দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা) সিজন ২ পর্ব ৪৭
দেওয়ানা(আমার ভালোবাসা)সিজন_২
লেখিকাঃ_রিক্তা ইসলাম মায়া
(কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ)
৪৭
সময়টা বিকাল চারটার কৌটায়। শান্ত নিরিবিলি পরিবেশ মোহর রেস্টুরেন্টে বসে আছে আরিফ। আশেপাশে মানুষজন থাকলেও এইপাশটায় বেশ শান্ত। কারণ আরিফ আশপাশের টেবিল গুলোও ভোগ করে রেখেছে সাময়িক সময়ে জন্য। মূলত তার প্রাইভেসি দরকার। কারণ কিছুক্ষণের মধ্যে তার আর ফিহার সম্পর্কটা নিয়ে কথা বলতে যাচ্ছে মেহেরবানের সাথে। তাই জন-মানবহীন শান্ত পরিবেশ হিসাবে এই রেস্টুরেন্টেটায় বেস্ট মনে হলো আরিফের। কাল ফোনে কথা হয়েছিল মেহেরবানের সাথে আরিফের। দুজনের সিদ্ধান্তেই আজ সরাসরি আলোচনায় বসা তাদের। আরিফ বামহাতের ঘড়িটায় সময় দেখে নিল এক পলক। সে রেস্টুরেন্টে এসেছে বেশ সময় হয়নি মাত্রই আসলো। তাই সময় নিয়ে আরও দশমিনিট বসে থাকতেই অবশেষে ফিহা নিজের মাকে নিয়ে হাজির হলো সেখানটায়। আরিফ ভদ্রতা স্বরুপ উঠে দাঁড়িয়ে সালাম জানালো মেহেরবানকে। সেই সাথে কৌশল বিনিময় করে নিল আরিফ মেহেরবানের সাথে। তিনি অন্তত গম্ভীর কণ্ঠে আরিফের সালামের উত্তর করে চেয়ার টেনে বসলো আরিফের সামনে। ফিহা নিজের মায়ের সাথেই গুটি মেরে বসলো। আপাতত প্রচন্ড ভয়ে আছে দুজনকে নিয়েই সে। একদিকে নিজের মাকে আরিফের সাথে মিট করানোর জন্য অনেকটা কাঠখড় পোহাতে হয়েছে তাঁকে। অন্যদিকে আরিফকে নিয়েও টেনশনে আছে। নিজের মা যদি উল্টা পাল্টা কিছু বলে বসে তাহলে ফিহার আবারও হারাতে হবে আরিফকে। টেনশনে ফিহা হৃদপিণ্ড চেপে বসে আছে মায়ের সাথে। আর উত্তেজনায় বুক ধড়ফড় করছে ক্রমাগত। ফিহা বসতে বসতে বেশ কয়েক বার চোখে আওড়িয়ে দেখে নিল আরিফকে। আরিফ সূক্ষ্ম চোখে এক পলক পযবেক্ষণ করলো মেহেরবানের মতিগতি। অন্তত গম্ভীর মুখে বসে আছেন তিনি। ফর্সা গায়ে জড়ানো সাদা দামি শাড়ি। সেই সাথে দুহাতে রয়েছে দুটো সাদা ডায়মন্ডের চুড়ি। গলায়, কানে, নাকেও রয়েছে সাদা ডায়মন্ডের বাহার। সবমিলিয়ে যেন অহংকারী আভিধানিক ভাব প্রকাশ পাচ্ছে তার চেহারায়। আরিফ হালকা হাসার চেষ্টা করলো। সে জানে এখন কি হবে তাঁর সাথে। তারপরও ফিহা মন রক্ষাতে আর নিজের ভালোবাসার দাবিতে এসে দাঁড়িয়েছে মেহেরবানের সামনে। একবার অন্তত নিজের ভালোবাসা বাচানোর জন্য হলেও শেষ চেষ্টাটা করে দেখতে হয়। আরিফও তাই করলো। নিজের মনোভাব শক্ত করলো। নিজের মনের মধ্যে থাকা কথা গুলো একটু গুছিয়ে নিল। এবং চোখ আওড়িয়ে তাকালো ফিহার টেনশনে জড়িত মুখটার দিকে। আরিফ হালকা হেঁসে চোখে ইশারায় আশ্বস্ত করলো ফিহাকে টেনশন না করতে। সে আছে ফিহা পাশে। ফিহা টেনশনের মধ্যেও হালকা হাসার চেষ্টা করলো। এবং আড়চোখে নিজের মায়ের দিকে তাকালো। আরিফ নিরবতা কাটিয়ে প্রথম কথা বললো। মেহেরবানের উদ্দেশ্য বললো…
—” আমরা কিছু অর্ডার করি। তারপর নাহয় কথা বলি আন্টি?
আরিফের দিকে চোখ তুলে তাকায় মেহেরবান। গম্ভীর মুখের হালকা মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানিয়ে মৃদু কন্ঠে বললো..
—” হুমম!
আরিফ অর্ডার দিল মেহেরবানের পছন্দ অনুযায়ী। খাবার মেনু কার্ডটা ওয়েটারের হাতে দিয়ে পুনরায় চোখ তুলে তাকালো মেহেরবানের দিকে। আরিফ অন্তত বুদ্ধিমান ছেলে। তাই সে বুঝতে পারছে মেহেরবানের বর্তমান মতিগতি অবস্থাটা। আরিফ কোনো প্রকার ভনিতা করলো না বরং সোজা নিজ বাক্যে হাজির হলো। মেহেরবানের উদ্দেশ্য অতি নম্রতা সহকারে বলতে শুরু করলো…
—” আমি ভনিতা না করে সোজাসাপ্টায় বলছি আপনাকে। বেয়াদবি নিবেন না। ছেলে হিসাবে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন আন্টি। যায় হোক! আপনি হয়তো অনেক আগেই জেনেছেন আমার আর আপনার মেয়ের সম্পর্কের কথা। এবং আপত্তি প্রকাশ করেছেন আমাদের সম্পর্কটা নিয়ে। করারই কথা। অস্বাভাবিক কিছু না। কারণ আপনি মা হিসাবে আপনার জায়গায় ঠিক আছেন। তাই আপনাকে অযুক্তিকর বলে অসম্মান করা যাবে না। আমি সম্মান করছি আপনার সিদ্ধান্তকে। তবে সেই সাথে এটাও আশা করছি যে, আপনি আমাদের সম্পর্কটাকেও একপ্রেক্ষিকে ভাবে বিবেচনা করবে না। কারণ আমরা যখন সম্পর্কে জড়ায় তখন আমরা কেউ জানতাম না যে আমরা একে অপরের পূব পরিচিত। শুধু দুজন দুজনকে চিনে বুঝে সম্পর্কে জড়িয়ে ছিলাম। এমনকি মায়া খান বাড়িতে আসার পূব থেকেই আমাদের সম্পর্কটা ছিল একে অপরের সাথে। তাও অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে। ফিহা খান বাড়ির বংশধর এই সত্যিটা আমি জানি মাস দুয়েক আগে। জুইকে যেদিন খান বাড়িতে রেখে গিয়েছিলাম সেদিন। তারপর থেকেই আমাদের মধ্যে মনমালিন্যতা চলছিল। বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে ফিহা থেকে দূরে থাকতে চাচ্ছিলাম। কিন্তু ততদিনে বুঝে গেছিলাম আপনার মেয়েকে ছাড়া আমারও চলবে না। বাঁচতে গেলে আমার আপনার মেয়েকেই লাগবে। নিজের মনের কাছে হার মানলাম। তাই আপনার সাথে যোগাযোগ করা চেষ্টা করলাম। মা হিসাবে আপনার কাছে শত কারণ আছে আমাকে রিজেক্ট করার। আপনি সেটা করতে পারবেন নিশ্চিতে। কিন্তু আমি বলবো আপনি আমাদের সম্পর্কটাকে একপ্রেক্ষিতে যাচাই না করতে। একটু ভেবে দেখতে আমাদের সম্পর্কটাকে নিয়ে। সন্তানদের বিষয়ের প্রথম ডিসিশন মা-বাবাই নেন। ভালো মন্দ আপনাদের হাতে। আমরা শুধু আমাদের ভালোবাসাটাকে খোলে রাখলাম আপনাদের সানিধ্যে। আমরা আশাবাদী আপনাদের কাছে। না করার আগে একটা বার ভেবে দেখার অনুরোধ করছি। আমার কথা গুলো শুনতে ফিল্মি লাগলেও সত্যি যে, আমি আপনার মেয়েকে সর্বোচ্চ সুখী রাখার চেষ্টা করবো। মনের কথা গুলো জবানে আনার আগেই আমি তার পূরণ করার যথাযথ চেষ্টা করবো। সম্মান দিয়ে বুকে আকড়ে রাখবো সারাজীবন। চোখে পানি গাল বেয়ে পড়ার আগেই আমি তার হাসির কারণ হওয়ার চেষ্টা করবো। আর আমার সেই চেষ্টা গুলো সফল করার জন্য হলেও একটা সুযোগ অন্তত আমাদের সম্পর্কটাকে দেওয়া উচিত আপনার।
আরিফের দীর্ঘ কথা শেষ করেই গোপন দীর্ঘ নিশ্বাস ফেললো সে। ফিহা খানিকটা ছলছল নয়নে তাকালো আরিফের দিকে। ঠোঁটে তৃপ্তির হাসি। না সে ভুল করেনি আরিফকে ভালোবাসে। বরং জীবনে সঠিক মানুষটাকে ভালোবাসে জিতে গেছে সে। আজ ফিহা দুনিয়ায় অন্তত সুখী একজন মানুষ মনে করছে আরিফকে ভালোবাসে। কিন্তু মেহেরবানের ভাব ভঙ্গি অনড়। বিশেষ একটা পরিবর্তন দেখা দিল না তাতে। বরং পূণ দৃষ্টিতে তাকালো আরিফের দিকে। ছেলেটি মেহেরবানের অপছন্দ নয়। বরং বেশ পছন্দনীয়। আদর্শ! সুন্দর, সুর্দশন বুদ্ধিমান একজন ছেলে আরিফ। প্রতিটা মা-ই তার মেয়ের জন্য এমন পাত্রই খুঁজে। তাই তিনিও ব্যতিক্রম নয়। ছেলে হিসাবে আরিফকে ভিষণ পছন্দ উনার কিন্তু নিজের মেয়ে বিয়ে দেওয়ার মতো পছন্দ নয়। কারণ সমাজ বলতেও একটা কথা আছে। তাদের সেই সমাজে একটা নাম ডাক আছে। সমাজের উচু শ্রেণির মানুষ তাঁরা। সেখানে নিজের মেয়েকে কিভাবে সাধারণ একটা ছেলে হাতে তুলে দিবে? উনার অতি আদুরের মেয়ে ফিহা কি পারবে? নিজের বিলাসবহুল জীবন ছেড়ে আরিফের মতো সাধারণ জীবন লিড করতে? না পারবে না! হয়তো এখন ফিহার অল্প বয়স! তাই আবেগে আছে বলে ভালোবাসা! ভালোবাসা! বলে জেদ করছে তাদের কাছে। কিন্তু যেদিন বাস্তবতা পা রাখবে ফিহা, তখন সেই ভালোবাসা বলতে কিছুই থাকবে না তার মধ্যে। নিজের বিলাসবহুল জীবন যাপন না পেলে, ঠিকই ফিহা সব ছেড়ে চলে আসবে এই ভালোবাসা নামক আরিফকে ফেলে। তাই তিনি নিজের মেয়ের সর্বনাশ চাই না। ফিহা ছোট হতে পারে! বাস্তবতার জ্ঞান তার না থাকতে পারে! তাই বলে মা হিসাবে উনার কি জ্ঞান নেই নাকি? উনি কিভাবে নিজের মেয়ের সর্বনাশ করবেন? তাছাড়া এমনিতেই আরিফের পরিবারের সাথে উনার ব্যক্তিগত ঝামেলা লেগে আছে, মায়া আর জুঁইকে নিয়ে। সেখানে নতুন করে কোনো সম্পর্কের ঝামেলায় জড়াতে চাচ্ছেন না তিনি। কিন্তু তিনি ফিহার মন রক্ষাতে এখানে এসেছেন। যাতে ভবিষ্যতে ফিহা উনার দিকে আঙ্গুল তুলে বলতে না পারে ‘আমি আমার মায়ের জন্য, আমার ভালোবাসার মানুষটিকে পাইনি। আমাকে একটা সুযোগ দেওয়া হয়নি কখনো। মেহেরবান অন্তত কৌশল মনে এসেছেন এখানে। আরিফের সাথে সামঞ্জস্যতা করতে, যুক্তি করতে। যদি আরিফ উনার কথায় রাজি হয় তাহলে ফিহাকে বিয়ে দিবেন তিনি। নয়তো না। মেহেরবান মনস্তাত্ত্বিক বিষয় গুলো মনে মনে একবার ভেবে নিয়ে, নিজের মধ্যে কথা গুলো গোছিয়ে নিল একবার আরিফকে বলার জন্য। আরিফের দিকে তাকিয়ে স্বাভাবিক ন্যায় বলতে শুরু করলো….
