দ্যাআনপ্রেডিক্টেবললাভ
পর্ব : ২২
লেখক_Jahirul_islam_Mahir
☘️
“সকাল দশটা। আদনানের ডাকে আদ্রিয়ানার ঘুম ভেঙ্গে যায়। ঘুম ভাঙ্গতেই নিজেকে আবিষ্কার করে আদনানের বুকে। মাথা টা একটু উপরে তুলে আদনানের মুখের দিকে তাকায় আদ্রিয়ানা। লজ্জা মিশ্রিত একটা হাঁসি দিয়ে আবার ও আদনানের বুকে মাথা রাখে। আদনান কে জড়িয়ে ধরে চোখ বুজে নেয়।”
“বৌ জান সকাল দশটা বাজে উঠবেন না?”…..
“আদ্রিয়ানা চোখ বন্ধ রেখেই বলে”…..
“আর কিছুক্ষণ এইভাবে ঘুমাই না, তাঁর পর উঠবো।”
—“আচ্ছা ঠিক আছে বৌ জান। আপনি ঘুমান তাহলে।”
“এই কথা বলে আদনান আদ্রিয়ানার মাথায় একটা চুমু খাই। আদ্রিয়ানা কে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আদনান ও আবার ঘুমিয়ে পড়ে।”
☘️
“আদনানের বাড়ির সামনে এসে গাড়ি ব্রেক করে রহিম চৌধুরীর পার্সোনাল ড্রাইভার। রহিম আর জোবাইদা গাড়ি থেকে নেমে দাঁড়ায়। চারদিকে তাকিয়ে দেখে শুধু জঙ্গল আর জঙ্গল। তাদের হৃদয় ভয়ে কেঁপে উঠল। তারা জানত না এমন একটা বিপদ জনক জায়গায় আদনান থাকে।”
“জঙ্গলের গাছগুলো তাদের দিকে তাকিয়ে আছে, যেন তারা কোনো অপরাধী। পাখিরা ডাকছে, আর তাদের ডাকে মনে হচ্ছে যেন তারা কোনো বিপদের সতর্কবার্তা দিচ্ছে। জঙ্গলের মাটিতে পাতার উপর পা পড়ার শব্দ হচ্ছে, যেন কেউ তাদের পিছু নিচ্ছে। তারা শুনতে পাচ্ছিল, জঙ্গলের গভীর থেকে একটা অদ্ভুত শব্দ আসছে, যেন কেউ তাদের দিকে আসছে। তাদের হৃদয় দ্রুত গতিতে পিটছে।”
“রহিম আর জোবাইদা দুইজনে বাড়ির দিকে এগিয়ে যায়। বাড়ির কলিং বেল চাপার মিনিট দুয়েকের মধ্যে একটা সার্ভ দরজা খুলে দেয়।”
“আপনাদের কে তো ঠিক চিনলাম না?.
“রহিম কিছু বলতে যাবে তার আগেই জোবাইদা বলে ফেলে”…
“তুমি না চিনলেও তোমার স্যার আমাদের কে চিনে।
“ওও আচ্ছা। আপনারা স্যারের কি হোন?”…..
—“ওর বাবা মা।”
—–“ওও আচ্ছা। আপনারা ভিতরের আসুন।”
“রহিম আর জোবাইদা বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করে। সার্ভ টা বাড়ির মেন দরজা বন্ধ করে ওদের পিছু পিছু আসে।”
—“আপনারা দাঁড়িয়ে আছেন কেন? বসুন না।”
“রহিম আর জোবাইদা ডাইনিং রুমে থাকা সোফায় বসে। জোবাইদা সার্ভ টার দিকে তাকিয়ে বলে”……
—“তোমাদের স্যার কি বাসায় নেই?”…
—“আছে। তবে স্যার এখনো ঘুমাচ্ছে।
“কি বলো ? সাড়ে দশটা বাজে আর জাহির এখনো ঘুমাচ্ছে, ওর শরীর ঠিক আছে তো? ওর রুম টা কোন দিকে আমাকে বলো”!
