রাতে বৌয়ের সাথে কুতকুত খেলবেন তাই তো ?
“আদনান হ্যাঁ বোধক মাথা নাড়ায়”।
“এই যে কুতকুত খেলার ঘর। চলেন খেলি”। প্রথমে আমি খেলছি তাঁর পর আপনি খেলবেন ওকেই ?
“নোট ওকেই আমি কুতকুত খেলবো না”!
“না খেললে চলেন রুমে গিয়ে ঘুমায়”!
“বৌ শুনো না বলছিলাম যে,,,
“হুম বলেন না আমি শুনছিলাম যে,,
“কুতকুত তো খেলতে দিলা না একটা চুমু হলেও খেতে দাও প্লীজ”!
“কোথায় খাবেন কপালে না গালে” ?
“ঠোঁটে “
“ঠোঁটে চুমু দিতে দিয়ে আমি থুতু খেতে পারবো না “
“জামাইয়ের থুতু খাওয়া শরীরের জন্য পুষ্টি কর”।
“এমন পুষ্টি আমার শরীরের লাগবে না”
“তাঁর মানে কি তুমি এখন চুমু ও খেতে দিবা না” ?
“নাহ”
“সত্যি দিবা না ” ?
“নাহ
ঠিক আছে তাহলে যাও” লাগবে তো তোমার চুমু আনরোমান্টিক কোথাকার” শালার কপাল। কপাল কতটা খারাপ হলে এমন আনরোমান্টিক মার্কা বৌ জুটে।”
“আদ্রিয়ানা আদনানের গলা জড়িয়ে ধরে বলে”,,,
“আমি চুমু দিতে না করছি বলেই আপনি চুমু দিবেন না কেনো? জোর করে চুমু দিতে পারেন না” ?
“আদ্রিয়ানার কথাটা বলে শেষ করতে না করতেই আদনান আদ্রিয়ানার ঠোঁট দুটো দখল করে নেয়”। মিনিট পাঁচেক পর ছেড়ে দিয়ে আবার ও আদ্রিয়ানার ঠোঁট দুটো দখল করে নেয়”। এইবার মিনিট দশেক পর ছাড়ে”।
“মিস্টার পান্ডা চুমু খাওয়া হলে চলেন কুতকুত খেলি”!
“কুতকুত খেলতে কি একটা লাগে না”
“স্যারা” ?
“হুম”
“আপনার ফোন আছে না ফোন দিয়েই কুতকুত খেলবো”!
“ফোন দিয়ে কেমনে “?
“আদ্রিয়ানা আদনানের পকেট থেকে ফোন টা বের করে হাতে নিয়ে বলে,,
“আমি দেখিয়ে দিচ্ছি কেমনে”
“এই কথা বলে আদ্রিয়ানা ফোন দিয়েই কুতকুত খেলা শুরু করে”!
“মিস্টার পান্ডা দেখলেন তো ফোন দিয়ে কেমনে কুতকুত খেলতে হয়” ?
“হুম দেখছি”!
“তাহলে এইবার আপনি খেলেন” ?
“আমি ” ?
“হুম আপনি শুরু করেন”
“আদনান আদ্রিয়ানার দিকে তাকিয়ে একটা মুচকি হাসি দিলো”।
“ঠিক আছে, আমি শুরু করছি।”
” আদনান ফোনটা নিয়ে কুতকুত খেলা শুরু করলো। আদ্রিয়ানা আদনানের দিকে তাকিয়ে হাসছে।”
“কুতকুত খেলার মাঝখানে আদনান আদ্রিয়ানার দিকে তাকিয়ে বললো”,
“বৌ, তুমি কিন্তু খুব চালাক। ” ফোন দিয়ে কুতকুত খেলা শিখিয়ে দিলে।”
আদ্রিয়ানা হেসে বললো
, “হ্যাঁ, আমি তো চালাকই। আর আপনি তো আমার দুষ্টু পান্ডা। “
“আদনান আদ্রিয়ানার দিকে ঝুঁকে এসে বললো, “দুষ্টু পান্ডা? ঠিক আছে, দেখাচ্ছি মজা।”
“আদনান আদ্রিয়ানাকে টিকলি দিতে শুরু করলো। আদ্রিয়ানা হাসতে হাসতে শেষ”।
“হঠাৎ, আদ্রিয়ানা বললো,
মিস্টার পান্ডা, থামেন থামেন…
আমি হার মেনে নিচ্ছি। “
“আদনান থেমে যায়! আদ্রিয়ানা আদনানের দিকে এগিয়ে এসে বলে”,
“মিস্টার পান্ডা রুমে চলেন খুব ঘুম পাচ্ছে”!
“আদনান আদ্রিয়ানা কে কোলে তুলে নিয়ে রুমে চলে যায়”। রুমে গিয়ে জুয়েলারি লেহেঙ্গা খুলে ফ্রেশ হয়ে এসে শুয়ে পড়ে আদ্রিয়ানা। আদনান ফ্রেশ হয়ে এসে দেখে আদ্রিয়ানা শুয়ে পড়েছে”!
“মিস্টার পান্ডা তাড়াতাড়ি এসে আমাকে জড়িয়ে ধরেন না অনেক ঠান্ডা লাগছে”।
“আদনান টাওয়েল টা মিলে দিয়ে এসে আদ্রিয়ানার কে জড়িয়ে ধরে শুয়ে পড়ে”! আদ্রিয়ানা আদনানের বুকে মুখ গুঁজে আদনান কে জড়িয়ে ধরে। কিছুক্ষণের মধ্যে দুজনেই হারিয়ে যায় ঘুমের রাজ্যে”।
“যারা আদনানের বাসর দেখার জন্য অপেক্ষায় ছিলা তাদের কে বলছি অন্যর বাসর দেখার এতো শখ কেনো হা”?
আর তোমাগো রেসপন্স কমে যাচ্ছে কেনো ? রেসপন্স কমে যাওয়ায় গল্প লিখার উৎসাহ পাই না। তোমরা যদি বেশি বেশি করে রেসপন্স করো তাহলে আই প্রমিজ আমি প্রমিজ করছি প্রতিদিন গল্প দিবো”। আর তোমরা জানো আমি কথা দিয়ে কথা রাখি”!
চলবে,,,,
( “ভুল ক্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন ধন্যবাদ “)
Share On:
TAGS: জাহিরুল ইসলাম মাহির, দ্যা আন প্রেডিক্টেবল লাভ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৬
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১৬
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১০
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ গল্পের লিংক
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৮
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১৭
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১৪
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ২
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১১