—” দেখ! ভালোবাসা দিয়ে বাস্তবে জীবনে শুধু সংসার চলে না। আবেগ ভালোবাসা দুই দিন, বাস্তবতা চিরদিন। আমার মেয়ে এখন আবেগে আছে তাই বুঝতে পারছে না কোনটা ঠিক! বা কোনটা বেঠিক। মা হিসাবে সন্তানকে সঠিক পথ দেখানোটায় কর্তব্য। আমার মেয়ের আপাতত তোমাকে চাই। জেদ করছে তোমাকে নাকি ভালোবাসে। কিন্তু আমি সেটা মানতে পারছি না। কারণ ফিহা এখনো ছোট তাই ওর মধ্যে যথেষ্ট পরিমাণ বুঝ নেই ভিতরে। আবেগ মোহ ওর মধ্যে বেশি কাজ করছে এই মূহুর্তে। তাই বাস্তবতা বুঝতে পারছে না।
মা হিসাবে মেয়ের সেই আবেগ মোহকে সারা দিয়ে আজ তোমার সাথে দেখা করতে এসেছি আমি। কারণ জীবন কোনো একপর্যায়ে যাতে ফিহা আমাকে বলতে না পারে এই যে, আমার জন্য সে তার ভালোবাসার মানুষকে পাইনি। আমি বাঁধা দিয়েছি এমনটা যাতে বলতে না পারে। তাই আমি মেয়ের ভালোবাসাকে এক মূহুর্তের জন্য মেনে নিলাম। তুমি ছেলে হিসাবে আমার বেশ পছন্দ। তোমার পরিবারের সাথে আমাদের কতটা ভালো-মন্দ সম্পর্ক চলছে সেটা আপাতত আমার তোমাকে বলতে হবে না। সবটাই তোমার জানা। কিন্তু কথা হচ্ছে তোমাদের পরিবারের মেয়েকে আমাদের ঘরে বউ করতে সমস্যা নেই। কারণ তাঁরা আমাদের ঘরে আসবে। আমাদের সোসাইটির সাথে চলবে। এতে করে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে আমার ঘর থেকে! আমাদের সোসাইটির থেকে নিজের মেয়েকে তোমার ঘরের বউ করে পাঠানোটা নিয়ে। তোমার ঘরে, আমার মেয়ে বউ হয়ে যাওয়া মানেই তার বিলাসবহুল জীবন ছেড়ে দেওয়া। এবং সাধারণ জীবনে চলাচলের করা। যেটা আদৌ সম্ভব নয়। ফিহা বলেছে তোমার ছোটখাটো ব্যবসা আছে চট্টগ্রামে। নতুন ব্যবসাতে জয়েন করেছ নাকি। তোমার মাসিক আয় কত হয়? তিন লাখ? অথচ ফিহার হাত খরচই আছে মাসিক তিন লাখ টাকার উপরে? ফিহার হাতের বর্তমান ফোনটাও প্রায় দেড় লাখ টাকার উপরে। হাতে গলায় অলওয়েজ ডায়মন্ড ক্যারি করে। ফিহা রোজকার নিত্য নতুন জামা পড়ার অভ্যাস। একটা ড্রেস দুবার পড়ার অভ্যাস নেই। ব্যান্ড ছাড়া জুতাও পড়ে না। নিজস্ব কার, ডাইভার ছাড়া যাতায়াত করে না। ফ্রেন্ডের আড্ডায় বসলে দিনে বিশ-ত্রিশ হাজার টাকার উড়িয়ে ঘরে ফিরে সে। তাহলে তুমি বলো এত বিলাসিতা জীবন ছেড়ে তোমার সাথে কতদিন সংসার করবে সাধারণ ভাবে? একমাস! দুইমাস! ভালোবাসে নাহয় তিনমাসই সংসার করলো তোমার সাথে। পড়ে যখন দেখবে তুমি ওর চাহিদা পূরণ করতে পারছো না। বিলাসিতা জীবন দিতে পারছো না। তখনই তোমাকে ছেড়ে, তোমার সংসার ছেড়ে চলে আসবে আমাদের কাছে। সংসার ভাঙ্গাভাঙ্গি হবে। তাই আমি ভবিষ্যতটা চিন্তা করে তোমার কাছে একটা প্রস্তাব রাখতে চাই। ছেলে হিসাবে তোমার আমাকে পছন্দ। ফিহাকেও বিয়ে দিতে সমস্যা নেই। তুমি কর্মীক একজন ছেলে। সফলতা একদিন নিশ্চয়ই তোমার হাতে আসবে। শুধু তোমার একটু সাহায্যের দরকার। টেনে উপরে তুলার দরকার। আর সেই সাহায্যের হাতটা আমরা বাড়াতে চাই তোমার পিছনে। তুমি নিজের ব্যবসাটা বড় করতে যাহ প্রয়োজন হবে, সেই সবটায় পাবে আমাদের থেকে। ফিহার বাবা তোমাকে সাহায্য করবে সেই সকল বিষয়ে। তুমি শুধু উনার সাথে যোগাযোগ করবে। তারপর বছর দিন পরে নাহয় তোমাদের বিয়ের আলোচনা করবো আমরা পারিবারিক ভাবে। ততদিনে তুমি নিজেকে উপরে তুলার চেষ্টা করো। আমাদের তোমার পাশে পাবে। আশা করছি তুমি আমার কথা গুলোর মানে বুঝতে পারছো?
মেহেরবানের কথায় স্তব্ধ নিবাক হয়ে টেবিলে সামনে মাথা ঝুঁকে বসে রইলো আরিফ। এক মূহুর্তে জন্য কথা ভুলতে ভুল গেল সে। নিজেকে খুব ছোট মনে হলো আরিফের নিজের কাছে। অপমানে চোখ মুখ লাল হয়ে উঠলো। সামনে থেকে ফিহা আরিফকে চমকানো ভঙ্গিতে দেখে নিল একবার। নিজের মায়ের কথায় উত্তেজিত ভঙ্গিতে বলে উঠলো তৎক্ষনাৎ…
—” এসব কি বলছো মা তুমি? আমাদের সম্পর্কটাকে তুমি ছোট কেন করছো? আরিফকে কেন ছোট করে কথা গুলো বলছো? আমি সেচ্ছায় আরিফকে আমার জীবনের জড়িয়েছি। আমার বিলাসবহুল জীবন চাইনা! আমি সাধারণ জীবনে থাকতে পারবো। তোমাদের সাহায্যের প্রয়োজন হবে না আমাদের। আমি মানিয়ে নিতে পারবো।
ফিহার কথা শেষ করার আগেই ধমক লাগায় মেহেরবান। তিনি অন্তত রাগী স্বরে ফিহাকে শাসিয়ে বলে…
—” তোকে কথা বলতে বলেছি আমি? বাস্তবতা কতটুকু বুঝিস তুই? তোর এই ভালোবাসায় দুনিয়া চলবে? আমরা বুঝি না কোনটা তোর জন্য ঠিক বা কোনটা ঠিক নয়। বড় হয়ে গেছিস তুই? নিজের বুঝ বুঝতে শিখেছিস এখনো? চুপচাপ বসে থাক! আমি কথা বলছি না? তোর কথা বলা লাগবে মাঝে?