“দুই তলায় থাকা একদমই ডান পাশের রুম টাই স্যার থাকেন।”
—“আচ্ছা ঠিক আছে।”
“জোবাইদা উঠে দাঁড়ায়। পা বাড়ায় জাহিরের রুমের দিকে। দুই সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে জোবাইদা চোখ পড়ে জাহির আর আদ্রিয়ানার উপর। জোবাইদা জাহির দেখে খুশি হলেও আদ্রিয়ানা কে দেখে বেশ অবাক হয়। আদ্রিয়ানা কে দেখে অবাকের দ্বিগুন পর্যায়ে যায় জোবাইদা। অবাক দৃষ্টিতে আদ্রিয়ানার দিকে তাকিয়ে থাকে জোবাইদা।”
“অপরদিকে রহিম আর জোবাইদা কে দেখে আদনানের মাথায় রক্ত উঠে যায়। রাগে চোয়াল শক্ত হয়ে যায় আদনানের। রাগে আদনানের পুরো ফেইস লাল হয়ে গেছে।”
“জোবাইদা এখনো আদ্রিয়ানা দিকে তাকিয়ে আছে। আদ্রিয়ানার দিকে তাকিয়ে জোবাইদা মনে মনে বলতে থাকে”…….
“এটাই তো সেই মেয়ে টা। যে মেয়েটার ছবি আমি জাবিরের কাবাটে পেয়েছিলাম। কিন্তু এই মেয়ে টা জাহিরের বাড়িতে জাহিরের সাথে কি করছে?”….
—“আদনানের হুংকারের জোবাইদা বাস্তবের ফিরে।”
–“কি সমস্যা তোমাদের ? কি চাই ? তোমরা এখানে কেনো এসেছো ?
“জোবাইদা আদনানের দিকে তাকিয়ে বলে”……
“জাহির বাবা আমার রেগে যাস না। শান্ত হ আমি তোকে সব টা বলছি।”
–“কি বলবেন আপনি ? আপনার এইসব নেকা মার্কা কথা আমি শুনতে চাই না।”
“জোবাইদা এইবার আদনানের হাত ধরে বলে”…..
“একটা বার আমাদের কথা শুন বাবা।”
“রহিম চৌধুরী এগিয়ে এসে আদনানের আরেক হাত ধরে বলে”……
“জাহির বাবা একটা বার আমাদের কথা শুন। দেখবি সব ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটবে।”
“আদনান এক ঝটকায় রহিম আর জোবাইদার কাছ থেকে নিজের হাত ছাড়িয়ে নেয়। ওদের কে পাস কাটিয়ে নিচে নেমে যায়। ডাইনিং রুমে থাকা সোফায় গিয়ে বসে আদনান। রহিম আর জোবাইদা আদনানের দিকে এগিয়ে যায়।”
–“জাহির আজকে আমাদের কথা তোকে শুনতেই হবে!”
—“যদি না শুনি?”…..
“বললাম তো তোকে শুনতে হবে। যদি না শুনিস তাহলে”…..
—“তাহলে কি মিসেস চৌধুরী?”….
–“আমি তোর বাড়িতে নিজেকে শেষ করে দিবো!”
“All the best। আপনাকে আমি আরো হেল্প করতে পারি। আমার কাছে অনেক ধরনের অস্ত্র আছে। আমি সব অস্ত্র এনে আপনাকে দিচ্ছি আপনি আপনার পছন্দ মতো সিলেক্ট করে নিয়ে নিজেকে শেষ করে দেন!”
–“আমি যদি নিজেকে শেষ করে দিই, তাহলে কি তুই বিশ্বাস করবি আমি যে নির্দোষ?”…
—-“আগে তো নিজেকে শেষ করেন।”
—“ঠিক আছে তুই অস্ত্র নিয়ে আই। আজ আমি প্রমাণ করে দিবো যে আমি নির্দোষ।”
“আদনান কিছু বলতে যাবে তার আগেই আদ্রিয়ানা বলে উঠে”…..