আরিফ আরও কয়েক সেকেন্ড সময় নিয়ে নিজেকে শান্ত করে পুনরায় চোখ তুলে তাকালো মেহেরবানের দিকে। ফিহাকে দেখেও যেন দেখলো না সে। পূর্ণ দৃষ্টি মেহেরবানের দিকেই তাক করলো। সে জানতো এমন কিছুই হবে। মেহেরবান আরিফকে রিজেক্ট করবে কৌশলে। কিন্তু আরিফ এটা জানতো না যে মেহেরবান নিজের মেয়ের জন্য তাঁকে কিনতে চাইবে। টাকার লোভ দেখিয়ে তাকে হাত করতে চাইবে। আরিফের মনোবল বদলায়। কারণ মেহেরবানের কথা গুলো গাঢ় ভাবে আঘাত করলো তার আত্মসম্মান বোধে। তীক্ষ্ণ ঘৃণা জম্ম নিল বড়লোকদের প্রতি। আরিফের এই মূহুর্তে এখানে বসে থাকতে ইচ্ছা করলো না। উঠে যেতে মন চাইলো। তারপরও মেহেরবান প্রতি সম্মান দেখাতে বসে রইলো জায়গায়। তবে মুখে দারুণ হাসি ফুটালো। স্বাভাবিক ন্যায় আচরণ করলো। টেবিলের উপর রাখা বাবার হসপিটালের রিপোর্ট গুলো পাশ থেকে টেনে নিজের হাতে নিল। একদফা রিপোর্ট গুলো দেখে নিয়ে তাকালো মেহেরবানের দিকে। হাসি মুখে স্বাভাবিক কন্ঠে বললো…
—” আপনার কথায় সহমত পোষণ করছি আন্টি। আমার সাথে সত্যিই আপনার মেয়ের যাবে না। না যাওয়াটায় স্বাভাবিক। তবে ধন্যবাদ আপনাকে আমাকে এত সুন্দর একটা প্রস্তাব দেওয়ার জন্য। টাকা-পয়সা, অর্থ সামর্থ্য সবারই চাই। কেউ হালাল পথে চাই কেউ আবার হারাম পথে। আপাতত আমার হালাল এবং নিজের যোগ্যতাই চাই। কারও দয়া ভিক্ষা নিয়ে নিজেকে প্রসিদ্ধ করতে চাই না আপনাদের সমাজে। আমি সাধারণ জীবনেই ভালো আছি। ভালো থাকবোও। দোয়া করবেন আমার জন্য। আপনার মেয়ের জন্যও দয়া রইলো। ভালো কিছু করুক জীবনে। ভালো জীবন সঙ্গ পাক। আপনি আপনার শ্রেণির বেধে মেয়েকে বিয়ে দিতে পারেন আমার কোনো আপত্তি নেই। তবে নিজের আত্মসম্মান বোধ নিয়ে টানাটানি করলে ঘোর আপত্তি থাকবে আমার। পূবে সম্পর্ক যখন একটা আছে! তাই পাশাপাশি আমাদের আবারও দেখে হতে পারে। ততদিন ভালো থাকবেন। আমার কথায় কষ্ট পেলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। আপনাদের অর্ডার করা আছে, খেয়ে যাবেন অবশ্যয়। ভালো লাগবে আমার। আজ তাহলে আশি আন্টি। আসসালামু আলাইকুম!
নিজের কথা গুলো শেষ করে দ্রুত পদে উঠে পড়লো আরিফ। হতভম্ব মেহেরবান আরিফের দিকে তাকাতে তাকাতেই ততক্ষণে উত্তেজিত ফিহা আঁটকে দাঁড়ায় আরিফের পথ। এবং বাঁধা প্রদান করে বলে…
—” আরিফ প্লিজ এমনটা করো না তুমি আমার সাথে। আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচবো না। প্লিজ তুমি শান্ত হও! আমি আম্মু সাথে কথা বলবো আমাদের সম্পর্কটা মেনে নিতে। তুমি প্লিজ এভাবে যেও না।
ফিহার কথা গুলো শেষ হলো না। তার আগেই পাশ কাটিয়ে চলে গেলো আরিফ। অস্থির ফিহা তৎক্ষনাৎ ভেঙে পড়লো কান্নায়। অঝোরে কেঁদে পুনরায় আরিফকে আটকাতে যাবে তখনই পিছন থেকে আঁটকে দেয় মেহেরবান। ফিহার হাত শক্ত করে চেপে ধরে টেনে নিয়ে যান নিজের সাথে গাড়ি করে বাড়িতে। ফিহাকে টেনে ড্রয়িংরুমে নিজের সামনে দাঁড় করিয়ে শক্ত হাতে চড় বসায় মেয়ের গালে। ফিহা ছিটকে ফ্লোরে পড়তেই মেহেরবান শক্ত গলায় বলে উঠে….
—” তোকে খাইয়ে পড়িয়ে বড় করেছি। যখন যা চেয়েছিস দিয়েছি। যোগ্য শিক্ষিত বানাতে চেয়েছি। তারমানে এই না যে সন্তানদের অন্যায় আবদারটা মেনে নিব আমরা। কি বুঝিস তুই বাস্তবতা সম্পর্কে। যে ভালোবাসা! ভালোবাসা! বলে চিল্লাছিস সেই ভালোবাসা দুইদিনও থাকবে না অভাবে পড়লে। জীবনে কখনো অভাব নামক জিনিসটি বুঝিসনি! তাই ধারণা নেই বাস্তবতা কাকে বলে। তোকে যখন জম্ম দিয়েছি আমরা! তাই তোর ভালোটাও আমরাই বুঝবো। যদি আমাদের কথা না শুনিস! তাহলে এমন মেয়ে আমাদের থাকার দরকার নেই। কেটে নদীতে ভাসিয়ে দিব নিজের হাতেই। তারপরও অন্যায় আবদার মেনে নিব না।
ফ্লোরে ছিটকে পড়া ফিহা তৎক্ষনাৎ উঠে মেহেরবানে দু-পা জড়িয়ে ধরে অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে বলে উঠে….
—” আম্মু! আম্মু তোমার পায়ে পড়ি আম্মু। আ আমি আরিফকে ভালোবাসি। আমার তাঁকেই চাই। প্লিজ আম্মু! তুমি আমার ভালোবাসাকে বাস্তবতা দোহাই দিয়ে দূরে সরিয়ে দিও না। আমাকে অন্তত একটা সুযোগ দাও! নিজের ভালোবাসাকে নিয়ে সংসার করার। আম্মু আরিফ প্রবল আত্মসম্মান বোধক একটা ছেলে। তোমার কথায় আজ ভিষণ কষ্ট পেয়েছে। নিজের আত্মসম্মানবোধের জন্য হয়তো আমার সাথে যোগাযোগ করবে না। তোমাদের কথা রাখতে আমাকে দূরে সরিয়ে রাখবে। কিন্তু আমি জানি আম্মু আরিফ আমাকে ছাড়া বিন্দুমাত্র ভালো থাকবে না। আমিও ভালো থাকবো না আরিফকে ছাড়া আম্মু। প্লিজ আম্মু! তুমি আমাদের সম্পর্কটা মেনে নাও। প্লিজ!
জোরপূর্বক ফিহার থেকে নিজের পা ছাড়িয়ে টেনে দাঁড় করায় মেহেরবান। ফিহাকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে শক্ত গলায় চিবিয়ে চিবিয়ে বললো…
—” তুই যে এতো বড় হয়ে গেছিস আমার জানা ছিল না। তোর বিয়ে দরকার তো? আমি তোকে বিয়ে দিব। তোর পছন্দের ছেলের সাথে নয়! আমার পছন্দের পাত্রের সাথে দিব। অবশ্যই সবদিক থেকে তোর ভালোবাসা চেয়ে বেস্ট হবে। জীবনে একদিন তুই আমাকে ধন্যবাদ জানাবি, আমার আজকের ডিসিশনের জন্য। তোর সুখটা দেখেই বিয়ে দিব আমরা। যাহ! এখন তুই সোজা রুমে।
—” আম্মু! আম্মু! প্লিজ! প্লিজ! এমনটা করো না। আমার কষ্ট হচ্ছে। আম্মু প্লিজ!
ফিহার কাতরানোতে অধৈর্য শক্ত গলায় চেঁচাল মেহেরবান…
—” তোমাকে রুমে যেতে বলছি ফিহা…
~~
গোটা একদিন মায়া লুকিয়ে চুকিয়ে বেড়ালো রিদের থেকে। রিদের সাথে করা রাতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মায়া ভিষণ বিষন্নতায় ভুগলো। লাজ লজ্জায় কেটেকুটে বুক ভাসালো। রাতে শুয়ে কান্না করতে করতে একদফা জুঁইকেও শুনিয়ে দিল নিজের ডিপ্রেশনের কারণটা। মায়ার কথা শুনে জুঁই সেদিন রাতে পেটে খিল ধরার মতো হাসি হেসে ছিল। মায়াকে নিয়ে বেশ মজাও করেছিল। এতে করে মায়া আরও হতাশায় ডিপ্রেশনে ভুগলো। লজ্জায় আর রিদের সামনে পড়লো না গোটা একদিন। সকালে রিদ অফিসে যাওয়ার পর মায়া উঠে নাস্তা করতো। আর রাতে রিদ অসিফ থেকে আসার আগে খেয়েদেয়ে নিজের রুমে শুয়ে পরতো মায়া। ডিপ্রেশনে মায়া একটা দিন কোনো রকম পাড় করলেও ঠিক পরদিন রাতে আবারও অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে দেখে হয়ে গেলো রিদের সাথে তার। তাও আবারও এক আপত্তিকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে। রিদের সাথে মায়ার আবারও এক আপত্তিকর ঘটনা ঘটলো। আর সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই মায়া বর্তমানে নিজের রুমে ফ্লোরে লুটিয়ে পড়ে বিছানায় মাথা ঠেকিয়ে হাউমাউ করে কেঁদেকুটে বুক ভাসাচ্ছে। এই মুখ আর ইহজীবনে দেখাতে পারবে না তার মিস্টার ভিলেনকে। কি বিদঘুটে ঘটনাটাই না ঘটলো মায়ার সাথে। নিশ্চিত তার মিস্টার ভিলেন তাকে নিয়ে বাজে চিন্তা করছে! শেষ পযন্ত মায়া আর নিজের ইজ্জতটা বাঁচাতে পারলো না রিদের সামনে। আজ মায়ার ইজ্জতের রফাদফা হয়েই গেল তার মিস্টার ভিলেনের সামনে। এমন ঘটনা কি কারও সাথে ঘটে নাকি? নাতো ঘটে না! কই মায়া তো কখনো শুনেনি কারও সাথে এমন সাংঘাতিক ঘটনা ঘটতে। তাহলে মায়ার সাথেই কেন এমন হতে হলো? নিজের ভাবনার জন্য মায়া আরও বেশি কান্না ভেঙ্গে পড়লো। নিজের ডিপ্রেশনে ধাপটা যেন বাড়ছে বয় কমছে না। মনে মনে একদফা সিদ্ধান্তও নিয়ে নিল সে আর জীবনে কখনোই রিদের সামনে গিয়ে দাঁড়াবে না। এই মুখটাও দেখাবে না। দরকার হলে লুকিয়ে চুকিয়ে জীবন পাড় করে দিব তারপরও সে কখনোই তার মিস্টার ভিলেন সামনে যাবে না। যাবে না মানে যাবেই না। কথা গুলো ভাবতে ভাবতে মায়া আবারও হাউমাউ করে কেঁদে উঠে কিছুক্ষণ আগে কথা ভেবে…
এইতো কিছুক্ষণ আগে কথা। তখন রাত আটটা বাজে। বাড়ির সবাই হসপিটালের ছিল। মায়ার কলেজের পড়া শেষ হয়নি বিদায় হেনা খান মায়াকে বাড়িতে রেখে রেহেনা বেগমকে নিয়ে হসপিটালের গেল বিকাল করে। মায়া একা থাকবে বিদায় জুইকে সাথে দিয়ে গেল। মায়া নিজের রুমে বসে পড়ছিল। জুই মালাকে নিয়ে বাগানে দিকটায় হাঁটতে বের হয়েছিল। মায়ার অর্ধ পড়া রেখে হঠাৎই উঠে রুমে থেকে বের হয়ে যায়। একা একা বোরিং লাগছে। তাই উদ্দেশ্য অনুযায়ী পুরো খান বাড়ির একবার চক্কর করে নিবে সে। যেহেতু রিদ এই সময়টায় বাসায় থাকে না। অফিসেই থাকে। রাত এগারোটা বা বারোটার আগে রিদকে বাসায় পাওয়া যায় না। তাই মায়াও নিশ্চিতে ছিল। বিন্যাস হয়ে সিঁড়ি বেয়ে নিচেও নেমে ছিল। কিন্তু কি মনে করে আর বাহিরে গেল না। ড্রয়িংরুমের সোফায় বসলো। নিজের সামনে সোফার টি-টেবিলে উপর একটা মোটাতাজা বই দেখতে পেল। কৌতূহলী হয়ে বইটার দিকে মায়া ঝুঁকি একটু দেখে নিল। সাইন্সের বই। বেশ পুরাতন। কিন্তু এখানে এই বইটা কে রাখলো বুঝতে পারলো না মায়া। স্বাভাবিক ন্যায় উঠে নিজের জন্য একটা চা করে আনলো কিচেন থেকে। পুনরায় একি জায়গায় বসলো। চা খেতে খেতে আবারও বইটার দিকে দৃষ্টিতে পড়লো। খানিকটা কৌতূহল জাগ্রত হলো মনে। তাই চা-র কাপটা পাশে রেখে স্বাভাবিক ন্যায় ফ্লোরে পা ভাঁজ করে বসলো টি-টেবিলের সামনে। দুহাতে বইটাকে নিজের কাছে টেনে নিল। ফ্লোরে পা ভাঁজ করে বসায় টেবিল ও বইটি মায়ার বুক বরাবর হলো। কৌতূহলী মায়া বইটা উল্টিয়ে দেখার জন্য বইয়ের বেশ একটা অংশ ধরে একসঙ্গে উল্টালো। এবং অধ্যায় ঠেকলো নবমে। সেখানে গোটা বড় বড় অক্ষর লেখা ” পুরু’লিঙ্গ ও বয়ঃসন্ধি কাল” নিচের তারই একটা বড় গোটা চিত্র দেওয়া আছে বইয়ের অর্ধেকটা জুড়ে লিঙ্গ নিয়ে” মায়া চোখ আওড়িয়ে নিচের চিত্রটা আর দেখলো না। আপাতত তার দৃষ্টি বড় বড় অক্ষরের লেখা “পুরু-লিঙ্গ ও বয়ঃসন্ধির কালের মধ্যেই গবেষণা করছে। মায়া নড়েচড়ে বসে খানিকটা মনোযোগ হলো। তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে নিচের পড়াটা পড়তে চাইলো। কিন্তু পারলো না। কারণ ততক্ষণে ড্রয়িংরুমে দরজা ধরে প্রবেশ করলো রিদ। রিদের ধুপধাপ পায়ে শব্দের মায়া চোখ তুলে রিদকে দেখতে পেলো। অন্তত ক্লান্তি মাখা সেই ফেস রিদের। যাহ অসম্ভব সুন্দর লাগলো মায়ার কাছে। এক মূহুর্তে জন্য মায়া রিদের সাথে করা পূব ঘটনা গুলো ভুলে গিয়ে আবেগী বশে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলো রিদের চেহেরার দিকে