“মিস্টার পান্ডা এইসব কি হচ্ছে? উনি আপনাকে কিছু একটা বলতে চাইছে। আপনি উনার কথা না শুনে নিজের মতো বকবক করছেন কেনো ? উনি কি বলতে চাইছে সেটা চুপচাপ শুনুন না।”
“আদনান কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলে”….
“ঠিক আছে কি বলতে চান বলেন। তবে সর্ট কার্ট বলবেন।”
” জোবাইদা এইবার বলতে শুরু করে”….
—“জাহির তোর ধারনা যে আমি তোর মা কে মেরে ফেলছি। কিন্তু এটা সত্যি না।”
“জোবাইদার কথা শুনে আদনান রেগে গিয়ে কিছু বলতে যাবে তার আগেই আদ্রিয়ানা আদনানের হাত চেপে ধরে। আদনান আদ্রিয়ানার দিকে তাকায়। আদ্রিয়ানা চোখ দিয়ে ইশারা করে আদনান কে শান্ত থাকতে বলে।”
“জোবাইদা আদনানের দিকে একটা ফাইল এগিয়ে দিয়ে বলে”….
—“এই রিপোর্ট গুলো দেখলে তুই ক্লিয়ার হয়ে যাবি।”
“আদনান জোবাইদার হাত থেকে ফাইল টা নেয়। ফাইলের ভিতরে থাকা রিপোর্ট গুলো বের করে দেখতে থাকে। রিপোর্ট গুলো দেখে বেশ অবাক হয় আদনান। আদনান কে অবাক হতে দেখে জোবাইদা বলে”…..
“অবাক হচ্ছিস? এখন তো তুই ক্লিয়ার যে তোর মা কে আমি মারি নিই। তোর মা জাহানারা ক্যান্সারের মারা গেছেন।”
“যখন তোর এক বছর বয়স তখন জাহানারার ক্যান্সার ধরা পড়ে। আমার হসপিটালে আমিই জাহানারার চিকিৎসা করেছি। তাঁর চেয়ে ও বড় কথা হচ্ছে তোর মা জাহানারা আমার বান্ধবী ছিল। খুব কাছের বান্ধবী। নিজের কাছের বান্ধবী কে বাঁচানোর জন্য অনেক চেষ্টা করেছি। তোর বাবা কে বলে জাহানারা কে দেশের বাইরে নিয়ে গেছি উন্নত চিকিৎসার জন্য। তাঁর পর বাঁচাতে পারি নিই।”
“এতটুকু বলে থেমে যায় জোবাইদা। কয়েকটা নিঃশ্বাস নিয়ে আবার ও বলতে শুরু করে”…..