মায়া। অ্যাটিটিউড সম্পূর্ণ রিদ যেন মায়াকে দেখেও দেখলো না। গুরুগম্ভীর মুখে স্বাভাবিক ন্যায় হেঁটে চলে যাচ্ছে মায়ার সামনে দিয়ে নিজের রুমে দিকে। মায়া নড়েচড়ে বসলো। এবং রিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইলো। যার ফলে নিচের পড়াটা বেশ জোরে জোরে পড়তে লাগলো রিদকে শুনিয়ে শুনিয়ে। হতবুদ্ধি মায়া তখনো বুঝলো না সে আসলে কি পড়ছে। কিন্তু মায়ার মুখে বেশ কিছু আপত্তিকর পড়া শুনে রিদ থেমে যায়। কপাল কুঁচকে মায়া দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকাতেই। মায়া পড়তে পড়তে আড়চোখে রিদের দিকে তাকালো। রিদকে নিজের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে মনে মনে অন্তত খুশি হলো একদফা মায়া। যাক অবশেষে সে রিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। তাই মায়া রিদকে শুনিয়ে শুনিয়ে আরও জোরে জোরে ঘাড় ভেঙ্গে পড়তে শুরু করলো দুলেদুলে। নিজের পড়ার পনেরো সেকেন্ডর মাথায় মায়ার হঠাৎ মনে হলো সে যাহ পড়ছে সবকিছুই কেমন ধোঁয়াসা, একরত্তিও বুঝনি মায়া সে পড়ার। রিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য শুধু পড়েই যাচ্ছে। আর পড়েই যাচ্ছে। মায়া একটু থেমে কপাল কুঁচকে বইয়ের একটু নিচের প্যারাগ্রাফটায় চোখ বুলালো। সেখানে হ্যাড লাইন হিসাবে বেশ বড় করে লেখা ” বয়ঃসন্ধিকাল বা (স্বপ্নষ”)। মায়া বুঝলো না লেখাটার মানে ঠিকই। তবে সেই পড়াটাকে অযুহাত হিসাবে কাজে লাগালো মায়া রিদের সাথে কথা বলার জন্য। মায়া রিদের সাথে একটু কথা বলতে চাইলো পড়ার অযুহাত দিয়ে। বিগত দুই মাস ধরে কথা হয়না রিদের সাথে মায়ার। তাই এই সময়টা মূখ্য মনে করলো প্রশ্ন করার অযুহাতে। বোকামি করে মায়া কোনো কিছু চিন্তা না করেই, তৎক্ষনাৎ প্রশ্ন করে বসলো রিদকে এই বলে যে” স্বপ্নষ কি মিস্টার ভিলেন?
রিদ কপাল কুঁচকে মায়া দিকে কিছুক্ষণ অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলো । পরে কিছু একটা ভেবে নিজের শার্টের হাতা টেনে গুটাতে গুটাতে মায়ার সামনে এসে হাজির হলো। মায়ার মুখোমুখি হয়ে টি-টেবিলে উপর এক পা তুলে দাঁড়ায়, এবং নিজের উরুতে একহাত ঠেকিয়ে ভর দিয়ে ঝুঁকে পড়লো মায়ার দিকে। কোনো রকম ভনিতা না করে অন্তত স্বাভাবিক গলায় মায়াকে উদ্দেশ্য করে বললো…
—” পড়ো নিচের পড়াটা।
রিদের হঠাৎ কান্ডে মায়া প্রথমে ভয় পেলেও রিদকে স্বাভাবিক ন্যায় কথা বলতে দেখে কিছুটা সাহস পেল নিজের মধ্যে। তাই মায়া রিদের কথা অনুযায়ী নিচের পড়াটা পড়তে গেলে রিদ আবারও বাঁধা দিয়ে বললো…
—” উঁহুম! এটা না। নিচের স্বপ্ন*ষ নিয়ে সংক্ষিপ্ত সারাংশ লেখা আছে চার লাইনের সেটা পড়ো।
রিদের কথা অনুযায়ী মায়া বেশ জোরে জোরে চার লাইনে ব্যাখা হিসাবে স্বপ্ন*ষের সারাংশটা পড়ে শেষ করলো। কিন্তু তাতেও কিছু বুঝলো না। কারণ মায়া এতটাই জোরে জোরে পড়ছিল যে তার মস্তিষ্ক সেই পড়া গুলো ক্যাচ করতে পারছিল না। সব পড়া তার মাথার উপর দিয়ে চলে যাচ্ছে। তাই মায়ার সহজ বিষয়টিও বুঝতে পারছে না। তাছাড়া মায়া তো এখানে পড়তে বসেনি। বসেছে রিদের সাথে পড়ার অযুহাতে কথা বলতে। সুযোগ অনুযায়ী যখন সব হচ্ছে তাই কি পড়ছে! না পড়ছে! সেটা দেখার সময় কই মায়া? মায়া সভ্য স্বরুপ পুরো চার লাইনের পড়াটা গরগর করে সম্পূর্ণ শেষ করলো শুধু রিডিং পড়ে। মায়া পড়া শেষ করে খুশি চোখে রিদের দিকে তাকায়। রিদ মায়ার অবুঝ চোখের ভাষা বুঝে এক অঙ্গুলে নিজের কপলা চুকলালো। এবং ধীর কন্ঠে বললো…
—” এবার ধীরে ধীরে পড়ো। মনোযোগ সহকারে।
রিদের কথায় মায়া মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানিয়ে ধীরে ধীরে পড়তে শুরু করলো মনোযোগ সহকারে। এবার যেন মায়ার মাথায় সব ঢুকছে। প্রথম লাইটা পড়লো বেশ মনোযোগ সহকারে রয়েসয়ে ধীরস্থির ভাবে যে ” ছেলেদের বয়ঃসন্ধিকাল আসে ১১ থেকে ১৫ বছর বয়সের মধ্যে। এসময় তাদের দেহের…. মায়া সম্পূর্ণ এক লাইন পড়েই নিজের কৌতহল বশে করে বসে আরেক ভুল। সম্পূর্ণটা না পড়েই রিদকে পুনরায় অদ্ভুত প্রশ্ন করে বসলো সে। নিজের অবুঝতায় রিদকে প্রশ্ন করে বললো মায়া…
—” আপনার হয়েছিল স্ব…
মায়ার এমন প্রশ্নে রিদ অপদস্তক হলো। তাই মায়ার প্রশ্নটা শেষ করতে না দিয়ে তার আগেই নাক মুখ গুজে চিবিয়ে চিবিয়ে বললো রিদ….
—” শাটআপ ইডিয়ট!
রিদের ধমক খেয়ে মায়া বেশ মনোযোগ সহকারে সম্পূর্ণ পড়াটা রয়েসয়ে পড়ে শেষ করতে লাগলো। এবং পড়তে পড়তে মায়ার মস্তিষ্কে পানির মতো পরিস্কার হলো যে বয়ঃসন্ধি বা স্বপ্ন*ষ কাকে বলে। আর এতেই যেন বিপত্তি ঘটলো মায়ার জন্য। রিদের সামনে নত মস্তিষ্কের পড়তে পড়তে মায়ার ঠোঁট উল্টিয়ে কান্না ভেঙ্গে পড়লো তৎক্ষনাৎ নিজের বোকামির জন্য। চোখ যখন টইটম্বুর হলো নোনাজলে। তখন রিদ মায়ার সেই দুঃখ কষ্টকে দ্বিগুণ করতে পুনরায় বলে উঠলো…
—” এবার নিচের চিত্রটার দিকে তাকাও!
রিদের কথা অনুযায়ী মায়া নিচের বড় করে দেওয়া চিত্রটার দিকে তাকাতেই চমকে উঠলো তৎক্ষনাৎ। রিদের সামনে এই ভাবে অপদস্তক হওয়ায় লজ্জা আর মায়া চোখ তুলে রিদের দিকে তাকাতে পারলো না। বরং সে এতক্ষণ যাবত কি করেছে? সেটা ভেবে লজ্জায়, দুঃখে কষ্টে, সাথে সাথে লুটিয়ে পড়লো বইয়ের ভাঁজে! লজ্জায় নিজের মুখ বইয়ে পাতায় ফেলে হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো রিদের সামনে। রিদ স্থির দৃষ্টিতে মায়াকে কিছুক্ষণ দেখে নিয়ে সেও নিঃশব্দে প্রস্হান করে সেখান থেকে। রিদ যেতেই মায়াও লজ্জা বইটাকে সেই অবস্থায় ছেড়ে দিয়ে উঠে চলে যায় নিজের রুমে। ডিপ্রেশনে মায়া তখন থেকেই কেঁদেকুটে বুক ভাসাচ্ছে লজ্জায়। এমন একটা কাজ কেমন করে করতে পারলো সে? তাছাড়া মায়ার সবচেয়ে ডিপ্রেশনে মূলক প্রশ্নটা হলো রিদকে করাটা ‘আপনার হয়েছে? ছিঃ ছিঃ এতো বিচ্ছিরি কান্ড সে কিভাবে করতে পারলো? লজ্জায় মায়ার মরে যেতে ইচ্ছা করছে না এখন? এই মুখ আর দেখাবার নয় রিদকে।
মায়ার হাউমাউ কান্নার মধ্যে দিয়েই ঘটলো আরেক ঘটনা। তাও জুঁইয়ের সাথে। মায়ার খোলা রেখে আসা বইটা পড়লো জুঁইয়ের সামনে। তখন জুঁই কেবল বাগান থেকে ড্রয়িংরুমে সোফায় এসে বসেছিল। মালা কিচেন গেছে জুঁইয়ের জন্য চা করতে। সেই সুযোগটায় জুঁই সোফায় সটান হয়ে বসেছিল হাত পা ছড়িয়ে। যেহেতু খান বাড়ির টিভি নেই। তাই জুঁইয়ের টিভি দেখার অপশন ছিল না। জুঁই নিজেও ফোন ব্যবহার করে না। তাই খালি খালি বসে ছিল সোফায়। টি-টেবিলের উপর খোলা বইটাকে দেখেছিল জুঁই। তবে সেই দিকে বেশ একটা মনোযোগ হলো না। পা ছড়িয়ে সোফায় বসেছিল বেশ কয়েক মিনিট। কিন্তু বিপত্তি ঘটে হঠাৎই খান বাড়িতে আয়নের আগমনে নিয়ে। আয়ন আজ দুমাস পর খান বাড়িতে পা রাখলো। আর মনে মনে দোয়া করলো যাতে মায়া সামনে না পড়ে। হলো তাই! মায়া সামনে না পড়লেও জুঁইকে ঠিকই চোখে পড়লো কিছুসময় পড়ে। তাও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে। আয়নের আজ খান বাড়িতে আসতে হয়েছে রিদের জরুরি তলবে। রিদ অকারণে আয়নকে ডাকবে না বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া। তাই আয়ন অতীতের সবকিছু পাশে রেখে রিদের সাথে জরুরি তলবে দেখা করতে এসেছে খান বাড়িতে। গায়ে ধূসর রঙ্গটা শার্ট জড়ানো কালো প্যান্টের সাথে। শার্টের হাতা কুইন অবধি টানা। এক কানে ফোন চেপে ধরা তো অন্যহাতের উপর সাদা এপ্রোনটা ভাঁজ করে রাখা। হসপিটালের গ্যাটাপে এসেছে সে। আজ রোগী দেখার চাপ ছিল না। কারণ একদিন পর পর রোগী দেখতে কেবিনে বসে সে। কাল যেহেতু বসা হয়েছিল তাই আজ ফ্রী আছে। রাতে নাইট ডিউটি আছে শুধু। তাই আয়ন রিদের সাথে দেখা করে সোজা এখান থেকেই হসপিটালের চলে যাবে সে। আয়নের মনোযোগ তখনো সব ফোনের কথা বলা মধ্যে থাকায়, চোখে পড়লো না সোফার উপর বসে থাকা জুইকে। আয়নের হঠাৎ আগমনে হতভম্ব জুই দ্রুততা সঙ্গে ফ্লোরে পা ভাজ করে বসে পড়লো মায়ার মতো করে। টি-টেবিলের সামনে রাখা খোলা বইটি ব্যস্ত হাতে নিজের কাছে টেনে নিল। এমন একটা ভাব করলো যেন জুই আয়নের আগমন বুঝতে পারেনি। এবং বিগত অনেকটা সময় ধরেই জুঁই বই পড়ছে বসে বসে। আয়নের ফোনে কথা বলার শব্দও যেন জুইয়ের কানে ঢুকছে না পড়ার ব্যস্তায়। এমন একটা ভাব করে মনোযোগ সহকারে ঘাড় বাঁকিয়ে বেশ জোরে জোরে পড়তে লাগলো আয়নের সামনে। মূল কথা! জুই আয়নের সামনে অপদস্তক ভাবে পড়ে যাওয়ায় উঠে পালিয়ে যেতে পারছে না। দৌড়াতে দেখে নিবে তাই। বিষয়টিও খারাপ দেখায়। আবার আয়নের সাথে জুই কথা বলতে চাচ্ছে না। তাই অযুহাত হিসাবে আয়নের সামনে পড়ার বাহানা মারলো জুই। মনোযোগ হবার ভান ধরে জুই আয়নকে দেখিয়ে শুনিয়ে বেশ জোরে জোরে অন্যমনস্ক হয়ে পড়তে লাগলো ” বয়ঃসন্ধি বা স্বপ্ন**ষ কাকে বলে?
জুইয়ের বেগতিক পড়ায় হঠাৎই আয়নের কথা বলা থেমে যায়। চোখ ছোট ছোট করে তাকালো জুঁইয়ের দিকে। জুই তখনো বুঝলো না আয়নের দাঁড়িয়ে পড়ার কারণটা। শুধু পড়তে পড়তে আড়চোখে একবার আয়ন দেখলো দাঁড়িয়ে পড়তে। যেহেতু জুইয়ের মনোযোগ পড়ায় ছিল না তাই বিষয়টি তখনো বুঝলো না জুই যে, কেন আয়ন জুঁইয়ের দিকে অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে জায়গায় স্থির হয়ে। পড়তে পড়তে জুইয়ের অস্বস্তির হলো। আয়ন কেন এভাবে তার দিকে অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আসে সেটা নিয়ে? এখান থেকে যাচ্ছে না কেন? জুই পুনরায় আয়নের দিকে আড়চোখে তাকায়। কি অদ্ভুত আয়নের সেই দৃষ্টি! জুই নাক মুখ কুঁচকে এবার সত্যিই পড়ায় মনোযোগী হলো। এবং পড়তে পড়তে বুঝতে পারলো আসলে সে এতক্ষণ যাবত আয়নকে শুনিয়ে শুনিয়ে কি পড়ছিল। অপদস্তক জুইকে আরও আতংকিত করলো যখন দেখলো বইয়ের নিচে গোটা একটা বড় চিত্র দেওয়া আছে বয়ঃসন্ধি ও লিঙ্গ নিয়ে। আতংকিত জুই সাথে সাথে ছিটকে সরলো বইয়ের সামনে থেকে। দু’হাতে বইটাকে ধাক্কা দিতে দিতে নাক মুখ কুঁচকে চেচিয়ে বলে উঠলো…
—” ছিই! কি বাজে। ইয়াক!