“তোর যখন দুই বছর বয়স তখন জাহানারা বিদায় নেয় এই পৃথিবী ছেড়ে। মৃত্যুর আগে তোকে আমার হাতে তুলে দিয়ে যায়। আমি যেনো তোকে দেখে রাখি। নিজের সন্তানের মতো যেন মানুষ করি। আর তাঁর সংসার টা কে আগলে রাখি। আমি জাহানারা কে কথা দিয়েছিলাম। জাহানারা কে দেওয়া কথা রাখতে ফ্যামিলির বিরুদ্ধে গিয়ে তোর বাবা কে বিয়ে করছিলাম।
“জাহানারা আর তোর কথা ভেবে তোর বাবাও আমাকে মেনে নিয়ে ছিলো। এমন কি তুই ও। তুই ও আমাকে আম্মু বলে ডাকতি।”
—“তোর যখন চার বছর বয়স তখন জাবিরের জন্ম হয়। জাবিরের জন্মের পরও সব কিছু ঠিক ছিলো।”
–“তোর বয়স যখন দশ বছর তখন তোর মধ্যে কিছু পরিবর্তন দেখা যায়। তুই একা থাকতে পছন্দ করতি। কারো সাথে কথা বলতি না। এমন কি জাবিরের সাথে ও না। একটা সময় নিজেকে সবার থেকে আলাদা করে নিলি। তোর সাথে কথা বলতে গেলে তুই রেগে যেতি। তোর রাগের তাপমাত্রা ছিল অনেক। তাই আমি আর তোর বাবা তোর থেকে একটু দূরে সরে এসেছিলাম। আর এটাই ছিল আমাদের সবচেয়ে বড় ভুল। এই ভুলের কারণে তোর চোখে আজ আমরা ঘৃণার পাত্র।”
—“জাহির আমাদের উপর আর রাগ করে থাকিস না বাবা। তুই বিশ্বাস কর আমি আর তোর বাবা তোকে অনেক ভালোবাসি।”
“জোবাইদার চোখে জল এসে গেল। তিনি আদনানের দিকে তাকিয়ে আবার ও বললেন”……
—“জাহির, তুই আমাদের উপর আর রাগ করে থাকিস না, বাবা। আমরা তোকে খুব ভালোবাসি। তোর মা জাহানারা আমাকে তোর দায়িত্ব দিয়ে গেছে। সেই দায়িত্ব আমি আমার শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত পালন করতে চাই।”
“আদনানের চোখেও পানি চলে এসেছে। সে জোবাইদার দিকে তাকিয়ে বলল”…
— “মা… আমি জানি না কীভাবে ক্ষমা চাইব। আমি ভুল করেছি। আমি আপনাদের উপর রাগ করে ছিলাম। আ”……
“বাকিটুকু উচ্চারণ করতে পারে না আদনান। মাফিয়া কিং জাহির আদনান চৌধুরী ও কান্নায় ভেঙে পড়ে।”
“জোবাইদা আদনানের হাত ধরে বললেন”…..
–“জাহির, তুই ক্ষমা চাস না, বাবা। আমরা তোকে ক্ষমা করে দিয়েছি। তুই আমাদের কাছে ফিরে আয়, বাবা। আমরা তোকে ছাড়া থাকতে পারব না।”
“আদনান জোবাইদাকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কেঁদে ফেলল। রহিম চৌধুরীও এগিয়ে এসে আদনানকে জড়িয়ে ধরলেন। আদ্রিয়ানা এই দৃশ্য দেখে চোখ মুছল।”
“জোবাইদা আদনানের মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন। আদনান চোখ বন্ধ করে মায়ের ভালোবাসা অনুভব করল!”
—“জাহির আমাকে আরেকবার মা বলে ডাকবি? ডাক না বাবা, আরেকবার মা বলে।”
“জাহির জোবাইদা কে জড়িয়ে ধরে রেখেই মা বলে ডাক দেয়। জাহিরের মুখে এতো বছর পর মা ডাক শুনে জোবাইদা কান্না করে দেয়। রহিম জাহির আর জোবাইদা কে শান্তনা দেয়।”
“জাহির জোবাইদাকে ছেড়ে রহিম চৌধুরীকে জড়িয়ে ধরল। রহিম চৌধুরীও তার ছেলেকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেললেন। তাদের দুজনের চোখেই আনন্দের অশ্রু।
“কিছু কথা বলার ইচ্ছে ছিল কিন্তু বললাম না। কারণ তোমাদের কে বলে লাভ নেই। তোমাদের কি কিছু বললে তোমরা শুনো না। তাই আর বলে নিজের এনার্জি নষ্ট করলাম না।”
চলবে…….
( ভুল ক্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন ধন্যবাদ )
Share On:
TAGS: জাহিরুল ইসলাম মাহির, দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ২০
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ২৪
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১২
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১৯
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৪
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৭
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১৮
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১৩
-
দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ১০