নিজের রিএকশন জুই নিজেই অপদস্তক হলো আয়নের সামনে। কারণ তখনো আয়ন অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল জুইয়ের দিকে। এতক্ষণে আয়নের অদ্ভুত দৃষ্টির মানে বুঝতে পারলো জুই। বোকামি করে যে জুই এতক্ষণ এসব পড়া পড়েছে, সেই সবটাই শুনেছে আয়ন। আর তারজন্য নিজের ফোনে কথা বলা বন্ধ করে দিয়ে জুইয়ের দিকে তাকিয়ে ছিল এতক্ষণ ধরে অদ্ভুত দৃষ্টিতে। লজ্জায় জুই নিজের চুল ছিঁড়তে ইচ্ছা করলো এক মূহুর্তের জন্য। সে কিভাবে এতোটা বোকামি করতে পারলো? তাও এই অসভ্য ডক্টরের সামনে। আর মানুষ পেল না লজ্জিত হবার? লজ্জা মাথা কাটা যাচ্ছে জুইয়ের। দুঃখের কষ্টে জুইয়ের কান্না চলে আসলো আয়নের সামনে। কেঁদে ও দিল। তবে পর মূহুর্তে উঠে তৎক্ষনাৎ দৌড় লাগালো মায়ার রুমের উদ্দেশ্য। এখানে থাকা মানেই আরও লজ্জায় মরে যাওয়া। জুইকে যতক্ষণ পর্যন্ত দেখা গেল ততক্ষণ পর্যন্ত আয়ন স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলো জুইয়ের যাওয়া দিকে। ঠোঁটের কোথাও একটু হাসিহাসি ভাব চলে আসছে জুইয়ের বোকামি জন্য। তবে হাসলো না আয়ন। নিজেকে গম্ভীর রাখলো। কয়েক কদম এগিয়ে এসেছে বইটা হাতে নিল। সবকিছু উপর নজর বুলালো। চিত্রটা দেখে ঠোঁট কামড়ালো হাসি আটকালোর। বইটি বন্ধ করে নিজের সাথে নিয়ে নিল। রেখে গেলনা। বইটি বেশ পুরাতন এবং রিদের বই। রিদ স্টুডেন্ট থাকাকালীন সময়ে বই এটা। আয়ন বইটা হাতে নিয়ে সিড়ি বেয়ে রিদের রুমের দিকে যেতে যেতে আরও একবার চোখ আওড়িয়ে তাকালো জুঁইয়ের যাওয়া দিকে।
অপদস্তক জুই দৌড়ে মায়ার রুমে এসে দেখলো মায়া আগের থেকে ফ্লোরে লুটিয়ে পড়ে বিছানায় মাথা ঠেকিয়ে বুক ভাসাচ্ছে কান্নাকাটি করে। এক মূহুর্তে জন্য জুই নিজের কান্না ভুলে গিয়ে এগিয়ে আসলো মায়ার দিকে। মায়ার সামনে ফ্লোরে পা ভাজ করে বসে অশ্রু সিক্ত ভেজা চোখে জুই মায়াকে প্রশ্ন করলো…
—” কি হয়েছে? তুই মরার কান্না কেন করছিস? আজতো দুঃখের দিন আমার! তাহলে তুই কেন কাঁদছিস রিতু?
মায়া জুঁইয়ের কথায় আবারও হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো। অশ্রু বিলাপ করতে করতে রিদের সাথে ঘটে যাওয়ার সেই সবটাই বললো জুঁইকে সে। সবটা শুনে জুই সহজ হলো। নিজের হতাশতা ততক্ষণে কিছুটা কমে গেছে। এই ভেবে যে জুঁই মায়ার মতো এতটা বোকামি করেনি। জুই তো শুধু চিত্রটাকে হাতে ছুঁইয়ে ছিল কিন্তু মায়া? সেতো মুখ ডুবিয়ে বসেছিল। কিন্তু তারপরও মায়ার উপর রাগ হলো জুইয়ের। মায়া বইটা খোলা রেখে এসেছিল বিদায় তার সাথে এমনটা হয়েছে। নয়তো এটা আপত্তিকর পরিস্থিতিতে কখনোই পড়তো না ডক্টরের সামনে। লজ্জায় এবার জুঁইও ডিপ্রেশনে ভুগলো। কপাট রাগে বললো…
—” বলদি! বইটা আমার জন্য খোলা রাইখা আইছিলি তুই। নিজের ইজ্জতটা তো মারছত। সাথে আমারটাও ফালুদা বানাইছত। ছিঃ ছিঃ কি বিচ্ছিরী কান্ড। তোর মতো গর্দভ বোন থাকলে আর ডিপ্রেশনের অভাব পড়বে জীবনে আমার?
জুইয়ের কথায় আরও কান্না ভেঙ্গে পড়লো মায়া। কেঁদেকেটে বন্যা করে বলতে লাগলো…
—” আমি কি জানতাম নাকি কিছু? না জেনেই তো সবটা হয়েছে। আমি এই মুখ কিভাবে দেখাবো উনাকে? আমি বুঝিনি! আমি! আমি! এ্যাঁহহহহ…
মায়া কান্নায় জুই নিজের চোখে পানি মুছতে মুছতে বললো…
—” তুই কি চিত্রের মধ্যে মুখ ডুবিয়ে ছিলি রিতু?
মায়া কান্না করতে করতে বললো…
—” হ্যাঁ
কথা গুলো বলতে বলতে আবারও মায়া হাউমাউ করে কেঁদে উঠে। মায়ার কান্নায় জুইয়ের চেহেরা উজ্জ্বল হলো। তাই দু’হাতে চোখের পানি মুছে নিল আরও একবার। আসন্ন সুখে মনে বললো…
—” তুই আজকে আমার মানসিক শান্তি কারণ হয়ে গেলি রিতু। খুবই ডিপ্রেশনে ভুগতাম আজকের বিষয়টি নিয়ে কিন্তু তুই তার আগেই বাচিয়ে দিলি আমায়। আমার থেকে আরও একধাপ এগিয়ে বোকামি করে। তুই আর তোর অদ্ভুত প্রশ্ন’ আপনার হয়েছে? আমার মানসিক শান্তির কারণ রে রিতু। মানসিক শান্তির কারণ!
.
চলিত…
Share On:
TAGS: দেওয়ানা আমার ভালোবাসা সিজন ২, রিক্তা ইসলাম মায়া
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা) সিজন ২ পর্ব ১
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৪১
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ১
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৩৮
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ১৮
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ২১
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৩৫
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ১৫
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ৭
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ৯